somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আতাউর রহমান মিলাদের কবিতার একটা আত্ম-বিশ্লেষণ

২৪ শে অক্টোবর, ২০০৯ রাত ৩:০৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কার্যকারণে কিংবা অকার্যে অনেক মানুষ উত্তেজিত হয়, অট্টহাসি দেয়, লাফালাফি করে। আবার অনেক আছেন যারা প্রচণ্ড উত্তেজনার সময়েও ধীমান হয়ে বিষয়কে পর্যবেক্ষন করেন। পরিবেশ যখন অট্টহাসিতে মেতে উঠে তখন তিনি মুচকি হাসিতে প্রচণ্ড উত্তেজনাকে প্রকাশ করেন। আত্মপ্রকাশে টানাটানি করলে এগিয়ে আসেন, তবে খুব লাজুক ভঙ্গিতে এবং শৈল্পিকভাবে। আমরা এই শ্রেণীকে এক বাক্যে ভদ্রলোক বলি। আমাদের অগ্রজ বন্ধু আতাউর রহমান মিলাদ এই রকমের একজন ভদ্রলোক। তাঁর সাথে আমার চলাফেরা খুব একটা না হলেও যে ক’দিন দেখা সাক্ষাৎ হয়েছে তাতেই আত্মার একটা গভীর সম্পর্ক অনুভব করেছি। তাঁর সাথে আমার মূল সম্পর্ক লেখালেখির মাধ্যমে। তিনি কবিতা এবং ছোটগল্প লিখে ইতোমধ্যে পাঠক মহলে সমাদৃত হয়েছেন। মিলাদ ভাইয়ের কবিতা আমার খুব একটা পড়া না হলেও বেশ কিছু ছোটগল্প পড়েছি। শাহনাজ সুলতানা তার সামু ব্লগে ১৯ শে অক্টোবর ০৯ আতাউর রহমান মিলাদের ১) দাসত্ব এবং পশুত্ব, ২) ঈশ্বর ও ইদুঁর, ৩) আর্শ্চয শ্লোক, ৪) বিয়োগ ৫) সাংসারকি কৌশল এই পাঁচটি কবিতা প্রকাশ করেছেন। শাহনাজ সুলতানা কে ধন্যবাদ জানাই। কবিতার পাঠ প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করা অনেকটা কবিতার মতোই আবেগি হয়ে থাকে। আমার মতে যে কবিতা আত্মা নাড়ায় না এর প্রতিক্রিয়া জানানো অনেকটা কষ্টসাধ্য ব্যাপার। ২১ অক্টোবর ০৯ গভীর রাতে যখন ইংল্যান্ডের শহর নর্থাম্পটন থেকে গভীর রাতে ফিরে ক্লান্তির ফাঁকে আলতোভাবে বিভিন্ন ব্লগ ঘুরে শাহনাজ সুলতানার ব্লগে এসে মিলাদ ভাইয়ের কবিতাগুলোতে চোখ রাখলে আমি নড়ে উঠি। ঘুম এবং ক্লান্তি দু’টাই একটু দুরে যায় আমার থেকে। কবিতাগুলো সাহিত্য বিচারকদের কাছে কবিতা হিসেবে কতটুকু গ্রহণযোগ্য সেই বিচারের দায়িত্ব আমার নয়। আমি সর্বদাই কবিতার আত্মিক পাঠক। যে কবিতা আমার আত্মাকে স্পর্শ করে না, আমাকে আনন্দিত করে না, সেটা যতই উন্নত হোক, তাতে আমার কিছু আসে যায় না। আমি কবিতাকে আত্মা দিয়ে বিচার করতে চাই। এছাড়া আমি কবিতার কোন সংজ্ঞা জানিও না, মানিও না। আমি মনে করি আমার কবিতা একান্ত আমার, কিংবা যে আমার আত্মা স্পর্শ করতে পারবে শুধু তার। অন্যরা হলেন রসহীন শব্দের পাঠক। আমি তাদের জন্য গদ্য লেখি, গান কিংবা কবিতা নয়। আতাউর রহমান মিলাদের এই পাঁচটি কবিতা আমার আত্মাকে স্পর্শ করেছে। কেনো করেছে সেই ব্যাখ্যা দিয়ে আমি এই রাতেই একটা পাঠপ্রতিক্রিয়া লিখে ছিলাম শাহনাজের ব্লগে পোষ্ট করার জন্য। কিন্তু দুঃখজন হলেও সত্য লেখাটি পোষ্ট করতে গিয়ে ভুলবশত মুছে ফেলি। ফলে আমার প্রথম পাঠের প্রতিক্রিয়াটা হারিয়ে গেলো। এই লেখাকে আমি আর পাঠপ্রতিক্রিয়া না বলে বলতে চাই বেদনাকে লাগবের ক্ষুদ্র চেষ্টা।’
মিলাদ ভাই সম্পর্কে শাহনাজ তার ব্লগে ভূমিকায় লিখেছেন,
‘বাংলা কবিতায় আধুনকিতা নিয়ে যারা চিন্ত করেন এবং নতুন বাঁক নিয়ে আসার প্রয়াসে লিপ্ত হন আতাউর রহমান মিলাদ তাদেরই একজন । প্রবাস জীবন-যাপন করলেও জন্মভূমরি স্মৃতিবিজড়িত দিনগুলো তাঁকে ভাবায় ।এ ভাবনাই খুঁজে পাওয়া যায় তাঁর কবিতায়।’
আমরাও মিলাদ ভাইয়ের কবিতা পাঠের পর শাহনাজের এই বক্তব্যের সাথে একমত হতে পারি। ‘ দাসত্ব এবং পশুত্ব’ কবিতাটির শিরোনাম ই বলে দেয় একজন পরাধীন মানুষের মনে লালিত মুক্তির কাকুতি। আমরা কি পেয়েছি দীর্ঘ যুদ্ধ এবং সংগ্রামের বিনিময়? এক সাগর রক্তের বিনিময় কি সঞ্চিত হয়েছে আমাদের ঝুলিতে? এই প্রশ্নের বিক্ষুব্ধ একটা উত্তর আমরা স্পষ্ট দেখতে পাই আতাউর রহমান মিলাদের ‘দাসত্ব এবং পশুত্ব’ কবিতায়। কবি বলছেন,

‘সব হারানোর পর আমাদরে সঞ্চয়রে ঝুলিতে রইলো একগুচ্ছ অন্ধকার ।
নেংটিপরা বালকেরা ভিক্ষার থালি হাতে দাঁড়িয়ে রইল সুর্দীঘ পরকিল্পনায় ।’

দীর্ঘ যুদ্ধ, সংগ্রাম আর রক্তদানের পর এই হলো আমাদের প্রাপ্তি। আর আমরা যাদেরকে নেতা নির্বাচন করলাম তাদের অবস্থা সম্পর্কে কবির বক্তব্য হলো,

‘মোড়লেরা বেছে নিলো সহজ সরল পথ । আমাদরে কাঁধে তক্তা ফেলে পার
পেয়ে গেলো নাগালরে বাইরে । কাঁধের ক্ষতটা চাটতে চাটতে আমাদরে দাসত্ব
এবং পশুত্ব গাঢ় হল । আমাদরে নাবালক স্বপ্ন নিয়ে খেলা করলো সৌখিন
শিকারী ।’
অতপর আমাদের আমজনতার কি হলো? কবি বলছেন,
‘আমাদের ব্যর্থ জীবন পেলো অব্যর্থ নিশানা । এবং জিওল মাছের
মতো আমরা চালান হলাম আরেক অন্ধকারে । ’

‘প্রবাসে বসে জন্মভূমির ভাবনা কবিকে ভাবায়’ শাহনাজ এমন একটি কথাইতো বলেছিলো তার ভূমিকায় । কবির এই ভাবনা কি রাজনৈতিক? কবিদের কি রাজনীতি করতে নেই? ‘দাসত্ব এবং পশুত্ব’ কবিতা কি একটি রাজনৈতিক বক্তব্য নয়? আমার ক্ষুদ্র ধারণায় এটা আতাউর রহমান মিলাদের একটি রাজনৈতিক বক্তব্য কিংবা হিসাব নিকাশ । এখানে আছে একজন অসহায় নাগরিকের দাসত্বের বেদনা । আছে মোড়ল বা নেতাদের শিকারী চরিত্র কিংবা পশুত্বের প্রতি প্রচণ্ড ঘৃণা। কেনো এমন হলো? এইটা আমাদের পাঠক মনে প্রশ্ন জাগতে পারে । কবি তাঁর ‘ঈশ্বর ও ইঁদুর’ কবিতায় এই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন বলে আমার মনে হয় । শাহনাজের ব্লগে প্রকাশের ধারাবাহিকতায় এটা দ্বিতীয় কবিতা। কবি এখানে বলছেন,
‘আমাদের সামনে কোন পথ খোলা ছিলোনা , আমরা বেপথে হাঁটতে
থাকলাম । হাটুজল , কাদামাটি পেরুতে পেরুতে অন্ধকারের দিকে
ধাবিত হচ্ছিলাম । আলোহীন অন্ধকারে কেউ কাউকে চিনতে পারছিলাম
না । কার হাতে অস্ত্র , কার হাতে ফুল কিছুই বুঝা যাচ্ছিলো না ।
আমরা ভাগ হতে থাকলাম দুর্বিনীত সময়ের অগ্রন্থিত স্রোতে । কেউ কেউ
তীরের সন্ধান পেয়ে ঈশ্বর হয়ে গেল । যারা পেলোনা তারা হলো ইঁদুর ।’

আমাদের সামনে কেনো পথ খোলা ছিলো না? কে আমাদের পথ বন্ধ করে বেপথে হাঁটতে বাধ্য করেছিলো? এই গভীর অন্ধকারের উৎপত্তি কোথায় থেকে হয়েছিলো যার ফলে আমরা বিভক্ত হয়ে গেলাম দুর্বিনীত সময়ের অগ্রন্থিত স্রোতে? কারা তীরের সন্ধান পেয়ে ঈশ্বর হয়ে উঠলো আর কারা ইঁদুর হলো? এই সকল প্রশ্ন ভাবিত করে আতাউর রহমান মিলাদের কবিতা পাঠে আমাকে বার বার। এই প্রশ্নগুলোর উত্তর দেবে কে? যারা উত্তর দেয়ার কথা ছিলো তারা যে সেই যোগ্যতা একাত্তরে স্বাধীনাতর শুভলগ্নে হারিয়ে ফেলেছেন তা আমাদেরকে বলে দেয় আহমদ ছফার ‘ বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস’ গ্রন্থখানা । যারা পড়েননি তারা পড়ে নিলে ভাল হয়। আমি এখানে সেই আলোচনায় গিয়ে কথাকে লম্বা করতে চাই না । আমরা গোটা জাতি অতপর আছি বুদ্ধির বন্ধাত্বে । এখন দেখি আমাদের বুদ্ধিজীবিরা সাধারণ মানুষকে শুধু শুধু চমকানোর জন্য ফাঁকা আওয়াজে বুদ্ধির ব্যবহার করেন । এখন সময় এসেছে এই সব ফাঁকা আওয়াজ উপেক্ষা করে কার্যকারণের হিসাব নিকাশ করার । আমরা যদি ইঁদুর বিড়ালের খেলা বন্ধ না করতে পারি তবে অন্ধকার পথ অতিক্রম করে সামনে আলোর পথে এগিয়ে যেতে পারবো না। আমাদের মুক্তির স্বপ্নে বুদ্ধির বন্ধাত্ব কাটিয়ে একটা চিন্তার বিপ্ সংগঠিত করতে হবে। নতুবা আমরা বার বার জিওল মাছের মতো অন্ধকারে চালান হতে থাকবো। আতাউর রহমান মিলাদ এই কথারই ইঙ্গিত দিচ্ছেন তাঁর ‘আশ্চর্য শ্লোক’ শিরোনামের কবিতায়,

‘পতিতালয়ের বারান্দায় হেঁটে গেলেন রবীন্দ্রনাথ । চমকে উঠলেন বহুগামী
তরুণ কবিরা । যৌবনের দুর্গন্ধ আটকে যায় নাকে । বজ্রপাতে ভঙ্গ হয়
কামের কীর্তন , জরায়ুর শ্বেতস্নান । নীলজলে ডুবে যায় স্তন্যচুড়া ।
ভাসমান সঙ্গমের সহজসূত্র । মাঝপথ থেমে যায় হুইস্কির ঢোক । জীবনের
আশ্চর্য শ্লোক । ’
আমার কেনো জানি মনে হয় এই কবিতার দৈহিক এবং আত্মিক বক্তব্যে অভিন্নতার মাঝেও ভিন্নতা আছে। এখানে আমরা স্পষ্ট দেখতে পাই নারী আর মদের নেশায় যে তরুণ কবিরা মেতে আছেন তাদের প্রতি আতাউর রহমান মিলাদের এক প্রকারের ব্যঙ্গাত্মক বক্তব্য। এই পথভ্রষ্ট তরুণদের কেউ কেউ অগ্রজ বড় বড় কবিদের নারী আর মদের নেশার কথা উপস্থাপন করে নিজেদের কুকর্মের পক্ষে দলিল পেশ করে থাকেন। আতাউর রহমান মিলাদ এমন যুক্তিকে মানতে পারেননি বলেই ব্যঙ্গ করে বলছেন,
‘পতিতালয়ের বারান্দায় হেঁটে গেলেন রবীন্দ্রনাথ । চমকে উঠলেন বহুগামী
তরুণ কবিরা । যৌবনের দুর্গন্ধ আটকে যায় নাকে ।’

আমরা যদি আতাউর রহমান মিলাদের ‘জীবনের আশ্চর্য শ্লো ক’ কবিতাকে সামনে নিয়ে বিবেচনা করি নারী আর মদে আসক্ত আমাদের তরুণ কবিদের আবস্থা তবে এই কবিতার অনেক বাস্তবতা দেখতে পাবো । বহুগামী তরুণ কবিদের নাকে পতিতালয় কিংবা মদের যে দুর্গন্ধ আটকে থাকে তা সত্যই একদিন বজ্রপাতের মতো ভঙ্গ করে তাদের কামের কীর্তন। নীলজলে তারা ডুবে যায়। হুইস্কির ঢোক তাদেরকে মধ্যপথে থামিয়ে ফেলে। আমার যতটুকু স্মরণ হয়, কবি শামসুর রহমান এমন একটি বক্তব্য তাঁর কোন এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন।
এই হলো ‘জীবনের আশ্চার্য শ্লোক’ কবিতার দৈহিক বক্তব্য । আর আত্মিক দিকে বিবেচনা করলে আমরা দেখতে পাই আমাদের তরুণ কবিরা আজ মদ আর নারীতে আসক্ত হয়ে হারিয়ে ফেলছে তাদের বিবেক বুদ্ধি এবং চিন্তার শক্তি।
আতাউর রহমান মিলাদের ‘বিয়োগ’ কবিতায় জীবনের একটি হিসাব নিকাশ স্পষ্ট হয়ে উঠে। এখন আর তিনি সময়কে দেখতে পারছেন না, কারণ তাসের নড়বড়ে সাঁকো পার হতে গিয়ে হাতের সিকো ফাইভ ঘড়িটা টুপ করে জলে পড়ে গেছে। আর এই পড়ে যাওয়া অনেকটা তাঁর প্রিয়ার মতো। এখন তিনি সময়কে যেমন ধরতে পারেন না ঘড়ির কাটায় কিংবা ঘোড়ার পায়ে তেমনি প্রিয়াকে ফেরাতে পারেন না একযুগ ভুলে ভরা গোপন সন্ধ্যায় কিংবা সন্ধ্যায় জ্বেলে রাখা কুপির শিখার মতো কাঁপা কাঁপা বিশ্বাসে। এখন তাঁর অস্পষ্ট হয় বাবার বিধি-নিষেধের কলম আর কেয়া সাবানের ফেনায় ভেসে যায় রাতভর প্রিয়ার চুমুর চিহ্ন। তাই তিনি এখন আর জাফরানি ভোর খুঁজেন না মনুব্রিজে কিংবা পুরানো দৈনিকে খুঁজেন না সুখ দুঃখের ক্ষত বিক্ষত অক্ষর। কাতর যাপন শেষে এখন তিনি শুধু দেখেন নিথর মাটিতে মার্বেল চক্কর। এই হলো কবির জীবনের হিসাব নিকাশ। এই হিসাব নিকাশে সাংসার একটা বিষয় হতে পারে বিবেচনা করেই হয়তো কবি আতাউর রহমান মিলাদ লিখেছেন ‘সাংসারিক কৌশল’ শিরোনামের কবিতা। বহুগামিতার বিরুদ্ধে একটা দৃঢ় বক্তব্য দিয়ে কবি আতাউর রহমান মিলাদ সাংসারিক কৌশলের একটা ব্যাখ্যা দিয়েছেন তাঁর এই কবিতায়। সংসার গড়ে উঠে একজন নারী এবং একজন পুরুষের দাম্পত্য জীবনের মাধ্যমে। কবি আতাউর রহমান মিলাদ সেই দাম্পত্য জীবনের সূচনালগ্নের হৃদ কম্পন অংকনের চেষ্টা করেছেন তাঁর এই কবিতায়। আমি যখন এই কবিতা পড়ছিলাম তখন কেমনে জানি হারিয়ে যাই আমার বিয়েপূর্ব রাতের স্মৃতিতে। সেই স্মৃতি আমায় বেশ লাজুকই করে দিলো যেনো কবিতা পাঠের ফাঁকে ফাঁকে। বিয়ের আগের রাতে বাড়ি ভরা মেহমান। আমি আর ছোটমামা ঘুমিয়েছি এক বিছানায়। আমি আর মামা একসাথে থাকা মানে সারা রাত গল্প করে কাটিয়ে সকালে ঘুমানো। এটা অতীতে যেমন ছিলো, আজও তেমনি বহাল তবিয়তে আছে। বিয়ে, শাদী, সংসার, সন্তান কেউই আমাদের এই অভ্যাসকে গ্রাস করতে পারেনি। সেই রাতও তাই হলো। মামার সাথে আমার গল্পের মূল বিষয় হলো সাহিত্য। বিয়ের আগের রাতও আমরা আমাদের বিষয়চ্যূত হলাম না। কিন্তু আমার ভেতরে হঠাৎ নতুন জীবনের ভাবনায় বিরাট কম্পন সৃষ্টি হয়ে গেলো। আমি উঠে গিয়ে আম্মাকে জড়িয়ে কাঁদতে শুরু করলাম। কেনো এই কন্দন? কবি আতাউর রহমান মিলাদ এই কন্দনের কারণ বলছেন,
‘আমাকে ভালোবেসে যে পথ আজ তুলে নিলে হাতের মুঠোয় সে পথে বড়
বেশী অচেনা আঁধার , ঝোপঝাড়ে ঘাপটি মারা ভয় । শৈশবের গা ছম
ছম করা ভূতের কাহিনী । আমি এ পথে কি করে যাই মালতি ? এক
নদী বুকে আর এক নদী পাশে নিয়ে ঘুম কাতর প্রকৃ্তি কি করে ছুটে
যায় সাগর সঙ্গমে । আমি তো মাঝরাতে যুবতি পাজামার ফিতা খুলে
জেনে নিতে পারিনা ‘ভালবাসা তুমি কত বড় হয়েছো?’কিংবা দিনরাত্রির
মতো ভাগাভাগি করে নিতে পারিনা এক জীবনে দুই জীবনের ভার ।
আমিতো বুঝিনি বৃষ্টির বাণিজ্যিক ভাষা , শাড়ীর পাড়ের মাঝে বধূপাঠে
নিমগ্ন থেকেছি চন্দ্রবিন্দু সমেত । আমাকে ভালোবেসে যে পথ ছেড়ে দিলে
পায়ের কাছে বিড়াল আদরে , লাজুক লতার ভয়ে মাড়িনি সে পথ ।
উল্টোতে পারিনি দুধের বাটি , পায়ে পায়ে জড়িয়ে যায় স্থাপত্যের
সাংসারিক কৌশল । ’
কবি আতাউর রহমান মিলাদের যে পাঁচটি কবিতা আমরা এতক্ষন পাঠ করলাম তা সত্যই আমাকে নাড়িয়ে গেছে আমাদের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও পারিবারিক সফলতা এবং ব্যর্থতার হিসাব-নিকাশে। আমাকে আন্দোলিত করেছে তাঁর তীক্ষ্ণ বিচার বিশ্নেষণ । তাঁর কবিতায় প্রচণ্ড আলোর স্পর্শ আমরা দেখতে পাই। না, তিনি শুধু শিল্পের জন্য শিল্প কিংবা শব্দের খেলা করেননি। তিনি অন্ধকারকে সরিয়ে আলো দিতে চেষ্টা করেছেন। আমরা যদি কবিতাকে আত্মার অনুবাদ বলে স্বীকার করি তবে তাঁর এই কবিতা পাঠে বলতে পারি কবি আতাউর রহমান মিলাদের আত্মায় প্রচুর আলো সঞ্চিত আছে, আছে অন্ধকারের বিরুদ্ধে প্রচণ্ড ক্ষোভ। তিনি আলোর স্বপ্ন দেখে, তিনি সমাজের সর্বক্ষেত্রে একটা আলোর বিপ্লবের প্রত্যাশা করেন। আমরা তাঁর মঙ্গল কামনা করি।

সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে অক্টোবর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:২৩
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×