somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সুপার ফ্লপ পোস্ট গরীবের কথা : দারিদ্রের লক্ষণ এবং প্রকরণ : গরীব মানুষের সমাজ এবং সমাজের গরীব মানুষ

১৭ ই এপ্রিল, ২০১১ দুপুর ১:৫২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গরীব মানুষের ব্যাপারে সমাজ অতি নির্দয়।

একবেলা না খেয়ে থাকা যত না কষ্টের, গরীবের প্রতি সমাজের এই নির্মম আচরণও আরও বেশি পীড়াদায়ক। ধর্ম, রাষ্ট্রযন্ত্র, গণতন্ত্র এবং সমাজ -সবার মূল দায়িত্ব হচ্ছে- গরীবকে আরও দমিয়ে রাখা। কেননা গরীব মানুষ ছাড়া সমাজ চলবে না। একজন মেথর যদি ধনী হয়ে যায়, তাহলে সমাজের গু পরিষ্কার করার কেউ থাকবে না। রাষ্ট্রে যদি গরীব মানুষ গিজ গিজ না করে তাহলে গণতন্ত্র মুখ থুবড়ে পড়বে। বন্ধু বান্ধবদের মধ্যে গরীব বন্ধু না থাকলে নতুন গাড়ি কিংবা ফ্ল্যাট কিনবার আনন্দ অনেকখানিই ম্লান হয়ে যায়।
ধর্ম আমাদের পরকালের স্বপ্ন দেখায়। ধর্ম দারিদ্র নিরসনের কোন পথ দেখায় না, সে কেবল গরীব মানুষকে সাত্ত্বনা দেয়। ধর্ম বলে , টাকা পয়সার দিকে না তাকিয়ে ধর্মের বেদীমূলে তোমার বাকী সর্বস্ব দিয়ে দাও। এদের গালে সজোরে চপেটাঘাত করেছেন এক বঙ্গসন্তান। স্বামী বিবেকানন্দ খুব স্পষ্ট বলে গেছেন, যে ঈশ্বর তোমাকে এখন ভাত কাপড় দিতে পারেনা, সেই ঈশ্বর তোমাকে স্বর্গে নিয়ে অমৃত খাওয়াবে- এটা বিশ্বাস করো না।
যে রাষ্ট্রে যত বেশি গরীব মানুষ থাকে, সেই রাষ্ট্রে গণতন্ত্র নিয়ে ততবেশি মাতম চলে। গরীব মানুষ লটারির টিকেট কেনে, জমি বেচে শেয়ার কেনে এবং পাঁচ বছর পর পর ভোট দেয়। তার উদ্দেশ্য একটাই - ভাগ্য পরিবর্তন। এবং বলাবাহুল্য, প্রতিবারই সে ঠকে। আরেক মহাপুরুষ অসাধারণ একটা কথা বলেছেন এ ব্যাপারে। বাংলা অতি দূর্বল ভাষা বলে কথাটার অনুবাদ করার সাহস পাচ্ছি না, পাছে ভাব নষ্ট হয়ে যায়। তিনি কনফুসিয়াস। বলেছেন :

In a country well governed, poverty is something to be ashamed of. In a country badly governed, wealth is something to be ashamed of.

গরীবের প্রতি কী কেবল রাষ্ট্রযন্ত্র কিংবা ধর্মই অসদাচরণ করে? আমরা সাধারণ মানুষরা কী করি? একবার নিজের বন্ধুদের কথা ভাবুন। দেখবেন আপনার বন্ধুদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি যে বড়লোক, তাকে আপনি খাতির করেন, কিন্তু ভেতর থেকে পছন্দ করেন না। এটা ঈর্ষা। আবার যে বন্ধুটি সবচেয়ে বেশি গরীব, তাকে তো আপনি দুই চোখে দেখতে পারেন না। এর কারণ কী ? আপনি নিজেও জানেন না, কেন আপনি তাকে পছন্দ করতে পারছেন না, কেন অযথা তার প্রতি আপনার সীমাহীন রাগ, ঘৃণা, অবহেলা , তাচ্ছিল্য। কারণ তার দারিদ্র। মজার ব্যাপার হচ্ছে দারিদ্রকে ধনীরা তো বটেই গরীবরাও পছন্দ করে না। হা হা হা। একজন কুষ্ঠ রোগী আরেক কুষ্ঠরোগীকে দেখে বিবমিষা বোধ করছে।
আমরা খুব সাধারণ মানুষরা গরীবদের সাথে খুব নির্দয় আচরণ করি, নিজের অজান্তেই করি। একটা বেদনাদায়ক অভিজ্ঞতার কথা বলি। একবার আমরা ১০/১৫ বন্ধু মিলে ঠিক করলাম, লালন মেলায় যাবো। পার হেড ২০০০ টাকা করে চাঁদা। আমাদের গ্রুপের মাত্র ১ জনের অবস্থা খুব খারাপ। দীর্ঘদিন তার কোন চাকরিবাকরি নেই। বন্ধুরা সবাই আমাকে ফোনে বলল, দেখা হলে টাকা দিয়ে দেবো, আপাতত তোমার পকেট থেকে খরচ করো। আমি দেদারছে খরচ করতে থাকলাম। শুধু ওই চাকরিবিহীন বন্ধুকে ফোন দিয়ে বললাম, ইয়ে মিজান, তোমার টাকা কখন দিবা ? টাকাটা না পেলে তো কিছুই করতে পারছি না। সে খুব বিব্রত হয়ে টাকাটা কোথাও থেকে জোগাড় করে আমার হাতে দিয়ে গেল। তারপর একটা মজার ঘটনা ঘটল। আমরা কুষ্টিয়া গিয়ে দেখলাম, সেখানে আমাদের থাকার ব্যবস্থা ফ্রি, খাওয়ার ব্যবস্থাও ফ্রি। শুধু যাতায়াত খরচ বাবদ আমাদের খরচ হলো ২০০০ টাকা। যেহেতু সব ফ্রি, কাজেই কেউ তার ভাগের টাকাটা দিল না। ঠকলো কেবল সেই হতদরিদ্র বন্ধুটি। তারই কেবল টাকা খরচ গেল। অন্যরা তার টাকায় ঘুরলো, ফিরলো।
ব্যাংকও কিন্তু একই আচরণ করে। তেলা মাথায় তেল দেয়। যার টাকার দরকার, তাকে টাকা দেয় না। যার দরকার নাই, তাকে সেধে দেয়। আমরা এক ছোটোভাই ব্যাংক থেকে কম্পিউটার কেনা বাবদ ৫০ হাজার টাকা লোন করে স্ত্রীর চিকিৎসা করেছিল। ব্যাংক কড়ায় গন্ডায় তার কাছ থেকে প্রতিটি পাই পয়সা আদায় করেছে। তার জিহবা বের হয়ে গেছে। তার দু একটি কিস্তি মিস হওয়ায়, ব্যাংক তাকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে এবং গালাগালিও করেছে। আমি সেই লোনের একজন গ্যারান্টার ছিলাম। আমাকেও ছিলে দিয়েছে bank। সালমান এফ রহমানের কাছে ব্যাংক কোটি কোটি টাকা পায় এবং তাকে দেখলে বাংলাদেশের সকল ব্যাংক ম্যানেজার চেয়ার ছেড়ে দাড়িয়ে যায়।

গরীব মানুষ হিসেবে আমি এইটুকু বুঝি, দারিদ্রের চেয়েও আমার বড়ো সমস্যা সমাজের নির্দয় আচরণ। সমাজ এতো নির্দয় ক্যানো?


( শত বাঁধার মুখেও -এই সিরিজ চলবে)

প্রথম পর্ব
৮টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×