somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... আমার ভাগ্নে শপথ করেছে ‍আমি শপথ করিতেছে যে আমি সুন্নতে খাতনা করাইবো না। কারণ এতে ব্যাথা লাগে। তাই আজ থেকে আমি একজন করে অভিভাবককে বোঝাবো যেন তারা খাতনা করিয়ে তার সন্তানকে কষ্ট না দেন। এভাবেই বদলে যাবে দেশ।"

এই শপথবাক্য দেখে দুলাভাই ক্ষেপে গেলেন। তিনি শুক্রবার খাতনার ডেট ফিক্সড করে ফেললেন। তবু ভাগ্নে তার শপথে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। আজ দুপুরে ফোনে আমাকে এসব জানিয়েছে। আমি সব শুনে বললাম: ভাগ্নে তোমার দিনবদলের কথা শুনে আমি খুব খুশি। আর খাতনায় শরীর থেকে কিছু অংশ কেটে ফেলা হবে। ফলে অনাবৃত অংশে আলো আসবে। আর আলো এলেই দিনবদল হবে। বদলে যাবে দেশ।"
আমার কথা মনে হয় ভাগ্নের পছন্দ হয়নি। সে দ্রুত ফোনের লাইন কেটে দেয়।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Roneyblog/28956597 http://www.somewhereinblog.net/blog/Roneyblog/28956597 2009-05-27 18:51:51
শব্দটা হিন্দি নাকি উর্দু বুঝতে পারছি না? শব্দটা হিন্দি নাকি উর্দু বুঝতে না পেরে আমি এক সহকর্মীর কাছে জানতে চাই। তিনি জানালেন, উনি হচ্ছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা, উনি কখনোই উর্দু বলবেন না। এটা অবশ্যই হিন্দি ভাষা শব্দ। তার কথার রেশ ধরে আরেক সহকর্মী বলিষ্ঠ কন্ঠে জানালেন, প্রধানমন্ত্রী উর্দু বলেছেন।
তাদের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। আর আমি গোলকধাধায় পড়ে যাই। আপনারা কি বলেন?]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Roneyblog/28935342 http://www.somewhereinblog.net/blog/Roneyblog/28935342 2009-04-08 16:24:37
সঞ্জীব দা কে নিয়ে লেখা....
আমাদের প্রিয় সঞ্জীব দা যেদিন পৃথিবী ছেড়ে চলে গেলেন তার কয়েকদিন পর এক পুলিশ অফিসার লেখাটি আমার ঠিকানায় পাঠিয়েছেন। লেখাটি পড়ে আমার মনে হয়েছিল এটি চিঠিপত্র বিভাগে ছাপা হতে পারে। তাই এডিটরিয়াল ডিপার্টমেন্টে পাঠিয়ে দেই। মাসখানেক পর এডিটরিয়াল ইনচার্জ জানালেন, মানহীন লেখা তাই বাদ দিতে হলো। নিন লেখাটা আপনার কাছে রেখে দিন। আমি এটা স্বযত্নে রেখে দিয়েছিলাম আজ ব্লগে পোষ্ট করার জন্য। লেখক লেখাটির শিরোনাম দিয়েছেন এক কাপ চা


দূরের স্ট্রীট লাইটের আলোয় দ্রæত পায়ে এগিয়ে চলা ব্যক্তিটিকে ছায়ার মতো মনে হচ্ছে। ছায়াটাকে পরিচিত মনে হওয়ায় এক দৃষ্টিতে চেয়ে আছি। এক পা, দু’পা করে যখন চলমান ছায়াটা কাছে আসে, তখন বুঝতে পারলাম আমার অনুমান ভুল নয়। হ্যাঁ, তিনি সঞ্জীব দা। উনাকে কেমন জানি ইত¯Íত মনে হচ্ছে। এলোমেলো চুল। দু’চোখে রাজ্যের ভয়। ডান হাত দিয়ে চেপে রেখেছেন বাম হাতের উপরের অংশ। মাঝে মধ্যে আলতোভাবে ম্যাসেজ করছেন। বাংলামটর মোড়ের দোকানগুলোর ঝলমলে আলোর কাছে আসতেই দাদার কাছে এগিয়ে সালাম দিলাম। জিজ্ঞেস করলাম - ‘কেমন আছেন’? তিনি হকচকিয়ে উঠলেন। যেন কোনো শংকিত সাধকের ধ্যান ভাঙলো। কপালের রেখা বলে দিচ্ছে তিনি এই নগন্য পুলিশ অফিসারকে চেনেন না।

ভোরের কাগজের পাঠক ফোরাম যখন হৃদয়ের মধ্যমনিতে তখন প্রায়ই হৃদয়ের টানে (সঞ্জীব দা’র ভাষায় - নাড়ির টানে!) সেই ময়মনসিংহ থেকে চলে আসতাম বাংলামোটর, ভোরের কাগজ অফিসে। সেখানকার গল্প বা আড্ডার মধ্যমনি ছিলেন ঝাকড়া চুলের একজন মানুষ। গল্পের ফাঁকে ফাঁকে দিতেন লেখালেখির অমূল্য টিপস যা উঠতি লেখকদের ভীষন কাজে আসতো। মাঝে মধ্যে টেবিলটাকে তবলা বানিয়ে দরাজ গলায় গেয়ে উঠতেন তিনি। আহা, কি জাদু মাখা কণ্ঠ। বন্ধুর কাছে তার পরিচয় জানতে পারি। তিনি সঞ্জীব চৌধুরী। পত্রিকার সঙ্গে পাঠকদের সম্পৃক্ত করা যায়, পত্রিকার পাতায় পাঠকদের প্রতিভাকে বের করে আনা - এগুলো তারই মস্তিষ্ক প্রসুত আইডিয়া। তার হাতের ছোয়ায় ভোরের কাগজের ‘মেলা’ পাতার ফিচারগুলো পেয়েছিল ভিন্ন মাত্রা। তুখোড় মেধাবী এ মানুষটি প্রিন্ট মিডিয়াকে ভালোবেসে অনেক লাভজনক চাকরির প্রস্তাবও ফিরিয়ে দিয়েছেন।

তারপর কিছুদিনের গ্যাপ। পড়ালেখার ব্যস্ততার কারনে খুব একটা ঢাকামুখো হইনি। এসময় একদিন বিটিভির ‘ইত্যাদি’ অনুষ্ঠানে তার সেই বিখ্যাত গানটি প্রচারিত হয়। গাড়ি চলে না, চলে না, চলে না রে.....। গায়ক সঞ্জীব দা-কে দেখে আমি আপ্লুত হই। মনে হয়েছে টিভি পর্দায় যেন আমার খুব কাছের একজন মানুষকে দেখছি। পরবর্তীতে তার দলছুট ব্যান্ড গঠন, যায়যায়দিনে যোগদান- সবই শুনেছি দূর থেকে। আজ এভাবে সঞ্জীব দা কে পেয়ে যাবো তা স্বপ্নেও ভাবিনি। দিনক্ষন মনে নেই। তবে সময়টা ২০০৭ এর জুলাইয়ের কোনো একদিনের ঘটনা।

দাদা, আমাকে আপনি হয়তো চিনবেন না। আমি একসময় ভোরের কাগজ পাঠক ফোরামে যুক্ত ছিলাম। আপনার সম্পাদিত ‘মেলা’ পাতাতেও লিখেছি। ইদানিং আপনার গান শুনে মুগ্ধ হই। আমি আপনাকে চিনি। আমার কথা শেষ হলে তিনি তার মোবাইল ফোন, টাকা- পয়সা সব ছিনতাই হবার কথা জানান। ছিনতাইকারীদের সঙ্গে ধস্তধস্তিতে বাম হাতের কনুইয়ের দিকে কিছুটা কেটে গেছে। আমাকে কেটে যাওয়া জায়গাটা দেখাতে যেয়ে ব্যাথায় কঁকিয়ে উঠেন। এ অবস্থায় রাস্তার পাশের চায়ের দোকান থেকে একটা টোল এনে তাকে বসতে দিই। আমি মোটর সাইকেলে তাকে সঙ্গে নিয়ে ছিনতাইকৃত স্থানে যেতে চাইলে তিনি বাধা দিয়ে বলেন, এতোক্ষনে হয়তো ওরা কেটে পড়েছে। পরক্ষনে অবুঝ শিশুর মতো বলে উঠেন, আমিও সহজে ছাড়িনি। ওরা সংখ্যায় চার- পাচজন না হলে দেখিয়ে দিতাম।
- চলুন আপনাকে বাসায় পৌছে দিই।
- না, না আপনি ডিউটি করছেন।
- সবেমাত্র আমার ডিউটি শেষ হয়েছে। পরের শিফটের লোক এসে গেছে। এখন আমার বিদায়ের পালা।
-ঠিক আছে। তবুও আপনাদের ডিউটি যে কতো পরিশ্রমের তা বুঝি। আপনি বরং আমাকে একটা সিএনজি ঠিক করে দিন।
সঞ্জীব দা’র চোখগুলোতে শংকার ছাপ দেখে আমি বলি, এতো রাতে অটোরিক্সা বা ট্যাক্সি ক্যাব পাওয়া বেশ কঠিন।

অনেক বলার পর শেষ পর্যন্ত আমার মোটরবাইকে চড়ে বাসায় যেতে রাজি হন। বাসায় কলিংবেল বাজতেই ওপর তলা থেকে দাদার একমাত্র মেয়ে কিংবদন্তীকে কোলে নিয়ে বৌদি দরজা খুলে দেন। দাদাকে দেখে উৎকন্ঠিত কন্ঠে দাদার মোবাইল ফোন বন্ধের কারণ জানতে চান। দাদা তার কাছে সব ঘটনার বিবরণ বলতে থাকেন।

বৌদি আমাকে চা খাওয়ার জন্য ভেতরে যেতে বলেন। সঞ্জীব দা ও চা খাওয়ার জন্য পিড়াপিড়ি করেন।
- দাদা বাসাতো চিনে গেলাম। অন্য সময় এসে খেয়ে যাব। এখন চা খেলে আমার রাতের খাবারে অরুচি চলে আসবে। বলেই বিদায় নিই।

এর দু’দিন পর সঞ্জীব দা ফোন করে আবারও চায়ের কথা মনে করিয়ে দেন। আমার কাজের ব্যস্ততার জন্য যাওয়া হয়নি।

পত্রিকা পড়ে জেনেছি তিনি বেচে নেই। আজই চলে গেছেন দিগন্তের ওপারে। এটা মেনে নিতে খুব কষ্ট হচ্ছে। এমন তো হবার কথা ছিল না !
সঞ্জীব দা, আমাদের কাদিয়ে এভাবে চলে যেতে পারলেন?
আপনার নতুন গান আর কোনদিন শুনতে পারবো না ভাবলে এতো বিমর্ষ লাগে কেন?
আমাকে এক কাপ চা পাওনা রেখে আপনি এভাবে চলে যেতে পারলেন?

ওমর ফারুক দোলা
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Roneyblog/28871221 http://www.somewhereinblog.net/blog/Roneyblog/28871221 2008-11-19 16:22:32
কৌতুক
কাস টিচার মন্টুকে কিছু প্রশ্ন করলেন-
মন্টু বলো তো আমেরিকার প্রেসিডেন্টের নাম কী?
জানি না স্যার।

আচ্ছা বলো তো তোমার বাবা কতো স্পিডে মোটরসাইকেল চালান?
জানি না স্যার।

মন্টু বলো তো মুরগি কী দেয়?
জানি না স্যার।

ঠিক আছে কাল বাড়ি থেকে প্রশ্নগুলোর উত্তর জেনে আসবে, টিচার বললেন।
বাড়ি গিয়ে মন্টু মাকে বললো, আমেরিকার প্রেসিডেন্টের নাম কী? মা বললো- বুশ। বাবাকে বললো- বাবা তুমি কতো জোরে মোটরসাইকেল চালাও? বাবা বললো- ফুল গিয়ারে। মন্টু আপুকে বললো- আপু মুরগি কী দেয়? আপু বললো- ডিম দেয়।
পর দিন
শিক্ষক : মন্টু প্রশ্নগুলোর উত্তর জেনে এসেছো?
মন্টু : জি স্যার।
উত্তরগুলো এক দমে বলি স্যার।
শিক্ষক : আচ্ছা বলো।
মন্টু : বুশ ফুল গিয়ারে ডিম পাড়ে।

আদনান সিদ্দিকী
পঞ্চম শ্রেণী, নওগাঁ জিলা স্কুল

গত সপ্তাহে যাযাদির বাচ্চাদের পাতায় এটি ছেপেছিলাম।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Roneyblog/28867682 http://www.somewhereinblog.net/blog/Roneyblog/28867682 2008-11-11 14:00:46
আমেরিকার নির্বাচন নিয়ে পাজল আমেরিকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ৩১ অক্টোবর যায়যায়দিনের পক্ষ থেকে বিশেষ সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছিল। সেখানে এ লেখাটি ছাপা হয়েছিল।



কল্পনা করুন, ৪ নভেম্বর ২০০৮ তারিখে শান্তিপূর্ণভাবে আমেরিকান প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হলো। হঠাৎ খবর এলো, ফ্লোরিডা রাজ্যের সিসিলি গ্রাম থেকে বেশ কয়েকটি ব্যালট বাক্স হারিয়ে গেছে। যেখানে রয়েছে ৫২১৯টি ব্যালট পেপার। কীভাবে এটা হলো এ নিয়ে এফবিআই কর্মকর্তারা ব্যস্ত হয়ে পড়লেন। আমেরিকায় এটা হতে পারে না। ওদিকে বিভিন্ন স্টেটের ফলাফল গণনার কাজ চলতে থাকে পুরোদমে। দুদিন পর নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হলো, প্রেসিডেন্ট ইলেকশনের সব ভোটের হিসাবে দেখা যাচ্ছে, রিপাবলিকান পার্টির প্রসিডেন্ট প্রার্থী জন ম্যাককেইন এবং ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রেসিডেন্ট প্রার্থী বারাক ওবামা সমানসংখ্যক ভোট পেয়েছেন। এখন যদি হারিয়ে যাওয়া ব্যালট বাক্সগুলো পাওয়া যায় তবেই ফলাফলের চুড়ান্ত ঘোষণা দেয়া যাবে। এ ব্যাপারে গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী এক মাসের মধ্যে যে করেই হোক তারা ব্যালট পেপারগুলোর খুঁজে আনবেন। তারা ব্যর্থ হলে পুনর্নির্বাচন হবে।

তখন পার্টির লিডারদের দুশ্চিন্তা বেড়ে যায়। তাহলে তাদের এতোদিনের পরিশ্রম কি পুরোটাই ভেস্তে যাবে? তারা যে যার মতো নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে মামলা-মোকদ্দমায় জড়িয়ে পড়লেন। রহস্যের জট খুললো ১৯ দিন পর। এক কিশোর নির্বাচন কমিশন অফিসে ফোন করে জানালো, আমি পাহাড়ে বেড়াতে গিয়ে বেশ কিছু ব্যালট বাক্সের খোঁজ পেয়েছি। এর একটি খুলে বুঝলাম এগুলোই হলো প্রেসিডেন্ট ইলেকশনে হারিয়ে যাওয়া ব্যালট বাক্স। আমি সেদিন পুরো বিকালটা কাটিয়েছি এগুলো গণনার কাজে। আমি আপনাদের ফলাফলটা জানানোর জন্যই কল করেছি।
নির্বাচন কমিশনার তার কোনো কথাই শুনতে চাইছেন না। শুধু বললেন, আপনি কোথায় বলুন?
বলবো যদি আপনি আমার একটি প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেন। তিনি বিরক্তিভরে সম্মতি দিলেন।
ভোটের ফলাফলে প্রথম চারটি দলের মধ্যে যথাক্রমে ২২, ৩০ এবং ৭৬ ভোটের পার্থক্য রয়েছে। আর যিনি জিতেছেন তার নামের যোগফল হচ্ছে ৬৭। এখন আপনি বলুন বিজয়ী প্রার্থী কতো ভোট পেয়েছেন। অঙ্ক কষে আপনি যদি সঠিক হিসাবটা দিতে পারেন, তবেই আমি আমার ঠিকানা জানাবো।

সমাধান
১৩৩৬, ১৩১৪, ১৩০৬, ১২৬৩ ভোট পেয়েছে। নামের ক্ষেত্রে ইংরেজি বর্ণমালাগুলোকে ধারাবাহিকভাবে যেমন- এ = ১, বি = ২, সি = ৩ এভাবে গণনা করে সেগুলোর যোগফল হিসাব করা হয়েছে। এ হিসাবে ফলাফল ৬৭ হয় Barack Obama -র ক্ষেত্রে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Roneyblog/28864990 http://www.somewhereinblog.net/blog/Roneyblog/28864990 2008-11-05 14:01:39
শুদ্ধি অভিযান !!! http://www.somewhereinblog.net/blog/Roneyblog/28826006 http://www.somewhereinblog.net/blog/Roneyblog/28826006 2008-07-31 16:22:58 অগ্নিমূল্যের প্রতিবাদে এক প্রতিবাদী বিলাই http://www.somewhereinblog.net/blog/Roneyblog/28825676 http://www.somewhereinblog.net/blog/Roneyblog/28825676 2008-07-30 17:11:36 বিজ্ঞাপনের রকমফের http://www.somewhereinblog.net/blog/Roneyblog/28825032 http://www.somewhereinblog.net/blog/Roneyblog/28825032 2008-07-28 18:43:41 বিলীন হয়ে যাচ্ছে মিরপুর চটবাড়ীয়া ঘাটের সৌন্দর্য তখন অনেকে চটবাড়ী যেতেন মিরপুর বোটানিকাল গার্ডেনের ভেতর দিয়ে পায়ে হেটে। কেউবা আশুলিয়া বেড়ি বাধেঁর পাশ দিয়ে রিক্সায়। বোটানিকাল গার্ডেনের পেছনের গেট দিয়ে বেরুলে সামনে যে বিস্তৃর্ণ পথ আর নদীর সমন্বয়ে প্রকৃতির অপরুপ দৃশ্য দেখা যেত তার অর্ধেক সৌন্দর্য ইতিমধ্যে বিলীন হয়ে গেছে। বোঝা যাচ্ছে বাকীটুকুও আগামী এক বছরের মধ্যে ধ্বংসপ্রাপ্ত হবে।
বছর পাচেক আগে বেড়ি বাঁধের ওপরে পাকা রাস্তা তৈরী হলে সেখানে লোক সমাগম বেড়ে যায়। শুরু হয় নদী দখল প্রক্রিয়া। দখল প্রক্রিয়ার কৌশলটা বেশ পুরনো। সরকারী জায়গায় প্রথমে মসজিদ তৈরী করা। এর কিছুদিন পর জমির আশপাশে মাটি ফেলে রেস্টুরেন্ট কিংবা পার্ক বানিয়ে ব্যবসা শুরু করা। আর বলা, ব্যবসার মূল উদ্দেশ্য মসজিদের উন্নয়নের জন্য তহবিল গঠন করা। চটবাড়ী ঘাটেও এ পদ্ধতির প্রতিফলন চোখে পড়ে। চটবাড়ীয়া ঘাটে মাত্র এক কিলোমিটারের মধ্যে ৩টি মসজিদ পাওয়া যায়। জানা গেছে, সেখানে অল্পদিনের মধ্যেই আরো বেশকটি মসজিদ তৈরী হবে। নদী ভরাট করে আরো ৪টি স্থানে বালু ফেলা হচ্ছে মসজিদ বানানো জন্য। ফলে আগামী এক মাস পর সেখানে ৭টি মসজিদ দেখা যাবে। অবাক হবার মতো আরেকটি বিষয় হচ্ছে, সেখানে মসজিদের তহবিল সংগ্রহের জন্য বানানো রেস্টুরেন্ট বা পার্কের আয়তন মসজিদের আয়তনের বিশ গুণেরও বেশি।
কিন্তু দেখার কেউ নাই। মাত্র ২ বছরের ব্যবধানে ভূমিদস্যুরা সব কেড়ে নিল। সরকার নিশ্চুপ । শুনেছি এ কাজে সরকারের সমর্থন আছে। সরকার নাকি তাদের অনুমতি দিয়েছে। আমি সত্য- মিথ্যা জানিনা। আমি ভূলতে পারছিনা সেই নদী যাকে মেরে ফেলা হচ্ছে। প্রকৃতির এই অপার সৌন্দর্যটুকু রক্ষা করা সরকারের জন্য কি খুব বেশি কঠিন কাজ।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Roneyblog/28823796 http://www.somewhereinblog.net/blog/Roneyblog/28823796 2008-07-24 18:49:47
ফোনালাপ - হ্যাঁ
- এবার মনে হয় আমাদের জন্য কিছু একটা হবে।
- আমার মনে হয় না। এর আগেও তো ছয়টার ঘোষণা হয়েছে, বাস্তবায়ন হয়নি।
- গতকালের পত্রিকার খবরে আমি বিশ্বাস করতে শুরু করেছি। আর হয়তো বঞ্চিত হবো না।
- স্বপ্ন দেখতে থাকো।
- কেন তুই পত্রিকার রিপোর্টগুলো পড়িসনি।
- না। প্রয়োজন মনে হয়নি।
- শোন, সপ্তম হলো সৌভাগ্যের প্রতীক। লাকি সেভেন। এবারেরটা সফল হতে পারে।
- তোর সঙ্গে কথা বলতে ইচ্ছে হচ্ছেনা। তোর ইমোশন তুলনামূলক বেশি।
- ম্বপ্ন দেখা ছাড়া আমার কিইবা করার আছে? চমৎকার অফিস আর হেভি ভাবসাব দেখে ২০০৬ এর ফেব্রুয়ারিতে সাব-এডিটর হিসেবে ৬০০০টাকা বেতনে জয়েন করলাম। বলেছিল ৬ মাস পর ওয়েজবোর্ডে বেতন পাবো। পত্রিকাটায় নানান টানাপোড়েন চললো। সবাই আশ্বাস দিয়েই ক্ষ্যন্ত। আমি কিছুই পেলামনা। না ওয়েজবোর্ড না অন্যকিছু্ এই ২৬ মে ২০০৮ তারিখেও আমার বেতন সেই ৬০০০ এ স্থির থাকলো।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Roneyblog/28803374 http://www.somewhereinblog.net/blog/Roneyblog/28803374 2008-05-27 14:36:04
কৃষ্ণচূড়া ফুল কাচের ঘরে আটকে ছিলাম
দীর্ঘক্ষণ,
বৃষ্টির জল দেখেছি
ছুয়ে দেখা হয়নি
বৃষ্টির ধারা ভিজিয়ে দিয়েছে
কৃষ্ণচূড়ার গা।

কৃষ্ণচূড়ার ফুলগুলো হাসছে
রক্তিম আভায়
নির্লজ্জ হাসি
জরুরি অবস্থা উপেক্ষা করে। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Roneyblog/28797452 http://www.somewhereinblog.net/blog/Roneyblog/28797452 2008-05-13 17:18:56
বেচে থাকার জন্য আইডিয়া দরকার http://www.somewhereinblog.net/blog/Roneyblog/28791773 http://www.somewhereinblog.net/blog/Roneyblog/28791773 2008-04-27 16:29:52 আলুপ্রেমীর গল্প
রাজা মহাচিন্তায় পড়ে গেলেন। এটা কি তার পক্ষে সম্ভব। এতোদিনের লালিত অভ্যাস কি তিনি এক মুহূর্তে ত্যাগ করতে পারবেন। তবু তিনি রাজি হয়ে যান। বাড়ী ফিরে রাজা হৈ চৈ শুরু করেন। তলব করেন রাজ্যের জ্ঞানী-গুণী মানে সুশীল সমাজের লোকদের। তাদের সামনে তার একটাই প্রশ্ন, কিভাবে তিনি প্রজাদের সঙ্গে মিশে যেতে পারবেন এবং তাদের ভালোবাসা পাবেন। তারা রাজার কাছ থেকে সময় প্রার্থনা করে জানান, এজন্য দরকার কিছু গোলটেবিল বৈঠক।
দীর্ঘ কয়েক মাস বৈঠক শেষে রাজাকে সিদ্ধান্ত জানানো হয়। এক টেকো জ্ঞানী বলেন, মশাই আমরা গবেষণা করে দেখেছি পৃথিবীতে একমাত্র উপাদান আলু ,যাকে সবকিছুর সাথে মেলানো যায়। আপনি আলুর কাছ থেকে শিক্ষা নিন।
সাবাস, এই বলে রাজা তাকে একটি রাষ্ট্রীয় পদক উপহার দেন।

শুরু হয় রাজা মশাইয়ের আলুযজ্ঞ। তিনি প্রজাদের ডেকে আলুর গুণাগুণ বলতে শুরু করেন। সবাই অবাক, ওমা রাজার কি হলো। তবে অনেকেই তার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনে। রাজা হুকুম দেন যারা তার মতো আলুকে ভালোবাসবে তাদের ওপর কোন অন্যায় আচরণ করা হবেনা।
পরের বছর সবাই আলু নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। গত একবছর রাজা নিজে চাষীদের সঙ্গে নিয়ে আলুযজ্ঞ করায় তিনি নিজেও ভূলে গেলেন অত্যাচার আর নির্মমতার কথা। তিনি ক্রমশ ভালো মানুষ হতে লাগলেন। এখন তার সৈন্যরা পর্যন্ত আলু ক্ষেতে সময় কাটায়। ওদিকে রাজ্যের সামরিক শক্তি দূর্বল হয়ে পড়ে। আলু খেয়ে নাগরিকরা আলুর মতো স্বাস্থ্য লাভ করে।
একদিন হলো কি, পাশের দেশের সৈন্যরা আলুপ্রেমী রাজার দেশে ঢুকে পড়ে। তারা হত্যা করে রাজ্যের হাজারো মানুষ। ছিনিয়ে নেয় সুন্দরীকে । আর রাজাকে বন্দী করা হয় রাজ্যের হাজার হাজার টন খাওয়ার জন্য। বন্দীদশায় দিবা-নিশি রাজার একমাত্র সঙ্গী আলু। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Roneyblog/28789314 http://www.somewhereinblog.net/blog/Roneyblog/28789314 2008-04-19 17:51:14
ভালোবাসার গল্প -২ http://www.somewhereinblog.net/blog/Roneyblog/28769310 http://www.somewhereinblog.net/blog/Roneyblog/28769310 2008-02-11 17:42:27 ভালোবাসার গল্প পড়তে পড়তে আমি বারবার একটা প্রশ্নেরই উত্তর খুজে বেড়াই। আর তা হল , ভালোবাসার মানে কি? ভালোবাসা কি শুধুই হৃদয়ের রক্তক্ষরণ নাকি অন্য কোন অনুভূতি। ]]> http://www.somewhereinblog.net/blog/Roneyblog/28767359 http://www.somewhereinblog.net/blog/Roneyblog/28767359 2008-02-05 21:46:45 আজম জে চৌধুরির কি গরু হারিয়ে গেছে? ছেলেকে ভাই বলায় তার স্ত্রী ঝামটা মেরে বলেন, তুমি কি চোখের মাথা খেয়েছো, ছেলেকে বলছো ভাই?
এবার কৃষক তার স্ত্রীর চোখের দিকে তাকিয়ে বলেন, গরু হারালে এমণই হয় মা।
এ গল্পটা বলা কারন হচ্ছে, আজ বিভিন্ন প্রত্রিকায় ছাপা হয়েছে -ব্যাবসায়ী আজম জে চৌধুরি বলেছেন, তিনি শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে কোন চাদাবাজির মামলা করেননি। তিনি তাকে চেনেন না। তিনি মামলা করেছেন শেখ সেলিমের বিরুদ্ধে। কিন্তু কয়েকদিন আগে তিনি এক প্রেস কনফারেন্সে বলেছিলেন, আমি কখনই সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ও বঙ্গবন্ধু কন্যার বিরুদ্ধে মামলা করতে পারিনা।
ব্যাবসায়ি আজম জে চৌধুরির এহেন আচরণে আমার মনে হচ্ছে , তার হয়তো গরু হারিয়ে গেছে। নইলে এমণ আচরণ কেন করছেন?]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Roneyblog/28765846 http://www.somewhereinblog.net/blog/Roneyblog/28765846 2008-01-31 16:56:45
নিউজিল্যান্ড টেষ্ট স্কোয়াডে রফিক নেই http://www.somewhereinblog.net/blog/Roneyblog/28754266 http://www.somewhereinblog.net/blog/Roneyblog/28754266 2007-12-27 13:02:53 বিটিভির মহাব্যবস্থাপকের আচরণ প্রসঙ্গে.... http://www.somewhereinblog.net/blog/Roneyblog/28754054 http://www.somewhereinblog.net/blog/Roneyblog/28754054 2007-12-26 16:27:47 ভয় হচ্ছে আবার হয়তো মূল্যবান সম্পদ খোয়া যাবে ]]> http://www.somewhereinblog.net/blog/Roneyblog/28753576 http://www.somewhereinblog.net/blog/Roneyblog/28753576 2007-12-24 17:43:14 নিমন্তন্ন রইল আমার বাড়ী ...নিমন্তন্ন রইল সবার... http://www.somewhereinblog.net/blog/Roneyblog/28752660 http://www.somewhereinblog.net/blog/Roneyblog/28752660 2007-12-19 17:21:48 রাজাকারের ব্যবহার http://www.somewhereinblog.net/blog/Roneyblog/28751949 http://www.somewhereinblog.net/blog/Roneyblog/28751949 2007-12-16 13:55:55 উপমা



দৈনিক আমার দেশ শিরোনাম লিখেছে নাড়ির টানে ছুটছে মানুষ। একই শিরোনামে রিপোর্ট করেছে ইনকিলাব। তারাও লিখেছে নাড়ির টানে ছুটছে মানুষ। এ কথাটি খানিক এদিক-ওদিক করে লিখেছে ইত্তেফাক। তাদের শিরোনাম ছিল ছুটছে মানুষ নাড়ির টানে। রিপোর্টের শিরোনামগুলো দেখলে মনে হয় ঈদে ঘরমুখো মানুষের রিপোর্টের শিরোনামে উপরের শব্দগুলো ছাড়া ভিন্ন কোনো শব্দ বা উপমা দেয়া যায় না। যেহেতু একই ব্যক্তি তিনটি পত্রিকায় এক সঙ্গে কাজ করতে পারেন না। পরদিন ১২ অক্টোবর জনকণ্ঠ এ বিষয়ে তাদের রিপোর্টের শিরোনামে লিখেছে নাড়ির টানে ছুটছে লাখো মানুষ।
লেখাটি যায়যায়দিন পত্রিকার, পলিটিক্স অ্যান্ড সোসাইটি ম্যাগাজিনে আমার নিয়মিত কলাম প্রেস নোটস থেকে খানিকটা নেয়া হয়েছে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Roneyblog/28739485 http://www.somewhereinblog.net/blog/Roneyblog/28739485 2007-10-24 15:53:57
রঙিনফুল আজকাল রঙচঙে ছেলে ভোলানোর ব্যাপারটা ছোটরা ঠিকই ধরতে পারে। তাদেরও একটা মনস্তাত্ত্বিক জগৎ রয়েছে। হয়তো এ কারণে রঙিনফুলের প্রচ্ছদ ছাড়া অন্য কোথাও রঙের ছড়াছড়ি নেই। এই যেমন গল্পের ভেতরের কার্টুনগুলো রঙিন হয়নি। তবে কল্পনার মাধুরীতে তুমি নিজেই রাঙিয়ে দিতে পারো রঙিনফুলের প্রতিটি পাপড়ি। ভেতরের লেখাগুলো পড়লে যে কেউ তার মনের গহীনে গুচ্ছ গুচ্ছ রঙিনফুল দেখতে পাবে। ভেবে দেখেছো, রঙিনফুল ঈদের আনন্দকে কতোটা বাড়িয়ে দিতে পারে?
খ্যাতনামা কবি-সাহিত্যিকরা রঙিনফুলে তাদের ছড়া, গল্প, উপন্যাস, সায়েন্স ফিকশন লিখে একেবারে শিশু বয়সে ফিরে গেছেন। এ তালিকায় আছেন সাহিত্যিক আবদুশ শাকুর, দ্বিজেন শর্মা, সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, ফরহাদ মযহার, জাকারিয়া স্বপন, আনিসুল হক, ইমদাদুল হক মিলন, টোকন ঠাকুর, রাবেয়া খাতুন, আবদুল কাইয়ুম, ফরিদুর রেজা সাগর, মুনির হাসান, আহসান হাবীব, শাহনাজ মুন্নী। আর কবিদের তালিকায় আছেন কবি আল মাহমুদ, নির্মলেন্দু গুণ, আসাদ চৌধুরী, আবু হাসান শাহরিয়ার, বশীর আল্হেলাল।
রঙিনফুলে বেশ কয়েকটি বিদেশি গল্পের বাংলা অনুবাদও ছাপা হয়েছে। এগুলো অনুবাদ করেছেন খ্যাতিমান অনুবাদক ইফতেখার আমিন, অনীশ দাস অপু, হাসান খুরশীদ রুমী, শুভাশিস সিনহা। আর তোমাদের বয়সী ক্ষুদে লেখকের গল্পগুলো রঙিনফুলের সুবাসকে অনেকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
ঢাকা ও ঢাকার বাইরে পরিচিত সব বইয়ের দোকানে রঙিনফুল পাওয়া যাচ্ছে। শুধু তাই নয়, বেশ কিছু বুটিক হাউসে পোশাকের পাশাপাশি রঙিনফুল সাজানো হয়েছে। এটসেটরা, আড়ং, পিকিউএস, কে ক্রাফট, বুকস এক্সপ্রেস, অঞ্জনস, ওয়ার্ডস এন পেইজেস, ফারজানা শাকিল হেয়ার অ্যান্ড বিউটি, বাংলার মেলা, দেশালের সব শাখা এবং নিউ ইস্কাটনের স্কিন সলিউশনে অন্যান্য সামগ্রীর সঙ্গে রঙিনফুলের দেখা মিলবে। রঙিনফুলের দাম ২০০ টাকা।

ঈদে ছোটদের জন্য কিছু হয় না
আরিফুর রহমান নাইম
প্রধান নির্বাহী
ঐতিহ্য
ছোট্ট বন্ধুরা, তোমাদের জন্য রঙিনফুল সাজিয়েছি মাত্র দুই মাসের পরিকল্পনায়। তিনটি বিষয় বিবেচনায় রেখে প্রথম বারের মতো সঙ্কলনটি তোমাদের হাতে পৌছে দেয়ার চেষ্টা করেছি। প্রথমত ঈদে ছোটদের জন্য কিছু একটা করা। দ্বিতীয়ত নতুন প্রজন্মকে পাঠ অভ্যাসে উৎসাহিত করা। আমরা পাঠক বাড়াতে চাই। তৃতীয়ত ঈদ উৎসবে গিফটের আইটেম হিসেবে বই দেয়ার রীতি চালু করা। শুধু নতুন জামা নয় বই উপহার পেলেও শিশুরা ভীষণ খুশি হয়।
রঙিনফুলে ২০০৬ সালে অনুষ্ঠিত ঐতিহ্য-গোল্লাছুট গল্পলেখা প্রতিযোগিতায় বিজয়ী সেরা ১০ জনের নতুন ১০টি গল্প ছাপা হয়েছে। আমরা দেশের খ্যাতনামা লেখকের পাশে এসব ক্ষুদে গল্পকারদের লেখা ছেপেছি। এর মাধ্যমে আমরা তাদের সম্মানিত করার কাজটি করেছি। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা হিসেবে আমরা প্রতি ঈদে ঐতিহ্য প্রকাশনীর পক্ষ থেকে একটি করে রঙিনফুল প্রকাশের উদ্যোগ নেবো। আর তোমরা যেন সহজে রঙিনফুল পেতে পারো এ জন্য বুটিক হাউসগুলোতেও রঙিনফুল রাখার ব্যবস্থা করেছি।

লেখাটি আজ যায়যায়দিন পত্রিকায় ছাপা হয়েছে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Roneyblog/28733681 http://www.somewhereinblog.net/blog/Roneyblog/28733681 2007-09-26 12:31:43
ক্রিকেটে নতুন পদ্ধতি প্রসঙ্গে http://www.somewhereinblog.net/blog/Roneyblog/28731302 http://www.somewhereinblog.net/blog/Roneyblog/28731302 2007-09-15 11:47:28 ফুল চাষ ফুলকে কৃষি ফসলের পাশাপাশি বৃহৎ পরিসরে চাষ করছেন যশোর-খুলনা অঞ্চলের প্রায় তিন হাজার কৃষক। তাছাড়া বেনাপোল সীমান্তবর্তী অঞ্চলে অসংখ্য কৃষক এখন খাদ্যশস্য চাষের পরিবর্তে ফুল চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। বিশেষ সূত্রে জানা গেছে, যশোরের কামারপাড়া, গদখালি, পটুয়াপাড়া, নবীনগর, বোধখানা, ফতেপুর, জাফরনগর, মেঠোপাড়া, পানিমরা, চাপাতলা, সৈয়দপাড়া, বইচিতলা, কৃষ্ণচন্দপুর, পারানদাসা, কুলিয়া, গাবড়েপাড়া, নাভারন, বাইশা, চাদপুর, আমিনি, শরিকপুর, নিধামখোলা, শিয়রদা, আরসিংড়ি, শার্শা, জিরেনগাছা, শ্যামলাগাছি, ধলদাররামপুরসহ শতাধিক গ্রামে সাত হাজার বিঘা জমিতে নানা প্রজাতির ফুলের চাষ হচ্ছে। এখানে উৎপাদিত ফুল ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পৌছে যায়।
আশির দশকের শুরুতে সারা দেশে ফুলের ব্যবসায়িক প্রসার ঘটে। ফলে ফুল চাষেও বৈপ্লবিক পরিবর্তন শুরু হয়। এ কারণে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে ফুল বীজসহ অন্যান্য দ্রব্যসামগ্রীর সহজ প্রাপ্তি শুরু হয়। বীজ এবং ফুল চাষের প্রশিক্ষণের সহজলভ্যতার কারণে এক দশকের ব্যবধানে ফুল চাষীর সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়ে যায়।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Roneyblog/28728303 http://www.somewhereinblog.net/blog/Roneyblog/28728303 2007-08-28 21:12:52
বাংলাদেশের ফুল ইদানীং কিছু বিদেশি ফুল দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে চাষাবাদ হওয়ার কারণে এগুলোও বাংলাদেশের ফুলের তালিকায় অবস্থান তৈরি করে নিয়েছে। যেমনÑ জিনিয়া, স্টার, ক্যালেন্ডুলা, ক্যান্ডিটাফট, লাকস্বার, প্যাসিফক্স, ভারবেরা, সিলোসিয়া ইত্যাদি। এগুলো বিদেশি প্রজাতির হলেও বাংলাদেশের আবহাওয়া উপযোগী ফুল হিসেবে দেশীয় ফুলের সঙ্গে অবস্থান গড়ে নিয়েছে। ব্যবসায়িক দিক থেকে এগুলো বেশ লাভজনকও বটে। ফুল চাষীদের মতে, উর্বর মাটি আর প্রাকৃতিক পরিবেশের কারণে বাংলাদেশে লাভজনক উপায়ে যে কোনো দেশের ফুল চাষ করা সম্ভব। সহায়ক পরিবেশ বিদ্যমান থাকায় অনেকে ফুল চাষের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন। এ দেশে মরুর ফুল ক্যাকটাসের ভালো উৎপাদন হচ্ছে। অদূর ভবিষ্যতে ক্যাকটাসকেও অনেকে বাংলাদেশের ফুল বলে আখ্যায়িত করতে পারেন। এ ছাড়াও ফলন হয়ে থাকে নানা অর্নামেন্টাল ফাওয়ার বা পাতাবাহার জাতীয় উদ্ভিদ। কেউ কেউ এগুলোকে ফুলের সঙ্গে তুলনা করে থাকে। তবে এগুলো গৃহসজ্জার কাজে ব্যবহার করা হয়। চিত্তাকর্ষক এসব অর্নামেন্টাল ফাওয়ারের দ্রুত উৎপাদন হয় বাংলাদেশে।
ফুল বিষয়ে যায়যায়দিন পত্রিকায় ৪০০০ শব্দে লেখা ছাপা হয়। সেখান থেকে খানিকটা।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Roneyblog/28726776 http://www.somewhereinblog.net/blog/Roneyblog/28726776 2007-08-20 17:19:15
পর্ব-২ তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারে অপকার ব্যতিত কোনো উপকার পাওয়া যায় না। তামাকজাত দ্রব্যের মধ্যে রয়েছে জর্দা, গুল সাদাপাতা, খৈনী ও সিগারেট। ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এ নিয়ে এখন আর কোনো বিতর্ক নেইÑ এসব জেনেও প্রতিদিন বেড়ে চলেছে ধূমপায়ীর সংখ্যা। বিড়ি, সিগারেটের ধোয়ায় নিকোটিন, ডিডিটি, কার্বন মনোক্সাইড, টার বা আলকাত্রা, আর্সেনিক, মিথানল, ন্যাপথালিন, বেনজোপাইরিন, সায়ানাইড, এমোনিয়া, অক্সিডেন্টসহ ৪০০০ এর বেশি ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ রয়েছে। সিগারেট ছাড়াও অন্যান্য তামাকজাত দ্রব্যেও এসব ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থগুলো রয়েছে। যার মধ্যে ৪৩টি সরাসরি ক্যান্সার সৃষ্টির সঙ্গে জড়িত। কার্বন মনোক্সাইড আমাদের দৃষ্টিশক্তি ও শ্রবণ শক্তিকে অবদমিত করে এবং আমাদের মেধার পরিধি কমিয়ে দেয়। নিকোটিন আসক্তি সৃষ্টিকারক উপাদান এবং আসক্তি সৃষ্টির দিক থেকে তা কি হেরোইন, কোকেন, মারিজুয়ানা, এলকোহল এর চাইতেও বেশি শক্তিশালী। এছাড়া নিকোটিন আমাদের দেহের রক্ত সংবহনতন্ত্রের মারাত্মক ক্ষতি ডেকে আনতে পারে, ফলে হৃদরোপ, স্ট্রোক, ক্যান্সার, হাপানি, বার্জাজ ডিজিজ (পায়ের পচন রোগ) সহ নানাবিদ কঠিন রোগ হতে পারে।
ধূমপায়ীদের সাথে বসবাস, চাকরি কিংবা যানবাহনে চলার কারণে ক্ষতিকর এ রাসায়নিক পদার্থগুলো না খেয়েও অর্থাৎ ধূমপান বা অন্যান্য তামকজাত দ্রব্য সেবন না করে নারী, শিশুসহ অধূমপায়ীরাও সমপরিমাণ ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। আর একটি বিষয় হচ্ছে ধূমপান করে শুধু ধূমপায়ী ব্যক্তিই ক্ষতিগ্রস্থ ধূমপায়ী ব্যক্তিই ক্ষতিগ্রস্থ হয় না, তার আশেপাশের সকলেরই সমান ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে। যেমন বাসে বা ট্রেনের একটি কামরায় কিংবা অফিসের একটি কক্ষে যদি একজন ব্যক্তি ধূমপান করে তবে ওই বাস, ট্রেনের কামরায় কিংবা অফিসের কক্ষে উপস্থিত সকলেরই সমান ক্ষতি হয়। এতে নারী ও শিশু-কুশোরদের ক্ষতি হয় সবচেয়ে বেশি। শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম ও ফুসফুস দূর্বল থাকায় তারা দ্রুত তামাকজনিত রোগে আক্রান্ত হয়। তামাকজনিত রোগ বিশ্বব্যাপী অন্যতম প্রধান সমস্যা। বর্তমান পৃথিবীতে ধূমপানের কারণে প্রতিদিন গড়ে ১১ হাজার মানুষ মারা যায়। শুধু ধূমপানজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রতি ৮ সেকেন্ডে একজন মানুষ মারা যায়। আগামী ২০৩০ সাল নাগাদ প্রতি বছর তামাকের কারণে ১ কোটি লোক মারা যাবে। এর মধ্যে ৭০ লক্ষই আমাদের মতো তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে। তাছাড়া আগামী ৩০ বছরে বিশ্বব্যাপী তামাকজনিত মহামারীর ফলে ২৫ কোটি শিশু ও কিশোর-কিশোরীর অকাল মৃত্যু ঘটবে। ফলে বিশ্বব্যাপী ধূমপানজনিত মৃত্যুর হার এইচআইভি, যক্ষা, প্রসবকালীন মৃত্যু, দূর্ঘটনা, আত্মহত্যা, এবং এরহত্যা সমেত সকল মৃত্যু হারকেও ছাড়িয়ে যাবে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থাও ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। বাংলাদেশে বর্তমানে শুধু তামাক জনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে বছরে ৩৫ হাজার লোক মৃত্যুবরণ করছে। ধূমপানের কারণে কিছু মারাত্মক স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দেয়। এগুলো হলোÑ
* ফুসফুসসহ নানা প্রকারের ক্যান্সার।
* উচ্চ রক্তচাপসহ শরীরে নানাবিধ রোগ দেখা দেয়।
* দাতে কালো দাগ পড়ে এবং মুখে বিশ্রী দূর্গন্ধ হয়।
* শরীরের ওজন কমে যায় এবং কাশি হয়।
* ঘুম এবং ক্ষুধা কমে যায়।
* শ্বাস-প্রশ্বাসের অসুবিধা এবং বুক ধরপর করে।
* স্বাভাবিক রক্ত চলাচল ব্যাহত এবং শরীরে হাত পায়ের পচন রোগ হয়।
* ধূমপানের ফলে কর্মক্ষমতা এবং যৌনশক্তি হ্রাস পায়।
* রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা কমে যাওয়ার ফলে হৃদরোগ, স্ট্রোক, এর ঝুকি অনেক বেড়ে যায়।
* দৃষ্টিশক্তি লোপ পায় এবং অন্ধত্ব বয়ে আনে।
ধূমপান কিংবা তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারের ফলে শরীরের ক্যান্সারের ঝুকি বেড়ে যায়। চিকিৎসা বিজ্ঞানের অগ্রগতির ফলেও এখন পর্যন্ত ক্যান্সর নিরাপময়ের ঔষধ আবিষ্কার করতে পারেনি। তাই সাধারণের মাঝে ক্যান্সর ভীতি খুব বেশি।
ক্যান্সারের বৈশিষ্ট্য হলো আক্রান্ত কোষের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি যা সময়মত চিকিৎসা না করালে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ে। ক্যান্সারের কোষসমূহ যখন মূল টিউমার থেকে বিচ্ছিন্ন হয় তখন রক্তনালী বা লসিকানালীর মাধ্যমে শরীরের অন্য কোথাও ছড়িয়ে পড়ার মাধ্যমে নতুন ক্যান্সর সৃষ্টি করে। এখানে বলা দরকার ক্যান্সার এমন একটি রোগ, যার ফলে অনিয়ন্ত্রিতভাবে শরীরের কোষ বেড়ে চলে। সাধারণত টিউমার বা গোটার আকারে ক্যান্সারের বহিপ্রকাশ ঘটে। এই টিউমার বা গোটা দু’প্রকারের হয়। একটি হলো বিনাইল টিউমার, এবং অন্যটি হলো ম্যালিগন্যান্ট টিউমার। মূলত এ ম্যালিগন্যান্ট টিউমারই ক্যান্সার নামে পরিচিত। মানব দেহের প্রতিটি অঙ্গ কোটি কোটি ক্ষুদ্র একক কোষের সমন্বয়ে গঠিত। এই কোষসমূহের একটি নির্দিষ্ট নিয়ন্ত্রিত কাজ রয়েছে এবং এর বিভাজনও ঘটে সুবিন্যস্তভাবে। কোন কারণে কোষ বিভাজন প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটলে সেই কোষ অনিয়ন্ত্রিতভাবে বৃদ্ধি পেয়ে একটি চাকা বা পি- সৃষ্টি করে যা টিউমার নামে পরিচিত। তাই ক্যান্সার থেকে বাচার জন্য তামাক ও তামাক থেকে উৎপাদিত সকল দ্রব্য (বিড়ি, সিগারেট, সিগার, গুল, হুক্কা, জর্দা, সাদাপাতা, খৈনী ইত্যাদি) বর্জন করা উচিত। উল্লেখিত দ্রব্য বর্জন করলে ফুসফুস-মুখগহ্বর-গলনানী-পাকস্থলী ইত্যাদি ক্যান্সারের ঝুকি অনেকাংশ কমে যায়।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Roneyblog/28725901 http://www.somewhereinblog.net/blog/Roneyblog/28725901 2007-08-15 13:58:44
তামাক সম্পর্কে কিছু তথ্য পর্ব-১

বাংলাদেশের অর্ধেক মানুষ দরিদ্রতার কারণে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে এবং প্রতিদিন কোটি কোটি মানুষ এর জন্য অসুস্থতায় ভূগছে। এই স্বাস্থ্যহীনতার কারণে দেশের সামগ্রীক উন্নয়ন বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। ইউনিসেফের এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বাংলাদেশের মোট জাতীয় আয়ের ৫% অপুষ্টি জনিত কারণে হারিয়ে যায়। তামাক ব্যবহারের কারণে এসব দেশ ও দেশের জনগণ আরো গরিব হচ্ছে। এজন্য প্রয়োজন জনসচেতনতা। অনেকের মতে, তামাকের ভয়াবহ ছোবল থেকে বাচার জন্য একদিকে যেমন জনসচেতনতা দরকার তেমনি দরকার তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের কার্যকারীতা। যদি দেশে তামাক নিয়ন্ত্রণ হয় তবে দেশের মানুষের কথা জাতীয় পর্যায়ে দ্রুত উন্নয়ন ঘটানো সম্ভব। দেশের মানুষ যদি তামাক ব্যবহার না করে তবে এ থেকে কয়েকটি বড় ধরনের সুবিধা পাওয়া যাবে। যেমনÑ ১. প্রতি বছর ১ কোটি ৪০ লক্ষ ডলার বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হবে।
২. শতকরা ১৯ ভাগ কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি পাবে।
৩. বাসস্থান, শিল্প এবং স্বাস্থ্যসেবার জন্য আরো বেশি অর্থ ব্যয় করা যাবে।
৪. ১ কোটি ৫ লাখ ক্ষুধার্ত লোক পর্যাপ্ত খেতে পারবে।
৫. প্রতিদিন অপুষ্টিজনিত কারণে যে ৭০০ শিশু মৃত্যুবরণ করে তার ৩৫০ জন অপুষ্টিজনিত মৃত্যুর হাত থেকে রেহাই পাবে।
তামাক বিরোধী আন্দোলনের কর্মীদের মতে, তামাক ব্যবহার একেবারে বন্ধ করা সম্ভব নয়। যদি একটি শক্তিশালী আইন তৈরি করা যায় তবে মানুষ দিন দিন তামাকের ব্যবহার কমিয়ে দিতে পারে। যদি দেশের মানুষ তামাক কম ব্যবহার করে তবে অপচয় কমে যাবে। ফলাফলস্বরূপ অধিক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। সে তার প্রয়োজনীয় জিনিসের পেছনে আরো অর্থ ব্যয় করতে পারবে। ক্ষুধার্ত শিশু এবং শিশু মৃত্যুর হারও কমে যাবে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Roneyblog/28725582 http://www.somewhereinblog.net/blog/Roneyblog/28725582 2007-08-13 20:55:24
মধু বিষয়ক তথ্য মধু : মধু হচ্ছে একটি তরল আঠালো মিষ্টি জাতীয় পদার্থ, যা মৌমাছিরা ফুল থেকে নেকটার বা পুষ্পরস হিসেবে সংগ্রহ করে মৌচাকে জমা রাখে। পরবর্তীতে জমাকৃত পুষ্পরস প্রাকৃতিক নিয়মেই মৌমাছি বিশেষ প্রক্রিয়ায় পূর্ণাঙ্গ মধুতে রূপান্তর এবং কোষবদ্ধ অবস্থায় মৌচাকে সংরক্ষণ করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং খাদ্য ও কৃষি সংস্থার মতে মধু হচ্ছে এমন একটি অগাজানোশীল মিষ্টি জাতীয় পদার্থ যা মৌমাছিরা ফুলের নেকটার অথবা জীবন্ত গাছপালার নির্গত রস থেকে সংগ্রহ করে মধুতে রূপান্তর করে এবং সুনির্দিষ্ট কিছু উপাদান যোগ করে মৌচাকে সংরক্ষণ করে।

মধুর উপকারিতা
মধু সর্দি, ঠা-া, কাশি, জ্বর, হাপানি, হৃদরোগ, পুরনো আমাশয় এবং পেটের পীড়া নিরাময়সহ নানাবিধ জটিল রোগের উপকার করে থাকে। এছাড়া মধু ভালো শক্তি প্রদায়ী খাদ্য।
- মধুতে বিভিন্ন সূক্ষ্ম পুষ্টি উপাদান ও ভেষজ গুণ রয়েছে।
- মৌমাছি ফুলের পরাগায়নে সাহায্য করে শস্য উৎপাদন বাড়ায়।
- মৌচাক থেকে যে মোম পাওয়া যায় তা বিভিন্ন শিল্পজাত দ্রব্য যেমন- লোশন, সাবান, কৃম ইত্যাদি তৈরিতে ব্যবহার করা হয়।
- রূপচর্চার বিভিন্ন কাজে মধু ব্যবহার করা হয়।

খাটি মধুর বৈশিষ্ট্য
Ñ খাটি মধুতে কখনো কটু গন্ধ থাকে না।
- মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকারক কোনো বিষাক্ত উপাদান প্রাকৃতিক গাছে থাকলেও তার প্রভাব মধুতে থাকে না।
- মধু সংরক্ষণে কোনো পৃজারভেটিভ ব্যবহৃত হয় না। কারণ মধু নিজেই পৃজারভেটিভ গুণাগুণ সম্পন্ন পুষ্টিতে ভরপুর খাদ্য।
- মধু উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাত, নিষ্কাশন, সংরক্ষণ ও বোতলজাতকরণের সময় অন্য কোনো পদার্থের সংমিশ্রণ প্রয়োজন হয় না।
- খাটি মধু পানির গ্লাসে ড্রপ আকারে ছাড়লে তা সরাসরি ড্রপ অবস্থায়ই গ্লাসের নিচে চলে যায়।

খাটি ও প্রাকৃতিক মধুতে ডঐঙ ও ঋঅঙ-এর মতে যে মান থাকা আবশ্যক
১. পানি শতকরা ২১ ভাগের বেশি নয়।
২. সুক্রোজ শতকরা ৫ ভাগের বেশি নয়।
৩. অ্যাশ শতকরা ১ ভাগের বেশি নয়।
৪. ফৃ এসিড ৪০ মিলি ইকুইভালেন্ট প্রতি কেজিতে।
৫. এইচএমএফ ৮০ মিলিগ্রাম প্রতি কেজিতে অথবা, ৪০ পিপিএম (পার্টস পার মিলিয়ন)।
৬. রিডিউসিং সুগার শতকরা ৬৫ ভাগের কম নয়।

খাটি মধুর সহজ পরীক্ষা
স্বচ্ছ কাচের গ্লাসের পানিতে খাটি মধু ঢেলে দিলে সহজে পানির সঙ্গে না মিশে গ্লাসের তলায় তলানি হিসেবে বসে থাকে। এ অবস্থা দুই-তিন ঘণ্টা স্থায়ী থাকে। কারণ মধুর ঘনত্ব পানির ঘনত্বের চেয়ে চার-পাচ গুণ ভারি। আর যদি ভেজাল হয় তবে সহজে পানির সঙ্গে মিশে যাবে।

মধুর দানাদার সমস্যা
অনেক মধু দানাদার আকার ধারণ করে। যদি কোনো মধুতে গ্লুকোজের পরিমাণ ফ্রুক্টোজের চেয়ে বেশি থাকে তখন সে মধু অতি দ্রুত দানাদার হয়। যেমন সরিষা ফুলের মধু। আবার মধুতে পর্যাপ্ত পোলেন, ধুলাবালি ও বুদবুদ থাকলে সে মধু সহজে দানাদার হয়। সাধারণত ১১ক্কÑ১৮ক্ক সেলসিয়াস তাপমাত্রায় মধু জমতে পারে। তবে ১৪ক্ক সেলসিয়াস তাপমাত্রা মধু অতি দ্রুত জমতে সহায়ক। পানির পরিমাণ বেশি থাকলে মধুকে দানাদার হতে ত্বরান্বিত করবে। তবে দানাদার মধু খেতে কোনো সমস্যা নেই। দানাদার মধুকে পরোক্ষ তাপ প্রয়োগের মাধ্যমে তরল করা যায় বা কৃম মধুতে রূপান্তর করা যায়। দানাদার মধু ছয় মাসের মধ্যে ব্যবহার করা উত্তম।

মৌচাষ
প্রাকৃতিকভাবে মৌমাছির তৈরি মৌচাক থেকে মধু সংগ্রহ করা হয়। কিন্তু আধুনিক পদ্ধতিতে বাক্সে মৌমাছির কলোনি স্থাপন করে বৈজ্ঞানিকভাবে মৌমাছি চাষ করা হয়। এ রকম বক্স থেকে মৌমাছির তৈরি মধু স্বাস্থ্যসম্মতভাবে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া সম্ভব।
বাংলাদেশে চার প্রজাতির মৌমাছি পাওয়া যায়। এগুলোর পরিচিতি এদের বৈজ্ঞানিক নামের মাধ্যমে হয়ে থাকে।
এগুলো হলো যথাক্রমে এপিস মেলিফেরা, এপিস সেরানা, এপিস ডরসাটা, এপিস ফোরিয়া। এদের মধ্যে এপিস মেলিফেরা ও এপিস সেরানা প্রজাতির মৌমাছি বাক্সে চাষ করা যায়। তবে এপিস মেলিফেরা চাষ করা বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক। কারণ এ মৌমাছির কুইন গ্রাফটিংয়ের (নতুন রানী সৃষ্টি) মাধ্যমে মৌমাছি কলোনি বৃদ্ধি করা যায়। বছরে ১০-১৮ ফ্রেমের একটি মৌ কলোনি থেকে ৫০-৭০ কেজি মধু পাওয়া যায়।

মধুর জন্য উপযোগী গাছপালা
শস্য জাতীয় ফুলÑ সরিষা, তিল, ভুট্টা, তুলা, ধনিয়া ইত্যাদি।
ফল জাতীয় ফুলÑ লিচু, আম, তেতুল, জলপাই, বরই, কামরাঙ্গা, নারিকেল, লেবু, পেয়ারা ইত্যাদি।
সবজি জাতীয় ফুলÑ লাউ, বেগুন, মিষ্টি কুমড়া, টমাটো, শসা, শিম ইত্যাদি।
ফুল জাতীয়Ñ সূর্যমুখী, শাপলা, গোলাপ, গাদা, বকুল ইত্যাদি।

মৌ কলোনি
বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বাক্সের ভেতর রানী, পুরুষ ও শ্রমিক মৌমাছি একত্রে বসবাস করাকে মৌ কলোনি বলে। একটি কলোনিতে পাচ হাজার থেকে পচাত্তর হাজার মৌমাছি একত্রে থাকতে পারে। মৌ কলোনিতে রানীকে ঘিরে অন্যান্য মৌমাছি বাস করে। একটি পূর্ণাঙ্গ মৌ কলোনিতে তিন ধরনের মৌমাছি থাকতে হয়।

রানী মৌমাছি
একটি মৌ কলোনি প্রতিষ্ঠিত হয় একটি মাত্র রানী মৌমাছিকে ঘিরে। রানী মৌমাছি আকারে পুরুষ ও শ্রমিক মৌমাছির চেয়ে বড়, গায়ের রঙ উজ্জ্বল খয়েরি বর্ণের, হুল ফুটাতে পারে না। রানীর শরীর থেকে ফেরোমেন নামক বস্তুর গন্ধ বের হয় বলে অন্যান্য মৌমাছি রানীকে ঘিরে থাকে এবং কলোনি ত্যাগ করে অন্য কলোনিতে যায় না। রানী মৌমাছির একমাত্র কাজ ডিম দেয়া। রানী প্রতিদিন ১,৮০০-২,০০০ ডিম দিতে পারে। একটি রানী তিন-চার বছর বাচে। রানী মূলত একটি শ্রমিক মৌমাছি হলেও লার্ভা অবস্থা থেকে তাকে বিশেষভাবে লালন করে রানী হিসেবে বড় করা হয়।

পুরুষ মৌমাছি
পুরুষ মৌমাছি শ্রমিকের চেয়ে আকারে বড় ও রানীর চেয়ে ছোট আকৃতির হয়। এদের আকৃতি মোটা, গায়ের রঙ কালচে, পেট অনেকটা গোলাকৃতি, হুল নেই, এরা মধু সংগ্রহ করতে পারে না। রানীর সঙ্গে যৌন মিলন হওয়ার পর পুরুষ মৌমাছি মারা যায়। এরা এক-দুই মাস পর্যন্ত বাচে।

শ্রমিক মৌমাছি
এরা আকারে পুরুষ মৌমাছির চেয়ে ছোট, গায়ের রঙ হালকা হলুদ, দেহের শেষ প্রান্তে একটি হুল আছে, তলপেট খুব ছোট ও সুচালো। শ্রমিক মৌমাছিরাই কলোনির সব কাজ করে থাকে। এরা ফুল থেকে মৌ রস ও পরাগ সংগ্রহ করে, মধু তৈরি করে বাচ্চাদের খাওয়ায় এবং লালনপালন করে, কলোনি পরিষ্কার রাখে, রাণীর যতœ নেয়। এরা স্ত্রী জাতীয় মৌমাছি তবে প্রজননে সক্ষম নয়।

পূর্ণাঙ্গ মৌমাছি তৈরির ধাপ
ডিম থেকে পূর্ণাঙ্গ মৌমাছি হতে চারটি ধাপ আছেÑ
মৌমাছি ডিম লার্ভা পিউপা পূর্ণাঙ্গ মৌমাছি
রাণী ৩ দিন ৫ দিন ৮ দিন ১৬ দিন
শ্রমিক ৩ দিন ৭ দিন ১৩ দিন ২১ দিন
পুরুষ ৩ দিন ৭ দিন ১৪ দিন ২৪ দিন

মৌচাষের উপযুক্ত স্থান
কৃত্রিম পদ্ধতিতে মৌচাষের জন্য উপযুক্ত স্থান খুব গুরুত্বপূর্ণ :
১. পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন স্থানে কলোনি স্থাপন করতে হবে। অর্থাৎ গোয়ালঘর, রান্নাঘর কিংবা ময়লা-আবর্জনাযুক্ত স্থানে কলোনি স্থাপন করা যাবে না।
২. গ্রীষ্মকালে আংশিক ছায়া কিংবা আংশিক রৌদ্রযুক্ত স্থানে কলোনি স্থাপন করতে হবে।
৩. শীতকালে দিনের বেলায় কলোনি পুরোপুরি রোদে রাখতে হবে।
৪. খোলামেলা বাতাসযুক্ত স্থানে কলোনি রাখতে হবে।
৫. বিভিন্ন উপযুক্ত ফুলের মৌসুমে কলোনিগুলো এসব ফুলের যেখানে প্রাচুর্য তার কাছাকাছি জায়গায় নিয়ে যতœ করে রাখতে হবে।

মৌ বক্স
একটি আধুনিক মৌ বাক্সের প্রধান দুটি অংশ থাকে। যথা ব্রুড চেম্বার ও সুপার চেম্বার।

ব্রুড চেম্বার
এ অংশে ফ্রেম দেয়া হয়, যাতে মৌমাছি মৌচাক তৈরি করে এবং রানী ডিম দেয়। এ চেম্বারে মৌমাছিরা শুধু তাদের দৈনন্দিন ব্যবহার্য মধু, পরাগ ও ডিম-বাচ্চা দিয়ে থাকে।

সুপার চেম্বার
এখানেও ফ্রেম থাকে, মৌমাছি এখানে শুধু মধু জমায়। এর উচ্চতা ব্রুড চেম্বারের চেয়ে কম।

ফ্রেম
বাক্সে মৌচাকগুলো যেন সুন্দরভাবে আলাদা সমতলে তৈরি হতে পারে এ জন্য বেশ কিছু আয়তাকার কাঠের ফ্রেম এখানে পাশাপাশি রাখা থাকে, যা ব্রুড ও সুপার চেম্বারের মাপ অনুযায়ী হয়ে থাকে। মৌমাছিরা তাদের স্বভাব অনুযায়ী কাজ করে এখানে মোমের চাক তৈরি করে। চারপাশে ফ্রেম থাকাতে এখানে চাক ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে।

মধু উৎপাদন
২১ দিন বয়সের শ্রমিক মৌমাছিরা বিভিন্ন ফুল থেকে নেকটার বা মৌ রস সংগ্রহ করে ১৭-১৯ দিন বয়সের শ্রমিক মৌমাছির মুখে তুলে দেয়। তা শ্রমিক মৌমাছিরা গিলে ফেলে মধু থলিতে জমা করে এবং সেখান থেকে ইনভারটেজ, ডায়াসটোজ, গ্লুকোজ অক্সিডেজ ইত্যাদি এনজাইমের সাহায্যে সরল চিনিতে পরিণত করে মৌচাকের বিভিন্ন কোষে জমা করে। এ সময় মধুতে পানির পরিমাণ ৫০-৬০ ভাগ থাকে। তখন অন্যান্য শ্রমিক মৌমাছি পাখার সাহায্যে দ্রুত বাতাস করে জলীয় অংশের পরিমাণ ১৮-২০ ভাগে নিয়ে আসে। এরপর মোম দিয়ে মৌচাকের খোপের ভেতর দিয়ে মধুকে ঢেলে ফেলে। এভাবেই সঠিক ঘনত্বের মধু তৈরি হয়। এ মধু দীর্ঘদিন পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায়।

মধু সংগ্রহ পদ্ধতি
সকাল ৯টার মধ্যে কিংবা বিকাল ৪টার পর মধু সংগ্রহের জন্য যথাযথ সময়। প্রথমে যেসব কলোনি থেকে মধু সংগ্রহ করা হবে সেসব কলোনি বাক্সের কভার খুলে হালকা ধোয়া দিতে হবে যেন মৌমাছিদের ক্ষিপ্ততা কমে শান্ত হয়ে নিচে ব্রুড চেম্বারে চলে যায়। তখন ফ্রেমগুলো উঠিয়ে ক্যাপিংযুক্ত অর্থাৎ মোমের আবরণযুক্ত মধুর চাকগুলো নিয়ে ক্যাপিং কেটে মধু নিষ্কাশন যন্ত্রে ঘূর্ণায়নের মাধ্যমে মধু সংগ্রহ করা হয়। এরপর এখান থেকে মধু বের করে ছেকে নিয়ে বোতলজাত করতে হবে। মধু কখনো খোলা অবস্থায় রাখা যাবে না। কারণ মধু বায়ুম-ল থেকে জলীয় অংশ শোষণ করতে পারে এবং তাতে মধু নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
শীতকালে বায়ুম-লে পানির পরিমাণ কম থাকে, তাই এ সময়কালে মধুতে পানির পরিমাণ কম ও গ্লুকোজের মাত্রা বেশি থাকায় ১০ক্ক-১৮ক্ক সেলসিয়াস তাপমাত্রায় মধু জমাট বাধে। জমাট বাধা মধু ৫০ক্ক সেলসিয়াস তাপমাত্রায় পরোক্ষ তাপে গরম করে তরল মধুতে পরিণত করা হয়। রিফ্র্যাকটোমিটারের সাহায্যে মধুর জলীয় অংশ পরিমাপ এবং গ্রেডিং করা যায়।
১৮%-২০% ‘এ’ গ্রেড
২১%-২৩% ‘বি’ গ্রেড
২৪% এর উপরে ‘সি’ গ্রেড

মধু প্রক্রিয়াজাতকরণের ধাপগুলো
য় মধুর গুণাগুণ অক্ষুণœ রাখার জন্য স্টেইনলেস স্টিলের পাইপ ও কন্টেইনারসহ সংশ্লিষ্ট যন্ত্রাংশের সমন্বয়ে প্রসেসিং প্লান্টের প্রয়োজন হয়।
য় মধুতে বিদ্যমান মোম, ধুলাবালি, মৃত মৌমাছির অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ও অন্যান্য অপ্রয়োজনীয় বস্তু রোধ করার জন্য পরোক্ষ তাপ দেয়ার পর বিশেষভাবে নির্মিত ছাকনির (ফিল্টারের) মাধ্যমে মধু ছাকা হয়। উল্লেখ্য, মধুকে সর্বোচ্চ ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় (মোম গলার নিচের তাপমাত্রা) পরোক্ষ তাপে তরল করা হয়।
য় এরপর ১০-১৫ মিনিট সময় ধরে মধুকে ৬০-৬০ক্ক সেলসিয়াস তাপমাত্রায় বিশেষ কয়েলযুক্ত স্টেইনলেস স্টিলের পাইপের মাধ্যমে মধু থেকে বাষ্প আকারে অতিরিক্ত পানি অপসারণ করা হয়। এভাবে ভ্যাকুয়াম পাম্পের সাহায্যে পর্যায়ক্রমে মধুকে নির্ধারিত তাপ দিয়ে তা থেকে অতিরিক্ত পানি সরানোর ব্যবস্থা করা হয়। এ প্রক্রিয়ায় মধুতে অপ্রয়োজনীয় পানি আলাদা করা যায়। এ পদ্ধতি অবলম্বন করে মধুকে নষ্টকারী উপাদান বিনাশ করা হয়।
য় নির্দিষ্ট সময় ও তাপমাত্রা বিবেচনা করে প্রসেসিং এবং সঙ্গে সঙ্গেই মধুকে স্টেইনলেস স্টিলের কয়েলযুক্ত পাইপের মাধ্যমে ঠা-া পানির কন্টেইনারের সহায়তায় ঠা-া করা হয়। ঠা-া মধু আবার পাইপের মাধ্যমে সেটেলিং ট্যাংকে প্রবেশ করাতে হয়। সেটেলিং ট্যাংকে মধুকে ২৪-২৮ ঘণ্টা পর্যন্ত রেখে বুদবুদগুলো নিঃশেষ করতে হয়। এরপর বায়ুরোধক কন্টেইনারে প্যাকিংয়ের পর বোতলজাত করে বাজারজাতের জন্য পাঠানো হয়।

মধু প্রক্রিয়াজাতকরণের প্রয়োজনীয়তা
প্রকৃতির এক অনবদ্য উপাদান হচ্ছে মধু, যার রয়েছে নিজস্ব স্বাদ ও গন্ধ। মধু সাধারণত পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্য। এটি ঔষধি গুণসমৃদ্ধ, ওষুধের উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। মধুকে দীর্ঘ সময় পর্যন্ত ভালো অবস্থায় সংরক্ষণ করা যায়। মধু প্রায়ই মোম, ধুলাবালি, মৃত মৌমাছির অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ এবং বায়ুম-লীয় পদার্থ দ্বারা দূষিত হতে পারে। আর দূষিত মধু পচনশীল দ্রব্য হিসেবে বিবেচিত হবে। মধুতে অধিক মাত্রায় পানি ও ক্ষতিকর উপাদানের অস্তিত্ব থাকলে এগুলো মধুর গুণাগুণ নষ্ট করে দেয়। এ কারণে মৌ কলোনির মধু উৎপাদন পর্যায় থেকে প্যাকিং পর্যন্ত বৈজ্ঞানিক ভিত্তিতে এবং সম্পূর্ণ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নভাবে সংরক্ষণ অত্যাবশ্যক। মধু খোলা অবস্থায় অর্থাৎ মুক্ত বাতাসে পানি শোষণ করে, যা প্রাকৃতিক গুণ অক্ষুণœ রাখতে বড় বাধা হিসেবে কাজ করে। সুতরাং মধুর গুণাগুণ অক্ষুণœ রেখে স্থানীয় ক্রেতা ও রফতানি বাজারে প্রবেশের লক্ষ্যে মানসম্পন্নভাবে মধু প্রসেসিং করে ধূলিকণা, মোম ও অন্যান্য ক্ষতিকারক উপাদান অপসারণ করা প্রয়োজন। এছাড়া মধুতে বিদ্যমান অতিরিক্ত পানি অপসারণ অথবা কমিয়ে মধুর গাজানো রোধ করাও জরুরি। মধুতে উপস্থিত পোলেন, ধুলাবালি এবং বুদবুদ মধুকে দানাদার করতে প্ররোচিত করে। ৪৫ক্ক সেলসিয়াসে পরোক্ষ তাপের মাধ্যমে মধুর দানাদার হওয়া বিলম্বিত করা যায়। এছাড়া প্রসেসিং প্লান্টের সূক্ষ্ম ফিল্টারের মাধ্যমে পোলেন, মোম ও মধুতে উপস্থিত অনাকাক্সিক্ষত অপ্রয়োজনীয় পদার্থ অপসারণ করা সম্ভব হয়।
মধুর গুণাগুণ অক্ষুণœ রেখে ক্ষতিকর উপাদান ধ্বংস করার জন্য বিশেষায়িত সময়ব্যাপী নির্ধারিত মাত্রায় পরোক্ষ তাপ দেয়া প্রয়োজন। মধু প্রক্রিয়াজাতকরণে তাপমাত্রা এবং সময় নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত তাপ প্রয়োগ করলে মুধতে এইচএমএফ (হাইড্রো অক্সি মিথাইল ফুরফুরাল) বৃদ্ধি পায়। ফলে মধুর রাসায়নিক পদার্থগুলোর অবনতি ঘটে, যা গ্রহণযোগ্য নয়। অতিরিক্ত তাপের ফলে এইচএমএফ বৃদ্ধি পেয়ে মধুতে বিদ্যমান অধিকাংশ রাসায়নিক পদার্থের পরিসমাপ্তি ঘটাও অস্বাভাবিক নয়। এভাবে রাসায়নিক পদার্থ নষ্ট হওয়া মধু খাওয়া না খাওয়া একই কথা। তাছাড়া অতিরিক্ত তাপ প্রয়োগের ফলে প্রাকৃতিক মধুর যে রূপ, স্বাদ ও গন্ধ থাকে তা বিকৃত হয়ে কালো রূপ ধারণ করে। প্রক্রিয়াজাতকরণের পর প্যাকিংয়ের আগে মধু ভালোভাবে বিশেষ পদ্ধতিতে ঠা-া করা হয়, যেন দীর্ঘ সময় তা দূষণমুক্ত থাকে এবং দানাদার না হয়।

বাংলাদেশে মধু ও মোমের বিজনেস
বাংলাদেশে নভেম্বর-জুন এই সময়কালে সবচেয়ে বেশি মধু আহরণ করা সম্ভব। তবে সরিষা মৌসুমে মধু প্রাপ্তির হার অন্যান্য মৌসুমের চেয়ে বেশি। নভেম্বর-জানুয়ারি এ সময়কালে সরিষা, ফেব্রুয়ারি-মার্চ সময়কালে লিচু এবং এপৃল-জুন সময়কালে সুন্দরবনের সুন্দরী, খুলশী, কেওড়া, গড়াল ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করা হয়। এই তিন ধরনের সময়কালে নানা ধরনের ফুল-ফল থেকে প্রাপ্ত মধু ভিন্ন ভিন্ন স্বাদের হয়ে থাকে। তবে ব্যবসায়ীদের মতে, বাংলাদেশের মার্কেটে সরিষা থেকে প্রাপ্ত মধুর চাহিদা বেশি।
মধু চাষীরা বিভিন্ন সিজনে তাদের মৌ বক্স নিয়ে গাজীপুর, টাঙ্গাইল, দিনাজপুর, রাজশাহী, সাভার, শেরপুর, ময়মনসিংহ, বরগুনা ও সুন্দরবনের সাতক্ষীরায় চলে যান। একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সেখান থেকে মধু সংগ্রহ করে ফিরে আসেন। আবার কেউ কেউ স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছে উৎপাদিত মধু বিক্রি করে দেয়। যারা বৃহৎ খামারি তাদের প্রতিটি খামারের কাছাকাছি কোথাও এরিয়া অফিস রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে মধু ব্যবসায়ীরা মধু মেলা আয়োজনের মাধ্যমে মধু বিক্রি করছে। প্রতি দুই মাস অন্তর ঢাকা প্রেস কাব মাঠে এ মেলার আয়োজন করবে বাংলাদেশ এপিকালচারাল অ্যাসোসিয়েশন (বিএএ)। ২৭ মার্চ থেকে ৫ এপৃল পর্যন্ত সেখানে মেলা বসেছিল। সেখানে ১৮টি প্রতিষ্ঠানের ২৪টি স্টলে মধু বিক্রি হয়। মেলায় আসা মধু ব্যবসায়ীদের অনেকেই বলেছেন, মধু মেলা আয়োজনের মাধ্যমে তাদের বেশি পরিমাণ মধু বিক্রি হয়। সপ্তাহব্যাপী এ মেলায় প্রতিটি স্টলে গড়ে ১০ হাজার টাকার মধু বিক্রি হয়। এ ধরনের মেলা প্রথম আয়োজন করা হয় ২০০৬ সালের মার্চে। তখন তাদের মোট বিক্রির পরিমাণ ছিল দেড় টন। সে বছর আগস্টে তারা আবার মেলা আয়োজন করে]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Roneyblog/28725046 http://www.somewhereinblog.net/blog/Roneyblog/28725046 2007-08-10 21:43:20