দ্রষ্টব্যঃ এই কম্পানীটি শোনা গেছে বানিজ্য মন্ত্রী ফারুক খানের। তাকে আগামীকালের মধ্যে পাবলিকের ১৫০০শত কোটি টাকা ফেরত দিতে হবে। অন্যথায় তাকে রেবের ক্রসফায়ারে হত্যা করা হবে কারন একাজ করে সে কালা ফারুকের চেয়ে কুকাজ করেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোথায় ?
উল্লেখ্যঃ শেয়ার মার্কেটে যারা কারসাজি করে এদের বাটপার বলা হয়।
যেখানে শেয়ার মার্কেট অনেক আগেই এদেশের অর্থনীতির একটি অন্যতম ও পজিটিভ ইনভল্ভড ফ্যাকটর হওয়া উচিত ছিল সেখানে বাংলাদেশ শেয়ার মার্কেটের উদ্দেশ্য এবং বিধেয় দুইই হলো কিছু বড় বড় বাটপার প্রতিষ্ঠান, নিয়ন্ত্রন সংস্থা এসিসি, অর্থ মন্ত্রনালয় সহ সংশ্লিষ্ট সরকারী দপ্তর এবং মাফিয়া ইনভেস্টরদের সাথে মিলে ক্ষুদ্র বিনিয়োগ কারীদের টাকা নিয়ে যাওয়ার একটি সফল ও অনৈতিক মার্কেট।
ছোট্ট একটি উদাহরন দিলে বিষয়টি ক্লিয়ার হয়ে যাবে। আসলে এরকম অসংখ্য ফন্দি-ফিকির করে পাবলিকের টাকা খেয়ে তাদের পথে বসানোই শেয়ার মার্কেট, এসিসি ও অর্থমন্ত্রনালয়ের মিশন এবং ভিশন।
যেমন কিছুদিন আগে ওশেন কন্টেইনার লিমিটেড নামক একটি কোম্পানী শেয়ার মার্কেটে এসেছে এবং প্রথম দিনই তার ১০ (দশ) টাকার শেয়ার ২৫০ (একশত পঞ্চাশ) টাকায় বিক্রি হয়ে সর্বচ্চ ৩৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে যার মূল্য আজ গতাকাল ২৭৮ টাকা ছিল।
এখন দেখা যাক বিষয়টা কি হলো ? ধরে নিলাম ওসিএল মানে ওশেন কন্টেইনার লিমিটেড প্রতি শেয়ারের মূল্য ১০ টাকা হিসেবে ৫০ কোটি টাকার শেয়ার মার্কেটে ছারলো। এবং গড়ে ৩০০ টাকা দরে শেয়ারগুলো বিক্রি করলো। তাহলে কি করলো ? ১০ টাকাকে ৩০০ টাকা দরে বিক্রি করলে ৫০ (পঞ্চাশ) কোটি টাকা বিক্রি করলো ১৫০০ (পনের শত কোটি) কোটি টাকা।
এখন দেখা যাক কি হওয়ার কথা ছিল ? নিয়ম মত যে কোন কম্পানী মার্কেটে আসতে চাইলে তাকে প্রাইমারী শেয়ার মানে আইপিও মানে সম্প্রতি গ্রামীন ফোনের শেয়ার যেভাবে আবেদনের ভিত্তিতে লটারীর মাধ্যমে মার্কেটে ছেরেছে সেভাবে আসতে হবে। গ্রামীন এর ক্ষেত্রে দেখেছেন, ১০ টাকার শেয়ারের সাথে সম্ভবত ৬০ টাকা প্রিমিয়াম যোগ করেছে ৭০ টাকায় বিক্রি করেছে (এখানে গ্রামীনে মত কম্পানী ৬০ টাকা নেয়া ঠিকই আছে)। এখানে বিশেষ ভাবে লক্ষ্যনীয় যে এই প্রিমিয়াম নির্ধারন করার একটা নীতিমালা আছে যদিও কতটুকু কি আছে তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আছে।
এখন প্রশ্ন হলো ওসিএল যদি গ্রামীনের এই প্রক্রিয়ায় আসতো তাহলে কি হতো ? হ্যা সেই ক্ষেত্রে ওসিএল এর দশ টাকার শেয়ারের সাথে সর্বচ্চ ৪০ টাকা প্রিমিয়াম যোগ হয়ে ৫০ টাকায় বিক্রি হতো। তাহলে ৫০ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি হতো ২৫০ কোটি টাকায় । তাহলে দেখা যাচ্ছে কোম্পানীটি আইপিও ডিক্লিয়ার না করে সরাসরি লিস্টিং করে সেকেন্ডারী মার্কেটে শেয়ার ছেরে এবং মার্কেটে কোম্পানীর প্রফাইল নিয়ে কিছু রিউমার ছরিয়ে দিয়ে প্রান্তিক বিনিয়োগ কারীকে লোভ দেখিয়ে ১২৫০ কোটি টাকা বাড়তি নিয়ে গেল হার্ড ক্যাশ হিসাবে। একাজে সে মন্ত্রনালয় ও এসিসি সহ সংশ্লষ্ট অফিসগুলোতে হয়তো ১০০ কোটি টাকা খরচ করেছে এডভান্স কারন তারা দায়িত্ব পালন করলে এটা করা সম্ভব নয়। কত সহজে কয়েক দিনেই ১০০০ কোটি টাকার উপর উপার্জন (?) করে নিল, হায় বাটপারের দেশ'রে !
কাজটা কি ভাবে করলো ? ওসিএল অর্থমন্ত্রনালয়ের একটা বিশেষ অর্ডার নিয়ে কোম্পানীটি আইপিও না দিয়ে এসিসির সহায়তায় সোজা সেকেন্ডারী মার্কেটে ৫০ কোটি টাকা ৫ দিনে ১৫০০শ কোটি টাকা নিয়ে গেল।
আপনাদের কি মনে হয় ? এই টাকা কার পকেট থেকে যাবে ? অবশ্যই এই পুরো টাকাটাই যাবে প্রান্তিক বা ম্যাঙ্গো বিনয়োগকারীর পকেট থেকে।
এর বিচার কি হওয়া উচিত ? বিচার না। প্রকাশ্য দিবালোকে কোট-টাই পরা বাটপার লোকের এরকম বাটপারী যার ক্ষতি পরিমান অদৃশ্য এবং ব্যপক তা নিয়ে কোন আইন আদালতে না গিয়ে সরাসরি গন রায় দেয়া হলোঃ
১. ম্যাংগো বিনিয়োগকারী এবং আমার মত সামান্যতম খোজ খবর রাখা ম্যাংগো জনতা মিলে ঐ কোম্পানীর মালিককে ধরে এনে স্টক এক্সচেঞ্জের সামনে খালি গায়ে দাড় করিয়ে মার্কেটে তার থাকা সবগুলো শেয়ার সর্বোচ্চ দর যত উঠেছিল সেই দরে কিনে নিতে হবে। এবং যতক্ষন পর্যন্ত সবগুলো কেনা না হয়ে ততক্ষন ঐ রাস্তায় ঐ ভাবেই খালি গায়ে দাড়িয়ে থাকবে, সে দিন হলে দিন রাত হলে রাত। সমান্যতম অন্যথায় RAB ওকে ঐখানেই ক্রস ফায়ার করবে। কারন এ কালা ফারুকের চেয়ে জঘন্য অপরাধী।
২. ঐই কাজে জড়িত সরকারী নিয়ন্ত্রনকারী কর্তৃপক্ষ যারা জড়িত ছিল মন্ত্রী, সচিব, চেয়ারম্যান নির্বিশেষে সবগুলিকে ধরে এনে এক সাথে খালি গায়ে রাস্তার মাঝখানে দাড়করিয়ে রাখা হবে। কারন যারা এই শেয়ার কিনেছিলেন তারা শেয়ার বেচে যাওয়ার সময় এদের উদাম শরীরে থুথু দিয়ে যাবে। এবং পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে এই কয় বাটপারকে বাংলাদেশের বাইরে কোথাও ফেলে আসা হবে। (দেশে এমনিতে কোট-টাই পড়া বাটপার গিজগিজ করছে আরও অনেক ফেলতে হবে।) সামান্য অন্যথায় RAB তো থাকলই।
উপসংহারঃ সবগুলো সরকারী কোম্পানীকে অতিস্বত্ত্বর মার্কেটে এনে এবং শেয়ার মার্কেটকে যথাযথ নিয়ন্ত্রন করে এদেশের অর্থনীতিতে সঠিক ও প্রয়োজনীয় অবদান রাখার জন্য এই মার্কেটকে এখনই পুরো সাফ করা জাতির জন্য আজ ফরজ হয়ে গেছে তাই এই মার্কেট নিয়ে যারা এমন অনৈতিক কাজ করে গরীবে হাজার হাজার কোটি টাকার ক্ষতি করে দেশের অর্থনীতিতে আরও ব্যপক ক্ষতি করে চলেছে তাদের এমন আদর্শ শাস্তিই দেওয়া উচিত দেশের বৃহত স্বার্থেই।
দ্রষ্টব্যঃ আমার নিজের বা পরিবারের শেয়ার মার্কেটে কোন ইনভেস্ট নাই কিন্তু আমি জানি ও বিশ্বাস করি যেকোন দেশের অর্থনীতির জন্য শেয়ার মার্কেট একটি অপরিহার্য গুরুত্বপূর্ন উপাদন। আর বাংলাদেশে মার্কেটটি সম্পূর্ন ভাবে কোট টাই পরা বাটপারের দখলে। দেশের স্বার্থেই মার্কেটটিকে বাঁচানো প্রয়োজন। তাই পোষ্টটি স্টিকি করতে সামুকে অনুরোধ জানাচ্ছী।
পরিশেষে বলবো আমরা যদি না জাগি মা কেমনে সকাল হবে ?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

