
অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন রাজ্যে একের পর এক জাতিগত হামলার ঘটনায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে বাংলাদেশসহ ভারতীয় উপমহাদেশের ছাত্ররা। গত দুই সপ্তায় জাতিগত হামলার শিকার এক ভারতীয় ছাত্রের মৃত্যু এবং অপর এক ভারতীয়র গায়ে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। গত ছয় মাসে অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন রাজ্যে শুধু জাতিগত হামলা নিয়েই পুলিশের কাছে অভিযোগ জমা পড়েছে পাঁচ শতাধিক। মারা গেছে তিনজন ছাত্র। অস্ট্রেলিয়া সরকার বারবার ছাত্রদের নিরাপত্তার আশ্বাস দিলেও এ পর্যন্ত কোনো হামলাকারীকে শনাক্ত করতে পারেনি। ছাত্রদের ওপর ক্রমাগত অতর্কিত হামলা বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগে আছেন অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী বাংলাদেশিরা। গত বছরের প্রথম দিকে শুরু হওয়া জাতিগত এ হামলার শিকার হচ্ছেন বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলঙ্কা, নেপালসহ দক্ষিণ এশিয়ার ছাত্ররা। বিশ্ববিদ্যালয় অথবা কাজ থেকে বাড়ি ফেরার সময় বিভিন্ন স্টেশন, গাড়ি পার্কিং কিংবা নির্জন এলাকায় সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছেন তাঁরা। অস্ট্রেলিয়ার অন্যান্য রাজ্যে এ ধরনের হামলার ঘটনা কম, বেশির ভাগ ঘটনাই মেলবোর্নে ঘটেছে
সর্বশেষ গত ৩ জানুয়ারি অস্ট্রেলিয়ার একটি খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রিধারী ভারতীয় ছাত্র নিতিন গার্জ রাতে কাজ সেরে বাড়ি ফেরার পথে হামলার শিকার হন। হাসপাতালে নেওয়ার পর তিনি মারা যান। নিতিন গার্জের হত্যার পাঁচ দিন পর মেলবোর্নের এসেন্ডন এলাকায় আরেক ভারতীয় ছাত্র যশপ্রীত সিংকে সন্ত্রাসীরা গাড়ি পার্কিংয়ে মারধর করে তাঁর গায়ে ও গাড়িতে পেট্রল ঢেলে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। অগি্নদগ্ধ অবস্থায় এখনো হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন যশপ্রীত। নিতিন গার্জের মৃত্যুর পর ছাত্রদের নিরাপত্তার ব্যাপারে ভারত সরকার পুনরায় চাপ প্রয়োগ করে। ভারত সাফ জানিয়ে দিয়েছে, তাদের ছাত্রছাত্রীদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হলে ভবিষ্যতে অস্ট্রেলিয়ায় তারা কোনো শিক্ষার্থী পাঠাবে না।
গত বছর ২২ জুন বাংলাদেশি ছাত্র গোলাম রাফি চৌধুরী বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে নর্থ মেলবোর্ন এলাকায় সন্ত্রাসী হামলার শিকার হন। দুজন হামলাকারী তাঁকে ছুরিকাঘাত করে। গোলাম রাফি চৌধুরী জানান, অতর্কিতভাবে তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়। এ ব্যাপারে মামলা করলেও পুলিশ এখনো পর্যন্ত কোনো সন্ত্রাসীকে শনাক্ত করতে পারেনি এবং পুলিশের কাছ থেকে এ ব্যাপারে পর্যাপ্ত সহযোগিতাও পাওয়া যায়নি। তিনি আরো জানান, এখনো বিচ্ছিন্নভাবে জাতিগত হামলার শিকার হচ্ছেন বাংলাদেশি ছাত্ররা। বাংলাদেশের আরেক ছাত্র ইমরান আহমেদ রাতে কাজ থেকে ফেরার সময় গত বছরে আগস্ট মাসে হামলার শিকার হন। হামলাকারীরা তাঁকে মারধর করার পর তাঁর মোবাইল ফোন নিয়ে যায়। বাংলাদেশের আরেক ছাত্র জয়দেব মিত্র জানান, এখানকার ছাত্ররা বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা কাজে যাতায়াতের জন্য সাধারণত পাবলিক পরিবহন ব্যবহার করেন। কাজ থেকে ফেরার পথে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে রাতে তাঁরা হামলার শিকার হচ্ছেন। হামলাকারীরা ছুরি, লাঠি ব্যবহার করে থাকে। আর বেশির ভাগ সময়ই বলে, 'তোমরা তোমাদের দেশে ফিরে যাও। অস্ট্রেলিয়া তোমাদের দেশ না।' বিশ্ব অর্থনীতির মন্দাবস্থা এবং অস্ট্রেলিয়ানরা চাকরি হারানোর কারণে এ ধরনের হামলা চালাচ্ছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
Click This Link
----
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই জানুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৩:২৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


