আমার প্রিয় পোস্ট

বিলীন হয়ে যাচ্ছে মিরপুর চটবাড়ীয়া ঘাটের সৌন্দর্য

২৪ শে জুলাই, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৪৯

শেয়ার করুন:                   Facebook

খুব বেশি দিন আগের কথা নয় যখন রাজধানীর ব্যস্ততা ছেড়ে একটু স্বস্থির নিঃশ্বাস ফেলতে ঢাকার অনেকেই মিরপুরের চটবাড়ীয়া ঘাটে বেড়াতে যেতেন। ঢাকার ভেতর এক টুকরো গ্রাম সবাইকে আন্দোলিত করেছে। মিরপুরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া তুরাগের এ অংশে চটবাড়ীয়া ঘাট আর দিয়াবাড়ী ঘাটে প্রতিদিনই লোকের ভীড় পড়ে যেতো। ৯৮/৯৯ সালের ঐ সময়টায় নদীতে শুশুক, শামুকসহ প্রচুর জলজ প্রাণী দেখা যেত। চটবাড়ী ঘাটে যে বট গাছটা দেখা যায় তখন এর চারপাশ সিরামিকের ইটে বাঁধানো ছিল। যদিও পড়ে বন্যায় ইটগুলো সরে গেলে এর আর সংস্কার হয়নি।
তখন অনেকে চটবাড়ী যেতেন মিরপুর বোটানিকাল গার্ডেনের ভেতর দিয়ে পায়ে হেটে। কেউবা আশুলিয়া বেড়ি বাধেঁর পাশ দিয়ে রিক্সায়। বোটানিকাল গার্ডেনের পেছনের গেট দিয়ে বেরুলে সামনে যে বিস্তৃর্ণ পথ আর নদীর সমন্বয়ে প্রকৃতির অপরুপ দৃশ্য দেখা যেত তার অর্ধেক সৌন্দর্য ইতিমধ্যে বিলীন হয়ে গেছে। বোঝা যাচ্ছে বাকীটুকুও আগামী এক বছরের মধ্যে ধ্বংসপ্রাপ্ত হবে।
বছর পাচেক আগে বেড়ি বাঁধের ওপরে পাকা রাস্তা তৈরী হলে সেখানে লোক সমাগম বেড়ে যায়। শুরু হয় নদী দখল প্রক্রিয়া। দখল প্রক্রিয়ার কৌশলটা বেশ পুরনো। সরকারী জায়গায় প্রথমে মসজিদ তৈরী করা। এর কিছুদিন পর জমির আশপাশে মাটি ফেলে রেস্টুরেন্ট কিংবা পার্ক বানিয়ে ব্যবসা শুরু করা। আর বলা, ব্যবসার মূল উদ্দেশ্য মসজিদের উন্নয়নের জন্য তহবিল গঠন করা। চটবাড়ী ঘাটেও এ পদ্ধতির প্রতিফলন চোখে পড়ে। চটবাড়ীয়া ঘাটে মাত্র এক কিলোমিটারের মধ্যে ৩টি মসজিদ পাওয়া যায়। জানা গেছে, সেখানে অল্পদিনের মধ্যেই আরো বেশকটি মসজিদ তৈরী হবে। নদী ভরাট করে আরো ৪টি স্থানে বালু ফেলা হচ্ছে মসজিদ বানানো জন্য। ফলে আগামী এক মাস পর সেখানে ৭টি মসজিদ দেখা যাবে। অবাক হবার মতো আরেকটি বিষয় হচ্ছে, সেখানে মসজিদের তহবিল সংগ্রহের জন্য বানানো রেস্টুরেন্ট বা পার্কের আয়তন মসজিদের আয়তনের বিশ গুণেরও বেশি।
কিন্তু দেখার কেউ নাই। মাত্র ২ বছরের ব্যবধানে ভূমিদস্যুরা সব কেড়ে নিল। সরকার নিশ্চুপ । শুনেছি এ কাজে সরকারের সমর্থন আছে। সরকার নাকি তাদের অনুমতি দিয়েছে। আমি সত্য- মিথ্যা জানিনা। আমি ভূলতে পারছিনা সেই নদী যাকে মেরে ফেলা হচ্ছে। প্রকৃতির এই অপার সৌন্দর্যটুকু রক্ষা করা সরকারের জন্য কি খুব বেশি কঠিন কাজ।

 

 

  • ৪ টি মন্তব্য
  • ২১২ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ৩ জনের ভাল লেগেছে, ০ জনের ভাল লাগেনি
১. ২৪ শে জুলাই, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৫৫
comment by: সমকালের গান বলেছেন: সর্বনাশ। এই গ্রামের কথা জানতাম না। একদিন গিয়ে দেখে আসব। অবশ্য ততদিনে যদি গ্রামটা বাচে। ধন্যবাদ।
২. ২৪ শে জুলাই, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৫৭
comment by: একরামুল হক শামীম বলেছেন: খুবই খারাপ বিষয়। এইভাবে নদীদখল করে নিলেতো কিছুই বাকি থাকবে না। ভূমিদস্যুরা এভাবেই কেড়ে নেবে নদীপাড়ের জায়গা। মোটেও গ্রহণযোগ্য না।
প্রকৃতির এই অপার সৌন্দর্যটুকু রক্ষা করা সরকারের দায়িত্ব। সরকারের উচিত সেই প্রদক্ষেপ নেওয়া।
৩. ২৫ শে জুলাই, ২০০৮ দুপুর ১:৩৯
comment by: মোহাম্মদ আরজু বলেছেন: হুমম . . . . . . .
৪. ২৭ শে জুলাই, ২০০৮ দুপুর ১:০৩
comment by: আতিক একটেল বলেছেন: মসজিদ জমি দখলের হাতিয়ার।পৃথিবীর অন্য কোন ধর্মের উপাসনালয়ের এই রকম ব্যবহার এত প্রকট? গবেষণার বিষয় হতে পারে এটা।

 

 


ব্লগিং আর সাংবাদিকতা করেই দিন পার ......
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ