somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আবু বকরের হত্যাকারীর শাস্তি চাই!শিক্ষাঙ্গনে শাসকশ্রেণীর ছাত্র সংগঠনগুলোর সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোল!

১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১২:২৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কোন পরিস্থিতির মধ্যে আমরা দিন কাটাচ্ছি?
আমাদের শিক্ষাঙ্গনগুলো শাসকশ্রেণীর ছাত্র সংগঠনগুলোর সন্ত্রাস আর ছাত্র হত্যা ও নির্যাতনের ভয়াল কারাগারে রূপ নিয়েছে। ছাত্রলীগের দুই গ্র“পের সৃষ্ট সন্ত্রাস দমনের নামে পুলিশ কর্তৃক আবু বকর নিহত হওয়ার পর এক সপ্তাহেরও বেশি সময় অতিবাহিত হয়ে গেছে। কিন্তু এই সময়ে প্রশাসন ও সরকার খুনী এবং সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কোন কার্যকর পদক্ষেপ তো নিলই না বরং এ মৃত্যু নিয়ে শাসকশ্রেণীর ছাত্র সংগঠনগুলো, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সরকার একের পর এক নাটক রচনা করে চলেছে। উপরন্তু আবু বকর হত্যাকারীদের দাবীতে ডাকা কর্মসূচীতে একদিকে পুলিশ ন্যাক্কারজনকভাবে বাঁধা দিচ্ছে অন্যদিকে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা হুমকি দিচ্ছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন ছাত্রলীগ-ছাত্রদল-ছাত্র শিবিরের সন্ত্রাস বিরোধী আন্দোলন চলমান, এরই মধ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র শিবিরের সন্ত্রাসী কর্তৃক নিহত হল ছাত্রলীগ কর্মী। আবু বকর হত্যার বেশ কিছুদিন আগে আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দেখলাম ছাত্রদলের দুই গ্র“পের সন্ত্রাস। ফলে আজ এটা আমাদের কাছে দিনের আলোর মত পরিষ্কার- কারা সন্ত্রাস সৃষ্টিকারী।

কিন্তু কেন এই সন্ত্রাস, এই হত্যা, এই নির্যাতন?
শিক্ষাঙ্গনের এই সন্ত্রাস নতুন কোন ঘটনা নয়। সাম্রাজ্যবাদের তাঁবেদার এদেশের শাসকশ্রেণীর দলগুলোর মধ্যে যখনই ক্ষমতার পালাবদল হয় তখনই ক্ষমতাসীন দল শুধু বিশ্ববিদ্যালয় নয়, সারাদেশব্যাপী চালায় দখল অভিযান। আর সেই অভিযানে সন্ত্রাসের শিকার হয়ে শত শত মানুষকে জীবন পর্যন্ত দিতে হয়। আর এই দখল করা এবং দখল রাখার জন্য ক্ষমতাসীন দল তার পুলিশ ও দলীয় ক্যাডারদের কাজে লাগায়। এমনকি আমাদের উচ্চ শিক্ষার সায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রশাসন ও ক্ষমতাসীনদের অথবা শাসকশ্রেণীর অন্যান্য দলগুলোর এজেন্টে পরিণত হয়। ফলে আজ শিক্ষাঙ্গনে ছাত্রদের ন্যুনতম গণতান্ত্রিক অধিকার তো দূরে থাক, জীবনের নিরাপত্তা দেয়ার কেউ নেই। এমন কি শাসকশ্রেণীর ছাত্র সংগঠনগুলোতে অন্তর্ভূক্ত শিক্ষার্থীদেরও জীবনের নিরাপত্তা নেই, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনায় তা প্রমাণিত।

এই হত্যা, সন্ত্রাস, নির্যাতনের দায় কার?
যে প্রশাসনের ছত্রছায়ায় টেন্ডারবাজি, হল দখল, ভর্তি ও সিট বাণিজ্য, ছাত্র হত্যা ও নির্যাতন; শিক্ষক নির্যাতন চলে। যেই প্রক্টর আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষনে নামে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের মটর সাইকেলের পেছনে বসে ক্যাম্পাসে মহড়া দেয়, ছাত্রলীগের অন্তর্কোন্দল নিয়ন্ত্রণের ভার নিজ হাতে না নিয়ে পুলিশ লেলিয়ে ছাত্র হত্যা ও নির্যাতনের পথ করে দেয়, ছাত্রদলের দুই গ্র“রে সন্ত্রাসী সংঘর্ষের পর মেরুদন্ডহীন বক্তব্য দেয়- ‘আমি নির্দেশ দিয়েছিলাম কিন্তু পুলিশ গ্রেফতার করে নি।’ সেই প্রশাসন স্পষ্টতই সন্ত্রাস ও ছাত্র হত্যার জন্য দায়ী। অন্যদিকে যে সরকার সাধারন জনগণের জানমালের নিরাপত্তা পূর্বের সরকারগুলোর মত নিশ্চিত করতে ব্যর্থ, সেই সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পুলিশ কর্তৃক ছাত্র হত্যার ঘটনায় বলেন- ‘এরকম ঘটনা ঘটতেই’, ‘এটা ব্যাপার না’ বা ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা’ তখন সরকারসহ শাসক শ্রেণীর অবস্থান ও অস্পষ্ট থাকে না।
আর কতকাল এই হত্যা, নির্যাতন, অধিকার বঞ্চনা!?
ক্যাম্পাসগুলোতে আবাসন সংকটকে কেন্দ্র করে চলে সিট বাণিজ্য। হলে সিটের বিনিময়ে একজন ছাত্রকে সন্ত্রাসের মুখে তার জীবনের মালিকানা তুলে দিতে হয়; আত্মসম্মান বিসর্জন দিতে হয় শাসক শ্রেণীর ছাত্র সংগঠনগুলোর হাতে। গণরুমের নির্যাতন আর গেষ্টরুমের প্রশাসনের বেড়াজালে বন্দী আমাদের শিক্ষা জীবন। এখানে তথাকথিত সায়ত্বশাসিত প্রশাসন ছাত্রদের অভিভাবকত্বের পোশাক পরে শাসক শ্রেণী ও সরকারের এজেন্ট হিসেবে কাজ করে। অথচ বছর বছর খাত- বেখাতে ফি বৃদ্ধি, ক্লাসরুম সংকট, শিক্ষক সংকট, ক্যান্টিনের অস্বাস্থ্যকর অপর্যাপ্ত খাবার, পরিবহন সংকটের বহু সমস্যায় তাদের কোন মাথাব্যথা নেই। আর আমাদের জীবন অপেক্ষায় থাকে শাসক শ্রেণীর ছাত্র গণবিরোধী ছাত্র সংগঠনগুলোর সন্ত্রাসের বলী হবার জন্য।

আমাদের সংকট কি জনগণের সংকট থেকে বিচ্ছিন্ন?
আমরা দেখেছি শাসক শ্রেণীর দলগুলো জনগণের স্বার্থকে তোয়াক্কা না করে সাম্রাজ্যবাদ, ভারতসহ বৈদেশিক শক্তির স্বার্থে দেশের জাতীয় সম্পদ-বন্দর-সাগর বিক্রি করে, সাম্রাজ্যবাদী মুনাফার স্বার্থে শ্রমিক হত্যা করে, গোপনে গণবিরোধী চুক্তি সম্পাদন করে, জনগণের উচ্চশিক্ষার অধিকার হরণ করতে বিদেশীদের পরামর্শে কৌশলপত্র বাস্তবায়ন করে। আর এসবের বিরুদ্ধে যে কোন গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে দমন করার জন্য কাজ করছে শাসক শ্রেণীর এজেন্ট বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সন্ত্রাসী ছাত্র সংগঠনগুলো। তাই, শ্রমিক সৃষকসহ ব্যাপক নিপীড়িত বঞ্চিত জনগণের সংকট থেকে আমাদের সংকট বিচ্ছিন্ন নয়।

তাই সংগঠিত হোন, লড়াই করুন
এই সন্ত্রাস ফ্যাসিবাদের কারাগার থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য দরকার লড়াই-সংগ্রাম-আন্দোলন। সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী ছাত্র ঐক্য ছাত্র সমাজের কাছে সেই লড়াই সংগ্রামের ডাক দিয়ে যাচ্ছে। 
আসুন, ছাত্রলীগ-ছাত্রদল-ছাত্রশিবিরের সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে একজোট হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে অগণতান্ত্রিক নির্যাতক প্রশাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াই। সরকারের ফ্যাসিষ্ট তৎপরতার বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলি।

আমাদের দাবী-
১. অবিলম্বে আবু বকরের হত্যাকারী খুনী পুলিশের শাস্তি চাই ও তার পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
২. অবিলম্বে খুনী পুলিশ ও সন্ত্রাসীদের মদদদাতা প্রক্টরের অপসারণ চাই।
৩. ছাত্র-গণবিরোধী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ চাই।
৪. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারা দেশের শিক্ষাঙ্গনে ছাত্রলীগ-ছাত্রদল-ছাত্র শিবিরের সন্ত্রাসী তৎপরতা বন্ধ কর।
৫. সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গণতান্ত্রিক প্রশাসন নিশ্চিত কর।

আগামীকাল ১১ জানুয়ারী বৃহস্পতিবারের কর্মসূচী:
প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান
ডাকসু সবুজ চত্ত্বর, সকাল ১১ ঘটিকা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী ছাত্র ঐক্য
অস্থায়ী কার্যালয়: মধুর কেন্টিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ফোন-০১৫৫৪৩২১৭২০, ০১৯১১৯৫০৩৯১
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×