somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জঙ্গি মিজানকে না মেরে গল্পটা শুনুন, কাজে আসবে ...

১৫ ই মে, ২০০৯ রাত ১১:৪০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

জঙ্গি মিজান ধরা পড়েছে।
এখন তার বিচার হবে।
এই দেশে দুই ধরণের বিচার হয়। প্রথম বিচার হচ্ছে, দীর্ঘ চুইংগাম বিচার। এটি বছরের পর বছর ধরে চলে। আজ মামলার ডেট পড়ে, কাল জামিন পায়, পরশু সাক্ষী খুঁজে পাওয়া যায় না, লোয়ার কোর্ট, আপার কোর্ট , বিচারপতির ব্রিবতবোধ- ইত্যাদি নানা সার্কাস। বাংলাদেশের শতকরা ৯৯ শতাংশ বিচারই এই ধরণের। দবির একজন নাবালক শিশু, তার বাবা মায়ের ডিভোর্স হয়ে গেছে, এখন সে কার কাছে থাকবে ? বাবার কাছে না মায়ের কাছে ? এই নিয়ে মামলা। মামলা যথা নিয়মে চলছে। আজ ডেট পড়ছে, কাল ডেট পিছাচ্ছে। মামলা চলার এক ফাঁকে দেখা গেল, দবির সাবালক হয়ে নিজেই মায়ের কাছে থাকছে, মায়ের সাথে রাগারাগি হলে কয়েকদিন গিয়ে বাবার সাথে কাটিয়ে আসছে। মামলার চূড়ান্ত সুরাহা ( যাকে বলে আপিল নিষ্পতি) হতে হতে দবিরের ছেলে কবিরের জন্ম হয়ে গেছে। এই হচ্ছে, বাংলাদেশে বিচার ব্যবস্থা।

তবে অন্য ধরণের বিচারও আছে, যেটাকে আমি দ্বিতীয় ধরণ বলছি। এটি হচ্ছে সুপারসনিক বিচার ব্যবস্থা। ( এর একটা গালভরা নামও আছে , দ্রুত বিচার আইন ) । এটিতে যা হওয়ার চট করে হয়ে যায়। যিনি বিচার চাইলেন, যিনি আসামী, বাদী, বিবাদী, বিচারক , সাক্ষী এবং আমজনতা কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই বিচার শেষ। বাংলাভাইদের ক্ষেত্রে যেটা হয়েছে। কে এই বাংলাভাই, তাকে কে বাংলাভাই বানালো, প্রশাসনের কার কার সহযোগিতায় সে বাংলাভাই হয়ে উঠলো, গোটা ঘটনার রাজনৈতিক এবং আর্থ সামাজিক প্রোপট বুঝে ওঠার আগেই বিচার, রায়, আপিল, নিষ্পতি এবং ফাঁসি।

জঙ্গি মিজানের ভাগ্যে- এই দুই বিচারের যেকোন একটি হবে। তার কপাল খুব সুপ্রসন্ন (?) হলে তৃতীয় আরেকটি ঘটনা ঘটে যেতে পারে। জিজ্ঞাসাবাদে সে জানাতে পারে - কোথায় সে অস্ত্র লুকিয়ে রেখেছে। র‌্যাব তাকে নিয়ে অস্ত্র তল্লাশে যেতে পারে, সেখানে আগে থাকতে ওৎ পেতে থাকা মিজানের সহযোগিরা অতর্কিতে র‌্যাবের উপর গোলাগুলি শুরু করতে পারে - তাতে ক্রস ফায়ারে আর কারও কোন বাল ছেড়া যাবে না- কেবল গুলিবিদ্ধ হয়ে মিজান পড়ে থাকবে রাস্তায়।


ঘটনা সেই দিকেই প্রায় মোড় নিচ্ছিল। গতরাতে মিজানকে নিয়ে র‌্যব বের হয়েছিল তার বাসায় অস্ত্র তল্লাশে। মিজানের বউ বোমা মেরেছে। এই মহিলার সেন্স অব হিউমারের প্রশংসা করতে ইচ্ছে করছে। এই মহিলা র‌্যাবের বানানো গল্প থেকে কোন আইডিয়া পেল কিনা কে জানে????


আমার অনুরোধ মিজানকে চট করে মেরে ফেলবেন না। বরং , আসুন , আমরা মিজানের গল্পটি শুনি। ছোটবেলায় সে কোন স্কুলে পড়েছ, ধর্মীয় ব্যাখা তাকে কে বুঝিয়েছে, সে কি কেবল বেহেশতের লোভেই এই পথে এসেছে নাকি এর পেছনে ছিল অন্য কোন হতাশা।

সে কি মাদ্রায় পড়েছে? তার কাছে কি মনে হয়েছে দেশে ইসলাম কায়েম হলে, সেই হবে হাকিম, তার জানা আরবী লাইনগুলিই হয়ে উঠবে - এই সমাজের শেষ কথা?

মিজানের বাবা কি মিজানকে মারতো ? মিজানের মা কি তাকে ঘুম পাড়ানি গান শোনানো ? সেই গান কি তার ভালো লাগতো ? মা যে গান গায়, সেই গান কি কখনো হারাম হতে পারে?



মিজানের নিজের মুখ থেকে মিজানের জঙ্গি মিজান হয়ে ওঠার গল্পটি শুনুন। এই গল্প নিয়ে সমাজ বিজ্ঞানী, শিক্ষাবিদ, ধর্মবিদেরা আলোচনায় বসুন। সমাজের কোথায় কোথায় ফাঁক, যে ফাঁক দিয়ে মিজান, মিজানের স্ত্রীর মতো জঙ্গিদের সৃষ্টি হয়, সেই ফাঁকগুলো বন্ধ করুন।

মিজান একটা প্রোডাক্ট। একটা প্রোডাক্ট ধ্বংস করলে, আরেকটি প্রোডাক্ট বাজারে আসতে বেশি সময় লাগবে না। যে সমাজ মিজান বানানোর ফ্যাক্টরি হয়ে উঠছে, সেই সমাজ সংস্কার আগে করুন।

এটাই বাংলাদেশকে বাঁচানোর একমাত্র উপায়।


সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই মে, ২০০৯ রাত ১১:৫৫
১৬০টি মন্তব্য ৩২টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×