বইমেলা,থিয়েটার,ক্যাফে টেরিয়ায়,পহেলাবৈশাখে,ভেলেন্টাইন উৎসবে
শুধু মেয়েটার চোখে পড়ার দুঃসহ চেষ্টা ছাড়া ছেলেটা পুরাদস্তর সাধারন,
মেয়েটার রুপে আর লাবন্যে ফ্যাশনে ও বসনে আগাগোড়া বিশেষন।
এক ঝাঁক প্রজাপতি উচ্ছল তরুনের ভিড়ে ছেলেটা একবার অপেংক্তেয়,
তবু অতি বড় সাহস করে একদিন বলেই ফেলল,আমার সাথে চা খাবেন?
ছেলেটা দুঃসাহসী অফারে অবাক মেয়েটা। কী জানি মনে করে মেয়েটা বলল চলুন।
মেয়েটার মুখোমুখি বসা ছেলেটার বুক ধড়ফড় করছে।
আড়ষ্ট জিহবা, চায়ে চুমুক দিয়ে ছেলেটা বলল ওয়েটার আমাকে লবণ দাও তো?
মেয়েটা অবাক হয়ে বলল,আপনি চায়ে লবণ খাবেন না কী?
ছেলেটটি বলল, হ্যাঁ; আমার জন্ম নোনা জলের সাগর পাড়ে।
নোনা চায়ে চুমুক দিলে আমার চোখে ভেসে উঠে আমার গ্রাম আর নোনা জলে ভেসে যাওয়া আমার বাবা মায়ের মুখ।
মেয়েটা অবাক হয়ে শুনতে থাকে ছেলেটার কথা।
তারপর মেয়েটা বলল,আমি কখনো সাগর দেখিনি।
আমার জন্ম পাহাড়ে,সেখানে গাঁ ছুঁয়ে উড়ে যায় কোমল মেঘ,পাখির মত।
সাগর আর পাহাড়ের গল্প ক্রমশ নিবিড় হলো দিন দিন।
বন্ধুত্ব থেকে ভালোবাসার সর্ম্পক তারপর বিয়ে।
সংসার এবং আস্তে আস্তে বৃদ্ধ-বৃদ্ধা।
একদিন বৃদ্ধ মারা যাত্তয়ার আগে বৃদ্ধার হাতে একটি চিঠি দিল আর বলল; "আমি মরা যাবার পর চিঠিটি খুলে পড়বে।"
বৃদ্ধ মারা যাওয়ার পর বৃদ্ধা চিঠিটা খুলে পড়লো,
তাতে লেখা আছে," লবণ দিয়ে চা আমি কখনও খেতাম না, তোমার সামনে সেদিন থতমত খেয়ে
চিনির বদলে লবণ বলে ফেলে ছিলাম আর বোকামি ঢাকার জন্য এমন গল্প ফেঁদেছিলাম।
তাই চল্লিশ বছর তোমার হাতের লবণ চা খেয়ে গেলাম। তোমার হাতের লবণ চা খুব মিষ্টি।"
একদিন বৃদ্ধা প্রতিবেশীর বাড়িতে বেড়াতে গেল ,তাকে চা দেওয়া হলো।
বৃদ্ধা বলল, একটু লবণ দিন।
প্রতিবেশী তখন অবাক হয়ে বলল, আপনি চায়ে লবণ খাবেন না কী?
বৃদ্ধা বলল;হ্যাঁ,''লবণ চা খুব মিষ্টি''।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

