যানজট কমাতে সরকার মহাব্যস্ত। মেজিট্রেট নেমেছে ফুটপাথ মুক্ত করতে। আবার শোনা যাচ্ছে ১৫ বছরের পুরাতন বা অবৈধ গাড়ি উচ্ছেদ করা হবে। কারণ এগুলোই না কি যানজটের জন্য দায়ী। উদোর পিন্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপান আর কাকে বলে! এটা হচ্ছে এক ধরনের সরকারী অপ্রচার। কারণ গাড়ি ১৫ বছরের পুরাতন হলেই যে হঠাৎ বন্ধ হবে তা নয়। যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে নতুন গাড়িও বন্ধ হতে পারে। গাড়ি পুরাতন হলেও তার যন্ত্রাংশ নিয়মিত পরির্বতন করতে হয়। তাই ১৫ বা ২০ বছরের পুরাতন বলে কথা নয়, গোলযোগ পূর্ণ যে কোন যানবাহন চালানো বন্ধের ব্যবস্থা করতে হবে। তা না করে পুরাতন গাড়ি ধরার ব্যবস্থা মানেই জনগণের চিন্তার দুর্বলতার সুযোগে বিদেশী কোম্পানীর স্বার্থ রক্ষা করা।
আর যানজট কমাতে বৈধ বা অবৈধ গাড়ি বলে কথা নেই। অবৈধ গাড়িই কি সমস্যা? সে গুলো আইনত অবৈধ হলেও জনগনের তো প্রয়োজন আছে। তা না হলে তারা ব্যবসা করছে কি ভাবে? তবে সে গুলো বন্ধ না করে বৈধ করার ব্যবস্থা করে আইনের আওতায় আনতে হবে।
তবে বন্ধ যদি করতেই হয়, প্রাইভেট গাড়ি বন্ধ করতে হবে। কারন মাত্র একজন বা দুজন মানুষকে বহন করতে সে গুলো ব্যবহার করা হয়, আর পাবলিক গাড়িতে এক সঙ্গে অনেক মানুষ চলাচল করতে পারে। আমরা যদি হিসাব করি তাহলে দেখা যাবে যে প্রাইভেট গাড়িই বেশী জায়গা দখল করে, এমনকি রিক্সার চেয়েও। কারন রিক্সায় দুজন চড়ে আর ও গুলোতে বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই এক জন। আর দুজনও যদি হয় তা কি রিক্সার চেয়ে বেশী জায়গা দখল করে না?
কিন্তু সরকার তা না করে রিক্সা বা গাড়ি উচ্ছেদে নেমেছে। তাতে যানজট খানিকটা কমলেও অল্প আয়ের মানূষদের কি হবে? অনেকের আয়ের পথ বন্ধ হবে আবার অনেকের সহজে কম খরচে যাতায়াতের সুযোগ বন্ধ হবে। তাহলে এখন ভাবার বিষয়, যানজট বন্ধ কি ধনীদের সাচ্ছন্দে চলাচল বা বিদেশী কোম্পানীর গাড়ি বিক্রির স্বার্থে নাকি জনগনের কষ্ট লাঘবের স্বার্থে?
যদি প্রকৃতই জনগনের স্বার্থে হয় তাহলে
১। প্রাইভেট গাড়ি বন্ধ করতে হবে
২। ক্রমান্বয়ে রাস্তার সংখ্যা বৃদ্ধি করতে হবে,
৩। নদীসমূহ দখল মুক্ত করে খনন করে নদী পথ ব্যবহার করতে হবে
৪। ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা উন্নত করতে হবে
৫। ব্যবসায়ীদের হাত থেকে ফুটপাথ মুক্ত করতে হবে।
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে আগস্ট, ২০০৯ সকাল ৮:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



