প্রায় দু'বছর আগে নেপাল গিয়েছিলাম। যারা নেপাল যেতে চান, তাদের জন্য নিজের অভিজ্ঞতা থেকে সামান্য কিছু তথ্য দিলাম। আমি এয়ারে গিয়েছিলাম। একজনের ভাড়া লাগে ১৫,০০০/- টাকা্ আপনি বাংলাদেশ থেকে নেপালের ভিসা নিতে পারেন নেপাল দুতাবাস থেকে(ফ্রী)। আবার নেপালে গিয়েও এয়ারপোর্ট থেকে ভিসা নিতে পারেন, তবে সেক্ষেত্রে আপনাকে ১০০ নেপালী রুপি অতিরিক্ত দিতে হবে।
এয়ারপোর্ট থেকে ট্যাক্সিতে করে কাঠমুন্ডুর থামেল নামক এলাকাতে যাবেন। কারণ সেখানেই বেশিরভাগ হোটেল অবস্থিত। ভাড়া নিবে ২৫০/৩০০ রুপি। ভাল কথা, বাংলাদেশ ও নেপালের মুদ্রার মূল্যমান প্রায় একই। মোটামুটি মানের হোটেলে রুম ভাড়া নিবে ২৫০ থেকে ৫০০ রুপির মত। নেপালে ট্যাক্সি ভাড়া থেকে শুরু করে খাবার-দাবার ও অন্যান্য সবকিছুর দাম আমাদের থেকে কিছুটা বেশী, সম্ভবত টুরিষ্ট প্রধান শহর বলে।
কাঠমুন্ডু শহরের ভিতরে যে সব জায়গা দেখার মত সেগুলো হল: কাঠমুন্ডু দরবার স্কয়ার, পাঠান দরবার স্কয়ার, বুদ্ধুনাথ স্তুপা, পশুপতিনাথ মন্দির, মাংকি মন্দির, রয়েল প্যালেস ইত্যাদি। একটা ট্যাক্সি নিয়ে আপনি একদিনেই এসব ঘুরে দেখতে পারবেন। এছাড়া বুদ্ধের জন্মস্থান লুম্বিনি ঘুরে আসতে পারেন তবে পরের দিন।
মাউন্ট এভারেষ্ট দেখতে চাইলে আগের দিন ট্যাক্সি ঠিক করে রাখবেন যাতে পরের দিন ভোর ৪.০০টা/৪.৩০টার দিকে রওনা হতে পারেন নাগরকোটের উদ্দেশ্যে। ভোরের স্নিগ্ধ আলোতে মাউন্ট এভারেস্ট দেখার আনন্দ ভাষাই প্রকাশ করা সম্ভব না, শুধু অনু্ভব করা যায়্। ওখান থেকে ফিরে আসার পথে আরেকটি শহর পড়ে যার বাড়িঘর সব হলুদ ইট দিয়ে তৈরি। ওটাও ঘুরে দেখে আসতে পারেন। ট্যাক্সি ভাড়া নিতে পারে ১৫০০/১৬০০ রুপির মত।
যারা বেশী সাহসী তারা প্লেনে করে চলে যেতে পারেন এভারেষ্ট-এ। এর জন্য শহরেই বিভিন্ন গাইড ফার্ম আছে, তাদের সাথে যোগাযোগ করলে তারা নিয়ে যায়। পোখারা যেতে হলে খুব সকালে বাসে করে যেতে হবে। ভাড়া নিবে জনপ্রতি ৫০০/৬০০ রুপি। এখানে বেড়ানোর জন্য কমপক্ষে ২ দিন সময় হাতে রাখতে হবে।
ফিরে আসার সময় নেপাল এয়ারপোর্টে এয়ারপোর্ট ট্যাক্স বাবদ জনপ্রতি ৭০০ রুপি করে রেখে দেয় কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।সবমিলিয়ে ৬/৭ দিনের নেপাল ভ্রমনে আপনার (কাপল) ব্যয় হতে পারে ২৫,০০০/- থেকে ৩০,০০০/- রুপি (বিমান ভাড়া বাদে)।
আপনাদের নেপাল ভ্রমণ আনন্দের হোক।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

