প্রথম আলো ব্লগ হচ্ছে - এটা অসম্ভব আনন্দের খবর। এই আনন্দ নিয়ে প্রথম আলো ব্লগের নীতিমালা পাঠ করতে গিয়ে থমকে গেলাম। নীতিমালটি বেশ দীর্ঘ,শোচনীয় রকমের নিন্মমানের,অশ্লীল এবং হাস্যকর। বোঝা যায় , একাধিক পন্ডিত যথেষ্ট চিন্তাভাবনা করে এই নীতিমালাটি প্রণয়ণ করেছেন।
প্রথম আলো যেখানেই হাত দেয়, সেখানেই সোনা ফলে। কাজেই আমার ধারণা প্রথম আলো ব্লগটি খুবই সফল হবে। তবে সেজন্য একটি ‘ছোট্ট কাজ’ তাদের করতে হবে , সেটি হচ্ছে, এই নীতিমালাটি যারা প্রণয়ণ করেছেন, তাকে বা তাদেরকে স-সন্মানে টিম থেকে এখনই বের করে দিতে হবে। এটি খুবই জরুরী।
নীতিমালা পড়ে বোঝার উপায় নাই ,এটি কি শিশু একাডেমী থেকে প্রকাশিতব্য সরকারী কোন পত্রিকার নীতিমালা না স্বাধীন কোন ব্লগের নীতিমালা।
দু একটি নমুনা দেই- তাতেই বোঝা যাবে
নীতিমালা ১ ক .বাংলাদেশের প্রচলিত আইন লঙ্ঘন করে কোন কিছু লেখা প্রকাশ করা যাবে না।
এই বাক্যটির মানে কি? অনেক চেষ্টা করেও ধরতে পারলাম না। বাংলাদেশের প্রচলিত আইন এই শব্দবন্ধটি যথেষ্ট বিভ্রান্তিকর। পর পর তিনিট পরষ্পর বিরোধী শব্দ এখানে আছে।
প্রথমেই বাড়ি খেতে হয়, বাংলাদেশ এবং আইন এই শব্দ দুটি নিয়ে।
এর মাঝখানে যদি প্রচলিত শব্দটি বসে তাহলে তো কথাই নেই।
যতদূর ধরতে পারলাম, এর মানে হচ্ছে কোন নিরপরাধকে যদি র্যাব ধরে তাহলে সেটা নিয়ে লেখা যাবে না। কেননা সেটা আইন সন্মত না। আবার তাকে যদি ক্রস ফায়ারে মেরে ফেলে , তাহলেও তাকে নিয়ে লেখা যাবে না, কেননা সেটি আইন নয়, কিন্তু প্রচলিত আইন। একইভাবে সতীদাহ প্রথা, মাটিতে অর্ধেক পুঁতে পাথর নিপে, ফতোয়া- ইত্যাদি নিয়েও লেখা যাবে না। আলহামদুলিল্লাহ!!!
আর তাছাড়া বাংলাদেশের আইন কি কি আছে, সেটা জানাও জরুরী। এডভোকেট হওয়া ছাড়া কোন গতি নেই দেখছি। কিন্তু ১খ পড়েই আরও হতাশ হয়ে গেলাম। ১.খ নীতিমালাটি আবার দেশীয় এডভোকেটদের খারিজ করে দিয়ে লিখেছে।
এখানে বলা হয়েছে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে এমন কিছু লেখা যাবে না।
মানে লোকাল এডভোটেকদের ভাত নেই- হতে হবে ড. কামালের মতো আন্তর্জাতিকমানের আইনজীবি।
অনুরূপভাবে ২ এর ক,খ,গ আলোচনারও অযোগ্য। তবে ২ এর ঘ নীতিমালাটি নিয়ে দীর্ঘ চিন্তা ভাবনার অবকাশ আছে। এখানে বলা হয়েছে : প্রচলিত ধর্মীয় ব্যক্তি ও সামাজিক মূল্যবোধ অনুসারে শ্রদ্ধেয় কোন ব্যক্তিকে হেয় করে কোন কিছু লেখা যাবে না ....
শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিদের একটি তালিকা পেলে বড় ভালো হতো। প্রথম আলোর ব্লগের দৃষ্টিতে শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব কারা ? ফজলুল হক আমিনী না ফাহিম মুনাএম ? নাকি দুইজনেই ? নীতিমালা পড়ে তো মনে তো হয় বায়তুল মোকারমের খতিব থেকে শুরু করে ড. ইউনূস সবাই শ্রদ্ধেয় এবং সমালোচনার উর্ধে।
৩ এর ঘ নীতিমালাটি যে লিখছে তাকে ধরে চড়ানো দরকার। পুরো পারভার্ট না হলে এমন নীতিমালা বের হয় কি করে?
এখানে লেখা আছে - ব্লগে পোস্ট দিয়ে কোনো নারী বা পুরুষকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে প্রেম নিবেদন করা যাবে না। ব্যক্তিগত চিঠি দেয়া যাবে না।
ভাই, আর কি কি করা যাবে না?
এই যে আমি এখন ব্লগ লিখছি, বাসায় লুঙ্গি পড়ে ব্লগ লিখছি। আমার জানতে ইচ্ছে করছে ব্লগে লেখালেখি করার সময় লুঙ্গি পড়ে থাকা যাবে তো ?
আমার মায়ের জন্য বি পজেটিভ রক্ত লাগলে , সেটা লিখে ব্লগে সাহায্য চাওয়া যাবে না? নাকি সেটা লিখলে সেটি ব্যক্তিগত চিঠি হয়ে যাবে?
প্রেম, ভালবাসা সব ব্যানড? নীতিমালা প্রণয়নকারীদের এই ধারণা কেন হলো, যে ব্লগিং করতে এসে কেউ প্রেমে পড়ে যাবে। আবার যারা প্রেমের পড়বে, তাদের অভিভাবকত্বের দায়িত্বও কি তারা নিলেন নাকি?
শুভ কামনা

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

