somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

হিমালয়ের প্রথম ছোঁয়া : পর্ব ২(সান্দাকফু)

০৮ ই ডিসেম্বর, ২০১৭ রাত ১২:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


সারারাত বাতাসের ঝড় বয়েছিলো আমাদের কটেজের উপর। হটাত হটাত ঘুম ভেঙ্গে গিয়েছিলো বাতাসের শব্দে।
পরদিন ভোর হলো, বাইরে কি চলছিলো তার বিন্দুমাত্র ও ধারনা ছিলোনা আমাদের। একটু বাইরে বের হয়ে দেখি জাউবারি থেকেই দেখা যাচ্ছে কাঞ্চনঝঙ্গা ও এভারেস্ট।


কিন্তু এরকম শীত আমি স্বপ্নেও কল্পনা করতে পারিনি, ১ মিনিটের মধ্যে হাত জমে ফ্রিজ, নাক দিয়ে পানি ছুটেছে! অস্বাভাবিক শীত আর সাথে ঘাতক হিসেবে বাতাস!
জাউবারি তে সূর্য উঠার পর আবহাওয়া টা কিছুটা সহন্সিলতায় এসেছিলো, হোটেলের দরজায় বসে কিছুক্ষণ রোদ পোহায়া নিলো সবায়।

আরো একটি বড় দিনের শুরু। শুরু করলাম হাটা, রাতের ঘুমে অনেকের ই ব্যাথা যা ছিলো তা কমেছে। প্রথমে ৩ কিলোমিটার নামতে হয়েছে শুধু, সকাল ৯ টা নাগাদ আমরা পৌছাই গারিবাস গ্রামে।


গারিবাস থেকে আবারো শুরু শুধু উপরে উঠা! সান্দাকফু এখান থেকে আরো ১২ কিলোমিটার দূরে। এখান থেকে প্রথমে শুরু হয় কিছুক্ষণ ঘন জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে ট্রেকিং। এটা রেড পাণ্ডা দের সংরক্ষিত এলাকা!


অনেক পথ উঠতে গিয়ে ইকবাল ভাই এর রগ এ আবারো টান লেগেছে। তারপর থেকে উনারে নিয়ে আস্তে আস্তে এক পা দু পা করে এগুতে হচ্ছিলো সবার।


ঘন জঙ্গলের ভিতর দিয়ে হাটতে হয়েছে আরো বেশ কিছুক্ষণ। বেলা ১১ টায় পাই ছোট একটা গ্রাম কাইয়াকাটা। এখানে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে নিলাম সবায়।



এখান থেকে আবারো শুরু হাটা, পরবর্তী টার্গেট দুপুরের আগে কালিপোখ্রি পৌঁছানো। কালিপোখ্রি নেপালের একটি গ্রাম,যার নাম হয়েছে লেকের নামে। এবারে অসাধারণ কিছু আকা বাকা পথ পেয়েছিলাম সামনে। পথ ই মনে হয় সকল ভালো লাগার বিষয় বস্তু।


মেঘের ভিতর দিয়ে চলাচল শুরু হয়ে গেছে,এতো উচ্চতায় আমরা পৌঁছে গেছি যেখানে মেঘের ভেলা ভাসে!
অবশেষে দুপুরে আমরা পৌছাই কালিপোখ্রি গ্রামে ।



কালিপোখ্রি লেক নিয়ে একটা রহস্য আছেঃ
ইলেকের পানি কখনো বরফ হয় না.. চারদিকে বরফ পরলেও লেকের পানি সব সময় তরল.। লেকের পানিতে কোন ময়লা পরে না.. চারপাসে গাছ থাক্লেও সেই পাতা লেকের পানিতে দেখা যায় না..অথবা পরলেও পাখি তা ঠোটে করে তুলে ফেলে দেয়। আমার এই টুকুই মনে আছে। তবে নিজের চোখে দেখা হল আশেপাশে বরফ পরেছিল কিন্তু লেকের পানি ছিল তরল। ( লেখাঃ মনিরা ইয়াসমিন সেতু আপু)

দুপুরের খাবারের জন্নে এখানে চাওমিন ছাড়া আর কিছুই পাইনি, আমি তো আগেই জানি দুনিয়ার অখাদ্দের মধ্যে চাওমিন হলো একটা। তাই নিজের জন্নে না বলে বাকি সবার জন্নে অর্ডার দিয়েছিলাম!
১ জন বাদে বাকি কেও গলাধকরন টাও করতে পারেনি! সান্দাকফু এখান থেকে আর মাত্র ৬ কিলোমিটার! আমাদের গাইড বহু চেষ্টা করেছিলো আমাদের ক ভিখে ভাঞ্জাং এ রাতে রাখার জন্নে। কিন্তু আমি ছিলাম আমার সিধান্তে অনড়। আমরা আজ ই সান্দাকফু জাবো,হাতে এখনো অনেক সময় বাকি আসে।
হাটা শুরু করলাম আবারো, হাটতে হাটতে প্রায় শেষ বিকাল। ঠিক তখনই সান্দকাফু আর ১ কিলোমিটার এর মাইল ফলক। সবার যত ক্লান্তি ছিলো নিমিষেই দূর। আবারো নতুন উদ্যমে শুরু। বিকেল ৪ঃ৩০ টায় পৌছাই সান্দাকফু ০ কিলোমিটার এ । যদিও এটা শুধু মাত্র সান্তনা।


এখান থেকে আরো প্রায় ২০ মিনিট উপরে উঠার পর মূল সান্দাকফু এরিয়া তে পৌছাতে হয়। সন্ধায় পৌঁছেছি সান্দাকফু তে, মারাত্মক শীত আর বাতাস। দ্রুত ABC Trekkers Hut B তে আমরা উঠি। শীতের চোটে আর বাইরে বের হতে পারিনি।

সান্দাকফু তে রাতে যা খেয়েছিলাম, তা নিঃসন্দেহে আমার জিবনের শ্রেষ্ঠ খাবার!
খিচুরি,আলুভাজি,সসা,ফুলকপি! আহ এখানে বসে এই খাবার খেতে পারবো কল্পনাও করিনি। রাতে জলদি ঘুমিয়ে পরি,কারন পরের দিনের জন্নে প্রস্তুত হতে হবে।

পরদিন সকাল! সূর্য উঠার আগেই বের হয়ে গেছি। যা দেখেছি তা নিজেকে বিশ্বাস করাতেও কস্ট হচ্ছিলো।


হোচট একটা খেয়েছিলাম ইকবাল ভাই এর আজ আবার ২১ কিলোমিটার ট্রেক করার অবস্থা নেই দেখে! সবার জন্নে সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিলো সান্দাকফু থেকেই অন্য পথে নামার! ১০ টা পর্যন্ত ছিলাম সান্দাকফু তে,নিচে নামার সময় কিছুতেই মন চাচ্ছিলো না কাঞ্চন ঝঙ্গা কে ছেড়ে যেতে!
আগামি পর্বে করবো সেপি যাওয়ার গল্প !
চলবে ....
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই ডিসেম্বর, ২০১৭ রাত ১২:১৯
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আনন্দময় যন্ত্রণা

লিখেছেন অপু তানভীর, ২০ শে জানুয়ারি, ২০১৮ রাত ৯:৪৩

বিয়ের পরপরই সুমনের জীবনটা বেশ সহজ হয়ে গেছে। এটা যতই দিন যাচ্ছে সুমন ততই বুঝতে পারছে। এখন ওর মনে হচ্ছে বিয়ের ব্যাপারে ওর নিজের যে একটা নেগেটিভ ধারনা ছিল সেটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৃপ্তির গল্প

লিখেছেন অপু তানভীর, ২০ শে জানুয়ারি, ২০১৮ রাত ১১:২৫



এয়ারপোর্টে থেকে বের হয়েই বুঝলাম শীত কাকে বলে! দেশের এই অঞ্চলে গরম যেমন পড়ে, শীতও। তাড়াহুড়ো করে আসতে হয়েছে তাই ঠিক মত শীতের কাপড়ও নিয়ে আসি নি। শীতের কাপড়... ...বাকিটুকু পড়ুন

সময় যায় চলে

লিখেছেন নূর-ই-হাফসা, ২১ শে জানুয়ারি, ২০১৮ রাত ১২:৪৬



সময়টা ছিল অনেক আগের, স্কুলে মাত্র পা রাখলাম । আমার আর আপুর তখন পছন্দের কাজ ছিল সকাল হলেই জানালার পাশে এসে দাঁড়ানো । আমাদের জানালা বরাবর ছিল সুমি আপুদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

হোক কলরব, ফুলগুলো সব

লিখেছেন অজানিতা, ২১ শে জানুয়ারি, ২০১৮ ভোর ৬:৫৩

আমার তোলা যত ছবি, তাঁর মাঝে অসংখ্য ছবি ফুলের। যেখানেই যাইনা কেন চোখে ফুল দেখিই :-B । সেই অসংখ্য ছবির মাঝে অল্পকিছু দেয়া হলো এখানে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রথম পাতায় লেখার সুযোগ দেওয়ার আনন্দ

লিখেছেন কামরুননাহার কলি, ২১ শে জানুয়ারি, ২০১৮ বিকাল ৪:৪৯


আজ আমি অনেক, অনেক খুশি। কেনো খুশি সবাই প্রশ্ন করবেন না, হাহাহাহাহা। কারণ আজ আমাকে আমার প্রিয় সামহোয়্যারইন ব্লগ টিম আমাকে প্রথম পাতায় লেখার সুযোগ করে দিয়েছেন।
সত্যিই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×