আজ সড়ক দূর্ঘটনায় সরকারী দুই আমলা নিহত হয়েছেন। এই মৃত্যু নিয়ে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীকে বেশ উতলা মনে হল। মিডিয়াও যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে এই খবরটা প্রকাশ করছে। আজ এই মৃত্যুর ব্যাপার নিয়ে হৈ চৈ হবার কারণ মৃত দুইজনই বেশ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। আমাদের বাংলাদেশ নামক এই নৈরাজ্যে সড়ক দূর্ঘটনায় মানুষ মারা যাওয়াটা একদম পানিভাত। কেমন পানিভাত একটা উদাহরণ দেই। আজ যে দুজন মারা গেলেন , তাদের একজন বিসিকের চেয়ারম্যান। তার নিজের দুই মেয়ে কিছুদিন আগে সড়ক দূর্ঘটনায় মারা গিয়েছে। বুঝুন অবস্থা।
গোটা পৃথিবী জুড়ে মানুষ রোগ,ব্যাধি, জরা, দুর্যোগ ইত্যাদি জয় করছে। আর সেখানে বাংলাদেশের মানুষ ‘ স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি ’ চেয়ে আন্দোলন করছেন। পুরো বাংলাদেশ একটি নৈরাজ্যে পরিণত হয়েছে। আমাদের রাজনীতিবিদরা এই নৈরাজ্যের প্রধান কারিগর। পৃথিবীর সব দেশের মানুষই নানা কারণে মরে। তবে বাংলাদেশের মতো এতো সহজ, সুলভ, ব্যাপক, প্রতিকারহীন এবং নির্মম মৃত্যু আর কোথাও নেই। আমাদের দেশের মানুষ নানা কারণে মরে। ডাক্তারের ভুল চিকিৎসায় মরে। রাস্তায় বের হলে গাড়ির তলে পড়ে মরে। গাড়িতে থাকলে সেই গাড়িকে আরও বড় গাড়ি এসে মেরে যায়। লঞ্চে গেলে ওটা ডুবে যায়্। হেটে আসলে মলম পার্টির হাতে জীবন দিতে হয়। আর ঘরে শুয়ে থাকলে র্যাব গিয়ে তুলে নিয়ে অস্ত্র তল্লাশির জন্য। ফলাফল ঐ মৃত্যই ।
আমি শুনেছি, সড়ক দূঘটনার আইনটি নাকি বেশ মজার। ঘাতক ড্রাইভার যদি কাউকে আহত করে , তাহলে চিকিৎসার খরচ টানতে হবে। আর নিহত হলে খুব অল্প টাকার উপর দিয়ে পার পাওয়া যায়। আর আমাদের দেশের পরিবহন শ্রমিকরা বেশ শক্তিশালী। রাজনীতিবিদরা যে কেবল সন্ত্রাসী পোষেন তা না, তাদের পকেটে এইসব শ্রমিকরা থাকেন। এরা তাদের ভোট ব্যাংক। এই পরিবহন সেক্টরের চাঁদা বন্ধ হয়ে গেলে আগামী ঈদে অনেক রাজনৈতিক নেতা হজ্জ করতে যেতে পারবেন না, বরং তাদেরকে যাকাতের টাকার জন্য বসে থাকতে হবে। অবস্থা এতোই ভয়াবহ। পরিবহন শ্রমিকদেরও কোনও প্রশিক্ষণের বালাই নেই। ঘুষ দিয়ে এই দেশে ম্যাট্রিকের সার্টিফিকেট থেকে শুরু করে ড্রাইভিং লাইসেন্স পর্যন্ত পাওয়া যায়। ( বিআরটিএ নামক প্রতিষ্ঠানে ড্রাইভিং জানা লোকেরাও পাশ করতে পারে না, যদি না ঘুষের টাকা জায়গা মতো দেয়া হয়। এখানে উল্লেখ্য, ড্রাইভিং লাইসেন্সের ঘুষের রেট আট হাজার টাকা। তবে সেটি জায়গামতো না দিলে ঐ টাকা দিয়ে আপনি একটি জাল ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে পারেন। )
এই দেশে যার যেভাবে ইচ্ছা, সে সেভাবে চলছে। পুলিশ, প্রশাসন, বিচারালয়, পরিবহন সেক্টর, রাজনৈতিক দল, ব্যবসায়ী - কারও কোনও প্রকার জবাবদিহিতা নেই। তাদের কাজ একটাই সাধারণ মানুষকে শোষণ করা এবং শোষণ করতে করতে তাকে নিঃশেষ করে দেয়া। সাধারণ মানুষের কাজও একটাই। প্রতি পাঁচ বছর পর পর , এইসব গণশক্রুদের ভোট দিয়ে শোষণের পথ পরিষ্কার করে দেয়া। এই চক্র থেকে আমাদের মুক্তি নেই।
আমার ভালো লাগলো, আজ প্রধানমন্ত্রী সড়ক দূঘটনায় দুইজনকে দেখতে গিয়েছেন বলে। আমি চাই , সড়ক দূঘর্টনায় আরও কোনও বড় মহারথি মারা যান। যাতে প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, উপমন্ত্রী, সাংসদ, রাজনীতিবিদ, ওয়ার্ড কমিশনার, পরিবহন শ্রমিক নেতা- এদের সকলের টনক নড়ে। এদের হৃদয়ে সত্যিকারের রক্তক্ষরণ হয়। এরা যেন একটি বারের তরেও রক্ত মাংসের মানুষের মতো মানবিক হৃদয় নিয়ে ভাবেন, নাহ, যথেষ্ট হয়েছে, এবার এইসব বন্ধ করতেই হবে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



