somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রধানমন্ত্রী, আপনার কথা শুনলাম, এবার আমাদের ডিমের গল্পটি আপনাকে শুনতেই হবে

২৭ শে জুন, ২০১১ রাত ১:০৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর একটি খুবই কড়া লেখা বিডি নিউজে প্রকাশিত হয়েছে। সেই লেখার পাঠপ্রতিক্রিয়া এটি।



প্রধানমন্ত্রী, বলুন তো বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ আপনার কাছে কি চায়? তারা মাছ, মাংস, ঘি, পোলাও চায়না। তারা তাদের শুকনো ভাতে একটুখানি লবণ চায়। ব্যাস এতটুকুই। এবং প্রধানমন্ত্রী আপনি, আপনার পূর্বসুরী বেগম খালেদা জিয়া এবং তার পূর্বসুরী এরশাদ এবং তাদেরও পূর্বসুরীরা, সাধারণ মানুষের ছোটখাটো অতি সাদাসিধে চাহিদা পূরণে কতখানি সফল হয়েছেন, বলুন তো? আপনি একবার দয়া করে ঢাকার যেকোন সাধারণ গলিতে ঢুকুন। সামান্য বৃষ্টিতে রাস্তাঘাটের কী ভয়াবহ অবস্থা। কোন গর্ভবতী মা এই রাস্তা দিয়ে যেকোনো বাহনে গেলে তার গর্ভপাত হয়ে যাবে। গ্রামীণ ব্যাংকের পেছনের যে রাস্তাটা আছে, সেই রাস্তা ধরে, আপনি যদি মিনিট পাঁচেক যেতে পারেন, তাহলে আমার বাকী জীবন ধরে আমি ব্লগ, ফেসবুক এবং পত্রিকায় আপনার প্রশস্তি রচনা করে কাটিয়ে দেবো। আজ দীর্ঘ আড়াই বছরে আপনারা রাস্তা ঠিক করেন নি। আপনি কি করেছেন? নানাকাণ্ড করে গ্রামীন ব্যাংক থেকে ইউনূসকে হটিয়েছেন। এই কাজ করতে গিয়ে আপনার টীম যে সময়, মেধার অপচয় করেছেন, তার এক শতাংশ দিয়ে গ্রামীন ব্যাংকের পেছনের রাস্তার মতো ঢাকার সমস্ত রাস্তা মেরামত করে ফেলা সম্ভব। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, গ্রামীন ব্যাংক থেকে ইউনূস হটানো হয়তো জরুরী বিষয়। কিন্তু তারচে অনেক বেশি জরুরী বিষয় রাস্তাগুলো মেরামত করা।

মানুষের চাওয়া সামান্য। তারা চায়, তাদের গলিটা যেন ঠিক থাকে। একটা আধুনিক বিমানবন্দরের চেয়ে যার যার রাস্তাটা অনেক বেশি গুরুত্ব। অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে যানজট কমানো। বিগত বছরে আমরা কী দেখলাম? আপনি ঝাপিয়ে পড়লেন, আরেকটি আধুনিক বিমানবন্দর নির্মাণের কাজে। তারও আগে অনেক আয়োজন করে জিয়া বিমানবন্দরের নাম বদলে ফেললেন। সেই বিমানবন্দরের নাম বদলাতে কত টাকা খরচ হয়েছে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। আমি শুনেছি কয়েক শত কোটি টাকা। ব্যাপারটা কি সত্যি? জনগণের এই কয়েক শ কোটি খরচ করে, কী লাভ হয়েছে আমাদের বলেন তো?



প্রিয় প্রধানমন্ত্রী, বাজারে এক হালি ডিমের দাম কতো, সেটি জিজ্ঞাসা করার ধৃষ্টতা আমার নেই। আমি বরং আপনাকে একটা ডিমের গল্প করতে পারি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স করা আমার এক ছোটভাই গত সপ্তাহে ফোন দিয়ে আমাকে বলল, ভাই, একটা নিউজ করেন, একটা ডিমের দাম ৭ টাকা। আমি খামু কি?

ছেলেটার নাম জাকির। চাকরি এখনো জোগাড় করে উঠতে পারেনি, প্রাইভেট টিউশনিই ভরসা। দিনে একবেলা সে ডিম দিয়ে ভাত খায়। যেদিন ফোন দিয়েছিলো, সেদিন থেকে সেই ডিমটিও তার সাধ্যের বাইরে চলে গেছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি লিখেছেন, জাতীয় প্রবৃদ্ধি বেড়ে ৬.৭ হয়েছে। তা আপনি যেহেতু বলেছেন, হয়তো হয়েছে। এতো জ্ঞানীগুণী, স্যুটটাই পড়া আপনার উপদেষ্টামন্ত্রীদের কথা তো মিথ্যা হতে পারেনা। কিন্তু আমাদের জাকির জাতীয় প্রবৃদ্ধি বোঝেনা। সে দিনে অন্তত একবেলা ডিম দিয়ে ভাত খেতে চায়। জাতীয় প্রবৃদ্ধি বেড়ে আকাশ ফুড়ে মহাকাশে চলে যাক , তাতে জাকিরের কিছুই আসে যায়না। আমাদেরও কিছুই আসে যায়না। পরিসংখ্যান দিয়ে জীবন চলে না মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। জাতীয় গ্রিডে উৎপাদন বেড়েছে, প্রবৃদ্ধি বেড়েছে , কোটি কোটি মেট্রিকটন খাদ্য উৎপাদন হয়েছে , বাজেটের স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বেড়েছে, এইসব কথা শুনতে আর ভালো লাগেনা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী।

স্বাস্থ্যখাত নিয়ে আরেকটা ছোট্ট ঘটনা বলি? গত বৃহস্পতিবার বারডেম হাসপাতালের দোতলায় দুপুর তিনটা থেকে রাত সাড়ে দশটা পর্যন্ত উচ্চ শব্দে কনসার্ট এবং উদ্দাম নাচগান হয়েছে। কর্মচারী ইউনিয়ন এই কান্ডটি করেছে। জ্বী, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, এটি হয়েছে একটি হাসপাতালে, ডায়বেটিক রোগীদের একমাত্র আশ্রয়স্থলে। বিজয়ী কর্মচারী গাননাচের মাঝখানে জয় বাংলাসহ আপনার নামে স্লোগান দিচ্ছিলেন। যেসব ভুক্তভোগী রোগীরা হাসপালাতের বিছানায় শুয়ে দিনভর এই যন্ত্রণা সহ্য করেছেন এবং আপনার নামে স্লোগান শুনেছেন, তারা কোনদিন আপনাকে ভোট দেবে না, এটি আমি মোটামুটি নিশ্চিত। কাজেই, গণমাধ্যমসহ নানা জায়গায় যারা আপনার সমালোচনা করে, তারা আপনার শত্রু নয়। বরং যারা আপনার নামে যত্রতত্র আকাশফাটিয়ে এখন স্লোগান দিচ্ছে, তারা আপনার কতখানি উপকার করছে, একটু ঠান্ডা মাথায় ভেবে দেখবেন।

সবশেষে আপনাকে ধন্যবাদ, আপনি লিখেছেন বলে। দুই বছর আগে আপনাকে উদ্দেশ্য করে আমি একটি ব্লগ লিখেছিলাম , যার মূল বাণী ছিল, আসুন প্রধানমন্ত্রী ব্লগিং করি। ডিজিটাল বাংলাদেশে স্বপ্নদ্রষ্টা যিনি , তিনি তো ইচ্ছে করলেই মাঝে মাঝে এভাবে লিখতে পারেন। তাতে কিছু মানুষের সাথে মিথষ্ক্রিয়া তো হয়। আপনার জানা প্রয়োজন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আমার লেখা সেই ব্লগটি বাংলা ভাষায় সর্বোচ্চ পঠিত ব্লগ। অর্থাৎ আমার সেই দাবীর প্রতি মানুষের সমর্থন ছিল। কাজেই, আসুন, মাঝে মাঝে আমরা এভাবে কথা বলি। আপনার কথা আমরা যেমন শুনলাম, আমাদের কিছু কিছু কথা আপনি একটু শুনুন। ডিজিটাল শব্দটার মহাত্ন কিন্তু এখানেই। আবারো ধন্যবাদ।
৭০টি মন্তব্য ৩৪টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিলেন মমতার দলকে?

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:২২


শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিয়েছেন মমতা ব্যানার্জিকে। কিভাবে? দুই দফায় পানিচুক্তি হতে দেননি মমতা। কংগ্রেসের মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন এবং বিজেপির Narendra Modi প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন দুবার দুজনই বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন, দুবারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×