প্রথমে ছোট একটি ঘটনা বলি, " গতকাল আমি এলিকো এর হেড অফিস থেকে বেড়িয়েই দেখলাম রাস্তায় দাড়িয়ে দুজন অন্ধ ব্যক্তি লটারীর টিকিট বিক্রী করছে। এমনিতেই কোন প্রিতবন্ধী ব্যাক্তিকে ভিক্ষা না করে কোন কাজ করে জীবিকা অর্জন করতে দেখলে আমার ভাল লাগে তাদের সাহায্য উৎসাহ দিতে ইচ্ছা করে । যাই হোক মূলত সহায়তা করার জন্য আমি দুজন অন্ধের কাছ থেকেই দুটো টিকিট নিলাম । দাম পরিশোধের জন্য তাদের একজনকে একটি পঞ্চাশ টাকার নোট দিলাম । নোট দেয়ার পর বুঝলাম তারা একত্রেই টিকিট বিক্রী করছে । একজন অপরজনকে বলল বিশ টাকা রাখ । যে অন্ধ টাকা নেয়ার দায়িত্ব নিল সে তার পকেট এক থোক টাকা বেড় করল । আমি দেখলাম তাতে প্রথম দুটি পঞ্চাশ টাকার নোট পরের গুলো দশ টাকার নোট । অন্ধ ব্যাক্তি সব গুলোকেই দশ টাকার নোট ভেবে আমার দিকে তিনটি নোট এগিয়ে দিল। তার মধ্যে দুটি পঞ্চাশ টাকার নোট একটি দশ টাকার নোট । অর্থাৎ আমার পঞ্চাশ টাকার বিনিময়ে এবং দুটি টিকির দাম সহ ৩০ টাকার স্থলে সে আমাকে দিচ্ছে ১১০ টাকা। আমি তাকে বুঝিয়ে বলে তার হাতে থাকা অন্য পঞ্চাশ টাকার নোট গুলো সনাক্ত করে দিলাম এবং সে গুলো আলাদা রাখতে বললাম। একবার ভাবুনতো এই দুই অন্ধ সকাল বেলাতেই যদি ৮০ টাকা ক্ষতির সমুক্ষীন হতো তাহলে সে দিনের আয় কি তাদের পোষাত ?
ভাবুনতো একবার এই অন্ধ দুজন কি টাকার হিসাব জানে না ? আসলে তা নয়। টাকার নোট গুলোর আকার এতই কাছাকাছি যে আমাদের দৃষ্টিবানদেরই মাঝে মধ্যে খটকা লাগে আর তাঁরাতো অন্ধ। দুটো নোটের পার্থক্য মাত্র কয়েক সেন্টিমিটার ।
আমার জানামতে অন্ধ ব্যক্তিদের নোট সনাক্ত করার জন্য নোটের কোনায় এম্বুস করা ফোটা থাকে তাও আবার শুধু ৫০০, ১০০ আর ৫০ টাকার নোটে ৫০০ টাকায় ৪ ফোটা ১০০ টাকায় ৩ ফোটা আর পঞ্চাশ টাকায় দুই ফোটা ।
অন্ধ ব্যক্তিরা তাহলে বাকী নোট গুলো চিনবে কিভাবে ?
আর তাছাড়া আমার কাছে যে পঞ্চাশ টাকার নোট ছিল তাতে দুই ফোটাও ছিল না ।
বিষয়টি নিয়ে নীতি নির্ধারকদের কি ভাবা উচিত না ?
ব্লগারদের সুচিন্তিত মতামত প্রত্যাশা করছি ।
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১২:২৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



