নূরুল আমিন এদিন অত্যন্ত কঠোর ভাষায় ভারতকে পাকিস্তান ছেড়ে যেতে বলেন। তিনি এদিন সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপ করতে গিয়ে বলেন, পূর্ব-পাকিস্তানের জনগণ মাতৃভূমি রক্ষায় শেষ পর্যন্ত লড়ে যেতে দৃঢ় সঙ্কল্পবদ্ধ। তিনি ঘোষণা করেনÑ “কোনো শক্তি নেই পাকিস্তানকে ধবংস করতে পারে।”
চীনা রাষ্ট্রদূত চ্যাং তুং নূরুল আমিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এদিন। পিডিপি নেতা মাহমুদ আলীও উপস্থিত ছিলেন এসময়। পরে নূরুল আমিন প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সম্পর্কে আলোচনা করেন। চীন এসময় পাকিস্তানীদের সমর্থনে পুরোপুরি অন্ধ হয়ে যায়। পিকিং রেডিও ঘোষণা করে, সোভিয়েত ইউনিয়ন ভরতের মাধ্যমে পাকিস্তান আক্রমণ করে মূলতঃ চীনকেই দমন করতে চায়। বিশ্বে আধিপত্য বিস্তার ভারতের মাধ্যমে তথাকথিত ‘বাংলাদেশ’ সমর্থনের অন্যতম কারণ। মুক্তিযোদ্ধা এবং ভারতীয় বাহিনীর সঙ্গে পাক সেনাদের এদিন দিনাজপুরের খানসামায় প্রচ- যুদ্ধ হয়। পাক সেনারা এখানে মরিয়া হয়ে লড়াই করে। তাদের হাতে ১৫ জন ভারতীয় সৈন্য এবং ৭ জন মুক্তিযোদ্ধা নিহত হয়। নবাবগঞ্জের পোড়াগ্রামে প্রচ- সংঘর্ষ হয় ঘাতক রাজাকার ও পাক সেনাদের সঙ্গে।
ফেনী থেকে চট্টগ্রাম যাবার পথে কুমীরা ঘাঁটির পাক সেনারা মুক্তিযোদ্ধা ও ভারতীয় বাহিনীর উপর এদিন আক্রমণ করে। মুক্তিযোদ্ধা সুবেদার গোলাম আম্বিয়ার নেতৃত্বাধীন দলের সঙ্গে নাজিরহাটে সংঘর্ষ হয় এদিন পাক সেনাদের। ‘এস’ ফোর্স এ সময় ঢাকার দিকে অগ্রসর হচ্ছিলো। মুক্তিযোদ্ধাদের আগমনের খবর পেয়ে বগুড়ায় ঘাতকরা শহরের ইয়াতিমখানা থেকে এলোপাতাড়ি গোলাবর্ষণ করে। অসংখ্য নিরীহ মানুষ প্রাণ হারায় এই বেপরোয়া গুলীবর্ষণে।
দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে তাড়া খাওয়া পাকিস্তানী সৈন্যরা ঢাকার দিকে আসবার সময় খ্যাপা কুকুরের মতো আচরণ করে।
এদিন এপিপিআই-এর জেনারেল ম্যানেজার সাংবাদিক নিজাম উদ্দিনকে ধরে নিয়ে গিয়ে খুন করে আলবাদর বাহিনীর নরপশুরা। মইজ্যা রাজাকার মুজাহিদের নেতৃত্বাধীন আলবাদররা যখন তার বাসায় হানা দেয়, তখন তিনি বিবিসি’র জন্যে অর্ধেক সংবাদ লিখে রেখে খেতে বসেছিলেন। ঐ অবস্থায়ই আলবাদর বাহিনীর গু-ারা তাকে নিয়ে যায়। ঘাতক আলবাদরের নগ্ন থাবার শিকারে পরিণত হয় দেশের আরো অনেক কৃতী সন্তান।
(তথ্যসূত্র: দৈনিক পূর্বদেশ, ১৩ ডিসেম্বর, ১৯৭১, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ: দলিলপত্র।)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

