আমার প্রিয় পোস্ট
- জামায়াতের ধর্ম ব্যবসার কিছু নমুনা এবং জামায়াত থেকে যে কারণে দূরে থাকতে হবে। - হা...হা...হা...
- শেয়ার ব্যাবসা শিখুন। - হা...হা...হা...
- খালেদা জিয়া'র জন্মদিনের ডকুমেন্টস - সেলটিক সাগর
- জিয়া জানতেন, কতখানি জানতেন... - অমি রহমান পিয়াল
- আসলে কে স্বাধীণতার ঘোষক, জিয়া না মুজিব ? - জহির২০১০
- ছবি চাই, ছবি। দিন না একটি ছবি (রিপোস্ট) - রাগিব
- বঙ্গবন্ধু বিষয়ক কবিতা সংকলন "বাংলাদেশের আকাশ" - কাজল রশীদ
- বঙ্গবন্ধু বিষয়ক কবিতা সংকলন "বাংলাদেশের আকাশ" - কাজল রশীদ
- বঙ্গবন্ধু বিষয়ক কবিতা সংকলন"বাংলাদেশের আকাশ" - কাজল রশীদ
- ব্লগের প্রিয় কবিতা -তেরো - বিলাল
- জামায়াতে ইসলামী এর ইতিহাস ফিরে দেখি - ইরতেজা
- একটি ছোট গল্প: দাবী - অপরিচিত_আবির
- শিবনারায়ণ দাশ - বাংলাদেশের লাল সবুজ পতাকার প্রথম নকশা-প্রণেতা - রাগিব
- আপনি টাকা বানানোর যন্ত্র খুঁজছেন?
- বিডি আইডল
- একটি ছোট গল্প : নতুন বাসা - অপরিচিত_আবির
- একটি মাঝারী গল্প : দু:স্বপ্ন - অপরিচিত_আবির
- আসুন সবাই মিলে আবর্জনাগুলো পরিষ্কার করি - নাজনীন খলিল
আমাদরে জাতীয় পতাকার ইতিহাস
০৩ রা ডিসেম্বর, ২০০৯ সকাল ৭:০৬
আমাদের জাতীয় পতাকার ইতিহাস
ইউসূফ সালাহউদ্দীন আহমদ:
‘আমাদের সময়’ ১৭ নভেম্বর ২০০৯ সংখ্যায় প্রকাশিত ‘স্বাধীনতা পদক: শিবনারায়ণ দাস ও আমাদের দায়ভার’ শীর্ষক লেখাটি পড়লাম। আমি লেখককে তার খণ্ডিত সত্য বক্তব্যের জন্য দোষারোপ করব না। তবে আমাদের শ্রদ্ধেয় শিবনারায়ণ দাস, আমার প্রিয় শিবুদা এই লেখাটি প্রকাশের আগে দেখেননি সেটাই আশা করব। কারণ তিনি যদি দেখতেন তাহলে নিশ্চয়ই বাংলাদেশের পতাকার ইতিহাস সম্পর্কে এই ভুল এবং একপেশে বক্তব্য ছাপাতে দিতেন না।
আসুন দেখি বাংলাদেশের পতাকা তৈরির প্রকৃত ইতিহাস কী? আশা করি শিবুদা এবং আরো যারা এর সঙ্গে জড়িত ছিলেন তারা আমার সঙ্গে একমত হবেন।
১৯৬৯ সাল। ঢাকা সেনানিবাসের ১৪ পদাতিক বাহিনীর সদর দফতরে স্থাপিত ট্রাইবুনালে তখন বিচার চলছিল তথাকথিত ‘আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার’ আসামিদের। ’৬৯-এর চলমান ছাত্র-জনতার প্রবল আন্দোলনের মুখে পাকিস্তানি সামরিকচক্র যখন বুঝতে পারল এই মিথ্যা প্রহসনের মামলা আর চালিয়ে যেতে পারবে না তখনই তারা সামরিক ব্যারাকে বন্দি সার্জেন্ট জহুরুল হককে নির্বিচারে গুলি করে হত্যা করে। অজুহাত তিনি পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। সেদিন ছিল ১৯৬৯ সালের ১৫ ফেব্র“য়ারি।
আমরা যারা সেদিন রাজপথে আন্দোলন করছিলাম এবং বুকের মাঝে এক স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্ন লালন করছিলাম তাদের কাছে সার্জেন্ট জহুরুল হকের হত্যাকাণ্ড ছিল সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের দামামা।
ইতোমধ্যে ছাত্র-জনতার প্রবল আন্দোলনের তোড়ে ভেস্তে যায় আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার পাতানো বিচারের খেলা। বাংলার সংগ্রামী জনতা তাদের প্রাণপ্রিয় নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ছিনিয়ে আনে কারাগার থেকে। পাকিস্তানি সেনা প্রশাসনের এ পরাজয়ের পটভূমিতে ক্ষমতার হাত-বদল হলো আর একবার। ১৯৬৯-এর ২৫ মার্চ আইয়ুব খানের স্থলাভিষিক্ত হলেন জেনারেল ইয়াহিয়া খান। জারি করলেন ফের মার্শাল ল’। সকল রাজনৈতিক কার্যকলাপ নিষিদ্ধ হলো।
তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগ ছিল একটি নিয়মতান্ত্রিক ছাত্র সংগঠন। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার প্রেক্ষাপটে ছাত্রলীগ অন্যান্য ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে ১১ দফা আন্দোলনের মাধ্যমে ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের সূচনা করে। এ নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনের আড়ালে ছাত্রলীগের একটি হার্ডকোর গ্র“প সিরাজুল আলম খানের নেতৃত্বে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল। শিবুদা, আমি ও আরো অনেকে এ গ্র“পে সক্রিয় ছিলাম। প্রয়াত কাজী আরেফ আহমেদ ছিলেন সেকেন্ড-ইন-কমান্ড। এ সম্বন্ধে বিস্তারিত অন্য সময় লিখব। ইয়াহিয়ার মার্শাল ল’ নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন বন্ধ করলেও ছাত্রলীগের এ হার্ডকোর গ্র“পের প্রস্তুতি থাকে অব্যাহত। সার্জেন্ট জহুরুল হকের নির্মম হত্যাকাণ্ডের দিন স্মরণে আমরা গঠন করলাম ‘ফেব্র“য়ারি ১৫ বাহিনী’। মুক্তিযুদ্ধের লক্ষ্যে পরিকল্পিত প্রথম সশস্ত্রবাহিনী।
১৯৬৯-এর শেষের দিকে ইয়াহিয়া খান ১৯৭০ সালের ৫ অক্টোবর নির্বাচন অনুষ্ঠানের ঘোষণা দেয়। তদনুযায়ী ’৭০-এর জানুয়ারি থেকে রাজনৈতিক কার্যকলাপ শুরু হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করেন ঐতিহাসিক ৬ দফা দিবস ৭ জুন। ঐ দিন রেসকোর্স ময়দানে প্রথম নির্বাচনি সভার প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়। ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম ঐ দিন পল্টন ময়দানে (রেসকোর্সে সভার আগে) কুচকাওয়াজের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর হাত থেকে বাহিনী পতাকা (রেজিমেন্টাল কালার) গ্রহণ করে ‘ফেব্র“য়ারি ১৫ বাহিনী’ আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করবে।
শুরু হয়ে গেল প্রস্তুতি। ছাত্রলীগের সাংগঠনিক কাঠামোয় লালিত বিপুলসংখ্যক হার্ডকোর সদস্য তৈরি করা হলো ৭ জুন ইকবাল হল (বর্তমানে সার্জেন্ট জহুরুল হক হল) থেকে মিছিল করে পল্টন ময়দানে যাওয়ার জন্য। এখন প্রশ্ন হলো কেমন হবে বাহিনী পতাকা। এই বাহিনীর সঙ্গে নেতৃস্থানীয় যারা জড়িত ছিলেন তাদের মধ্যে আসম আব্দুর রব, কাজী আরেফ আহমেদ, শেখ শহিদুল ইসলাম, মনিরুল ইসলাম (মার্শাল মনি), হাসানুল হক ইনু, শরীফ নুরুল আম্বিয়া, চিশতি শাহ্ হেলালুর রহমান, মোয়াজ্জেম হোসেন খান মজলিশ, শিবনারায়ণ দাস, আব্দুল্লাহ সানি, মইনুল ইসলাম চৌধুরী, গোলাম ফারুক, ফিরোজ শাহ্, খসরু ভাই (পুরো নাম মনে নেই) উল্লেখযোগ্য।
পতাকা তৈরি নিয়ে মিটিংয়ে বসলাম আমরা ইকবাল হলের ১০৮ নং কক্ষে। এ কক্ষটি বরাদ্দ ছিল তৎকালীন ছাত্রনেতা আসম আব্দুর রবের নামে। কাজী আরেফ আহমেদের প্রস্তাব অনুযায়ী সিদ্ধান্ত হলো পতাকায় সবুজ জমিনের ওপর থাকবে একটি লাল বৃত্ত, আর লাল বৃত্তের মাঝে থাকবে পূর্ব পাকিস্তানের মানচিত্র। সবুজ জমিন বাংলার চির সবুজের প্রতীক, লাল সূর্য রক্তে রাঙা হয়ে উঠবে স্বাধীনতার সূর্য আর জন্ম নেবে একটি নতুন দেশ। সোনালি আঁশের রঙে হবে তার পরিচয়। লাল বৃত্তের মাঝখানে সোনালি রঙ্গের মানচিত্র তারই প্রতীক। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সবাই কাজে নেমে পড়লাম। খসরু ভাই গেল তখন বলাকা সিনেমা হলের চারতলায় এক বিহারি দরজির দোকানে। বড় এক টুকরা সবুজ কাপড়ের মাঝে সেলাই করে আনলেন লাল বৃত্তাকার সূর্যের প্রতীক। এখন হলো আরেক সমস্যা। পূর্ব পাকিস্তানের মানচিত্র। সিদ্ধান্ত হলো ওটা লাল বৃত্তের মাঝে রঙ দিয়ে আঁকা হবে। আঁকাআঁকিতে কুমিল্লার শিবুদার হাত ছিল ভালো। তিনি বললেন ‘আমি বাপু পেইন্ট করতে পারব, তবে মানচিত্র আঁকতে আমি পারব না’। কী করা যায়? ঠিক করলাম হাসানুল হক ইনু আর আমি পূর্ব পাকিস্তানের মানচিত্র ট্রেসিং পেপারে ট্রেস করে নিয়ে আসব। আমরা গেলাম প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন জিন্নাহ্ হলে (বর্তমানে তিতুমীর হল)। উল্লেখ্য, আমি এবং ইনু ভাই উভয়েই তখন প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। জিন্নাহ্ হলে ৪০৮ নং কক্ষে থাকেন এনামুল হক (ইনু ভাইয়ের কাজিন)। তার কাছ থেকে অ্যাটলাস নিলাম। ট্রেসিং পেপারে আঁকলাম পূর্ব পাকিস্তানের মানচিত্র। নিয়ে এলাম ইকবাল হলের ১০৮নং কক্ষে। বাকি সবাই সেখানে অপেক্ষা করছিল। শিবুদা তার নিপুণ হাতে ট্রেসিং পেপার থেকে পূর্ব পাকিস্তানের মানচিত্র আঁকলেন লাল বৃত্তের মাঝে। তাতে দিলেন সোনালি রঙ। তৈরি হয়ে গেল ফেব্র“য়ারি ১৫ বাহিনীর পতাকা।
পরদিন অর্থাৎ ৭ জুন আমরা আসম আব্দুর রব ও শেখ শহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে সুশৃঙ্খল মিছিল নিয়ে ইকবাল হল থেকে গেলাম পল্টন ময়দানে। সেখানে মঞ্চে দাঁড়ানো ‘বঙ্গবন্ধু ফেব্র“য়ারি ১৫ বাহিনী’র অভিবাদন গ্রহণ করলেন এবং বাহিনীর পক্ষে আসম আব্দুর রব ইকবাল হলের ১০৮ নং কক্ষে তৈরি পতাকা বঙ্গবন্ধুর হাত থেকে গ্রহণ করলেন আনুষ্ঠানিকভাবে। এই সেই পতাকা যা উড়ল বাংলার ঘরে ঘরে স্বাধীন বাংলার পতাকা হয়ে। এই পতাকাটিই ১৯৭১ সালে ছাত্রনেতা শাজাহান সিরাজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনে বিশাল ছাত্র জমায়েতে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা হিসেবে ঘোষণা দেন।
বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ পতাকা থেকে বাংলাদেশের মানচিত্রটি বাদ দিয়ে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা হিসেবে গ্রহণ করা হয়। আমি এখানে যাদের নাম উল্লেখ করেছি তাদের মাঝে যারা আজো বেঁচে আছেন তারা এই ইতিহাসের সাক্ষী।
লেখক: যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী
বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
'লেনিন' বলেছেন:
জাতি একদিন নির্ভেজাল সত্যি ইতিহাস জানবে এই কামনা।
আবদুল্লাহ আল মনসুর বলেছেন:
পোস্টটির জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ++++
আমার কবিতা বলেছেন:
+++++++++
ত্রিশোনকু বলেছেন:
আমাদের জাতীয় পতাকা সম্পর্কে জানানোর জন্যে ধন্যবাদ।++++++
এ.টি.এম.মোস্তফা কামাল বলেছেন:
প্রিয়তে রাখলাম।
বোহেমিয়ান কথকতা বলেছেন:
কিছুটা জানতান । আজ পুরোটা জানা হল
শাফিন বলেছেন:
++
মামন বলেছেন:
আপনাকে++
ধূসর মানচিত্র বলেছেন:
না জানা ইতিহাস জানানোর জন্য ধন্যবাদ
ঋভু অনিকেত বলেছেন:
আমার ব্লগে প্রকাশিত লেখাটা পাঠ করার জন্য সকলকে ধন্যবাদ। ইউসুফ সালাউদ্দিন আমাদের সময়ে লেখাটা লিখেছেন। আমি তাঁর লেখাটা ব্লগে প্রকাশ করেছি একটা উদ্দেশ্য নিয়ে, সেটা হলো আমি এতদিন শিব নারায়ন দাসকে জাতীয় পতাকার একক রূপকার হিসেব জানতাম। এ লেখা পড়ে একটু বিভ্রান্তিতে পড়ে গেছি। আমি চাইছি যারা এ সম্বন্ধে জানেন তারা এর সত্যতা সম্বন্ধে আমাদের নিশ্চিত করবেন। লেখক যাদের নাম উল্লেখ করেছেন, এরা সকলেই জাতীয় পতাকার বা সে সময়ের আন্দোলনের সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলেন। এ থেকে লেখকের বক্তব্য বিশ্বাসেযাগ্য বলে মনে হয়।
নির্ণয় বলেছেন:
লেখাটা এখানে দেখে ভাল লাগলো। পোস্টদাতার ধন্যবাদ পাওনা। আমার মনে পতাকা সংক্রান্ত তথ্যগুলো মোটামুটি ক্লিয়ার হয়ে যাচ্ছে। একসময় যা অসত্যভাবে কামরুল হাসানের নামে চালিয়ে দেয়া হত, তা সাম্প্রতিক সময়ে ভুল করে শিবনারায়ণ দাসের নামে চলতে শুরু করেছিলো। এই লেখাটা সেটা থামাবার ক্ষেত্রে কাজে দেবে।
আমার মনে হয় চুপ করে থেকে শিবনারায়ণ দাস ভুল করছেন।
ঋভু অনিকেত বলেছেন:
@ নির্ণয় কামরুল হাসান নিয়ে তো কোন বিতর্ক নেই। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর সরকার তাঁকে দায়িত্ব দিয়েছিল পতাকার ডিজাইন পরিবর্তনের জন্য ,তিনি শুধু মানচিত্রটা বাদ দিয়েছিলেন। কামরুল হাসানের পরিবর্তিত ডিজাইনের পতাকাটাই এখন আমাদের জাতীয় পতাকা। জাতীয় পতাকার প্রথম নকশা প্রণেতা যারা ছিলেন তাঁরা অনেকেই এখন জীবিত বিশেষ করে শিব নারায়ন দাস তিন মুখ খুললেই সব সমাধান হয়ে যায়। আমার ধারণা দেশের মানুষকে বিভ্রান্তিতে রাখা তাঁর উদ্দেশ্য?
নির্ণয় বলেছেন:
ঋভু অনিকেত, কামরুল হাসানকেই এতদিন ধরে পতাকার ডিজাইনার ধরে নেয়া হয়েছে। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে ডিজাইনার বলা হচ্ছে শিবনারায়ণ দাশকে। লাস্টলি এই লেখায় কাজী আরেফ আহমেদের প্রস্তাব অনুযায়ীই "পতাকায় সবুজ জমিনের ওপর থাকবে একটি লাল বৃত্ত, আর লাল বৃত্তের মাঝে থাকবে পূর্ব পাকিস্তানের মানচিত্র" এই সিদ্ধান্ত হয় বলে লেখা হয়েছে।
লক্ষ্য করুন, পতাকা কি হবে কে থাকবে না থাকবে তার প্রস্তাবনা কাজী আরেফ আহমেদ সহ অন্যান্যদের। প্রথম পতাকা বাস্তবায়নে ছিলেন "খসরু ভাই" (ইনি কি পরে চলচ্চিত্রে নায়ক হয়েছিলেন ?), ইনু এবং ইউসূফ সালাহউদ্দীন আহমদ। মানচিত্র আঁকার কাজ করেন শিবনারায়ণ দাশ।
আর কামরুল হাসান স্বাধীনতার পর পতাকা রিডিফাইন করেছেন মানচিত্রটা বাদ দিয়ে এবং অফিসিয়ালি পতাকার ব্যাখ্যা দিয়ে। কিন্তু এতদিন ধরে তাঁকেই ডিজাইনার মনে করা হত।
ডিজাইনার, আঁকিয়ে আর পুনঃনির্মাণকারীএক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন মানুষ, তাইনা?
আমাদের সময়তেই পড়েছিলাম যে শিবনারায়ণ দাশ আভিমানে মুখ খোলেননা। আমরা তার ক্ষোভটা অনুভব করি। কিন্তু শিবানারায়ণ দাশের এবার কিছু বলা উচিত। যখন যতটুকু তাঁর কৃতিত্ব, তা তাঁকে দেয়া হচ্ছিলনা, তখন তিনি অভিমানে চুপ থাকতে পারেন। কিন্তু এখন যখন যথাযথ তথ্যের অভাবে তাঁর ঘাড়ে অন্যের কৃতিত্বও চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে, তখন তাঁর মুখ খোলা উচিত। তাঁর সাবেক সহকর্মীদের অবদানের কথা তাঁর প্রকাশ করা উচিত ঠিক যেমন করেছেন ইউসূফ সালাহউদ্দীন আহমদ।
পুনশ্চঃ এত লেখালেখির পরও মনে হচ্ছে যে অনেক তথ্য বাকি এখনো প্রকাশ পেতে।
ঋভু অনিকেত বলেছেন:
Click This Linkউপরের লিংকে গিয়ে এ ইতিহাসের আরো একটা অংশ পড়ে দেখুনেতা। এর লেখক রাগিব কলেজে আমার ছাত্র ছিল।
নষ্ট কবি বলেছেন:
ভালো...
টোটাল ভালবাসা বলেছেন:
প্রকৃত ইতিহাস জানা জরুরী।
তাহা আহমেদ বলেছেন:
+
পুংটা বলেছেন:
এভাবেই ইতিহাস রচনা হয়........অভিবাদন
াহো বলেছেন:
ধন্যবাদ।
তিতাস একটি নদীর নাম বলেছেন:
সভায় কাজী আরেফের প্রাথমিক প্রস্তাবনার উপর ভিত্তি করে সবার আলোচনার শেষে সবুজ জমিনের উপর লাল সূর্যের মাঝে হলুদ রঙের বাংলার মানচিত্র খচিত পতাকা তৈরির সিদ্ধান্ত হয়। এরপর প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শেরে বাংলা হলের ১১৬ নং কক্ষে রাত এগারটার পর শিবনারায়ণ দাশ পুরো পতাকা ডিজাইন সম্পন্ন করেন (১)।শিব নারায়ণ দাশ পতাকার ডিজাইনার কথাটি মিথ্যা বলেতো আমার কাছে মনে হচ্ছে না। আমি আপনার দেও্য়া লেখাটা পড়লাম আর সাথে সাথে রাগিব ভাইয়ের লেখাটা পড়লাম। ২টা লেখা এক করলে এটা সহজেই অনুমেয় যে আরেফ আহমেদ সহ অন্যরা লাল বৃত্ত, সবুজ জমিন, হলুদ মানচিত্র এই ব্যাপারগুলোতে এক হয়েছেন। কিন্তু এই কি শেষ? এই আইডিয়া মাথায় নিয়ে শিব নারায়ণ দাশ পতাকার ডিজাইন করেন। আপনারা যারা ইঞ্জিয়ার আছেন তাদের কাছে এরকম আইডিয়া আর ডিজাইন সহজ ব্যাপার হলেও আমাকে এরকম আইডিয়া দিলে কিছুই তৈরী হবে না। তাই ডিজাইনার হিসেবে শিব নারায়ণ দাশের নাম বলাটা বোধকরি যৌক্তক। তবে এই ইতিহাসের সাথে অনেকেই মিলে মিশে আছেন। আমার মনে হয় বাংলাদেশের পতাকার ডিজাইনার কে---এই প্রশ্নটিই অবান্তর। প্রশ্নটি এমনভাবে আসতে পারে---বাংলাদেশের পতাকা তৈরীতে কাদের অবদান আছে।
ধন্যবাদ এমন সুন্দর শিক্ষনীয় ইতিহাস ভিত্তিক বিষয় উপস্থাপন করার জন্যে।
আব্দুল্লাহ আফফান বলেছেন:
++++++
নির্ণয় বলেছেন:
"আপনারা যারা ইঞ্জিয়ার আছেন তাদের কাছে এরকম আইডিয়া আর ডিজাইন সহজ ব্যাপার হলেও আমাকে এরকম আইডিয়া দিলে কিছুই তৈরী হবে না। তাই ডিজাইনার হিসেবে শিব নারায়ণ দাশের নাম বলাটা বোধকরি যৌক্তক।"সেলাই করিয়ে রেডি করে আনা পতাকাটার লালবৃত্তে সোনালী মানচিত্রটা আঁকার জন্যই শিবনারায়ণ দাশকে ডাকিয়ে আনা হয়েছিলো।
আপনি যেভাবে কনসেপ্টকে ইমপ্লিমেন্টেশন করার কথা ভাবছেন, বিষয়টা বোধহয় সেরকম নয়। কী থাকবে কেন থাকবে সে ব্যাপারে কোন হাত ছিলো না তাঁর। নীতিনির্ধারকরা তাঁকে সেলাই করা পতাকাটায় মানচিত্রটা এঁকে দিতে বলেছিলেন।
আফসোস, শিবনারায়ণ দাশ এখনো চুপ করে আছেন।
... শিবানারায়ণ দাশের এবার কিছু বলা উচিত। যখন যতটুকু তাঁর কৃতিত্ব, তা তাঁকে দেয়া হচ্ছিলনা, তখন তিনি অভিমানে চুপ থাকতে পারেন। কিন্তু এখন যখন যথাযথ তথ্যের অভাবে তাঁর ঘাড়ে অন্যের কৃতিত্বও চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে, তখন তাঁর মুখ খোলা উচিত। তাঁর সাবেক সহকর্মীদের অবদানের কথা তাঁর প্রকাশ করা উচিত ঠিক যেমন করেছেন ইউসূফ সালাহউদ্দীন আহমদ।...
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...















বিষয়টি অজানা ছিল। ধন্যবাদ।