somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপ ২০১১-এর রেকর্ড সমূহ

০৩ রা এপ্রিল, ২০১১ বিকাল ৩:২৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


দেখতে দেখতে পর্দা নামল ১০ম বিশ্বকাপ ক্রিকেটের। দীর্ঘ ২৮ বছর বছর ভারত চ্যাম্পিয়ন হল। ভারত ২য় বারের মত চ্যাম্পিয়ন হয়ে কপিল দেবের পর বিশ্বকাপের ট্রফি উঠল মহেন্দ্র সিং ধোনির হাতে। শ্রীলঙ্কা বনাম ভারতের মধ্যকার এই বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচটি ছিল ৩১৪৮তম একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ। টসে জিতে শ্রীলঙ্কা প্রথমে ব্যাট করে ৫০ ওভারে ৬ উইকেটে ২৭৪ রান সংগ্রহ করে। জবাবে ভারত ৪ উইকেট হারিয়ে ১০ বল বাকী থাকতে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায়। এবার সর্বমোট ৪৩ দিন ধরে চলতে থাকা আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপ ২০১১-এর রেকর্ড সমূহ দেখে নেয়া যাক।



ক. দলীয় রেকর্ড সমূহঃ

১. সর্বোচ্চ দলীয় স্কোরঃ ভারত- ৩৭০রান/৪উইকেট, বিপক্ষ দল- বাংলাদেশ।

২. সর্বনিম্ন দলীয় স্কোরঃ বাংলাদেশ- ৫৮ রান/অলআউট, বিপক্ষ দল- ওয়েষ্ট ইন্ডিজ।

৩. এক ম্যাচে সর্বোচ্চ রানঃ ৯৯.৫ ওভারে ৬৭৬রান- ভারত ও ইংল্যান্ড।

৪. সবচেয়ে বড় ব্যবধানে জয়ঃ ২৩১ রানের ব্যবধানে বিজয়ী দল- দক্ষিণ আফ্রিকা, বিপক্ষ দল- নেদারল্যান্ডস। ঐ ম্যাচে নেদারল্যান্ডের টার্গেট ছিল ৩৫২ রান।

৫. এক ইনিংসে সর্বোচ্চ অতিরিক্ত রানঃ পাকিস্তান বনাম কেনিয়া ম্যাচে- কেনিয়া আগে ব্যাট করা পাকিস্তানকে ৪৬ রান অতিরিক্ত দেয়।



খ. ব্যাটিং রেকর্ড সমূহঃ

১. সর্বাধিক রানঃ ৫০০ রান (চারঃ ৬১টি, ছক্কাঃ ৪টি); ব্যাটসম্যান-তিলকারাত্নে দিলশান (শ্রীলঙ্কা)। তিনি ৯ম্যাচে মোট ৫৫১টি বল খেলে ৬২.৫০ গড়ে এই রান সংগ্রহ করেন। ষ্ট্রাইক রেইটঃ ৯০.৭৪, সেরা ইনিংসঃ ১৪৪ রান, অর্ধশতকঃ ২টি, শতকঃ ২টি।

২. এক ইনিংসে সর্বোচ্চ রানঃ ১৭৫ রান (চারঃ ১৪টি, ছক্কাঃ ৫টি); ব্যাটসম্যান-বীরেন্দ্র শেবাগ (ভারত)। বিপক্ষ দল- বাংলাদেশ।

৩. সর্বোচ্চ গড়ঃ ৯৩.০০; ব্যাটসম্যান-কুমার সাঙ্গাকারা (শ্রীলঙ্কা)।

৪. সর্বোচ্চ ষ্ট্রাইক রেইটঃ ২৩৩.৩৩, ব্যাটসম্যান- কে.ডি মিলস (নিউজিল্যান্ড)।

৫. এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ষ্ট্রাইক রেইটঃ ৩৮৭.৫০; ব্যাটসম্যান- ফ্রাঙ্কলিন (নিউজিল্যান্ড)। কানাডার বিপক্ষে তিনি এই ষ্ট্রাইক রেইটে ৮ বলে ৩১ রান করেন।

৬. সর্বোচ্চ শতকঃ ২টি করে শতক হাঁকান- এবি ডি ভিলিয়ার্স (দঃ আফ্রিকা), আরএন টেন ডয়েসচেট (নেদারল্যান্ডস), মাহেলা জয়াবর্ধনে (শ্রীলঙ্কা), তিলকারাত্নে দিলশান (শ্রীলঙ্কা), শচীন টেন্ডুলকার (ভারত) ও উপুল থারাঙ্গা (শ্রীলঙ্কা)।

৭. সর্বোচ্চ অর্ধশতকঃ ৫টি করে অর্ধশতক হাঁকান- ট্রট (ইংল্যান্ড) ও যুবরাজ সিং (ভারত)।

৮. সর্বোচ্চ ডাকঃ ৩ ম্যাচে ৩ ইনিংসে ৩ বার ডাক মারেন কেনিয়ার- এসও এনগোছে।

৯. সর্বোচ্চ ছক্কাঃ নিউজিল্যান্ডের ব্যাটসম্যান টেইলর ৮ ম্যাচে ৬ ইনিংসে ১৪টি ছক্কা হাঁকান।

১০. এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ছক্কাঃ নিউজিল্যান্ডের ব্যাটসম্যান টেইলর পাকিস্তানের বিপক্ষে ৭টি ছক্কা হাঁকান।

১১. সর্বোচ্চ দূরত্বে ছক্কাঃ ১০৪ মিটার; ব্যাটসম্যান- শেন ওয়াটসন।

১২. এক ইনিংসে চার/ছয়ের মাধ্যমে সর্বোচ্চ রানঃ আয়ারল্যান্ডের ব্যাটসম্যান কেজে ও’ব্রেইন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে চার/ছয়ের মাধ্যমে মোট ৮৮ রান করেন। চারঃ১৩টি+ছক্কাঃ৬টি। (সেই ম্যাচে তিনি ৫০ বলে সেঞ্চুরী পূর্ণ করে বিশ্বকাপের দ্রুততম সেঞ্চুরিয়ান হিসেবে রেকর্ডবুকে নাম লিখান এবং শেষ পর্যন্ত ৬৩ বলে ১১৩ রান করেন)।


ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ঐতিহাসিক বিজয়ে বাংলাদেশের বিজয় উল্লাসঃ




গ. বোলিং রেকর্ড সমূহঃ

১. সর্বোচ্চ উইকেটঃ ২১ উইকেট; বোলার- শহীদ আফ্রিদি (পাকিস্তান)। তিনি ৮ম্যাচে মোট ৭৪.৩ ওভার বল করে ৪ মেডেন নিয়ে ও ২৭০ রানের বিনিময়ে ২১ উইকেট শিকার করেন। সেরা বোলিংঃ ৫উইকেট/১৬রান, গড়ঃ ১২.৮৫, ইকোনমি রেইটঃ ৩.৬২। (ভারতে জহির খানও ২১ উইকেট নেন কিন্তু তার গড় (১৮.৭৬) ও ইকোনমি রেইট (৪.৮৩) শহীদ আফ্রিদির চেয়ে বেশি হওয়ার কারণে তাকে ২য় স্থানে থাকতে হয়)।

২. এক ইনিংসে সেরা বোলিং ফিগারঃ ২৭ রানের বিনিময়ে ৬ উইকেট; বোলার- রোচ (ওয়েষ্ট ইন্ডিজ)। বিপক্ষ দল- নেদারল্যান্ডস।

৩. সেরা গড়ঃ ২.০০; বোলার- সামারিবিরা (শ্রীলঙ্কা)। তিনি ৯ ম্যাচে ২ওভার বল করে ৪ রান দেন।

৪. সেরা ইকোনমি রেইটঃ ১.০০; বোলার- ডব্লিউডি পার্নেল (দক্ষিণ আফ্রিকা)। তিনি ১ম্যাচে ৪ওভার বল করে ৪ রান ব্যয় করেন।

৫. এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ৪ উইকেট শিকারীঃ শহীদ আফ্রিদি (পাকিস্তান); তিনি ৮ম্যাচে মোট ৪বার ৪উইকেট শিকার করেন।

৬. এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ৫ উইকেট শিকারীঃ শহীদ আফ্রিদি (পাকিস্তান); তিনি ৮ম্যাচে মোট ২বার ৫উইকেট/৪+ উইকেট শিকার করেন।

৭. এক ইনিংসে সেরা ইকোনমি রেইটঃ ১.৬০; বোলার- মোহাম্মদ হাফিজ (পাকিস্তান)। ওয়েষ্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ১০ ওভারে ৩ মেডেন নিয়ে ১৬ রান দেন।

৮. এক ইনিংসে সর্বোচ্চ রান ব্যয়ঃ ৯১ রান; বোলার- জেমস আন্ডারসন (ইংল্যান্ড)। তিনি ভারতের বিপক্ষে ৯.৫ ওভার বল করে ১উইকেট নিয়ে ৯১রান ব্যয় করেন।



ঘ. উইকেট কিপিং রেকর্ড সমূহঃ

১. সর্বোচ্চ ডিসমিসালঃ ১৪টি; কিপার- কুমার সাঙ্গাকারা (শ্রীলঙ্কা)। তিনি ৯ম্যাচে ১০টি ক্যাচ ও ৪টি ষ্ট্যাম্পিং করেন।

২. এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ডিসমিসালঃ ৪টি; কিপার- কুমার সাঙ্গাকারা (শ্রীলঙ্কা)। কানাডার বিপক্ষে ৩টি ক্যাচ ও ১টি ষ্ট্যাম্পিং করেন।



ঙ. ফিল্ডিং রেকর্ড সমুহঃ

১. সর্বোচ্চ ক্যাচঃ ৮টি; ফিল্ডার- মাহেলা জয়াবর্ধনে (শ্রীলঙ্কা)। তিনি ৯ম্যাচে মোট ৮টি ক্যাচ ধরেন।

২. এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ক্যাচঃ ৩টি; ফিল্ডার- এএন কারভেজী (নেদারল্যান্ডস)। বিপক্ষ দল- ওয়েষ্ট ইন্ডিজ।



চ. পার্টনারশিপ রেকর্ড সমূহঃ

১ম উইকেট জুটিঃ ২৮২ রান; ব্যাটসম্যান- উপুল থারাঙ্গা, তিলকারাত্নে দিলশান (শ্রীলঙ্কা)। বিপক্ষ দল- জিম্বাবুয়ে।

২য় উইকেট জুটিঃ ১৩৪ রান; ব্যাটসম্যান- শচীন টেন্ডুলকার, গৌতম গাম্ভীর (ভারত)। বিপক্ষ দল- ইংল্যান্ড।

৩য় উইকেট জুটিঃ ২২১ রান; ব্যাটসম্যান- হাশিম আমলা, এবি ডি ভিলিয়ার্স (দঃ আফ্রিকা)। বিপক্ষ দল- নেদারল্যান্ডস।

৪র্থ উইকেট জুটিঃ ১৩২ রান; ব্যাটসম্যান- আশিস বাগাই, এএস হান্স্রা (কানাডা)। বিপক্ষ দল- কেনিয়া।

৫ম উইকেট জুটিঃ ১২১ রান; ব্যাটসম্যান- আরএন টেন ডয়েসচেট, বরেন (নেদারল্যান্ডস)। বিপক্ষ দল- আয়ারল্যান্ড।

৬ষ্ঠ উইকেট জুটিঃ ১৬২ রান; ব্যাটসম্যান- কেজে ও’ব্রেইন, এআর কিউসাক (আয়ারল্যান্ড)। বিপক্ষ দল- ইংল্যান্ড।

৭ম উইকেট জুটিঃ ৮৫ রান; ব্যাটসম্যান- টেইলর, জেকব ওরাম (নিউজিল্যান্ড)। বিপক্ষ দল- পাকিস্তান।

৮ম উইকেট জুটিঃ ৫৪ রান; ব্যাটসম্যান- ম্যাককুলাম, ভেট্টরি (নিউজিল্যান্ড)। বিপক্ষ দল- অস্ট্রেলিয়া।

৯ম উইকেট জুটিঃ ৬৬ রান; ব্যাটসম্যান- আব্দুল রাজ্জাক, উমর গুল (পাকিস্তান)। বিপক্ষ দল- নিউজিল্যান্ড।

১০ম উইকেট জুটিঃ ২৩ রান; ব্যাটসম্যান- ওধিয়াম্বু, এনগোছে (কেনিয়া)। বিপক্ষ দল- জিম্বাবুয়ে।

১০ম উইকেট জুটিঃ ২৩ রান; ব্যাটসম্যান- মিসবাউল হক, সাঈদ আজমল (পাকিস্তান)। বিপক্ষ দল- ভারত।



ম্যান অব দি ফাইনালঃ মাহেন্দ্র সিং ধোনি (ভারত) [৭৯ বলে ৯১ রান]

ম্যান অব দি সিরিজঃ যুবরাজ সিং (ভারত) [৯০.৫০ গড়ে ৩৬২ রান ও ১৫ উইকেট এবং ৪ ম্যাচে ম্যান অব দি ম্যাচ]

পরবর্তী (১১তম) বিশ্বকাপ ২০১৫ সালে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে অনুষ্ঠিত হবে।
৮টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×