ট্যান্টালাসের এক পোষ্ট থেকে আমার অসম্ভব প্রিয় একটা গান পেলাম , সেটার লিরিক লেখার চেষ্টা করলাম। পরে পলাশমিঞা সংশোধন করেছেন।
আমি তার ব্যখ্যা করলাম। দেখেন কেমন হইছে। একটু মাতব্বরী করলে খুশিই হইতাম।
কাল জলে উছলা তলে ডুবল সনাতন
আজ চারানা কাল চারানা পাই যে দরশন।
লদীর ধারে চাষে বধু মিছাই কর আশ
ঝিরি হিরি বাকা লদী বইছে বার মাস।
কাল জলে উছলা তলে ঢুবল সনাতন
আজ চারানা কাল চারানা পাই যে দরশন।
চিংড়ি মাছের ভিতর কড়া তায় ঢালেছি ঘী
নিজের হাতে ভাব ছাড়েছি ভাবলে হবে কি?
চালর চুলা লম্বা কচা খুলি খুলি যায়
দেখি শামের বিবেচনা কার ঘরে সামায়।
মেদনী পুরের আয়না চিড়ন বাকুরার ঐ ফিতা
যতন করে বাধলি মাথা তাও যে বাকা সিথা।
মেদনী পুরের আয়না চিড়ন বাকুরার ঐ ফিতা
যতন করে বাধলি মাথা তাও যে বাকা সিথা।
পেচ পারিয়া রাজকুমারীর গলায় চন্দ্র হাড়
দিনে দিনে বারছে তোমার চুলেরই বাহার।
কলি কলি ফুল ফুটেছে নীল কাল আর সাদা
কোন ফুলেতে কৃষ্ণ আছেন কোন ফুলেতে রাধা।
কাল জলে উছলা তলে ডুবল সনাতন
আজ চারানা কাল চারানা পাই যে দরশন।
কাল জলে উছলা তলে ডুবল সনাতন
আজ চারানা কাল চারানা পাই যে দরশন।
তার একটা ব্যখ্যা দেওয়ার মাতব্বরী করলাম। অন্যকেউ মাতব্বরী করলে কৃতজ্ঞ থাকব।
এই গানের মধ্যমে কোন এক নদীর পারের জনগোষ্ঠির জীবন চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। সনাতন নামের কোন এক জেলে নদীতে ডুবে মারা গেছে। গায়ক তার বিধাব স্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলছেন- নদীর কাল জল সনাতনকে ডুবিয়ে মারলেও তার স্মৃতি এখনও মুছে যায়নি। এই নদী সর্বগ্রাসী। তার তীরে সুখে বসবাস করার কল্পনা দুরাশা মাত্র। গায়ক বলেছেন চিংড়ি মাছে ঘী দেওয়া যেমন নিরর্থক তেমনি কৃষ্ণের ভাব হাত ছাড়া করে শুধুমাত্র সনাতনের প্রেমে মজে থেকে বধু ভুল করেছে। যাই হোক ঝাকড়া চুল, লম্বা কাছা ওয়ালা কৃষ্ণ তকে কৃপা করে কি সা। বধু মেদিনীপুরের আয়না-চিড়নি ও বাকুড়ার ফিতা দিয়ে যত্ন করে চুল বাধলেও তার সিঁথী সোজা করতে পরেনি। তার কপালের সিঁদুর ধরে রাখতে পারে নাই, সনাতনকে হারিয়েছে।
যাই হোক, এত কিছুর পরেও মানুষের জীবন থেমে থাকে না। দুঃখের পরে সুখ আবার উঁকি দেয়, মানুষকে আবার আশার পথ দেখায়। বধুর ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। গলায় চন্দ্রহার পরে তাকে রাজকুমারীর মত লাগছে। তার চুলের সৌন্দর্য তথা চেহারায় এক দীপ্তিময় লাবণ্য ফিরে এসেছে। সে যেন আবার নতুন কারও প্রেমে পরেছে। বনের বিভিন্ন ধরনের ফুলে কোনটাতে কৃষ্ণ আর কোনটাতে রাধা বসে সে টা যেমন বুঝা যায় না, তেমনি মানষের মন কখন যে কার প্রেমে পরে তাও বুঝা যায় না। বধু আবার তার প্রেমময় জীবন ফিরে পেয়েছে। যে নদীর জলে সে তার সনাতনকে হারিয়েছে সে নদীর তীরেই আবার সনাতনকে ফিরে পেয়েছে। সনাতনেরা বার বার ফিরে আসে।
(ঈষৎ সংশোধিত)
পূর্বের পোষ্ট
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা আগস্ট, ২০০৯ রাত ১২:৫৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



