আপনি আমাকে চিনবেন না। আমি অতি অভাজন।
আপনি ছিলেন দেশের প্রধানমন্ত্রী। তাও একবার না, পর পর তিনবার। হয়তো ভবিষ্যতেও প্রধানমন্ত্রী হবেন। আমি একদম সাধারণ একজন। তবে অতি সাধারণ মানুষদের সাথেও মাঝে মাঝে প্রধানমন্ত্রীদের দেখা সাক্ষাৎ হয়। কখনও প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে ত্রাণ দেয়ার সময়, কখনও পরীক্ষায় ভাল রেজাল্ট করে পুরষ্কার নেয়ার সময়, কখনওবা কোন পদক টদক পেলে তার সামনে মাথা নিচু করে গলায় মেডেল গ্রহণের সময় ...
আমি সেই অতি সাধারণ মানুষদেরও নীচে ..এমন কোন ঘটনাই আমাদের মধ্যে ঘটেনি। তবে আমি আপনাকে চিনি, আপনার ছবি পত্রিকায় দেখি, আপনার বক্তব্য টিভিতে শুনি।
আপনার বড় ছেলে তারেককে যখন গ্রেফতার করা হয়, তখন পত্রপত্রিকায় অনেক কাহিনী বের হয়েছিল। আপনি তারেককে বাঁচানোর জন্য কীভাবে আপ্রাণ চেষ্টা করছেন। উনাকে যখন গ্রেফতার করে নিয়ে যাওয়া হয়, তখন আপনি কীভাবে কাঁদছিলেন, দোয়া পড়ে ফুঁ দিয়ে দিচ্ছিলেন - এমনকি তারেকের গাড়ির পেছন পেছন আপনি খালি পায়ে মইনুল রোডের রাস্তায় নেমে এসেছিলেন।
আমি সত্যিই কোন রাজনৈতিক দল করিনা। তবে কিছু কিছু রাজনৈতিক দলকে আমি পছন্দ করিনা। আপনার দলকেও না। কিন্তু তারপরও সেদিন আমার বুকটা কোন সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক কারণ ছাড়াই টন টন করছিল। হায় এমন কেন হয়!!!!
আপনি খুব জটিল একটা সময় পার করছেন। আপনার বড় ছেলে অসুস্থ, প্রিজল সেলে বন্দী। আপনি পারছেন না, তার কপালে আপনার স্নেহময় হাতটি রাখতে। আপনার আরেক ছেলে অসুস্থ হয়ে দেশের বাইরে। তার পাশেও থাকতে পারেছন না। জেলে থাকা অবস্থায় আপনার মা মারা গেল।
আমি এতোদিন টিভিতে, পত্রপত্রিকায় প্রধানমন্ত্রী, দেশনেত্রী, বিএনপি চেয়ারপারসন, জনদরদী বেগম খালেদা জিয়াকে দেখেছি। এই প্রথম একজন মানুষ খালেদা জিয়াকে দেখছি, ছেলের অসুখ হলেন যিনি উতলা হন, মা'র মৃত্যুতে যিনি কান্নাকাটি করেন।
আমাদের জীবনের কোন পরিচয় আসলে মুখ্য? একজন জাঁদরেল পুলিশ সারাদিন কাজ শেষ করে ঘরে ফেরে যখন ইউনিফর্ম ছেড়ে লুঙ্গি পড়ে তখন সে হয়ে যায় কারও বাবা,কারও স্বামী, কারওবা সন্তান।
সাংবাদিক বলেন, পুলিশ বলেন, আর্মি অফিসার বলেন , রাজনৈতিক নেতা বলেন, দিন শেষে সে একজন মানুষ!!!!
ম্যাডাম, রাজনীতি করতে গেলে অনেক বিচিত্র কান্ড কারখানা করতে হয়। পত্রিকায় পড়লাম বারাক ওবামার স্ত্রী জনগণের সাথে করমর্দন করতে করতে হাত মঁচকে ফেলেছেন।
তবে ম্যাডাম, আপনি ১৫ই আগস্ট নিয়ে যে কাণ্ডটি করেছেন- তা অতুলনীয়।
এইদিন একজন মানুষ সপরিবারে খুন হয়েছিলেন। তিনি জাতির পিতা না আপনার ভাষায় একজন ব্যর্থ রাষ্ট্রনায়ক, সে বিতর্কে যাবো না ( কেননা জাগ্রত মানুষের ঘুম ভাঙ্গানোর ইচ্ছা আমার নেই।) । তিনি একজন মানুষ। মানুষ অনেক বড় একটা ব্যাপার। মানুষ শব্দটা এতো বড়ো যে এটা উচ্চারণ করলে বুকটা আকাশের মতো বিশাল হয়ে যায়; পৃথিবীতে এর চাইতে বড় শব্দ আর একটিও নেই। সেই মানুষটা খুন হলেন, তাঁর স্ত্রী খুন হল, তার পুত্ররা খুন হল, বাদ পড়লো না তার অন্তসত্ত্বা পুত্রবধু এমনকি শিশু রাসেলও ...
এখন দেশ অনেক এগিয়ে গিয়েছে। এখন পুকুরের মাছ মেরে ফেললে, এমনকী বিনা কারণে একটা গাছ কেটে ফেললে - সেটার বিচার হয়, শাস্তি হয়। এতো বড় একটা হত্যাকাণ্ড - তার কোন সুষ্ঠু বিচার হল না, অপরাধীরা কোন শাস্তি পেল না, গোটা দুনিয়ার কাছে এটা চরম অবিশ্বাস্য একটা ব্যাপার।
বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর পর আমার জন্ম। তাকে আমি স্বচোক্ষে দেখিনি, ছবি দেখেছি, গল্প শুনেছি, বই পড়েছি। সারা বছর তেমন মনে না পড়লেও এই দিনে বড় কষ্ট হয়- আমার - আমাদের!!! আর ম্যাডাম, ঐতিহাসিকভাবে আপনি রাজনীতির অনেক কাছের মানুষ। আপনি নিশ্চয়ই তাকে ব্যক্তিগতভাবে চিনতেন!!! একজন মানুষ হয়েও , ম্যাডাম এই দিনে , আপনি কীভাবে জন্মদিনের কেক কাটতেন- সেটা জানার বড় সাধ হয়, ম্যাডাম।
অামার বিশ্বাস করতে বড়ো ইচ্ছে হয়, যিনি কেক কাটতেন, তিনি কেবল বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, তিনি তারেকের মা নন, তিনি জিয়াউর রহমানের স্ত্রী নন, তিনি তৈয়বা মজুদারের কণ্যা নন।
নানান কারণে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আপনাকে াািম পছন্দ করতে পারিনি। দয়া করে এই বার্থ ডে সার্কাস বাদ দেবেন কি? যাতে মানুষ হিসেবে অাপনাকে শ্রদ্ধা করা যায়???
এখন নিঃসঙ্গ কারাগারে অাপনার চামচারা অাপনার পাশে নেই। এখন তো শ্রেষ্ঠ সময় অামার চিঠিটি মনোযোগ দিয়ে পড়ার ....ভাবার .. মনে মনে এমন অনেক চিঠি নিশ্চয়ই পান ?
ইতি
একজন মানুষ
অাশীফ এন্তাজ রবি
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই আগস্ট, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:০২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



