যুদ্ধাপরাধের বিচার নিয়ে এত অসংখ্য পোষ্ট, তারপরেও আরেকটি পোষ্ট লিখতে বসলাম। ফেসবুকে ঘুরতে ঘুরতে হটাৎ জামাতের যুদ্ধাপরাধ সংক্রান্ত কিছু প্রচারণার লিংক পেলাম। ঐ প্রচারনা পড়ার পর থেকেই মেজাজ খিঁচড়ে আছে। ভাবি একটা পোষ্ট দিয়ে রাগ আর ঘৃণাগুলো ঝেড়ে দেই।
অসম্ভব প্রিয় কবি রূদ্রের কয়েকটি লাইন...
"এ চোখে ঘুম আসেনা। সারারাত আমার ঘুম আসেনা-
তন্দ্রার ভেতরে আমি শুনি ধর্ষিতার করুণ চিৎকার,
নদীতে পানার মতো ভেসে থাকা মানুষের পচা লাশ
মুন্ডহীন বালিকার কুকুরে খাওয়া বিভৎস্য শরীর
ভেসে ওঠে চোখের ভেতরে। আমি ঘুমুতে পারিনা, আমি
ঘুমুতে পারিনা..."
এবার ছবিটা দেখুন
এবার বুঝে নিন কেনো রূদ্রের মতো আমিও তন্দ্রার ভেতরে শিউরে উঠি, দেখি ছোট্ট একটা শিশুর লাশ, কুকুরে টেনে নিয়ে যায়, অর্ধেকটা আগেই কে যেনো নিয়ে চলে গেছে। চমকে জেগে উঠে ভাবি কেন দেখলাম এই ছবি, না দেখলেই তো হতো। আর সবাই যেমন ৩৮ বছরের লম্বা বিরতিতে বোধশুন্য হয়ে গেছে, তেমনি ফেসবুকে দেখা ছবিটিতে ক্লিক না করে চলে গেলেই তো হতো। কি ভাবছেন সবাই এখনো বোধশুন্য হয়নি?? মানলাম না, সবাই যদি বোধশুন্য না হতো, কোন একজনও যদি এখনো তন্দ্রায় শিউরে উঠতো তবে এমনটি কি হওয়া উচিত ছিলো? দেখুন জামাতের প্রচারণার কয়েকটি লাইন
"The High Court dismissed the evidence of Pakistan Army atrocities as unrelated to Professor Ghulam Azam's public position during the liberation war. Even Mr. Justice Muhammad Ismail Uddin Sarker who gave the lone dissenting judgment stating 'Professor Golam Azam was not a citizen of Bangladesh' found the Attorney General's arguments implicating Professor Golam Azam with the atrocities of the Pakistan Army as untenable. The Honourable Judge wrote in his judgment: 'From some news commentaries and a photograph we find that the petitioner Professor Golam Azam met with General Tikka Khan and General Yahya Khan. Apart from that, we find no direct evidence of the Petitioner's involvement with alleged atrocities of the Pakistan Army or their collaborator Razakar, Al-Badr or Al-Shams men. The petitioner obtained the audience of the Military Junta during the liberation war. Other than that, we see nothing in the evidence that may be said to relate the petitioner with the atrocities committed during the liberation war' (vide Dhaka Law Report No. 45, High Court Division, Page 433). It may be mentioned that Professor Golam Azam got back his citizenship of Bangladesh by the judgment of the High Court Division, which was upheld by the Appellate Division of the Supreme Court"
(Click This Link)
জানি না বিচারের বর্ননা পূরোটা সত্যি কিনা। তবুও লজ্জা বোধ করি সেই বিচার ব্যবস্থার জন্য যার বিচারক বলে মাত্র একটা ফটোগ্রাফ ছাড়া গুআযমের বিরুদ্ধে আর কোন প্রমান নাই, স্বাধীন বাংলার একমাত্র আদালত স্বীকৃত নাগরিকের নাম গোলাম আযম। ক্ষমা করবেন শহীদ জননী, আপনার স্বামী আর পূত্র হত্যাকারী এই দেশের স্বীকৃত নাগরিক আর আপনি হন আদালত অবমাননাকারী। কি অবুঝ আমরা, কি বিচিত্র আমাদের বিচার!!! কি ঘৃন্য আমরা বঙ্গবন্ধুর হত্যার বিচারে বিব্রত হই আর গোলামের নাগরিকত্তের স্বীকৃতি দেয় সর্বোচ্চ আদালত, সেই বিচারের গ্লানি আমরা টেনে নিয়ে যাই এতোটা বছর।
সরকারের অনেক প্রচার, এপ্রিলেই নাকি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কার্য শুরু, গনস্বাক্ষরতা অভিযানে এত এত স্বাক্ষর, বিভিন্ন পাবলিক কম্যুনিটি সাইটে এত এত ঘৃণা বর্ষণ -- এসবে আশাবাদী হই। কিন্তু তবুও ভয় যায় না, ভয়কে যে আমরা জনম জন্মান্তরে বহন করে যাই। আদিম মানুষ প্রথম আগুন দেখে যে ভয় পেয়েছিলো, এই আধুনিক সভ্যতায়ও আমরা তাকে দমাতে পেরেছি কি? তেমনি ২৫ শে মার্চ থেকে ১৬ই ডিসেম্বর - নৃশংসতা আর শকুনের উল্লাস কিভাবে ভুলে যাই? আশংকা কি শুধু আমার? প্রিয় কবির আশংকা তো দেখুন...
"আজো আমি বাতাসে লাশের গন্ধ পাই
আজো আমি মাটিতে মৃত্যূর নগ্ননৃত্য দেখি,
ধর্ষিতার কাতর চিৎকার শুনি আজো আমি তন্দ্রার ভেতরে...
এ দেশ কি ভুলে গেছে সেই দু:স্বপ্নের রাত, সেই রক্তাক্ত সময় ?
বাতাসে লাশের গন্ধ ভাসে
মাটিতে লেগে আছে রক্তের দাগ।
এই রক্তমাখা মটির ললাট ছুঁয়ে একদিন যারা বুক বেঁধেছিলো।
জীর্ণ জীবনের পুঁজে তারা খুঁজে নেয় নিষিদ্ধ আধাঁর,
আজ তারা আলোহীন খাঁচা ভালোবেসে জেগে থাকে রাত্রির গুহায়।
এ যেন নষ্ট জন্মের লজ্জায় আরষ্ট কুমারী জননী,
স্বাধীনতা - একি হবে নষ্ট জন্ম ?
একি তবে পিতাহীন জননীর লজ্জার ফসল ?
জাতির পতাকা খামচে ধরেছে আজ পুরোনো শকুন।"
জানি না শকুনের হাত থেকে মুক্তি কবে। জানি না ভবিষ্যতের ইতিহাস কিভাবে লিখা হবে। শুধু জানি ওদের জন্য আমার একবুক ঘৃণা। বিচার ব্যবস্থার প্রহসন, রাষ্ট্র যন্ত্রের স্বার্থের মায়াজাল, রাজনীতির কূটচালে বেঁচে গিয়ে যদি নিজামী, মুজাহিদরা আবারো ইতিহাসে আরেকটি কালো অধ্যায় জুড়ে দেয় তবুও ওদের জন্য আমার ঘৃণা। অনেক আশাবাদি প্রচারণার ভীড়ে আমার এই নৈরাশ্য দেখে তবুও আশাহত হবার কিছু নেই। আমরা সবাই জানি আমাদের স্বাধীনতা কোন নষ্ট জন্ম নয়, এই স্বাধীনতার উপর থেকে শকুনের ছায়া আমরা সরাবোই।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


