লন্ডন এবং আমাদের দেশের ছাত্ররা!!!!
২২ শে আগস্ট, ২০০৯ রাত ১১:১৬
লন্ডনে হঠাৎ হঠাৎ শোরগোল শোনা যায় যে আজ এই নতুন নিয়ম আসছে এবার এখানে থাকা খুব কষ্টকর হয়ে উঠবে। আর এ নিয়ে চলে নানা জল্পনা কল্পনা, কে কিভাবে টিকে থাকবে তার পরিকল্পনা চলে কাজের ফাকে যখন সবাই এক সাথে হয়।
যাই হোক আমি যেটা বলতে চাইছি সেটা হলো এবার জীবন বোধহয় একটু কঠিন হবে সত্যিকার অর্থেই। এই অর্থনৈতিক মন্দার সময় তারা যখন হন্নে হয়ে খুজছে উপায় ঠিক তখনই এদেশের নীতি নির্ধারকদের চোখের সামনে অন্যতম সমাধার হয়ে দেখা যায় আর্ন্তজাতিক (এশিয়ান) সমাজ যারা খুব সহজে লন্ডন নাম উচ্চারনের সাথে সাথে এক ধরনের সপ্নের জগতে চলে যায়। দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম প্রধান তিনটি দেশ বাংলাদেশ, ভারত এবং পাকিস্তান থেকে আগামী সেপ্টেম্বের সেশনে পড়াশোনার উদ্দেশ্যে ঠিক কত সংখ্যক ছাত্র এদেশে আসছে তা যদিও আমি বলতে পারছিনা তবে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ত্রিশ চল্লিশ হাজার ছাত্র আসছে এদেশে তাদের জীবন ফেরাতে!!! কিন্তু এখানেই একটা বড় প্রশ্ন দেখা দেয় এবং সেটা হলো আসলেই কি আমাদের দেশের ছাত্রদের ভাগ্য ফিরবে নাকি এটা এদেশের ভাগ্য ফেরানোর উপায়? আমি যদি একটা সামান্য পরিসংখ্যান তুলে ধরি তাহলে ব্যাপারটি আপনাদের কাছে পরিস্কার হয়ে যাবে।
গত অর্থ বছরে ৮০০ মিলিয়ন পাউন্ড জমা পড়েছে ব্রিটিশ রাজকোসে যা এসেছে টিউশন ফি বাবদ এদেশের কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে সরাসরি প্রদ্ত্ত টাকা থেকে, প্রতিটি ছাত্ররা সাথে করে এদেশে যে পরিমান টাকা নিয়ে আসবে তার কথা নয়ন নাই বা ধরলাম।
এবার দেখা যাক ছাত্রদের পকেটের কি অবস্থা! লন্ডনে প্রতিটি ছাত্রের খরচ চালানোর জন্য সর্বনিম্ন ৩০০ থেকে ৩৩০ পাউন্ড প্রয়োজন।
একটা ছোট হিসাব:
বাসা ভাড়া- £১৫০
ইউটিলিটি বিলস- £২৫
খাবার(বাসায় খেলে)- £৫৫
যাতায়াত- £৭০
ফোন- £১৫
মোট- £৩১৫
এখন এই টাকাটা জোগার করার দুটি উপায় আছে।
১. কেউ যদি এদেশে এসেই যদি বাংলাদেশি যে রেস্টুরেন্টগুলো আছে লন্ডনের বাইরের শহরগুলোতে সেগুলোতে চলে যাওয়া তাহলে তাকে আর থাকা অথবা খাওয়া কোনটা নিয়েই চিন্তা করতে হবে না কারণ রেস্টুরেন্ট যেহেতু খাবারতো আছেই আর পাশাপাশি থাকারও ব্যবস্থা আছে ফ্রি। পাশাপাশি প্রতি মাসে ৪০০ পাউন্ড বেতন। এপর্যন্ত শুনে হয়ত সবার ভাল লাগছে কিন্তু এত কিছুর বিনিময়ে আপনাকেও তো কিছু দিতে হবে, আর আপনার থেকে মালিক যা নেবে সেটা হলো চরম পরিশ্রম, সপ্তাহে ৬ দিন কাজ একদিন ছুটি, কলেজে যাওয়া বন্ধ ।
২. কেউ যদি লন্ডনেই থাকে আর পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চায় তাহলে তার জন্য অপেক্ষা করছে নানা ধরনের সমস্যা যার সব গুলোর বর্ণনা করা সম্ভব নয়। যদি কারো দেশ থেকে টাকা আসার উপায় থাকে তাহলে লন্ডন তার জন্য উপযুক্ত জায়গা। কিন্তু আমার জানা মতে দেশের টাকায় বিদেশে পড়ার মত সামর্থ মনে হয় শুধু বড় বড় ঋণখেলাপী ব্যবসায়ী, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রীপরিষদের সদস্যবৃন্দের ছেলেমেয়েদেরই আছে। আর এক শ্রেণীর আছে যারা আমাদের দেশের গর্ব মেধাবীরা। এছাড়া আমরা যারা মধ্যবিত্ত ঘরের সন্তান তাদেরকে এখানেই কাজ করে জীবিকা আহোরণ করতে হয়। আর এই কাজ পাওয়াটাই আজকাল খুব কঠিন হয়ে দাডিয়েছে অর্থনৈতিক মন্দার কারনে। পাশাপাশি ছাত্রদের জন্য সমস্যা হয়েছে হোম অফিসের নতুন নতুন নিয়ম কড়াকড়ি। যার ফলে ছাত্ররা আর আগের মত ক্লাশ না করে শুধু টাকা আয় করতে পারছে না, কারন হোম অফিস এখন কোন অনিয়মের জন্য সরাসরি কলেজকে ধরবে এবং লাইসেন্স বাতিল করবে। তার ফলে যেটা হবে সেটা হলো কলেজ তার ব্যবসা ঠিক রাখার জন্য ছাত্রদের উপর চাপ প্রয়োগ করছে। যার ফলে ছাত্ররা আছে এখন উভয় সংকটে। না হবে চাকরি না হবে পড়াশোনা।
আমি খুব জোর গলায় বলতে পারি প্রতিটি ছেলে মেয়ে যারা এদেশে আসার ভিসা পায় তারা কখনো ভাবতে পারেনা যে তাদের জীবন এক ধরনের নিশ্চিত অনিশ্চতার দিকে ধাবিত হচ্ছে।
চলবে
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে আগস্ট, ২০০৯ রাত ১১:২৫ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
সততার আলো বলেছেন:
খাইছেরে, কি কন? দয়া করে চালিয়ে যান। হয়তোবা আমাকে নতুন করে ভাবতে হবে...
লেখক বলেছেন: নতুন করে ভাবলে বোধহয় খারাপ করবেন না তবে ভাল করে যোগাযোগ করে নেবেন। ধন্যবাদ আপনার মন্তবের জন্য।
ব্লগই শেষ ঠিকানা বলেছেন:
চলুক।
কামাল পাশা (2য়) বলেছেন:
যে খরচটা দিয়েছেন সেটা কি সাপ্তাহিক নাকি মাসিক? আর ৮০০ মিলিয়ন পাউন্ডের পুরাটাই তো আর উপমহাদেশ থেকে আসেনি। এশিয়া বিশেষ করে চীন, জাপান আর মিডল ইস্ট থেকে প্রচুর ছাত্র-ছাত্রী পড়তে আসে। সে টাকায় তাদের ভাগ বাংলাদেশী বা ই্ন্ডিয়ানদের চাইতে অনেক বেশী। এইসব ব্যাপার না। ফাইনানসিয়াল রেসিশান কেটে গেলেই সব ঠিক হয়ে যাবে। পোস্ট এমন ভাবে লিখেন যাতে কেউ ভয় না পেয়ে তথ্য পায় পর্যাপ্ত।
লেখক বলেছেন: আমার উদ্দেশ্য কাউকে ভয় পাইয়ে দেয়া নয়। চীন, জাপান এবং মিডল ইস্ট থেকে আসা ছাত্র ছাত্রীরা এত কষ্ট করেনা যতটা করে ইন্ডিয়া, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশ থেকে আসা ছাত্ররা।
মুভি পাগল বলেছেন:
লন্ডন আর লন্ডন নাইরে। আসলে বিদেশ আর বিদেশ নাই। পৃথিবীর যে কোন দেশেই আসলে সমস্যা এখন। আর ছাত্রদের জন্য তো তা আরও প্রকট। এদেশ থেকে আসলে অনেকে অনেক আশা নিয়ে যায় বাহিরে। কিন্তু তাদের সে আশায় গুঁড়েবালি। ওখানে গিয়ে সমস্যা কখনই কমেনা বরং বাড়ে। আসলে আজ থেকে ৫০ বছর আগে পরিস্থিতি যেমন ছিল এখন কিন্তু তেমনটা নেই। চাইলেই এখন বিলাত গিয়ে ভাগ্য গড়া যায়না। যারা ভাগ্য গড়ার আশায় বিলাত যায় এবং যাচ্ছে তারা কিন্তু বেশির ভাগই সমস্যায় পড়ছে। এটা কোন লুকোনো সত্য নয়, প্রমাণিত এবং প্রকাশ্য সত্য। সত্যিই বিদেশটা এখন নিশ্চিত অনিশ্চয়তা যেখানে গিয়ে সফল হতে পারাটাই অনিশ্চয়তাকে নিশ্চয়তায় পরিণত করা। ক'জনের ভাগ্যে এটা ঘটে। অনেকে আবার বলে আমি তো পড়াশুনার জন্য যাচ্ছি। অন্য কিছুর জন্য নয়। তাদের জন্য বলতে হয়, ওদেশের টাকায় ওদেশে বিদ্যেধরী হওয়াটা যার পর নাই কঠিন এবং এটা সন্দেহাতীতভাবে সত্য। আমার অনেক বন্ধু-বান্ধবকে দেখেছি যারা পড়াশোনার কথা বলে দেশত্যাগী হয়েছে। পরবর্তীতে কাজ করে পেটের ভাত যোগানো আর দৈনন্দিন জীবনে চলাফেরাটাই কষ্টকর ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেখানে পড়াশোনা? গরীবের ঘোড়া রোগ বা ব্যাঙের সর্দির মত ব্যাপার।
আমি নিরুৎসাহিত করছিনা যারা বিদেশ গমনের চিন্তায় আছেন তাদেরকে। কেবল বাস্তব পরিস্থিতিটা নিয়ে একটু কথা বলতে চেয়েছিলাম। ইগোতে লাগলে ক্ষমাপ্রার্থী।
সংকেত বলেছেন:
ধন্যবাদ, পড়ালেখার কথা বললেন না, বিদেশে পা দিয়ে প্রথম ধাক্কাটা খেতে হয় কলেজের কাছ থেকেই। এটা এদের টাকা আয় এবং সস্তা শ্রম বাজার তৈরি ছাড়া আর কিছুই নয়।
ঘোর বলেছেন:
ধন্যবাদ। গুরুত্বপূর্ণ ইনফরমেশন। বিলেত যাওয়ার হিড়িক দেখে আমিও এমন কিছু সন্দেহ করেছিলাম। মিলে গেলো।
ধন্যবাদ। চালিয়ে যান। শুভ কামনা।
মামুন বিদ্রোহী বলেছেন:
কি আর বলব... খুব খারাপ লাগল কথাগুলো শুনে... আল্লাহ জানে কবে আমাদের সুদিন আসবে। প্রয়োজনীয় সব তথ্য সরবরাহ করার জন্য +..
মামুন বিদ্রোহী বলেছেন:
কি আর বলব... খুব খারাপ লাগল কথাগুলো শুনে... আল্লাহ জানে কবে আমাদের সুদিন আসবে। প্রয়োজনীয় সব তথ্য সরবরাহ করার জন্য +..
ঘুমরাজ বলেছেন:
ধন্যবাদ। চালিয়ে যান। শুভ কামনা +++
কামাল পাশা (2য়) বলেছেন:
ঠিক। অপরপক্ষে তারা যে পরিমান অর্থ বিট্রিশ সরকারকে দিয়েছে সেটাও ইন্ডিয়া, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশ থেকে আসা ছাত্ররা দেয়নি। সুতরাং ৮০০ মিলিয়ন পাউন্ডের কথা বলে মুখ ভারী না করাই ভালো!! আমার উত্তরটা পেলাম না।
কামাল পাশা (2য়) বলেছেন:
আচ্ছা, হোম অফিসের খবরদারির বিষয়টা কি স্টুডেন্ট ভিসা কন্ডিশনের আওতায় পড়ে?
সায়েম মুন বলেছেন:
তবুও যাতি হবি ৫০ পাউন্ড জমাতি পারলি কত টেহা জানি হবি!
আমি পালোয়ান বলেছেন:
কি আর কমু ভাই। বৃটিশরা আসলেই বান্দর। বাশ দেয়ার জটিল সিস্টেম বের করছে। ইউ.কে. স্টুডেন==জিনদেগি বরবাদ
যীশূ বলেছেন:
পড়াশুনার মাঝামাঝি (অনার্সের আগে বা পরে) এ দেশের অনেক ছাত্রদেরই দেখি বিদেশ যাওয়া নিয়ে আগ্রহ দেখা যায়। আমি আমার বন্ধুদের (যারা দেশের বাইরে আছে) কাছে খোজ নিয়ে জানার চেষ্টা করতাম আসলেই এখান থেকে যারা যাচ্ছে তারা কেমন আছে। কখনোই খুব একটা স্বচ্ছ ধারনা পাই নি। আপনার লেখাটা চলুক। বিস্তারিত ধারনা পাব আশা করি।
এখন ও বৃষ্টি ভালবাসি বলেছেন:
কামাল পাশা (2য়) আপনাকে বলছি ,লেখক যে খরচ দিয়েছে তা মাসিক ।আপনি যেটা বললেন রিসিশন কেটে গেলে সব ঠিক হবে ,আমি আপনার কাছে জানতে চাই কবে কাটবে রিসিশন ?
এখন যে নতুন ১০০০ পোলাপান বেকার হল যার বেশীর ভাগ বাংগালী এরা কী এখন ঐ আশায় বুক বেধে বসে থাকবে যে রিসিশন কেটে গেলে সব ঠিক ।
আমি জানি কতটা টেনশনে আছি আমরা ,আপনি জানেন না ।
রং৭ বলেছেন:
টপিকটা ভালো লাগলো। পারলে চালিয়ে যান। এদেশ থেকে যারা যায়, তাদের একটু সচেতনতার দরকার...
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...















