somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... আগষ্টে ঈদ মোবারক...
শোকের মাস হিসেবে আগষ্টকে পালন করে আওয়ামি লীগ। আবার ১৫আগষ্টের মর্মান্তিক ঘটনা ছাড়াও আমাদেরকে এই মাসে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, শামসুর রাহমান, হুমায়ুন আজাদের মৃত্যু দেখতে হয়েছে। ১৭আগষ্ট আর ২১আগষ্ট যোগ করেছে নতুন মাত্রা। ৩১আগষ্টে প্রিন্সেস ডায়ানার আকস্মিক বিদায়ে হতবাক হয়েছিল গোটা বিশ্বই।

গাড়ি এগিয়ে চলছিল আর মনে মনে ভাবছিলাম অপ্রত্যাশিতভাবে এবার ব্যক্তিগত একটি শোক যোগ হলো আমার এই আগষ্টেই।

যাত্রাপথের মুন্সিগঞ্জের গ্রাম দেখে আমার অভিভূত হওয়ার জোগাড়। পথেই পড়লো রাঢ়িখাল, ফেরার পথে দেখলাম ডঃ হুমায়ুন আজাদের কবর আর জগদীশ চন্দ্র বসুর স্মৃতিময় অঙ্গন।







মনটা ভার হলেও কিছুই তো থেমে থাকেনা। তাই সবাইকে আগষ্টের শেষদিনে পাওয়া ঈদের শুভেচ্ছা জানাই!

শুভকামনা রইলো...




]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/SUBID/29441391 http://www.somewhereinblog.net/blog/SUBID/29441391 2011-08-31 11:52:31
সখি, ভাবনা কাহারে বলে...
হঠাৎ বলা-কওয়া ছাড়াই হয়তো আমি টুপ করে ঝরে পড়তাম
তপ্ত মাটি হয়তো খুশিতে আটখান হতো
বারবার কেঁপে উঠে নিত আমার ছোঁয়া
আর আমি তোমাকে না পেয়ে কাতর হয়ে কোথায় খুঁজতাম!

হয়তো তুমিও ঝরে পড়তে
বাজের দুর্দান্ত গর্জনে হয়তো আমাকে ধীরে চলতে বলতে
জানিনা আমার উপরে যে মেঘাংশ ফোঁটা হয়ে পড়তো
বৃষ্টি, সেটাই আসলে তুমি কিনা!

এই রকম নাম-পরিচয়হীনের সাথে প্রেম, তাও হয় কি কখনো?

অথচ তুমি আমার প্রেমে পড়েছ
দুরন্ত মেয়ের মতো আমার কাছে এসেছ
দুইজন ভিন্ন মানুষ, কতই না আপন আজ,
তারপর কথায় কথায় উপরের কল্পনাটা যখন এঁকে দিলাম
হারানোর মিছে ভয়ে তুমি খেপে কিছু কিল-চাপড় মেরেই ধরলে জড়িয়ে
তারপর সে কী কান্না!]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/SUBID/29403455 http://www.somewhereinblog.net/blog/SUBID/29403455 2011-06-27 21:32:30
বিক্ষিপ্ত সময় আর মনে যখন কবিতা থাকেনা...
আমার উপর দাদার খুব সূক্ষ্ণ একটা প্রভাব আমি টের পাই। সেই ছোটবেলায় গ্রামে গেলে খুব সকালেই ঘুম ভেঙ্গে যেত। ফজরের নামাজের পরে দাদা আমাদের বৈঠকঘরের বিশাল বারান্দায় বসে উর্দু/ফার্সি শায়েরি আবৃত্তি করতেন। জানিনা কতটুকু পারতাম, তবে ঘরোয়া আড্ডায় বসে অনেকবারই বলেছি দাদা যদি অত আগেই আমাদের ছেড়ে চলে না যেতেন, তবে উর্দু/ফার্সি শিখেই ফেলতাম। সেই ছোটবেলায় শোনা শায়েরিগুলোর কিছু কিছু এখনো কানে বাজে, মনে মনে আমিও আওড়াই অনেকসময়...

মাতৃভাষার পাশাপাশি অন্যকোন ভাষার প্রতি টানটা হয়তোবা সেই ছোটবেলায় এভাবেই আমার মাঝে গেঁথে গেছে।

ব্যাপারটা আবারো চাগাড় দিয়ে উঠলো গত গুস্তাবো আদোলেফা বেকেরের কবিতা পড়ে। গত অক্টোবর ২৯ তারিখে প্রথম আলোর সাহিত্য সাময়িকীতে...



স্প্যানিশ বেকের মূলত rima (rhyme)-র জন্য দারুন বিখ্যাত। কয়েকটা রিমার মাঝে কেন যেন রিমা-২১ টা খুব টানলো...

দিনকয়েকের টানা বিক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যদিয়ে চলার পর আজকে একটু সুস্থির হয়েছি বলা যায়। এমন সময় বেকের মাথায় এলো।

উইকিতে খুঁজে নিলাম উনাকে, পেয়েও গেলাম সেই রিমা-২১, ইংরেজি অনুবাদটা এমন:

What is poetry? you say as you fix
on my pupil your pupil blue.
What is poetry! And you're asking me?
Poetry is you.

রাজু আলাউদ্দিনের করা বাংলা অনুবাদে:

কবিতা তাহলে কী? আমার দুই চোখে
তোমার সুনীল দুই চোখ রেখে জানতে চেয়েছ।
তুমি কিনা জানতে চাও...
কবিতা কী?
কবিতা...সে তো তুমি!

বহুদিন হয়ে গেছে কবিতা লিখতে পারছিনা। মনটায় যে কেমন কষ্ট হয় বলে বোঝাতে পারবোনা...

খুব ইচ্ছা করে এর মূলটা জানতে।

¿Qué es poesía?, dices mientras clavas
en mi pupila tu pupila azul.
¡Qué es poesía! ¿Y tú me lo preguntas?
Poesía eres tú.

কিছুই বোঝার জো নেই আমার।

বলুন দেখি, এরপরও স্প্যানিশ না জেনে কিভাবে থাকি...

তথ্যসূত্র:

Click This Link

Click This Link]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/SUBID/29279580 http://www.somewhereinblog.net/blog/SUBID/29279580 2010-11-28 18:04:29
আবারো অবিন্যস্ত কথামালা...

আঁধারের মধ্যে অস্তিত্ব টের পাই নিজের
দেখি কেমন ভয়ংকর ভূতুড়ে অন্ধকার
খেলা করছে আমার চারপাশে।
বিছানা হাতড়াই, অ্যালার্ম ঘড়িটায় আলো নেই
বহু কষ্টে হয়তো সময়টা বুঝি
ততক্ষনে কেটে যায় ঘুমঘোর, একটানা কোথাও
ঝিঁঝিঁর ডাক শুনি, অবাক আমাকে
প্রকৃতি বিছানা ছেড়ে নামায়।

পরিচিত ঘরটার বিন্যাস বুঝতেও হঠাৎ ভুল হয়।
আচমকা ঠোক্করের শব্দে চমকে উঠি, দরজা খুলে
আনমনে অন্ধকারটাকেই বুঝি মনে হয় মায়াবী।
অনুপস্থিতির রংটাই আমার মনটা রঙীন করে
বিশ্রীভাবে ভেঙ্গে যাওয়া ঘুমকে তখন আর জরুরি মনে হয়না
বরং অন্ধকারকেই জড়িয়ে ধরতে ইচ্ছে হয়
অন্ধকারই যেন আমার ঠিকানা।

>>>>>>>>>>>>>>

অবিন্যস্ত কথামালা...
Click This Link]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/SUBID/29261544 http://www.somewhereinblog.net/blog/SUBID/29261544 2010-10-26 10:53:22
মডেল বিষয়ক অক্ষমতা আর তার পেছনের গল্প
উনার সাথে পরিচয় বোধহয় মিনিট দশেকেরও হবেনা। প্রচন্ড বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচতে দৌড়ে চারুকলার ভেতরে ঢুকে পড়েছিলাম। সময় কাটানোটাই যখন প্রশ্ন, তো ঠায় দাঁড়িয়ে অসময়ের ঝুম বৃষ্টিকে জোর করে উপভোগ করার অভিনয়ের চাইতে জয়নুল গ্যালারিতে চলমান একক চিত্রপ্রদর্শনীতে ঢুঁ-মারাটাই কাজের কাজ বলে মনে হলো।

চিত্রকলা ব্যাপারটাই ঠিক এখনো বুঝে উঠতে পারিনি। খুবই খারাপ আঁকিয়ে ছিলাম সহপাঠি অন্যদের চেয়ে, ড্রয়িং স্যারের হাতে মারও খেতাম বেদম, তবুও কেন জানি ভালোলাগাটা তৈরি হয়েছিল সেই ছোট্টবেলাতেই, নিজে থেকেই অনেকসময় কিছু কিছু পড়ার চেষ্টা করেছি, বিভিন্ন সাইট ঘেঁটেছি, জীবনী পাঠ করেছি মহান শিল্পী অনেকের, ভ্রমনকাহিনি পড়েছি গোগ্রাসে তবুও আজো কোন ছবির সামনে দাঁড়ালে নিজেকে কেমন বোকা বোকা মনে হয়। তথাপি আকর্ষনটা কমেনি কখনো।

বাহ, আমার চোখে বেশ ভালোই লাগছে ছবিগুলো। গ্রামীণ পটে আঁকা ছবিতো অবশ্যই চোখজুড়ানো, কয়েকটা ছবির শিরোনাম পড়েই খুব সুন্দরভাবে ছবির বক্তব্যের সাথে নিজেকে মিলিয়ে নেয়া যাচ্ছে, অনেক আঁকিবুকি আছে রঙের, বেশ লাগছিল। বেশ কয়েকটা ফিগার স্কেচ ছিল, কিউবিজমেও মনে হলো শিল্পী হাত মকশো করেছেন, নাহ বেশ ভালোই লাগলো।

শেষে এসে শিল্পীর নামটা দেখে ভ্রু কুঁচকালো আমার, নিজের মাঝে গেঁড়ে বসা পুরুষ মানসিকতা আমাকে অবাক হতেই বাধ্য করলো, ড্রয়িংগুলো তাহলে একটা মেয়ের!! এবার আরেকটু ভালো করে দেখার জন্য ন্যুড স্কেচ সেকশনের দিকে এগিয়ে গেলাম, (নাকি শেষবিন্দু থেকে পিছিয়ে)! যা হোক, মাথায় মূহুর্তেই দুষ্টবুদ্ধি খেলে গেল একটা, তেমন খোঁজার দরকার হলোনা, শিল্পী হলের মাঝামাঝি একটা টেবিল পেতে গোটা চারেক চেয়ার নিয়ে আরেকজনের সাথে গল্প করছেন। আমি গিয়ে দাঁড়ানোর মূহুর্তখানেক আগে ভদ্রলোক উঠে গেলেন, মিষ্টি হাসিতে শিল্পী জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে।

হালকা দু'চারটা কথার পরে আমি প্রশ্নটা করেই ফেললাম আর কৃত্রিম খেদে জানালাম, আপনি নারী হয়েও আরেকজন নারীর ন্যুড স্কেচ করেছেন, তা নিয়ে আমার কোন আপত্তির প্রশ্নই আসেনা, কিন্তু ফিগার ড্রয়িংয়ে বিশেষ করে ন্যুড ছবির ব্যাপারে পুরুষের অংশগ্রহন এত কম হলে চলবে কেন? উনি খুব স্বাভাবিকভাবেই অনেকটা আমার তথ্য সংশোধন করে দিচ্ছেন এমন ভঙ্গিতে বললেন, পুরুষের অংশগ্রহন একদম কম এটা কিন্তু ঠিক হলোনা। তবে আমাদের দেশে এমনতরো মডেল পাওয়াটাই মুশকিল, সে নারী-ই হোক বা পুরুষ



সেটা অবশ্য জানাই আছে আমার। এমন সময়েই এলো সেল্ফ প্রোর্ট্রেটের কথা, ফ্রিদা কাহলোর প্রসঙ্গেও আলাপ হলো, স্বনামধন্য চিত্রকর ডিয়েগো রিভেরির সাথে ফ্রিদার ঝঞ্ঝাক্ষুব্ধ অথচ আবেগময় সম্পর্ক নিয়েও কথা হলো, এল নারীর নানান সীমাবদ্ধতার প্রসঙ্গে, বিশেষ করে যখন চারুকলার মতোন বিষয়ে এদেশে কেউ তার ক্যারিয়ার গড়তে চান।

তো তেমন সময়েই অনেকটা আলাপে আলাপে জবাবের ধরনেই বেরিয়ে এল প্রশ্নটা আমার মুখে, "যদি আমি রাজি হই?", ফিক করে হেসে ফেললেন উনি। আর মূহুর্তের মধ্যেই বদলে ফেললেন মুখে ধরে রাখা কোমলতার ছাপটা, আমি কি বুঝতে পারছি, উনার উত্তরটা ঠিক কি আসছে এক্ষুণি?? তবে আমার মাথাটা শুন্য হয়ে গেল তাঁর কথার তীক্ষ্মতায়, "ধরুন, সবকিছু ঠিকঠাক মতোই এগুলো, একজন ন্যুড-মডেল হিসেবে আপনি আমার সামনে দাঁড়িয়ে, তখন আমার নিরাপত্তাটা কি আপনিই নিশ্চিত করবেন?"



এতক্ষন আমি উনার সাথে চোখে চোখ রেখেই কথা বলে চলছিলাম, কিন্তু আমি বুঝতে পারলাম কোন জবাব নেই জেনেই হঠাৎ করে আমার মাথা নিচু হয়ে যাচ্ছে আর শিল্পীর ঠোঁটের কোণে বিদ্রুপের হাসি ক্রমেই দীর্ঘ হচ্ছে, উনি কি করুনা করে বলছেন, হায়রে পুরুষ!!


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/SUBID/29248555 http://www.somewhereinblog.net/blog/SUBID/29248555 2010-10-02 17:23:42
মেঘের শহর দার্জিলিংয়ে-৪ মেঘের শহর দার্জিলিংয়ে-৩

>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>

লেখার এই জায়গাটাতে এসে মনে হচ্ছে শিরোনামটা ঠিক যথার্থ হয়নি, কারন দার্জিলিং আস্ত একটা জেলা, যার ভেতরে শিলিগুড়ি, কালিম্পং, কুরসেং আর মিরিক শহরও পড়ে।

যাই হোক, নেপাল বর্ডারে হতচ্ছাড়া একটা রাত কাটিয়ে আবার ভারতে ঢুকে শিলিগুড়ি হয়ে যাত্রা করলাম কালিম্পংয়ের দিকে... আমার একটা দোষ হলো, মাথায় কোন গানের কলি ঢুকলে তা সহজে নামতে চায়না। ভেবেছিলাম অঞ্জনের কাঞ্চনজঙ্ঘা গানের সুর বুঝি ভাজতেই থাকবো, কারন কালিম্পংয়ের সাথে প্রথম পরিচয় ঐ গানের সূত্রেই, কিন্তু পথের দৃশ্যাবলি আমাকে কোন একটা কিছুতে আবদ্ধ থাকতে দিলনা...

এই পথটা দার্জিলিং যাওয়ার পথের মতোন পাহাড়-বাওয়া নয়, বরং অনেকটা ক্রমশ উঁচু হতে থাকা আপাত সমতলই যেন। শুরুতেই পথের পাশে পেলাম আমার দারুন পছন্দের বানর...



চলতে চলতে হঠাৎ বেশ গর্জনের শব্দ, এখানে তো সাগর থাকার কথা না, তবে... চোখ চলে গেল তিস্তা নদীর দিকে, প্রচন্ড খরস্রোতা পাহাড়ি তিস্তা দেখে বিমোহিত হয়ে গেলাম





কিছুক্ষন পরে ড্রাইভার গাড়ি থামিয়ে জানান দিল যে লাঞ্চ সারবে... এতো না চাইতেই যেন স্বপ্নপূরণ!! আমরাও গাড়ি থেকে নেমে ছোট্ট কুঁড়েঘরের মতোন হোটেলে ঢুকে মেনু দেখেই লাঞ্চের সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললাম



আর নিচে নেমে তিস্তার নীল পানির স্পর্শ...



অনেক উঁচু একটা সেতু পেরিয়ে সামনে যাত্রা



অবশেষে দুপুর নাগাদ কালিম্পংয়ে ঢোকা...

হোটেলে উঠার পরে অঞ্জনের শংকর হোটেলের কথা মাথায় এলো, কিন্তু কী আর করা<img src=" style="border:0;" />

বিকেল করে বেরুলাম ঘুরতে, হোটেল থেকেই সব ম্যানেজ করে দিলো...

জানতাম না কত বড় চমক অপেক্ষা করছে আমাদের জন্য সামনে...

একটা রেস্ট হাউস চত্বরও যে ট্যুরিষ্ট স্পট হতে পারা আগে ভাবিনি কখনো... দেওলো রিসোর্ট চত্বরে ঢুকেই তাই এর রিসিপশনের দিকে গেলাম ভাড়ার খোঁজ জানতে, হঠাৎ পেছন থেকে আরেক বন্ধুর চিৎকার, "দৌড় দেও, কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যাইতেছে।"

আর কিসের কি, ঊর্দ্ধশ্বাসে দৌড়ে দেখি শেষ দুপুরের মোলায়েম আলোয় মেঘের চাদর সরিয়ে দূরে দাঁড়িয়ে আছে সে...এতক্ষনে গানটা গুঞ্জরিয়ে উঠলো যেন আমার মাথায়, কিন্তু ততক্ষনে অনেক দেরি হয়ে গেছে ক্যামেরা বের করতে... ফলে সেই অনন্য শ্বেতশুভ্র কাঞ্চনজঙ্ঘা শুধু আমার স্মৃতিতেই।

নিচের ছবিটা দেখুন, মেঘের আড়ালেও কত অনন্য সে...



হঠাৎ করে আল্লামা ইকবালের শায়েরি মনে হলো

আয়ি হিমালা, আয়ি ফাসিল-ই-কিশোয়ারই হিন্দুস্তান
চুমতা হ্যায় তেরি পিশানি-কো ঝুককার আসমান।

(ও হিমালয়, তুমি যেন মাতৃভূমি হিন্দুস্তানের দুর্গরূপ দেয়াল
নতজানু হয়ে আকাশ অনুরাগের চুমুতে ভরিয়ে দেয় তোমার কপাল)--দুর্বল অনুবাদের সম্পূর্ণ দায় আমার।

এরপরই আচ্ছন্ন হলাম এক গভীর হতাশায়, আজ আমি ইতিহাসের এক পাকচক্রে বাঁধা পড়ে, বর্তমানের ভূ-রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক নানা সমীকরনের ফলে নিজেকে আর বিশাল, মহান ভারতবর্ষের অংশ মনে করতে পারিনা... গাঙ্গেয় ব-দ্বীপের খন্ডিত এক ছোট্ট মায়ায় ঘেরা সমস্যাসংকুল ভূ-খন্ডই আমার দেশ... আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি।

কালিম্পং খুব বিখ্যাত এর ক্যাকটাসের জন্য...





পরদিন সকালে এমন কয়েকটা নার্সারি দেখে ফিরে আসি দেশের পথে...

(সমাপ্ত)
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/SUBID/29239980 http://www.somewhereinblog.net/blog/SUBID/29239980 2010-09-15 12:31:00
মেঘের শহর দার্জিলিংয়ে-৩ মেঘের শহর দার্জিলিংয়ে-২

>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>

ভোরবেলায় ঘুম থেকে উঠে হালকা স্ন্যাকস কিছু খেয়ে রওনা দিলাম মিরিকের দিকে, ওখানে গিয়ে সকালের নাস্তা করবো আমরা...

দার্জিলিংয়ের ভোর, আহ!!



তবে পথে এমন একটি বৌদ্ধমন্দির পড়লো যে না থেমে পারলাম না



মন্দিরের গায়ে টেরাকোটা



সুউচ্চ ঐমন্দির থেকে নিচে দার্জিলিংয়ের অন্যরকম একটা ভিউ পেলাম



মিরিক যেতে এমন অনেক চা-বাগান পড়বে পথে...



আর চোখ জুড়ানো বলতে কি বোঝায় তা শ্রীমঙ্গল আর দার্জিলিংয়ের চা-বাগান না দেখলে হয়তো কোনদিন বুঝতে পারতাম না...

অবশেষে মিরিক...

মিরিক থেকে শিলিগুড়ি হয়ে যাই নেপালের কাঁকড়ভিটা বর্ডারে। নেপালে চলমান বন্ধ্-এর পাল্লায় পড়ে একরাত বলা চলে হোটেলে কাটিয়ে আবার ভারতে ঢুকে যাই...

পথে চারু মজুমদারদের নকশালবাড়ি পড়বে...গ্রামটায় ঢুঁ-মেরে শিলিগুড়ি থেকে কালিম্পংয়ের উদ্দেশ্যে যাত্রা...

(চলবে)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/SUBID/29228803 http://www.somewhereinblog.net/blog/SUBID/29228803 2010-08-24 12:53:37
মেঘের শহর দার্জিলিংয়ে-২ মেঘের শহর দার্জিলিংয়ে-১

>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>

ঐ দেখা যায় দার্জিলিং...


পথে পড়বে এমন কিছু কিছু ঝিরিও...


প্রথমেই বলে রাখছি, অন্য প্রায় সবার মতোই আমরাও পরদিন ঘুম থেকে উঠে টাইগার হিলে গিয়েছিলাম, সে অনেক ভোরে, উদ্দেশ্য কাঞ্চণজঙ্ঘা চিরে সূর্যমামার উদয় দেখা। কিন্তু চরম বৃষ্টির কবলে পড়ে অনেকক্ষণ অপেক্ষা করে সেখান থেকে একবুক হতাশা নিয়ে চলে আসি...

কিন্তু দার্জিলিংয়ের অনন্যতা সেই আক্ষেপ দূর করতে সময় নেয়নি...

সেখান থেকে ফেরার পথে আমরা কয়েকটি তিব্বতি Monastery ঘুরে আসি...প্রসঙ্গত বলি তিব্বতিরা হিমালয় পর্বতকে অসীম ভক্তিসহকারে পূজা করে থাকে এবং তাদের বিভিন্ন চিত্রমালায় এর প্রতিফলন দেখা যায়।




সেখান থেকে বেরিয়ে দার্জিলিংয়ের স্বাধীনতা উদ্যানে


মাঝে মাঝে কিন্তু খাওয়া-দাওয়াও চলছে<img src=" style="border:0;" />

যাহোক, এরপর Himalayan Mountaineering Institute(HMI) যেখানে আমাদের মূসা ইব্রাহিমও পর্বতারোহনের পাঠ নিয়েছেন, যার প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ ছিলেন শেরপা তেনজিং নোরগে, তাঁর ভাষ্কর্যও আছে এখানে


পাশাপাশি আছে চিড়িয়াখানাও, সেই ছেটবেলায় পড়া Y-তে Yak, এখানে দেখে খুবই মজা পেলাম, আপনারাও দেখুন




সেখান থেকে হোটেলে ফেরার পথে দেখা হলো একটি অনাথাশ্রম,


বিখ্যাত অনেক দর্শনার্থীদের ছবির মাঝে চোখ পড়লো রাজীব-সোনিয়া গান্ধি দম্পতির একটি অনেক পুরাতন ফটোগ্রাফ


অবশেষে রক গার্ডেন আর গঙ্গামায়া পার্ক দেখে টাটাসুমোকে বিদায়




সন্ধ্যারাতে দার্জিলিংয়ের 'ড্রয়িংরুম' ম্যালে(Mall) বসে আড্ডা, হালকা কেনাকাটা, হঠাৎ চোখে পড়ে গেল সত্যজিত রায়ের বইয়ে পড়া দাস স্টুডিও...

একটা Antique আংটি কিনলাম দর্জি (Dorjee) থেকে, শেষে বিগ বাজারে ঘুরেটুরে একটা তিব্বতি রেষ্টুরেন্টে খেয়ে হোটেলে ফিরে...একটা দরকারি ঘুম, আহ!!

(চলবে)
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/SUBID/29224006 http://www.somewhereinblog.net/blog/SUBID/29224006 2010-08-16 16:12:05
মেঘের শহর দার্জিলিংয়ে-১
যাবই যাবো দার্জিলিং...খুবই সোজা যাওয়াটা, কঠিন শুধু ভোরে উঠে গুলশানে ভারতীয় দূতাবাসে দাঁড়িয়ে ভিসাটা আদায় করে নেয়া, আদায়ই বললাম, কারন এই আমার আগে ভারত যাওয়া না হওয়ায় ভিসা পাইনি প্রথমে। পরে দূতাবাসে পরিচিত একজন খুঁজে বের করে তার সহায়তায় ভিসা মিললো.....

পরে জেনেছিলাম ভারতের স্বাধীনতা দিবস (১৫ আগষ্ট) সামনে থাকলে ভিসা প্রদানে আরো বেশি কড়াকড়ি আরোপ করা হয়<img src=" style="border:0;" />... দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেসময়েই আমরা যাবার প্ল্যান করছিলাম।

যাহোক, আগষ্টের ২০ তারিখ রাতে শ্যামলি পরিবহনের বাসে আমরা তিন বন্ধু আর একজন বড়ভাই/কলিগ/বন্ধু মিলে যাত্রা শুরু করলাম, সকাল সকাল বর্ডার পৌঁছে নাস্তা সেরে ওপারের যাবার জন্য একহিসাবে বলা যায় তড়পাতে থাকলাম...

বাংলাদেশ বর্ডার থেকে ভারতের বিভিন্ন এলাকার দূরত্বঃ


তেমন কোন ঝামেলা ছাড়াই গেলাম ওপারে, ফিরতি টিকিট বুকিং দিয়ে, বাসেই পরিচিত হওয়া আরো জন ছয়েকের সাথে মিলে দার্জিলিংয়ে হোটেল বুকিং করে এবং পেটপূজা সেরে তবেই অপেক্ষমান টাটাসুমো জিপে উঠলাম...

অসাধারন রোমাঞ্চকর উঁচু-নিচু পথে যাত্রা হলো শুরুঃ


সন্ধ্যার আগেই পোঁছে গেলাম শহরে, রবীন্দ্রনাথ কেন দার্জিলিংকে মেঘের শহর বলেছিলেন, তারও প্রমান পেয়ে গেলাম, কমবেশি ২১০০মিটার উঁচু শহরটায় কী অসাধারন মেঘের খেলা চলে তা না দেখে বোঝা যাবেনা...

ঢোকার পথে শহরের দুটো ছবিঃ

একটা যখন মেঘ ছেয়ে ছিল,


মেঘ সরে যাবার পরে...


(চলবে)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/SUBID/29220032 http://www.somewhereinblog.net/blog/SUBID/29220032 2010-08-11 13:50:13
কবিতাঃ বর্ষায় বর্ষার রূপ খুঁজে পাই......

বেশ চনমনে রোদ দেখে
হেঁটে বেরিয়ে পড়লাম বন্ধুবাড়ির পথে
ছাতা ছাড়াই। ঘরের দরজা খুলে দেখি
ঘন্টাখানেক আগের বৃষ্টির পানি জমে আছে
বেশ খানিকটা উঠোন জুড়ে। লক্ষ্য ঠিক করে
সিঁড়ি থেকে লাফিয়েও সামান্য বিচ্যুতি.......
ফলাফল কাদাপানিতে প্যান্টের পায়ে ইঞ্চি কয়েক
সয়লাব; <img src=" style="border:0;" />"যাত্রা শুভ নয়"---বিরক্ত হয়ে ভাবি
এই না হলে বর্ষা!!

কিছুদূর যেতে না যেতেই হঠাৎ কালো মেঘ।
ফিরবো না চলবো ঠিক করার আগেই
প্রথমে গুঁড়ি গুঁড়ি তারপর মুষলধারা, কোন এক
বৃক্ষতলে আশ্রয় খোঁজা, পর্দাঘেরা খালি রিকশা
দেখে থামানো, লাফিয়ে উঠে বসেই বুঝে গেলাম
এবার পালা পশ্চাৎদেশের<img src=" style="border:0;" />; ভিজেই গেল একদম
সিটে পানির ছিট ছিল ভালোই, পর্দাটা বেকার তখন, উফ<img src=(" style="border:0;" />
এই না হলে বর্ষা!!

বন্ধু বাসার কাছে আসতেই বৃষ্টি হাওয়া, তবু নামার
জায়গা নেই, চারিধারেই পানি জমা, তাই আবারো
লাফ, অল্পের জন্য বাঁচোয়া এবার
ঘুম থেকে ওকে তুলে ছাদে গিয়ে আড্ডা জমাই।
আন্টির পাঠানো নুডলসের বাটি হাতে নিয়ে
পাশ ফিরতেই চোখ আটকে যায় কোনার গাছটায়
সোজা কান্ড উঠে গিয়ে ছড়ানো ডালপালা, ছায়া দিচ্ছে
পাশের বাসার আঙিনা, ঝুলছে তাতে 'টেনিস বল' অবিকল
সুঁইয়ের মতো বেঁধে আছে অজস্র কাঁটা যেন; কদমফুল
সত্যিই এতো বর্ষাকাল। মুগ্ধ হয়ে বোল ফোটে ঠোঁটে
এই না হলে বর্ষা!!

হাজারো ঝামেলা মাড়িয়ে বাংলার স্নিগ্ধরূপ
এই বর্ষায়ও খুঁজে পাই আমি
আজ কদমফুলের দিকে চেয়ে।

>>>>>>>>>>>>>>>>>>>

সময় পেলে পড়ুনঃ

আগাম বর্ষায় পোকার সাথে বসবাস
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/SUBID/29198630 http://www.somewhereinblog.net/blog/SUBID/29198630 2010-07-13 14:59:31
জলাবদ্ধতায় ডুবে মহিউদ্দিনের পতন আর হাসিনা-চার্চিলের পরাজয়

খুবই আগ্রহ নিয়ে দূর থেকে চট্টগ্রামের সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের দিকে লক্ষ্য রাখছিলাম। সারা চট্টগ্রাম জুড়েই অনেক বন্ধু-বান্ধব আর পরিচিতজনের সাথে কথা হলেই এপ্রসঙ্গটি উঠতো অবধারিতভাবেই। মনোনয়ন চূড়ান্ত হবার পর থেকেই সবাই মহিউদ্দিনের জেতার সম্ভাবনা প্রায় নিশ্চিত বলেই জানাতো। মিডিয়াতেও সূক্ষ্ণভাবে এমনটাই তুলে ধরার প্রয়াস ছিল লক্ষণীয়।

অথচ পরিচিতজনদের কথার সুর বদলে যেতে থাকে নির্বাচের সপ্তাহখানেক আগে মৌসুমি বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম শহরের পানিতে ডুবে যাওয়া নিয়ে......নিচতলায় থাকা এক বন্ধুর মুখে শুনি স্বগতোক্তি, এইটুক বৃষ্টিতে ঘরে পানি উঠে গেল, তাইলে আর ১৭বছর ধরে কি করলি......

মনজুর আলমের নির্বাচনি প্রচারেও বিষয়টি তুমুল প্রচার পায়.......ধীরে ধীরে অন্যান্য ইস্যুগুলোও আগের চেয়ে তেজিভাবে সামনে আসতে শুরু করে......যেমনঃ ঔদ্ধত্যপূর্ণ ব্যবহার, কর্পোরেশন আতিমাত্রায় বাণিজ্যিকিকরন, শ্রদ্ধেয় বিপ্লবী বিনোদবিহারি চৌধুরিকে অপদস্থ করার হীন আচরনসহ কিছু ক্ষেত্রে সংখ্যালঘুদের সাথে অন্যায়, পরিবেশবাদিদের নানা কর্মসূচি, চাক্তাই খাল খনন, অনেকদিন ধরে একজনের গদিনশিন থাকার ব্যাপারে আপত্তি ইত্যাদি।

ঘুরে যায় সমর্থনের হাওয়া.......

এমন হুট করে কোন ঘটনা যে মোড় ঘুরিয়ে দেয় শুধু ছোট বা স্থানীয় নির্বাচনেই, তা কিন্তু নয়.....



এ প্রসঙ্গে আবছা মনে পড়ে যায় ১৯৯১ সালে বাংলাদেশের সংসদ নির্বাচনের কথা.......সবাই নাকি জানতো আ'লিগ আসছে ক্ষমতায়, কে কোন মন্ত্রনালয়ের দায়িত্ব পেতে পারে, তা নিয়ে পত্রিকাগুলোতে খবর/বিশ্লেষনী রিপোর্ট বেরুতো........শেখ হাসিনা বলে দিয়েছিলেন বি.এন.পি ১০টি 'সিট' পাবে........

কিন্তু নির্বাচনের আগে প্রথামাফিক জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষনটিই নাকি পুরো আবহ পরিবর্তন করে দেয়। নৌকার ভোট গিয়ে পড়ে ধানের শীষে!! সেসময়ের ৮বছরের আমি পরিবার বা অন্যদের কাছে এবিষয়টা শুনলেও পরে ডঃ আনিসুজ্জামানের 'বিপুলা পৃথিবী'-তেও এই ধারনার সমর্থন দেখি। কিন্তু ঐভাষনে শেখ হাসিনা আপত্তিকর কি কি বলেছিলেন, তা ঠিক করে বলতে শুনিনা তেমন কাউকেই.......

অর্থাৎ কোন একটা একক ইস্যুতে অল্পসময়ে জনমত প্রভাবিত হয়ে পুরো উল্টো ঘটনা ঘটতে পারে বা আপাত যোগাযোগ না থাকলেও বড় একটা জনগোষ্ঠির মতামতে যে অনন্য অদৃশ্য বন্ধন থাকতে পারে, তা দারুন আকর্ষক বৈকি........



যেমন আমরা বলতে পারি ২য় বিশ্বযুদ্ধোত্তর নির্বাচনে ইংল্যান্ডের যুদ্ধকালিন অনন্য নেতৃত্বদানকারী উইন্সটন চার্চিলকে পরাজিত হতে হয়। এ নিয়ে অনেক গবেষনা হয়েছে এবং যে মতটি খুব দৃঢ়ভাবে বলা হয়, তা হলো "a desire for post-war reform was widespread amongst the population and that the man who had led Britain in war was not seen as the man to lead the nation in peace."------

ব্রিটিশরা বোধহয় চায়নি যুদ্ধদিনের আশার প্রতিক যুদ্ধশেষের অস্থির সময়ে কোন ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে বিপুল জনগোষ্ঠির হতাশার কারন হোন!!!

কিভাবে সম্ভব হয় প্রত্যক্ষ কোন যোগাযোগ ছাড়াই কোন একটা একক ইস্যুতে সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য অনেক মানুষের একই ছাতার নিচে চলে আসার ব্যাপারটা........ভেবে অবাক হতে হয়।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/SUBID/29180390 http://www.somewhereinblog.net/blog/SUBID/29180390 2010-06-19 15:05:58
সরকারগুলোর হঠকারি পদক্ষেপ আর কথায় কথায় (হালের বাকশাল) নানা জুজুর সাথে তুলনা
আমার মূল ফোকাসটা অন্যখানে। সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই যেকোন সুযোগে বাকশাল বা ভারতসহ অন্যান্য জুজু তুলে কথা বলা বিএনপিসহ অন্য সমমনা দলগুলোর পুরোন নীতি। বেগম জিয়াও কদিন আগে তরুন প্রজন্মকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন যে যারা বাকশাল দেখেনি তাদেরকে এই সরকারের কর্মকান্ড দেখেই বাকশালি শাসন সন্মন্ধে ধারনা পেয়ে নিতে।

আবার বিএনপি আমলে আমরা কথায় কথায় আওয়ামি লীগ বা সমমনাদের কাছে শুনতাম স্বাধীনতাবিরোধি শক্তিসহ নানান কথাবার্তা।

আমার আপত্তি এখানেই........

বাকশাল ছিল একটি প্রকাশ্য রাজনৈতিক পদক্ষেপ। ঘোষনা দিয়ে সংবাদপত্র বন্ধ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতাহরণ সহ নানা কর্মসূচি ছিল সেখানে। এসব কারনে এদেশের মানুষের একটা নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ইতিমধ্যেই আছে বাকশাল নিয়ে, সেই সাথে এটাও ঠিক যে অনেক প্রপাগান্ডাও যুক্ত হয়েছে সময়ের সাথে। ঠিক তেমনিভাবে বাকশাল যে তার সাফল্য প্রমাণের সময়/সুযোগ পায়নি এটাও বাস্তব। আমাদের সামনে অজস্র উদাহরন আছে যেখানে বাকস্বাধীনতাসহ অন্যান্য মানবাধিকার খুবই সীমিত। কিন্তু তাদের নেতৃত্বের সততা বা জাতিগত উৎকর্ষতা ইত্যাদি, কারন যাই হোক, তারা আমাদের সামনে আজ বড় উদাহরন। ঘরের কাছের মালয়শিয়া, চীন হওয়ার আপাত অবাস্তব স্বপ্ন দেখা বা তাদের উন্নতি দেখে আফসোস করা আমাদের প্রাত্যহিক নিয়তি।

আজকের বাস্তবতায় বাকশাল আমাদের দেশে আদৌ কার্যকরি হতো কিনা, তা কখনোই জানা যাবেনা। তাই এ নিয়ে তর্ক অর্থহীন। একইভাবে এ প্রশ্নও এসে যায় এত স্বপ্ন/শখের 'গণতন্ত্র' আমরা কতটা উপভোগ করতে পেরেছি, না পারলে কেন পারিনি। এত মুক্ত তথ্যপ্রবাহের যুগে স্রেফ ক্ষমতার দ্বন্দ্বে প্রকাশ্যে মানুষ পিটিয়ে হত্যা কি বন্ধ করা গেছে?? আমাদের নেতৃবৃন্দকে শোধরানো গেছে, প্রকাশ্য মাস্তানিকে প্রতিরোধ করা গেছে?? অথবা ঢাকার অনিবার্য মৃত্যু ঠেকানোর কোন প্রতিকার করা গেছে, নদীগুলোকে বাঁচানো গেছে?? যদি উত্তর নেতিবাচক হয়, তবে কি দরকার আমাদের এত স্বাধীনতার, এই প্রশ্ন করাটা কি অযৌক্তিক?? কোন শক্ত শাসকের কব্জা থেকে আমরা তথাকথিত দুটি ইজারাদারের ইচ্ছাধীন হয়ে গেছি........

আজকে কথায় কথায় শুনি এরশাদের আমল নাকি অনেক ভালো ছিল, আমাদের আজকের গনতন্ত্রের জন্য এরচেয়ে বড় উপহাস আর কি হতে পারে??

সবচেয়ে বড় কথা হলো, আমাদের সবক্ষেত্রেই দেশপ্রেমের অভাবটা প্রকট হয়ে গেছে। ব্যক্তিগত স্বার্থরক্ষায় আমরা অনৈতিকতাকে মেনে নিয়েছি। তাই মিথ্যা আর ভন্ডামিকে আশ্রয় করে দিন চলতে অভ্যস্ত এখন আমরা। সেক্ষেত্রে বাকশাল হোক আর না হোক, তা নিয়ে মাথা ঘামানোর আদৌ কিছু নেই.......

আমাদের প্রয়োজন ধান্দাবাজি থেকে মুক্ত হবার চেষ্টা করা, শর্টকাটে উপরে উঠার ইঁদুর দৌড় আমাদের কোন সর্বনাশের দিকে নিয়ে যাচ্ছে তা উপলব্ধি করা। তা না করে যদি আমরা স্বাধীনতার চেতনা জুজু, সার্বভৌমত্ব জুজু, ভারত জুজু, পাকিস্তান জুজু, বাকশাল জুজু, ভাঙ্গা সুটকেস জুজু, স্বৈরাচার জুজু বা হালের যুদ্ধাপরাধী জুজু নিয়ে লম্ফঝম্ফই করতে থাকি, তাহলে লাভ ঐ গোষ্ঠিরই হবে যারা চায় জনগন আসল ব্যাপারে দৃষ্টি না দিয়ে এসব নিয়ে পড়ে থাকুক........লাভের গুড়ের ভাগাভাগি সময়মতো/জায়গামতো ঠিকই তারা করে নেবে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/SUBID/29168634 http://www.somewhereinblog.net/blog/SUBID/29168634 2010-06-02 19:05:40
সময়ের নির্বিকার সাক্ষী

তীব্র আঘাতে নীল আমি চিৎ হয়ে শুয়ে আছি ভরদুপুরের এই ব্যস্ত
রাস্তায়। যেন এক অন্যলোকের বাসিন্দা আমি; চারপাশে হেঁটে
যাচ্ছে অজস্র লোক, খুব কমই চলছে তাদের দুপায়ের উপর
দৃপ্ত আত্মবিশ্বাসে, অন্য প্রায় সবাইকে কেমন উদভ্রান্ত বলে
মনে হয় শুধু। আর আছে সাধ্যমত নানা রকমের যানে চড়ে বসা মানুষ আর মানুষ, বড্ড তাড়ায় আছে হয়তো তারা।

আমি দেখেই যাচ্ছি শুধু.......

রাস্তার ময়লাগুলো গন্ধ ছড়াতে এই ভরদুপুরে কেমন দলা পাকিয়ে আছে।
সদ্য খোঁড়া ড্রেনের পাশে আধন্যাংটা পাগলটা শুয়ে আছে গুটিশুটি মেরে।
কেমন যেন ঘোর ঘোর লাগছে আমার, হঠাৎ কি তবে হয়ে গেলাম শুণ্য?
একটা পা আমাকে মাড়িয়ে গেল, অথচ হোঁচট খেলনা সে, তীব্র একটা
ব্যথার অনুভূতি হলো শুধু বুঝি আমারই দেহে। শরীরটাকে তারপর থেকে
যেন পায়ে পায়ে দলছে, যানগুলো নিষ্ঠুর অবজ্ঞায় আমাকে দীর্ণ করে
ছুটছে তাদের আপন গতির ছন্দে। আমি ছিন্নদেহ হচ্ছি, গা থেকে
থেঁতলে ছিটকে পড়া অংশগুলোকে টেনে এনে আবার জোড়া লাগাচ্ছি।
আশ্চর্য! বেশ খেলা খেলা একটা আবহ যেন তৈরি হয়েছে পুরো ব্যাপারটা ঘিরে। বন্ধুমহলে একসময়ের বকবকানির চাইতেও তো এই খেলাটা দেখি
খুব একটা খারাপ কিছু না, মনে হচ্ছে ছিন্নভিন্ন হয়ে যেতে থাকা নিজের
দেহের অংশগুলোকে নির্বিকারভাবে বারংবার জোড়া লাগানোর নিত্য
এই খেলাটাই আমি সবচেয়ে ভালো পারি।

তাইতো বুঝি আমি এখনো বেঁচে আছি!! ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/SUBID/29152333 http://www.somewhereinblog.net/blog/SUBID/29152333 2010-05-10 11:40:33
'নতুন প্রজন্ম' শব্দগুচ্ছ নিয়ে রাজনীতি আর বাস্তবতা

নতুন প্রজন্ম নিয়ে বেশ অনেকদিন থেকেই হৈচৈ চলছে আমাদের দেশে.......বিশ্বজোড়া 'পরিবর্তনের হাওয়া' আজকের তরুনদের গুরুত্ত্ব বাড়িয়ে দিয়েছে আরও......ওবামার 'চেঞ্জ উই নিড' আর 'চেঞ্জ উই ক্যান'-এরট হাতিয়ার বলা যায় তরুনদেরই। আমাদের গত নির্বাচনী ফলাফলের বিশ্লেযণে বলা হচ্ছে প্রথমবার ভোটার হওয়া তরুনদের ভোটেই নির্বাচিত হয়েছে বর্তমান সরকার........

আবার পাশাপাশি তরুনদের নিয়ে নেতিবাচক ধারনারও কমতি......... বিশেষ করে শিক্ষাঙ্গনের অস্থির পরিবেশ, মোবাইল/ইন্টারনেটসহ অন্যান্য প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের অপব্যবহার বা মাদক ইত্যাদির বর্তমান অবস্থার কারনে এই তরুনসমাজ নিয়ে অনেকেই ভ্রু কুঁচকিয়ে থাকেন।

এমন পরিস্থিতিতে সপ্তাহ দুয়েক আগে সৈয়দ আবুল মকসুদের একটি লেখা পড়ার প্রতিক্রিয়াতেই আমার এ লেখার সূত্রপাত.........তিনি বলছেনঃ

>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>
নতুন প্রজন্ম নিয়ে আমাদের অনেক মন্ত্রী, রাজনীতিক ও লেখক ভয়াবহ আশাবাদী। নতুন প্রজন্ম কথাটি এমনভাবে ব্যবহূত হচ্ছে, মনে হচ্ছে, বাঙালি জাতির আর যেন কোনো প্রজন্ম ছিল না।..............
দুর্ভাগ্যবশত আমার অবস্থান তাদের বিপরীতে। আমি পরম হতাশাবাদী। নতুন প্রজন্মকে ফুলিয়ে গদগদভাবে লিখতে পারি না বলে নিজের ওপরই রাগ হয়। স্বার্থপরের মতো আমি আমার নিজের প্রজন্ম ও তার পূর্ববর্তী প্রজন্ম দিয়ে গর্বিত। ..................দুই হাতে দুই কানে সেলফোনে কথা বলতে বলতে রাস্তা পার হতে গিয়ে যে প্রজন্মের যুবক-যুবতী গাড়ির ধাক্কা খায়, সেই প্রজন্মকে নিয়ে রঙিন স্বপ্ন দেখা আমার মতো ফোনহীন ও প্রেমহীন মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়। আমাদের প্রজন্মের মানুষেরও হূদয় ছিল। তারাও প্রেম করেছে। ভালোবাসার ইতিবাচক সাড়া পেলেও প্রেয়সীকে ফুল দিয়েছে, প্রত্যাখ্যাত হলেও একটি গোলাপ ও একটি চিরকুট দিয়ে শরিফ মিয়ার দোকানের পাশের বাগানে ঝিম মেরে বসে থেকেছে। অথবা লাইব্রেরিতে গিয়ে যাযাবরের দৃষ্টিপাত সেলফ থেকে নিয়ে পাতা উল্টে বারবার আবৃত্তি করেছে: ‘মিনি সাহেব, আমি ইডিয়টই বটে, আমি উপহাসকে মনে করি প্রেম, খেলাকে ভেবেছি সত্য।... অথবা যেদিন বজ্রপাতের মতো শুনেছে, ‘তুমি আর আমার সাথে মেলামেশা করো না, আব্বা-আম্মা পছন্দ করেন না, ছোট চাচাও খুব রাগী। আসলে মেয়েটি নিজেই ওকে বাতিল করেছে। এবং বিয়েও ঠিক হয়েছে নীলফামারীর সড়ক ও জনপথ বিভাগের এক সুদর্শন সাবডিভিশনাল ইঞ্জিনিয়ারের সঙ্গে। সেকালে তারা এ ধরনের বজ্রাঘাতে আহত হয়ে সোজা চলে যেত গুলিস্তান বা নিশাত সিনেমা হলে। এক সপ্তাহে এগারবার দেখেছে দ্বীপ জ্বেলে যাই, মেঘে ঢাকা তারা অথবা হারানো সুর।
যে প্রজন্ম সহপাঠীকে প্রেম নিবেদন ব্যর্থ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তার মুখে এসিড ছুড়ে দেয়, সে প্রজন্মের ভবিষ্যত্ নিয়ে তাদের স্নেহপ্রবণ শিক্ষকেরা আশাবাদী হতে পারেন, কিন্তু আমার মতো চিরকালের ছাত্র পারে না। যে প্রজন্ম পরীক্ষার তারিখ পছন্দমতো পেছানোর জন্য শিক্ষকদের গায়ে হাত তোলে, সে প্রজন্ম নিয়ে ‘ভীষণ আশাবাদী’ কীভাবে হই? ভর্তি ফি কমানোর জন্য টিভি ক্যামেরার সামনে উপাচার্যের মুখের কাছে জুতা নাচায় যে প্রজন্মের মানবসন্তান সে প্রজন্মকে প্রশংসা করি কীভাবে?
কোনো মিলনায়তনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে, বিদ্যুৎ চলে যাওয়া মাত্র ঝলসে উঠল প্রজন্মের পুরুষত্ব্ব। সহপাঠী বা পাড়ার মেয়েদের টান দিয়ে কামিজ ছিঁড়ে হায়েনার মতো গায়ে হাত দেয় যে প্রজন্ম, সে প্রজন্মের ২০২১ সালে সোনার বাংলা গড়ার সময় কোথায়? সেই প্রজন্ম নিয়ে প্রাচীনকালের সুফিদের মতো এত ‘স্বপ্ন’ দেখা কেন? যে প্রজন্ম সিট দখল করতে গিয়ে সহপাঠীর মাথা ফাটায় বা হাড্ডি গুঁড়া করে, টেন্ডারের বাক্স মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে নেতার বাড়িতে চলে যায়, ভর্তি-বাণিজ্যে কোটিপতি হয়, সে প্রজন্ম নিয়ে কি স্বপ্ন দেখা সম্ভব?
>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>

যারা পুরো লেখাটা পড়তে চান......

Click This Link

দুর্ভাগ্যবশত আমি নিজেও আজকের নতুন প্রজন্মের একজন। অনেক ব্যাপারেই নিয়ত হতাশা গ্রাস করে যায় আমাকে........অবশ্যই যারা এমনটা করছেন তারা আমাদের প্রজন্মের ক্ষুদ্র অংশই.........কিন্তু এরপরই হতাশাটা বেরিয়ে আসে সৈয়দ আবুল মকসুদের মতোন করেই, "আমি জানি, প্রজন্মের সবাই এসিড ছোড়ে না, নেশাও করে না, মেয়েদের উত্ত্যক্তও করে না, পাড়ার দোকানে চা-মিষ্টি খেয়ে পয়সা না দিয়ে চলে যায় না, টেন্ডারবাজিও করে না। ওসব শতকরা পাঁচজন করতে পারে। কিন্তু কষ্টটা ওখানে যে, দলবদ্ধ প্রতিরোধ নেই কেন।"

আসলেই তো, কোন সংঘবদ্ধ প্রতিরোধ কি গড়ে উঠছে আদৌ?? আমরা কি পেরেছি ঘৃণার আগুনটাকে এই অপশক্তির উপরে কার্যকরভাবে প্রয়োগ করতে??? নাকি উল্টো আমরাই অভিযোজিত হয়ে আজকে ক্রমেই অধঃপাতের দিকে এগিয়ে চলেছি?????]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/SUBID/29133986 http://www.somewhereinblog.net/blog/SUBID/29133986 2010-04-13 12:14:33
টিক্কা খানের মৃত্যুদিনে কিছু থুথু.......
আমরা জানি সে কুখ্যাত ছিল কসাই হিসেবে........তার এই কুখ্যাতির জোরেই পাকিরা তাকে পাঠিয়েছিল তৎকালিন পূর্ব পাকিস্তানে.......এখানেও সে তার পূর্ববর্তী দুর্নাম ধরে রাখে........এবং অপারেশন সার্চলাইটের 'সফলতা'র পুরস্কার হিসেবে '৭১-সালেই মুলতানে পোষ্টিং পায় আর ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধবাধানোর কাজ করে........

যদিও আমাদের মুক্তিযুদ্ধে পাকিরা নাকানিচুবানি খেয়ে প্রকাশ্যে আত্মসমর্পন করতে বাধ্য হয় এবং নিয়াজিসহ অন্যরা কিছুটা হেস্তনেস্ত হয় ভারত থেকে পাকিস্তানে ফিরে, সেখানে বিস্ময়করভাবে টিক্কা খান সেনপ্রধান নিযুক্ত হয় এবং অবসর নিয়ে ভুট্টোর প্রতিরক্ষামন্ত্রী হয়!!!!

পটপরিবর্তনের ফলে জে. জিয়াউল হক এলে তাকে কিছুদিন পস্তানো লাগে.......যদিও বেনজির ভুট্টো ক্ষমতায় এসে তাকে পাঞ্জাবে গভর্নর বানায়, যদিও বেশিদিন থাকতে পারেনাই বেনজির নিজেই বরখাস্ত হয়ে যাওয়ায়........

টিক্কা মরে ২০০২-এর আজকের দিনটায়.......তার মরনের পরে বেনজির বাণী দেয়, [He] rose to the highest offices of this country due to his hard work and respect for the rule of law............

rule of law????? ওরে পাকিরে.......এইজন্যই তো তোদের দেশের আজকে এই অবস্থা........]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/SUBID/29124813 http://www.somewhereinblog.net/blog/SUBID/29124813 2010-03-28 13:16:04
কিশোর বেলার কিছু ভয়াবহ অভিজ্ঞতার বয়ান.......অল্পের জন্য বেঁচে যাওয়ার স্মৃতি......(দুর্বলচিত্ত কারো না পড়াই ভালো) হাসান মাহবুব -এর গত কদিনের চাপাচাপিতে পড়ে অবশেষে ভাবলাম এটা নিয়ে লিখি......

পোষ্টটা ওকেই উৎসর্গ করলাম.......

এক.

একসময় ভি.সি.আর./ভি.সি.পি.-র যুগে ক্যাসেট ভাড়া এনে সিনেমা দেখার খুব চল ছিল.......তো ক্যাডেট কলেজের ছুটিতে বাসায় আসার কদিন পরেই মুক্তি পেল শাহরুখ-মাধুরীর 'কয়লা' ছবিটি.......আমার ছোটমামার বন্ধুর যে দোকান থেকে সাধারনত ক্যাসেট আনতাম (১টা ১০টাকা, ২টা ১৫ টাকা আর ৩টা আনলে ২০টাকা.......আমি অবশ্য ২টাকা/৫টাকা দিতাম সকালের 'বউনি'-হিসাবে, উপরি আইসক্রিম/চকলেট খেয়ে আসতাম, বাকি টাকা মামাই বোধহয় দিয়ে দিত), তাদের কাছে জেনে নিলাম কবে থেকে ভালো প্রিন্টের ছবিটা পাওয়া যাবে......

তো সেদিন সকালেই গিয়ে হাজির হলাম.......একেবারেই নতুন ছবি, তার উপর দিনের প্রথম 'কাস্টমার', তাই ৫টাকা দিয়েই নিলাম ক্যাসেটটা......নিরালা ব্রিজের পরে দোতলায় ছিল দোকানটা......কেন যেন ছোট বিল্ডিংটার সিঁড়িকোঠা ছিল দুটি......সামনে আর পিছনে.......আমি সামনেরটা দিয়ে উঠে তড়িঘড়ি করে নামলাম পিছনেরটা দিয়ে, দ্রুত বাসায় গিয়ে দেখতে বসবো ছবিটা......

কিন্তু নেমে আসার সময়েই হঠাৎ দেখি সব দোকানের শাটারগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে........অবস্থা বেগতিক দেখে নিচের তলায় এক দোকানে ঢুকে পড়লাম......বেশ কিছু সময় পরে আবার যখন স্বাভাবিক হয়ে এল চারপাশ, শাটারগুলো তুলে দেয়া হলো, তখন বের হয়ে শুনলাম......আমি যেখা থেকে ক্যাসেটটা কিনলাম, সেই ভিডিওর দোকানে এসে ঐ মামার পাড়ার প্রতিপক্ষের গ্রুপ এসে তাকে কুপিয়ে গেছে......(নামটা চেপে যাচ্ছি) দেখলাম রক্তাক্ত তাকে ধরাধরি করে হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছে অন্যরা......

মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মামলা......আমাকে ঐ দোকানে পেলে অথবা সামনের সিঁড়ি দিয়ে নামলে ওদের সামনে পড়লে কি অবস্থা হতো, তা আর ভাবতে চাইনা.......

বাসায় ফিরে ঐ ছুটিতে আমার আর ছবিটা দেখা হয়নি......

দুই.

১৯৯৩ সাল। শহীদ কোচিং সেন্টারে ক্যাডেট কলেজে ভর্তির ক্লাস করি......একদিন ১১টার দিকে বের হয়েছি পাশের বেকারিটায় কিছু খেয়ে নেয়ার জন্য......কেক আর ফানটা নিয়ে বড় একটা গাছের গুঁড়িতে বসলাম আমরা ৩জন.......হঠাৎ সেই একই অবস্থা.......চারপাশের বাসাগুলোর দরজা-জানালা, দোকানগুলোর ঝাঁপ/শাটার সব বন্ধ হয়ে গেল......আমরা ৩জন মুখ চাওয়া-চাউয়ি করলাম, কিন্তু ততক্ষণে কোথাও আর ঢোকার জো নেই......যখন ভাবলাম কোচিংক্লাসে ফিরে যাই, তখন হই হই রব তুলে দেখি এক যুবককে তাড়া করছে চাপাতি হাতে আর ৩/৪জন.......আমরা নিঃশ্বাস বন্ধ করে লুকিয়ে আছি গাছের পেছনে.......মোড়টা ঘুরতে গিয়েই ভাঙ্গা রাস্তায় তাল হারিয়ে পড়ে গেল ছেলেটা......তারপর কোপ......কিন্তু যে কোন কারণেই হোক, ওরা চলে গেল ওকে মেরে না ফেলেই.......আরো আশ্চর্য হলাম, যখন দেখলাম কোপের আঘাতে নেমে আসা বাহুটা অন্যহাত দিয়ে ধরে সে আর্তচিৎকার করে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে সামনে এগিয়ে চললো.......

তিন.

এটা আমার ছোট ভাইয়ের দেখা ঘটনা......হঠাৎ আমাদের বাসার গেটে একের পর এক ধাক্কা......আমার ভাইয়েরই আসার কথা সেসময়.......আমি, আম্মা দৌড়ে গেটে খুলতেই ৫ম শ্রেনী পড়ুয়া আমার ভাইটা আম্মার বুকে ঝাঁপিয়ে পড়লো......বুঝলাম ও কোন কিছু নিয়ে প্রচন্ড শক্ড........পরে যা শুনলাম তা আমি দুঃস্বপ্নেও কল্পনা করতে পারিনা.......

ওরা ক্লাস শেষে বের হওয়ার সময়েই হৈচৈ শুনেছিল......ছোট গেট দিয়ে বের হয়ে মাথা উচুঁ করে দেখে তাড়া খাওয়া এক যুবকের মাথা লক্ষ্য করে ছুঁড়ে দেয়া চাপাতি বা এরকম কিছু একদম গলায় আঘাত করে মাথাটা প্রায় আলাদা করে ফেললো.......হতভাগাটা দৌড়ের উপর ছিল তাই হয়তো কিছু সময় মাথাটা ছাড়াই এগিয়ে গিয়েছিল......পরে হুমড়ি খেয়ে পড়ে যায়.........

উফ! আমি জানিনা আমার ছোট্ট ভাইটা কিভাবে এটা সহ্য করেছিল.......আল্লাহর কাছে হাজার শুকরিয়া পরবর্তি সময়ে ওর উপর এটার কোন প্রভাব পড়েনি..........

>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>

নাহ.....আর লিখতে ইচ্ছা করছেনা.....ভালো থাকুন সবাই]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/SUBID/29115431 http://www.somewhereinblog.net/blog/SUBID/29115431 2010-03-13 12:12:12
আমার একমাত্র 'ভ্যালেন্টাইন'স ডে'....সন ২০০৬
উফ!! এতো দেখি মহা মুশকিল, জানি তেমন কোন কাজের কাজ নাই, শুধু শুধু যাওয়া হবে........কিন্তু তা তো আর বলা যায়না......তার উপর প্রথম চাকরি......তাই বললাম, স্যার ভ্যালেন্টাইন'স ডে তে ঢাকায় থাকা দরকার.......

তখনই চরম শুদ্ধভাষী বসের মুখে শুনলাম অমোঘ এক বাণী.......তোমার বউ যেদিন তোমার চাকরিকে তার সতিন মনে করবে, বুঝতে পারবে তুমি সফল!!! যেহেতু এখনো বউ হয়নাই, সো আগে থেকেই প্র্যাকটিসটা করিয়ে রাখার গুরুত্ত্ব কিছুক্ষন বুঝিয়ে তবেই ক্ষান্ত দিলেন উনি.......

যাহোক ফিরতে ফিরতে যথারীতি সন্ধ্যা.....সায়েদাবাদে নেমে ট্রান্স সিলভায় উঠলাম মিরপুর-১ যাব বলে.......প্রচন্ড ভীড় ঠেলে ৩২ নম্বরের স্টপেজ থেকে এক মেয়ে উঠলো হাতে বাহারি ভ্যানিটি ব্যাগের সাথে বিদায় দিতে আসা তরুনের নানা উপহার, দুইহাত একেবারেই ভর্তি......

পড়বি পড় মালির ঘাড়েই
সে ছিল 'কোনার সিটেই'

তো পপাৎধরনিতল.......আইসক্রিমটা পড়লো মুখ থুবড়ে, আর দুইটা প্যাকেট.....পেষ্ট্রিটাইপ কিছু আছে তাতে আবার কার্ড-টার্ডের সাথে........তো আমি যথারীতি শশব্যস্ত হয়ে উঠলাম.....বেচারি বসলো আমার আসনটাতেই......তাকে বললাম ব্যস্ত না হতে, তুলে দিলাম ওগুলো......

যাক, থ্যাংকসটা দিতেই জিজ্ঞেস করলাম এগুলো ভ্যালেন্টাইন গিফট কিনা......আলতো মাথা নাড়তেই ভাবলাম কিছু প্যাচাল পাড়া যাক এর সাথে এই বোরিং যাত্রায়.....মন খারাপ ভাব নিয়ে জানালাম এমন একটা দিনে ডার্লিংকে ছেড়ে সেই 'সুদূর' ব্রাহ্মণবাড়িয়া যাওয়ার কথা......সেই থেকে আমার 'উনি'র মোবাইল বন্ধ করে রাখার কথা কথাটাও বললাম দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে......হায়রে একটা আইসক্রিমও খাওয়া হলোনা আজকের দিনটায়, গলায় আমার আফসোস বেয়ে বেয়ে পড়ে যেন.......মেয়েটা কো-অপারেট করলো বেশ......মজা করেই বললো, হাতে তো আমার আইসক্রিমটা আছেই আপনার......আপনি খেলে খুশিই হবো.......

আরে এইতো চাচ্ছিলাম.......আইসক্রিমটা খেয়ে ফেললাম ধন্যবাদ জানিয়ে......সে নেমে গেল শ্যামলিতেই........যাওয়ার আগে বললো......আশা করি কালকেই 'সে' আর রাগ করে থাকবে না.......তখন কিন্তু এই আইসক্রিম তাকেও একটা খাওয়াবেন.......

আহারে.......আমার অমন কেউ যদি থাকতো!!!!!!!!!!]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/SUBID/29097459 http://www.somewhereinblog.net/blog/SUBID/29097459 2010-02-14 12:01:53
আমি অন্তত কাঁদতে এসেছি আজ........

৭৫-এর ১৫আগষ্ট নাকি কেউ কাঁদেনি, কাঁদেনি কেউ
তোরা নাকি ছিলি সব একেকজন সূর্যসন্তান
৩২-নম্বর থেকে জাহাঙ্গীর গেট যেতে লেগেছিল
কত কত ঘন্টা.......অথচ আরাধ্য কাজ শেষ করেছিলি
১টা ঘন্টারও কম সময়ে......
পুষ্পবৃষ্টি নেমেছিল নাকি তোদের উপর.......
'দেশবাসী' নাকি স্বস্তির শ্বাসটুকু ফেলেছিল বড্ড আয়েশে......

আর আজ তোদের মৃত্যুতেও কী মিলই না
দেখছি সেই দিনের একেকটা মৃত্যুর সাথে
কেউ আছো এই দেশটা জুড়ে.....কাঁদছো নাকি তোমরা কেউ, কাঁদছো???
পড়েছ কি ইন্নলিল্লাহ ইসলামের এতগুলো রক্ষকের এমন বিদায়ে???

তোমরা জানিনা কাঁদছো কিনা......তবে আজ কাঁদছি আমি......
কেউ শুনছে না সেই কান্নার আওয়াজ......
কিন্তু আমি জানি আমার কান্নাটা বাজছে গোটা অন্তর জুড়ে
হাউমাউ করে কাঁদছি আমি
শুধু রাসেলের জন্য নয়, অন্তঃস্বত্তা মেয়েগুলোর জন্য নয়, বয়স্ক নারীদের জন্য নয়, আপাত 'বখাটে' তরুনদের জন্যও শুধু নয়........
চিরদিনের উপেক্ষিত ঐবাসাগুলোর কাজের মেয়েগুলোর জন্য নয়.......
ছুটে আসা কর্নেলের জন্য নয়.......ঘাতকের গোলায় সেদিন উড়ে যাওয়া মোহাম্মদপুরের এক বাসার কতগুলো প্রাণের জন্য নয়.......
আমার এই কান্নায় সবার সাথে মিশে আছে
তখনকার তোমরা যাকে বলো শোষক শাসক, স্বৈরাচারী একনায়ক
সেই শেখ মুজিবের জন্যও.......

আমি মন থেকে কাঁদছি তোমার জন্য বঙ্গবন্ধু, আমি সত্যিই কাঁদছি.....
আমি কাঁদছি তোমার ঐ বিশাল মমতাভরা বুকটার জন্য
আমি কাঁদছি তোমার ঐ শাহাদত আঙ্গুলের জন্য
আমি কাঁদছি তোমার ঐ গমগমে কন্ঠের জন্য
আমি কাঁদছি তোমার ঐ এনে দেয়া পতাকার জন্য

বঙ্গবন্ধু, আমি তোমার কাছে ক্ষমা চাওয়ার সাহস দেখাতে চাইনা
শুধু বলি তুমি আমার কান্নাটুকুকে আদর করে তোমার বুকে টেনে নাও
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/SUBID/29087187 http://www.somewhereinblog.net/blog/SUBID/29087187 2010-01-28 11:43:34
কবিতাঃ শীতের আমেজে (দিবা)স্বপ্নের ছায়ায় গোসলটা দুই ডুবে সেরে
চাচার চায়ের দোকানের আড্ডা
উফ! কল্পনায় হিমালয়ের পাদদেশে
বসে চায়ের ভাড়ের উষ্ণতা খুঁজে পাই।

ঘরসংসার ছেড়ে যাওয়া 'ভ্যাগাবন্ড' সবার
কাহিনী পড়ে বড্ড হিংসা হয়
কী এমন হতো ক্ষতি
ছেড়েছুঁড়ে সব, চলে যেতাম নিরুদ্দেশ
এই আমি কোনদিন যেদিকে দু'চোখ যায়।

মৌজমাস্তির এই সংসারে বাপের টাকায় ভন্ডামি
করে করেই যদি পার হয়
জীবনের অর্ধেক.....সব জটিল হিসাব করেই
তারচেয়ে বেড়িয়ে পৃথিবীর পথে হররোজ
যদি খুঁজতাম পরশ পাথর ঐ ক্ষ্যাপার মতন......

জীবনের বৈচিত্র্য আর মজার সবতো বুঝি সেখানেই......

(২০০৪-এ লেখা কুয়েটে পড়ার সময় যখন পুকুরে গোসল করতাম বাথরুমের লবনাক্ত পানি এড়াতে আর ফেরার পথে চা-পান ছিল প্রাত্যহিক রুটিনের মতো)
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/SUBID/29084022 http://www.somewhereinblog.net/blog/SUBID/29084022 2010-01-23 10:47:37
ছবিটা দেখলে মনটা কেমন হুহু করে ওঠে.......


আর বর্তমানে তাঁরাঃ



(বাঁ থেকে) সর্বজনাব মজিবর আজকে টাঙ্গাইলে রিকশা চালান, মজিদ রাঙামাটিতে আনসারে আর খালেক ফয়'স লেকে কাজ করছেন.....

ক'দিন ধরেই ভাবছিলাম এটা পোষ্ট করার ককথা, জানিনা আগে কেউ দিয়েছেন কিনা........তবে, আমার কোন মন্তব্য করতে ইচ্ছা করছেনা......শুধু ছবিটা দেখলে মনটা হুহু করে ওঠে.........

সূত্রঃ Click This Link
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/SUBID/29065849 http://www.somewhereinblog.net/blog/SUBID/29065849 2009-12-26 12:41:50
এইসব ছোট ছোট ভালোলাগাগুলো.........
সেই বছর দুই আগে শেষ যেবার ট্রেন জার্নি করলাম, ঢাকা টু আখাউড়া, এক বন্ধুর বিয়েতে যাবার জন্য.......ঈদের পরপর, চাকরির ঠেলা সামলানোর জন্য তাড়াতাড়ি চলে এসেছিলাম ঈদের একদিন পরেই, তাই আমারই দায়িত্ব পরে যায় বিয়েতে attend করাটা, কুমিল্লা থেকে মিশুটা শুধু আসবে সোজা বিয়েবাড়ি.......

নাহ, কোন বিশাল লাইন-টাইন ছিলনা, জানালার ধারেই বসলাম.......ছাড়িয়ে যেতে লাগলাম ঐসময়ের আপাত ফাঁকা ঢাকা.......নরসিংদির কোন একটা গ্রাম চিরে ট্রেনটা যখন ছুটছিল, হঠাৎ গ্রাম্য কিশোরদের দেখলাম ক্রিকেট খেলতে.......যেকোন রকমই হোক, এই খেলাটার অতি আগ্রহী দর্শক এই আমি চেয়ে রইলাম........চিকনা এক পিচ্চির বল খেলতে গিয়ে অমনই আরেকটা পিচ্চি মিস-টাইমিংয়ের ফাঁদে পড়ে বলটা তুলে দিল আকাশে.......বেশ উঁচুতেই উঠে গেছে বলটা......আরেক পিচ্চি দেখি দৌড়াচ্ছে বলটাকে ধরতে.......এবং ও ক্যাচটা নিয়ে নিল!!!!!!!!!!! তখন বুঝলাম নিঃশ্বাসটা আমার অজান্তেই আটকে ছিল ঐ ক'টা মূহুর্তে........সমঝদার দর্শক বলে কথা, মাঠে/টিভিতে হলে যেমনটা করতাম আমি, এক্কেবারে জোরসে তালি দিয়ে উঠলাম.......

কিন্তু ঐ পর্যন্তই.......বার চার/পাঁচেক তালি দিয়েই বুঝলাম আমি যেন ট্রেনটার একমাত্র চিড়িয়া........সবাই উঠে উঠে দেখল আমাকে, আমিও জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়েই রইলাম........"দেখতে থাকেন ভাই আপনারা আমাকে, দেখতে থাকেন..........আমি এইরকম তালি দেয়ার সুযোগ পেলে তালি দিয়েই যাব"]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/SUBID/29058157 http://www.somewhereinblog.net/blog/SUBID/29058157 2009-12-13 17:34:30
কি বিশাল এই হুন্ডি বাজার!!!
under invoice/over invoice করে পণ্য আনা-নেয়া অতি প্রকাশ্য ঘটনা......সীমান্ত এলাকায় তো আছেই, সাথে পুরান ঢাকার আমদানি নির্ভর নবাবপুর, মতিঝিল, সদরঘাট-ই শুধু নয়, অত্যাধুনিক ঢাকার আরো অনেক জায়গায়ই প্রকাশ্যে চলছে এই হুন্ডি ব্যবসা.......আর এতে করে টাকা আসছে খুব কমই, বেশির ভাগই চলে যাচ্ছে বাইরে, বিশেষ করে পার্শ্ববর্তী কয়েকটা দেশে.......

শুধু পণ্য আমদানি/রপ্তানি করার ক্ষেত্রেই মূল্য পরিশোধ/কমিশন প্রাপ্তিই নয়, হালের ভারতীয় শিল্পীদের কনসার্টের টাকাও হুন্ডির মাধ্যমে লেনদেন হচ্ছে বলে শোনা যাচ্ছে.........

এর পেছনে ব্যবসায়িরা উঁচু আমদানি শুল্কের কথাই বলেন একবাক্যে......কিন্তু আমদানি শুল্ক কমিয়ে দিলেই কি বন্ধ হয়ে যাবে হুন্ডি??

নিশ্চিত করে বলা যায় তা হবেনা, কিন্তু হুন্ডির প্রয়োজনীয়তা অবশ্যই কমে আসবে এবং এর কিছু ভালো প্রভাব পড়বে বলে আশা করা যায়........যেমন, শুল্ক কমালে তা পরিশোধ করার আগ্রহ জন্মাবে ব্যবসায়িদের, প্রচুর প্রতিযোগিতাপূর্ণ বাজার হিসেবে দামেও হয়তো ইতিবাচক প্রভাব পড়বে.......কালোবাজারি/ফটকাবাজদের দৌরাত্ম্য কমবে ইত্যাদি.......উদাহরণ হিসেবে ধরি, যে ফলফলাদি থাইল্যান্ড/ভারত/নেপাল/ভুটান/চীন থেকে আসছে আমাদের বাজারে, তার দাম ঐসব দেশে কত আর আমাদের দেশে কত, এটা চিন্তা করলেই তো মাথা নষ্ট হবার জোগাড়.........

কিন্তু সরকার ঝুঁকি নিতে যাবে কি?? আমদানি নির্ভর আমাদের অর্থনীতিতে সরকারের রাজস্ব আয়ের বড় উৎসই এইসব কর.......ব্যাপক হারে তা কমিয়ে কি শেষে উল্টো বিপদ ডেকে আনবে নিজেদের???

এর উত্তর পেতে মাঠপর্যায়ে ব্যাপক গবেষণার প্রয়োজন.......কিন্তু আমাদের আরাম-কেদারায় বসে অভ্যস্ত আমলা নির্ভর প্রশাসন দিয়ে এই জরিপ চালিয়ে কোন ফল হবে কিনা, সেটা একটা বড় প্রশ্ন........অন্যদিকে রাজনৈতিক সরকার ব্যবস্থায় এইসব হুন্ডি নিয়ন্ত্রণ করেই হয়তো দলের হোমড়া-চোমড়ারা.......মাঠ পর্যায়ের অনেক পাতি নেতাদের আয় এবং এলাকায় প্রভাবের উৎসই এই অবৈধ লেনদেন.........

সমাধানের পথটা কোথায় তাহলে........আমাদের নিজেদের স্বার্থেই সেটা খুঁজে বের করা দরকার.......]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/SUBID/29055000 http://www.somewhereinblog.net/blog/SUBID/29055000 2009-12-07 17:34:44
বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার রায় সামনে রেখে কিছু কথা.......
সকালে ঘুম থেকে উঠেই নির্মলেন্দু গুণের 'স্বাধীনতা শব্দটি কি করে আমাদের হলো' কবিতার অসাধারণ লাইনটা মাথায় কড়া নেড়ে যাচ্ছে ক্রমাগত.........

কী বিপুল, কী বিশাল একজন ব্যক্তিত্ত্ব.......এমন একজন মানুষকে হত্যা করা যায় এমনই নিষ্ঠুরভাবে.......

আবার ভাবি শহীদ তাজউদ্দীনের সেই উক্তি, "(বাকশাল করে) আপনি নিজেকে সরানোর জন্য এক বুলেট ছাড়া আর কোন পথ রাখলেন না।"......কেন এত বৈপরিত্য দেখা দিল মাত্র সাড়ে তিন বছরেই???

স্বাধীনচেতা বাঙ্গালি নাকি কখনোই স্বাধীন ছিলনা......ছিলনা কোনদিন একটা রাষ্ট্রপরিচালনার অভিজ্ঞতা.......অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের ভাষ্যমতে, বাঙ্গালি অভিজ্ঞ বড়জোড় গ্রামের মোড়লগিরি করে, ছোটখাটো জমিদারগিরি করে আর অনেক পরে এসে ভিনদেশী প্রভুরূপী শাসকদের আমলাগিরি করে........

পুরো ফাঁকা কোষাগার, বিপুল ধ্বংসস্তুপ, সেইসাথে ইমম্যাচিউরড ('৭১-এর মেজররা '৭৫-এই মেজর জেনারেল!!), কিছু ক্ষেত্রে অদক্ষ্, স্বাধীনতার সাথে যে দায়িত্ববোধ আসে সে বিষয় সন্মন্ধে একেবারেই অজ্ঞ, নানান টাইপ ধান্দাবাজ (এরাই ক্ষতিটা বোধ হয় বেশী করেছে) আর 'কনফিউসিং' মানুষগুলোর হাতে শুরু হয়েছিল স্বাধীন দেশটার পথচলা........বোনাস হিসেবে ছিল আমাদের অসহিষ্ণু তরুণ সম্প্রদায়, লুকিয়ে ওৎ পেতে থাকা স্বাধীনতাবিরোধীগোষ্ঠি, স্নায়ুযুদ্ধের রথি-মহারথিরা, আমাদের 'বড়ভাই'-মানসিকতার প্রতিবেশী ভারত.......আরো কত কত উপাদান......

স্বাধীনতার পরের সরকারের এই ব্যর্থতার দায়ভার তাই শুধু একজন শেখ মুজিবের নয়, তা সম্মিলিতভাবে সকলের.........

আর সবচেয়ে বড় কথা হলো, পুরো পরিবারকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়ার পেছনে সরকারের ব্যর্থতাকে কি কারণ হিসেবে দেখানো আদৌ যৌক্তিক???

কাল মামলার চূড়ান্ত রায়, কিন্তু হায়!! এই রায়ের মধ্য দিয়ে আমাদের দায় মিটবে না.......কারণ এই বিচারটাও আসলে পলিটিকালি মোটিভেটেড......এখানে হবেনা ষড়যন্ত্রের উন্মোচন.......

তাহলে কি এর গুরুত্ত্ব??? আমার কাছে মনে হয়, গুরুত্ত্ব এখানেই যে, অন্তত আত্মস্বীকৃত খুনিদের শাস্তিটা হয়তো হবে.........

ইতিহাসের দায় হয়তো পূরণ হবেনা, কিন্তু যাদের হাত এতটুকু কাঁপেনি এমন নিষ্ঠুর একটা কাজ করতে গিয়ে, সেই অমানুষকুলের কয়েকজনের চূড়ান্ত শাস্তিটা হওয়ার সুযোগটাতো করে দিয়েছে এই বিচার-প্রক্রিয়া!!!!]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/SUBID/29045377 http://www.somewhereinblog.net/blog/SUBID/29045377 2009-11-18 11:22:19
শ্রদ্ধাঞ্জলীঃ ডেভিড শেফার্ডকে উপলক্ষ্য করে একটু স্মৃতিচারণ.......
বাসায় ঘটনা কিছুই জানালাম না.......নিশ্চিত বুয়েটে হচ্ছেনা.......ঢা.বি 'ক'-ইউনিট পরীক্ষার আগের দিন বুয়েটের ফল দিল, যথারীতি আমি নেই......তাও বাসায় চেপে গেলাম.......

পরদিন নভেম্বর ১০, ২০০০.......ঢা.বি.-র পরীক্ষা হলো খারাপ......দাগাবো কি, হতাশায় নুইয়ে গিয়েছিলাম একেবারে.......সময় শেষ হলে কলেজমেট সানাউল্লাহকে নিয়ে সোজা স্টেডিয়াম, বাংলাদেশের অভিষেক টেস্ট.........

(সানাউল্লাহ পড়বে সি.এস.ই-তে, ওর হয়েছিল ওয়েটিংয়ে........<img src=" style="border:0;" />)

যাহোক, স্টেডিয়ামে ঢুকে ফিল্ডিংরত ভারতের মোটামুটি সবাইকে দেখলাম......অসাধারণ ঢাকার দর্শক........কিন্তু সবাইকে ছাপিয়ে চোখ গেল ওভার বিরতিতে বাকনরের পাশে দাঁড়ানো ডেভিড শেফার্ডের দিকে........ইয়া লম্বা, কালো, দারুণ অ্যাথলেটিক বডির একজনের পাশে তুলনায় ছোট্ট, লাল টুকটুকে ফর্সা, এক্কেরে ভুঁড়িওয়ালা......দারুণ জুটি.......বলাই বাহুল্য, তখনকার সেরা আম্পায়ার জুটি........

সুমন আউট হলে পর বাসায় চলে এলাম......জানি অনেক হ্যাপা পোহাতে হবে সামনের দিনগুলোয়......

কিন্তু দারুণ খারাপ ঐসময়টার অব্যক্ত যণ্ত্রণা 'দু-দন্ডের' জন্য হলেও ভুলিয়ে দিয়েছিল দেশের অভিষেক টেস্টের সাক্ষী হবার স্মৃতি......বাড়তি পাওনা......দুই দারুণ আম্পায়ারের যুগলবন্দি........

জানি পরে একটা পর্যায়ে ভুল ডিসিশন বেড়ে যাওয়ায় অনেক সমালোচনা, বিতর্ক সইতে হয়েছে তাঁকে, কিন্তু নেলসেন নৃত্যের মানুষটার কথাকে আমি সত্যি বলেই মানি......"আমার প্রতিটি সিদ্ধান্তই ছিল সৎ সিদ্ধান্ত".......

নশ্বর পৃথিবী থেকে চির বিদায়, মিঃ শেফার্ড........আপনি ভালো থাকুন.......

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/SUBID/29033946 http://www.somewhereinblog.net/blog/SUBID/29033946 2009-10-29 12:41:14
....অবিন্যস্ত কথামালা.... আমি চারপাশে নিকষ আঁধারের মাঝে বসে আছি
একটা টিউব লাইট জ্বেলে।
আমার ঘর, সামান্য আসবাব, তাও পুরো হয়নি
আলোকিত। বাইরে তাকাই......রাস্তার ধারের বাতির আলো
চোখে লাগে আবছা আবছা। অনেক দূরের কয়েকটা বড় গাছ
দাঁড়িয়ে থাকে নিশ্চল, দোল খায়না সামান্যও; হঠাৎ দেখে
কেমন যেন ভূতুড়ে মনে হয়। আগামীকালটাকে সুন্দর করে পেতে
আমি এখন রাতের পর রাত জাগি, তবুও বুঝি তৃপ্তি নেই.......
সামনে ছড়ানো বইখাতা-মনে অফুরন্ত উদ্যম-এরই মাঝে কেমন করে যেন
অন্যমনস্ক হয়ে পড়ি। সাধ জাগে ঘুরে আসার......বিছানা টানে আমায়
যাব বলেও উঠে আসি, অজানা এক ভয় পাই যেন........

হঠাৎ ইচ্ছা জাগে কবিতা লিখি......জানিনা পারি কিনা
তবু 'খসড়া' হেডিং দেয়া খাতার পাতা জুড়ে গাঁথি সব অগোছাল
পংক্তিমালা.....নির্জন, নিস্তব্ধ এক রাত সব ছাপিয়ে আমার জন্য
আনে এক কবিতা......ভাবি, সত্যিই আমি 'কবি' কিনা!

(২০০০ সালে এইচ.এস.সি.-র অংক পরীক্ষার আগের রাতে লেখা এটা)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/SUBID/29026350 http://www.somewhereinblog.net/blog/SUBID/29026350 2009-10-15 19:28:11
প্রলাপ....... দহনের এত জ্বালা, একদম বিরতি ছাড়া
কেবলই পুড়ে খাক, তবুও আছি কেমন নির্বিকার
ঝুলানো হাসিটা হয়তো ভন্ডের; এত হাসি কোথায় পাও?
পুরোটা জুড়ে তো ভর্তি কয়লা আর তার ছাইভস্ম......
নাকি হীরা আবার?
হীরাই হয়তো......তাই কি এমন দীর্ঘ আগুন?
পুড়িয়ে পুড়িয়ে কয়লা কালো কালো আরো কালো
অসহ্য হয়ে এই কালোই হঠাৎ জ্বলজ্বল করে উঠবে!!
তখন কি ঘা-য়ের খ্যাতি হবে, তাতে কি কারো ঈর্ষাও হবে
তারপর একসময় বিড়ম্বনাও দেখা দেবে???
হাসিটা নিশ্চয়ই বড্ড কাজে দেবে তখন
একজন ভন্ডের হাসি......]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/SUBID/29018258 http://www.somewhereinblog.net/blog/SUBID/29018258 2009-09-30 20:44:23
'দ্য ফলিং ম্যান' ও অন্যান্য তবুও সে কী এক আশ্চর্য তাড়নায়
সব্বাই হয়তো সে মূহুর্তে বের করে এনেছিল
মুঠোফোন ... হায়! কতগুলো প্রাণকে ছোঁয়া যাবে
এই অভিশপ্ত সময়ে, কতটা মায়া জড়িয়ে
ইথারে ছড়িয়ে কন্ঠস্বর বা যাণ্ত্রিক বার্তায়
বলেছিল ওরা "ভালবাসি, প্রিয়।"

যখন অন্ধ আক্রোশে বিমান দু'টো
আজরাইল হয়ে উঠেছিল অকস্মাৎ
দৈনন্দিন নানামুখী চাপের সমাধানে
ত্রস্ত সবাই কেমন করে উঠেছিল
ক্রমে এগিয়ে আসা মরণকে চাক্ষুষ করার
অনুভূতি সামলে উঠে তারা
নিতে চেয়েছিল চির বিদায়

তাদের তো ফাঁসির আসামীর মতোন
ছিলনা কোন মৃত্যু-প্রস্তুতির পর্ব
অমোঘ সমাপ্তির দিকে অসহায় এগিয়ে
যাওয়ার প্রতিটি ক্ষণ-অনুক্ষণের
আশ্চর্য সময়ে 'দ্য ফ্লাইং ম্যান' হয়ে
ঝাঁপিয়ে পড়েছিল শত তলার উপর থেকে!

সেও তো জানত নিয়তি
তবুও আশা কি বেঁচে থাকে অনিঃশ্বেস
তাই কি বাঁচার জন্য ঝাঁপ দেয়া যায়
নিশ্চিত মৃত্যুর দিকে? আর বলা যায়, "ভালবাসি"!]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/SUBID/29010502 http://www.somewhereinblog.net/blog/SUBID/29010502 2009-09-14 18:31:19
চেপে যাওয়া কান্নাগুলো....... "এই রিকশা, মেইন রোডে যাবে?"
হ্যাঁ জানাতেই বললাম, তা ভাড়া কত নেবে?

আগে কিন্তু করতাম না রিকশার কোন দামদর
এখন তবু করতেই হয়
সময়ের ব্যাবধানে ভাড়া কিছু বেড়েছে নিশ্চয়!

রিকশায় উঠে বসি, দেখি চিরচেনা সে শহর
সারাটা দিন থেকে আজ
চলে যাব শেষ হলে দেখা-সাক্ষাৎ আর সেরে কিছু কাজ.......

কাটিয়েছি বছর অনেক, অগুনতি দিন ঘন্টা প্রহর
পেয়ে কাল রাতে নানার মৃত্যু-সংবাদ
এসেছি হুট করে, ফেলে কুয়েটের পরীক্ষা বরবাদ........

যাচ্ছি নানাবাড়ি, অথচ সেখানে নানাই নেই আর
গিয়েই নানুকে ধরব জড়িয়ে
সবাই নিশ্চিত উঠবে কেঁদে বুকে আমায় টেনে নিয়ে.......

দাদু যেমন ধরে খুব কেঁদেছিলেন সেবার
দাদার কথা বলে
হায়, তিনিও গেলেন চলে এক জুনের সকালে.......

আজ বা কাল, চলে যেতেই হয় যে সবার
মনটা শুধু বাঁধ মানেনা
বুকে পাথর বেঁধেও তাই আর লাভ হয়না......

আল্লাহ্ তাঁদের ভালো রাখুন, এই-ই দোয়া আমার
আমরা যেন স্মৃতিটা ধরে
থাকি তাঁদের পূন্য পথে সারাটা জীবন ভরে.......

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/SUBID/29000112 http://www.somewhereinblog.net/blog/SUBID/29000112 2009-08-26 21:05:27
যেখানে স্বাধীন বাংলাদেশের লজ্জা: পাহাড়ের আদিবাসীদের মর্মন্তুদ জীবন........
if we wanted, when we wanted....they had just to fall on our legs...

নিশ্চয়ই বলে দিতে হবেনা উনি আদিবাসী নারীদের কথা বলছিলেন......এখনো কানে বাজে কথাগুলো....

এত্ত ঘৃণা হয়েছিল তার উপর কিন্তু কিছুই বলার উপায় ছিলনা.....আর তার অভিব্যক্তিটা ছিল এমন যে তারা বিশাল কিছু একটা, প্রায় প্রভু টাইপ, ছিলেন ঐ অসহায় মানুষগুলোর.......

হ্যাঁ, আমাদের অনেক সৈনিক আহত-নিহত হয়েছেন আদিবাসী সন্ত্রাসীদের হাতে.....কিন্তু মনে রাখতে হবে ওদেরকে সমতলের শাসকগোষ্ঠীই সেই পর্যায়ে নামতে বাধ্য করেছে.......

যারা সবসময় স্বচ্ছন্দ্য ছিল নিজেদের ভূমিতে, তাদেরকে কাপ্তাই লেক করে একদফা উচ্ছেদ করা হয়েছে......দেশ স্বাধীনের পর স্বয়ং বঙ্গবন্ধু তাদের বলেছেন 'বাঙ্গালী' হয়ে যেতে........সমতল থেকে উচ্ছেদ করে সেটেলার বসিয়েছেন পরবর্তী সামরিক/ছদ্ম বেসামরিক সরকারগুলো......

অথচ প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকে আদিবাসীরা জেনে এসেছে, এই ভূমি তাদের, কিন্তু দলিল বলে কিছু লাগবে তাদের জমির মালিকানা প্রমাণ করতে, এটা তারা শুনেছে মাত্র কয়েক দশক আগে......

আমাদের রাষ্ট্রীয় নীতি হওয়া উচিত আদিবাসীদের আস্থায় নেয়া......ভয়-ভীতি বা জুলুম করে তাদের দাবিয়ে রাখা নয়......হানাদার তাড়িয়ে স্বাধীনতা অর্জন করা দেশের সরকার যদি তার ভূ-খন্ডের প্রান্তিক জন গোষ্ঠির সাথে হানাদারের মতই আচরণ করে, তবে এর চেয়ে দু:খজনক আর কি হতে পারে!!!!



]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/SUBID/28990715 http://www.somewhereinblog.net/blog/SUBID/28990715 2009-08-08 17:18:59
......মনে কি পড়ে: জীবনে প্রথম সিগারেট খাওয়ার কথা ...... " style="border:0;" />...যার অর্থ হলো এইটের ফাইনাল পরীক্ষা শুরু হয়নাই......

যা হোক রংপুর ক্যাডেট কলেজে আমার ৪বছরের (নাইন-টুয়েলভ) রুমমেট বাশাদের সাথে ইতিমধ্যে পরিচয় করিয়ে দিয়েছি.........এবং এইখানেও ওর অনিবার্য উপস্থিতি........

Click This Link

বাশাদই প্রথম আমাদের হাউসে প্রথম সিগারেট ধরে আমাদের মধ্যে......পরপরই নাভেদ.......তো ওরা রেস্ট টাইমে টয়লেটের ভিতর লুকিয়ে সিগারেট খেত.......(অফটপিক: প্রথম গোল্ডলিফে টান দিয়ে এই বাশাদই 'ফিট' হয়ে গেছিল.......আর এসব খেয়া ধরা পড়লে সোজা কলেজ থেকে আউট)

যা হোক আমি নিতান্তই প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে টয়লেটে গিয়ে ওদের দুইটাকে পেলাম......কিছুক্ষণ পাহাড়াদারের কাজও করলাম.......হঠাৎই বাশাদটা ওর 'ইউনিক' স্টইলে আমাকে বললো, "কিরে, (আমার টিজ নাম)...২টান দিবি???"........<img src=" style="border:0;" />

আজকে চিন্তা করলে মজা লাগে খুব, ঐসময় আমার তৎক্ষণাৎ মনে পড়েছিল গুরুজনদের বাণী......অনেকেই বন্ধু হবে, খারাপ অনেক কিছুই করতে উৎসাহ দিবে, কিন্তু খবরদার মনে রাখবা ওরাই তোমারে নষ্ট করবে, ওরা আসলে বন্ধু না...... ইত্যাদি....... আমি ওখানে দাঁড়িয়েই ভাবলাম, তাহলে এই বাশাদ আর নাভেদই হতে যাচ্ছে আমার ভবিষ্যত ধ্বংসকারী........ <img src=(" style="border:0;" />

কিন্তু এত ভেবে কী হবে, নাভেদ সিগারেটের ..'__কি'টা গুঁজে দিল হাতে....."আরে ২টা সুখটান দিয়া দাও"......সাথে এই অভয়বাণী......

খুব হালকা ২টা টান দিলাম.......একটু বোধহয় কাশিও........কিন্তু টিপিকাল বাশাদ তখনই প্রায় ছিনিয়ে নিল গোল্ডলিফটা......থাইক, বিড়ি টাইন্যা আর কাম নাই, যা রুমে যাইয়া কায়সার (আরেক রুমমেট কায়সারের টিজ নাম)-রের লগে 'গাপচি' পাড়গা......এহ, শালার (আবারও আমার টিজ নাম)....ভিজায়ে ফেলছে....." <img src=" style="border:0;" />

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/SUBID/28988666 http://www.somewhereinblog.net/blog/SUBID/28988666 2009-08-04 16:38:48