বাংলা আমার তৃষ্ঞার জল, দৃপ্ত শেষ চুমুক ; আমি একবার দেখি, বার বার দেখি, দেখি বাংলার মুখ

এক রাত্রির গল্প

২৯ শে মে, ২০০৭ দুপুর ২:১৩

শেয়ারঃ
0 1 0

রাত সাড়ে ৯টা কি ১০টা বাজে। নাজমুল স্যার মাত্র চাচীকে বললো তাড়াতাড়ি খেয়ে লাইট অফ করতে। দিনকাল ভালো যাচ্ছেনা। যত সাবধানে থাকা যায় ততই ভালো। কথাটা শেষ না হতেই ঘরের কড়া নাড়ানোর শব্দ হলো। সবার বুক কেঁপে গেলো। শিউলি আর চয়ন মার আচলের নিচে জড়সড় হয়ে কাপছে। নাজমুল স্যার চাচীকে শিউলি আর চয়নকে নিয়ে ভেতরের ঘরে যেতে বললেন। চাচী বার বার বারণ করলো ঘরের দরজা খোলার দরকার নেই, কিন্তু যেভাবে দরজা ধাক্কা দিচ্ছে এভাবে চলতে থাকলে শেষে ভেঙে ফেলবে বলে দরজা খুলে দিলো।

খাকি পোসাক পরা ৭-৮জন ঢুকলো। তার মধ্যে একজনের মুখ বাঁধা। চাচী পর্দার আড়াল দিয়ে দেখলো খাকি পোসাকের মানুষগুলো এই ঘরে আসছে। নাজমুল স্যারকে এর মধ্যে হাত বেধে ফেলেছে । শিউলি আর চয়নকে টান মেরে এপাসে নিয়ে আসল। দূনিয়াটা খুব ছোট হয়ে আসল।

নাজমুল স্যারকে ধরে নিয়ে গেলো। চাচী পাগলপ্রায় হয়ে সারাদিন ঘরে বসে থাকেন। শিউলী আর চয়ন খেলা করে বেড়ায় বাড়ীর ছোট্ট উঠানটাতে। পাসের বাড়ীর ভাবীরা চাচীকে বাপের বাড়ী থেকে আসতে বললো কয়েকদিনের জন্য।

একদিন সকাল না হতেই রওয়ানা দিলো চাচী, শিউলী, চয়ন ও পাসের বাড়ীর কামালের বাবা। সারা রাস্তায় ডুকরে ডুকরে কানতে লাগল চাচী। কামালের বাবা শিউলী আর চয়নকে নিয়ে বসে আছে। পাসেই একটা নদী। অনেক শৈবাল জমেছে। অনেক লোকের ভীড় দেখা যাচ্ছে। কি মনে করে কামালের বাবা ভ্যান দাড় করিয়ে ভীড় ঠেলে সামনে গেলো। ডান পা আর বাম হাত কাটা একটা লাশ। ফুলে উঠেছে সাথে দূর্গন্ধ সবার নাকে কাপড়। চাচী একবারেই চিনতে ভুল করলোনা । দৌড়ে গিয়ে জড়িয়ে ধরলেন।

কিছুদিন পরের কথা। শিউলীর মা খাওয়া দাওয়া বন্ধ করে দেয়। ফলে অসুস্থ হয়ে পড়ে । কিছুদিন পর মারা যায়। শিউলি ও চয়ন মামা বাড়িতেই মানুষ হতে থাকে।

 

সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে নভেম্বর, -০০০১ রাত ১২:০০ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ২৯ শে মে, ২০০৭ বিকাল ৩:০১
জ্বিনের বাদশা বলেছেন: মুক্তিযুদ্ধের উপর শোনা/দেখা ঘটনার একটা আর্কাইভ বানাচ্ছি ... লিংক করে নিলাম ...ধন্যবাদ ... ৫
২. ৩১ শে মে, ২০০৭ সন্ধ্যা ৭:০৫
প্রজাপতি বলেছেন: হায়রে...এমন অজস্র ঘটনার পরেও যারা প্রমাণ খোঁজে তাদের আর কি বলা যায়? ভালো পোস্ট। আরো লিখতে থাকুন মুক্তিযুদ্ধের কাহিনী।
৩. ০২ রা জুন, ২০০৭ দুপুর ২:২৫
রক্তিম বলেছেন: জ্বিনের বাদশা, কিভাবে বানাচ্ছেন এইটা? একটু খুলে বললে সুবিধা হত। লেখাটি পড়ার জন্য বিশেষ ধন্যবাদ ।

প্রজাপতি, থ্যাংক্স।
৬. ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ সকাল ৮:৪৭
শফিউল আলম ইমন বলেছেন: ঘটনাটি হৃদয়বিদারক....

 

মোট সময় লেগেছে ০.৮৯৩৬ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
খাই-দাই...ঘুরে বেড়াই...দুঃখ পেলে সিগারেট ফুকি...ফু দিয়ে উড়িয়ে দেই দুঃখ...চরম ফাঁকিবাজ মানুষ...ফাঁকির উপরেই থাকি...গান শুনি...বই পড়ি...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই