somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... আছিও বটে আবার নাইও বটে !!! যখন টের পাই সেই স্পন্দন
মনে হয় আমি আছি,
স্পন্দন যখন ঝিমিয়ে আসে
তখনই মনে হয় আমি নেই।

আমি যেখানে আছি
সেখানে কি শুধু আমিই আছি !
নাকি আছে আরও অনেক কিছু
দৃশ্যমান শরীরের ছায়ার মত কিছু
অথবা মনের মত কিছুটা অদৃশ্য।
আছি আকাশে - বাতাসে
বৃক্ষ মূলের মত
মাটির তলদেশ থেকে আরও অতলে।
ঘিরে আছে এক অদৃশ্য জাল মাকড়সার মত !
চারপাশ জুড়ে থাকে এক অদৃশ্য বলয়।

মাতাল স্পন্দনে করি মাতামাতি
আবার হারিয়ে যাই
কোথায় যে ফুড়িয়ে যায় জীবনের খেই !
কেবলই টের পাই, এই অদৃশ্য বেড়াজালে
আমি আছিও বটে আবার নাইও বটে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Provatblog/28875805 http://www.somewhereinblog.net/blog/Provatblog/28875805 2008-11-29 16:04:49
গৃহপালিত দৃশ্যকল্প একঃ

ভোর হল...
গৃহের মালিক খুলে দিল
তার পালিত কবুতরের খোপের দরজা
রাতের ক্লান্তি ঝেড়ে বাক্ বাকুম করতে করতে
ডানা ঝাপটাচ্ছে কবুতরগুলো।
আয়... আয়...
কিছু গম অথবা ধান ছিটিয়ে দিল
শ্যাওলা ধরা উঠোনে,
ঝপাৎ করে উরে এল সব
লেগে গেল নৈমত্তিক আহারে।
আহার শেষে উড়ে গেল সব,
অজানার উদ্দেশ্যে...
দিন শেষে যখন আকাশের রুপ হয়
রক্তিম - গোধূলীর বেশ নিয়ে,
ফিরে আসে সব গৃহি পাখির দল
ফিরে আসে খাঁচায়,
দরজা বন্ধ হয়ে যায়।
আবার রাতের নিয়মে রাত পার
আবার ভোর...
নিয়মের তালে উড়ে যাওয়া
আবার ফিরে আসা।

দৃশ্যকল্প দুইঃ

টয়োটা এ্যলিয়ান সদর্পে হর্ণ বাজাচ্ছে
প্রধান ফটকের কাছে এসে,
দাড়োয়ান ফটক খুলতেই
বীরের মত ঘাড় বাকা করে
আস্তে আস্তে ঢুকে যায়
মাটির নীচে বেসমেন্ট পার্কিং এ।
নেমে আসে জীবনের অবয়বে এক মানুষ,
বাটন চাপতেই খুলে যায় লিফটের কপাট
আবার বাটন চাপেন- ১৭ তলা,
খুব বিনয়ের সাথে বন্ধ হয় লিফটের কপাট,
সাঁই সাঁই করে উঠে যায় গন্তব্যে।
খুলে যায় কপাট, বেরিয়ে আসেন তিনি
চক্চকা মার্বেলের মেঝে মাড়িয়ে
কলিং বেলের বাটনে স্পর্শ করতেই
ডিং ডং...
খুলে যায় খাঁচা, পুরে দেয় খাঁচায়
বন্ধ হয় খাঁচা, খট্টাস...
রাতের নিয়মে নৈমিত্তিক ক্রিয়াকান্ড,
আবার ভোর হয়,
বের হয়ে বেড়িয়ে পরা খাঁচা থেকে
আবার সন্ধ্যা নামে রাত আসে
আবার পুড়ে দেয়া খাঁচার ভেতরে।
এভাবেই চলছে...
চলবে...

পরিশেষেঃ

পাখি পুষল মানুষ। তাকে খাঁচায় পুরলো, পোষ মানালো। তাই সে নিয়ত ফিরে যায় আবার ফিরে আসে। মানুষ যে নিজেকে নিজে খাঁচায় পুড়লো,
নিজেই হল পোষা পাখির মত ! দিনের আলোতে বেরিয়ে পরে আবার ফিরে আসে সন্ধ্যার ডাকে ঘরে (খাঁচায়)। এইযে মানুষ ঘরে ফিরছে গৃহপালিত পশু-পাখির মত, মানুষকে পুষছে কে ?

মায়া ! হায়রে মায়া, মায়া তুই কায়া
কখনও অবয়বে কখনও তুই আবছায়া,
তুই মোদের করলি গৃহপালিত, পোষ মানা মানুষ
ধরিয়ে দিলি জীবন আর পরিবার নামক রঙ্গীন ফানুস !]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Provatblog/28874375 http://www.somewhereinblog.net/blog/Provatblog/28874375 2008-11-26 11:41:38
পথের ভাবনা !!! সবার গন্তব্য আমার বুক ধরেই হাঁটে
পৌঁছে যায় আপন গন্তব্যে,

দ্যাখো ! দ্যাখো !
অবয়বহীন এক ক্ষ্যাপা পাগল
আমার বুক থেকে কিছু
ধুলা আর খড়কুটো নিয়ে
নৃত্যে মেতে উঠল পাগলা বাতাসের রুপে,
চড়কির মত ঘুরতে ঘুরতে
নেচে নেচে চলছে, শুধু এক ঘুর্ণা,
কোন চেষ্টা নেই, নেই কোন লক্ষ্য
তবু নাচতে নাচতে মিলিয়ে যাচ্ছে
এক মাতাল উল্লাসে !
কোন দর্শক নেই এই উল্লাসের,
শুধু আমি - এক নির্বিকার দর্শক।

যুবক-বৃদ্ধ, নর-নারী, শিশু অথবা পাগল
যাচ্ছে সবাই আমাকে মাড়িয়ে
আপন উদ্দেশ্যে, আপন গন্তব্যে
সাথে সাথে যাচ্ছি আমিও,
থেমে যাচ্ছে সব যার যার নিয়তিতে,
পৌঁছে যায় সবাই, অথচ !
আমারি কোন গন্তব্য নেই !
যুগের পরে যুগ
কালের পর কাল ধরে
পথের রুপে শুয়ে আছি পথেরই বুকে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Provatblog/28873437 http://www.somewhereinblog.net/blog/Provatblog/28873437 2008-11-24 10:55:49
জিজ্ঞাসা ! দুর থেকে দুরে, আরও দুরে...
অতীত থেকে অতীতে
কোথায় চলে যায় সব !

মানুষের ক্রিয়াকান্ড কি
সঞ্চিত হচ্ছে কোথাও !
পলির মত, সময়ের নদীতে
কোন এক প্রান্তে,
কোনদিন সেখানে গিয়ে
খুঁজে দেখবে মানুষ
জীবনের পর জীবন ধরে কি করেছে সে ?

কতখানি সুকর্ম আর
কতখনি কুকর্ম !
জীবনের পরে জীবনের
নুড়ি নুড়ি সঞ্চয়।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Provatblog/28872585 http://www.somewhereinblog.net/blog/Provatblog/28872585 2008-11-22 15:13:19
ভোরের আলোয় রাতের খতিয়ান এই রাতের আঁধারে, রাতেরই কোলে !
কত পবিত্র গায়ে মেখে নিল
অপবিত্রতার পরশ।
কত পবিত্র অপবিত্র হল !
পৃথিবী জুড়ে রাতের খতিয়ান কি কম বল ?

ঐ দ্যাখো !
খিল্ খিল্ করতে করতে আসছে নতুন বধূ
চুমকি বসানো ভোরের জলে স্নিগ্ধ হতে,
বুকের ওপর আড়াআড়ি করে
লাল টুকটুকে গামছা জড়িয়ে,
চূড়ির রিনিঝিনি শব্দের মত ঝড়ছে তার হাসি

আহা !
কি যে আলাপ সখিতে সখিতে !
পায়ে পায়ে জড়িয়ে আছে রাতের আলস্য
শরীরে পাচ্ছি শয্যার গন্ধ !
লেপ্টে আছে সিঁদুর মাথার আঁলে
আলগা খোপা, ঢিলে হয়ে আছে শাড়ির ভাঁজ
আহা কি যে অপরুপ দৃশ্য !
মনে হচ্ছে চলে যাবার আগে
আরও একটু যৌবন মেখে দিয়ে গেছে রাত।

ভোরের স্নিগ্ধ আলোতে হিরের মত
চিক্ চিক্ করছে পুকুরের জল,
হাতছানি দিয়ে ডাকছে
আসো পবিত্র হই,
এসো হই আরও একটু স্নিগ্ধ।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Provatblog/28871643 http://www.somewhereinblog.net/blog/Provatblog/28871643 2008-11-20 12:57:31
সারপেন্ট পাওয়ার শরীরের কুঠুরিতে ঝিম্ মেরে আছে
আরেক শরীর, সাপের বেশে !

দীর্ঘদিন রোদে পোড়া মাটির বুকে
বৃষ্টির পরশ বুলোতেই
যে ভেজা - মাতাল ঘ্রান, নারীর মত !
কোথা হতে এলো ?

ফোঁস করে ওঠে, ফনা তোলে সে।
নীচ থেকে বেয়ে বেয়ে
উঠে আসে ওপরে - ধীরলয়ে,
মেরুদন্ড বেয়ে শুধু নিউরনের ছড়াছড়ি
শিরশির করে শিহরন তোলে মগজে।
থ্যালামাস শুধুই থ্যালামাস !
করটেক্সে শ্লোগান তোলে
আমি আসছি, আমি জাগছি !
নরম, শুধু নরম চাই
সাথে কিছুটা গরমও।

অগনিত শক্তি থেকে মহাশক্তি
ছুটে চলে নির্দিধায়,
মুলাধার থেকে সহাস্রারে।

গন্তব্য !
দেহের ওপরে ভাঙবে দেহ
সাগর তটে ভাঙবে ঢেউ।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Provatblog/28870201 http://www.somewhereinblog.net/blog/Provatblog/28870201 2008-11-17 13:04:11
বোধ ! আমিতেই মেরেছে আমারে
মেরেছে তোমার বোধ !

প্রানের রুপে জ্বলছে আগুন
হাঁড়িতে টগবগ করে ফুটছে
ডাল, ভাত, আলু পটল
টগবগিয়ে ফুটছে আর জানান দিচ্ছে
আছি, আমি আছি - আমি লাফাচ্ছি।
দ্যাখো !
কেমন ধিনা ধিনতা লাফাচ্ছি
সংসার নামধারী রঙ্গমঞ্চে !
মন আর বুদ্ধির জলে
শরীর নামক হাঁড়ির ভেতরে
ছুটছি - ছুটাচ্ছি, ফাটছি - ফাটাচ্ছি
দ্যাখো !
কেমন তিড়িং বিড়িং করে লাফাচ্ছি !
ইন্দ্রিয়ের মাঝে শুধু আমিত্বের আঁধার
বোধ শুধু এটুকুই বোঝে
ডাল, ভাত, আলু পটল আর
স্ত্রী-পুত্র-পরিবার।

এই ব্যাটা আমিত্বের বোধ !
তুইতো ব্যাটা আগুন,
চেয়ে দ্যাখ, পৃথিবী জুড়ে শুধু মাংশের দোকান
আহা !
চারপাশে শুধু কিমা আর কিমা
থরে থরে কিমা এখানে ওখানে,
লুফে নে ! আর কাবাব বানিয়ে খা !

দ্যাখতো একবার, এই আমিত্বের বৃত্তের বাইরে এসে,
খুঁজে দ্যাখতো আসল জ্ঞান কৈ ?
ব্যাকরনে ? না গণিতে ?
ধ্রুব জ্ঞান কি ব্যাটা কাপড় নিংড়ানো জল ?
চাপ দিবি আর ঝড়ে ঝড়ে পড়বে তোর উঠোনে।
শিয়াল আর শকুনের এই সংসারে
শরীরে ওঠা গুটিকয়েক ফোড়ার মত
ফুটে ওঠে ব্রম্মজ্ঞানের গুটি,
মানুষের ভেতর, মানুষের মনে
অবোধ বোধ ভাল করে দ্যাখ।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Provatblog/28865407 http://www.somewhereinblog.net/blog/Provatblog/28865407 2008-11-06 10:34:22
তবু, হাতটা ধরবে কি ? তোমার তপ্ত মরুভূমিকে,
তবু মাঝে মাঝে বাসনার ডামাডোলে
মেঘের সিঁদূর পরে
দিয়ে যাবো ঝড়ের পূর্বাভাস।

ঘন বারিধারার বেশে
ভাসিয়ে নেয়া হয়তো যাবেনা
তোমার ফলবতী শষ্যের ক্ষেতটাকে,
তবু তোমার সাবধানি দৃষ্টির ফাঁক গলে
শিশির বিন্দুর মত
একফোটা জল হয়ে, তোমার কপল ছুঁয়ে
করে যাবো তোমাকে আনমনা, শিহরিত।

তোমার নিঝুম গহীন আঁধারের মাঝে
মিট্ মিট্ করে আলো বিলাবো জোনাকীর মত,
আস্তে আস্তে ছেয়ে যাবো
তোমার ভাবনার সীমারেখা জুড়ে,
নীরব নিঝুম গভীর রাতে
ঝিঁ ঝিঁ পোকার ডাকের মত।

ইচ্ছের ফড়িঙের রুপ নিয়ে
তোমার ভালবাসার মাতাল নদীতে
উড়ে - উড়ে, ঘুরে - ঘুরে এঁকে যাবো
ভাবের নানান রুপ, নানান আকার
কখনও বৃত্ত, ত্রিভূজ কখনও চৌকো
কখনওবা পালতোলা নৌকো।

হয়তো এখানেই ফুড়িয়ে যাবে সব লেনদেন
নয়তোবা থেকে যাবে ঢের বাকী !
শুরু হয়তো হবেনা তোমার শুরুতে
পাওয়া না পাওয়ার বৃত্ত থেকে বাইরে এসে
তবু, হাতটা ধরবে কি ?]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Provatblog/28864518 http://www.somewhereinblog.net/blog/Provatblog/28864518 2008-11-04 14:11:52
ক্ষেপা উল্লাস !
সেই টেকো মাথাটায় আলতো একটা চাটি পরতেই মুহুর্তের মধ্যেই সটান হয়ে দাড়িয়ে যায়। রক্তচক্ষু নিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে হুঙ্কার করে বলতে থাকে,
জাডিমমমম... জাডিমমম... জাডিমম... জাডিম...
ভোকাল কর্ড উচ্চস্বর থেকে আস্তে আস্তে নিম্নমূখী হতে হতে মিলিয়ে যায়।
আবার হুট করে একটা ঝাকি দিয়ে উচ্চস্বরে শুরু হয়,
জাডিমমমম... জাডিমমম... জাডিমম... জাডিম...

স্কুল পড়ুয়া দামাল ছেলেটি বুঝতে পারেনি মাথায় চাটিটা দিতেই এমনটি হবে। লোকমুখে শুনেছে, এই পাগলটার মাথায় টোকা দিলেই জাডিম জাডিম বলে চিৎকার করতে থাকে। আসলেই কি তাই ! দুষ্ট কৌতুহলের বশেই টোকা দেয় ছেলেটা। দুষ্ট গবেষনায় সফল ছেলেটা পাগলের রক্তচক্ষু দেখেই দে - ছুট। সে আর আসে পাশে নেই।

পাগলটা পূর্ব-পশ্চিম, উত্তর-দক্ষিণ এভাবে চারদিকে ঘুরে ঘুরে একই সুরে, একই তালে বলে যাচ্ছে,
জাডিমমমম... জাডিমমম... জাডিমম... জাডিম...
করতে করতে একসময় শান্ত হয়। হাতদুটো পেছনে বেঁধে চেহারায় গুরুগম্ভীর একটা ভাব নিয়ে কখনও এদিকে কখনও ওদিকে নিশ্চুপ পায়চারি করতে থাকে। পায়চারি করতে করতে থমকে দাড়িয়ে যায়, চোখ বড় বড় করে আকাশের দিকে তাকিয়ে অজানাকে উদ্দেশ্য করে ধমকের সুরে বলে, বেকুব !

রঙ্গমঞ্চের এই দৃশ্যের দৃশ্যায়ন শেষ করে, হাতদুটো জ্যাকেটের পকেটে গুঁজে ধীরপায়ে হাঁটতে থাকে। হাঁটতে হাঁটতে প্রতিদিনের নিয়মমত রাস্তার ধারেই একটা রেষ্টুরেন্টের পাশে বসে। দোকানীর একটা অন্ধবিশ্বাস কাজ করে এই পাগলটাকে ঘিরে। সব জায়গায় গন্ডোগোল করলেও তার দোকানের সামনে কিছু করেনা। একদিন খুব ক্ষুধার্ত ভঙ্গিতে পাগলটা দোকানীর কাছে এসে বলে,
ক্ষিদা পাইছে, কিছু খাইতে দিবি ?
দোকানী ভক্তিতে নয়, ভয়ের বসেই কিছু খেতে দেয়। তারপর থেকে প্রতিদিনই আসে পাগলটা। সেও খেতে দেয়। একদিন পুরোনো আর নোংরা একটা পরাটা পাগলটাকে দিতেই ক্ষেপে গিয়ে দোকানীর মুখে ছুঁড়ে মেরেছিল, আর ক্ষেপা ভঙ্গিতে বলেছিল,

ওই বেটা রাত বিরাতে মদের দোকানে গিয়া কি করস ! হ্যাঁ, মনে করছস কেউ তোরে দেখেনা ? কাইলকা রাইতে বৌরে খালি খালি মারছিলি কেনরে বেটা ? সব দেখতাছি, সেও দেখতাছে। হিসাব রাখতেছি।
হাঃ হাঃ হাঃ।
দোকানীর পেটের মধ্যে গুরুম গুরুম শুরু হয়ে যায়। এরে খাইছে ! কে রে এই পাগলা ? সব দেখি ঠিক ঠিক বলছে ! আবার পাগলটা বলতে থাকে,
ভাল খাবার খাওয়াইতে পারোসনা ! মাইনষের কথা ভাব বেটা বেকুব ! খালি নিজের কথা ভাবিস কেন ? তুই মাইনষের কথা ভাব, মালিক তোরে দেখবো। হুকু উ উ উ ম মালিক ! বলে এক হুঙ্কার ছেড়ে চলে যায় সেদিন।

দোকানীর মনের মধ্যে একটা ভয় আকুপাকু করতে থাকে সেদিন থেকে। আরে কে রে এই পাগল ! আসলে এ কোন পাগল নয়। কোন কামেল লোক। তারপর থেকে সে মদ ছেড়েছে, সংসারী হয়েছে, সৎভাবে ব্যবসা করতে থাকে, আস্তে আস্তে তার ব্যবসা ভাল হতে থাকে। সেই থেকেই এই পাগলের প্রতি তার ভক্তি জন্মাতে থাকে। পাগলটা আসলেই খুব যত্ন করে তার জন্য খাবার দেয়। এখানে এসে বসলেই দোকানী বুঝতে পারে, পিচ্চিটাকে দিয়ে দু-তিনটা গরম পুড়ি পাঠিয়ে দেয়। পাগলটা খপ্ করে হাতে নিয়ে দুটো জ্যাকেটের পকেটে ঢুকায় আর একটা হাতে নিয়ে খেতে থাকে। শ্যেওলা পরা দাঁতে আপন মনে চিবোতে থাকে। কয়েকটা কাক মুহুর্তের মধ্যেই তাকে ঘিরে কা - কা করতে থাকে। দু - একটা কাক তার হাতের পুড়িটা ছোঁ মেরে নেয়ারও চেষ্টা করে। একটু একটু করে বিরক্ত হতে থাকে সে। একপর্যায়ে একগাল থু-থু সহ চিবানো অংশ থু- উ - উ করে ছুড়ে মারে কাকগুলোর দিকে। হঠাৎ পাগলের চেতনার ধাক্কায় কাকগুলো আত্মরক্ষার্থে সটকে যায় কয়েকহাত দুরে। হাতের অংশটা থেকে ছিড়ে ছিড়ে ছুঁড়ে মারতে থাকে শুন্যের দিকে। লোভাতুর খাদক কাক সাঁই সাঁই করে উড়ে উড়ে খাবারের টুকরোগুলো ছিনিয়ে নিয়ে খেতে থাকে। একটা টুকরো যে কাকটা কব্জা করছে, তার উপর হামলে পড়ছে আরো কয়েকটা কাক। পাগলটা হাঃ হাঃ করে হাসে আর টুকরোগুলোকে ছুঁড়তে থাকে। পকেটে রাখা খাবারগুলোও একইভাবে কাকগুলোকে খাওয়ায়। আর বিদ্রুপাত্মক বিক্ষোভের স্বরে বলতে থাকে,
খা ! শুয়োরের বাচ্চা খা, খা শালা খাদকের বাচ্চারা খা ! খাওয়ার জন্যই এই দুনিয়া, খা !

আবারও দাঁড়িয়ে যায়, হাতদুটো পেছনে বেঁধে এদিক - ওদিক পায়চারি করতে থাকে। আর বিরবির করতে থাকে। নাহ ! মাথাটা আর ঠান্ডা রাখা যাচ্ছেনা। আর স্থির তাকা যায়না। এই লোভের সীমানা থেকে বের হতেই হবে। আবারও সেই জাডিমমমম... জাডিমমম... জাডিমম... জাডিম... করতে করতে হাঁটতে থাকে ফুটপাত ধরে। উদভ্রান্তের মত হাঁটতে হাঁটতে বেশ কিছু পথ হেঁটে চলে আসে মহল্লার গলিতে ঢোকার মোড়টাতে। মোড়টার একদম সম্মখেই একটা ওষুধের দোকান। ছন্নছাড়ার মত কিছু ওষুধ ছড়ানো ছিটানো সেলফ্ গুলোতে। তেমন খদ্দেরের আনাগোনা নেই দোকানটায়। বেশীরভাগ সময়ই আড্ডায় মত্ত থাকে নামধারী কিছু রাজনিতীবিদ। বসে বসে শুধু ফাঁকা বুলি আওড়ানো, হেন করেঙ্গা... তেন করেঙ্গা...। চতুরতা, দুষ্টবুদ্ধি আর ক্ষমতার কিছু অনর্থক বাক্যালাপ ছাড়া আর কিছু হয়না এই দোকানটাতে। দোকারটার সামনে সবসময় একটা টুল পাতা থাকে। পাগলটা পায়ের ওপরে পা তুলে, বুকে হাত বেঁধে সেই টুলটাতে চুপটি মেরে বসে।

তার অবস্থান টের পেয়েই দোকানের ভেতরে অবস্থানরত মানুষগুলো কেমন জানি চুপসে যায়। একজন ফিসফিস করে বলে,
ঐ যে বিদেশী গোয়েন্দাটা এসেছে।
অন্যজন বলে, আরে ধ্যাত ! গোয়েন্দা ফোয়েন্দা কিছুই না। শ্রেফ পাগল, আর কিছুইনা।

তাকে নিয়ে এমন একটা গুজব আছে, সে নাকি বিদেশী গোয়েন্দা ! কেউ কেউ নাকি রাতের আঁধারে গাছের ওপরে বসে ওয়ারলেসে তাকে কথা বলতে দেখেছে। আর সেই থেকেই লোকমুখে প্রচারের ফলে তাঁর একটা পরিচিত হয়, বিদেশী গোয়েন্দা হিসেবে। সে ঘুড়ে ঘুড়ে তথ্য সংগ্রহ করে তা রাতের আঁধারে লোকচক্ষুর আঁড়ালে বিদেশে প্রেরন করে।
দোকানের পরিবেশটা কেমন যেন গোমট বেঁধে আছে সে আসার পর থেকেই। কেউ কথা বলতে চাইছেনা ! কিন্তু বকবক স্বভাবের মানুষগলো আর কতক্ষন চুপ থাকতে পারে। আস্তে আস্তে শুরু হয় আবারো আলোচনা - সমালোচনা। তপ্ত মরুভূমির মত তপ্ত হতে থাকে দোকানের আলোচনার পরিবেশ। তপ্ত বাক্যালাপ, হাত ছুঁড়ে - টেবিল চাপরে চলতে থাকে দেশোদ্ধার ! পাগলটা চুপ করে শোনে সব। বেশীক্ষন আর চুপ থাকতে পারেনা। উঠে দাঁড়ায়, হাত পেছনে বেঁধে আবারো দোকানটার সামনে ক্ষিপ্র একটা গতি নিয়ে পায়চারী করতে থাকে। হঠাৎ রাস্তার পাশ থেকে আধখানা ইটের টুকরো তুলে নিয়ে দোকানের ভেতরে অবস্থানরত লোকগুলোর দিকে তাক্ করে হুঙ্কার দিয়ে জিজ্ঞাসা করে, ওই বেটা নেতার বাচ্চা নেতা ! ক ! সরকার মানে কি ?
হঠাৎ তার এই ক্ষিপ্রতায় অপ্রস্তুত লোকগুলো কেমন জানি গুটিয়ে যায়।
পাগল আবার হুঙ্কার ছাড়ে, কিরে কইলিনা ?
গম্ভীর ভঙ্গিতে অনিচ্ছা সত্ত্বেও একজন বলে,
Government মানে By the people, For the people, Of the people.
পাগল মাথা চুলকায় আর বিরবির করতে থাকে, অনেক দামী কথা ! অনেক দামী। আবারও হুট করে ক্ষেপে গিয়ে বলে, ওই আহম্মকের বাচ্চা ! বানান কইরা কইরা ক ! নাইলে কিন্তু দিমু মাথা ফাটাইয়া। ইটের টুকরোটা ছুঁড়ে
মারার ভয় দেখায়।
ভয়ে চুপসে গিয়ে বানান করে বলতে থাকে, বি আর ওয়াই বাই টি এইচ ই দ্যা.... এভাবে পুরোটা বানান করে পাগলকে শোনায়। পাগলটা মাথা চুলকাচ্ছে আর শুনছে।
হঠাৎই আবার হাঃ হাঃ হাঃ করে হাসতে হাসতে ক্ষেপে গিয়ে বলে, আসল সজ্ঞা ক ? আসল সজ্ঞা ! ক ?
By না Buy the people, For না Far the people, Of না Off the people. মুখে শুধু ফাঁকা বুলি আর অন্তরে লুটের ঝুলি ! মর শালা জানোয়ারের বাচ্চারা, মর !

রক্তচক্ষু নিয়ে ইটের আধলাটা ছুঁড়ে মারে দোকানের ভেতরে। ঝুরঝুর করে সেলফের কাঁচগুলো টুকরো টুকরো হয়ে ঝরে পরে। এদিক - ওদিক সরে গিয়ে আত্মরক্ষায় মগ্ন তর্কবাগীশরা, সরকারের রক্ষকরা ! পাগলটা রাগ আর ক্ষোভ নিয়ে ফোঁস ফোঁস করে আর প্রত্যক্ষ করছে তাদেরকে। ঘটনা না দেখে, না বুঝেই কিছু লোক ধ অ অ র - ধ অ অ অ র বলে চিৎকার করতে করতে এগিয়ে আসতে থাকে।পাগলটা দৌড় দিয়ে একটু সামনে গিয়ে, আরেকখানা ইটের টুকরো হাতে নিয়ে ক্ষিপ্রতা নিয়ে আবারো ঘুরে দাঁড়ায়। বিছুটি ভরা চোখ থেকে বের হচ্ছে আগুনের হল্কা ! আধখানা ইট ডানহাতে নিয়ে উঁচু করে ছুঁড়ে মারার ভঙ্গিতে দাড়িয়ে আছে। কেউ সামনে আসছেনা ভয়ে। দুর থেকেই কেউ ধ অ অ র, আবার কেউ যা ভা আ আ গ এখানথেকে বলে চিৎকার করতে থাকে। কিন্তু কেউ সামনে এগোয়না।

হাঃ হাঃ হেঃ হেঃ সব ভীতুর ডিম, উচ্চস্বরে হাসছে আর ব্যাঙ্গাত্মক ভঙ্গিতে কোমড় দুলিয়ে দুলিয়ে নাচছে। মানুষের মনের অতিরিক্ত প্রশ্রয়ের খাতিরে, মোডিফাইড-রিমোডিফাইড জ্ঞানের টোকেন মগজে পুরে, সভ্যতা নামক যে প্যাকেজ মানুষের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে ! সেদিকেই তাক্ করে পাগলটা হাসছে আর নাচছে। আর তার তেল চিটচিটে লুঙ্গিটার ছেঁড়া অংশ দিয়ে সভ্যতার ফাঁক গলে লত্ পত্ করে ঝুলছে তার শরীরের গোপন অঙ্গটা। কিছু আসে যায়না তার তাতে।

রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে মহিলা পথচারী। দেখেও না দেখার ভান করে, দৃষ্টিটাকে আঁড়াল করে কট্ক্ষ ছুঁড়ে মারে, ছ্বি, অসভ্য ! সভ্যতার খাতিরে, নিজেদেরকে সভ্য হিসেবে জাহির করার প্রবনতায় পাগলটাকে সায়েস্তা করার জন্য ধেয়ে আসে কয়েকজন চেংরা যুবক। ধরতো ওই অসভ্য পাগলাটারে !

সব শালা বেকুবের বাচ্চা, হাতের ইটটাকে ছুঁড়ে মারে। আর গলা ফাটিয়ে বলতে থাকে বেকুব ! সব শালা বেকুকের বাচ্চা। সেক্সপিয়র বলছে, মানুষ আমৃত্যু বেকুব থাকে। সব বেকুব ! হাঃ হাঃ হাঃ...
ছেলেগুলো ধেয়ে আসে। বিপদ সন্নিকটে টের পেয়ে উল্টো পথে ঘুরেই ক্ষেপা এক উল্লাস নিয়ে জাডিমমমম... জাডিমমম... জাডিমম... জাডিম... করতে করতে ছুটতে থাকে উদভ্রান্তের মত।

লোকটা জ্ঞানী কিন্তু পাগল ! যাক শালা ভাগছে। এমন নানা মন্তব্য করে আস্তে আস্তে যার যার কাজে ফিরে যায়, উৎসুক জনতা। শ্রবন শক্তির বাইরে চলে গিয়ে আস্তে আস্তে মিলিয়ে যাচ্ছে জাডিমমমম... জাডিমমম... জাডিমম... জাডিম... এই আওয়াজটা। গায়েব। সাথে সাথে হারিয়ে গেল দৃষ্টির সীমানা থেকেও।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Provatblog/28863998 http://www.somewhereinblog.net/blog/Provatblog/28863998 2008-11-03 13:35:59
শিরোনামহীন অন্যপাশের দুরত্বটা অ - নেক বেশী,
ফিরে আসি কেন্দ্রে
যেখান থেকে চারিপাশ সমান,
তাইতো মাঝখানে থাকতেই
বড্ড বেশী ভালবাসি !

যেখানে দাঁড়িয়ে,
সুর্যের আলো আসবেই, বিশ্বাস করি
যতই থাকুক আঁধারে
যতই করুক মেঘের আঁড়ালে লুকোচুরি।

কেউ না বাসে বাসুক ভাল
তবু ভালবাসার বিশ্বাসে পথ চলি
কেন্দ্র দাঁড়িয়ে দেখতে পাই
ভালবাসার জ্বলমান আলো।

এখানে দাঁড়িয়েই দেখতে পাই
চারপাশে শুধু
আস্থা আর ভালবাসার বলি !
তবু ভালবাসার ঝুলি কাঁধে নিয়ে
বিশ্বাসী ঈশ্বরের হাত ধরে
অজানা ভবিষ্যতের পথেই পথ চলি।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Provatblog/28860936 http://www.somewhereinblog.net/blog/Provatblog/28860936 2008-10-28 11:28:12
টের পাও কি ? খুঁজে নেয়, বুঝে নেয়
তোমার ভাঁজের সুক্ষ নিপুন বুনন
ভাষাহীন আবেগের নৃত্যের কলরব।

কখনও ইমন, কাফী-ভৈরবী-খাম্বাজ
কখনওবা দাদরার তালে তালে
পাদদেশ থেকে উঠে যায় পাহাড়ের চূড়ায়।
মাতাল নৃত্যে মেতে গিয়ে
ঝাপ দেয় স্বেচ্ছায়,
প্রবৃত্তির গভীর সাগরে।

ডুবুরীর মত ডুব সাতার
তলদেশ থেকে তলদেশে
আপনমনে করে যায় প্রকৃতির লীলা
বাকী সব জীবন, গোটা বিশ্ব যেখানে অবলা।

তোমর উপস্থিতিতে
ঘুম ভুলে যেতে চায় ইন্দ্রিয়গুলো সব
শরীর থেকে শরীরে, হৃদয় থেকে হৃদয়ে
ভাষাহীন এক নৃত্যের কলরব
টের পাই মাঝে মাঝে,
তুমিও কি টের পাও ?]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Provatblog/28859925 http://www.somewhereinblog.net/blog/Provatblog/28859925 2008-10-26 11:34:27
খেপা হৃদয়ের উদার উল্লাস ! মৃত্তিকার গহীন আঁধারে গিয়ে
যদি খুঁজে পেতাম সেই রহস্যের মূল,
সহস্র কোটি তারাগুলো
গেঁথে আছে যে মূলের শাখা-প্রশাখায়
কিভাবে মিটমিট করে জ্বলছে
চির প্রস্ফুটিত পুস্পের মত।

তবেই হয়তো বুঝতে পেতাম
অপলক তাকিয়ে থাকা,
মন্ত্রমুগ্ধের মত ছুটে চলা
চঞ্চলা হরিনী তোমার হৃদয়ের ইশারা।

যেখানে একদিন ছিল
খাঁ-খাঁ মরুভূমি,
মৃত সাপের মত ঘুমিয়েছিল সব,
কিভাবে গড়ে উঠল !
পাহাড় সাদৃশ্য গাঁথুনি,
সুনিপুণ তুলির আঁচড়ের মত
তার ঢাল বেয়ে মাঝে মাঝে যেন
চষে বেড়ানো ঘাস ফড়িঙের মত,
যেখানে শুধু ইচ্ছের স্বাধীনতা।
মাঝে মাঝে যেন উঁকি মারে
সে পাহাড়ের আঁড়াল থেকে
শান্ত, গভীর এক কামনার চিতা !
হয়তোবা সেদিন হয়ে যেত
তোমার - আমার সখ্যতা।
বুঝতে পেতাম ইশারার ভাষা
জানতে পেতাম
মৃত সাপের দেশে পাহাড় জন্মিল কিভাবে !
চিনে নিয়ে সখ্যতা গড়তাম
সেই চিতাটার সাথে।

হয়তোবা !
হয়তোবা কেন ?
তবে কেন চেষ্টার পথে চলি !
যেখানে চেষ্টার লেশ মাত্র নেই
ঝাপ দিয়ে আয় ভাবনা নেই,
কেন সেখানে ভাবনা কুড়াই?
শুধু এক সৌন্দর্যের আবেগ
জীবন থেকে জীবনের ঘূর্ণা
মুঠো মুঠো ভালবাসা দিয়ে
বুনে চলা এক মায়ার ইন্দ্রজাল,

সে কেবলই এক
খেপা হৃদয়ের উদার উল্লাসে।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Provatblog/28858527 http://www.somewhereinblog.net/blog/Provatblog/28858527 2008-10-23 10:06:58
ভীরুই থেকে যাই থাকা তোমাকে এক ঝট্কায়
ফিরিয়ে আনতে পারি
অগনিত মাত্রা নিয়ন্ত্রিত এই বস্তুবিশ্বে।

অগোচরে, আলতো করে তোমাকে
জড়িয়ে ধরতে পারি, পেছন থেকে।
বিছার মত দু-বাহু তোমার কোমড়ে জাপটে
কাঁধে মাথা রেখে বলতে পারি সেই কথাটা,
যা শোনার জন্য তুমি, তোমার মন
অপেক্ষারত শত - সহস্র বছর।

হার না মানা কোন আদিম শিকারীর মত
শিকার করে আনতে পারি
তোমার তৃষ্ণার্ত দৃষ্টিতে লুকিয়ে থাকা
কামনার রাতজাগা পাখিটাকে।
যার জন্য চলে গেছে কত
বসন্তের পর বসন্ত - গোচরে বা অগোচরে।

কচ্ছপের মত গুটিসুটি মেরে
লুকিয়ে রাখতে পারি তোমাকে
অফুরন্ত সময়,
পাঁজরের মাঝে উষ্ণতার চাঁদরে।

কিন্তু,
একি !
মনের গহীন বনে সাধনায় রত এক যোগী,
ভোগের সীমানা পেড়িয়ে
আমাকে নিয়ে চলে এক অচিনপুরে।
পোক্ত আসন গেড়ে যোগী
খামচে ধরে আছে আমার মনের নাটাই,
একের পর এক কেটে চলে যোগী
তির তির করে ওপরে ওঠা ভোগীর ঘূড়ি,
অপুর্ব এক ছন্দপতন নিয়ে
বস্তুবিশ্বে আমি যে ভীরু ছিলাম
সেই ভীরুই থেকে যাই।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Provatblog/28853801 http://www.somewhereinblog.net/blog/Provatblog/28853801 2008-10-12 15:07:08
বোঝাতে চেয়েছো কিন্তু তুমি বোঝনি... যে ভালবাসার ছোঁয়া থেকে
কবি খূঁজে নেবে প্রেম - কবিতার জন্য।
যা তুমি বলতে পারোনি,
যে ভালবাসার শব্দগুলো ঝড়ে পড়েছে
শিউলির মত, যারা দেখেনি আলো
আঁধারেই কবি কুড়িয়েছে তা অগোচরে,
গেঁথেছে মালা, সাজিয়েছে নিপুনভাবে
কবিতার জন্য - অনুভবে, সংগোপনে,
আধাঁরেই ফেলে এসেছো বলে টের পাওনি তুমি।
কোমল স্পর্শে তুমি হয়েছো মৃয়মান
টেরই পাওনি কখন চলে গেছে তোমার চুম্বনের ক্ষণ।
বলতে পারোনি, চেয়েছিলে যেন বুঝে নেয় সে সব
যা বলতে চেয়েছো তুমি, কিন্তু বলোনি !
হয়তো বুঝে নিয়েছে সে, যা তুমিও বোঝনি।

তোমার প্রতীক্ষা, তোমার প্রার্থনা
তোমার সেই ভালবাসার নির্যাস
সে মাতাল করা ঘ্রান
যা তুমি বোঝাতে পারোনি,
সে নিয়েছে সব নিজের মত করে
শুধু তুমিই তা বোঝনি।





]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Provatblog/28853397 http://www.somewhereinblog.net/blog/Provatblog/28853397 2008-10-11 14:04:08
কবি কান্নাগুলো ঝড়ায় ঝর্না ধারায়,
ক্লান্তিহীন পথিকের মত দূঃখ নিয়ে
অবিরাম পথ চলে নদী
একে বেকে পথ চলে দুরে, বহুদুরে...
দূঃখের সময় কভূ শেষ হয় যদি !
ভেবে ভেবে দূঃখকে চিনে যায়
কোন দূঃখী, কোন কবি,
সিমাহীন ভাবনার রাজ্যে কল্পনায় আঁকে
একাকী সুখের ছবি।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Provatblog/28851843 http://www.somewhereinblog.net/blog/Provatblog/28851843 2008-10-07 12:02:50
আমার প্রথম ঐযে !
বাস্তবতার বোঝা কাঁধে ক্লান্ত হওয়া
লুকিয়ে রাখা বিশ্বাসের মুকুল
দুঃখকে ভুল বুঝে সুখকে কাছে চাওয়া
উপভোগ চাপা দেওয়া ভোগের মাস্তুল
দুরত্বটা ভুলে গিয়ে শুধু কাছে চাওয়া
অপেক্ষাটা না বুঝে পাওয়ার আশায় ব্যকুল,
ওটাই ছিল আমার প্রথম ভুল।

সেই যে !
পাওয়ারই চরম বাসনা
স্বপ্নের ঘোরে ক্ষনিক কামনা
স্পর্শকাতর অবুঝ হৃদয়ের আকুলতা
মিছে আয়োজনে মত্ত ভুলে নিরবতা,
ওটাই আমার প্রথম ব্যর্থতা।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Provatblog/28847785 http://www.somewhereinblog.net/blog/Provatblog/28847785 2008-09-25 14:55:01
কিভাবে বলা যায় ! তুমি আমার জন্য কি ?
তুমি,
তুমি মুঠো মুঠো ভালবাসা,
কখনও খরতাপে ফাটা রোদ্দুর
পুঞ্জিভূত মেঘে একটু আশার সিঁদুর
কখনও বুক ভরা নিরাশা।

তুমি আমার জন্য বিপ্লব
শিকল ভাঙ্গার গান,
কখনও ফাঁসির মঞ্চে সাহসী
নীরব আঁধারে প্রতিক্ষিত নিবাসী
মুক্তি, শুধু মুক্তির শ্লোগান।

তুমি আমার জন্য
কাল - মহাকাল
দিন - রাত প্রলয় - ধ্বংস
সুখ - দূঃখ কখনও অহিংস
কখনও ঝড়ে ছেঁড়া পাল।

তবু কিভাবে বলা যায়
তুমি আমার জন্য কি !
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Provatblog/28844290 http://www.somewhereinblog.net/blog/Provatblog/28844290 2008-09-17 10:52:18
সময় ও জীবন সময়কে যতখানি শান্ত বলে মনে হয়
আসলে ততখানি শান্ত নয়,
তবু সময়ের সাথেই পথ চলে
নির্বোধ হৃদয়।
হয়তো বিশেষ কিছু চায় মন
একান্ত আবেগে বলে যায় কথা।

জীবনের গুহায় খুঁজে ফেরে জীবন
খুঁজে ফেরে মাটির জন্মেরই পথে,
কোন আদিম সাপুড়ের মত।
মাটি খুঁড়ে খুঁড়ে মৃত্যূ আর আঁধার ছাড়া
কিছুই পায়নাতো খূঁজে।

সবইতো ফুরাবে একদিন
লিখিত - অলিখিত জীবনের সব ইতিহাস,
সময়ের কাঁধে ভর করে আঁধার এসে
করে নেবে সব গ্রাস।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Provatblog/28844271 http://www.somewhereinblog.net/blog/Provatblog/28844271 2008-09-17 10:09:04
উধাও ভাবনা - ২ কাছে আসা আবার দুরে থাকা
বাসা বাঁধে খানেক হতাশা
সব মিলিয়ে জীব মন্দিরে বন্দী রাখা।

সাজিয়ে রাখা ঝড়ে যাওয়া ফুল
আয়োজন পুজোর সাধনা,
ঝরা ফুলের ডালে নতুন মুকুল
জীব মন্দিরে বসে নীরব আরাধনা,

আছে মিশে নীরব প্রকৃতি
কষ্টের জোয়ারে ভাসমান সুখ,
নিশ্চুপ দেখা ধ্বংসের আকৃতি
উপভোগের ঝুলিতে চলে যাওয়া মুখ,

চারপাশে আলো ঝিক্ মিক্
রাত্রীর সুদীর্ঘ সাধনা,
কখনও ঝড়ে পরা তারার ঝিলিক
সব মিলিয়ে নির্ভাবনার ছাঁয়ায় উধাও ভাবনা।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Provatblog/28843382 http://www.somewhereinblog.net/blog/Provatblog/28843382 2008-09-15 10:13:35
গতির তাড়নায় আমার পথ হাঁটা
এই পৃথিবীর অলিতে গলিতে
নেই কোন নির্দিষ্টতা
কখনও কোলাহলে ভরা ব্যাস্ততায়
কখনও বা গভীর রাতে।

বল্গাহীন ঘোড়ার মত সময়ের পিঠে চেপে
ছুটে চলেছি কোথায়, কোথায় !
শৈশব-কৈশর হারিয়ে গেছে
যৌবনও করছে যাই যাই
আমি মৃত্যূহীন নই - আমি মানুষ
আমিও মানুষ !

কবেকার ফেলে আসা কোন সে জীবন
সময়ে সময়ে উপহাস করে যায়
কোন মুল্য নেই যেন - প্রয়োজনহীন
কোন প্রয়োজন নেই ?
তবুওতো কোন অবসর নেই।
কিভাবে ভুলে যাব আমি
কোন সে জীবনের উপহাসের কথা
কিভাবে ভুলে যাব আমি ?
কে ভুলতে দেবে আমায় !

মৃত্যূর নদীতে এঁকেবেকে তরী বেয়ে
কোন্ সে পথে হারাবে গতি
ফুরাবে জীবনের সব অভিজ্ঞতা
তখন কেউ জানতে যাবেনা আর
কেউ জানবেনা আর !

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Provatblog/28841113 http://www.somewhereinblog.net/blog/Provatblog/28841113 2008-09-10 10:18:13
হয়তো ভাঙ্গবে অভিমান হয়তো তোমাদের পথে আর ছুটবোনা
কড়া নাড়বোনা তোমাদের ভালবাসার দুয়ারে,
ভাল বেসেছি আমি তারে
যারে একান্তভাবে পাই আমার ভাবনার মাঝে
ভরাট শুন্যতার আস্তানায়।
তাইতো তোমাদের পথে আর ছুটবোনা
কড়া নাড়বোনা তোমাদের ভালবাসার দুয়ারে।

ছুটতে ছুটতে যদি ক্লান্ত হয়
তোমার পথচলা
তবে অপেক্ষা করো, আমি আসতেও পারি।

আঁড়ালে থেকে থেকে যদি ক্লান্ত হয়
তোমার প্রতীক্ষা
তখন আমি আসতেও পারি, মৃদু কড়া নাড়তেও পারি।

যদি দুয়ার খুলে দাড়িয়ে থাকো
যদি ক্লান্ত পথে অপেক্ষা করো
তবে আমায় পাবেই।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Provatblog/28840774 http://www.somewhereinblog.net/blog/Provatblog/28840774 2008-09-09 16:24:08
তোমার - আমার জলকেলিতে মগ্ন শত আশা,
আমার মাঝে দুঃখ তরীতে ভাসা
বেঁধে চলা বাসা ছোট ছোট হতাশা।

তোমর মাঝে প্রিয় চেনা মুখ
আলোকিত পরিপাটি জীবন,
আমার মাঝে মৃয়মান সুখ
আঁধারে বহমান নির্বাসন।

তোমার মাঝে তৃষ্ণাকাতর স্পর্শতা
ফিরে আসা অলি বারংবার নতুন বারতা
আমার মাঝে নির্জনতার ব্যকুলতা
গভীরতার ঘরে ফিরে আসা নীরবতা।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Provatblog/28840770 http://www.somewhereinblog.net/blog/Provatblog/28840770 2008-09-09 16:17:35
ভয় হয় ছুঁতে চাইনা তোমায়
বড্ড ভয় হয় উষ্ণতাকে,
এই হাড়কাঁপা শীতে ভালই আছি
পেতে চাইনা উষ্ণতার ছোঁয়া
ভয় হয়,
এই উষ্ণতাইনা পুড়িয়ে ফেলে মোর পাল।

ছুঁতে চাইনা তোমায়
ভয় লাগে, জেগে ওঠার ভয়,
ভয় হয় হিংস্রতা আর পাশবিকতাকে
ভয় পাই বলেইতো মানুষ আমি, আজও,
ভয় হয়
এই পশুত্বইনা ডুবিয়ে দেয় মোর তরী।

কাছে এসোনা তোমার ছোঁয়ায়
ছিড়ে ফেলোনা মোর পাল,
পাশে বসোনা, জাগিয়ে তুলোনা
ডুবিওনা মোর তরী।

তেমনি থাকতে দাও
জাগিয়ে তুলোনা, ঘুমোতে দাও
বড্ড ভয় হয় আমার।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Provatblog/28840754 http://www.somewhereinblog.net/blog/Provatblog/28840754 2008-09-09 15:40:24
শেষের সময় - বার্ধক্য... (শেষ পর্ব) Click This Link


ডোরবেল বাজাতেই ছুটে এসে দরজা খুলে দেয় নাতিটা। ঘের ঢুকতেই দাদুকে জাপটে ধরে জানতে চায়-
" পেয়েছো দাদু ? "
আবেদীন সাহেব কিছু বলেন না। নাতিটার মাথায় হাত বুলোয়। রান্নাঘর থেকে ছুটে এসে ছেলেটার হাত ধরে টানতে টানতে নিয়ে যায়। দু-একটা চড়-থাপ্পরও দেয়। ক্রোধ ভরা মনে বলতে থাকে -
" আশায় আছো কম্প্যুটার দেবে ? কিচ্ছু দেবেনা। টাকা পেলেও দেবেনা। ওই টাকা কোথায় কোথায় খরচ হবে তার হিসাবও হয়ে গেছে। আমি কি পেয়েছি ? সংসারের ঘানি টানতে টানতেই জীবন শেষ হয়ে গেছে। যেন আমার কোন শখ - আহ্লাদ নেই। আমার কোন স্বাধীনতা নেই। "
রাগের ঝাল মেটাচ্ছে ছেলেটাকে প্রহার করে। আর কথাগুলো বলছে আবেদীন সাহেবকেই উদ্দেশ্য করেই। তবে তা সোজা পথে সরল ভাষায় নয়, বাঁকা পথে। ক্রোধ প্রকাশের জন্য মানুষ সবসময় একটা রাস্তা খোঁজে সেটা সোজা হোক আর বাঁকাই হোক। এমন ভাবে কথাগুলো বলা হচ্ছে যেন টাকাগুলো তিনি পেয়েছেন কিন্তু বলছেন না। সবাই শুধু চাইছে, ভাবছে আমি কি পেয়েছি ! এই আমি এবং কি পেয়েছি এই সীমানার মধ্যেই বন্দী হয়ে আছে মানুষ আর মানুষের চিন্তা-চেতনা। এই সীমানা কেউ টপকাতে পারছেনা, নাকি চাইছেনা ! আবেদীন সাহেব সব শোনেন কিন্তু কিছু বলেন না। একটা দীর্ঘশ্বাস গোপন করে চলে যান তার ঘরে।

কাপড় ছেড়ে হাত-মুখ ধুয়ে নেন। পানির ছোঁয়া লাগতেই জ্বলে উঠছে ক্ষতগুলো। চিনচিন করে জ্বলছে। ভেতরের - বাইরের সব ক্ষতগুলো।
হাত - মুখ মুছে ইজি চেয়ারটাতে বসেন। ঘরে তিনটি প্রান নাতিটা, বৌমা আর তিনি। তবু ঘরটা নিশ্চুপ। শুধু মাঝে মাঝে হাড়ি পাতিলের ঠুকঠাক শব্দ। ছেলেটা সংসারের বোঝা কাঁধে নিয়ে বড্ড ব্যাস্ত সময় কাটাচ্ছে। সেই
সকালে বেরিয়ে যায়। ফিরতে ফিরতে সেই রাত দশটা - এগারোটা। তারপর ক্লান্তির কাছে আত্মসমর্পন। আবার ভোর আসে আবার শুরু হয় ব্যাস্ততা। এক ছুটির দিন ছাড়া দেখাই পাওয়া যায়না। আসলে সন্তানরা যখন বড় হয়ে যায় তখন তারা আর পিতা-মাতার নিজস্ব সম্পত্তি থাকেনা। তারা হয়ে যায় সংসারের, জগতের। মেয়েটাও ক্লাস থাকুক আর না থাকুক
প্রতিদিন বের হওয়া চাই। ইউনিভার্সিটি চত্বর, বন্ধু-বান্ধব, আড্ডা এই করেই সারাটা দিন কাটিয়ে দেয়। ঘরে ফেরে সন্ধ্যার পরে, কখনও রাত আটটা - নয়টাও হয়ে যায়। অসুবিধা কি নারীরা স্বাধীন হয়েছে না ! যে স্বাধীনতা নারীদের ঘরের চৌকাঠ পেরিয়ে বাইরের পানে ডাকছে। মেয়েটা স্বাধীন হয়েছে, বৌমা স্বাধীনতা চাইছে। বাইরের জগত হাতছানি দিয়ে ডাকছে। বাইরের জগতের মোহে নারীরা ছুঁটছে বাইরে। তাহলে কি তিনি নারী স্বাধীনতা বিরোধী ? বুঝে উঠতে পারছেন না। আসলে স্বাধীনতা মানেটাইবা কি ? একটা থেকে স্বাধীনতা মানে অন্যটার অধীনতা। তবু স্বাধীনতা একটা মুল্যবান কিছু ! নারী - পুরুষ সবাই ছুটছে বাহিরপানে। ঘরের জগতের চেয়ে বাইরের জগতটাই বেশী সময় কেড়ে নিচ্ছে। এদিকে অযত্নে অবহেলায় সংসার জট পাকিয়ে যাচ্ছে অগোছালো সুতলির মত।
কুহেলিকাময় এবং জঞ্জালে পুর্ণ বাইরের জগতটার সাথে কুলিয়ে উঠতে পারে কি নারীদের কোমল হৃদয় ? না পেরে বারবার তারা হচ্ছে প্রতারিত।
যে জগতটার সাথে নারীদের পরিচিত করানোর জন্য আহবান করা হচ্ছে সেই জগতটাকে ঠিক না করে তাদেরকে প্রতারনার শিকার হবার সুযোগ করার কি মানে আছে ? বাইরের সমস্যা সংকুল জগতটাতে নারী আর পুরুষ হয়ে যাচ্ছে প্রতিদ্বন্ধী। তিনি নারী স্বাধীনতা বিরোধী নন। তবে স্বাধীনতার অবমুল্যায়ন এবং যুদ্ধংদেহী মনোভাবের বিরোধী। তিনি এটুকু বোঝেন, নারীরা এমন কিছু সহজাত গুনাবলীর অধিকারী যেখানে পুরুষরা কুলিয়ে উঠতে পারবেনা, আবার পুরুষের সহজাত গুনাবলীর কাছে নারীরা কিছুইনা। উভয়েরই উচিত উভয়ের সহজাত গুনাবলীগুলোর সাথে স্বমন্বয় সাধন করে জীবন যাপন করা। এই কম্বিনেশনটাই বড্ড প্রয়োজন এই সমস্যা সংকুল পৃথিবীতে পথ চলতে।

কোন কাজ নেই, তবু সময় বয়ে যাচ্ছে দ্রুত - কলস্বরা। দুপুর শেষে বিকেল হয়ে গেছে। খবরের কাগজটা পড়া হয়নি। সেটা নিয়ে বসেছেন। হেডলাইন ইরাকের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের প্রস্তুতি। ভাল করে খুটিয়ে খুটিয়ে পড়েন বিশ্ব সংবাদগুলো। যুদ্ধের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্র।
চোখ থাকে খবরের পাতায় কিন্তু ভাবনার দৃষ্টি খবরের কাগজ ভেদ করে চলে গেছে অনেক গভীরে। যার ক্ষতি হয় হোক, যত মানুষ মরে মরুক তাতে কিছু আসে যায়না। আপন স্বার্থ চরিতার্থই আসল কথা। ইতিহাস কি বলে ? প্রথমে সারাবিশ্ব দাপট করেছে ইউরোপ, শুষে নিয়েছে দুর্বল রাষ্ট্রগুলোকে। তারপরে আসল যুক্তরাষ্ট্র, আবার সময়ের নিয়মে অন্য কেউ আসবে। এভাবেই চলবে দুর্বলের ওপর সবলের অত্যাচার। ছাত্রজীবনে বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের কথা বলতেন। এখন ভাবেন আসলে কোন তন্ত্রে-মন্ত্রে লাভ নেই। যতক্ষন পর্যন্ত তন্ত্র - মন্ত্রের শীর্ষে থাকা মানুষগুলোর অন্তর কলুষতা মুক্ত না হবে। সব বিপ্লবের আগে প্রয়োজন মানুষের মনের আত্মশুদ্ধি। মানসিক বিপ্লব।

পড়ন্ত বিকেল। আকাশ রক্তিম বর্ণে সেজেছে। ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে গোঁধুলী
লগ্ন দেখছেন আবেদীন সাহেব। কখনও কংক্রিটের জঙ্গলের মত নগরটাকে দেখছেন। কোন সবুজ মাঠ নেই, যেখানে শিশুরা ছুটোছূটি করতে পারে। পুকুর নেই যেখানে সাঁতার কাটতে পারে। কি রেখে যাচ্ছি আমরা আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের জন্য ? আবারো প্রশ্ন ! আজকাল কি যে হয়েছে, ছোট - বড় সব বিষয়েই গভীর ভাবনা এসে জড়ো হয়। যেন জীবনের শেষের পথে এসে খুঁজে ফিরছে জীবনের আসল দর্শন। যেন সে একজন শেষের দার্শনিক। বার্ধ্যকের সময়টা বোধ হয় এমনই !

সন্ধ্যার পরেও কিছুক্ষন দাঁড়িয়ে রইলেন বারান্দায়। আরও কিছুক্ষন থাকার ইচ্ছে ছিল। কিন্ত পারলেন না, শরীরের ক্ষতগুলো শুকোচ্ছে, ব্যাথায় টনটন করছে। গা গরম হয়ে আসছে। আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারছেন না। ঘরে এসে বিছানায় শুয়ে পরলেন। শুয়ে শুয়ে অতীতের কথা ভাবেন। বাজী ধরে সাঁতরে নদী পার হবার কথা, সেই কানামাছি, ডাংগুলি, হাডুডু খেলার কথা। কত আঘাত পেয়েছেন কিন্তু তখন সেগুলোকে কিছুই মনে হয়নি, মামুলি। আর আজ ! সামান্য ব্যাথায় কাহিল হয়ে পরেছেন। ছোটবেলায়
অসুখ হলে মা শিয়রের পাশে বসে থাকতেন বিশ্বাসী প্রহরীর মত। মাথায় জ্বলপট্টি আর বিধাতার কাছে পুত্রের সুস্থতা কামনা করতেন। অথচ আজ !
শেষ জীবনে এসে এক সিমাহীন নিস্বঙ্গতা নিয়ে কাটছে সময়টা। একা শুধুই একা, বোঝার মত কেউ নেই। মন শুধু বিদ্রোহ করছে প্রানপন পিছে ফিরে যাবার ইচ্ছায়। যদি আবার সেই যৌবনটাকে ফিরিয়ে আনা যেত, তাহলে সব বদলে ফেলা যেত। বুঝিয়ে দেয়া যেত সে একা ঠিকই কিন্তু দুর্বল নয়। কিন্তু উপায় নেই। শেষ সময়টা এমনই, যেখানে অনিবার্যতা আর মেনে নেয়াটা নির্মম নিয়তিতে বাঁধা।

শরীর কাপিয়ে জ্বর আসছে। দুর্বল লাগছে। নড়াচড়া করতে ইচ্ছে করছেনা।
কিছু ক্ষেতেও ইচ্ছে করছেনা। তার খুবই প্রিয় একটা গান আছে। সেই গানটা শুনতে ইচ্ছে করছে। আবেদীন সাহেব রেকর্ডটা প্লে করে দিয়ে কাঁথা জড়িয়ে শুয়ে পরলেন। রেকর্ডটা বাজছেঃ
-----" পথিক পরান চল, চল সে পথে তোর যে পথ দিয়ে গেলরে তোর বিকেল বেলার জোর। যে পথ বেয়ে গেছে যে তার সন্ধ্যা মেঘের সোনা, প্রানের ছায়া বিথীর তলে গানের আনাগোনা, রইলো না কিছুই। যে পথে তার পাপড়ি দিয়ে বিছিয়ে গেল ভুল, অন্ধকারে সন্ধ্যাজুথির স্বপনময়ী ছায়া, উঠছে ফুটে তারার মত কায়া বিহীন মায়া, ছুঁই তারে না ছুঁই। পথিক পরান চল, চল সে পথে তোর..."-----

চোখ বুজে শুয়ে আছেন তিনি। চোখের কোন বেয়ে ঝড়ে পরছে অশ্রুধারা, অবুঝ শিশুর মত। একসময় সে অশ্রু শুকিয়ে সাদা নোনা জমে যায়। নিজের অজান্তেই কখন যেন ঘুমিয়ে পরেন তিনি। আপন মনে বাজতে বাজতে বন্ধ হয়ে যায় রেকর্ডটা।

চারপাশ জুড়ে পাকা ধানের ক্ষেত। বাতাসের দোলায় দোল খাচ্ছে পুরো ক্ষেত জুড়ে। আবেদীন সাহেব সেই ক্ষেতের মাঝে দাড়িয়ে আছেন। বাতাসের ছোঁয়ায় সে যেন নতুন প্রানের দোলা অনুভব করছেন। বেশ কিছু দুরে ক্ষেতের মাঝে এক বিশাল ছায়াবৃক্ষ দাড়িয়ে আপনমনে। সেই বৃক্ষটা যেন আবেদীন সাহেবকে যেন হাতছানি দিয়ে ডাকছে। তার বোধ বলছে তাকে সেই বৃক্ষটার কাছে যেতেই হবে। ক্ষেতের সরু আল বেয়ে প্রচন্ড গতিতে ছুটছেন সেই গাছটার দিকে। গাছটার নীচে এসে পৌঁছেছেন। গাছটার তলে দাঁড়িয়ে কি যেন একটা খুঁজছেন। হ্যাঁ, খুঁজে পেয়েছেন। গাছের মগডালে বসে আছে একটা সবুজ, গাঢ় সবুজ পাখি। বেশ তরতাজা, দেখতে অপুর্ব। পাখিটার নামটা যেন কি ? মনে করতে পারছেন না। কিন্তু বড় চেনা চেনা মনে হচ্ছে। কোথায় যেন দেখেছেন। যে আকর্ষনের বোধ তাকে এই গাছের নীচে নিয়ে এসেছে সেই বোধ বলছে, ঐ পাখিটাকে ধরতে হবে। আবেদীন সাহেব প্রস্তুত হয়ে গাছে উঠছেন, পাখিটাকে ধরার জন্য। খুব সাবধানে সেই ডালে চড়লেন যে ডালে পাখিটা বসে আছে। যেই খপ্ করে ধরতে যান তখনই পাখিটা উড়ে গিয়ে অন্য ডালে বসে। আবেদীন সাহেব হাল ছাড়েন না। আবার সেই ডালে চড়েন তিনি। আবরো পাখিটা উড়ে যায়। এভাবে এ-ডাল থেকে ও-ডালে, ও-ডাল থেকে এ-ডালে ছুটছে পাখিটা, যেন ধরা দিতে চাইছেনা। আবেদীন সাহেব ও ছোটেন পাখিটার সাথে সাথে।
এক সময় এক অস্থিরতা নিয়ে ধরফর করে লাফিয়ে ওঠেন ঘুম থেকে। ঘামে পুরো শরীরটা ভিজে একাকার। হিম হয়ে গেছে শরীরটা। নিথর - নিশ্চুপ হয়ে বসে এদিক ওদিক তাকাচ্ছেন, কিন্তু কিছুই দেখতে পাচ্ছেন না। চারপাশ জুড়ে ঘুটঘুটে অন্ধকার।




-----------------------------------------------
লেখার তারিখঃ ২৯ শে ডিসেম্বর ২০০২
স্থানঃ যান্ত্রিকনগর (ঢাকা)
-----------------------------------------------







]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Provatblog/28829780 http://www.somewhereinblog.net/blog/Provatblog/28829780 2008-08-11 18:02:14
শেষের সময় - বার্ধক্য... (প্রথম পর্ব) ছেলের ঘরের নাতিটা জানতে পেরেছে দাদাভাই অনেক টাকা পাচ্ছে।
তাই তাকে একটা কম্প্যুটার কিনে দিতেই হবে। না দিয়ে উপায় আছে ! আবেদীন সাহেবের এক ছেলে এক মেয়ে। স্ত্রী বিয়োগ হয়েছে তার চাকুরী কালীন অবস্থাতেই। প্রায় নয় বছর হল। তারপরই ছেলেকে বিয়ে করালেন। আর সেই ঘরের একমাত্র ওয়ারিশ এই নাতিটা। খুবই বিজ্ঞান মনস্ক, আধুনিক সবকিছু তার চাই। প্রতিদিন ঘরে ফিরলেই গায়ের সাথে লেগে থাকে, পরম ঘনিষ্টতায় জানতে চায় টাকাটা পাওয়া গেল কিনা। তাহলে তার আশাটাও পূর্ণ হবে তাই। আবেদীন সাহেব নাতিটার দিকে তাকিয়ে মৃদূ হেসে উত্তর দেন "না দাদাভাই আজ পাইনি তবে দু একদিনের মধ্যেই পেয়ে যাবো।"
দারুন এক আনন্দের উদ্যমতা নিয়ে ছুটে যায় অন্যঘরে। দু-একদিনের মধ্যেই দাদু টাকা পাবে, টাকাটা পেলেই তার আশাপুর্ণ হবে। আর যতক্ষন পুর্ণ না হচ্ছে ততক্ষন এই আশাই হল বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন। পুর্ন জবে কি হবেনা তার নিশ্চয়তা নেই তবু তাকে ঘিরেই বেঁচে থাকা। জীবনের দর্শনটাই যে এমন সেটাতো আর নাতিটা বোঝেনা তাই তার আনন্দেরও সীমা নেই। জীবনের উপান্তে এসে হারে হারে উপলব্ধি করছেন জীবনকে। সুখ-দূঃখ, আশা-হতাশা, জীবন-মৃত্যূ সবকিছুর মাঝেই কেমন যেন এক টানাপোড়েন খেলা করে। এক অনিশ্চয়তা বিরাজিত আপনমনে। এভাবেই বেঁচে থাকা। জুড়ে থাকে ভাবনা, ভাবনার পথ ধরে শুধু পেছনের পানে যাওয়া। জীবনের উপান্তের পথে চলা এক নিস্বঃঙ্গ নাবিকের ভাবনার চেয়ে বড় বন্ধু আর কে আছে ? টাকাটার পেছনে ছুটতে হচ্ছে বলে কিছুটা ব্যস্ততা আছে। বাকীটা সময় ঘরের কোনে ইজি চেয়ারটাতে গা এলিয়ে দিয়ে সিমাহীন ভাবনার রাজ্যে বসবাস। এবাবেই কেটে যায় আবেদীন সাহেবের সময়টা। এভাবে চলবে পর্যায়ক্রমে। তা যে হবার নয় তাও বোঝেন আবেদীন সাহেব। কারন একই গাছের সব ফলের স্বাদ একরকম হয়না। তবু তিনি তার স্বপ্নগুলোকে হেলা করেননা। আজও লালন করেন নিপুণ ভাবে। হয়তোবা লালন করতে করতে গহীন মৃত্যূর ঘুমে ঘুমিয়ে যাবেন, তবু তার এই দৃষ্টিভঙ্গি বদলাবেন না। কারন এই বিশ্বাসটাই তার নৈতিকতা, এটাই তার জীবনের দর্শণ। তার সহকর্মীরা এমনকি তৃতীয় শ্রেনীর কর্মচারীরাও বাড়ী-গাড়ী করে ফেলেছেন। কিভাবে করলেন তারা ?
তারা যেভাবে করেছেন সেভাবে তিনি পারতেননা। তিনিতো লালন করছেন নৈতিকতাকে। যা দিয়ে ব্যাক্তি বিশেষের বস্তুগত কোন লাভ হয়না। তাই তারও হয়নি। এটাই কি তার অদূরদর্শীতা ? আজকাল মনের মাঝে নানা রকম চিন্তা ঘোরাফেরা করে। যা কাউকে বলাও যায়না বোঝানোও যায়না।

পা টানতে টানতে মুচির কাছে চলে এসেছেন তিনি। টুকটুক করে দুটো পেরেক মেরে দুটো টাকা নিয়ে নিল। এই ভেবে হিসেব কষে আবেদীন সাহেবের মন। জীবনের পুরোটা সময়ইতো কেটেছে হিসেবের বেড়াজালে। আর ব্কীটা সময়ও কাটাতে হবে এই হিসেবের মাঝেই।
সামনের বাঁদিকের মোড়টা পার হলেই তার পুরোনো অফিস। ধীর পায়ে সেদিকেআ এগিয়ে যাচ্ছেন তিনি। মোড় পার হতেই অফিসের প্রধান গেইটটা দেখা যাচ্ছে। গেইট দিয়ে ঢুকছেন এমন সময় তাঁর পাশ দিয়ে এক ভদ্রলোক যাচ্ছিলেন, বয়স তার মতই হবে। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, " কি খবর আবেদীন সাহেব, ভালোতো ? " আবেদীন সাহেব তার দিকে তাকিয়ে উত্তর দিলেন, " জ্বি ভালো।" আর কথা না বাড়ালেন না। কারন প্রশ্নকর্তাকে তিনি মনে করতে পারছিলেন না। আবার দেরী হয়ে গেলে বড় সাহেবকে পাওয়া যাবেনা। তাই সে জলদি হাঁটতে লাগলেন অফিস ভবনের দিকে। আর ভাবছেন কে যেন লোকটা ! অনেকক্ষন পরে মনে পরল উনিতো রহমান সাহেব। দুজনেই একই পথের পথিক। এই রহমান সাহেবকেই মনে করতে পারছিলেন না ! কিযে হযেছে এই ষাটোর্ধ মগজটাতে। কিছুই মনে রাখতে পারেনা। একেই বোধ হয় বলে বার্ধক্য !

টুকটুক করে সিড়ি বেয়ে ওপরে চলে আসেন আবেদীন সাহেব। বড় চেনা এই সিঁড়িগুলো, করিডোর, কক্ষগুলো, চেয়ার-টেবিল সবকিছু। চেনা লাগারই কথা কারন এখানেই তো কাটিয়েছেন জীবনের পঁচিশটা বছর। আরো দুটো বছর বেশী কাটাতে পারতেন, যদি বয়সটা সাতান্ন পাড় না হতো। সবাইতো সার্টিফিকেটে বয়স কিছুটা কমিয়ে দেয় আসল বয়সের চেয়ে। আবেদীন সাহেব এই চালাকীটুকু করতে পারেননি। হয়তো এতোটা দূরদর্শী ছিলেননা। তার এই অদুরদর্শীতার কারনে তার জীবনে কিছুই হলনা। আজ পর্যন্ত সন্তানদের জন্য একটা মাথা গোঁজার ঠাঁই করতে পারলেননা। সারাটাজীবন কাটালেন ভারাটিয়া হিসেবেই। আর গ্রামের বাড়ী ? গ্রামের বাড়ীর কথা বাদ। আজকাল মানুষ সব জিবীকার সন্ধানে ছুটছে শহরের পানে। সবাই শহরমুখী। শহরে আছে ব্যাস্ত গতিময়তা। সবাই ছুটছে শহরে, এখানেই যেন লুকিয়ে আছে প্রান ভোঁমরা।মানুষ যার খোঁজে ছুটছে দিশেহারার মত। তাই সবাই শহরমুখী। আর গ্রামে গিয়েওবা কি হবে ? সেখানে চলছে পাঁচ ভাই আর তিন বোনের ভাগাভাগির যুদ্ধ। এই যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা তার ভাল লাগেনা। তিনি চান সহমর্মিতা আর ভালবাসা।
প্রয়োজনে সবাই মিলে কষ্ট করবো তবু সবাই মিলে গড়ে তুলবো এক শান্তির ভুবন। যেখানে সন্দেহ থাকবেনা, থাকবে সিমাহীন বিশ্বাস। সেই বিশ্বাসের ছায়াতলে বেড়ে উঠবে নতুন প্রজন্ম। একা একা ভেবে যাওয়া অবশেষে নিজের কাছেই নিজেকে প্রশ্ন ছূঁড়ে দেয়া। এমন সব প্রশ্ন যার কোন উত্তর পাওয়া যায়না।
আবেদীন সাহেব করিডোর পার হবার সময় একটা কক্ষের সামনে একটু দাঁড়িয়ে গেলেন। একসময় এই রুমটাতে তিনি বসতেন। সেই রুম সেউ চেয়ার সবই আছে শুধু মানুষটা বদলে গেছে, বদলেছে দড়জায় ঝোলানো নেইমবোর্ডটা। এভাবেইতো বদলে যায় সবকিছু। পুরাতনকে রুখে দাড়ায় নতুন। আবার নতুনও সময়ের নিয়মে ধীরে ধীরে পুরাতনের পথেই ছোটে। আবেদীন সাহেব সামনের রুমটার দিকে এগিয়ে যান, সেখানে একসময়কার তার সহকর্মীরা রয়েছেন। তাদের কাছ থেকেই জানতে পারবেন বড় সাহেব এসেছেন কিনা। না আসলে কখন আসবেন। আর তার ফাইলটার কি হলো। কিন্তু এ কি অবস্থা ! সবাই যেন ব্যাস্ত। কেউ মোটা মোটা রেজিষ্টার খাতা ওল্টাচ্ছেন আবার কেউ বসে বসে গল্পে মেতেছেন। কার কাছে জিজ্ঞাসা করবেন ভাবলেন, তারপর সামনের ডানদিকের টেবিলটার দিকে এগিয়ে গেলেন। যেখানে বসে দুজন মহিলা গল্প করছেন। একজনকে তিনি চেনেন, সায়রা খানম তার নাম। অন্যজনকে চেনেননা, হয়তো নতুন। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, " কেমন আছেন সায়রা ? " ভদ্রমহিলা অভিনয়ের হাসি হেসে উত্তর দিলেন " জ্বি ভাল, আপনি ভালোতো।" বলেই আবার মেতে গেলেন গল্পে। আবেদীন সাহেব হাসেন আবার ভাবেন, এই মহিলা মেয়ের অসুখের কথা বলে কত যে অফিস কামাই দিয়েছেন তার হিসেব নেই। তখন স্যার বুলিটা যেন মুখ থেকে সরতোই না। আর এখন যেন বুলিটা বেমালুম ভুলেই গেছেন। কোথায় যেন পড়েছিলেন ডুবন্ত সুর্যকে কেউ স্যালুট করেনা। আজ তা নিজস্ব অভিজ্ঞতায় অনুধাবন করছেন। আবেদীন সাহেব আবার জিজ্ঞাসা করেন, " বড় সাহেব কি আছেন ? " ভদ্রমহিলার উত্তর , " জ্বি, স্যার জরুরী মিটিং এ আছেন। অপেক্ষা করুন।" আবেদীন সাহেব রুমের কোনে একটা চেয়ারে বসে থাকেন কিছুক্ষন। তারপর রুম থেকে বেরিয়ে করিডোরে কিছুক্ষন হাঁটাহাটি করে কাটালেন। কিন্তু বড় সাহেবের মিটিং আর শেষ হয়না।
" আসসালামুআলাইকুম স্যার কেমন আছেন ? "
আবেদীন সাহেব ফিরে তাকান, তাকিয়ে দেখেন প্রশ্নকর্তা এই অফিসেরই একজন পিওন, নাম রহিম। বয়স ২৫ - ৩০ হবে। এই রহিমকে তিনিই চাকুরীটা দিয়েছিলেন। ওর মা একসময় তার বাসায় কাজ করত। রহিমের মায়ের অনুরোধেই বাপ মরা ছেলেটাকে চাকরীর ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন তিনি। ছেলেটা ভালোই, চাকরী পাবার পর থেকে মাকে আর মানুষের বাসায় ঝি এর কাজ করতে দেয়না। একটু স্বচ্ছলতাও ফিরিয়ে এনেছে সংসারে।

আবেদীর সাহেব কিছু বলার আগেই রহিম বলতে থাকে, " স্যার আপনে কি বড় সাহেবের কাছে আইছেন ? বড় সাবতো আইজকা আসবোনা। আইজ বড় সাবের মেয়ের জন্মদিন। তাই ম্যার আসেনাই। আসি স্যার, আসসালামুআলাইকুম।" চায়ের ফ্লাক্স হাতে চলে যায় রহিম। কিছুক্ষন চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকেন। কি আর করা, মনের মাঝে সংকল্পটাকে স্মরন করেন, আবার আসতে হবে তাকে। তবে কতবার আর কতদিন তার সঠিক হিসেব জানা নেই। অফিস থেকে বেড়িয়ে পরেন তিনি।

দুপুরের দিকে গাড়ীগুলোতে একটু ভীড় কম থাকে। বাস স্টপে দাড়িয়ে একটি গাড়ী, হেল্পার ননস্টপ বলে যাচ্ছে- " এই মালিবাগ, রামপুরা, কুড়িল সিট খালি সিট খালি। আবেদীন সাহেব দ্রুত পা চালান গাড়ীটা ধরার জন্য। কয়েকটা সিট খালি দেখা যাচ্ছে। আরও দ্রুত হাটেন, দ্রুত হাঁটতে গিয়ে হোচট খেয়ে পরে যান রাস্তায়। চশমাটা চোখ তেকে ছিটকে পরেছে হাত দশেক দুরে। টাল সামলাতে না পেরে রাস্তাতেই পরে রইলেন তিনি। গাড়ীটা চলে গেছে। পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে মানুষ। তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছেন আবার কেউ কেউ উৎসুক হয়ে জিজ্ঞাসা করছেন কি হয়েছে ? কিন্তু কেউ সাহায্যের হাত বারাচ্ছেন না। যেন পৃথিবী নামক চিড়িয়াখানায় এক চিড়িয়ার ধরাশায়ী অবস্থা দেখছেন অন্যরা। একজনের বিপদ উপভোগ করছেন অন্যরা কিন্তু তাদের বোধ কিছু বলছেনা। যেন করার কিছু নেই। সবার মনের অনুভূতি যেন ভোঁতা হয়ে গেছে। তবু কেউ না কেউ এগিয়ে আসে, আজও মানুষের পাশে এসে দাড়ায় মানুষ। একজন রিক্সাওয়ালা রিক্সা থামিয়ে দৌড়ে এলেন। আবেদীন সাহেবকে কোমড়ে জাপটে ধরে তুলে নিয়ে বসিয়ে দিলো রিক্সাতে। আবেদীন সাহেব নিথর হয়ে বসে রইলেন কিছুক্ষন। দৃষ্টি একটু ঘোলাটে লাগছে, স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছেন না। মাথাটা ঘুরছে। ভাবেন, যদি সেই যুবক বয়সট হতো তাহলে
এক ঝাপটা মেরে উঠে দাঁড়াতেন। আর এখন ! এখনতো বয়স হয়েছে, বুড়ো হয়েছি না ! রিক্সাওয়ারা জিজ্ঞাসা করে, '' কেমন লাগতাছে এহন ? আবেদীন সাহেব ঘার কাত করে জানায় "ভালো।" আবার জিজ্ঞাসা করে " কই যাইবেন চাচামিঞা ? " তিনি উত্তর দেন " রামপুরা।" রিক্সাওয়ালা পেডেল মেরে রিক্সা চালাতে থাকেন। আবেদীন সাহেব কিছু বলেন না। চুপ করে বসে থাকেন। দেখছেন কোথায় কোথায় আঘাত লেগেছে। ডান পায়ের হাঁটুর এখানে প্যান্টটা ছিড়েছে, হাঁটুটা ছিলে গেছে। বাঁ হাতের কনুইটাও ছিলে লাল হয়ে আছে। চশমার একটা গ্লাস ফেটেছে। তবু ভাগ্য ভালো যে মাথায় আঘাত লাগেনি বা তার ওপর দিয়ে কোন গাড়ী চালিয়ে দেয়নি ! মানুষ যখন বিপদে পরে তখন ভাবে বিপদটা কেটে যাক কেটে যাক, কাটিয়ে উঠতে পারলেই শান্তি। কিন্তু যখন বিপদটা কেটে যায় তখন শুরু হয় বিপদকালীন সময়ের ক্ষয়-ক্ষতির হিসেব। রিক্সায় বসে বসে আবেদীন সাহেব ও সেই হিসেব করছেন।



চলবে...

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Provatblog/28829405 http://www.somewhereinblog.net/blog/Provatblog/28829405 2008-08-10 17:03:58
মানুষের ভীরে... (শেষ পর্ব) Click This Link
দ্বিতীয় পর্বঃ Click This Link
তৃতীয় পর্বঃ Click This Link

মনোযোগী দৃষ্টিতে ধীরে ধীরে পথ হাঁটছে প্রভাত। কখনও এদিক কখনও ওদিক তাকাচ্ছে। সামনের বাঁ দিকে তাকিয়েই তার দৃষ্টি স্থির হয়ে গেল। সে থমকে দাঁড়িয়ে গেল। বেশী দুরে নয় দশ-বারো কদম হবে। সে আর পা বাড়াল না। সে ওখানে দাড়িয়েই দেখছে, ছেঁড়া চটের আবরেনে হাঁটু গেরে বসে থাকা পাগলটাকে। আকাশের দিকে তাকিয়ে বিরবির করে কি যেন বলছে আর হাসছে আপনমনে।প্রভাত বুঝতে পারে এ হাসি তার উপহাসের হাসি। কার দিকে লক্ষ করে তার এই উপহাস ! কোন অদৃশ্যের সাথে যেন তার এই বোঝাপড়া, একান্তে খুবই একান্তে। বিরবির করে বলে যাচ্ছে আপন ক্ষতগুলো। গোপন এক বোঝাপড়া গোপনের সাথেই। েযন আপনমেন সাপলুডু খেলছে বিধাতার সাথে। প্রভাতের তার মেঝভাইটার কথা মনে পড়ে যায়। প্রভাত আবার হাঁটতে শুরু করে কিছুটা উদভ্রান্তের মতো। হয়তো মেঝভাইটাও এভাবেই সময় কাটাচ্ছে চেনা অথবা অচেনা কোন শহরের অলিতে গলিতে। নাকি মরে গেছে ! না, তা যেন নাহয় করুনাময়। আছে বেঁচে আছে, এই বিশ্বাস নিয়েই হাঁটছে সে আর এদিক সেদিক খুঁজে বেরাচ্ছে তার ভাইটাকে। দেখা যায়কিনা ভাইটাকে। দৃষ্টির সীমানায় খুঁজছে আপন রক্ত। আপন রক্ত এই পথেই আছে। সেজন্যই কি পথ তাকে বেশী টানে ? এই টান যেন জন্মান্তরের। দৃষ্টির সীমানায় দেখা যাবেনা ভাইটাকে। প্রভাত বুঝতে পারে কোন সীমানার কাছে আত্মসমর্থন করেনি সে। সে যেন ঘুপটি মেরে বসে আছে প্রভাতের মনের মাঝে। মন চলে যায় পেছনে। তখন প্রভাত ক্লাস পোরে আর মেঝভাইটা ক্লাস এইটে।
মেঝভাই তাকে নিয়ে গিয়েছিল সাইকেল চালানো শেখাতে। তখন বাবার চাকুরীকাল। তারা থাকত এক মফস্বল শহরে। শহরের কোল ঘেঁসে বড় এক নদী। নাম পায়রা নদী। সেই নদীর পাড়ে বিস্তৃত ফাঁকা মাঠ। মাঠের শেষে আর নদীর তীড় ঘেঁষে দাড়িয়ে আছে এক শিমুল গাছ। শিমুলও ফুটেছিল সেদিন। সেই শিমুলের কোল ঘেঁসে নৌকা ভীড়ছে। যাত্রীর ওঠানামা চলছে। পারাপারের যাত্রী মাঠের একপ্রান্ত জুড়ে। সেই মাঠের অন্যপ্রান্তে তাকে সাইকেল চালানো সেখানো হচ্ছে। প্রভাত যেন স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছে সেই দিনগুলো। প্রথম পাক দেয়ার সময় পেছনের ক্যারিয়ার ধরে তার পেছনে পেছনে ছুটছে মেঝভাই। দ্বিতীয় পাকে মাঝে মাঝে ছেড়ে দিচ্ছে, আর তৃতীয় পাকে পুরোপুরি ছেড়ে দিয়েছে। সে একটা ভয় নিয়ে চালাচ্ছে। কখও ভারসাম্যের অভাবে টালমাটাল অবস্থা। মেঝভাই এর নির্দেশ, কোমড় সোজা, হাতল শক্ত করে ধর আর চোখ সামনে। প্রভাত চালাচ্ছে নির্দেশমত। কিছুটা আয়ত্তে চলে এসছে। তখন নির্দেশ আরো গতি বারানোর জন্য। হাফ ছেড়ে হাটু মারে সে। গতি বাড়তে থাকে। কখনওবা বাক নেয়ার সময় কাত হয়ে পড়ে যায়, কিছুটা ব্যাথাও পায় তবু সে হাল ছাড়েনা আবার শুরু করে। দুর থেকে দাঁড়িয়ে মেঝভাইএর নির্দেশ,
Come-on getup, Don't warry be happy.

প্রভাত আর কিছু দেখতে পায়না। চোখে জল জমতে শুরু করেছে। ঝাপসা হয়ে আসছে দৃষ্টি। জীবনের ট্র্যাকে দৌড়াবার পথ দেখিয়ে নিজেই যেন ছিটকে পরল ট্র্যাক থেকে। বড় কষ্ট লাগে মেঝভাইটার কথা মনে এলেই। যতবেশী ভালবাসা ততবেশী কষ্ট। মৃত্যূর শোকের চেয়েও বড় বেশী শোক এই নিখোঁজের শোক। প্রচন্ড কষ্টে ভরা ভারী এক বুক নিয়ে প্রভাত পথ চলছে। অনাকাংখিত কষ্টগুলো এসে ধরা দেয় কাঙ্খিতের মতই। প্রভাত জানেনা কোথায় গিয়ে ঠেকবে তার এই পথচলা। কোথায় পৌঁছাবে তার এই জীবন ! ভাগ্যের ভবিষ্যতটা যে অজানা। ভারী কষ্ট নিয়ে ভাগ্যহীন কিছু স্বপ্ন নিয়ে পথ চলছে প্রভাত। একা, খুব একা জীবনেরই পথে। কি মানে আছে এই জীবনের ? কোন উত্তর খুঁজে পাওয়া যায়না। ঘন কুয়াশার মত সব ঘোলাটে। তবু পৃথিবী জীবনকেই ডাকে। জীবন বরণ করে নেয় বেঁচে থাকাকেই। সবসময় কেমন যেন এক যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা এই জীবনকে ঘিরে। শুধু সামনে চল সামনে চল। কিন্তু কোথায় ! জীবনের লক্ষ্যে ? কে যে কোন লক্ষ্যে পৌছাচ্ছে ! শুধূ যেন সামনে যাওয়া আর পেছনে আসা।

মাথাটা কেমন যেন ভারী হয়ে আসে প্রভাতের। কোন হিসেবই মিলছেনা। সব যেন জট পাকিয়ে যাচ্ছে অগোছালো সুতলির মত। জট খোলার আপ্রান চেষ্টা নিয়ে পথ চলছে প্রভাত। এত হিসেব নিকেশের জীবন জানলে জীবনের ভাঙ্গা নৌকায় সে চড়তোই না। কিন্তু সে উপায়ওতো নেই। তবে কেন এই জন্ম ? কেন এই বেঁচে থাকা ? বড় বিচিত্র এই মানুষের জীবন যাপন। পাগলা ঘোড়ার মত ছুটছে অজানা পথে, সময়ের সাথে বিরামহীন প্রতিযোগীতা নিয়ে। কখনও দিয়াশলাই এর মত জ্বলে ওঠা দুরন্ত উচ্ছাসে, আবার নীরব অবস্থান একশত ভাগ নিরাপদে। আসলে জীবন যেন এক সাপলুডু খেলা, স্বপ্নের সিড়ি বেয়ে ওপরে ওঠা আবার অনাকাংখিত বিষাক্ত ছোবলে নিম্নে পদার্পন। ওপরে ওঠা আবার নিচে নামা। জীবনের বোধ শুধু এটুকুই বোঝে কামঅন-গেটআপ। থেমে থাকার উপায় নেই আবার উঠতে হবে, আবার চলতে হবে। জীবনতো এক গতি ছাড়া আর কিছুই নয়। সময় জুড়ে এক গতিময়তার খেলা। সময়ের নিয়মে জীবনের বোঝা কাঁধে নিয়ে চলছে মানুষ। কখনও এপথে আবার কখনও ওপথে। কখনও দূঃখে হাতড়ে মরছে আবার সুখের আশায় পথ চলছে। কোথায় আছে সুখ ? ভালবাসায় ? সেখানেওতো জুড়ে আছে দ্বায় আর দাবীর দ্বন্দ। বিশ্বাস আর যুক্তির দ্বন্দ। আসলে ভালবাসা সুখ-দূঃখের এক অপুর্ব সংমিশ্রন ছাড়াতো আর কিছু নয়। আর জীবন ! সেতো পরিবর্তনে অঙ্গিকারাবদ্ধ এক গতিময়তা নিয়ে চলছে শেষের পথ ধরে। যে পথে প্রয়োজন শুধু একটাই সহ্যটা আয়ত্ব করে নেয়া। সাধনা এই একটাই।

প্রভাত বুঝতে পারছে। কিন্তু এখানেই কি মিলে যাচ্ছে সব হিসেব ? এতো মিলবার নয়। তবু চারপাশ জুড়ে প্রানের খেলা। এক গতিময়তায় মানুষের ছুটেচলা। কখনও সঠিক আবার কখনও ভুল পথে। ছুটে চলা, শুধু ছুটে চলা থেমে থাকা নয়। জীবনের ষ্টেশন তো একটাই, মৃত্যূ। জীবন আর মৃত্যূর মাঝখানের পথ জুড়ে আছে এক মোহিনী আঁচল যা শুধু আকড়ে ধরতে চায়। মানুষ পারে ধরে থাকতে ? মানুষতো পথ চলছে মৃত্যূর টিকিট হাতে নিয়ে। মৃত্যূই তার শেষ গন্তব্য। তবু মানুষ ছুটছে যার যার নিজ নিজ গন্তব্যে। কোথায সেটা ? থেমে যায় প্রভাত। চারপাশে তাকায়। নগর যেন কেমন ক্লান্ত বোধ করছে। স্থিমিত হয়ে আসছে মানুষের ছুটে চলা। আকাশে মেঘের মেলা জমেছে বেশ জোড়ালো ভাবেই। গুরুম গুরুম গর্জাচ্ছে, এই বুঝি বৃষ্টি এলো বলে। মুহুর্তে মুহুর্তে বিজলী চমকাচ্ছে। কি করবে প্রভাত ? পথ চলতে থাকবে ! সে দেখল তার পাশ দিয়েই লাঠি হাতে ঠুকঠুক করে পথ খুঁজে নিয়ে চলছে এক অন্ধ ভিখারী। প্রভাত সেই অন্ধ ভিখারীর দিকে তাকিয়ে থাকে। সেও যেন ফিরে যাচ্ছে তার আপন গন্তব্যে। প্রচন্ড এক দমকা হাওয়া শুরু হয়েছে। খুব ঠান্ডা লাগছে। রাস্তার ওপাশ থেকে গাড়ী ছাড়ছে ফিরে যাবার পথে। হুড়মুর করে গাড়ীতে ইঠছে মানুষ ফিরে যাবার জন্য। মানুষ যেন খুব তাড়াতাড়ি ফিরতে চাইছে যার যার নিজ গন্তব্যে। ক্লান্তি থামিয়ে দিচ্ছে মানুষের পথচলা। স্থিমিত হয়ে আসছে মানুষ। ফিরে যাচ্ছে ঘরে, গৃহপালিতের মত। আচ্ছা এইযে মানুষ ঘরে ফিরছে গৃহপালিত পশু-পাখির মত, মানুষকে পুষছে কে ?

মায়া, মায়ায় পুষছে মানুষকে। তাইতো মানুষ হাজারো কষ্টের বোঝা কাঁধে নিয়েও ঘরে ফেরে। প্রভাতও কখন যেন সেই মানুষের ভীড়েই মিশে যায়।


লেখার তারিখঃ ২৫শে এপ্রিল ২০০২
স্থানঃ কক্সবাজার।






]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Provatblog/28828417 http://www.somewhereinblog.net/blog/Provatblog/28828417 2008-08-07 16:37:24
মানুষের ভীরে... ( দ্বিতীয়ের পরে ) মাঝে মাঝে ভাবে সিমাহীন আকাশের নীচে আর কোথাও কি আছে এমন একটা সৌরজগত ! যার মাছে আছে পৃথিবীর মত এমন এক সজীব গ্রহ ? যেখানে মানুষ আছে, সংসার আছে, প্রেম আছে, দূঃখ আছে আবার সুখের আশায় হাতরে মরা আছে। আর থাকলে তা কতদুরে ? আদৌ মানুষ ছূঁতে পারবে কি সেই সীমানা ! পৃথিবীর সবচেয়ে কাছের গ্রহটির দুরত্ব ফোর লাইট ইয়ার। মানুষের আবিস্কৃত সবচেয়ে দ্রুত যানে সেখানে পৌঁছাতে সময় লাগবে দুইশত বছর। আর যদি আলোর গতি সম্পন্ন কোন যানে যেতে লাগবে চার বছর। আলোর গতি সম্পন্ন কোন যানে মানুষ কি পারবে ভ্রমন করতে ! আইনস্টাইনের মতে আলোর গতিসম্পন্ন যে কোন বস্তুই তখন নিজেই রুপান্তরিত হবে এনার্জিতে। তো কিভাবে পারবে মানুষ ? জানবার ক্ষমতা সীমাবদ্ধ