মধ্যপ্রাচ্যের খাতুনদের নিয়ে কি লিখব, সে ভাষা খুজে পাচ্ছি না, তবু লিখতে বসলাম । আজ থেকে বেশ কয়েক বছর আগে যখন জিয়া সরকার হ্মমতায় এসেছিল, তখন থেকে যাত্রা আমাদের দেশের এই খাতুনদের । যদিও কোন সরকারের এটাতে কোন দোষ নেই, কারণ আমরা গরীব, গরীব আমাদের সংসার দেশ ছোট কিন্তু জনসংখা অনেক বেশী, দেশের এই জনসংখাকে জনসম্পদে পরিণত করার জন্যই হয়তো আমাদের দেশের সচেতন মহল এই মহৎ কাজের উদ্দোগ নেয় । কিন্তু আমাদের সেই মহৎ কাজ পরিণত হয় মহা ইজ্জত বাঁচানোর কাজে ।
শুরু থেকে আজ অবধি এই খাতুন যারা আছেন , তারা নির্যাতিত হয়েছেন দেশে এবং প্রবাসে ।
গত কিছু দিন আগেও খবরের কাগজে দেখলাম এক চেয়ার ম্যান তারই গ্রামের গরীব সংসারের মেয়েকে বিদেশ পাঠাবে বলে ঢাকায় এনে আটকে রেখে বেশ কয়েকদিন তার সম্ভ্রমহানি করার পর ধরা পরে । এই সমস্ত দালালদের এমন শিহ্মা দেয়া উচিৎ পরবর্তীতে যেন, নতুন করে আর কেউ এমন করতে সাহস না পায় ।
আর প্রবাসে যারা নির্যাতিত হচ্ছে তাদের অনেক গুলো দিক আছে । কয়েকটি বিষয় লিখব মাত্র ।
( ১ ) একজন মহিলা তার এক মাত্র সম্বল জমি জমা বিক্রি করে, এবং লাভের উপর টাকা নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে পাড়ি জমায় এসে যখন দেখে তার বেতন ১৮ দিনার । তাতে সে কি করবে নিজে খাবে না দেশে পাঠাবে । এদিকে দেশে মা ,বাবার চাপ সুদের টাকা দিন দিন বেরেই চলছে । উপায় অন্তর না দেখে বের হয় কাজের সন্ধানে, তবে এখানে বাইরে কাজ করা নিষেদ । তার পর দু একজন নিজের সমস্যাকে সামলাতে না পেরে বাইরে কাজ করতে বাধ্য হয় । এই কাজের সন্ধান করতেই কারো কারো সাথে শখতা গড়ে উঠে এখান থেকেই রসের হাড়ি হাটে ভাঙ্গতে শুরু করে ।
(২) ছেলেরা এদিক সেদিক চুরি করে কাজ করে থাকে, কিংবা কোন কোন কোম্পানী ৪/৬ মাসের বেতন না দিলে তারা কোম্পানী ছেড়ে চলে যায় । কিন্তু মেয়েরা কি করবে যখন পেটে খাবার জোটেনা তখন পালিয়ে যাওয়া ছাড়া আর উপায় থাকে না । বাধ্য হয়ে তারা আমাদের সমাজে যে কাজ ঘৃনিত তাই করছে ।
(৩) এখানে অনেক পরিবার আছে, যাদের বাসায় মুসলমান কাজের মেয়ে চাই ।কিন্তু এর সুফল ব্যবহার করছে ভারতীয় এবং শ্রীলংকান মেয়েরা পাসপোর্টে তাদের নাম রাখছে মুসলমানের নামের সাথে মিল রেখে যেমন বেশীর ভাগ হ্মেত্রে মরিয়ম,ফাতেমা,আয়শা ইত্যাদি । কিন্তু মুলে তারা মুসলমান নয় ,ধরুন একই বাসায় আমাদের দেশী এবং একজন ভারতীয় অথবা শ্রীলংকান আছে,ভারতীয় এবং শ্রীলংকান মেয়েটি ড্রাইভার, হাউসবয় আরও অন্যান্য সবার সাথেই বন্ধত্ব তৈরী করছে ।এক পর্যায় বিছানা পর্যন্ত গডায় কিন্তু তাদের বিবেকে বাধেনা তারপর এই মেয়েই আমাদের দেশের মেয়েটিকে ফুসলাতে থাকে ,তুই কেন বন্ধত্ব করিস না সে বলে এটা ঠিক না কারণ আমার স্বামী আছে কিংবা আমার বিবাহ হয় নাই ইত্যাদি ইত্যাদি । যখন আশে পাশের তারা সবাই এই কাজ করছে দেখতে দেখতে সেও এই দিকে চলে যায় ।
অবশেষে বলা যায় এখানে আমাদের দেশের কাজের মেয়ে বাসায় খুব কম অনেক ছাট কাট হওয়ার পরে যারা বাসায় আছেন তারা সুখে আছেন ।
আর যারা কোম্পানীতে আছেন তদের বিষয় হযতো পুর্বেই অবগত হয়েছেন । সব কিছুর মূলে রয়েছে আমাদের দেশের দালাল, তারা পরিবারে এসে মিথ্যা কথা বলে থাকে যেমন আপনার মেয়েকে বিদেশ পাঠায়ে দেন, সেখানে মাদ্রাসা কিংবা হাসপাতালে চাকুরী করবে , ৮ ঘন্টা ডিউটি পারটাইম করতে পারবে প্রতি মাসে আপনার মেয়ে ৩০ হাজার টাকা কামাতে পারবে ইত্যাদি ইত্যাদি এই সব ফাঁকি বাজিতে কান না দিয়ে নিজের সর্বস্ব হারাবেন না ।
সবার কাছেই অনুরোধ রইল ।
কবিতার নাম প্রবাসীদের জীবন
-রেডসিগনাল
সংসারটাকে সুখ দিব বলে, চলে এলাম বিদেশ
এখন আমি নিজেকে বাঁচাতে সব করেছি শেষ ।
মা লিখে মোরে কেমন আছ মারে ?
কত যে সুখে আছি কেমনে বলি তারে ।
মাসের শেষে ফোন আসে টাকা চাই টাকা,
জীবন যুদ্ধে আমার, সব কিছু ফাঁকা ।
দিনার কামাতে দেহের সব করেছি শেষ,
বাবা বলে এই মাসে টাকা দিয়েছ বেশ ।
বিরহের গান শুনে একা একা কাদিঁ,
শেষে মোর জীবনের কেউ নাই সাথী ।
মানুষ না হয়ে যেন শঙ্খ চিলের বেশে,
আবার যেন জন্ম হয় এই পৃথিবীতে ।।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

