somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ক্ষুদে পাহাড়ি ট্রেইলঃ বাড়বকুন্ড ধাম ও ঝরঝরি ট্রেইল

২০ শে মার্চ, ২০১৭ সকাল ১১:৪৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


আবারও সেই মেইল ট্রেন ৷ ঘুরতে থাকা চিলের আরও একটি সফল ট্যুর শেষ করে আসলাম আমরা ৷ এবার ১২ জন মিলে রওনা হয়েছি সিতাকুন্ডের উদ্দেশ্যে ৷ সারারাত ট্রেনে গান-বাজনা করে সকাল ৭ টায় আমরা পৌছাই সিতাকুন্ড রেলওয়ে স্টেশন এ ৷ সেখানে সকালের নাস্তা করেই আমরা রওনা হই বাড়বকুন্ডের উদ্দেশ্যে ৷ বাড়বকুন্ড থেকে আমাদের পায়ে হাটা শুরু ৷ হিন্দু ধর্মাবলম্বী দের কেনো উৎসব থাকাতে বেশ মানুষ দেখেছিলাম সেদিন বাড়বকুন্ড ধামের পথে ৷ মন্দির থাকাতে রাস্তা দিয়েই মন্দির পর্যন্ত যাওয়া যায় আবার রাস্তার ডান পাশেই রয়েছে ঝিরি পথ ৷ প্রায় ৪০ মিনিটের মতো পাহাড়ে কাটা মানুষের পথ ধরে আমরা পৌছে যাই বাড়বকুন্ড ধাম/ অগ্নিকুন্ড তে ৷ বাড়বকুন্ড কে অগ্নিকুন্ড ও বলা হয় ৷ সারা বছরই এই মন্দির টি তে পানি থেকে প্রাকৃতিক ভাবে আগুন জ্বলে ৷ হতে পারে তা প্রাকৃতিক গ্যাস থেকে সৃষ্টি আবার হতে পারে তা হিন্দু ধর্মাবলম্বী দের মতানুযায়ী ধর্মীয় আশীর্বাদ ৷
বাড়বকুন্ড ধামের ঠিক পিছনেই সিতাকুন্ডের বিখ্যাত খাড়া কাম্বা পাহাড় ৷
মন্দিরটির সাথেই আছে একটি ছোট্ট পাহাড় যার উপর উঠলে পুরো মন্দিরের অসাধারন দৃশ্য দেখতে পাওয়া যায় ৷
কিছুক্ষন সময় আমরা মন্দিরটি ঘুরে মন্দিরের নিচের ডান পাশের ঝিরি পথ ধরে এগুতে থাকি ৷ সিতাকুন্ডে তে বৃষ্টি হওয়ায় আমরা ঝিরি পথে মোটামুটি পানি পাই,যা থাকার কথা না এই সময়ে ৷ পথে উচু নিচু পিচ্ছিল কিছু ক্যাসকেড আছে , ৩-৪ টি গভীর খুম আছে যা বর্ষাকালে যারা সাতার পারেনা তাদের জন্যে মারাত্নক বিপদজনক ৷ যারা সাতার পারেনা তাদের অবশ্যই লাইফ জ্যাকেট নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ রইলো ৷
অনেকেরই প্রথম ট্রেকিং হওয়াতে পা পিছলে পড়েছিলো!! আশা করেছিলাম বাড়বকুন্ড ক্যাসকেড এ কিছুটা পানি পাবো কিন্তু তা আর হয়নি ৷ ক্যাসকেড পুরো পানি শূন্য ৷ তবে পাহাড়ের খাজে এই ঝিরিপথ গুলো সৌন্দর্যের আধার ৷
আমরা বাড়বকুন্ড ফিরে এসে সিএনজি তে করে চলে যাই সিতাকুন্ডের পন্থিছিলা বাজার এ ৷সেখানে দুপুরের খাবার খেয়ে রওনা হই পরবর্তী উদ্দেশ্য ঝরঝরি ঝর্নার উদ্দেশ্যে ৷ কিছুক্ষন হাটার পরই পেয়ে যায় রেললাইন ৷ তবে অন্যান্য ট্রেইল এর মতো এটি সরাসরি রেললাইনের ওপাশের রাস্তায় না৷ রেললাইন পৌছিয়ে হাতের বামে ৫ মিনিট হাটলেই একটি গ্রাম্য পথ পাহাড়ের দিকে চলে যায়,সেই পথ ধরেই এগুতে হয় ৷
গ্রাম থেকে আমরা সুজন নামের একজন গাইড ঠিক করি ৷ প্রথম বার হলে এই ট্রেইল এ গাইড ছাড়া যাওয়া প্রায় সম্ভব না ৷ গাইডের সাথে করে আমাদের পথ চলা শুরু ৷ প্রায় ৪০ মিনিটের মতো হেটে আমরা পৌছাই একটি নাম না জানা পাহাড়ের নিচে ৷ ভাবতে পারিনি পথ কঠিন হতে শুরু করেছে ৷ এই শুরু একনাগাদ সরু রাস্তা ধরে উপরে উঠে চলা ৷ প্রায় ৭০০ ফিট একটানা উঠতে আমরা সবায় কাহিল ৷ আবার ৭০০ ফিটের মতোই নিচে নেমে আমরা পেয়ে যাই ঝরঝরি ঝর্নার নিজস্ব ঝিরি পথ ৷ ঝিরিপথে ভালোই পানি ৷ ৩০ মিনিটের মতো হেটে পেয়ে যাই ঝরঝরি অপরূপ ঝর্না ৷ সারাদিন কাধে ব্যাগ নিয়ে হেটে অবশেষে একটু ঝর্নার দেখা পেয়ে সবায় মহাখুশি ৷ অপেক্ষা কীসের!! সবায় ভিজিয়ে নেই শরীর ঝর্নার ঠান্ডা পানিতে ৷ সেখান থেকে আমরা ঝর্নার আপস্ট্রিম ধরে এগুতে থাকি ৷ ছোট ছোট কিছু ক্যাসকেড পার করেই পেয়ে যায় অনিন্দ্য সুন্দর ঝরঝরি ক্যাসকেড ৷ এই ক্যাসকেড এ যাওয়ার পথ বর্ষাকালে প্রচুর কঠিন কারন, পথেই বিশাল একটা গভীর খুম আছে ৷
এবার ফেরার পালা,সেই ভঙ্গুর পথ পাড়ি দিয়ে পন্থিছিলা বাজার পৌছাতে আমাদের বাজে ৫ টা ৷ সেখান থেকে আমরা চলে যায় মিরসরাই এর হাদি ফকিরহাট ৷ সেখান থেকে ভিতরের দিকে হাটা শুরু করি, উদ্দেশ্য পাহাড়ে তাবুবাস করা ৷
গাইড সুজনঃ 01812-847578
জনপ্রতি ৫০ টাকা করে নিবে ৷
কিছু ছবিঃ
১)দিনের শুরুতে


২)ট্রেইলে হালকা পানির ছোয়া


৩)পথে পথে


৪)বাড়বকুন্ড ধামের নিচে


৫)বাড়বকুন্ড ধামের নাম ফলক


৬)পাহাড় দেখতে পাহাড় চড়ি


৭)পুরো মন্দির টা


৮)অগ্নিকুন্ডের প্রবেশ মুখ


৯)অগ্নিকুন্ডের ভিতরে


১০)বাড়বকুন্ড ক্যাসকেড এর পথে খুম


১১)ক্যাসকেড পার করার চেষ্টা


১২)ঝরঝরি ট্রেইলের শুরু


১৩)ঝরঝরি ঝর্নায় আমরা সবায়


১৪)ঝর্নায় ভিজি


১৫)ঝরঝরি ক্যাসকেড


১৬)ঝরঝরির পথে মারাত্নক গভীর খুম


১৭)ঝরঝরি থেকে ফিরি


চলবে.....
পরবর্তী ব্লগে লিখবো চাঁদনী রাতে তাবুবাসের অভিজ্ঞতা নিয়ে ৷
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে মার্চ, ২০১৭ সকাল ১১:৪৮
৭টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জোকস (মেগা) কালেকশন -০১ (১৮- - ১৮+)

লিখেছেন আজীব ০০৭, ২১ শে আগস্ট, ২০১৭ সকাল ১০:৪১

এখানে কোন কৌতুকই আমার নিজস্ব রচনা নয়-সবগুলোই ভিবিন্ন ওয়েব পেজ, বাংলা ব্লগ, ফেসবুকের বিভিন্ন পেইজ ও গ্রুপ এবং বন্ধুদের ওয়াল থেকে নেওয়া। তাদের সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা আমাদের একটু হাসির সুযোগ... ...বাকিটুকু পড়ুন

খোলো তোমার ভালবাসার জানালা

লিখেছেন সেলিম আনোয়ার, ২১ শে আগস্ট, ২০১৭ বিকাল ৩:৩৯



তোমার জন্মদিনে গিয়েছি সীমা ছাড়িয়ে
অবাক মৌনতায় নিয়েছো আদর কেড়ে।
তোমার জানালায় পাঠিয়েছি প্রেম বারবার
সারাদিন সারারাত ; ভালবাসার সুখপ্রপাত।
একসময় আটকে দিলে তোমার ভিতরে
মোর... ...বাকিটুকু পড়ুন

একটু এলোমেলো কথা আর একটু প্রকৃতির ছবি

লিখেছেন ইতি সামিয়া, ২১ শে আগস্ট, ২০১৭ বিকাল ৫:০০



আমি আমার ভাই বোনের বিচ্ছু ছেলে মেয়েদের বলি আমি মরে গেলে খবরদার যেন কাউকে কাঁদতে না দেখি!! যদি কাউরে কাঁদতে দেখি তাইলে তোদের একেকটার খবর আছে!! চড় মেরে দাঁত... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাছ কাটা ব্যাটা

লিখেছেন জাহিদ অনিক, ২১ শে আগস্ট, ২০১৭ সন্ধ্যা ৭:১৮




আমার গল্পের নায়কের নাম সবুজ। অবুঝ বালকের মতই তার বয়স নয়। সে ভাল ইনকাম করে, অন্তত আমার থেকে বেশি।
কাওরান বাজার আর শেওড়াপাড়া এলাকায় মাছ বাজারে সে মাছ... ...বাকিটুকু পড়ুন

সময়, এক বয়সখেকো রাক্ষস

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ২১ শে আগস্ট, ২০১৭ সন্ধ্যা ৭:৫৯




আমি যতবার পুরোনো দিনের সিনেমা দেখতে বসি- হার্টথ্রব ওয়াসিম, নায়করাজ রাজ্জাক- অমর সিরাজউদ্দৌলা আনোয়ার হোসেন, এমনকি তারুণ্যে যে এটিএম শামসুজ্জামানকে খুন করতে ইচ্ছে হতো- আর আমার স্বপ্নের অলিভিয়া, কবরী,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×