নিশ্চিত পরাজয় জেনেও পাক সেনা বাহিনী ও তাদের দোসর আলবাদর-রজাকাররা মুক্তিযোদ্ধাদের অগ্রাভিযান দমনের চেষ্টা অব্যাহত রাখে। চট্টগ্রামের সীতাকুন্ড থেকে এগিয়ে আসা মুক্তিযোদ্ধাদেরকে কুমিরায় অবস্থানরত পাকিস্তানী সেনারা বাধা দেয় এদিন। সাগর এবং পাহাড়ের মধ্যবর্তী এলাকা জুড়ে ছিলো তাদের অবস্থান। পাকিস্তানী সেনারা রাজাকারদের সহায়তায় সেতু ধ্বংস করে রাস্তার উপর তৈরি করেছিলো প্রতিরক্ষা ব্যূহ। উচু পাহাড়ে যক্ষ্মা হাসপাতালের কাছে ছিলো তাদের সবচাইতে শক্তিশালী ঘাঁটি। চব্বিশ ঘণ্টা একটানা মরিয়া হয়ে যুদ্ধ চালিয়ে পাক সেনারা বেশ কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যা করে।
এদিন চতুর্থ বেঙ্গল চট্টগ্রামের দিকে অগ্রসর হবার পথে নাজিরহাটে পাক সেনারা বাধা দেয়। এখানে ২৪তম ফ্রন্টিয়ার ফোর্স তাদের তিনটি কোম্পানি এবং বেশ কিছু ইপিসিএএফ’সহ অবস্থান নিয়েছিলো। এ সময় কিছু কিছু এলাকা ছাড়া চট্টগ্রাম আলবাদর-রজাকার ঘাতকদের দখলেই ছিলো। ফেনী থেকে চট্টগ্রাম যাবার পথে মুক্তিযোদ্ধারা কুমিরায় এসে পাক সেনাদের আক্রমণের শিকার হয়। ১৩ ডিসেম্বর পাক সেনা ও আলবাদর-রজাকার ঘাতকদের সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের সংঘর্ষ হয় নাজিরহাট এলাকায়।
লেঃ কর্নেল শফিউল্লার ‘এস’ ফোর্স এসময় ঢাকার দিকে অগ্রসর হচ্ছিলো। এদিন ‘এস’ ফোর্স শহরের উপকণ্ঠে এসে পৌঁছে এবং ডেমরা ও শহরের পার্শ্ববর্তী এলাকায় পাক সেনা ও আলবাদর-রজাকার ঘাতকদের দ্বারা বাধাপ্রাপ্ত হয়।
মুক্তিযোদ্ধারা নীলফামারী থেকে সৈয়দপুরের দিকে অগ্রসর হতে থাকে এদিন। সৈয়দপুরে অবস্থানরত পাক সেনারা মুুক্তিযোদ্ধাদের উপর ট্যাংক নিয়ে আক্রমণ করে।
মুক্তিযোদ্ধা এবং ভারতীয় সেনা বাহিনী যতোই ঢাকার দিকে অগ্রসর হচ্ছিল পাকিস্তানী জেনারেলদের অবস্থাও ক্রমান্বয়ে দুর্বল হয়ে পড়ছিলো। ইসলামাবাদে বার বার তারা সাহায্য পাঠাবার আবেদন জানাচ্ছিলো। ইসলামাবাদ থেকে সামরিক কর্তারা ঢাকায় অবস্থানরত আলবাদর-রজাকার ঘাতক ও পাক জেনারেলদের এই বলে আশ্বস্ত করে যে, তোমরা আর কয়েকটা দিন অপেক্ষা করো। আমরা পশ্চিম খ-ে ভারতীয় বাহিনীকে এমন মার দেবো যে, তারা নতজানু হয়ে ক্ষমা চাইতে বাধ্য হবে এবং যুদ্ধ থেমে যাবে।
শান্তিকমিটি, ডা. মালিক মন্ত্রিসভা, জামাতী দালালদের অধিকাংশই এ সময় অবস্থা বেগতিক দেখে গা ঢাকা দেয়। কিন্তু এর মধ্যেও জামাত-রজাকার-আলবাদর চক্র সক্রিয় ছিলো তাদের মিশন সফল করার কাজে। অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে চলেছিলো দেশের শিক্ষিত সন্তানদের। যার চরম বহিঃপ্রকাশ ১৪ ডিসেম্বরের অপারেশন।
(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ: দলিলপত্র ১৯৭১ )

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

