somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... জার্মান ভিসা এবং আমাদের শুটিং দল ঠিক দুপুর বেলায় চোখের সামনে আমার বাবা স্ট্রোক করলেন। তাকে বারডেম হাসপাতালে নিয়ে ফেলা হলো। বারডেমের ইমাজেন্সিতে বাবা শুয়ে আছেন। ডাক্তাররা তেমন পাত্তা দিচ্ছেন না। তারা ভীষণ ব্যস্ত। কে যেন একগাদা ফজলি আম নিয়ে এসেছে, ডাক্তাররা খুবই উৎসাহ নিয়ে সেই আম খাচ্ছেন। রোগী দেখার সময় কোথায়? ]]> http://www.somewhereinblog.net/blog/RABI08/29486868 http://www.somewhereinblog.net/blog/RABI08/29486868 2011-11-20 12:59:26 জার্মান ভিসা এবং আমাদের শুটিং দল ( ব্যাডভেঞ্চার : পর্ব ১ ) কিছুদিন গিয়া মর্দ রওনা হইলো



১.
ধোঁয়ার পেছনে যেমন আগুন থাকে, তেমন মধ্যবিত্তের প্রতিটি বিদেশভ্রমণের পেছনে থাকে নানান গল্প। অনেক সময় দেখা যায়, মূল ভ্রমণকাহিনীর চাইতে পেছনের গল্পগুলি বেশি উপাদেয়।
তখন মধুমাস।

ঠিক দুপুর বেলায় চোখের সামনে আমার বাবা স্ট্রোক করলেন। তাকে বারডেম হাসপাতালে নিয়ে ফেলা হলো। বারডেমের ইমাজেন্সিতে বাবা শুয়ে আছেন। ডাক্তাররা তেমন পাত্তা দিচ্ছেন না। তারা ভীষণ ব্যস্ত। কে যেন একগাদা ফজলি আম নিয়ে এসেছে, ডাক্তাররা খুবই উৎসাহ নিয়ে সেই আম খাচ্ছেন। রোগী দেখার সময় কোথায়?

আমি সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে হালকা প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করলাম। বুঝলাম, ডাক্তাররা সব সাংবাদিক পোছেন না। যাদের ‘ফেসভ্যালু’ আছে, কেবল তাদেরকেই তারা সময় বিশেষে গুরুত্ব দেন। অবশ্য ‘ফেসভ্যালু’ কি জিনিস আমি আজও বুঝে উঠতে পারলাম না। তবে আমার কিছু বন্ধু যাদের ফেসভ্যালু আছে বলে লোকমুখে শুনেছি। যেমন এভারেস্টজয়ী মুসা ইব্রাহীম, টিভি সাংবাদিক নওরোজ ইমতিয়াজ, প্রথম আলোর ফটো সাংবাদিক , যিনি সবসময় বিশাল বিশাল ক্যামেরা নিয়ে ঘোরেন , সেই জিয়া ইসলাম- । আমি দেরী না করে এদেরকে ফোন দিলাম। এরা আমার মতো অভাজনকে বন্ধু জ্ঞান করে হাসপাতালে ছুটে এলেন।

সন্ধ্যার দিকে ডাক্তাররা ঘোষণা করলেন, রোগী আশংকামুক্ত।
আমরা হাফ ছেড়ে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে এলাম চা খাবার জন্য। চায়ে চুমুক দিয়ে সিগারেট ধরিয়েছি । সেই সময় সিমু নাসের এলেন। বেচারা জার্মানিতে একটি স্কলারশিপ পেয়েছেন। কয়েকদিন পরেই মাস দেড়েকের জন্য জার্মানি চলে যাবে, এখন কাগজপত্র গুছাচ্ছেন, সেটি নিয়ে তিনি দারুন ব্যস্ত। এজন্য হাসপাতালে আসতে তার দেরী হয়েছে।

বাবা হাসপাতালের বিছানায় শূয়ে, তার চিকিৎসা চলছে ধারের টাকায়, অনিশ্চিত একটা সময়, তবু সেই ভর সন্ধেবেলায় আমার মনে হলো, সবাই মিলে জার্মানি বেড়াতে গেলে মন্দ হয়না। এটাকে গরীবের ঘোড়ারোগ বললে কম বলা হয়, এটি ঘোড়াক্যান্সার। একটা সিগারেটে দীর্ঘ টান মেরে সবাইকে বললাম, শোন, তোদের সবাইকে তো একসাথে পাওয়া যায়না। আজ যখন সবাইকে পাওয়াই গেলো, আমার একটা প্রস্তাব আছে। চল, সবাই মিলে জার্মানি বেড়িয়ে আসি।

এইসব ক্ষেত্রে যা হয়, ব্যাপারটি নিয়ে খানিকণ হাসাহাসি হলো। তারপর আমরা প্রসঙ্গান্তরে চলে গেলাম।

পরদিন দুপুরবেলায় বন্ধু জুয়েল আমাকে ফোন দিলো। তুমি যে কাল সন্ধ্যায় বললা সবাই মিলে জার্মানি যাবা, আমার জার্মানি যেতে কোনো সমস্যা নেই , কিন্তু যাবো কীভাবে? তোমার প্ল্যানটা কি ? জার্মানির ভিসা পাবে কিভাবে ? জার্মানি ঘুরে আসতে তো অনেক টাকা লাগবে, সেটাই বা কোথা থেকে আসবে। তোমার প্ল্যানটা বলো শুনি।
জুয়েল ব্যাংকার। কাজেই আমি সাথে সাথে বললাম, আমার প্ল্যান হচ্ছে , তোমার ব্যাংক থেকে লোন নেয়া। সেই লোনের টাকা দিয়ে আমরা ঘুরে আসলাম। তারপর জার্মানি থেকে ফিরে আস্তে আস্তে লোন শোধ করলাম।
জুয়েল ফোন রেখে দিলো।

এর মধ্যে মনে মনে আমি প্ল্যান গোছাতে শুরু করেছি। গত বছর জার্মানি গিয়েছিলাম, কাছেই নেদারল্যান্ড। সেখানেও গিয়েছি। ওখান থেকে প্যারিসও বেশি দূরে নয়। আচ্ছা একটা কাজ করলে কেমন হয়? কারও কাছ থেকে টাকা ধার নিয়ে একটা টিভি ক্যামেরা ভাড়া করে জার্মানি চলে গেলাম। এর আশেপাশের দেশগুলিতেও ঘুরলাম। ভিডিও করলাম। তারপর সেই ভিডিও জোড়াতালি দিয়ে একটা ট্রাভেল শো বানিয়ে টিভিতে বেঁচে দিলাম। সেই বিক্রির টাকা দিয়ে ধার শোধ করলাম। যে টাকা বাঁচবে সেটাই নিট লাভ। আর টিভিতে সেই অনুষ্ঠান প্রচার হলে আমি নিশ্চয়ই তারকা হয়ে যাবো। ফলে এক ঢিলে তিনটি পাখি শিকার করা যাবে- বিদেশভ্রমণ, নগদপ্রাপ্তি এবং তারকাখ্যাতি।

গরমকাল। আইপিএস নষ্ঠ হয়ে গিয়েছে বলে রাতে ফ্যান চলে না। আমি লোডশেডিংয়ের রাতে বিছানায় শুয়ে ঘামতে ঘামতে টাকা, ইউরো ট্রিপ আর তারকা হবার স্বপ্ন দেখি, আর উত্তেজনায় বিছানায় উঠে বসি।
আমার এই পাগলামিকে যথারীতি জুয়েল সমর্থন দিলো। তার কাছেও মনে হল, এটি শতাব্দীর সেরা ব্যবসায়িক আইডিয়া। আমি, জুয়েল এবং সিমু নাসের মিলে প্রোডিউসার খোঁজা শুরু করলাম।
সাইফুল ভাইয়ের সঙ্গে সেই সময় আমার পরিচয়। তিনি বিনোয়োগ করতে রাজি হলেন। এরই মধ্যে সিমু নাসের তার স্কলারশিপ নিয়ে জার্মানিতে পাড়ি জমিয়েছেন এবং আমাদের সঙ্গে সকল প্রকার যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছেন।

অতএব এক সকালে আমি, জুয়েল এবং সাইফুল ভাই- তিনজনে জার্মান এম্বেসিতে হাজির হলুম। আমি এই ট্রাভেল শোর পরিচালক, জুয়েল ক্যামেরাম্যান এবং সাইফুল ভাই প্রযোজক।
এম্বেসি আমাকে শুধালো, তুমি ট্রাভেল শো করার জন্য জার্মানি যেতে চাও।
আমি লাজুক হেসে বললাম, হ্যাঁ।

- এর আগে কখনো কোনো ট্রাভেল শো বানিয়েছো ?
- না।
- তোমার সাথে বাকী দুইজন কে?
আমি জুয়েলকে দেখিয়ে বললাম, উনি ক্যামেরাম্যান, উনিই ট্রাভেল শোতে ক্যামেরার কাজ করবেন।


জুয়েলকে ডেকে জিজ্ঞাসা করা হলো, তুমি কি করো?
জুয়েলের সপাটে বলল, আমি ব্যাংকার।
- চমৎকার। তাহলে এই টিমে তোমার কাজ কি?
- ক্যামেরা চালানো।
- তুমি কি ব্যাখা করবে, তুমি পেশায় একজন ব্যাংকার অথচ তুমি জার্মানি যেতে চাচ্ছো একজন ক্যামেরাম্যান হিসেবে, একটা প্রফেশনাল কাজে। তুমি ক্যামেরা চালাতে পারো?
জুয়েলের এবার ঘাবড়ে গিয়ে উত্তর দিল, পারি।

- আগে কখনো ক্যামেরা অপারেট করেছে?
- হ্যাঁ করেছি।
- কোথায়?
- আমার ভাগ্নির গায়ে হলুদে।

যাই হোক, আমাদের এম্বেসির ইন্টারভিউ পর্ব একসময় শেষ হলো। সকলেই অত্যন্ত হতাশ। সবচেয়ে হতাশ সাইফুল ভাই। তিনি এই প্রোগ্রামের প্রোডিউসার। ইউরোপের ভিসার জন্য অনেক কিছু দাখিল করতে হয়, রিটার্ন টিকেট, হেলথ ইন্সুরেন্স, ভিসা প্রসেসিং ফি - ইত্যাদি। বড় অংকের একটি টাকা তার পকেট থেকে বেরিয়ে গেছে। ফলস্বরূপ পরিষ্কার বোঝা গেছে - ভিসা আমাদের কপালে নেই।

যেদিন ভিসার ইন্টারভিউ এবং পাসপোর্ট জমা দিতে গিয়েছিলাম - সেদিন সাইফুল ভাই আর জুয়েল স্যুট টাই পড়ে গিয়েছিলেন, যাতে বোঝা যায় আমাদের টাকা পয়সা আছে। শুধু তাই নয়, সাইফুল ভাই নিয়ে গিয়েছিলেন তার সদ্য কেনা গাড়ি। জুয়েলও তার কোনো এক ভাগ্নিকে পটিয়ে আরেকটি দামী গাড়ি হাকিয়ে এম্বেসিতে গিয়েছিলো।

কয়েকদিন পর পাসপোর্ট ফেরত আনতে গেলাম। গুলশান এক নম্বরে তিনজন মিট করলাম। দেখলাম দুইজনেই টি শার্ট আর স্যান্ডেল পড়ে এসেছেন এবং দুজনের কেউই গাড়ি আনেননি। সাইফুল জানালেন, তেল খরচ কইরা কি লাভ । আমি তো দেখছি পুরাই লস প্রজেক্ট।
অতঃপর আমরা তিনজন একটা রিকশায় উঠে বসলাম। যেহেতু আমার জন্যই সবাই ধরা খেয়েছে, সেই শাস্তি স্বরূপ আমাকে রিকশার উপরে বসানো হলো।

গুলশান এক থেকে জার্মান দূতাবাসের দিকে যাচ্ছি। একটু আগে বৃষ্টি হয়েছে বলে পরিষ্কার স্বচ্ছ আকাশ।
আমরা এম্বেসিতে ঢুকলুম। ঢুকেই শুনি ভিসা কাউন্টারের মাইক্রোফোনে আমার নাম ডাকা হচ্ছে। কিম আশ্চর্যম! মহান জার্মান দূতাবাস আমাদের তিনজনকেই এক মাসের মাল্টিপল ভিসা দিয়েছে। এটি সেনজেন ভিসা। এই ভিসায় গোটা ইউরোপ ঘোরা যাবে।

ভিসা পাওয়া মাত্র জুয়েল একের পর এক ফোন দিতে শুরু করলো। সর্বশেষ হিসাবে দেখা গেছে, ঢাকা শহরে জুয়েলের ভাগ্নির সংখ্যা পৌনে তিন হাজার। সবাইকে ফোন দিতে হবে।
সাইফুল ভাইও কাকে যেন ফোন দিয়ে বলছেন, কয়েকদিন কেমন যেন বোর লাগছে। ভাবছি, এবার ঈদে একটু ইউরোপ ঢুঁ মেরে আসবো। দেখি একটু চেঞ্জে গিয়ে, জীবনের চেঞ্জের দরকার আছে, তাই না?

সবার দেখাদেখি আমিও ফোন দিলাম। ট্রাভেল এজেন্সিতে। আমাদের জার্মানির তিনটি টিকেট দরকার।

( চলছে, চলবে )

গত পর্ব ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/RABI08/29486472 http://www.somewhereinblog.net/blog/RABI08/29486472 2011-11-19 20:58:14
ব্যাডভেঞ্চার : ভূমিকা কথায় আছে, বাঙালি মাগনা পেলে আলকাতরাও খেয়ে ফেলে। আমি আবার জাতে মাতাল এবং বাঙালি- উভয়ই। কাজেই আমার জন্য বিমানযাত্রা - শশুরবাড়িতে যাওয়ার আনন্দের চাইতে কোনো অংশে কম নয়। বিমান তখনো আকাশে সোজা উড়তে শুরু করেনি, এরই মধ্যে আমি দু বোতল ওয়াইন শেষ করে ফেলেছি। ]]> http://www.somewhereinblog.net/blog/RABI08/29485933 http://www.somewhereinblog.net/blog/RABI08/29485933 2011-11-18 22:10:20 ব্যাডভেঞ্চার : ভূমিকা ভূমিকা

রোম এয়ারপোর্ট থেকে প্লেনে উঠেছি। যাবো ইস্তামবুল, তুরস্ক। দীর্ঘ, একঘেয়ে, কান্তিকর বিমান ভ্রমণ। তবে একঘেয়ে বিমানযাত্রা বিনোমুখী করার নানান ব্যবস্থাও আছে। বিমানে বসে গাদাখানেক সিনেমা দেখা যায় এবং প্রচুর খানাপিনার আয়োজনও থাকে। বিশেষ করে পিনার আয়োজন বেশ সন্তোষজনক। নানান পদের মদ্যপানের সুব্যবস্থা আছে, বিনামূল্যে।

কথায় আছে, বাঙালি মাগনা পেলে আলকাতরাও খেয়ে ফেলে। আমি আবার জাতে মাতাল এবং বাঙালি- উভয়ই। কাজেই আমার জন্য বিমানযাত্রা - শশুরবাড়িতে যাওয়ার আনন্দের চাইতে কোনো অংশে কম নয়।

বিমান তখনো আকাশে সোজা উড়তে শুরু করেনি, এরই মধ্যে আমি দু বোতল ওয়াইন শেষ করে ফেলেছি। বোতলগুলো সাইজে বেশ ছোট ছিল। অবশ্য নিন্দুকেরা বলবে, বোতলের সাইজ ঠিক আছে, তোমার জিহবাই বরং ...
যাই হোক, আমি হ্যাংলা নই। কেবল হতচ্ছাড়া বোতলগুলো সাইজে ছোট হওয়ার কারণেই সুবেশি বিমানবালাদের কাছ থেকে আমি কিছুক্ষণ পর পর ওয়াইনের বোতল চেয়ে নিচ্ছি।

বিমান তখন মাঝরাস্তায় - এমন সময় এক কাণ্ড হলো। পেটে অলরেডি ছয় বোতল সুপেয় ওয়াইন নিরাপদে পৌছে আমার সাথে ইস্তামবুলের দিকে যাচ্ছে। সিটের সামনে একটা খাবারের ট্রে আছে, সেখানে আরও চার বোতল মজুদ রয়েছে। তবুও মনে হচ্ছে , দীর্ঘ যাত্রায় এই স্টক খুবই সামান্য, সমুদ্রে আধা লিটার পানির মতো। বিমানবালারা যেরকম ব্যস্ত ভাব দেখাচ্ছে, পরে আবার বোতল চেয়ে পাই কিনা - কে জানে। অনেকণ ধরে বেল বাজাচ্ছি, এয়ারহোস্টেসের দেখা নেই। ঠিক সেই সময়ই আমার সিটের পাশ দিয়ে দারুন সুবাস ছড়িয়ে জনৈক বিমানবালা যাচ্ছিলেন। আমি লাফ দিয়ে, হাতছুড়ে বলে উঠলাম, এই মেয়ে আমাকে আরও দুটো বোতল দিয়ে যাও। উত্তেজনার চোটে হাতটা বোধহয় বেশি জোরেই ছুড়েছিলাম। হাতের ধাক্কার খাবার ট্রে গেলো উল্টে । ফলে সেখানে মজুদ করে রাখা ওয়াইনের মুখখোলা ছোট ছোট বোতলগুলো নিমিষেই ছিটকে শূণ্যে উড়ে গেল। আমি ভিজলাম, আমার পাশে বসা শ্রদ্ধেয় বড় ভাই সাইফুল আজিমও ভিজে গেলেন , আশেপাশে আরও জনাচারেক মানুষ বিশুদ্ধ ওয়াইন দিয়ে প্রায় গোছল সেরে ফেললেন। আমি মরমে মরে গেলাম, বিশেষত, এই ওয়াইন ভেজা যাত্রীদের মধ্যে একজন সাচ্চা ধার্মিক মুরুব্বিও ছিলেন, যিনি হালাল খাবার , হালাল খাবার, বলে কিছুক্ষণ আগেও এয়ারহোস্টেসের সাথে ক্যাঁচক্যাচ করছিলেন।
সঙ্গে সঙ্গেই দুইজন বিমানবালা ঘটনাস্থলে ছুটে আসলে। গভীর মমতা এবং পাতলা টিস্যু পেপার দিয়ে আমাদেরকে গা থেকে ওয়াইন মুছে ফেলার চেষ্টা করলেন।

ঘটনাটা মিটে যাবার কিছুক্ষণ পর - আমি বেল টিপে বিমানবালাকে ডাকলাম। এরপর তার সঙ্গে আমার নিন্মলিখিত কথপোকথন হলো। সেই কথপোকথনের কোনো প্রকার তাফসির ছাড়া কেবল বাংলা তরজমাটুকু তুলে দিলুম।


- হে তরুনী, অনুগ্রহ করে দু বোতল ওয়াইন দিয়ে যান।
- স্যার, আমি অত্যন্ত দুঃখিত। ওয়াইন শেষ হয়ে গেছে।
- ও আচ্ছা , খুবই হতাশাব্যঞ্জক ঘটনা। ঠিক আছে, তাহলে স্কচ হুইস্কি দিন।
- হুইস্কিও নেই স্যার, শেষ।
- বলেন কি? পবিত্র গরু। খুবই আহত হলাম শুনে । ঠিক কাছে , একটা কিছু দিন, ভদকা, জিন অথবা রাম ..
- স্যার, আমি অত্যন্ত মর্মাহত এবং লজ্জিত। ভদকা, জিন, রাম- সবই শেষ।
- ঠিকাছে- কিছুই লাগবে না। দয়া করে একটা হ্যানিকেন বিয়ার দিয়ে যান।
- স্যার বিয়ারও শেষ।

এবার আমার মাথা টং করে উঠলো। খেপে গিয়ে বললুম, কি সর্বনাশ। এখনও অর্ধেক পথ আসলাম না, এর মধ্যে সব শেষ । আমার তো মনে হয়, তোমরা ‘লিকুইডিটি’ ক্রাইসিসে ভুগছো। টয়লেটে গিয়ে হয়তো দেখবো পানিও শেষ। তোমার পাইলটকে বলো প্লেনের তেল শেষ হয়ে গেছে কিনা চেক করে দেখতে ? শেষ হয়ে থাকলেও কোনও সমস্যা নাই, আমাকে একটা প্যারাসুট দিয়ে যাও। নাকি প্যারাসুটও শেষ ?


এবার তরুণী চোখ পাকিয়ে বললো, স্যার, আপনাকে কোনো কিছুই সার্ভ করা যাবে না, ড্রিংক কিংবা প্যারাসুট। কেননা, আপনি আউট অব কন্ট্রোল।


একটি বিখ্যাত এয়ারলাইন্সের সুপ্রশিক্ষিত , অভিজ্ঞ এয়ারহোস্টেট বলেছেন, আমি আউট অব কন্ট্রোল। কথাটা আমি তাৎণিকভাবে মেনে নিলাম। রূপবতী নারীদের কথা মেনে না নেয়ার মতো মেষবালক আমি নই।

কাজেই এই ভ্রমণকাহিনীতে যা লিখেছি , অনুগ্রহ করে সেইসব লেখাকে কেউ সিরিয়াসলি নেবেন না। এটি একজন ' আউট অব কন্ট্রোল' ব্যক্তির ব্যক্তিগত অনুভূতি। যারা শিল্পসম্মত রুচিকর জীবনবোধের লেখা পড়ে অভ্যস্ত, তাদের জন্য এই ভ্রমণকাহিনীটি স্পর্শ না করার হবেই বুদ্ধিমানের কাজ। আর যারা পড়েই ফেলবেন ভুল করে, তারা দয়া করে, লেখাগুলোকে সিরিয়াসলি নেবেন না।

এই আমার বিনীত অনুরোধ।

ভবদীয়
আশীফ এন্তাজ রবি
মিরপুর, ঢাকা।
১৭ নভেম্বর ২০১১


(চলিবে, আগামী পর্বে চোখ রাখিতে পারেন।)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/RABI08/29485534 http://www.somewhereinblog.net/blog/RABI08/29485534 2011-11-18 04:47:27
আমি হুমায়ূন আহমেদ হতে চেয়েছিলাম ঢুকতে হবে না, এখানে ক্লিকান। ]]> http://www.somewhereinblog.net/blog/RABI08/29482334 http://www.somewhereinblog.net/blog/RABI08/29482334 2011-11-13 11:36:59 আমি হুমায়ূন আহমেদ হতে চেয়েছিলাম


কবি কেবল আমাকে একা মারেনি, প্রকাশক খালেদকেও মেরেছিলো। আমি আর উপন্যাস লিখিনি, খালেদও বই প্রকাশ করেনি। ‘কবি’ মেরেছিলো আরও অনেককেই। অধিকাংশই স্বীকার করেন না, করবেনও না। কিন্তু আমি বুদ্ধিমান না হলেও বোকা নই। কাজেই লিখতে হবে, লিখে যাবো কিন্তু বই বিক্রি ? স্যার থাকতে ? অসম্ভব। লেখক হিসেবে আমাকে অন্য পাড়ায় গিয়ে মস্তানি করতে হবে, হুমায়ূন আহমেদ থাকতে এ পাড়ায় মাস্তানির কথা চিন্তাও করা চলবে না দাদা, সে আমি বুঝে গিয়েছিলুম ঢের আগে, সেই ৯৫ সালেই।



সাংবাদিকতার সূত্রে অনেক কবি, সাংবাদিক, সাহিত্যিকের সাথে মৃদু ঘনিষ্টতা হয়েছে আমার। আমি এমন কোনও মাছ দেখিনি , যেটি পানি ছাড়া সাঁতার কাটে। এমন কোনও বঙ্গীয় সাহিত্যিক দেখিনি যিনি হুমায়ূন আহমেদকে গালি না দিয়ে জলস্পর্শ করেন কিংবা জলস্পর্শ শেষে হুমায়ুন আহমেদকে ঝেড়ে গালাগাল করেননা। সস্তা লেখক, চটুল সাহিত্য, মেয়েভোলানো লেখা , আরও কত কিছুই যে শুনেছি এবং শুনে আসছি হুমায়ূন আহমেদ সম্পর্কে। হুমায়ূনকে গালাগালি না করারও কোনো সঙ্গত কারণ নেই। এক বইমেলার বই বিক্রির হিসাব পত্রিকায় পড়েছিলাম। সর্বমোট ছয় কোটি টাকার বই বিক্রি হয়েছে। কেবল হুমায়ূন আহমেদের বই বিক্রি হয়েছে সোয়া চার কোটি টাকার। আর বাদবাকি টাকা অন্য সব লেখক মিলে।



লেখার এই জায়গায় এসে কেউ কেউ টং করে বলে উঠবেন, বই বিক্রিই কি জীবনের শেষ কথা ?

বইবিক্রি জীবনের শেষ কিংবা প্রথম কথা নয়। তবে একজন লেখকের জন্য বইবিক্রি মানে হচ্ছে অনেকবেশি পাঠকের কাছে পৌছানো। মধ্যবিত্তের ড্রয়িংরুম থেকে দামী শো পিস চুরি হয়না, কেবল হুমায়ূন আহমেদের বই খোয়া যায়। আমি নিজেই তো হুমায়ূন আহমেদের কত বই কিনেছি। কই সব বই তো আমার সেলফে নেই! বরং আমার টেবিলে হুমায়ুন আহমেদের ‘কুটু মিয়া ’ উপন্যাসটি আছে। সে বইয়ের প্রথম পাতায় লেখা- মুনমুনের জন্মদিনে হাবিবের উপহার। কে এই মুনমুন, কেইবা এই হাবিব, আমি এদের চিনি না। কিন্তু হাবিব- মুনমুন একত্রে আমার টেবিলে যে শুয়ে আছে - এজন্য আমি একমাত্র হুমায়ূন আহমেদ ছাড়া আর কাউকে দায়ী করবো না।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/RABI08/29482231 http://www.somewhereinblog.net/blog/RABI08/29482231 2011-11-13 02:55:34
নিজের শরীরে দড়ি বেঁধে আমরা মাথা নিচু করে রাজপথে দাঁড়িয়ে থাকবো কিছুক্ষণ

ইয়াহু নিউজ

বাংলা নিউজ

সৌদি নিউজ টুডে

সকালের খবর

এবিসি রেডিও

বিডি নিউজ টুয়েন্টিফোর

এসআরএন নিউজ

আন্তজার্তিক বার্তা সংস্থা ডেমোটিক্স রয়টার্সের বরাত দিয়ে

চাইনিজ বার্তা সংস্থা

প্রথম আলো

বার্তা টুয়েন্টি ফোর


ডেইলি সান

নিউ এজ


তবে গোটা আন্দোলন নিয়ে আমার কিছু জবানবন্দী আছে। ব্লগে অনেকে অনেক বিষয়ে জানতে চেয়েছেন, প্রশ্ন তুলেছেন, সেইসব উত্তর দেয়াও প্রয়োজন। একটি পৃথক পোস্টে আমি ব্যাখা করবো, আশা রাখি।

আমাদের এই প্রতিবাদে একটি ছেলে মাথায় যমটুপি পড়ে অংশ গ্রহণ করেছিলেন, তার অভিজ্ঞতাও জানা প্রয়োজন। বাংলাদেশের রোদে তার কি পরিমাণ কষ্ট হয়েছিলো, ভেবে দেখুন একবার ওইসব হতভাগা ৮ শ্রমিকের কথা

সবাইকে ধন্যবাদ।






আপডেট ৪ : দুটি ছবি আপলোড করলাম। রঙিন ছবিটি তুলেছেন : রয়টার্সের এন্ডু বিরাজ। সাদাকালো ছবিটি ইউরোপিয়ান প্রেস এজেন্সির আবীর আবদুল্লাহর। এই দুই আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থার বদৌলতে ছবি এবং খবর প্রকাশিত হয়েছে - বিশ্বজোড়া। বাংলার ব্লগারদের কন্ঠস্বর পৌছে গেছে আন্তর্জাতিক নানা অঙ্গনে। তাদের দুইজনকে কৃতজ্ঞতা।

আপডটে ৩: ঠিক কাটায় কাটায় দশটায় আমরা প্রতিবাদ সমাবেশ করেছি। ঠিক যেমনটা চেয়েছিলাম, তেমনটাই হয়েছে। বিদেশী বার্তা সংস্থা রয়টার্স, এএফপি, এপি, ইউরোপীয়ান ফটো এজেন্সিসহ দেশীয় অনেক গণমাধ্যম কর্মী এই প্রতিবাদ কর্মসূচী কাভার করতে এসেছিলেন .... জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক উভয় মিডিয়ায় আমরা ব্যাপক কাভারেজ প্রত্যাশা করছি।



আপডেট ২ : একজন ব্লগার আমাদের একটি ব্যানারের ডিজাইন করে পাঠিয়েছেন। ব্লগারদের সুবিধার্থে সেটি ইমেজ আকারে আপ করা হলো। । এর সাথে যুক্ত হলো প্রামাণ্য তথ্য ভিত্তিক দুটি ব্লগ। যেখানে সৌদি আরবের ভন্ডামি এবং বর্বরতা নিয়ে কিছু তখ্য রয়েছে। স্বীকার করতে দ্বিধা নেই, এই দুটি ব্লগ - আমাদের যথেষ্ট অনুপ্রাণিত করেছে - একটি প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করতে, বলা যায় এই দুটি ব্লগ পাঠ করাই ছিল আমাদের মুখ্য প্রেরণা । তাদের দায় স্বীকার না করলে ব্যাপারটা অন্যায় হয়। সেই অচেনা দুই ব্লগারকে স্যালুট। সংযুক্তি আকারে ওই দুটি ব্লগের লিংক দেয়া হলো পোস্টের শেষে।

আপডেট ১: সকল আয়োজন যথাসম্ভব ঠিকঠাক করার চেষ্টা করা হচ্ছে। গণমাধ্যমকে প্রেস রিলিজের মাধ্যমে জানানো হয়েছে। তবে এটা হয়তো যথেষ্ট নয়। আপনাদের কারও সাথে কোন গণমাধ্যম কর্মী, সাংবাদিক যোগাযোগ থাকলে তাদেরকে অবহিত করুন, অনুরোধ।
আগামীকাল শনিবার সকাল ১০ টায় শাহবাগ জাদুঘরের সামনে। যোগ দিন , সফল করুন।



সম্প্রতি সৌদি আরবে ৮ বাংলাদেশীকে শিরচ্ছেদ করা হয়েছে। আরও পাঁচজন বাংলাদেশীর মৃত্যুদন্ডও খুব শীঘ্রই একই পদ্ধতিতে কার্যকর করা হবে বলে খবর বেরিয়েছে। এই ঘৃণ্য, অমানবিক বর্বরতার বিরুদ্ধে আমরা একটি প্রতিবাদ কর্মসূচী করতে যাচ্ছি।
এটি কোনও মিছিল নয়,
মানববন্ধন নয়,
নিজের শরীরে দড়ি বেঁধে আমরা মাথা নিচু করে রাজপথে দাঁড়িয়ে
থাকবো কিছুক্ষণ।

সৌদি আরবে ৮ বাংলাদেশীকে শিরচ্ছেদ করার সময়, সেই অসহায়
মানুষেরা যেভাবে হাঁটুতে ভর দিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন , যেভাবে তাদেরকে হত্যা করা
হয়েছিল, অবিকল সেইভাবে।

আমাদের বিশ্বাস- প্রকৃত ব্যাপারটা কতখানি বিভৎস্য
ছিল, এই কর্মসূচীর মাধ্যমে সাধারণ মানুষ সেই বিভৎস্যতার স্বরূপটি ধরতে পারবেনৃ।
আর এভাবেই আমরা আমাদের ঘৃণা, আমাদের প্রতিবাদ আমরা ছড়িয়ে দেবো সবখানে।

আগামীকাল শনিবার সকাল ১০ টায় শাহবাগ জাদুঘরের সামনে। যোগ দিন , সফল করুন।

বিস্তারিত



আপনি আসুন। আমরা অধীর আগ্রহে আপনার জন্য অপেক্ষা করবো। শুভবুদ্ধির মানুষদের আজ একত্রিত হতেই হবে। ইতিমধ্যে অনেক দেরী হয়ে গেছে।


পোস্ট নিয়মিত আপডেট করা হবে।




সংযুক্তি : যারা সৌদি আরব বলে মাতম করছেন , তাদের জন্য
আসুন আরব বর্বরদের ঘৃণ্য থাবা হতে বাকীদের মাথা বাঁচাতে তিনটি দাবীতে সোচ্চার হই

আট শিরশ্ছেদ এবং কিছু বাংলাদেশীর পৈশাচিক উল্লাস - নিয়াজ মোর্শেদ চৌধুরী এর ব্লগ







]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/RABI08/29465844 http://www.somewhereinblog.net/blog/RABI08/29465844 2011-10-14 13:50:38
নিজের শরীরে দড়ি বেঁধে আমরা মাথা নিচু করে রাজপথে দাঁড়িয়ে থাকবো কিছুক্ষণ এটি কোনও মিছিল নয়,
মানববন্ধন নয়,
নিজের শরীরে দড়ি বেঁধে আমরা মাথা নিচু করে রাজপথে দাঁড়িয়ে
থাকবো কিছুক্ষণ।

সৌদি আরবে ৮ বাংলাদেশীকে শিরচ্ছেদ করার সময়, সেই অসহায়
মানুষেরা যেভাবে হাঁটুতে ভর দিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন , যেভাবে তাদেরকে হত্যা করা
হয়েছিল, অবিকল সেইভাবে।

আমাদের বিশ্বাস- প্রকৃত ব্যাপারটা কতখানি বিভৎস্য
ছিল, এই কর্মসূচীর মাধ্যমে সাধারণ মানুষ সেই বিভৎস্যতার স্বরূপটি ধরতে পারবেনৃ।
আর এভাবেই আমরা আমাদের ঘৃণা, আমাদের প্রতিবাদ আমরা ছড়িয়ে দেবো সবখানে।


স্থান : শাহবাগ, জাতীয় জাদুঘরের সামনে সময় : সকাল ১০ টা তারিখ : শনিবার ১৫ অক্টোবর ২০১১

বিস্তারিত



আপনি আসুন। আমরা অধীর আগ্রহে আপনার জন্য অপেক্ষা করবো। শুভবুদ্ধির মানুষদের আজ একত্রিত হতেই হবে। ইতিমধ্যে অনেক দেরী হয়ে গেছে।


পোস্ট নিয়মিত আপডেট করা হবে।











একই সুরে বাজে কয়েকটি কন্ঠ
১. আসুন আরব বর্বরদের ঘৃণ্য থাবা হতে বাকীদের মাথা বাঁচাতে তিনটি দাবীতে সোচ্চার হই - ও. জামানের বাংলা ব্লগ
২. প্রকাশ্যে শিরশ্ছেদই অপরাধ - শির হারানো মানুষটি নিরাপরাধ প্রতিভাসিত হয়ে ওঠে রাষ্ট্রের গর্হিত অপরাধের কালিমায়! ম্যাজিক মুভমেন্টের প্রতিবাদী সভা ১৫ তারিখ, শনিবার, সকাল ১০টায় শাহবাগে! - কৌশিক
৩. আগামী শনিবার শাহবাগে আমরা শিরোচ্ছেদের ব্যাপারে প্রতিবাদ করবো - আধা ভেজা বিড়াল
৪. সৌদি বিচারের অমানবিকতা - প্রথম আলো
৫. আট শিরশ্ছেদ এবং কিছু বাংলাদেশীর পৈশাচিক উল্লাস - নিয়াজ মোর্শেদ চৌধুরী এর ব্লগ






]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/RABI08/29465664 http://www.somewhereinblog.net/blog/RABI08/29465664 2011-10-14 03:42:57
আল্লাহর কাছে বিচার - ২ হেডিংটা পড়ে প্রথেম মনটা খুব খারাপ হয়ে গিয়েছিলো। পরে নিউজ পরে স্বস্তি পেলাম। দুইজনই মুসলমান । একজনের বয়স ২৬, আরেকজনের ২৩। মন্ত্রী বলেছেন, কোন মুসলমানের মৃত‌্যুই অকাল মৃত‌্যু নয়। সৌদি আরবে যে ৮ জনের গলাকেটে মৃত‌্যুদন্ড দেয়া হয়েছে, তারাও সকলে মুসলমান। হে আল্লাহ, তুমি আমাকে বাঙালি মুসলমান হওয়ার হাত থেকে নাজাত দাও। যদি আমি মুসলমান থাকি, তাহলে বাংলাদেশে থাকবো না আর যদি বাংলাদেশে থাকি তাহলে মুসলমান থাকবো না। হয়ে যাবো, মাইকেল রবি গোমেজ অথবা রবি বড়ুয়া কিংবা শ্রী রবি ঘোষ। আল্লাহ, তুমি আমাকে রহম করো।]]> http://www.somewhereinblog.net/blog/RABI08/29462266 http://www.somewhereinblog.net/blog/RABI08/29462266 2011-10-08 18:46:30 মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনার ১৩ মিনিট ২০ সেকেন্ড সময় হবে? আপনার সাথে বসে আমি একটি ভিডিও দেখতে চাই .... ভিডিওটির মেয়াদ ১৩ মিনিট ২০ সেকেন্ড ....( ভিডিও কৃতজ্ঞতা: আরিফ জেবতিক )

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/RABI08/29420573 http://www.somewhereinblog.net/blog/RABI08/29420573 2011-07-27 00:29:54
কে বলেছে আপনাদের অটিস্টিকদের ব্যাপারে এতো দরদী হতে? তারা জানালো তারা পারে .. . এখানে তারা শব্দটার মানে হচ্ছে একদল দেবশিশু, তাদের একটাই সমস্যা, তারা অটিস্টিক। সোনিয়া গান্ধিকে দাওয়াত করে নিয়ে আনা হয়েছে, এইসব অটিস্টিক শিশুদের নিয়ে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত একটি সম্মেলনে অংশ নিতে। এই মহতী অনুষ্ঠানের অন্যতম উদ্যোক্তা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কন্যা শেখ সায়মা ওয়াজেদ। রূপসী বাংলা হোটেলে এইসব মানসিক সমস্যাক্রান্ত শিশুরা যখন অতিথিদের মনোরঞ্জন করছেন, তখন এইসব শিশুদের বাবা মারা হোটেলের বাইরে দারুন উৎকন্ঠা নিয়ে অপেক্ষা করেছেন। তাদেরকে অনুষ্ঠানস্থলে ঢুকতে দেয়া হয়নি। কারণ খুব সম্ভবত নিরাপত্তা। আর দেশে ভিআইপির সংখ্যা এতো বেশি যে, যাদের নিয়ে অনুষ্ঠান তাদের বাবামাদের জায়গা হয়নি অনুষ্ঠানস্থলে। কিন্তু সমস্যাটি হচ্ছে, এইসব শিশুরা স্বাভাবিক কোনো শিশু নয়, এরা অটিস্টিক চাইল্ড। এই অটিস্টিক শিশুদের একজনের মা জানিয়েছেন, "আমাকে অনুষ্ঠানে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। আমার দশ বছরের ছেলেটা আমাকে ছাড়া কখনো থাকেনি।"

অটিস্টিক শিশুদের জন্য দরদ দেখিয়ে অনুষ্ঠান করবেন, বড়ো বড়ো বক্তৃতা দেবেন, নাম ফাটাবেন আর অটিস্টিক শিশুদের সমস্যা বুঝবেন না? তাদেরকে বাবামাকে অনুষ্ঠানস্থলের বাইরে দাঁড় করিয়ে রাখবেন?

কে বলেছে আপনাদের অটিস্টিকদের ব্যাপারে এতো দরদী হতে? কেন কষ্ট দিলেন অটিস্টিক বাচ্চাগুলোকে? কেন?

আপনাদের ঘৃণা করার মতো আর কোনো ঘৃণা আমার অবশিষ্ট নেই।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/RABI08/29419967 http://www.somewhereinblog.net/blog/RABI08/29419967 2011-07-26 04:36:51
প্রধানমন্ত্রী, আপনার কথা শুনলাম, এবার আমাদের ডিমের গল্পটি আপনাকে শুনতেই হবে


প্রধানমন্ত্রী, বলুন তো বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ আপনার কাছে কি চায়? তারা মাছ, মাংস, ঘি, পোলাও চায়না। তারা তাদের শুকনো ভাতে একটুখানি লবণ চায়। ব্যাস এতটুকুই। এবং প্রধানমন্ত্রী আপনি, আপনার পূর্বসুরী বেগম খালেদা জিয়া এবং তার পূর্বসুরী এরশাদ এবং তাদেরও পূর্বসুরীরা, সাধারণ মানুষের ছোটখাটো অতি সাদাসিধে চাহিদা পূরণে কতখানি সফল হয়েছেন, বলুন তো? আপনি একবার দয়া করে ঢাকার যেকোন সাধারণ গলিতে ঢুকুন। সামান্য বৃষ্টিতে রাস্তাঘাটের কী ভয়াবহ অবস্থা। কোন গর্ভবতী মা এই রাস্তা দিয়ে যেকোনো বাহনে গেলে তার গর্ভপাত হয়ে যাবে। গ্রামীণ ব্যাংকের পেছনের যে রাস্তাটা আছে, সেই রাস্তা ধরে, আপনি যদি মিনিট পাঁচেক যেতে পারেন, তাহলে আমার বাকী জীবন ধরে আমি ব্লগ, ফেসবুক এবং পত্রিকায় আপনার প্রশস্তি রচনা করে কাটিয়ে দেবো। আজ দীর্ঘ আড়াই বছরে আপনারা রাস্তা ঠিক করেন নি। আপনি কি করেছেন? নানাকাণ্ড করে গ্রামীন ব্যাংক থেকে ইউনূসকে হটিয়েছেন। এই কাজ করতে গিয়ে আপনার টীম যে সময়, মেধার অপচয় করেছেন, তার এক শতাংশ দিয়ে গ্রামীন ব্যাংকের পেছনের রাস্তার মতো ঢাকার সমস্ত রাস্তা মেরামত করে ফেলা সম্ভব। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, গ্রামীন ব্যাংক থেকে ইউনূস হটানো হয়তো জরুরী বিষয়। কিন্তু তারচে অনেক বেশি জরুরী বিষয় রাস্তাগুলো মেরামত করা।

মানুষের চাওয়া সামান্য। তারা চায়, তাদের গলিটা যেন ঠিক থাকে। একটা আধুনিক বিমানবন্দরের চেয়ে যার যার রাস্তাটা অনেক বেশি গুরুত্ব। অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে যানজট কমানো। বিগত বছরে আমরা কী দেখলাম? আপনি ঝাপিয়ে পড়লেন, আরেকটি আধুনিক বিমানবন্দর নির্মাণের কাজে। তারও আগে অনেক আয়োজন করে জিয়া বিমানবন্দরের নাম বদলে ফেললেন। সেই বিমানবন্দরের নাম বদলাতে কত টাকা খরচ হয়েছে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। আমি শুনেছি কয়েক শত কোটি টাকা। ব্যাপারটা কি সত্যি? জনগণের এই কয়েক শ কোটি খরচ করে, কী লাভ হয়েছে আমাদের বলেন তো?



প্রিয় প্রধানমন্ত্রী, বাজারে এক হালি ডিমের দাম কতো, সেটি জিজ্ঞাসা করার ধৃষ্টতা আমার নেই। আমি বরং আপনাকে একটা ডিমের গল্প করতে পারি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স করা আমার এক ছোটভাই গত সপ্তাহে ফোন দিয়ে আমাকে বলল, ভাই, একটা নিউজ করেন, একটা ডিমের দাম ৭ টাকা। আমি খামু কি?

ছেলেটার নাম জাকির। চাকরি এখনো জোগাড় করে উঠতে পারেনি, প্রাইভেট টিউশনিই ভরসা। দিনে একবেলা সে ডিম দিয়ে ভাত খায়। যেদিন ফোন দিয়েছিলো, সেদিন থেকে সেই ডিমটিও তার সাধ্যের বাইরে চলে গেছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি লিখেছেন, জাতীয় প্রবৃদ্ধি বেড়ে ৬.৭ হয়েছে। তা আপনি যেহেতু বলেছেন, হয়তো হয়েছে। এতো জ্ঞানীগুণী, স্যুটটাই পড়া আপনার উপদেষ্টামন্ত্রীদের কথা তো মিথ্যা হতে পারেনা। কিন্তু আমাদের জাকির জাতীয় প্রবৃদ্ধি বোঝেনা। সে দিনে অন্তত একবেলা ডিম দিয়ে ভাত খেতে চায়। জাতীয় প্রবৃদ্ধি বেড়ে আকাশ ফুড়ে মহাকাশে চলে যাক , তাতে জাকিরের কিছুই আসে যায়না। আমাদেরও কিছুই আসে যায়না। পরিসংখ্যান দিয়ে জীবন চলে না মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। জাতীয় গ্রিডে উৎপাদন বেড়েছে, প্রবৃদ্ধি বেড়েছে , কোটি কোটি মেট্রিকটন খাদ্য উৎপাদন হয়েছে , বাজেটের স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বেড়েছে, এইসব কথা শুনতে আর ভালো লাগেনা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী।

স্বাস্থ্যখাত নিয়ে আরেকটা ছোট্ট ঘটনা বলি? গত বৃহস্পতিবার বারডেম হাসপাতালের দোতলায় দুপুর তিনটা থেকে রাত সাড়ে দশটা পর্যন্ত উচ্চ শব্দে কনসার্ট এবং উদ্দাম নাচগান হয়েছে। কর্মচারী ইউনিয়ন এই কান্ডটি করেছে। জ্বী, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, এটি হয়েছে একটি হাসপাতালে, ডায়বেটিক রোগীদের একমাত্র আশ্রয়স্থলে। বিজয়ী কর্মচারী গাননাচের মাঝখানে জয় বাংলাসহ আপনার নামে স্লোগান দিচ্ছিলেন। যেসব ভুক্তভোগী রোগীরা হাসপালাতের বিছানায় শুয়ে দিনভর এই যন্ত্রণা সহ্য করেছেন এবং আপনার নামে স্লোগান শুনেছেন, তারা কোনদিন আপনাকে ভোট দেবে না, এটি আমি মোটামুটি নিশ্চিত। কাজেই, গণমাধ্যমসহ নানা জায়গায় যারা আপনার সমালোচনা করে, তারা আপনার শত্রু নয়। বরং যারা আপনার নামে যত্রতত্র আকাশফাটিয়ে এখন স্লোগান দিচ্ছে, তারা আপনার কতখানি উপকার করছে, একটু ঠান্ডা মাথায় ভেবে দেখবেন।

সবশেষে আপনাকে ধন্যবাদ, আপনি লিখেছেন বলে। দুই বছর আগে আপনাকে উদ্দেশ্য করে আমি একটি ব্লগ লিখেছিলাম , যার মূল বাণী ছিল, আসুন প্রধানমন্ত্রী ব্লগিং করি। ডিজিটাল বাংলাদেশে স্বপ্নদ্রষ্টা যিনি , তিনি তো ইচ্ছে করলেই মাঝে মাঝে এভাবে লিখতে পারেন। তাতে কিছু মানুষের সাথে মিথষ্ক্রিয়া তো হয়। আপনার জানা প্রয়োজন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আমার লেখা সেই ব্লগটি বাংলা ভাষায় সর্বোচ্চ পঠিত ব্লগ। অর্থাৎ আমার সেই দাবীর প্রতি মানুষের সমর্থন ছিল। কাজেই, আসুন, মাঝে মাঝে আমরা এভাবে কথা বলি। আপনার কথা আমরা যেমন শুনলাম, আমাদের কিছু কিছু কথা আপনি একটু শুনুন। ডিজিটাল শব্দটার মহাত্ন কিন্তু এখানেই। আবারো ধন্যবাদ।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/RABI08/29403079 http://www.somewhereinblog.net/blog/RABI08/29403079 2011-06-27 01:05:19
বারডেম হাসপাতালে গানের আসর : ধন্যবাদ প্রধানমন্ত্রী এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে অনুষ্ঠান চলাকালে মাইকে শিল্পীদের পরিবেশিত গানের আওয়াজ প্রায় পুরো হাসপাতালে ছড়িয়ে পড়ে। এতে দূর্ভোগ পোহাতে হয় রোগীদের। গতকাল রাতে অনেক রোগী তাঁদের এই দূর্ভোগের কথা প্রথম আলো কার্যালয়ে টেলিফোনে জানান।
বারডেম হাসপাতাল সূত্র জানায়, হাসপাতালের এমপ্লয়িজ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচনে বিজয়ীরা এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন।
রাতে যোগাযোগ করে এ ব্যাপারে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

খবর : প্রথম আলো ছবি : যুগান্তর]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/RABI08/29401982 http://www.somewhereinblog.net/blog/RABI08/29401982 2011-06-24 23:12:20
পামেল ভাইকে বাচাতে হবে [ এই লেখাটি আমার লেখা না। যিনি এই লেখার লেখক , তার নাম দেবব্রত মুখোপাধ্যায়। অন্যের লেখা আমার ব্লগে কেন? আমার নিজের ব্লগ আমার কাছে সন্তানতুল্য। এর প্রতিটি ইঞ্চি আমার নিজস্ব। তবু, তিন বছরের ব্লগিং জীবনে এই প্রথমবারের মতো নিয়মের ব্যতিক্রম করছি, অন্য কারও লেখা নিজের ব্লগে ঢুকিয়ে দিয়েছি । এর কারণ পামেল ভাই। আমাদের সহকর্মী, আমাদের বড় ভাই। পামেল ভাই একজন সাংবাদিক। বাইরে থেকে এই পেশাটাকে দারুন মনে হলেও, একজন সাংবাদিক আসলে কতখানি অসহায়, এটা আমার চেয়ে আর ভালো কে জানে?
আসুন, আমরা সবাই মিলে পামেল ভাইয়ের পাশে দাড়াই। ]

দু এক জন বিরল ব্যতিক্রম ছাড়া প্রেসবক্সে কেউ গোল-টোলের সময়ের হিসেব রাখতেন না। গোল, ফাউল বা কর্নার হলেই তাই সবাই সমস্বরে চিৎকার করে উঠতেন, ‘পামেল ভাই, টাইম কেতো?’ পামেল ভাই গম্ভীর মুখে স্টপওয়াচটা দেখে সময় বলে দিতেন।

বাংলাদেশের তাবৎ ক্রীড়া সাংবাদিককূলকে বছরের বছর এই সময় বলে যাওয়া মানুষটি নাকি এখন সময়ের সংকটে! চিকিৎসকরা বলে দিয়েছেন, আমাদের পামেল ভাইয়ের হাতে নাকি বেশি সময় নেই। দূরারোগ্য ক্যান্সারে আক্রান্ত ক্রীড়া-সাংবাদিকতার জগতে ছোট-বড় সবার প্রিয়, পামেল ভাই।

আমি এসব কথায় বিশ্বাস করি না। পামেল ভাই বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে ক্রিকেট খেলতেন। পামেল ভাই সারাটা ক্যারিয়ার জুড়ে খেলাধুলা নিয়ে থেকেছেন। এই জীবনের খেলায় এতো সহজে হারার মানুষ পামেল ভাই নন। এই বিশ্বাস থেকেই শুরু করলাম লেখাটা।

পামেল ভাইয়ের ‘ভালো নাম’ আল মুসাব্বির সাদী; আমরা ডাকতাম পামেল ভাই বলে। এই ডাকটাও ভুল ছিল; আসলে তার ডাক নাম ছিল পমেল। কিন্তু এইসব ভুলভাল নিয়ে পামেল ভাই কোনোদিন রাগ করতেন না।

রাগ করবেন কি করে? পামেল ভাইয়ের জগত তো আর আমাদের এই জগত নয়! পামেল ভাই ফুটবল দেখতেন, ফুটবল লিখতেন, ফুটবল আরাধনা করতেন। পামেলভাইয়ের সঙ্গে আমার পরিচয় ওই ফুটবল লেখা থেকেই।

তখন পামেল ভাই ডেইলি স্টারের সিনিয়র সাংবাদিক। ইংরেজী পত্রিকায় ভারী ভারী লেখা লেখেন; আমরা অবাক হয়ে পড়ি। আমি যখন প্রথম আলোতে কাজ শুরু করলাম, তখন পামেল ভাইয়ের একটা ধারাবাহিক ছাপা হত প্রথম আলোর ‘স্টেডিয়াম’ পাতায়; ইউরোপিয়ান ফুটবল নিয়ে।

পামেল ভাইয়ের যে লেখাটা আমাকে সবচেয়ে বেশি নাড়া দিয়েছিল, সেটা ছিল বার্সেলোনার খামার বাড়ি নিয়ে। বার্সার এই কনসেপ্ট নিয়ে চমৎকার একটা লেখা লিখেছিলেন স্টেডিয়ামে।

ততোদিনে পামেল ভাইয়ের সঙ্গে অসমবয়সী একটা প্রায়-বন্ধুত্ব হয়ে গেছে। ফুটবল প্রেসবক্সে চেষ্টা করি তার পাশের চেয়ারটায় বসতে। অবশ্য রায়হান ভাই কিছুতেই চেয়ারটা ছাড়তেন না! আমরা একসারি পেছনে বসে পামেল ভাই, রায়হান ভাই; কোনো কোনো দিন দিলু ভাইয়ের (দিলু খন্দকার) স্মৃতিচারণ শুনতাম।

আমার কী পরম সৌভাগ্য! পামেল ভাই এক এক দিন বলতেন, ‘গাড়ীয আটকা থেকে আর ভালো লাগে না। চলেন দেবু আপনার মটর সাইকেলের পেছনে করে অফিসে যাই।’ অমন একদিন আসতে গিয়ে দু জনে মরতে বসেছিলাম মিন্টো রোডে।

পামেল ভাইয়ের সঙ্গে এই যোগাযোগটা একটু কমে গিয়েছিল। আমি মাঝে স্পোর্টস ছেড়ে দিলাম, ফেরারও পরও ফুটবলে খুব যেতাম না। পামেল ভাই ততোদিনে ডেইলি স্টার ছেড়ে ফুটবল ফেডারেশনে যোগ দিয়েছেন; সাধারণ সম্পাদক হিসেবে।

শুনি পামেল ভাই আর সালাউদ্দিন ভাই মিলে অনেক নতুন নতুন কাজ করছেন। কি সেগুলো, কাছ থেকে ঠিক দেখা হয়ে উঠত না। তারপর একদিন গেলাম। এই প্রথম আলো ছাড়ার দু দিন আগে; পত্রিকা বদলের কথাই বলতে গিয়েছিলাম।

পামেল ভাইয়ের রুমে বসে কথা হচ্ছে। পামেল ভাই, হঠাৎ বললেন, ‘জানেন দেবু, একটা বিরাট মিস হয়ে গেল’

‘কি, পামেল ভাই?’

‘আমি সেদিন মালয়েশিয়া থেকে ঢাকায় এলাম। কাতারে চার ঘন্টা ট্রানজিট ছিল। জানেন, সেই সময় কাতারে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা ম্যাচ চলছিল। একটু চেষ্টা করলেই খেলাটা দেখা যেত।’

পামেল ভাই ব্রাজিলের বিরাট ভক্ত ছিলেন। এই নিয়ে আমার একটু মন খারাপও ছিল, এতো পছন্দ করি মানুষটাকে, আর তিনি কিনা ব্রাজিল! আমাকে দেখলে পরের দিকে ফিস ফিস করে বলতেন, ‘শোনেন, ব্রাজিলের ফুটবলের ভক্ত আমি, ব্রাজিল দেশটার নই। ব্রাজিলের ওই সুন্দর ফুটবল যে খেলবে, তাকে ভালো বলবো। এখন মেসি খেলে, তাকে ভালো বলি। মন খারাপ করবেন না।’

এমন সুন্দর ফুটবলের পাগল ভক্ত ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা ম্যাচ মিস করে আফসোস করবেন, এই তো স্বাভাবিক। আমিও সুর মেলালাম, তাই তো!

নিজেই স্বান্তনা দিয়ে বললেন, ‘আফসোস করি না। এই ম্যাচ দেখতে না পারলেও ব্রাজিল বিশ্বকাপ দেখব।’

আমি বলেছিলাম, ‘তা তো পারবেনই। ফিফাই আপনাদের ব্যবস্থা করবে।’

পামেল ভাই শিউরে উঠে বলেছিলেন, ‘আরে নাহ পাগল। আমি ব্রাজিল বিশ্বকাপে যাবো সাংবাদিক হিসেবে।’

‘মানে! আবার সাংবাদিকতায় ফিরবেন?’

‘অবশ্যই ফিরবো। যে পত্রিকা নিতে চাইবে, আমি শুধু শর্ত দেব, ব্রাজিল বিশ্বকাপ কাভার করতে দিতে হবে। জীবনের এটাই একমাত্র চাওয়া।’



আহ.....।

সেই পামেল ভাই নাকি এখন সময়ের সংকটে আছেন! ক্যান্সারটা তৈরি হয়েছিল পাকস্থলীতে। নানা জায়গায় এখন ছড়িয়ে পড়েছে। সিঙ্গাপুর থেকে ঢাকা; চিকিৎসা চলছে। পামেল ভাইয়ের পরিবারের সামর্থ একেবারে কম ছিল না।

কিন্তু সর্বগ্রাসী এই রোগের কাছে হার মানতে বসেছে স্বচ্ছল পরিবারটিও। তাহলে পামেল ভাইয়ের ব্রাজিল বিশ্বকাপ দেখা হবে না!!!!

নাহ, চোখের জল আর ফেলবো না। ডাক্তাররা যে যাই বলুক, আমি বিশ্বাস করি, পামেল ভাই আমারসাংবাদিকতায় ফিরবেন। পামেল ভাই ব্রাজিলে যাবেন।

এই বিশ্বাস শুধু আমার একার নয়। বাংলাদেশের প্রতিটি ক্রীড়া সাংবাদিক এই বিশ্বাস নিয়ে পামেল ভাইয়ের পাশে এসে দাড়িয়েছেন। কিন্তু আমাদের স্বপ্ন আকাশ ছোয়া হলেও সাধ যে সীমিত ভাই। তাই আমাদের এই ভাইয়ের জন্য, এক বন্ধুর জন্য সবার দিকে হাত বাড়িয়ে দিলাম।

আপনিও আমাদের পামেল ভাইয়ের পাশে এসে দাড়ান, প্লিজ।



পামেল ভাইয়ের চিকিৎসার জন্য গঠিত চিকিৎসা-সহায়তা তহবিল:

সাউথ ইস্ট ব্যাংক, করপোরেট শাখায়, যেটির সঞ্চয়ী হিসাব নম্বর

০০৩১-১২১-০০০৮১৩৫২।



মানুষের সম্মিলিত প্রার্থনার চেয়ে বড় শক্তি নাকি আর নেই। আমাদের ভাইটার জন্য প্রার্থনা অন্তত করবেন।


মুল লেখা ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/RABI08/29380030 http://www.somewhereinblog.net/blog/RABI08/29380030 2011-05-12 22:54:41
ভাগ্যিস রবীন্দ্রনাথ এখন বেঁচে নেই http://www.somewhereinblog.net/blog/RABI08/29376524 http://www.somewhereinblog.net/blog/RABI08/29376524 2011-05-06 21:51:08 সুপার ফ্লপ পোস্ট গরীবের কথা : দারিদ্রের লক্ষণ এবং প্রকরণ : গরীব মানুষের সমাজ এবং সমাজের গরীব মানুষ
একবেলা না খেয়ে থাকা যত না কষ্টের, গরীবের প্রতি সমাজের এই নির্মম আচরণও আরও বেশি পীড়াদায়ক। ধর্ম, রাষ্ট্রযন্ত্র, গণতন্ত্র এবং সমাজ -সবার মূল দায়িত্ব হচ্ছে- গরীবকে আরও দমিয়ে রাখা। কেননা গরীব মানুষ ছাড়া সমাজ চলবে না। একজন মেথর যদি ধনী হয়ে যায়, তাহলে সমাজের গু পরিষ্কার করার কেউ থাকবে না। রাষ্ট্রে যদি গরীব মানুষ গিজ গিজ না করে তাহলে গণতন্ত্র মুখ থুবড়ে পড়বে। বন্ধু বান্ধবদের মধ্যে গরীব বন্ধু না থাকলে নতুন গাড়ি কিংবা ফ্ল্যাট কিনবার আনন্দ অনেকখানিই ম্লান হয়ে যায়।
ধর্ম আমাদের পরকালের স্বপ্ন দেখায়। ধর্ম দারিদ্র নিরসনের কোন পথ দেখায় না, সে কেবল গরীব মানুষকে সাত্ত্বনা দেয়। ধর্ম বলে , টাকা পয়সার দিকে না তাকিয়ে ধর্মের বেদীমূলে তোমার বাকী সর্বস্ব দিয়ে দাও। এদের গালে সজোরে চপেটাঘাত করেছেন এক বঙ্গসন্তান। স্বামী বিবেকানন্দ খুব স্পষ্ট বলে গেছেন, যে ঈশ্বর তোমাকে এখন ভাত কাপড় দিতে পারেনা, সেই ঈশ্বর তোমাকে স্বর্গে নিয়ে অমৃত খাওয়াবে- এটা বিশ্বাস করো না।
যে রাষ্ট্রে যত বেশি গরীব মানুষ থাকে, সেই রাষ্ট্রে গণতন্ত্র নিয়ে ততবেশি মাতম চলে। গরীব মানুষ লটারির টিকেট কেনে, জমি বেচে শেয়ার কেনে এবং পাঁচ বছর পর পর ভোট দেয়। তার উদ্দেশ্য একটাই - ভাগ্য পরিবর্তন। এবং বলাবাহুল্য, প্রতিবারই সে ঠকে। আরেক মহাপুরুষ অসাধারণ একটা কথা বলেছেন এ ব্যাপারে। বাংলা অতি দূর্বল ভাষা বলে কথাটার অনুবাদ করার সাহস পাচ্ছি না, পাছে ভাব নষ্ট হয়ে যায়। তিনি কনফুসিয়াস। বলেছেন :

In a country well governed, poverty is something to be ashamed of. In a country badly governed, wealth is something to be ashamed of.

গরীবের প্রতি কী কেবল রাষ্ট্রযন্ত্র কিংবা ধর্মই অসদাচরণ করে? আমরা সাধারণ মানুষরা কী করি? একবার নিজের বন্ধুদের কথা ভাবুন। দেখবেন আপনার বন্ধুদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি যে বড়লোক, তাকে আপনি খাতির করেন, কিন্তু ভেতর থেকে পছন্দ করেন না। এটা ঈর্ষা। আবার যে বন্ধুটি সবচেয়ে বেশি গরীব, তাকে তো আপনি দুই চোখে দেখতে পারেন না। এর কারণ কী ? আপনি নিজেও জানেন না, কেন আপনি তাকে পছন্দ করতে পারছেন না, কেন অযথা তার প্রতি আপনার সীমাহীন রাগ, ঘৃণা, অবহেলা , তাচ্ছিল্য। কারণ তার দারিদ্র। মজার ব্যাপার হচ্ছে দারিদ্রকে ধনীরা তো বটেই গরীবরাও পছন্দ করে না। হা হা হা। একজন কুষ্ঠ রোগী আরেক কুষ্ঠরোগীকে দেখে বিবমিষা বোধ করছে।
আমরা খুব সাধারণ মানুষরা গরীবদের সাথে খুব নির্দয় আচরণ করি, নিজের অজান্তেই করি। একটা বেদনাদায়ক অভিজ্ঞতার কথা বলি। একবার আমরা ১০/১৫ বন্ধু মিলে ঠিক করলাম, লালন মেলায় যাবো। পার হেড ২০০০ টাকা করে চাঁদা। আমাদের গ্রুপের মাত্র ১ জনের অবস্থা খুব খারাপ। দীর্ঘদিন তার কোন চাকরিবাকরি নেই। বন্ধুরা সবাই আমাকে ফোনে বলল, দেখা হলে টাকা দিয়ে দেবো, আপাতত তোমার পকেট থেকে খরচ করো। আমি দেদারছে খরচ করতে থাকলাম। শুধু ওই চাকরিবিহীন বন্ধুকে ফোন দিয়ে বললাম, ইয়ে মিজান, তোমার টাকা কখন দিবা ? টাকাটা না পেলে তো কিছুই করতে পারছি না। সে খুব বিব্রত হয়ে টাকাটা কোথাও থেকে জোগাড় করে আমার হাতে দিয়ে গেল। তারপর একটা মজার ঘটনা ঘটল। আমরা কুষ্টিয়া গিয়ে দেখলাম, সেখানে আমাদের থাকার ব্যবস্থা ফ্রি, খাওয়ার ব্যবস্থাও ফ্রি। শুধু যাতায়াত খরচ বাবদ আমাদের খরচ হলো ২০০০ টাকা। যেহেতু সব ফ্রি, কাজেই কেউ তার ভাগের টাকাটা দিল না। ঠকলো কেবল সেই হতদরিদ্র বন্ধুটি। তারই কেবল টাকা খরচ গেল। অন্যরা তার টাকায় ঘুরলো, ফিরলো।
ব্যাংকও কিন্তু একই আচরণ করে। তেলা মাথায় তেল দেয়। যার টাকার দরকার, তাকে টাকা দেয় না। যার দরকার নাই, তাকে সেধে দেয়। আমরা এক ছোটোভাই ব্যাংক থেকে কম্পিউটার কেনা বাবদ ৫০ হাজার টাকা লোন করে স্ত্রীর চিকিৎসা করেছিল। ব্যাংক কড়ায় গন্ডায় তার কাছ থেকে প্রতিটি পাই পয়সা আদায় করেছে। তার জিহবা বের হয়ে গেছে। তার দু একটি কিস্তি মিস হওয়ায়, ব্যাংক তাকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে এবং গালাগালিও করেছে। আমি সেই লোনের একজন গ্যারান্টার ছিলাম। আমাকেও ছিলে দিয়েছে bank। সালমান এফ রহমানের কাছে ব্যাংক কোটি কোটি টাকা পায় এবং তাকে দেখলে বাংলাদেশের সকল ব্যাংক ম্যানেজার চেয়ার ছেড়ে দাড়িয়ে যায়।

গরীব মানুষ হিসেবে আমি এইটুকু বুঝি, দারিদ্রের চেয়েও আমার বড়ো সমস্যা সমাজের নির্দয় আচরণ। সমাজ এতো নির্দয় ক্যানো?


( শত বাঁধার মুখেও -এই সিরিজ চলবে)

প্রথম পর্ব ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/RABI08/29364298 http://www.somewhereinblog.net/blog/RABI08/29364298 2011-04-17 13:52:31
গরীবের কথা : দারিদ্রের লক্ষণ এবং প্রকরণ - প্রস্তাবনা দরিদ্র না বলে ইচ্ছে করেই গরীব শব্দটা ব্যবহার করলাম । কারণ দরিদ্রের চেয়ে গরীব শব্দটা একটু বেশি মর্মান্তিক। গরীব শব্দটার মধ্যে একটা আলাদা মায়াভাব আছে। অন্যদিকে দরিদ্র শব্দটা বেশ অভিজাত, রাশভারি, এনজিও এবং সুশীল সমাজের খুবই প্রিয় এই শব্দ।
আমি গরীব হয়ে জন্মেছি-এর পেছনে আমার কোনও অবদান নেই। তবে এখনো যে আমি গরীবই রয়ে গেছি- এটাকে বোধহয় আমার ব্যর্থতা বলা যেতে পারে।

কবি নজরুল গরীব ছিলেন। তার একটি বহুল প্রচারিত কবিতার লাইন - হে দারিদ্র , তুমি মোরে করেছো মহান। এই লাইনটা বাঙালি মধ্যবিত্তের ভীষণ প্রিয়। মানুষের ধর্মই হচ্ছে, সে সব কিছুতে একটা সাত্ত্বনা খোঁজে। কবি নজরুলের এই লাইন গরীব মানুষকে প্রবোধ দেয়ার জন্য যথেষ্ট কার্যকরী। যদিও, দারিদ্র কখনো মানুষকে মহান করেনা, দারিদ্র মানুষকে প্রতিনিয়ত অপমান করে, লাঞ্জিত করে। দারিদ্রের সবচেয়ে খারাপ দিক হচ্ছে, এটি মানুষকে খুব ছোটো করে দ্যায়।

এদিকে আবার আমি সাইজেও খুব ছোট। সাথে আছে জন্মসূত্রে পাওয়া এবং কর্মফলে ভোগ করা দারিদ্র। ফলে মানুষের সামনে দাড়ালে নিজেকে আরও ছোট মনে হয়। সেই ছোটো ভাবটা কাটানোর জন্য মাঝে মাঝে আমি আয়নার সামনে দাড়াই। নিজেকে প্রতিদিন মাপি। মনে হয়, একদিন আমি অনেক বড়ো হবো, উচ্চতায় ছাপিয়ে যাবো সবাইকে। আমার আর বড়ো হওয়া হয় না। আমার কাছের মানুষরা দেখে আমি চুইংগামের মতো বড়ো হবার চেষ্টা করছি, কিন্তু হতে পারছি না। বাবা আমার কাঁধে হাত রেখে বলেছিলেন, দেখিস, একদিন আমরা ....আমাদের দেখা হয় না কিছুই। গরীব মানুষের এই একটা বৈশিষ্ট্য, তারা প্রতিনিয়ত বড়লোক হবার স্বপ্ন দেখে। এই স্বপ্নই তাদের বাঁচিয়ে রাখে।


গরীবের আরেকটি বৈশিষ্ট হচ্ছে, হ্যাংলামি। রাস্তায় ভালো গাড়ি দেখলে, কারো ভালো বাড়ি দেখলে, তাদের চোখ টাটায়। তাদের বুকের ভেতরে খুব নীরবে একটা ঈর্ষার আগুন জ্বলে। সেই আগুনটা কেবল নিজেকেই পোড়ায়। বাঙালি মধ্যবিত্ত শ্রেনী যে খুব পরশ্রীকাতর হয়, এর মূলে রয়েছে দারিদ্র, আর কিছু না। ধনের দিক থেকে দরিদ্র মানুষরা ক্রমাগত মনের দিক থেকেও দরিদ্র হতে থাকে।

গরীব মানুষরা খুব নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে। এজন্য তারা খুব ক্ষুধাকাতর হয়। একজন বড়লোক যেখানে আধা প্লেট ভাত সবজি দিয়ে অবহেলায় খায়, সেখানে একজন গরীব মানুষ পাঁচ প্লেট ভাত খেয়েও পেট ভরে না। কারণ, ওই নিরাপত্তার অভাব। তাদের মাথায় কাজ করে , আজ তো খাচ্ছি, কাল কী খাবো ? ভবিষ্যত নিয়ে এই সংশয় তাদের ক্ষুধাকে বাড়িয়ে দেয়। একটি ধনী পরিবার এবং সম সংখ্যক সদস্য বিশিষ্ট দরিদ্র পরিবারের মাসিক চালের পরিমাণ ইচ্ছে করলেন যে কেউ মেপে দেখতে পারেন। গরীবদের চাল, আটা - ইত্যাদি বেশি পরিমাণে খরচ হয় (যদি সামথ্যে থাকে)।

দরিদ্র মানুষের আরেকটি মজার দিক হচ্ছে- তারা বেশ ভীতু এবং অস্থির স্বভাবের হয়। লিবিয়ায় যুদ্ধ লাগলে, শেয়ারের দাম হঠাত কমলে বা বাড়লে, ক্রিকেটে বাংলাদেশ খারাপ কর্লে, তারা বেশ উত্তেজনা বোধ করে। এর কারণ কী? গরীবদের হাতে প্রচুর সময় থাকে, এজন্য তারা প্রয়োজনীয় -অপ্রয়োজনীয় বিষয় নিয়ে ভাবতে পছন্দ করে। ধনীরা খুব বেশি ভাবেনা, তারা কাজ করে ফেলে। কাজ করার জন্য যে মূলধন এবং সুযোগসুবিধা দরকার, সেটি তাদের আছে। আমি গরীব, হাতে অফুরন্ত সময় তাই এই বিষয়টা নিয়ে ভাবছি । ভেবে কিছু পেলে আপনাদের জানাবো। এখন যাই। সকালে অফিস আছে। চাকরি গেলে আবার খবর আছে ....তার আগে বানার্ড শ'র একটা লাইন বলি, The greatest of evils and the worst of crimes is poverty.

যাই কই ?

( চলতে পারে। চললে দারিদ্র নিয়ে সত্যিকারের কিছু গল্প শোনাবো। এই নোটের মতো থিওরি কপচাবো না। এটাকে একটি আগামী নোটের preface বলা যেতে পারে।)

দ্বিতীয় পর্ব ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/RABI08/29364064 http://www.somewhereinblog.net/blog/RABI08/29364064 2011-04-17 00:47:46
সন্ধান চাই

এই দুটি মেয়েকে খুজছি। সন্ধান দিন।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/RABI08/29363643 http://www.somewhereinblog.net/blog/RABI08/29363643 2011-04-16 12:42:46
দুই ভাইয়ের প্রেম দেখে আমার চোখে পানি এসে পড়লো ....
দুই ভাই।
এক ভাই থাকে পূর্ব পাকিস্তানে, আরেক ভাই পশ্চিম পাকিস্তানে।

http://www.youtube.com/watch?v=MIpvttQsS4k

পাকিস্তান ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচের দুই ভাইয়ের দেখা হয়ে গেল নর্থ গ্যালারিতে। পাকিস্তানি ভাইয়ের পাকিস্তানি জার্সি খুলে নিজের শরীরে জড়ালো বাংলাদেশী ভাই, বিনিময়ে নিজেরটা দিয়ে দিল উর্দুভাষী ভাইকে ...আহা, এমনও তো প্রেম হয়, চোখের জলে কথা কয় ...

View this link ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/RABI08/29350476 http://www.somewhereinblog.net/blog/RABI08/29350476 2011-03-24 20:28:36
ক্রিকেট হূদরোগের জন্য উপকারী? ঢাকা থেকে যখন কলকাতায় রওনা দিয়েছিলাম, তখন আমার বন্ধুর মাথা ছিল আমার কোলে। প্রকৃতির নির্মম পরিহাসে ঢাকায় ফিরলাম বন্ধুর কোলে মাথা রেখে, প্রায় অর্ধমৃত অবস্থায়। আমার বাসা আত্মীয়স্বজনে ভরে গেল। দূর-দূরান্ত থেকে আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব, পাড়া-প্রতিবেশী হরলিকসের কৌটা নিয়ে আমাকে দেখতে এল। দেখা গেল, হূদরোগ বিষয়ে সবারই টনটনে জ্ঞান এবং অভিজ্ঞতাও প্রচুর। দু-একটা নমুনা দিই।
আমার অফিসের কলিগ, হামিদের কথা খেয়াল আছে না তোমার? (হামিদ নামের কাউকে আমি চিনি না, তবুও মাথা নাড়লাম।) গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে টিভিতে বসে তৃতীয় মাত্রা দেখছে, হঠাৎ বুকে চিড়িক দিয়ে ব্যথা। বউকে বলল, ফরিদের মা, এক গ্লাস পানি দাও। ফরিদের মা পানি এনে দেখে সব শেষ। হামিদ মরে পড়ে আছে। এক মিনিটেই মামলা খতম।
কাসেম চাচার কথা মনে আছে তোমার? এই তো সেদিন মোবাইলে কথা বলছিলেন, হঠাৎ করে হাত থেকে মোবাইল ছুটে পড়ে গেল। হার্ট অ্যাটাক, জায়গায় ডেড।
সবচেয়ে ভয়াবহ গল্প শোনাল ফিরোজ। ফিরোজের মতে, হূদরোগ হচ্ছে নীরব ঘাতক। তার গল্পটাও সেই রকম। এক লোক মিরপুর সনি সিনেমা হলের সামনে থেকে রিকশা নিয়েছে মিরপুর ১০ নম্বর যাবে বলে। রাস্তা ফাঁকা ছিল, রিকশাওয়ালা একটানে ১০ মিনিটে ১০ নম্বর এসে পেছনে তাকিয়ে দেখে সিট ফাঁকা। কী বিষয়? রিকশা আরোহী হার্ট অ্যাটাক করে মরে রিকশা থেকে মাঝ রাস্তায় পড়ে গেছে, রিকশাওয়ালা টেরও পায়নি।
এসব গল্প শুনে আমার হার্টবিট ৪৬ থেকে কমে ৪২-এ নেমে এল। কেউ বলল, ডাক্তার দিয়ে কাজ হবে না, রসুন খাও। আদাও খেতে পারো। আদা, মরিচ, রসুন, পেঁয়াজ, জিরা, হলুদ, গরম মসলা সবকিছুর মধ্যে কোনো না কোনো গুণ আছে, এটা মনে রাখবা। আরেক কবিরাজ দুলাভাই বললেন, সবকিছু বাদ দিয়া কালিজিরা মধু খাও। কালিজিরা মধু খেলে চারটি জিনিস বৃদ্ধি পায়। হার্টবিট, টাক মাথার চুল, ক্ষুধা এবং ...। চতুর্থ জিনিসটির নাম আমি বলতে চাইছি না।
যে যা-ই বলে, আমি বিপুল বিক্রমে সেটাতেই ঝাঁপিয়ে পড়ি। রসুন খাই। রসুন খেয়ে হাসপাতালে গিয়ে ইসিজি করাই, দেখি হার্টবিট বাড়ল কি না। কালিজিরা মধু খাই, খেয়ে আবার ইসিজি। রসুন, কালিজিরা, মধু তিনটা মিশিয়ে আবার ইসিজি। এর মধ্যে ফিরোজ উপদেশ দেয়, রোজ দুই ঘণ্টা করে হরর সিনেমা দেখেন, হার্টবিট বাড়বে। হরর সিনেমার বদলে ক্রাইম ম্যাগাজিনও পড়তে পারেন, তবে ওটা বেশি রিস্কি। মাস খানেকের মধ্যেই আমি হরর সিনেমা দেখতে দেখতে হিচককের ভক্ত হয়ে গেলাম। আরেকজন বুদ্ধি দেয়, শেয়ারবাজারে ইনভেস্ট করেন, হার্টবিট না বাইড়া যাইব কই? বহু ঝামেলা করে বিও অ্যাকাউন্ট খুলে শেয়ারে নামলাম। দিনশেষে শেয়ারের দাম বাড়ে, হার্টবিট বাড়ে না। ওটা ৪৬ থেকে ৪৮-এর মধ্যে ওঠানামা করে। এর মধ্যেও ব্যাপার আছে। পুরুষ ডাক্তার ইসিজি করালে হার্টবিট হয় ৪৬, সিস্টার করালে একটু বেড়ে ৪৮। এটা আমার দোষ না ইসিজি মেশিনের দোষ—কিছুই বুঝি না।
ওষুধপত্র, আদা-রসুন, কালিজিরা মধু, হরর সিনেমা এবং শেয়ারবাজারের বদৌলতে দুই বছরে আমার হার্টবিট বেড়ে হলো ৫০।
১১ মার্চ ২০১১। বাংলাদেশ-ইংল্যান্ড ম্যাচ। বাংলাদেশ ৮ উইকেটে ১৭১। জয়ের জন্য দরকার ৫৫ রান। আমি হার্টের রোগী, কাজেই এমতাবস্থায় খেলা দেখা বাদ দিয়ে আমি ফেসবুকে বসলাম। একটু পরে হঠাৎ হইচইয়ের শব্দ পেয়ে ছুটে গেলাম টিভিরুমে। মাহমুদুল্লাহ একটা ৪ মেরেছে। আমার বুক ঢিপঢিপ করছে। মিতু বলল, তোমার কি খারাপ লাগছে? আমি কম্পিত কণ্ঠে বললাম, আমার হার্টবিটটা চেক করে দ্যাখো তো? মিতু মেপে বলল, ৫৮। এর মধ্যে শফিউল আরেকটি ৪ মেরে বসল। আমি বললাম, আবার মাপো, মিতু জানাল ৬০। এক বল পরেই মিতু—সরি, মিতু না—শফিউল ৬ মারল। মিতু আবার হার্টবিট মাপল। রান দরকার ৩৯, বল বাকি আছে ৪৮, হার্টবিট ৬৪। মাহমুদুল্লাহর আরেক রান, হার্টবিট ৬৫। পরপর তিনটা ডট বল, হার্টবিট নেমে এল ৬৩-তে। আবার এক রান, হার্টবিট ৬৪। ৪৪ ওভার শেষে ৮ উইকেটে ১৯২। বল বাকি ৩৬, রান দরকার ৩৪। রানরেট ৪.৩৬, রিকোয়ার্ড রান রেট ৫.৬৬, হার্টবিট ৬৪। ৪৬তম ওভারের দ্বিতীয় ও পঞ্চম বলে শফিউলের দুই-দুইটা ৪। হার্টবিট এক লাফে ৭০। ৪৮ ওভার শেষে মাত্র ৫ রান দরকার, বল আছে ১২, রানরেট ৪.৬, রিকোয়ার্ড রানরেট ২.৫, হার্টবিট ৮০।
এরপর একটা লেগ বাই, হার্টবিট ৮৪। পরের বলে কোনো রান নেই, উত্তেজনা চরমে, হার্টবিট ৮৮। পরের বলে এক রান। হার্টবিট ৯২। পরের বলে কোনো রান নেই, হার্টবিট ৯৮, সঙ্গে সামান্য শ্বাসকষ্ট। পরের বলও ডট, হার্টবিট ১৩০। পরের বলে মাহমুদুল্লাহ সপাটে ব্যাট চালালেন। আর মাপতে হলো না, বুকের ঢিপঢিপ শব্দ গুনে দেখলাম হার্টবিট আনুমানিক ২৬০, বল মাঠের বাইরে , চা-আ-আ-আ-র-র-র। আমি জ্ঞান হারালুম।

শেষকথা: স্বাভাবিকের চেয়ে কম হার্টরেট থাকলে সেটাকে বলে ব্র্যাডিকার্ডিয়া (Bradycardia)। এটা একটা অসুখ। আবার স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হার্টরেটও আরেক ধরনের অসুখ। এর নাম টেকিকার্ডিয়া (Tachycardia)।

২১-০৩-২০১১ তারিখে প্রথম আলোর রম্য সাময়িকী রস+আলো-তে প্রকাশিত]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/RABI08/29348918 http://www.somewhereinblog.net/blog/RABI08/29348918 2011-03-22 01:02:26
ড. ইউনূস, এর নাম বাংলাদেশ। আমাদের অর্থমন্ত্রীর বয়স ৭৭।
খালেদা জিয়ার বয়স ৬৬।
এরশাদ সাহেবের বয়স ৮১।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বয়স ৬৪।
প্রত্যেকে ৬০ বছরের উর্ধ্ধে থাকা সত্ত্বেও স্ব স্ব পদে বহাল আছেন।
কেবল ড. ইউনূসের বেলায় তাহার বয়স কাল হইয়া দাড়াইলো।
এর নাম বাংলাদেশ।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/RABI08/29337161 http://www.somewhereinblog.net/blog/RABI08/29337161 2011-03-03 01:01:06
দুই টিকিটে হাফ ছবি আমি বললাম, পৃথিবীর তিনটি বিষয়ে আমার কোনো আগ্রহ নেই।
এক. ক্রিকেট, দুই. ক্রিকেটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, তিন. ক্রিকেটের সমাপনী অনুষ্ঠান। ইশতিয়াক বোঝাল, আহা, এটা আগ্রহের বিষয় না। এটা হচ্ছে নিজেকে একটা ঐতিহাসিক দুর্লভ মুহূর্তের সঙ্গে যোগ করার বিষয়। আপনি যখন বুড়ো হবেন, তখন আপনার নাতি-নাতনিরা যদি জিগায়, যখন বিশ্বকাপ হয়েছিল তখন তুমি কত বড় ছিলা? তুমি স্টেডিয়ামে গেছিলা? কী জবাব দিবেন?
আমার মনে পড়ে যায়, আমিও আমার নানাকে শুধিয়েছিলাম, একাত্তরে...।
আমি চোখের সামনে পরিষ্কার দেখলাম, এক দঙ্গল নাতি-নাতনি আমার সামনে বসে আছে। তারা বলছে, নানা, গল্পটা বলো না...
আমি ইশতিয়াককে বললাম, ভাই, আমি অনুষ্ঠান দেখব। টিকিট জোগাড় করে দাও...
ভাই, সম্ভব না। আপনে চাইলে নারায়ণগঞ্জের যেকোনো পার্টির এমপি ইলেকশনের টিকিট ম্যানেজ কইরা দিতে পারমু। কিন্তু এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের টিকিট লাখ টাকা দিলেও পাইবেন না। ভাই, আমারে মাপ করেন।
আমার মাথা খারাপ হয়ে গেল। নানা জায়গায় ফোন দিতে শুরু করলাম। সবার একই ভাষ্য, আগে কেন বললেন না?
একজন বলল, একটা এক্সট্রা টিকিট ছিল আমার হাতে। একটু আগেও যদি বলতেন দিতে পারতাম। বললাম, কতক্ষণ আগে বললে দিতে পারতা...
এই এক সেকেন্ড আগে...
এক সেকেন্ডে তোমার টিকিট নাই হইয়া গেল...
ভাই, দিনকাল এখন যা ফাস্ট হইছে...
(যে এই কথাটা বলছে, তার নাম প্রকাশ করলাম না। তাহলে লেখাটা ছাপা না-ও হতে পারে।)

অনুষ্ঠান শুরুর ঘণ্টা দুয়েক আগে ইশতিয়াক খুব ব্যস্ত ভঙ্গিতে জানাল, ভাই, পাওয়া গেছে, জলদি দুই হাজার ট্যাকা দ্যান।
আমি অ্যাকাউন্ট ডিপার্টমেন্ট থেকে দুই হাজার টাকা অ্যাডভান্স উঠিয়ে ইশতিয়াকের হাতে দিলাম। ও বলল, আরও পাঁচ শ দ্যান।
কেন?
যে টিকেট নিয়া আসব, তার সিএনজি ভাড়া দিতে হবে।
সিএনজি ভাড়া পাঁচ শ টাকা?
ভাই, এটা একজনের ভাড়া না। উনি সিএনজি নিয়া যে জায়গায় আসবেন, আমারও সিএনজি নিয়া ওই জায়গায় যাইতে হবে।
এরপর আমি ক্ষীণ গলায় বললাম, দুইজনের সিএনজি নেবার দরকার কী? উনাকে এখানে আসতে বলো।
এই কথা বলায় ইশতিয়াক যে ভঙ্গিতে আমার দিকে তাকাল, আমি আর কথা না বাড়িয়ে আবার ছুটলাম। এবার পিয়নের কাছ থেকে টাকা ধার করলাম।
টাকা নিয়ে ইশতিয়াক ছুটে বেরিয়ে গেল। এবং কী আশ্চর্য, ইশতিয়াক বেরিয়ে যাওয়ার পর আমার মনে পড়ল ওই গল্পটার কথা। এক রাজার কাছে একজন এসে বলল, আমাকে যদি এক লক্ষ স্বর্ণমুদ্রা দেন, তাহলে আমি আপনাকে এক মাস পর এমন একটা ঘোড়া দেব যেটা ডানা মেলে আকাশে উড়বে। রাজা তাকে টাকাটা দিয়ে দিলেন। পরের সপ্তাহে রাজা দেখলেন রস+আলোতে বর্ষসেরা বেকুব লোকদের একটা তালিকা ছাপা হয়েছে। সেখানে এক নম্বরে রাজার নাম।
গল্পটা মনে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমি ইশতিয়াককে ফোন দিলাম। মোবাইল ফোনে রিং হয়, কেউ ধরে না। এক মিনিট পর আবার ফোন দিলাম। মোবাইল ফোন বন্ধ।

২.
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার এক মিনিট আগে অন্য উপায়ে একটি টিকিট ম্যানেজ করে লাইনে দাঁড়ালাম। ততক্ষণে গেট বন্ধ। শুনলাম, পিএম নাকি এখন ঢুকবেন, সিকিউরিটির কারণে আপাতত গেট বন্ধ। আমি অস্থির হয়ে পড়লাম। পেছনে দাঁড়ানো একজন আমার কাঁধে হাত রেখে পরিষ্কার ইংরেজিতে বললেন, ডোন্ট ওরি। যেহেতু টিকিট আছে, কাজেই একটু সময় লাগলেও ঢুকতে পারবে। দেখো তোমার টিকিটে সিট নাম্বার দেওয়া আছে। এর মানে কী? তোমার জন্য একটি আসন বরাদ্দ আছে। ওটা ফাঁকাই আছে তোমার অপেক্ষায়। কথাটা বলে তিনি নিজের টিকিট বের করে দেখিয়ে মুচকি হাসলেন।
বললাম, ভাই, আপনি কী করেন?
উনি বললেন, স্যরি, তোমার কথা বুঝতে পারছি না। তুমি কি ইংরেজিতে বলবে...
তখনই আমার ভুল ভাঙল। উনি
বিদেশি। জিজ্ঞেস করে জানলাম মালয়েশিয়ান। ক্রিকেট দেখার জন্য বাংলাদেশে এসেছেন। আশ্চর্য, মালয়েশিয়ানদের চেহারা বাঙালিদের মতো হয়? একটু পরে একই ভুল পুলিশ ভাইয়েরা করলেন। ভিড় বেড়ে যাওয়ায় তারা মৃদু লাঠিচার্জ করে গেট থেকে আমাদের হটিয়ে দিলেন। আমি অভিজ্ঞ, এ জন্য দৌড়ে রক্ষা পেলাম। ওদিকে এই মালয়েশিয়ান ব্যাটা তো বাংলাদেশে নতুন এসেছে আর পুলিশ ভাইয়েরাও তার চেহারা দেখে বোঝেননি উনি বিদেশি। কাজেই সামান্য একটা ভুল বোঝাবুঝি ঘটে গেল। মালয় ব্যাটা রাগে কাঁপতে কাঁপতে টিকিট (যেখানে সিট নাম্বার দেওয়া আছে) নিয়ে বেরিয়ে গেলেন সোজা দক্ষিণ দিকে। ওদিকে ওনার হোটেল, আবার আরেকটু গেলে এয়ারপোর্টও।
আমি সেই অন্তিম সময়ে ইশতিয়াককে আবারও ফোন দিলাম। অবাক কাণ্ড। এবার ও ফোনটা ধরল। বললাম, টিকিট কই?
আমার কাছে।
তুমি কই?
স্টেডিয়ামের ভেতর।
টিকিট দাও...
ভেতরে আইসা নিয়া যান...
টিকিট ছাড়া আমি ভেতরে আসব কীভাবে?
ভাই, আমি কী করমু। দাঁড়ান দেখি কী করা যায়।
ওর মোবাইল ফোন আবারও দীর্ঘক্ষণের জন্য বন্ধ হয়ে গেল।

৩.
অবশেষে সন্ধ্যা সাতটায় ঢুকতে পারলাম। ততক্ষণে অনুষ্ঠান অর্ধেক শেষ। মানুষ এক টিকিটে দুই ছবি দেখে। আমি দুই টিকিটের দাবিদার হয়ে অর্ধেক অনুষ্ঠান দেখলাম। তবুও চোখ জুড়িয়ে গেল। অসাধারণ অনুষ্ঠান, ধন্যবাদ বাংলাদেশ। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/RABI08/29336138 http://www.somewhereinblog.net/blog/RABI08/29336138 2011-03-01 13:40:31
দুই লাখ ষাট হাজার টাকা , ভিখারুন নিসা স্কুল এবং একজন বামপন্থী নেতা দেখুন।
পড়ুন
প্রতিবাদ করুন।

দুই লাখ ষাট হাজার টাকা এখন আমি কোথায় পাবো? ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/RABI08/29285538 http://www.somewhereinblog.net/blog/RABI08/29285538 2010-12-07 23:30:17
দুই লাখ ষাট হাজার টাকা এখন আমি কোথায় পাবো?
ব্যাপক টেনশনে দিন কাটতে লাগল। মেয়ের মা ঠিক করল, লটারির দিন সে রোজা রাখবে। এর মধ্যে উড়া উড়া শোনা গেল, যারা টিকেছে, তাদের আরও এক দফা বাছাই করা হবে। তারপর লটারি। আমাকে একজন বলল, ভাই , আপনি লাইনে আসেন। আমি বললাম, ভাই আমি তো কয়েকদিন ধরেই লাইনেই জীবনযাপন করছি। এরপর আমার সেই শুভাকাঙ্খী যা বললেন, তাতে আমার ঘাড়ের চুল পর্যন্ত দাঁড়িয়ে গেল। একজন নেতা আছেন, তাকে দেড় লাখ টাকা দিতে হবে, সাংবাদিক দেখে এই বিশেষ কনসেশন, অন্যদের তিন চার লাখ লাগছে। নেতা আবার বামপন্থী, কাজেই ধনী গরীব যে কেউ তার এই অনুগ্রহ পেতে পারবে, এখানে কোনও দলীয় বিবেচনা থাকবে না। তার অনুগ্রহ পেলে আমার মেয়ের নাম লটারির জন্য মনোনীত হবে, এবং লটারিতেও টিকবে। তবে যিনি নেতার সাথে যোগাযোগ করিয়ে দেবেন , তাকে অতিরিক্ত দশ হাজার দিতে হবে। বলাবাহুল্য, এটা আমার বিশ্বাস হয় নাই।
আজ অবাক হয়ে দেখলাম, লটারির জন্য আমার মেয়ে মনোনীত হয়নি, আমার সেই শুভাকাঙ্খী আমাকে জানালেন, এখনও সময় আছে, দেরী হওয়ায় রেট গিয়ে দাঁড়িয়েছে আড়াই লাখ টাকায়,পরে আর পাওয়া যাবেনা। যোগাযোগের দালালি বাবদ দশসহ দুই লাখ ষাট হাজার টাকা এখন আমি কোথায় পাবো?]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/RABI08/29285304 http://www.somewhereinblog.net/blog/RABI08/29285304 2010-12-07 16:02:01
গ্রামীন ফোন ইন্টারনেটের .... http://www.somewhereinblog.net/blog/RABI08/29264766 http://www.somewhereinblog.net/blog/RABI08/29264766 2010-10-31 23:46:19 মুসার কিছু ছবি মুসা ইব্রাহীমের এভারেস্টের বিজয়ের ছবি।

ধন্যবাদ। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/RABI08/29252940 http://www.somewhereinblog.net/blog/RABI08/29252940 2010-10-11 12:03:55
চিত্ত যেথা মডারেটেড : মুসা বিতর্ক অবসানের দিকে এবং বাংলা ব্লগের ১০.১০.১০ বিজয়
সচলায়তনের ব্লগার, মডারেটর এবং মালিক হিমু নেভারেস্ট সিরিজ লিখছেন কয়েক মাস ধরেই। এই সিরিজের মূল বাণী হলো, মুসা এভারেস্টে উঠে নাই, সে জাতির সাথে প্রতারণা করেছে। এই ভয়ংকর অভিযোগটির স্বপক্ষে আজ অব্দি দূর্বল কিংবা সবল কোনও প্রমাণই তুলে ধরতে পারেননি হিমু। যেখানে সব মিলিয়ে নেভারেস্ট সিরিজের ৬ কী ৭টি পর্ব প্রকাশিত হয়েছে।

যদিও , হিমু আমাদের ধারাবাহিকভাবে আশ্বাস এবং প্রলোভন দেখিয়েছেন যে, নেভারেস্টের শেষ পর্বে দারুন একটা প্রমাণ তিনি দেখাবেন। ব্লগের পাঠককুল এবং আমি নিজেও সেই দারুন প্রমাণের অপেক্ষায় ছিলাম।

কয়েক মাসের সেই দীর্ঘ এবং রুদ্ধশ্বাস অপেক্ষার অবসান শেষমেষ হয়েছে। অবশ্য প্রতীক্ষার অবসান হিমু করেননি, করেছেন সচলের আরেক প্রতিষ্ঠাতা ব্লগার জলদস্যূ। গত শুক্রবার বাংলাদেশ সময় ৭.১৯ মিনিটে তিনি একটি পোস্ট দিয়েছেন। এই আপাত নিরীহ পোস্ট নেভারেস্ট সিরিজের ভিত কাঁপিয়ে দিয়েছে। হিমুর ঝোলায় লুকিয়ে থাকা তুরুপের তাসটি বেরিয়ে গেছে এবং আমরা সবিস্ময়ে দেখছি, যেটিকে এতোদিন যাবৎ তুরুপের তাস বলে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হয়েছিল , সেটি আসলে একটি নিরীহ জোকার কার্ড ছাড়া আর কিছুই না। ব্লগার জলদস্যুকে অভিনন্দন। ( হিমু নিজেও জলদস্যু,তবে সেটা হাটুপানির, এটা তার প্রোফাইলে লেথা আছে। )

এই সময়ে খুব স্বাভাবিক কারণে হিমুর মাথা খারাপের মতো হয়ে গেল। ওই পোস্টের ১নং মন্তব্যে তিনি স্বীকার করলেন, যাকে তিনি এতদিন রাজস্বাক্ষী ভেবে এসেছিলেন, তিনি সোজাসাপ্টা বলে দিয়েছেন যে , মুসা এভারেস্টে উঠেছে। হতবুদ্ধি, হতাশ এবং ক্ষুব্ধ হিমু - এই সময় পাঠকদের নজর অন্য দিকে ঘুরিয়ে দেবার জন্য তড়িঘড়ি করে আরেকটি প্রায় নেভারেস্ট দিলেন। তাতেও কাজ হল না দেখে, পেচানোর শেষ চেষ্টা করতে গিয়ে আবারও ধরা খেলেন। ( দেখুন ২ নং মন্তব্য )

হিমুর লুঙ্গি খুলে যাওয়ার এই অন্তিম সময়ে আমি তার পাশে দাঁড়ালাম। তাকে পরামর্শ দিলাম, সত্যটাকে মেনে নিয়ে সেটাকে স্বীকার করে নিতে। এতে লজ্জার কিছু নেই। বরঞ্চ একজন ব্লগার হিসেবে কেবল নয়, একজন মানুষ হিসেবে তিনি অনেক উঁচুতে উঠে যাবেন।

আমার এক কালের সহপাঠী হিমু যথারীতি তার স্বভাবধর্ম অনুসারে আমার সাথে মুলামুলি শুরু করলেন। আমাকে ঘায়েল করার জন্য নানা কূটতর্কের অবতারণা করলেন ( দেখুস মন্তব্য নং ৮) । আমি ধৈর্য্য ধরে একে একে সব প্রশ্নের জবাব দিলাম ( মন্তব্য নং ৯, ১১) । সারা রাত ধরে তিনি জেরা করলেন, আমি তাকে সর্বোতভাবে সহযোগিতা করে জবাব দেয়া চালিয়ে গেলাম। সকাল ৭ টার দিকে তিনি ‘তর্ক চলবে’ বলে কয়েক ঘন্টার ব্রেক চাইলেন।

ইতিহাসে এই প্রথম বারের মতো তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষ্যামা দিলেন। দেখুন ১২ নং মন্তব্য।


আমাকে জেরা করতে গিয়ে তিনি নিজেই হাঁপিয়ে গেলেন।

যাই হোক , মানবিকতার খাতিরে বেশ কয়েক ঘন্টার ব্রেকই দেয়া হল। দুপুরে আবার আমাদের কথপোকথন শুরু হলো। আমার একটি বক্তব্যের পর, তিনি তার কথা বললেন। আমি পাল্টা উত্তর দিলাম। এরপর তিনি যেই কান্ড করলেন, সেটার সাথে ‘ভয়শূন্য চিত্ত ’ আর ‘উচ্চ শিরের’ গল্পটি মেলে না। তিনি আমার কমেন্ট প্রকাশ বন্ধ করে দিলেন। আমার বক্তব্য বন্ধ করলেন, কিন্তু তার বক্তব্য এক তরফা চালিয়ে গেলেন এবং এখন পর্যন্ত চালিয়ে যাচ্ছেন।

আমি এই দুঃখজনক এবং কলংকজনক ব্যাপারটিকে সত্যের জয় হিসেবেই দেখতে চাই। তিনি বুঝতে সমর্থ হয়েছিলেন যে, ক্রমাগত মিথ্যার ভীড়ে - বিনীত কয়েকটি সত্যের সামনে এসে তিনি কোনঠাসা হয়ে গেছেন, আমার মুখ বন্ধ করা ছাড়া , তার আর কোনও উপায় নেই।

আমার মুখবন্ধ করার পরও আমি অনেকক্ষণ অপেক্ষা করেছি , এই বিশ্বাসে যে, সচলের আরও অন্য মডারেটর আছেন। তারা নিশ্চয়ই ব্যাপারটি দেখবেন।

অপেক্ষার ২৪ঘন্টা পূর্ণ হলো, এখন আমি প্রতিবাদ না করলে ২০৪৩ সালে গিয়ে হয়তো আমাকে লিখতে হবে , তেত্রিশ বছর কাটলো ....কেউ কমেন্ট প্রকাশ করেনি।


আসলে স্বৈরাচার হওয়ার জন্য একটি রাষ্ট্রের প্রধান হতে হয় না। ছোট্ট একটা পৌরসভার ক্ষুদে চেয়ারম্যান, দুই রুমের ক্ষুদ্র একটি অফিসের ছোট্ট মালিকও স্বৈরাচার হতে পারেন। স্বৈরাচারিতাও এক ধরণের আদর্শ যেটা মনে মনে অনেকেই লালন করেন। সচলের স্লোগানটি সুন্দর স্লোগানের আড়ালে রয়েছে ওই স্বৈরাচারী আদর্শটি। ফলে স্লোগান যাই থাকুক না কেন, ব্যাপারটি আসলে চিত্ত যেথা মডারেটেড, নিত্য যেথা শিরচ্ছেদ

প্রিয় সচল মডারেটর ,শির কতটা উচু হলে আপনি ক্যাঁচ করে সেটিকে কেটে দ্যান,মাপটা আমাকে জানাবেন কী?

আমি জানি না, হিমুর মন্ত্রী সভার সদস্য,সচলের অপরাপর মডারেটররা কী করবেন? এরশাদের সহযোগী মওদুদ আহমেদ, শাহ মোয়াজ্জেম হোসেনের ভূমিকা নেবেন , নাকি অন্য কোনও ব্যাপার হবে ?

যাই হোক।

যেসব পাঠক হঠাৎ করে আমাকে বাকরুদ্ধ দেখে থমকে গেছেন , ভাবছেন কী হলো , তাদের জন্য ব্যাপারটি শেয়ার করলাম।

তাদেরকে আরও জানাতে চাই, হিমুকে দেয়া সেইসব অপ্রকাশিত এবং অকথ্য বক্তব্যগুলি আমি একে একে এখানে পেশ করবো।

মহামান্য হিমু,

আপনারও যদি কোন প্রতিউত্তর থাকে, তাহলে আপনিও এসে এখানে যোগদান করতে পারেন। এমনকি সালিশ কিংবা জেরাও করতে পারেন। একরাত, একদিন আপনার ব্লগে হত্যে দিয়ে পড়ে ছিলাম, সুবিধা করতে না পেরে মুখ চেপে ধরেছেন, তবুও শেষমেষ আমি বাংলা ব্লগিংয়ের জয়গান গাইতে চাই। আপনি আমার ব্লগে আসুন, কোনও উত্তর জানা না থাকলে অক্ষমতা স্বীকার করে নেবো, আপনার মন্তব্য আটকে রাখবো না, আপনার মুখও চেপে ধরবো না। নিজ নিকে অথবা অন্য যেকোনও নিকে ( এক কিংবা একাধিক) অথবা আপনার ভাইব্রাদারদের নিকে প্রশ্ন করতে পারেন, প্রশ্নের উত্তরও দিতে পারেন। কোনও বাঁধা নেই। সকল স্বাধীনতা আপনাকে দেয়া হল।

বাংলা সিনেমায় দেখা রুবেলের একটি ডায়লগের কথা মনে পড়েছে। আপনি যদি এক বাপের সন্তান হন, তাহলে .... এটা বাংলা সিনেমা নয়, বাংলা ব্লগ। কাজেই ওভাবে আমি বলতে পারি না, চাইও না। ন্যুনতম সততা থাকলে, আসুন কথা বলি।

অনুগ্রহ করে ভিওআইপিতে ফোন দেবার চেষ্টা করবেন না। যা বলার, ব্লগেই সবার সামনে কথা হোক, সবাই দেখুন আপনার চেহারা, আমার চেহারা এবং মুসা ইব্রাহীমের চেহারা।


প্রিয় ব্লগার, গতকাল ছিল একটি কালো দিবস। মুখ বন্ধ করে দেবার দিন। আজ ১০.১০.১০ দিনটিকে আমি মুখ খোলার দিন হিসেবে পালন করতে চাই। বাংলা ব্লগ প্রমাণ করলো, এখানে কাউকে মুখবন্ধ করে রাখা যায় না। নিজের পাড়ায় আপনার শির কেউ কেটে ফেললেও, সেই শির আরও উন্নত হয়ে দাঁড়াতে পারে বৃহত্তর কোন পরিসরে , কোনও ছেলে ভোলানো স্লোগান ছাড়াই।


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/RABI08/29252566 http://www.somewhereinblog.net/blog/RABI08/29252566 2010-10-10 17:48:55
প্রায় এক্সট্রা লার্জ ফুটোস্কোপিক সচিত্র রুপকথা : ১
প্রিয় ব্লগারগণ, আমি একটি বই লেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গতরাতে একটি চ্যাপ্টার লিখে ফেলেছি। চার ফর্মার বইয়ের জন্য আমাকে আরও কয়েকটি চ্যাপ্টার লিখে ফেলতে হবে। এজন্যই এই পোস্ট। বইয়ের প্রচ্ছদ হিসেবে প্রাথমিকভাবে এই চিত্রটি মনোনীত হয়েছে। কার্টুনিস্ট রকি বইটির একটি সুন্দর নাম প্রস্তাব করেছেন, হিমুর হাতে কয়েকটি হিমালয়। তাকে আমার আন্তরিক মোবারকবাদ এবং অভিনন্দন। বর্তমানে প্রকাশক খুঁজছি। একজন প্রকাশক আমার সাথে আজ দুপুরে স্কাইপিতে কথা বলেছেন। আমি ঠিক করেছি-এই কথপোকথনটিও বইয়ের একটি চ্যাপ্টার হিসেবে ঢুকিয়ে দেবো। দরকার হলে বইয়ের ফ্ল্যাপে সিডি গুজে দেবো।তাহলে মোটামুটি বলা যায়, আমার দুই ফর্মা বই হয়ে গেছে।

আমি এই ঐতিহাসিক মূর্হুতে সকলের সহযোগিতা চাচ্ছি। এই বইটির বাকী ফর্মাগুলোর জন্য আপনাদের সরবরাহকৃত মাল মশলা দরকার। যেকেউ যখন তখন স্কাইপিতে আমার সাথে কথা বলতে পারেন। অথব%]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/RABI08/29250621 http://www.somewhereinblog.net/blog/RABI08/29250621 2010-10-06 23:38:40
এক্সট্রা লার্জ ফুটোস্কোপিক সচিত্র অডিওভিস্যুয়াল ডিজিটাল রুপকথা : হিট লেখক বলেছেন হিমু।
আর এক্সট্রা লার্জ ফুটোস্কোপিক রুপকথা মানে, ফুটোটা আকারে বড়, আর রুপকথাটি ছবি, ভিডিও, অডিও এবং ওয়েব লিংক দ্বারা সমৃদ্ধ

হিট লেখক
- এক দেশে ছিল এক হিমু
- কোন দেশে?
- এই দেশে।
- তারপর?
- তার ইচ্ছা সে খুব হিট লেখক হবে। কাতারে কাতারে মানুষ তার বই কিনবে। বই ছাপা হওয়ামাত্র সব কপি শেষ হয়ে যাবে। সকালে একটা এডিশন বের হবে, তো দুপুরে আরেকটা এডিশন প্রেসে চড়বে। সবাই হুমড়ি খেয়ে পড়বে বইটা কিনতে। মেয়েরা তরল গলায় বলবে, ভাইয়া একটা অটোগ্রাফ ...
- তারপর?
- লেখকের তোষকের নীচে তার লেখা কিছু পুরনো গল্প ছিল। তিনি ওগুলো ঘর ঝাড়– দিয়ে কিছুদিন আগেই খুঁজে বের করেছিলেন, পুরনো কাগজ হিসেবে বেচে দিয়ে কটকটি খাবেন বলে। তো সেই আবর্জনাগুলোকে এক করে (মানে সংকলিত করে ) বই বের করে ফেললেন।
- কি বই?
- এই বই ।
-তারপর?
- বই তো বের হলো। এখন তো ঢোল বাজাতে হবে। হিমু সাহেব কিছু ঢুলি জোগাড় করলেন। তারপর সেই বই নিয়ে শুরু হলো লংকা কান্ড। এক বড় ভাইয়ের হাত পা ধরে সেই বইটার খুব জম্পেশ বাক বাকুম মার্কা একটা মোড়গ উন্মোচন করা হল।
- মোড়গ উন্মোচন কী?
- মোরগ হচ্ছে মুরগির হাজবেন্ড। মুরগি ডিম পাড়ে, মোড়ক শুধু কক কক করে। মোড়গ উন্মোচন হচ্ছে কক ককানি উৎসব।
- আচ্ছা। তারপর কী হলো?
- খুব ঢাকঢোল পিটিয়ে মোড়গ উন্মোচন করা হল। বইমেলা চত্তরে ঢুলীরা সবাই ঢোল বাজালোনারী এমনকি শিশুরাও ঢোল বাজাতে ছাড়লেন না। সেঁকিঁ হাঁতঁতাঁলিঁ বাঁজঁলোঁ। সেই হাততালির চোটে বাংলাদেশের সমস্ত অতিথি পাখি ভয়ে সাইবেরিয়ায় ফিরে গেল। সবাই বই নিয়ে ভালো ভালো কথা বললেন আর কি। বইটির ভূয়সী প্রশংসা করা হল । সেই বড় ভাইয়ের বদৌলতে একটা ছিটি পুরষ্কারের ব্যবস্থাও হলো । চারিদিকে ধন্য ধন্য পড়ে গেল। আরও কত কিছু যে করা হল ...
- আর কি কি করা হল?
- ব্লগে গাদা খানেক পোস্ট দেয়া হল , লেখকের অডিও সাক্ষাৎকার নেয়া হল , ওয়েব সাইট খোলা হল , মতামতের জন্য পুল ওপেন করা হল । আরও কত কি ...... সবই লেখকের ঐকান্তিক চেষ্টায়। কিন্তু তা হলে কী হবে? সেই বই আ-আ-আ-র চলে না। এতো বাজনাবাদ্যির পরও মাত্র ৩ কপি বিক্রি হল। একটা কিনলো হাজী মামুন , আরেকটা বই কিনলেন লেখক নিজে , তিনি একটা বিদেশী হুন্ডি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রকাশককে বইয়ের মূল্য পাঠিয়ে দিলেন। প্রকাশক আরেকটা বিদেশী কুরিয়ার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এক কপি বই পাঠিয়ে দিলেন লেখক হিমু সাহেবকে। ৩য় বইটা যে কে কিনলো, সেটা বেরই করা গেল না। বোধহয় মিথষ্ক্রিয়ায় সুবিধা করতে না পারা কোনও অতিথি লেখক হবেন।
- তারপর?
-তারপর লেখকের মন খুব খারাপ। ভাবলেন হায় হায়, তার বুঝি লেখক হওয়া হলো না। এদিকে দিন পার হয়, বছর পার হয়, কলমের কালি শুকিয়ে যায়, অবিক্রিত বইয়ের কপিতে বর্ষার বৃষ্টিতে ছাতা ধরে , লেখকের চুল বড়ো হতে থাকে ..... তখন তার বন্ধু হাজী মামুন তাকে একটা আইডিয়া দিল, ওস্তাদ আরেকটা বই লেখেন ... যে বই বাবা কিনবে এক কপি, ছেলে লুকিয়ে কিনবে আরেক কপি। লেখক ধমক দিয়ে হাজীকে থামিয়ে দিলেন। বললেন, চটি আমি লিখবো না রে, মান সম্মান যা অবশিষ্ট আছে, কিছুই থাকবে না। তখন হাজী মামুন তাকে বুদ্ধি দিল, এখন বাংলাদেশের সবচেয়ে হিট ব্যাক্তি হচ্ছে মুসা ইব্রাহীম । আপনে তার জীবনী লেখেন। লেখক হাজী মামুনকে আরেকটা ধমক দিলেন। এবারেরটা বেশ জোরে।
- কেন?
- কেন আবার? মুসার জীবনী লেখার জন্য কত লোক লাইন দিয়ে আছে। হক, রবি, সিমু ....আর তাছাড়া মুসা নিজেই তো লেখক, সে তার কাহিনী অলরেডি লেখা শুরু করে দিছে।
- তারপর কী হল ...
- হঠাৎ তখন লেখকের মাথায় একটা আইডিয়া এলো। যেটাকে বলে অ্যান আইডিয়া ক্যান চেঞ্জ ইয়োর লাইফ। মুসা তো উচুঁতে উঠে রেকর্ড গড়েছেন, লেখক নিচুতে নেমে রেকর্ড করবেন। মুসাকে তিনি এভারেস্ট থেকে টেনে নামাবেনই। তসলিমা নাসরিন যেমন লজ্জা লিখে হিট হয়ে ছিলেন। ওটি দেখে এক মাওলানা ‘তসলিমার লজ্জা’ নামে আরেকটি বই লিখে ছিলেন, সেটিও হিট হয়েছিল। কাজেই মুসাকে নিয়ে কুৎসা লিখলে ওটা তো হিট হবেই। তখন লেখক করলো কি আদার সাথে জল মেশালো, তার সাথে মেশালো একটু বিয়ার। তারপর আদাজলবিয়ার খেয়ে তিনি লিখতে শুরু করলেন। কয়েক ছত্র লিখলেন। কিন্তু এতো অল্প লেখায় কি আর বইয়ের ফর্মা পুরে। এজন্য তিনি হঠাৎ তেনা প্যাচাতে শুরু করলেন। তবুও তো বইয়ের মাল মশলা শেষ হয় না। তখন লেখক করলেন কী...গণহারে সবাইকে ভিওআইপিতে ফোন দেয়া শুরু করলেন। এদিকে বাংলাদেশের টেলিফোন সংস্থা তো রেগে বুম। কোথা থেকে এতো অবৈধ ভিওআইপির কল আসে?তারা গণহারে সবাইকে জরিমানা করে বসলেন । কত কোম্পানির কপাল পুড়লো । আর লেখক ত্যানা প্যাচাতেই থাকলেন।

- তারপর?
- তারপর আবার কী! ঘটনা প্যাঁচ খেয়ে গেল
- ভালোই তো চলছিলো, তাহলে ঘটনা প্যাঁচ খেলো কেন?
- কেননা ফিফা প্রমাণ দিতে থাকলেন যে হিমুর যা লিখছে সবই হাড়ে বংশে মিথ্যা।
- তারপর কী হল?
- কী আর হবে? লেখক উল্টা পাল্টা লেখা শুরু করলেন ।
- কী রকম উল্টাপাল্টা?
- রে পামর এই লিংকের ৬২.২.২ নং মন্তব্য দ্যাখ।





]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/RABI08/29250187 http://www.somewhereinblog.net/blog/RABI08/29250187 2010-10-06 02:05:24
আরিফের মাকে বাঁচাতেই হবে ... বাংলাদেশে মোটা দাগে দুটি দল রয়েছে, শাসক আর শোষিত। আমরা শোষিত। আমি আরিফের মায়ের জন্য সকলের কাছে হাত পাতছি। কোনও ধনী লোকের কাছে আমি সাহায্য চাইছি না। আমি সাহায্য চাইছি, আমাদের মতো যারা গরীব, তাদের কাছেই। বাংলাদেশে আমাদের মতো যারা খেঁটে খাওয়া গরীব তরুণ আছে, তাদের একটা অংশ যদি এগিয়ে আসে. তাহলে কয়েক মিনিটের মধ্যেই ব্যাপারটার সুরাহা হয়ে যায়। আমাদের সকলের খুব ক্ষুদ্র একটা প্রয়াস, একটা মায়ের জীবন ফিরিয়ে দিতে পারে। এটা অনেক বড়ো একটা ব্যাপার। আমাদের মাথার উপর কোনও মন্ত্রী মিনিস্টার নেই, আমাদের ছায়া দেবে এমন কোনও বড় প্রতিষ্ঠান নেই, কিন্তু আমাদের জন্য আমরা সকলে আছি। সকলের এই সম্মিলিত শক্তি অনেক বড়ো শক্তি, বিশ্বাস করুন। কাজেই আমাদের সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। আমাদের যে কারও ব্যক্তিগত বিপদকে মোকাবেলা করতে হবে , আমাদের মতোই সামান্য মানুষদের একত্রিত হয়ে।


আরিফকে সাহায্য করার জন্য কারও মহত হবার প্রয়োজন নেই। বরং সকলে যদি স্বার্থপরের মতো চিন্তা করি , তবুও সমস্যার একটা সমাধান হয়। সকলে যদি চিন্তা করি এই বিপদটা একদিন আমারও হতে পারে, আজ আমি যদি অন্যের বিপদে পাশে দাঁড়াই, তাহলে অন্যরাও একদিন আমার বিপদে আমার পাশে দাঁড়াবে।

আমি ভীষণ স্বার্থপর মানুষ , আমি এই চিন্তা থেকেই, আরিফের পাশে, আরিফের মায়ের পাশে দাঁড়াচ্ছি। আমার এই বিশ্বাস আছে, একদিন আমার বিপদেও কেউ একজন কলম ধরবে, কেউ কেউ এগিয়ে আসবে, অনেকে সাড়াও দেবে।

আপনার সাহায্য সেটা যত ক্ষুদ্রই হোক না কেন, প্লীজ, এই ঠিকানায় পাঠিয়ে দিন ...

Arifur Rahman
Dutch Bangla Bank
Shazadpur Branch
Savings Account No-157-101-8319
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/RABI08/29247218 http://www.somewhereinblog.net/blog/RABI08/29247218 2010-09-29 21:09:29