মধু বিষয়ক তথ্য
১০ ই আগস্ট, ২০০৭ রাত ৯:৪৩
বি: দ্র: লেখাটি সময় নিয়ে পড়তে হবে
মধু : মধু হচ্ছে একটি তরল আঠালো মিষ্টি জাতীয় পদার্থ, যা মৌমাছিরা ফুল থেকে নেকটার বা পুষ্পরস হিসেবে সংগ্রহ করে মৌচাকে জমা রাখে। পরবর্তীতে জমাকৃত পুষ্পরস প্রাকৃতিক নিয়মেই মৌমাছি বিশেষ প্রক্রিয়ায় পূর্ণাঙ্গ মধুতে রূপান্তর এবং কোষবদ্ধ অবস্থায় মৌচাকে সংরক্ষণ করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং খাদ্য ও কৃষি সংস্থার মতে মধু হচ্ছে এমন একটি অগাজানোশীল মিষ্টি জাতীয় পদার্থ যা মৌমাছিরা ফুলের নেকটার অথবা জীবন্ত গাছপালার নির্গত রস থেকে সংগ্রহ করে মধুতে রূপান্তর করে এবং সুনির্দিষ্ট কিছু উপাদান যোগ করে মৌচাকে সংরক্ষণ করে।
মধুর উপকারিতা
মধু সর্দি, ঠা-া, কাশি, জ্বর, হাপানি, হৃদরোগ, পুরনো আমাশয় এবং পেটের পীড়া নিরাময়সহ নানাবিধ জটিল রোগের উপকার করে থাকে। এছাড়া মধু ভালো শক্তি প্রদায়ী খাদ্য।
- মধুতে বিভিন্ন সূক্ষ্ম পুষ্টি উপাদান ও ভেষজ গুণ রয়েছে।
- মৌমাছি ফুলের পরাগায়নে সাহায্য করে শস্য উৎপাদন বাড়ায়।
- মৌচাক থেকে যে মোম পাওয়া যায় তা বিভিন্ন শিল্পজাত দ্রব্য যেমন- লোশন, সাবান, কৃম ইত্যাদি তৈরিতে ব্যবহার করা হয়।
- রূপচর্চার বিভিন্ন কাজে মধু ব্যবহার করা হয়।
খাটি মধুর বৈশিষ্ট্য
Ñ খাটি মধুতে কখনো কটু গন্ধ থাকে না।
- মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকারক কোনো বিষাক্ত উপাদান প্রাকৃতিক গাছে থাকলেও তার প্রভাব মধুতে থাকে না।
- মধু সংরক্ষণে কোনো পৃজারভেটিভ ব্যবহৃত হয় না। কারণ মধু নিজেই পৃজারভেটিভ গুণাগুণ সম্পন্ন পুষ্টিতে ভরপুর খাদ্য।
- মধু উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাত, নিষ্কাশন, সংরক্ষণ ও বোতলজাতকরণের সময় অন্য কোনো পদার্থের সংমিশ্রণ প্রয়োজন হয় না।
- খাটি মধু পানির গ্লাসে ড্রপ আকারে ছাড়লে তা সরাসরি ড্রপ অবস্থায়ই গ্লাসের নিচে চলে যায়।
খাটি ও প্রাকৃতিক মধুতে ডঐঙ ও ঋঅঙ-এর মতে যে মান থাকা আবশ্যক
১. পানি শতকরা ২১ ভাগের বেশি নয়।
২. সুক্রোজ শতকরা ৫ ভাগের বেশি নয়।
৩. অ্যাশ শতকরা ১ ভাগের বেশি নয়।
৪. ফৃ এসিড ৪০ মিলি ইকুইভালেন্ট প্রতি কেজিতে।
৫. এইচএমএফ ৮০ মিলিগ্রাম প্রতি কেজিতে অথবা, ৪০ পিপিএম (পার্টস পার মিলিয়ন)।
৬. রিডিউসিং সুগার শতকরা ৬৫ ভাগের কম নয়।
খাটি মধুর সহজ পরীক্ষা
স্বচ্ছ কাচের গ্লাসের পানিতে খাটি মধু ঢেলে দিলে সহজে পানির সঙ্গে না মিশে গ্লাসের তলায় তলানি হিসেবে বসে থাকে। এ অবস্থা দুই-তিন ঘণ্টা স্থায়ী থাকে। কারণ মধুর ঘনত্ব পানির ঘনত্বের চেয়ে চার-পাচ গুণ ভারি। আর যদি ভেজাল হয় তবে সহজে পানির সঙ্গে মিশে যাবে।
মধুর দানাদার সমস্যা
অনেক মধু দানাদার আকার ধারণ করে। যদি কোনো মধুতে গ্লুকোজের পরিমাণ ফ্রুক্টোজের চেয়ে বেশি থাকে তখন সে মধু অতি দ্রুত দানাদার হয়। যেমন সরিষা ফুলের মধু। আবার মধুতে পর্যাপ্ত পোলেন, ধুলাবালি ও বুদবুদ থাকলে সে মধু সহজে দানাদার হয়। সাধারণত ১১ক্কÑ১৮ক্ক সেলসিয়াস তাপমাত্রায় মধু জমতে পারে। তবে ১৪ক্ক সেলসিয়াস তাপমাত্রা মধু অতি দ্রুত জমতে সহায়ক। পানির পরিমাণ বেশি থাকলে মধুকে দানাদার হতে ত্বরান্বিত করবে। তবে দানাদার মধু খেতে কোনো সমস্যা নেই। দানাদার মধুকে পরোক্ষ তাপ প্রয়োগের মাধ্যমে তরল করা যায় বা কৃম মধুতে রূপান্তর করা যায়। দানাদার মধু ছয় মাসের মধ্যে ব্যবহার করা উত্তম।
মৌচাষ
প্রাকৃতিকভাবে মৌমাছির তৈরি মৌচাক থেকে মধু সংগ্রহ করা হয়। কিন্তু আধুনিক পদ্ধতিতে বাক্সে মৌমাছির কলোনি স্থাপন করে বৈজ্ঞানিকভাবে মৌমাছি চাষ করা হয়। এ রকম বক্স থেকে মৌমাছির তৈরি মধু স্বাস্থ্যসম্মতভাবে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া সম্ভব।
বাংলাদেশে চার প্রজাতির মৌমাছি পাওয়া যায়। এগুলোর পরিচিতি এদের বৈজ্ঞানিক নামের মাধ্যমে হয়ে থাকে।
এগুলো হলো যথাক্রমে এপিস মেলিফেরা, এপিস সেরানা, এপিস ডরসাটা, এপিস ফোরিয়া। এদের মধ্যে এপিস মেলিফেরা ও এপিস সেরানা প্রজাতির মৌমাছি বাক্সে চাষ করা যায়। তবে এপিস মেলিফেরা চাষ করা বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক। কারণ এ মৌমাছির কুইন গ্রাফটিংয়ের (নতুন রানী সৃষ্টি) মাধ্যমে মৌমাছি কলোনি বৃদ্ধি করা যায়। বছরে ১০-১৮ ফ্রেমের একটি মৌ কলোনি থেকে ৫০-৭০ কেজি মধু পাওয়া যায়।
মধুর জন্য উপযোগী গাছপালা
শস্য জাতীয় ফুলÑ সরিষা, তিল, ভুট্টা, তুলা, ধনিয়া ইত্যাদি।
ফল জাতীয় ফুলÑ লিচু, আম, তেতুল, জলপাই, বরই, কামরাঙ্গা, নারিকেল, লেবু, পেয়ারা ইত্যাদি।
সবজি জাতীয় ফুলÑ লাউ, বেগুন, মিষ্টি কুমড়া, টমাটো, শসা, শিম ইত্যাদি।
ফুল জাতীয়Ñ সূর্যমুখী, শাপলা, গোলাপ, গাদা, বকুল ইত্যাদি।
মৌ কলোনি
বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বাক্সের ভেতর রানী, পুরুষ ও শ্রমিক মৌমাছি একত্রে বসবাস করাকে মৌ কলোনি বলে। একটি কলোনিতে পাচ হাজার থেকে পচাত্তর হাজার মৌমাছি একত্রে থাকতে পারে। মৌ কলোনিতে রানীকে ঘিরে অন্যান্য মৌমাছি বাস করে। একটি পূর্ণাঙ্গ মৌ কলোনিতে তিন ধরনের মৌমাছি থাকতে হয়।
রানী মৌমাছি
একটি মৌ কলোনি প্রতিষ্ঠিত হয় একটি মাত্র রানী মৌমাছিকে ঘিরে। রানী মৌমাছি আকারে পুরুষ ও শ্রমিক মৌমাছির চেয়ে বড়, গায়ের রঙ উজ্জ্বল খয়েরি বর্ণের, হুল ফুটাতে পারে না। রানীর শরীর থেকে ফেরোমেন নামক বস্তুর গন্ধ বের হয় বলে অন্যান্য মৌমাছি রানীকে ঘিরে থাকে এবং কলোনি ত্যাগ করে অন্য কলোনিতে যায় না। রানী মৌমাছির একমাত্র কাজ ডিম দেয়া। রানী প্রতিদিন ১,৮০০-২,০০০ ডিম দিতে পারে। একটি রানী তিন-চার বছর বাচে। রানী মূলত একটি শ্রমিক মৌমাছি হলেও লার্ভা অবস্থা থেকে তাকে বিশেষভাবে লালন করে রানী হিসেবে বড় করা হয়।
পুরুষ মৌমাছি
পুরুষ মৌমাছি শ্রমিকের চেয়ে আকারে বড় ও রানীর চেয়ে ছোট আকৃতির হয়। এদের আকৃতি মোটা, গায়ের রঙ কালচে, পেট অনেকটা গোলাকৃতি, হুল নেই, এরা মধু সংগ্রহ করতে পারে না। রানীর সঙ্গে যৌন মিলন হওয়ার পর পুরুষ মৌমাছি মারা যায়। এরা এক-দুই মাস পর্যন্ত বাচে।
শ্রমিক মৌমাছি
এরা আকারে পুরুষ মৌমাছির চেয়ে ছোট, গায়ের রঙ হালকা হলুদ, দেহের শেষ প্রান্তে একটি হুল আছে, তলপেট খুব ছোট ও সুচালো। শ্রমিক মৌমাছিরাই কলোনির সব কাজ করে থাকে। এরা ফুল থেকে মৌ রস ও পরাগ সংগ্রহ করে, মধু তৈরি করে বাচ্চাদের খাওয়ায় এবং লালনপালন করে, কলোনি পরিষ্কার রাখে, রাণীর যতœ নেয়। এরা স্ত্রী জাতীয় মৌমাছি তবে প্রজননে সক্ষম নয়।
পূর্ণাঙ্গ মৌমাছি তৈরির ধাপ
ডিম থেকে পূর্ণাঙ্গ মৌমাছি হতে চারটি ধাপ আছেÑ
মৌমাছি ডিম লার্ভা পিউপা পূর্ণাঙ্গ মৌমাছি
রাণী ৩ দিন ৫ দিন ৮ দিন ১৬ দিন
শ্রমিক ৩ দিন ৭ দিন ১৩ দিন ২১ দিন
পুরুষ ৩ দিন ৭ দিন ১৪ দিন ২৪ দিন
মৌচাষের উপযুক্ত স্থান
কৃত্রিম পদ্ধতিতে মৌচাষের জন্য উপযুক্ত স্থান খুব গুরুত্বপূর্ণ :
১. পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন স্থানে কলোনি স্থাপন করতে হবে। অর্থাৎ গোয়ালঘর, রান্নাঘর কিংবা ময়লা-আবর্জনাযুক্ত স্থানে কলোনি স্থাপন করা যাবে না।
২. গ্রীষ্মকালে আংশিক ছায়া কিংবা আংশিক রৌদ্রযুক্ত স্থানে কলোনি স্থাপন করতে হবে।
৩. শীতকালে দিনের বেলায় কলোনি পুরোপুরি রোদে রাখতে হবে।
৪. খোলামেলা বাতাসযুক্ত স্থানে কলোনি রাখতে হবে।
৫. বিভিন্ন উপযুক্ত ফুলের মৌসুমে কলোনিগুলো এসব ফুলের যেখানে প্রাচুর্য তার কাছাকাছি জায়গায় নিয়ে যতœ করে রাখতে হবে।
মৌ বক্স
একটি আধুনিক মৌ বাক্সের প্রধান দুটি অংশ থাকে। যথা ব্রুড চেম্বার ও সুপার চেম্বার।
ব্রুড চেম্বার
এ অংশে ফ্রেম দেয়া হয়, যাতে মৌমাছি মৌচাক তৈরি করে এবং রানী ডিম দেয়। এ চেম্বারে মৌমাছিরা শুধু তাদের দৈনন্দিন ব্যবহার্য মধু, পরাগ ও ডিম-বাচ্চা দিয়ে থাকে।
সুপার চেম্বার
এখানেও ফ্রেম থাকে, মৌমাছি এখানে শুধু মধু জমায়। এর উচ্চতা ব্রুড চেম্বারের চেয়ে কম।
ফ্রেম
বাক্সে মৌচাকগুলো যেন সুন্দরভাবে আলাদা সমতলে তৈরি হতে পারে এ জন্য বেশ কিছু আয়তাকার কাঠের ফ্রেম এখানে পাশাপাশি রাখা থাকে, যা ব্রুড ও সুপার চেম্বারের মাপ অনুযায়ী হয়ে থাকে। মৌমাছিরা তাদের স্বভাব অনুযায়ী কাজ করে এখানে মোমের চাক তৈরি করে। চারপাশে ফ্রেম থাকাতে এখানে চাক ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে।
মধু উৎপাদন
২১ দিন বয়সের শ্রমিক মৌমাছিরা বিভিন্ন ফুল থেকে নেকটার বা মৌ রস সংগ্রহ করে ১৭-১৯ দিন বয়সের শ্রমিক মৌমাছির মুখে তুলে দেয়। তা শ্রমিক মৌমাছিরা গিলে ফেলে মধু থলিতে জমা করে এবং সেখান থেকে ইনভারটেজ, ডায়াসটোজ, গ্লুকোজ অক্সিডেজ ইত্যাদি এনজাইমের সাহায্যে সরল চিনিতে পরিণত করে মৌচাকের বিভিন্ন কোষে জমা করে। এ সময় মধুতে পানির পরিমাণ ৫০-৬০ ভাগ থাকে। তখন অন্যান্য শ্রমিক মৌমাছি পাখার সাহায্যে দ্রুত বাতাস করে জলীয় অংশের পরিমাণ ১৮-২০ ভাগে নিয়ে আসে। এরপর মোম দিয়ে মৌচাকের খোপের ভেতর দিয়ে মধুকে ঢেলে ফেলে। এভাবেই সঠিক ঘনত্বের মধু তৈরি হয়। এ মধু দীর্ঘদিন পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায়।
মধু সংগ্রহ পদ্ধতি
সকাল ৯টার মধ্যে কিংবা বিকাল ৪টার পর মধু সংগ্রহের জন্য যথাযথ সময়। প্রথমে যেসব কলোনি থেকে মধু সংগ্রহ করা হবে সেসব কলোনি বাক্সের কভার খুলে হালকা ধোয়া দিতে হবে যেন মৌমাছিদের ক্ষিপ্ততা কমে শান্ত হয়ে নিচে ব্রুড চেম্বারে চলে যায়। তখন ফ্রেমগুলো উঠিয়ে ক্যাপিংযুক্ত অর্থাৎ মোমের আবরণযুক্ত মধুর চাকগুলো নিয়ে ক্যাপিং কেটে মধু নিষ্কাশন যন্ত্রে ঘূর্ণায়নের মাধ্যমে মধু সংগ্রহ করা হয়। এরপর এখান থেকে মধু বের করে ছেকে নিয়ে বোতলজাত করতে হবে। মধু কখনো খোলা অবস্থায় রাখা যাবে না। কারণ মধু বায়ুম-ল থেকে জলীয় অংশ শোষণ করতে পারে এবং তাতে মধু নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
শীতকালে বায়ুম-লে পানির পরিমাণ কম থাকে, তাই এ সময়কালে মধুতে পানির পরিমাণ কম ও গ্লুকোজের মাত্রা বেশি থাকায় ১০ক্ক-১৮ক্ক সেলসিয়াস তাপমাত্রায় মধু জমাট বাধে। জমাট বাধা মধু ৫০ক্ক সেলসিয়াস তাপমাত্রায় পরোক্ষ তাপে গরম করে তরল মধুতে পরিণত করা হয়। রিফ্র্যাকটোমিটারের সাহায্যে মধুর জলীয় অংশ পরিমাপ এবং গ্রেডিং করা যায়।
১৮%-২০% ‘এ’ গ্রেড
২১%-২৩% ‘বি’ গ্রেড
২৪% এর উপরে ‘সি’ গ্রেড
মধু প্রক্রিয়াজাতকরণের ধাপগুলো
য় মধুর গুণাগুণ অক্ষুণœ রাখার জন্য স্টেইনলেস স্টিলের পাইপ ও কন্টেইনারসহ সংশ্লিষ্ট যন্ত্রাংশের সমন্বয়ে প্রসেসিং প্লান্টের প্রয়োজন হয়।
য় মধুতে বিদ্যমান মোম, ধুলাবালি, মৃত মৌমাছির অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ও অন্যান্য অপ্রয়োজনীয় বস্তু রোধ করার জন্য পরোক্ষ তাপ দেয়ার পর বিশেষভাবে নির্মিত ছাকনির (ফিল্টারের) মাধ্যমে মধু ছাকা হয়। উল্লেখ্য, মধুকে সর্বোচ্চ ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় (মোম গলার নিচের তাপমাত্রা) পরোক্ষ তাপে তরল করা হয়।
য় এরপর ১০-১৫ মিনিট সময় ধরে মধুকে ৬০-৬০ক্ক সেলসিয়াস তাপমাত্রায় বিশেষ কয়েলযুক্ত স্টেইনলেস স্টিলের পাইপের মাধ্যমে মধু থেকে বাষ্প আকারে অতিরিক্ত পানি অপসারণ করা হয়। এভাবে ভ্যাকুয়াম পাম্পের সাহায্যে পর্যায়ক্রমে মধুকে নির্ধারিত তাপ দিয়ে তা থেকে অতিরিক্ত পানি সরানোর ব্যবস্থা করা হয়। এ প্রক্রিয়ায় মধুতে অপ্রয়োজনীয় পানি আলাদা করা যায়। এ পদ্ধতি অবলম্বন করে মধুকে নষ্টকারী উপাদান বিনাশ করা হয়।
য় নির্দিষ্ট সময় ও তাপমাত্রা বিবেচনা করে প্রসেসিং এবং সঙ্গে সঙ্গেই মধুকে স্টেইনলেস স্টিলের কয়েলযুক্ত পাইপের মাধ্যমে ঠা-া পানির কন্টেইনারের সহায়তায় ঠা-া করা হয়। ঠা-া মধু আবার পাইপের মাধ্যমে সেটেলিং ট্যাংকে প্রবেশ করাতে হয়। সেটেলিং ট্যাংকে মধুকে ২৪-২৮ ঘণ্টা পর্যন্ত রেখে বুদবুদগুলো নিঃশেষ করতে হয়। এরপর বায়ুরোধক কন্টেইনারে প্যাকিংয়ের পর বোতলজাত করে বাজারজাতের জন্য পাঠানো হয়।
মধু প্রক্রিয়াজাতকরণের প্রয়োজনীয়তা
প্রকৃতির এক অনবদ্য উপাদান হচ্ছে মধু, যার রয়েছে নিজস্ব স্বাদ ও গন্ধ। মধু সাধারণত পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্য। এটি ঔষধি গুণসমৃদ্ধ, ওষুধের উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। মধুকে দীর্ঘ সময় পর্যন্ত ভালো অবস্থায় সংরক্ষণ করা যায়। মধু প্রায়ই মোম, ধুলাবালি, মৃত মৌমাছির অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ এবং বায়ুম-লীয় পদার্থ দ্বারা দূষিত হতে পারে। আর দূষিত মধু পচনশীল দ্রব্য হিসেবে বিবেচিত হবে। মধুতে অধিক মাত্রায় পানি ও ক্ষতিকর উপাদানের অস্তিত্ব থাকলে এগুলো মধুর গুণাগুণ নষ্ট করে দেয়। এ কারণে মৌ কলোনির মধু উৎপাদন পর্যায় থেকে প্যাকিং পর্যন্ত বৈজ্ঞানিক ভিত্তিতে এবং সম্পূর্ণ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নভাবে সংরক্ষণ অত্যাবশ্যক। মধু খোলা অবস্থায় অর্থাৎ মুক্ত বাতাসে পানি শোষণ করে, যা প্রাকৃতিক গুণ অক্ষুণœ রাখতে বড় বাধা হিসেবে কাজ করে। সুতরাং মধুর গুণাগুণ অক্ষুণœ রেখে স্থানীয় ক্রেতা ও রফতানি বাজারে প্রবেশের লক্ষ্যে মানসম্পন্নভাবে মধু প্রসেসিং করে ধূলিকণা, মোম ও অন্যান্য ক্ষতিকারক উপাদান অপসারণ করা প্রয়োজন। এছাড়া মধুতে বিদ্যমান অতিরিক্ত পানি অপসারণ অথবা কমিয়ে মধুর গাজানো রোধ করাও জরুরি। মধুতে উপস্থিত পোলেন, ধুলাবালি এবং বুদবুদ মধুকে দানাদার করতে প্ররোচিত করে। ৪৫ক্ক সেলসিয়াসে পরোক্ষ তাপের মাধ্যমে মধুর দানাদার হওয়া বিলম্বিত করা যায়। এছাড়া প্রসেসিং প্লান্টের সূক্ষ্ম ফিল্টারের মাধ্যমে পোলেন, মোম ও মধুতে উপস্থিত অনাকাক্সিক্ষত অপ্রয়োজনীয় পদার্থ অপসারণ করা সম্ভব হয়।
মধুর গুণাগুণ অক্ষুণœ রেখে ক্ষতিকর উপাদান ধ্বংস করার জন্য বিশেষায়িত সময়ব্যাপী নির্ধারিত মাত্রায় পরোক্ষ তাপ দেয়া প্রয়োজন। মধু প্রক্রিয়াজাতকরণে তাপমাত্রা এবং সময় নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত তাপ প্রয়োগ করলে মুধতে এইচএমএফ (হাইড্রো অক্সি মিথাইল ফুরফুরাল) বৃদ্ধি পায়। ফলে মধুর রাসায়নিক পদার্থগুলোর অবনতি ঘটে, যা গ্রহণযোগ্য নয়। অতিরিক্ত তাপের ফলে এইচএমএফ বৃদ্ধি পেয়ে মধুতে বিদ্যমান অধিকাংশ রাসায়নিক পদার্থের পরিসমাপ্তি ঘটাও অস্বাভাবিক নয়। এভাবে রাসায়নিক পদার্থ নষ্ট হওয়া মধু খাওয়া না খাওয়া একই কথা। তাছাড়া অতিরিক্ত তাপ প্রয়োগের ফলে প্রাকৃতিক মধুর যে রূপ, স্বাদ ও গন্ধ থাকে তা বিকৃত হয়ে কালো রূপ ধারণ করে। প্রক্রিয়াজাতকরণের পর প্যাকিংয়ের আগে মধু ভালোভাবে বিশেষ পদ্ধতিতে ঠা-া করা হয়, যেন দীর্ঘ সময় তা দূষণমুক্ত থাকে এবং দানাদার না হয়।
বাংলাদেশে মধু ও মোমের বিজনেস
বাংলাদেশে নভেম্বর-জুন এই সময়কালে সবচেয়ে বেশি মধু আহরণ করা সম্ভব। তবে সরিষা মৌসুমে মধু প্রাপ্তির হার অন্যান্য মৌসুমের চেয়ে বেশি। নভেম্বর-জানুয়ারি এ সময়কালে সরিষা, ফেব্রুয়ারি-মার্চ সময়কালে লিচু এবং এপৃল-জুন সময়কালে সুন্দরবনের সুন্দরী, খুলশী, কেওড়া, গড়াল ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করা হয়। এই তিন ধরনের সময়কালে নানা ধরনের ফুল-ফল থেকে প্রাপ্ত মধু ভিন্ন ভিন্ন স্বাদের হয়ে থাকে। তবে ব্যবসায়ীদের মতে, বাংলাদেশের মার্কেটে সরিষা থেকে প্রাপ্ত মধুর চাহিদা বেশি।
মধু চাষীরা বিভিন্ন সিজনে তাদের মৌ বক্স নিয়ে গাজীপুর, টাঙ্গাইল, দিনাজপুর, রাজশাহী, সাভার, শেরপুর, ময়মনসিংহ, বরগুনা ও সুন্দরবনের সাতক্ষীরায় চলে যান। একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সেখান থেকে মধু সংগ্রহ করে ফিরে আসেন। আবার কেউ কেউ স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছে উৎপাদিত মধু বিক্রি করে দেয়। যারা বৃহৎ খামারি তাদের প্রতিটি খামারের কাছাকাছি কোথাও এরিয়া অফিস রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে মধু ব্যবসায়ীরা মধু মেলা আয়োজনের মাধ্যমে মধু বিক্রি করছে। প্রতি দুই মাস অন্তর ঢাকা প্রেস কাব মাঠে এ মেলার আয়োজন করবে বাংলাদেশ এপিকালচারাল অ্যাসোসিয়েশন (বিএএ)। ২৭ মার্চ থেকে ৫ এপৃল পর্যন্ত সেখানে মেলা বসেছিল। সেখানে ১৮টি প্রতিষ্ঠানের ২৪টি স্টলে মধু বিক্রি হয়। মেলায় আসা মধু ব্যবসায়ীদের অনেকেই বলেছেন, মধু মেলা আয়োজনের মাধ্যমে তাদের বেশি পরিমাণ মধু বিক্রি হয়। সপ্তাহব্যাপী এ মেলায় প্রতিটি স্টলে গড়ে ১০ হাজার টাকার মধু বিক্রি হয়। এ ধরনের মেলা প্রথম আয়োজন করা হয় ২০০৬ সালের মার্চে। তখন তাদের মোট বিক্রির পরিমাণ ছিল দেড় টন। সে বছর আগস্টে তারা আবার মেলা আয়োজন করে
দ্বিতীয়নাম বলেছেন:
"পুরুষ মৌমাছিপুরুষ মৌমাছি শ্রমিকের চেয়ে আকারে বড় ও রানীর চেয়ে ছোট আকৃতির হয়। এদের আকৃতি মোটা, গায়ের রঙ কালচে, পেট অনেকটা গোলাকৃতি, হুল নেই, এরা মধু সংগ্রহ করতে পারে না। রানীর সঙ্গে যৌন মিলন হওয়ার পর পুরুষ মৌমাছি মারা যায়। এরা এক-দুই মাস পর্যন্ত বাচে। "
আহা! মানুষের যদি এমন হইতো, জীবন সার্থক হইতো!!
গন্ডার বলেছেন:
কোন আবাল এই তিন মাইল লম্বা প্যাচাল পড়ব!!!!
শরিফ রনি বলেছেন:
আবদুর রাজ্জাক শিপন ও ধ্রূপদী আপনাদের পরামর্শ আমার মনে থাকবে ।মন্তব্য করার জন্য দ্বিতীয়নাম ওগন্ডারকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছি ।
বইপাগল বলেছেন:
আগেই ৫ দিয়ে রাখলাম, কারণ মধু আমার খুব প্রিয়



















পাঠকের সুবিধার্থে এরকম লেখা পর্বে পর্বে ভাগ করে দিলে সুবিধে হয় । ধন্যবাদ ।