somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

শিখা রহমান
কবিতা প্রেমী; একটু এলোমেলো; উড়নচণ্ডী; আর বই ভালবাসি। শব্দ নিয়ে খেলা আমার বড্ড প্রিয়। গল্প-কবিতা-মুক্ত গদ্য সব লিখতেই ভালো লাগে। "কেননা লেখার চেয়ে ভালো ফক্কিকারি কিছু জানা নেই আর।"

বীরনারী

১৩ ই জুন, ২০১৮ রাত ৩:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



ছোট্টবেলার সন্ধ্যাগুলো অন্যরকম ছিলো। তখনতো আর চব্বিশ ঘণ্টা টেলিভিশন চলতো না, একটাই মোটে টিভি চ্যানেল ছিলো, সেই বাংলাদেশ টেলিভিশন। সন্ধ্যাবেলায় পড়া না থাকলে সমস্যা…কি করি কি করি!! কাজ না থাকলেই দুষ্টুমি; রান্নাঘরে গিয়ে কাজের মাঝে বিরক্ত করা; অথবা মাঝে সাঝে বাবা মায়ের চোখ এড়িয়ে জানালার বা বারান্দার গরাদ বেয়ে ওঠা নামা করা; বারান্দার এমাথা ওমাথা দৌড়াদৌড়ি করে ফুলদানী বা ঘরসাজানোর জিনিষ ভাঙ্গা। মোটকথা আমার কাজ না থাকলে আমার চাইতেও বাসার অন্যান্যদের বিশাল সমস্যা!!

বাবা তাই পড়া না থাকলে কবিতা পড়তে দিতেন। মাঝে মাঝে মু্খস্থ ধরতেন; হাত পা নেড়ে চোখ বড় বড় করে বাবার কাছে আবৃত্তিও শিখতাম কখনো। সত্তরের দশকে শৈশব পেরোনো সবারই দুটো কবিতা মুখস্ত আর আবৃত্তি বাঁধা ছিলো; রবি ঠাকুরের “বীরপুরুষ” আর নজরুল ইসলামের “কাঠবেড়ালী।“

“বীরপুরুষ” আবৃত্তি করতে আমার বেশ লাগতো। “মনে করো যেন বিদেশ ঘুরে/ মাকে নিয়ে যাচ্ছি অনেক দূরে।“ সামনে হাত ঘুরিয়ে “অনেক দুরে…” বলামাত্র কিভাবে যেন মন আসলেই অনেক দূরে কোন তেপান্তরের মাঠে চলে যেত। গহীন কোন অরন্যে মায়ের পালকির পাশে আমি, একটু গা ছমছম। টগবগিয়ে রাঙ্গা ঘোড়ায় সওয়ার; পাগড়ি মাথায় আর কোমরে তরবারী।“রাস্তা থেকে ঘোড়ার খুরে খুরে/ রাঙা ধুলোয় মেঘ উড়িয়ে আসে।“ আবৃত্তি করার সময় আসলেই কোথাও ঘোড়ার খুরের শব্দ, ধুলোর গন্ধ পেতাম।

“হারে রে রে রে রে।“ করে আসা ডাকাত দলকে মহা উদ্যমে কচুকাটা করার পরেই একটু মনখারাপ হতো। মা বলছেন “ভাগ্যে খোকা সঙ্গে ছিল! কী দুর্দশাই হত তা না হলে।" কেউ বলেনি কিন্তু তারপরেও জানতাম মাকে রক্ষা করার জন্য কোন খুকীদের সাথে পাঠানো হয় না; খুকীরা মায়ের সাথে পালকিতে থাকে। খোকারাই মাকে রক্ষা করে, খোকাদেরকেই পাড়ার লোকে বলে “ভাগ্যে খোকা ছিল মায়ের কাছে।“

হাত পা নেড়ে মাথা দুলিয়ে আবৃত্তি করা সেই ছোট্ট মেয়েটা আজ দু’জন বীরপুরুষের মা। 'বীরপুরুষ' কবিতায় হিরো ছোট্ট ছেলেটি, সেই কেন্দ্রে, মা পরিধিতে৷ লেখালেখি ব্যাপারটাকে যতোটা ভাবতে পছন্দ করি ততোটা সরল কোন প্রক্রিয়া নয়। প্রতিটি লেখার পেছনে থেকে যায় পশ্চাৎপট, থেকে যায় সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গী বা নিজস্ব অভিজ্ঞতা, ধরা পড়ে সময়।

সময় বদলেছে, সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গী খুব ধীরগতিতে বদলাচ্ছে। হয়তো তাই এই বিংশ শতাব্দীতে মল্লিকা সেনগুপ্তের কবিতায় পরিধি থেকে কেন্দ্রে এসে দাঁড়ান বীরপুরুষের মা।
“একলা মা আর একলা ছেলে
ডাকাতগুলো দেখতে পেলে
কী হবে বল্ বীরপুরুষ খোকা?
তুই করবি যুদ্ধ, আর আমি রইব বোকা!
স্পষ্ট বলছি তা হবে না আর
তুই ওদের তির ছুঁড়লে আমিও দেব মার৷”

এখনও দেয়াল ভাঙ্গেনি; তবে ছোট্ট ঘুলঘুলি দিয়ে কয়েদখানার অন্ধকারে আলো এসেছে। আজ জানালার ফ্রেমে আটক চৌকনা টুকরো আকাশ; কোন একদিন ছাদ ভেঙ্গে আকাশ এসে দাঁড়াবে কয়েদখানায়। সন্ধ্যা বেলায় বাবার সামনে আবৃত্তি করার সময়ে কোন ছোট্টমেয়ে আসলেই টগবগিয়ে ঘোড়ায় চড়ে মাকে বা বাবাকে আগলে রাখবে; তরবারী খেলায় হারিয়ে দেবে “হারে রে রে রে রে…“ করে আসা ডাকাত দলকে। ভাবতে ভালো লাগে অদূরেই সেই দিন যখন কবিতার কেন্দ্রে এসে দাড়াবে ছোট্ট কোন মেয়ে...পাড়ার লোকে মাকে অথবা বাবাকে বলবে “ভাগ্যে খুকী ছিলো তোমার সাথে...”

© শিখা (১৬ই অক্টোবর, ২০১৭)
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই জুন, ২০১৮ রাত ৩:৩৬
২৫টি মন্তব্য ২৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পজ এন্ড রেস্ট!

লিখেছেন অচেনা হৃদি, ১৫ ই আগস্ট, ২০১৮ বিকাল ৪:৫০



আমি একটা ঝোঁকপ্রবণ আদমি। একেক সময় একেক ঝোঁক ওঠে মাথায়। সেই ঝোঁক যদি ভালো কিছু নিয়ে হয় তাহলে পুর্ন উদ্যম নিয়ে সেই ঝোঁকের দিকেই ঝুঁকে পড়ি। কিছুদিন পর আস্তে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার দেখা ব্লগের সাড়ে তিন বছরঃ ব্লগারদের ধরণ-

লিখেছেন জাহিদ অনিক, ১৫ ই আগস্ট, ২০১৮ বিকাল ৫:৪৫





বাংলা ব্লগে মোটামুটি পাঁচ ধরনের ব্লগার রহিয়াছেন। (মতান্তরে ছয় ধরনের)। যাহারা সবাই নিজ নিজ স্থান হইতে ব্লগে উজ্জ্বল ভূমিকা পালন করিয়া যাইতেছেন ।

১) আম জনতার ব্লগারঃ
ইহারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনা দৈবচক্রে বেঁচে যাওয়ায়, কমপক্ষে, শেখ হত্যার বিচারটা হলো

লিখেছেন চাঁদগাজী, ১৫ ই আগস্ট, ২০১৮ সন্ধ্যা ৬:০৯



এবার কমপক্ষে কেক কাটা হয়ে উঠেনি; পত্রিকায়, কেক হাতে ড: এমাজুদ্দিন সাহেব, ড: খোন্দকার, আমান উল্লাহ আমান, খায়রুল কবির খোকন, নোমান, আমীর খসরুদের চেহারা দেখতে হয়নি; জন্মদিনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিয়াউর রহমান 'go ahead' বলা মানেই এই নয় যে, জিয়াউর রহমান জানতেন বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হবে...

লিখেছেন বিচার মানি তালগাছ আমার, ১৫ ই আগস্ট, ২০১৮ রাত ৮:৪৭



১. প্রতি বছর ১৫ ই আগস্ট এই আলোচনায় গতি পায় যে, জিয়াউর রহমান সব কিছু জানার পরও বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ড থামানোর জন্য কিছু করেননি। এটার শুরু হয় খুনী রশীদের সাক্ষাৎকারের পর।... ...বাকিটুকু পড়ুন

এলোমেলো ডায়েরী (২): ৭ টি গা জ্বালানি বাংলাদেশী সমাজের কথা, শুনলে মনে হয় বক্তার মাথায় গরম পানি ঢেলে দেই!

লিখেছেন সামু পাগলা০০৭, ১৫ ই আগস্ট, ২০১৮ রাত ৯:২২

ভদ্র ও সভ্য মানুষের মতো কথা বলা কিন্তু সামান্য কোন ব্যাপার নয়, এটি একটা শিল্প। আমাদের সমাজে এমন কিছু মানুষ থাকে যাদের কথাবার্তায় ভদ্রতা, শিক্ষা ও রুচির কোন ছোঁয়া থাকেনা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×