একনজরে যুক্তরাজ্য
লন্ডন, ইংল্যান্ড ব্রিটেন, ইউনাইটেড কিংডম বা ইউকে বা যুক্তরাজ্য। একই অঙ্গে কত রূপ! প্রতিটি রূপের আবার বিশেষ কিছু গুণও আছে। প্রথমেই গ্রেট ব্রিটেনের সাথে পরিচিত হওয়া যাক।
তিনটি রাজ্য নিয়ে গঠিত হয়েছে গ্রেট ব্রিটেন। রাজ্যগুলো হলো, ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড এবং ওয়েলস। ৪৫টি কাউন্টি নিয়ে গঠিত ইংল্যান্ডের রাজধানীর নাম লন্ডন। ৩০টি কাউন্টি নিয়ে গঠিত স্কটল্যান্ডের রাজধানী এডিনবাগ আর ২২টি কাউন্টি নিয়ে গঠিত ওয়েলসের রাজধানী কার্ডিফ। ২২৯৮৫০ বর্গকিলোমিটার বা ৮৮৭৪৫ বর্গমাইল এলাকা নিয়ে গড়ে উঠেছে গ্রেট ব্রিটেন।
আর ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড ও ওয়েল্স এর সঙ্গে আয়ারল্যান্ডের কিছু অংশ যুক্ত হয়ে যে সাম্রাজ্য তৈরি হয়েছে, তার নাম ইউনাইটেড কিংডম বা যুক্তরাজ্য। এর মানে ব্রিটেন ও যুক্তরাজ্য পুরোপুরি এক না। পার্থক্য আছে কিছু। ইংল্যান্ড স্কটল্যান্ড ও ওয়েলস নিয়ে গ্রেট ব্রিটেন। আর এ তিনটার সাথে আয়ারল্যান্ডের কিছু অংশ যুক্ত হয়ে ইউনাইটেড কিংডম।
নর্দান আয়ারল্যান্ডের যে অংশটি যুক্তরাজ্যের অংশ, সেটার পরিমাণ ১৪,১৩৯ বর্গকিলোমিটার, ৫৪৫৯ বর্গমাইল। তাহলে যুক্তরাজ্যের ভৌগোলিক ভূমির পরিমাণ ব্রিটেনের ২২৯৮৫০ বর্গ কিলোমিটার যোগ উত্তর আয়ারল্যান্ডের ১৪১৩৯ বর্গ কিলোমিটার সমান ২,৪৩,৯৮৯ বর্গকিলোমিটার বা ৯৪২০৪ বর্গ মাইল।
শাসন কাঠামো
এক সময় জাতি ও গোষ্ঠিগত শাসন কাঠামো ছিলো ইংল্যান্ডে। রাজা-রাণী সিস্টেমে পরিচালিত হত দেশটি। অবশ্য সিস্টেম এখনো সেটাই থাকলেও কার্যকর নেই। ব্রিটেন বা ইংল্যান্ড এখন পুরোদস্তুর গণতান্ত্রিক দেশ। রাণী এখনো আছেন। তবে তাঁর ক্ষমতা আমাদের রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান সাহেবেরচে’ খুব একটা বেশি নেই। আমাদের সংসদে যে কোনো আইন পাশ হলে রাষ্ট্রপতির সিগনেচারের মাধ্যমে সেটা আইনে পরিণত হয়। ব্রিটেনে রানীর সিগনেচার লাগে।
ওয়েবসাইট ঘেটে দেখা গেছে ১০৬৬ইং থেকে ১১৫৪ইংরেজি পর্যন্ত ইংল্যান্ডে শাসন করেছে নরম্যানস জাতি। ১১৫৪ থেকে ১৩৯৯ পর্যন্ত প্লেন্টাজেনেসরা। ১৩৯৯ থেকে ১৪৬১ পর্যন্ত হাউজ অব ল্যানচেস্টার। ১৪৬১ থেকে ১৪৮৫ পর্যন্ত হাউজ অব ইয়র্ক। ১৪৮৫ থেকে ১৬০৩ পর্যন্ত টুডরস সম্প্রপ্রদায়।
এ পর্যন্ত ছিলো ইংল্যান্ড। ১৬০৩ সালে এসে প্রতিষ্ঠিত হয় ইউনাইটেড কিংডম। ১৬০৩ থেকে ১৭১৪ পর্যন্ত যুক্তরাজ্য শাসিত হয় স্টুয়ার্টদের দ্বারা। ১৭১৪ থেকে ১৯০১ পর্যন্ত হাউজ অব হেনোভেরিয়ান্স। ১৯০১ থেকে ১৯১০ পর্যন্ত সাক্স কভার্গ-গোথা। এরপর থেকে অর্থাৎ ১৯১০ থেকে অদ্যাবদি উইন্ডসর।
১৯০১ থেকে ১৯১০ পর্যন্ত রাজা ছিলেন সপ্তম এডওয়ার্ড। তার পিতার নাম প্রিন্স আলবার্ট। মায়ের নাম ভিক্টোরিয়া। তিনি ডেনিস বংশদ্ভোত আলেকজান্ডারকে বিয়ে করেন। ৬ সন্তানের জনক রাজা সপ্তম এডওয়ার্ড মারা যান ১৯১০ সালে।
১৯১০ থেকে ১৯৩৬ পর্যন্ত ছিলেন সম্রাট ৫ম জর্জ। ৪৫ বছর বয়সে রাজা হন তিনি। ৭ম এডওয়ার্ডের ২য় পুত্র তিনি। জার্মান বংশের মেরি নামের মেয়েকে বিয়ে করেন জর্জ। তিনিও ছিলেন ৬ সন্তানের পিতা।
১৯৩৬ সালে মাত্র ৩২৫ দিনের জন্য রাজা হন ৮ম এডওয়ার্ড। তিনি সম্রাট ৫ম জর্জের বড়ছেলে। মার্কিন মহিলা উইসিল সিমসনকে বিয়ে করেন। মারা যান নিঃসন্তান অবস্থায়।
১৯৩৬ থেকে থেকে ১৯৫২ পর্যন্ত রাজা হন ৫ম জর্জের ২য় পুত্র ৬ষ্ঠ জর্জ। তিনি বিয়ে করেন স্কটিশ মেয়ে এলিজাবেথ বৌজ নিউনকে। ২ সন্তানের জনক রাজা ৫ম জর্জ মারা যাওয়ার পর ১৯৫২ সালে হিংসাহসনে অধিষ্ঠিত হন সম্রাট ৬ষ্ঠ জর্জের ২য় কন্যা এলিজাবেথ। এই রানী ২য় এলিজাবেথ এখনো যুক্তরাজ্যের ফাষ্ট লেডি হিসেবে সম্মানের মুকুটটি মাথায় পরে রয়েছেন।
সিংহাসনে আরোহন করার আগেই ১৯৪৭ সালের ২০ নভেম্বর বিয়ে করেন ব্রিটিশ নাগরিকত্ব লাভকারী জন্মসূত্রে গ্রীক ছেলে ফিলিপ মাউন্ট বেটেনকে। মাত্র ২৬ বছর বয়সে ১৯৫২ সালে রাণীর মুকুটটি মাথায় পরার পর ১৯৫৩ সালের ২রা জুন তার অভিষেক হয়। ১০৬৬ সালে উইলিয়াম কর্তৃক ইংল্যান্ড বিজয়ের পর ৪০তম রাজা/রানীর মুকুট পরেন ২য় এলিজাবেথ।
...চলবে
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা জানুয়ারি, ২০১১ বিকাল ৫:৩৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



