মৃততুর কাছাকাছি অনুভূতি- বিচিত্র এক বিষয়।
যত শুনি, যত দেখি, তত অবাক হই।
ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক
মাঝে মাঝে নিজেকে খুব বেশি রকমের অকর্মা লাগে। আজকেও। এলোমেলো, অকেজো, ঠুনকো। তারপর, ভাবি, কেন, কী কারণে আমি এই রকম? ভাবতে ভাবতে কখনো চলে যাই একটা অনুসিদ্ধান্তে- চিরতরে বদলে যায় যারা, তাদের জীবনে কোন একটা ভয়ানক শক থাকে। কারো নিয়ার ডেথ এক্সপেরিয়েন্স তো কারো পুরো পৃথিবীটা উলটপালট হওয়া কষ্ট। আমার জীবনে নেই। তারপরই ভাবি, আছে তো। নিয়ার ডেথ এক্সপেরিয়েন্স আছে। যা সব উলটপালট করে দিয়েছিল। তারপরও আমি পাল্টাইনি! অথচ তখন ভাবতাম, একবার, যদি স্বপ্নেও এমন হত, যে আমি বাঁচব, কী হত তখন! কীভাবে সাজাতাম নিজেকে...
ঠুমরির ঠোকাঠুকি শেষ। কাজের কথা শুরু।
প্যাটার্ন
নিয়ার ডেথ এক্সপেরিয়েন্স বা প্রায় মৃত অবস্থায় যারা পৌছেছে, তাদের ফেনোমেনা গ্লোবাল। বাংলাদেশের ভূত পেত্নি এক রকম, আর অ্যামেরিকার জোম্বি-ড্রাকুলা আরেক রকম হলেও, মরণের প্রায় দরজায় গিয়ে যারা ফিরে এসেছে, পুরো পৃথিবীতেই তাদের অনুভূতি প্রায় একই রকম।
এই গ্লোবাল প্যাটার্ন যখন থেকে খেয়াল করলাম, তখন থেকেই ভাবা শুরু, তার মানে মৃতপ্রায় অবস্থা থেকে যারা ফিরে আসে, তারা সবাই আসল অনুভূতিই বলে। আর অনুভূতিটা যত না ব্যক্তিগত, তারচে বেশি প্রাণীজ, অর্থাৎ সার্বিক।
প্রথমেই অক্সিজেন স্বল্পতা এবং...
গুলি খেয়ে, কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে, শ্বাস আটকে অথবা প্রাকৃতিক কারণে- যেভাবেই হোক, মৃতপ্রায় মানুষের সবারই একটা অবস্থার ভিতর দিয়ে যেতে হয়, তা হল, অক্সিজেন স্বল্পতা। অক্সিজেন সারা শরীরের কোষগুলোকে যেমন সজীব রাখে তেমনি নিউরনকে।
মস্তিষ্কর নানা খাঁজে খাঁজে, ভাঁজে ভাঁজে লুকানো থাকে তথ্য। এই তথ্য বা স্মৃতিকে আমরা হয়ত দশ ব্ছর ধরে ছুঁয়ে দেখিনি। কোন কোনটা কখনোই ছুঁয়ে দেখা হয়নি। কারণ খুব সিম্পল।
আমাদের ব্রেন হল ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস। হ্যা। সোজাসাপ্টা সার্কিটে গড়া সত্যিকার একটা ইলেক্ট্রিক মেশিন। কিন্তু তাতে জটিলতা আছে। ইলেক্ট্রিক একটা সিস্টেম যদি অনেক জটিল হয়, তাহলে সেটাতে কুল্যান্ট থাকতে হয়, লুব্রিক্যান্ট থাকতে হয়, শক অ্যাবজর্ভার থাকতে হয়, সেইসাথে থাকতে হয় কয়েক ধরনের ফুয়েল।
আমরা নিজেদের মনোসংযোগ এবং একাগ্রতা সেইসাথে প্র্যাকটিসের মাধ্যমে যেসব সেলগুচ্ছে ইলেক্ট্রিক ইম্পাল্স পাঠাই, সেগুলোই অ্যাকটিভ হয়, অন্যত্র থাকে সুপ্ত ডাটা। এই সুপ্ত স্মৃতি কিন্তু তার সাথে ব্যাকলিংক মারা কোন সাম্প্রতিক স্মৃতির সাথে যুক্ত হলেই সেই নির্দিষ্ট মস্তিষ্ক-কোষ তথা নিউরনের গুচ্ছে ইলেক্ট্রোকেমিক্যাল ইম্পাল্স শুরু হয়ে যায়। তখনি করিম সাহেবের চেহারা দেখলে তাঁর ভাই রহিম সাহেবের কথা মনে পড়ে। এছাড়া পড়ে না।
সাধারণ অবস্থাতেই শুধু ব্রেনে যে পরিমাণ ইলেক্ট্রনের প্রবাহ তথা কারেন্ট থাকে, তা দিয়ে নির্দ্বিধায় ২৫ ওয়াটের বাল্ব জ্বালানো যায়।
তো, এই মহান মস্তিষ্কের সমস্ত কর্মকান্ডের এক মূল চালিকাশক্তি হল অক্সিজেন।
ধারণা হল আজকে সন্ধ্যায়, মানুষ মৃততুর আগে আগে যে আগে-পরে বাদেই তার সারা জীবনের প্রায় সব তথ্য এলেবেলেভাবে এক সেকেন্ডেরও ভগ্নাংশে দেখা শুরু করে দেয়, তারপর কিছুক্ষণ দেখতে থাকে, এই বিশেষ ঘটনাটা এম্নি ঘটে না।
মানুষের মৃততুর সময় সবার আগে যে জিনিসটার অভাব হয়, তা হল ব্রেনের অক্সিজেন। ফলে, ব্রেনটা খানিক এলোমেলো হয়ে যায়। সে খুব দ্রুত তার ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন নিউরনকে জাগ্রত করে। বার্তা পাঠানো শুরু করে প্রতিটা নিউরন-গুচ্ছে। তার উদ্দেশ্য মাত্র একটা, সর্বত্র খবর পাঠাও, অক্সিজেনের অভাব হলে, আমরা নিউরনেরা মরতে বসলে কী করতে হবে তা এই লোকটা জানে কিনা, অর্থাৎ তার স্মৃতিগুচ্ছের কোথাও তা সংরক্ষিত আছে কিনা।
অথবা বিষয়টা এমনো হতে পারে, সব মিলিয়ে হিসাব করো, কীভাবে মুক্তি পেতে পারি...
আর তখনি, এক পলকে মাতৃগর্ভ থেকে শুরু করে এই মুহূর্ত পর্যন্ত নিতান্ত অপাঙক্তেয় স্মৃতিগুলোও চলে আসে পরিষ্কার ছবির মত।
(চলবে)
সলজ্জ আবদার
কোন রেফারেন্স নিয়ে লিখছি না। এম্নি। মন হালকা করার জন্য। ভুল হতেই পারে। ধরিয়ে দিলেই চলবে। আসলে আজকাল মন্তব্য দেখা বা জবাব দেয়া খুব কঠিন আমার জন্য। সবগুলো মন্তব্যই থাকবে, আলাপ আর কথাসহ। কিন্তু এটা শুধুই ব্যক্তিগত অপারগতা। কিছুদিন। তারপর সব প্রকাশ করে আলাপও হবে। প্লিজ, ডোন্ট টেক ইট আদারওয়াইজ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

