আমার প্রিয় পোস্ট

যত বড় শহর, তত বড় একাকীত্বতা...

মানুষের ভীরে... (শেষ পর্ব)

০৭ ই আগস্ট, ২০০৮ বিকাল ৪:৩৭

শেয়ার করুন:                   Facebook

প্রথম পর্বঃ Click This Link
দ্বিতীয় পর্বঃ Click This Link
তৃতীয় পর্বঃ Click This Link

মনোযোগী দৃষ্টিতে ধীরে ধীরে পথ হাঁটছে প্রভাত। কখনও এদিক কখনও ওদিক তাকাচ্ছে। সামনের বাঁ দিকে তাকিয়েই তার দৃষ্টি স্থির হয়ে গেল। সে থমকে দাঁড়িয়ে গেল। বেশী দুরে নয় দশ-বারো কদম হবে। সে আর পা বাড়াল না। সে ওখানে দাড়িয়েই দেখছে, ছেঁড়া চটের আবরেনে হাঁটু গেরে বসে থাকা পাগলটাকে। আকাশের দিকে তাকিয়ে বিরবির করে কি যেন বলছে আর হাসছে আপনমনে।প্রভাত বুঝতে পারে এ হাসি তার উপহাসের হাসি। কার দিকে লক্ষ করে তার এই উপহাস ! কোন অদৃশ্যের সাথে যেন তার এই বোঝাপড়া, একান্তে খুবই একান্তে। বিরবির করে বলে যাচ্ছে আপন ক্ষতগুলো। গোপন এক বোঝাপড়া গোপনের সাথেই। েযন আপনমেন সাপলুডু খেলছে বিধাতার সাথে। প্রভাতের তার মেঝভাইটার কথা মনে পড়ে যায়। প্রভাত আবার হাঁটতে শুরু করে কিছুটা উদভ্রান্তের মতো। হয়তো মেঝভাইটাও এভাবেই সময় কাটাচ্ছে চেনা অথবা অচেনা কোন শহরের অলিতে গলিতে। নাকি মরে গেছে ! না, তা যেন নাহয় করুনাময়। আছে বেঁচে আছে, এই বিশ্বাস নিয়েই হাঁটছে সে আর এদিক সেদিক খুঁজে বেরাচ্ছে তার ভাইটাকে। দেখা যায়কিনা ভাইটাকে। দৃষ্টির সীমানায় খুঁজছে আপন রক্ত। আপন রক্ত এই পথেই আছে। সেজন্যই কি পথ তাকে বেশী টানে ? এই টান যেন জন্মান্তরের। দৃষ্টির সীমানায় দেখা যাবেনা ভাইটাকে। প্রভাত বুঝতে পারে কোন সীমানার কাছে আত্মসমর্থন করেনি সে। সে যেন ঘুপটি মেরে বসে আছে প্রভাতের মনের মাঝে। মন চলে যায় পেছনে। তখন প্রভাত ক্লাস পোরে আর মেঝভাইটা ক্লাস এইটে।
মেঝভাই তাকে নিয়ে গিয়েছিল সাইকেল চালানো শেখাতে। তখন বাবার চাকুরীকাল। তারা থাকত এক মফস্বল শহরে। শহরের কোল ঘেঁসে বড় এক নদী। নাম পায়রা নদী। সেই নদীর পাড়ে বিস্তৃত ফাঁকা মাঠ। মাঠের শেষে আর নদীর তীড় ঘেঁষে দাড়িয়ে আছে এক শিমুল গাছ। শিমুলও ফুটেছিল সেদিন। সেই শিমুলের কোল ঘেঁসে নৌকা ভীড়ছে। যাত্রীর ওঠানামা চলছে। পারাপারের যাত্রী মাঠের একপ্রান্ত জুড়ে। সেই মাঠের অন্যপ্রান্তে তাকে সাইকেল চালানো সেখানো হচ্ছে। প্রভাত যেন স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছে সেই দিনগুলো। প্রথম পাক দেয়ার সময় পেছনের ক্যারিয়ার ধরে তার পেছনে পেছনে ছুটছে মেঝভাই। দ্বিতীয় পাকে মাঝে মাঝে ছেড়ে দিচ্ছে, আর তৃতীয় পাকে পুরোপুরি ছেড়ে দিয়েছে। সে একটা ভয় নিয়ে চালাচ্ছে। কখও ভারসাম্যের অভাবে টালমাটাল অবস্থা। মেঝভাই এর নির্দেশ, কোমড় সোজা, হাতল শক্ত করে ধর আর চোখ সামনে। প্রভাত চালাচ্ছে নির্দেশমত। কিছুটা আয়ত্তে চলে এসছে। তখন নির্দেশ আরো গতি বারানোর জন্য। হাফ ছেড়ে হাটু মারে সে। গতি বাড়তে থাকে। কখনওবা বাক নেয়ার সময় কাত হয়ে পড়ে যায়, কিছুটা ব্যাথাও পায় তবু সে হাল ছাড়েনা আবার শুরু করে। দুর থেকে দাঁড়িয়ে মেঝভাইএর নির্দেশ,
Come-on getup, Don't warry be happy.

প্রভাত আর কিছু দেখতে পায়না। চোখে জল জমতে শুরু করেছে। ঝাপসা হয়ে আসছে দৃষ্টি। জীবনের ট্র্যাকে দৌড়াবার পথ দেখিয়ে নিজেই যেন ছিটকে পরল ট্র্যাক থেকে। বড় কষ্ট লাগে মেঝভাইটার কথা মনে এলেই। যতবেশী ভালবাসা ততবেশী কষ্ট। মৃত্যূর শোকের চেয়েও বড় বেশী শোক এই নিখোঁজের শোক। প্রচন্ড কষ্টে ভরা ভারী এক বুক নিয়ে প্রভাত পথ চলছে। অনাকাংখিত কষ্টগুলো এসে ধরা দেয় কাঙ্খিতের মতই। প্রভাত জানেনা কোথায় গিয়ে ঠেকবে তার এই পথচলা। কোথায় পৌঁছাবে তার এই জীবন ! ভাগ্যের ভবিষ্যতটা যে অজানা। ভারী কষ্ট নিয়ে ভাগ্যহীন কিছু স্বপ্ন নিয়ে পথ চলছে প্রভাত। একা, খুব একা জীবনেরই পথে। কি মানে আছে এই জীবনের ? কোন উত্তর খুঁজে পাওয়া যায়না। ঘন কুয়াশার মত সব ঘোলাটে। তবু পৃথিবী জীবনকেই ডাকে। জীবন বরণ করে নেয় বেঁচে থাকাকেই। সবসময় কেমন যেন এক যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা এই জীবনকে ঘিরে। শুধু সামনে চল সামনে চল। কিন্তু কোথায় ! জীবনের লক্ষ্যে ? কে যে কোন লক্ষ্যে পৌছাচ্ছে ! শুধূ যেন সামনে যাওয়া আর পেছনে আসা।

মাথাটা কেমন যেন ভারী হয়ে আসে প্রভাতের। কোন হিসেবই মিলছেনা। সব যেন জট পাকিয়ে যাচ্ছে অগোছালো সুতলির মত। জট খোলার আপ্রান চেষ্টা নিয়ে পথ চলছে প্রভাত। এত হিসেব নিকেশের জীবন জানলে জীবনের ভাঙ্গা নৌকায় সে চড়তোই না। কিন্তু সে উপায়ওতো নেই। তবে কেন এই জন্ম ? কেন এই বেঁচে থাকা ? বড় বিচিত্র এই মানুষের জীবন যাপন। পাগলা ঘোড়ার মত ছুটছে অজানা পথে, সময়ের সাথে বিরামহীন প্রতিযোগীতা নিয়ে। কখনও দিয়াশলাই এর মত জ্বলে ওঠা দুরন্ত উচ্ছাসে, আবার নীরব অবস্থান একশত ভাগ নিরাপদে। আসলে জীবন যেন এক সাপলুডু খেলা, স্বপ্নের সিড়ি বেয়ে ওপরে ওঠা আবার অনাকাংখিত বিষাক্ত ছোবলে নিম্নে পদার্পন। ওপরে ওঠা আবার নিচে নামা। জীবনের বোধ শুধু এটুকুই বোঝে কামঅন-গেটআপ। থেমে থাকার উপায় নেই আবার উঠতে হবে, আবার চলতে হবে। জীবনতো এক গতি ছাড়া আর কিছুই নয়। সময় জুড়ে এক গতিময়তার খেলা। সময়ের নিয়মে জীবনের বোঝা কাঁধে নিয়ে চলছে মানুষ। কখনও এপথে আবার কখনও ওপথে। কখনও দূঃখে হাতড়ে মরছে আবার সুখের আশায় পথ চলছে। কোথায় আছে সুখ ? ভালবাসায় ? সেখানেওতো জুড়ে আছে দ্বায় আর দাবীর দ্বন্দ। বিশ্বাস আর যুক্তির দ্বন্দ। আসলে ভালবাসা সুখ-দূঃখের এক অপুর্ব সংমিশ্রন ছাড়াতো আর কিছু নয়। আর জীবন ! সেতো পরিবর্তনে অঙ্গিকারাবদ্ধ এক গতিময়তা নিয়ে চলছে শেষের পথ ধরে। যে পথে প্রয়োজন শুধু একটাই সহ্যটা আয়ত্ব করে নেয়া। সাধনা এই একটাই।

প্রভাত বুঝতে পারছে। কিন্তু এখানেই কি মিলে যাচ্ছে সব হিসেব ? এতো মিলবার নয়। তবু চারপাশ জুড়ে প্রানের খেলা। এক গতিময়তায় মানুষের ছুটেচলা। কখনও সঠিক আবার কখনও ভুল পথে। ছুটে চলা, শুধু ছুটে চলা থেমে থাকা নয়। জীবনের ষ্টেশন তো একটাই, মৃত্যূ। জীবন আর মৃত্যূর মাঝখানের পথ জুড়ে আছে এক মোহিনী আঁচল যা শুধু আকড়ে ধরতে চায়। মানুষ পারে ধরে থাকতে ? মানুষতো পথ চলছে মৃত্যূর টিকিট হাতে নিয়ে। মৃত্যূই তার শেষ গন্তব্য। তবু মানুষ ছুটছে যার যার নিজ নিজ গন্তব্যে। কোথায সেটা ? থেমে যায় প্রভাত। চারপাশে তাকায়। নগর যেন কেমন ক্লান্ত বোধ করছে। স্থিমিত হয়ে আসছে মানুষের ছুটে চলা। আকাশে মেঘের মেলা জমেছে বেশ জোড়ালো ভাবেই। গুরুম গুরুম গর্জাচ্ছে, এই বুঝি বৃষ্টি এলো বলে। মুহুর্তে মুহুর্তে বিজলী চমকাচ্ছে। কি করবে প্রভাত ? পথ চলতে থাকবে ! সে দেখল তার পাশ দিয়েই লাঠি হাতে ঠুকঠুক করে পথ খুঁজে নিয়ে চলছে এক অন্ধ ভিখারী। প্রভাত সেই অন্ধ ভিখারীর দিকে তাকিয়ে থাকে। সেও যেন ফিরে যাচ্ছে তার আপন গন্তব্যে। প্রচন্ড এক দমকা হাওয়া শুরু হয়েছে। খুব ঠান্ডা লাগছে। রাস্তার ওপাশ থেকে গাড়ী ছাড়ছে ফিরে যাবার পথে। হুড়মুর করে গাড়ীতে ইঠছে মানুষ ফিরে যাবার জন্য। মানুষ যেন খুব তাড়াতাড়ি ফিরতে চাইছে যার যার নিজ গন্তব্যে। ক্লান্তি থামিয়ে দিচ্ছে মানুষের পথচলা। স্থিমিত হয়ে আসছে মানুষ। ফিরে যাচ্ছে ঘরে, গৃহপালিতের মত। আচ্ছা এইযে মানুষ ঘরে ফিরছে গৃহপালিত পশু-পাখির মত, মানুষকে পুষছে কে ?

মায়া, মায়ায় পুষছে মানুষকে। তাইতো মানুষ হাজারো কষ্টের বোঝা কাঁধে নিয়েও ঘরে ফেরে। প্রভাতও কখন যেন সেই মানুষের ভীড়েই মিশে যায়।


লেখার তারিখঃ ২৫শে এপ্রিল ২০০২
স্থানঃ কক্সবাজার।






 

 

  • ২৪ টি মন্তব্য
  • ১৬৪ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ৪ জনের ভাল লেগেছে, ১ জনের ভাল লাগেনি
১. ০৭ ই আগস্ট, ২০০৮ বিকাল ৪:৪২
comment by: অচেনা আগন্তুক বলেছেন: ওয়াহ!
....

দারুন। +
০৭ ই আগস্ট, ২০০৮ বিকাল ৪:৫১

লেখক বলেছেন:
ভাইরে লেখাটা ৪ খন্ডের। সবকটা পরলে খুবই খুশী হতাম।
তারপরও ধন্যবাদ।

২. ০৭ ই আগস্ট, ২০০৮ বিকাল ৪:৫৩
comment by: খালবিল বলেছেন: সুন্দর!!! +

একখান লেকা সুরু করচি
Click This Link
০৭ ই আগস্ট, ২০০৮ বিকাল ৫:০১

লেখক বলেছেন:

ভাইজান + দিলেন। কিন্তু মানাসটা কে দিল ?

৩. ০৭ ই আগস্ট, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৩৮
comment by: আমি ও আমরা বলেছেন: আগের গুলো পড়েছি কিন্তু আজ প্রিন্ট নিলাম শুক্রবার রাতের জন্য তুলে রাখলাম। ভাল থাকবেন।
০৯ ই আগস্ট, ২০০৮ দুপুর ১২:১৫

লেখক বলেছেন:
ধন্যবাদ। আমার লেখাটা সার্থক।

৪. ০৮ ই আগস্ট, ২০০৮ বিকাল ৩:১৪
comment by: আমি ও আমরা বলেছেন: রাতের জন্য বসে থাকতে পারিনি, তার আগেই পড়ে শেষ করলাম। খুব ভালো লাগল।

আপনার গল্পের মধ্যে একটা চমৎকার ব্যাপার লক্ষ্য করলাম আর সেটাই আমার লোভ কে সংযত করতে পারেনি, তাই পড়ে শেষ করলাম। ব্যাপারটা হচ্ছে, আপনি গল্পের মধ্যে দৃশ্যে যাচ্ছেন, দৃশ্যটি শুরু করেই তার আবহ বিবরন করেছেন খুব দারুন করে। মাঝে মাঝে মনে হচ্ছিল আমি নাটক বা চিত্ররূপ দেখছি। কোন স্ক্রিপ রাইটার আপনার গল্প কে নিয়ে নাট্যরূপ দিয়েছে।

অনেক অনেক ভালো লাগল, আরো গল্পের প্রত্যাশায়। আজ রাতে একটা কবিতা লিখব আপনার আমন্ত্রন রইল।

ভালো থাকবেন।
০৯ ই আগস্ট, ২০০৮ দুপুর ১২:১৪

লেখক বলেছেন:
ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য।
দৃশ্যরুপটা না থাকলে এই লেখাটার কোন মজাই থাকতো না।

ঘুরে এসেছি আপনার ব্লগে, মন্তব্যও করেছি।

ভাল থাকবেন।

৫. ০৮ ই আগস্ট, ২০০৮ বিকাল ৩:৪০
comment by: সুরভিছায়া বলেছেন: সুন্দর লিখেছেন।ধন্যবাদ। পায়রা নদীটা কোথায় ?নামটা সুন্দর।
০৯ ই আগস্ট, ২০০৮ দুপুর ১২:১৭

লেখক বলেছেন:
ধন্যবাদ, পড়ার জন্য।
আর পায়রা নদীটা হল বরিশাল বিভাগের আমতলী নামক একটা থানা আছে সেখানে। নদীটা অনেক বড়। নামটা সুন্দর কিন্তু খুবই উত্তাল।

৬. ০৯ ই আগস্ট, ২০০৮ সকাল ১০:০২
comment by: আমি ও আমরা বলেছেন: ভাবুক ভাই আমার ইমেইল হচ্ছে- .


আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ যে আপনি আমাকে অনেক অনেক উপন্যাস দিবেন। সেই প্রতীক্ষায় রইলাম।

আমার দানব কবিতাটা দেখে আসবেন।
০৯ ই আগস্ট, ২০০৮ দুপুর ১২:১৮

লেখক বলেছেন:
দানব পড়েছি কমেন্টও করেছি।

৭. ০৯ ই আগস্ট, ২০০৮ সকাল ১০:৫৫
comment by: মমমম১২ বলেছেন: সব গুলোই পড়েছি।খুব সুন্দর লিখেছেন।ভালো লাগলো।
০৯ ই আগস্ট, ২০০৮ দুপুর ১২:১৯

লেখক বলেছেন:
পড়ার জন্য ধন্যবাদ।
আরও লেখার সাহস পেলাম।

৮. ১০ ই আগস্ট, ২০০৮ সকাল ১১:৪৮
comment by: আমি ও আমরা বলেছেন: লিখাটি পোষ্ট করেন দেখবো। আমি ভেবেছিলাম পোষ্ট করে দিয়েছেন।
১০ ই আগস্ট, ২০০৮ সকাল ১১:৫৩

লেখক বলেছেন:
কম্পোজ চলছে। আজকে দেয়ার আশা রাখি।

৯. ১০ ই আগস্ট, ২০০৮ দুপুর ১২:০০
comment by: আমি ও আমরা বলেছেন: ওকে
১০ ই আগস্ট, ২০০৮ দুপুর ১২:১৯

লেখক বলেছেন:
হুমমম...

১০. ১১ ই আগস্ট, ২০০৮ সকাল ১০:৫৭
comment by: চিটি (হামিদা আখতার) বলেছেন: এত চমৎকার !!!! লিখেছেন!!!!

মায়া, মায়ায় পুষছে মানুষকে। তাইতো মানুষ হাজারো কষ্টের বোঝা কাঁধে নিয়েও ঘরে ফেরে। প্রভাতও কখন যেন সেই মানুষের ভীড়েই মিশে যায়।
............শেষ পর্যন্ত প্রভাত বাড়ী ফিরলো, তাই শেষটা ভালো লাগলো।
না হয় মন খারাপ হতো পাঠকের............।??

শেষ হয়েও হলো না শেষ............রেশটা এখনও রয়ে গেলো।

শুভেচ্ছা ।
১১ ই আগস্ট, ২০০৮ দুপুর ১২:০৮

লেখক বলেছেন:
পাঠকের মন খারাপের চেয়েও আসল ব্যাপারটা হচ্ছে, প্রভাতের মত হাজারো মানুষ আছে যারা জীবন-যাপন করছে। বেঁচে থাকতে চাইছে।
আসলে বেঁচে থাকাটাই আসল ব্যাপার। আর মানুষের ভীড়ে প্রভাতের মত অনেক মানুষ আছে প্রতিনিয়ত মায়ার টানে ফিরে যায় ঘরে।

আর সমস্যা সংকুল এই পৃথিবীতে হতাশার কাছে আত্মসমর্থন না করে জীবনের কাছে ফিরে আসাটাই আসল কথা।

হুমম...
শেষ হয়েও হলো না শেষ............
আপনাকেও শুভেচ্ছা।

১১. ১১ ই আগস্ট, ২০০৮ দুপুর ২:৪৭
comment by: পুষ্প বলেছেন: এটা পড়ে শেষ করে একটা বিশাল কমেন্ট করেছিলাম।পথিমধ্যে কিভাবে হারিয়ে গেল বুঝতে পারলাম না।:|

সে যাক,আমি লিখেছিলাম,আপনার এ লেখাটা পড়ে রবীন্দ্রনাথের মত বলতে ইচ্ছে হয়েছিল"শেষ হয়েও হইলনা শেষ"

আরও বলেছিলাম প্রভাত নামটা ভয়ঙ্কর সুন্দর।
আর কি বলেছিলাম মনে নাই:(

আর এখন থেকে কবিতার মত এরকম লেখাও চাই।
১১ ই আগস্ট, ২০০৮ বিকাল ৪:৫৩

লেখক বলেছেন:
হ্যাঁ, দেখলাম অদেখা মন্তব্য একটা। বুঝতে পারছিলাম এটা পুস্পের মন্তব্য। কিন্তু সেটা দেখতে গিয়ে দেখি নেই। কি হল সেটা আমিও বুঝতে পারলাম না। আমার দুর্ভাগ্য, দেখতে পারলামনা।

ভেবেছিলাম প্রভাত আমার ছেলের নাম রাখবো, কিন্তু আমার বাবা বললেন ওটা পুরোনো হয়ে গেছে, পরে বাবাই রাখলেন প্রত্যুষ।

আমি আগেও বলেছি আমার বর্তমানে কোন লেখাই শেষ করতে পারিনা, আমার জুনিয়র আমাকে খূব বেশী জালাতন করে তাই শেষ করা হয়ে ওঠেনা। এই লেখাটা ২০০২ এ লেখা।

তবে এখন কিছুদিন এমন লেখাই দেব। আর অনেক বড় বড় কমেন্ট পাবো।

শুভেচ্ছা রইল।

১২. ০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ১০:০১
comment by: পারভেজ বলেছেন: লেখাটা ভাল লাগলো! শুরুটা যেই প্রতিশ্রুতি দেখিয়েছিল, শেষটা কেন যেন ওভাবে ধরে রাখতে পারেনি। মধ্যবিত্ত মানসিকতা আর সমাজের চিত্রটা খুব সহোজেই মিলিয়ে নিতে পারি। হাটার ব্যাপারটা চমৎকার লেগেছে, মন খারাপ থাকলে আমারও খুব হাটতে ভালো লাগে। ভীড়ের ভেতর হারিয়ে যাওয়া। আপনার অন্য সব লেখা পড়ার ইচ্ছে থাকল।
০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০০৮ সকাল ১১:১৩

লেখক বলেছেন: আসেল মধ্যিবত্তের সমস্যাটা ওখানেই। ঠিক আমার লেখার মতই। ভাবনার বা ইচ্ছার সাথে, সাধ আর সাধ্যের সাথে বিস্তর ফারাক থেকেই যায়...
তাই হয়তো আমার লেখাটাও সেজন্যই...

ধন্যবাদ, ভাল থাকুন সবসময়...

 



 


পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই

সর্বমোট হিট

 ২০৫২৬