বিঃদ্রঃ ডিজিটাল বাংলাদেশ সম্পর্কে যারা সচেতন তাদের এই প্রজেক্টটি সম্পর্কে অধিক সচেতন থাকা উচিত কারন এই প্রকল্পটিই বর্তমানে দেশের ডিজিটালাইজেশনের দিকে সবচেয়ে একটিভলি কাজ করে যাচ্ছে। তাই এখানে মনোযোগ সমালোচনা পরামর্শ প্রদান করা উচিত।
একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রোগ্রাম বাংলাদেশ।
একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রোগ্রাম মূলত: ইউএনডিপির আর্থিক সহায়তায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ই-গর্ভনেন্স সেল এর মাধ্যমে বাস্তবায়িত হচ্ছে। এ প্রোগ্রামটি বাংলাদেশের জাতীয় গুরুত্ব বিবেচেনা করে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির গৃহীত উদ্যোগ ও প্রোগ্রামের যথার্থ বাস্তবায়নে নিশ্চয়তা প্রদান করছে। একই সাথে, এই প্রোগ্রামটি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির উন্নয়নে নতুন প্রকল্প বাস্তবায়নে সমর্থন দিয়ে থাকে এবং প্রজেক্টের মূল্যায়ন এবং নিরীক্ষণে কারিগরী সহায়তা প্রদান করে থাকে। জাতীয় উন্নয়ন নীতিমালায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিকে মূল স্রোতধারায় আনয়নের লক্ষ্যে এ প্রোগ্রামটি কাজ করে যাচ্ছে এবং দেশের ই-গর্ভনেন্স ভিশন এবং কৌশল নির্ধারনে সহায়তা করছে যা দেশের উন্নয়নে ডিজিটাল সুযোগ সুবিধাকে জনগনের নিকট নিশ্চিত করতে পারে। এছাড়া দেশের জাতীয় ই-গর্ভনেন্স ভিশন পরিকল্পনায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ সুবিধাকে সনাক্ত করা হয় এ প্রোগ্রামের মাধ্যমে। এই প্রোগামের মূল উদ্দেশ্য হল :
১. জাতীয় ই-গর্ভনেন্স ভিশন সেটিং- স্থানীয় সফল উদ্যোগের সর্বোত্তম ব্যবহার, স্বার্থ এবং কৌশল,
২. নিম্নোক্ত প্রকল্পের সনাক্তকরণ, গঠন, কৌশলগত অংশীদারিত্ব, সম্পদ আরোহণ, ফলাফল প্রণয়ন, মূল্যায়ন কাঠামো এবং কার্যক্রমের তত্ত্বাবধান:
ক. ই-গর্ভনেন্স ড্রাইভার প্রজেক্ট: কুইক উইন প্রজেক্টের মাধ্যমে জরুরী ই-গর্ভনেন্স কার্যক্র্রম শুরু এবং উৎসাহিত করা;
খ. পরিবেশ সহায়ক প্রজেক্ট: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ভিত্তিক প্রকল্প যা জনপ্রশাসনে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সমাধানে টেকসই ও গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চয়তা প্রদান।
৩. ই-গর্ভনেন্স সেল এর দক্ষতা বৃদ্ধিকরন যাতে এই সেলের মাধ্যমে গৃহীত প্রকল্পের সুষ্ঠু বাস্তবায়ন সম্ভব হয়। প্রকল্পের নকশা প্রণয়নে ও পরিকল্পনায় দায়িত্ব ও কতর্ব্য নিরুপণ করা, প্রকল্পে জ্ঞানভিত্তিক সমর্থন, গুনাগুন নিশ্চয়তা, প্রকল্পের তত্ত্বাবধান, প্রকল্প বাস্তবায়নকালে ফলাফলের মূল্যায়্ণ এবং পরবর্তী প্রকল্প বাস্তবায়নে বর্তমান কৌশলের নিরীক্ষণ করা।
বাংলাদেশে ই-গর্ভনেন্স ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য সাধারনত যে ধরনের ঝুকির সন্মুখীন হতে হয় তা নিম্নোক্তভাবে তিনটি “এ”(ইংরেজী অক্ষর ‘এ') এর মাধ্যমে সংক্ষিপ্তভাবে বলা যেতে পারে। একসেস, এওয়ারনেস এবং এপ্লিকেশনস। বাংলাদেশের মত একটি উন্নয়নশীল দেশে অবকাঠামোগত উন্নয়নে মূলধন বিনিয়োগ একটি বড় ধরনের সমস্যা। এছাড়াও প্রযুক্তিভিত্তিক যন্ত্রপাতি ক্রয় করা এখনো এদেশের বেশিরভাগ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে।
এদেশে মোবাইলের ব্যবহার যোগাযোগ অবকাঠামোতে কিছুটা পরিবর্তন আনলেও সরকারী কর্মচারী এবং নাগরিকদের মধ্যে প্রযুক্তিভিত্তিক সচেতনতা খুবই কম। ই-গর্ভনেন্স প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে মধ্য এবং উচ্চ পদস্থ সরকারী কর্মচারীদের মধ্যে এ ধরনের সচেতনতা তৈরি করা খুবই জরুরী।
বাংলাদেশের জনপ্রশাসন এবং অন্যান্য সরকারী প্রতিষ্ঠানগুলোতে খুব কমই তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার পরিলক্ষিত হয়। সফটওয়্যারের প্রয়োগের অভাব এবং ডিজিটাল কনটেন্ট এর স্বল্পতা সরকারী প্রতিনিধিদের নিকট তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহারে এতটা সাফল্য অর্জন করতে পারেনি।
উপরে উল্লেখিত এই তিনটি বিষয় ছাড়াও নীতিনির্ধারক মহলের সমন্বয়ের অভাব এবং বিভিন্ন সরকারী সংগঠনের বিচ্ছিন্ন মনোভাব জনপ্রশাসনে এবং নাগরিক সেবায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহারের ক্ষেত্রে আরো এক ধরনের ঝুঁকি তৈরি করেছে।
একসেস টু ইনফরমশেন প্রোগ্রামের উদ্দেশ্য হচ্ছে ই-গর্ভনেন্স সেলকে জ্ঞানভিত্তিক সেবা এবং কারিগরী সহায়তা প্রদান করা যা মূলত: জাতীয় ই-গর্ভনেন্স রূপকল্প তৈরীতে নেতৃত্বের ভূমিকা পালন করবে এবং এই রূপকল্প অর্জনে সকল জাতীয় প্রচেষ্টাকে সমন্বয় করবে। সরকারী আইসিটি চ্যাম্পিয়ন যেসব ব্যক্তিবর্গ কিংবা সংগঠন রয়েছে তাদের প্রযুক্তিভিত্তিক জ্ঞান বৃদ্ধি করা এবং প্রজেক্ট / প্রোগ্রামের ব্যবস্থাপনা বিষয়ে জ্ঞান বিনিময় করা এই প্রোগ্রামটির আরো একটি উদ্দেশ্য।
প্রজেক্টটির সম্প্রতী যে কাজটি নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে তা হলো নেশনাল ওয়েব পোর্টাল যার অধীনে শতাধীক কোটি টাকা খরচ করে ৬৪ জেলার ব্যানার লাইক তথ্য বাতায়ন করেছে। লিংক এখানে Click This Link

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

