আমরা সশস্ত্র আন্দোলন করে শেখ মুজিবের শাসনের উৎখাত চাইলেও তার হত্যা চাইনি।- ইনু
কাজী সায়েমুজ্জামান: জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের সভাপতি হাসানুল হক ইনু এমপি বলেছেন, আমরা সশস্ত্র আন্দোলন করে শেখ মুজিবের শাসনের উৎখাত চাইলেও তার হত্যা চাইনি। আমাদের গণবাহিনী কোন গুপ্ত হত্যা বা ব্যক্তি হত্যায় জড়িত ছিলনা। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর আমরাই প্রথম মিছিল বের করে প্রতিবাদ জানিয়েছিলাম। আমরা বলেছি, বঙ্গবন্ধুর বিকল্প খন্দকার মোশতাকের অবৈধ সরকার নয়। এ প্রতিবাদের কারণে আমাদের নির্যাতিত হতে হয়েছিল।
সাপ্তাহিক বুধবার অফিসে এ প্রতিবেদককে দেয়া এক সাক্ষাতকারে ইনু এসব কথা বলেন। এসময় তিনি শেখ মুজিবের শাসনামলে নিহত তার সহযোদ্ধারা বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ডের শিকার হয়েছেন দাবী করে সকল হত্যার বিচার দাবী করেন।
উল্লেখ্য জাসদ বিভিন্ন সময় দাবী করে এসেছিল শেখ মুজিবের রক্ষী বাহিনীর হাতে তাদের ৩০ হাজার নেতা কর্মী নিহত হয়েছে। তবে কালক্রমে গণবাহিনীর নেতারা আওয়ামী লীগেই বেশি যোগ দিয়েছেন। জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ প্রথমে ১৪ দল পরে মহাজোটে শরিক হয়েছেন। বর্তমান নৌ পরিবহন মন্ত্রী শাহজাহান খানও জাসদ গণবাহিনীর একজন নেতা ছিলেন।
সাক্ষাতকারে হাসানুল হক ইনু যুদ্ধাপরাধিদের বিচার, ’৭২ এর সংবিধান প্রবর্তন, টিপাইমুখ বাঁধ, তেল, গ্যাস ও কয়লা রপ্তানী, আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, টেন্ডারবাজি, দ্রব্যমূল্য ও ৭ই নভেম্বর বিষয়ে দলের দৃষ্টিভংগি নিয়ে কথা বলেন। এছাড়াও গত নির্বাচনে নিজ দলের প্রতীক মশাল বাদ দিয়ে নৌকা প্রতীক নেয়ারও ব্যাখ্যা দেন। তার মতে মহাজোটের মধ্য থেকেই সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। তিনি মনে করেন, বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার ও যুদ্ধাপরাধিদের বিচারের মধ্য দিয়ে অসাম্প্রদায়িক সমাজ নির্মাণের ও আইনের শাসনের গেটপাস হাতে পাওয়া যাবে। তিনি ২০২১ সাল পর্যন্ত মহাজোটের ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তার পুরো সাক্ষাতকারটি নিচে তুলে ধরা হলো-
কাজী সায়েমুজ্জামান: মহাজোটের শরীক দলের নেতা হিসেবে বর্তমান সরকারকে কিভাবে মূল্যায়ন করবেন?
হাসানুল হক ইনু: মহাজোট সরকারের একটি অতীত রয়েছে। চার দলীয় জোট সরকারের সীমাহীন দুর্নীতি ও লুটপাট ও জঙ্গিবাদের বিস্তারের ফলে দেশে অরাজকতা, নৈরাজ্য এবং সংকট ঘনিয়ে এসেঠিল তারই প্রোপটে ১৪ দলীয় জোটের যাত্রা শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় মহাজোটের কাঠামো গড়ে ওঠে। এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে যে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক উদ্দেশ্য অর্জনে মহাঐক্য গঠন করা হয়। সেই ঐক্য বোমাবাজি আর অগণতান্ত্রিক ধারা, সীমাহীন লুটপাট আর দখলবাজি থেকে দেশকে উদ্ধার করার লক্ষে হয়েছিল। ২৩ দফার ভিত্তিতেই ওই রাজনৈতিক ঐক্য হয়েছিল। তখনই ঘোষণা করা হয়েছিল একসঙ্গে আন্দোলন, একসঙ্গে নির্বাচন আর একসঙ্গে সরকার গঠন করা হবে। এর ভিত্তিতেই আমরা আন্দোলন ও নির্বাচন করেছি। এরপর দিলীপ বড়–য়া ও জিএম কাদেরকে মন্ত্রীসভায় অন্তর্ভূক্তির মধ্য দিয়ে এবং সংসদীয় কমিটিগুলোর গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে মহাজোটের শরীকদের পদায়নের মাধ্যমে মহাজোট সরকারের যাত্রা শুরু হয়। এ সরকার গঠন নিয়ে অসর্ম্পূতার প্রশ্ন রয়েছে। তারপরও এটা মহাজোটের সরকার। সবারই একটি মোটামুটি একটি প্রতিনিধিত্ব রয়েছে। এটাকে কিভাবে পূর্ণাঙ্গ করা যায় তা নিয়ে আলাপ আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে। মহাজোটের সরকারের রাজনৈতিক নির্বাচনী অংগীকার রয়েছে। সরকারের ১০ মাসের শাসনকালে এ অংগীকারের ওপর স্থিরভাবেই দাড়িয়ে রয়েছে। ক্ষমতায় যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার বিচার ত্বরান্বিত করেছে। সরকার যুদ্ধাপরাধিদের বিচারের সিদ্ধান্ত নিয়ে সবচেয়ে দু:সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছে। কারণ জঙ্গিবাদী ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতি থেকে দেশকে বাঁচাতে হলে যুদ্ধাপরাধিদের বিচারের মধ্য দিয়েই শুরু করতে হবে। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়তে, ৭২ এর সংবিধানে ফিরে যেতে হলে যুদ্ধাপরাধিদের বিচারের কোন বিকল্প নেই। এ কাজটি হবে অসাম্প্রদায়িক সমাজ নির্মাণের গেটপাস। আর বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার হচ্ছে আইনের শাসনের গেটপাস। এ দুটি গেটপাস পেলেই আমাদের জন্য গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার সদর দড়জা খুলে যাবে।
সায়েম: ৭২ এর সংবিধানে কি ফেরত যাওয়া সম্ভব? তাহলে বিএনপির বক্তব্য অনুযায়ী ১৪ টি সংশোধনীর কি হবে ? আপনারা কি সংশোধনীগুলো রেখে পরিবর্তিত দুটি মুলনীতির পুণ:স্থাপন চান?
ইনু: ’৭২ এর সংবিধানে ফিরে যাওয়া সম্ভব। যুদ্ধাপরাধিদের বিচার শেষ করে গেটপাস হাতে নিলেই হবে। সংশোধনী থাকবে না থাকবেনা তা আইনগত ব্যাপার। অতীতের গণতান্ত্রিক ও জাতীয়তাবাদী সংগ্রাম, মুক্তিযুদ্ধ এবং সকল যৌক্তিক সংগ্রামকে আত্মস্থ করেই ৭২ এর সংবিধান। এর ভিত্তিতেই দেশ পরিচালনা করা উচিত। এর উদ্দেশ্য দেশকে প্রগতিশীল, অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিকভাবে পরিচালিত করা। সে লক্ষ্যে কোন আইনটি থাকবে বা থাকবেনা তা আইনজীবীরা ঠিক করবেন। সংবিধানের মূলনীতিই আসল। এর ভিত্তিতেই কাজ হবে। ’৭২ এর সংবিধানের মুলনীতি বর্তমান সংবিধানে পুণ:স্থাপিত হলেই হবে। কেননা বর্তমান সংবিধান অসাম্প্রদায়িক চেতনা ধারণ করছেনা। এটি একটি ক্ষতিকারক ব্যাপার। আর ’৭২ এর সংবিধানের ভিত্তিতে দেশ পরিচালনা করলে হিন্দু, বৌদ্ধ, খৃষ্টান, চাকমা, মগ সবাই দ্বিতীয় শ্রেনীর নয়, প্রথম শ্রেনীর নাগরিক হিসেবে গণ্য হবে।
সায়েম: নির্বাচনের আগ থেকেই মহাজোটের কোন আনুষ্ঠানিক বৈঠক হয়নি। সরকার পরিচালনা প্রক্রিয়ায় বা নীতি নির্ধারণে আপানাদের রাখা হচ্ছেনা। বিষয়টিকে আপনারা কিভাবে দেখেন?
ইনু: নির্বাচনের আগে বৈঠক হয়েছে। আমরা সমঝোতার ভিত্তিতেই আসন ভাগাভাগিসহ নির্বাচন একসঙ্গে করেছি। তবে গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় মহাজোটের আনুষ্ঠানিক বৈঠক হয়নি। এ বৈঠক ঈদের পর হবে বলে আশা করি। সেখানে আমাদের শরিকদের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হবে। ওই বৈঠকে আমরা সব কিছুর মূল্যায়ন তুলে ধরতে পারবো। তবে মহাজোটের অনানুষ্ঠানিক বৈঠক হচ্ছে। সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো আলাপ আলোচনার ভিত্তিতেই হচ্ছে। সংসদীয় কমিটিতে প্রতিটি নীতি নিয়েই বিস্তারিত আলোচনা হচ্ছে। এতে নীতির পরিবর্তন ও পরিবর্ধন হচ্ছে। মন্ত্রী পরিষদ সংসদীয় কমিটির বাইরে কোন সিদ্ধান্ত নিচ্ছেনা। যুদ্ধাপরাধিদের বিচারের কথাই বলি। সরকারের প থেকে এ প্রস্তাব ওঠেনি। এটি সংসদে উত্থাপিত হয়ে সংসদেই গৃহীত হয়েছে। মন্ত্রী পরিষদ এটি বাস্তবায়নে প্রশাসনিক পদপে নিচ্ছে। সুতরাং আলাপ আলাচনার ভিত্তিতে হচ্ছেনা এটা আমি মনে করিনা। এখন পর্যন্ত সরকার সংসদীয় কমিটির পরামর্শের বাইরে খুব একটা যায়নি।
সায়েম: সরকার জঙ্গিবাদ, মৌলবাদ নিয়ে বেশ কিছু কথা বলছে। বাস্তবে তারা কতটুকু সফল হয়েছে বলে মনে করেন?
ইনু: সব সরকারেরই রাজনৈতিক অংগিকার থাকে। এ সররকারের সঙ্গে আগের খালেদা নিজামী নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের পার্থক্য আছে। তাদের সরকারের রাজনীতি ছিল জঙ্গিবাদী মৌলবাদিদের পৃষ্ঠপোষকতা করা। তাদের সমর্থন দেয়া ও রেহাই দেয়াই ছিল তাদের কাজ। তাদের সরকার দ্বিমুখি নীতি নিয়েছিল। তারা বাইরে জঙ্গিবাদিদের বিরুদ্ধে কথা বলেছে। আর ঘরের ভেতরে সমর্থন দিয়েছে। বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক অংগিকার হচ্ছে মৌলবাদী, জঙ্গিবাদ ও বোমাবাজদের বিরুদ্ধে। এ অংগিকার প্রশাসনিকভাবে বাস্তবায়নে ইতোমধ্যেই অনেক পদপে নেয়া হয়েছে। আমি মনে করি তা যথেষ্ট নয়। একে আরো শক্তিশালী ও বলিষ্ঠ করা দরকার।
সায়েম: যুদ্ধাপরাধিদের বিচার নিয়ে আপনাদের দৃঢ় অংগিকার ছিল। কিন্তু এ বিষয়ে সরকারের ধীর গতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এক্ষেত্রে আপনি কি মনে করেন?
ইনু: জনগন ও তরুন প্রজন্মের দাবী ছিল যুদ্ধাপরাধিদের বিচার। কালকেই করতে হবে এর কোন দাবী ছিলনা। আমি বলবো ধীর গতি লক্ষ্য করা যাচ্ছেনা। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে মহাজোট পরিস্কার করে বলেছে বিজয়ী হলে যুদ্ধাপরাধিদের বিচার করা হবে। সবার দাবী ছিল সরকার যেন এদের বিচারে হাত দেয়। এ সরকার মতায় আসার পর সংসদের প্রথম অধিবেশনেই সংথ্যাগরিষ্ঠ দল আওয়ামী লীগের অংশ গ্রহণের মধ্য দিয়ে যুদ্ধাপরাধিদের বিচারে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। এরপর আসে প্রশাসনিক পদক্ষেপের বিষয়টি। স্বীকার করতেই হবে এলোমেলো বিচার কেউ চাননা। সবাই ন্যায্য ও স্বচ্ছ বিচার চান, যাতে অপরাধিরা সাজা পায়। এটি দীর্ঘ ৩৮ বছরের ঘটনা। প্রস্তুতিও নিতে হচ্ছে। তাই যেনতেনভাবে বিচারের কাজটা শুরু করে মুখথুবরে ফেলে দেয়ার কোন মানে হয়না। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি বিষয়টি নিয়ে তাড়াহুড়া করার কোন দরকার নেই। আর সরকারের মন্ত্রী মহোদয়রা সময়সীমা বলে জনগণকে বিভ্রান্ত করে ফেলছেন। এটা উচিত হয়নি। আটঘাট বেধেই তাপরপর নামা উচিত। আমি এ কাজ শুরু করতে আগামী মার্চ মাসের স্বাধীনতা দিবস পর্যন্ত সময় দিতে রাজি আছি।
সায়েম: সরকারকে কি কোন ধরনের চাপ মোকাবেলা করতে হচ্ছে?
ইনু: সরকার এখনও কোন প্রকার আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিক চাপের কথা বলেনি। বিশ্বের কোন দেশও প্রকাশ্যে বা অপ্রকাশ্যে বলেনি যে, যুদ্ধাপরাধিদের বিচার করা যাবেনা। তারা এধরনের কথা বলার নৈতিক অধিকারও রাখেনা। সরকারের অনেক দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা অনেক কথা গুছিয়ে বলতে পারেননা। চাপের বিষয়টি নিয়েও একই কান্ড হয়েছে। এজন্য মানুষও বিভ্রান্ত হয়েছে। তারমানে এই নয় যে, চাপ রয়েছে। সরকারকে যতটুকু বুঝি কোনদিক থেকে সরকারের ওপর চাপ নেই। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী কোন চাপের তোয়াক্কা করেননা।
সায়েম: আপনারা গণবাহিনী গঠন করেছিলেন এবং শেখ মুজিবের শাসনের বিরুদ্ধে সশস্ত্র লড়াইয়ে লিপ্ত ছিলেন। এ অবস্থায় বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার রায়কে কিভাবে দেখছেন?
ইনু: এটা অতীতের ব্যাপার। ১৯৭২ সাল থেকে ৭৫ সাল পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর তৎকালীন শাসনের বিরুদ্ধে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ প্রচন্ড বিদ্রোহ করেছিল। ওই সময় আমরা সরাসরি দ্বন্দ্ব সংঘাতে লিপ্ত হই। এটা দেশবাসির জানা আছে। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও এটা জানেন। কিন্তু আমরা রাজনীতিকে রাজনীতি দিয়েই মোকাবেলা করার নীতি গ্রহণ করেছিলাম। আমরা গুপ্ত হত্যা বা ব্যক্তি হত্যায় বিশ্বাস করিনি। এ ধরনের কোন কার্যক্রমও আমরা হাতে নেইনি। আমাদের সশস্ত্র কার্যক্রম ছিল আত্মরার জন্য। ওই সময়ে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বিপ্লবের ল্েয সশস্ত্র কার্যক্রমের বহু রীতি ও রেওয়াজ ছিল। জাসদও তার ব্যতিক্রম নয়। আমরা জাতি ও নিজেদের রাজনীতির প্রয়োজনে ওই কার্যক্রম হাতে নিয়েছিলাম। আমরা রাজনীতির কারণে অস্ত্র ধারণ করেছিলাম। প্রয়োজন ফুরিয়ে যাওয়ার পর ১৯৭৮ সালে অস্ত্র সমর্পণ করে দিয়েছি। এজন্য ১৯৭৮ সালের পর আমাদের কোন সশস্ত্র বা গুপ্ত সংগঠন কাজ করেনা।
১৯৭৫ সালে যেদিন বঙ্গবন্ধুর হত্যাকান্ড ঘটেছে পরদিনই জাসদ প্রতিবাদ করেছিল। আমরা বলেছিলাম, বঙ্গবন্ধুর বিকল্প খন্দকার মোশতাকের অবৈধ সরকার নয়। সুতরাং খন্দকার মোশতাকের অবৈধ সরকারের বিরুদ্ধে জাসদ প্রথম প্রকাশ্যে প্রচারপত্র দিয়ে ও রাজধানীতে ছোট ছোট মিছিল বের করে প্রতিবাদ জানিয়েছিল। এ কারণে মোশতাক সরকারের ৮৩ দিন জাসদের হাজার হাজার গ্রেপ্তার করা হয়। তারা তার পুরো মেয়াদ বন্দী ছিলেন। একজন নেতাকর্মীকেও মুক্তি দেয়া হয়নি। ওই ৮৩ দিনে আমাদের হিসেবে কমপে ৬০ জনেরও বেশি নেতাকর্মী নিহত হয়েছিল। জাসদ বঙ্গবন্ধুর হত্যার বিরোধিতা করেছে। নিন্দা জানিয়েছে। অবৈধ মতা দখলকারী রাজনীতি অবসানের জন্য আমরা সব সময়ই সোচ্চার ছিলাম। তারই ধারাবাহিকতায় দেশের সর্বোচ্চ আদালতের দেয়া রায়ে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার হয়েছে। আমি মনে করি এ রায় দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য একটি যুগান্তকারী রায়। এতে প্রমাণিত হয়েছে, যত দেরী হোকনা কেন অপরাধ করে কেউ পার পায়না। আমার বিশ্বাস এ রায় থেকে শিা নিয়ে ভবিষ্যতে কোন চক্রান্তকারী নিময়মতান্ত্রিক কোন সরকার বা ব্যক্তিকে হত্যা করার পরিকল্পনা করবেনা।
সায়েম: আপনার অনেক সহযোদ্ধারাতো শেখ মুজিবের সরকারী বাহিনীর হাতে প্রাণ হারিয়ে ছিলেন। বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার তো বিচার হলো। আপনারা তাদের হত্যার বিচার চাইবেন কিনা?
ইনু: মারামারি হলেতো জীবন হারাবেই। অনেক হত্যারই বিচার এদেশে হয়নি। এ জন্য সব আইন বহির্ভূত হত্যাকান্ডের বিচার হওয়া উচিত। কিন্তু কোনটা আগে বা কোনটা পরে তা বিবেচনা করতে হবে। গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতির বিচার আগে করবো না যুদ্ধাপরাধিদের বিচার আগে করবো তা বুঝতে হবে। আমি বলবো যারা মইনুদ্দিন ও ফখরুদ্দিনের বিচারের কথা আগে বলে তারা কার্যত পানি ঘোলা করে যুদ্ধাপরাধিদের বিচারকে আড়াল করতে চায়। আইন বহির্ভূতভাবে আমার কোন সঙ্গী মারা গিয়ে থাকলে তারও বিচার দরকার। আমার মতে সরকারকে বিডিআর হত্যাকান্ড, যুদ্ধাপরাধিদের বিচার, গ্রেনেড হামলা ও ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলার বিচারকে সবচেয়ে গুরুত্ব দিয়ে আগে শেষ করতে হবে।
সায়েম: যে আদর্শ প্রতিষ্ঠার জন্য আপনারা অস্ত্র ধরেছিলেন আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোটে যোগ দিয়ে সেই আদর্শ থেকে সরে এসেছেন বলে মনে হয়না?
ইনু: আমাদের সশস্ত্র আন্দোলন ছিল সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে। আমরা এখনও সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই রয়েছি। নীতির থেকেতো সরে আসিনি। প্রথমে আন্দোলন সাংঘর্ষিক রূপ নেয়। কিন্তু রাজনীতি যে লক্ষ্যে করবো তাই হচ্ছে নীতি বা আদর্শ। জাসদ সমাজতন্ত্রে বিশ্বাস করে। বিশ্বায়নের প্রতিবাদ করে। শ্রমিক, গরীব ও নারীদের পে অবস্থান নেয়। আমরা মহাজোটের ভেতর থেকেই সমাজতন্ত্রের ঝান্ডা হাতে নিয়ে এদের জন্য লড়াই চালাবো। আর এ প্রশ্নে কোন ছাড় দেবোনা।
সায়েম: ৭ নভেম্বর জিয়াউর রহমানের ভূমিকা ছিলনা- এ কথা আপনি বারবার বলে আসছেন। আপনার দলের অনেক নেতারা বলেছেন, জিয়া ওই সময় তার নিজের সুযোগ সুবিধা নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। আপনি পুরো বিষয়টিকে কিভাবে দেখেন?
ইনু: এটা আমার বলার বিষয় নয়। সেদিন কর্ণেল তাহের সিপাহী বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেন। আর জিয়া মুক্ত হন। সুযোগ সন্ধানী জিয়া কর্ণেল তাহেরকে বন্দী করে হত্যা করেন। পরে দেশের ওপর ফের সামরিক শাসনের রাজনীতি চাপিয়ে দেন। আমরা বিদ্রোহ করতে সফল হয়েছিলাম। কিন্তু একটি গণতান্ত্রিক সর্বদলীয় সরকার গঠন করতে ব্যর্থ হয়েছিলাম।
সায়েম: তেল গ্যাস উত্তোলনে সরকারের ভূমিকার তীব্র বিরোধীতা করেছে ওয়ার্কার্স পার্টি । আপনারা কিভাবে দেখছেন?
ইনু: ওয়ার্কার্স পার্টি তীব্র নিন্দা করেছে কিনা আমি জানিনা। তাদের ভাষায় তীব্রতা দেখিনি। জাসদের নীতি হলো তেল, গ্যাস, কয়লাসহ সকল জাতীয় খনিজ সম্পদ জাতীয় স্বার্থকে রক্ষা করেই ব্যবহার করা উচিত। আর আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশে রপ্তানী না করার শর্তে জাতীয় স্বার্থে ব্যবহার করা উচিত। এক কথায় এটাই আমাদের অবস্থান।
সায়েম: কিন্তু মহাজোট সরকারতো রপ্তানির সুবিধা রেখে পিএসপি চুক্তি সার করেছে।
ইনু: এ চুক্তি নিয়ে আলোচনা হতে পারে। রপ্তানীর সুযোগ আছে কিনা তা আরো আলোচনা করা যেতে পারে। তবে রপ্তানী করলে আমরা বিরোধিতা করবো।
সায়েম: টিপাইমুখ নিয়ে আপনাদের রাজনৈতিক অবস্থান কি?
ইনু: আমার কথা হলো টিপাইমুখসহ উজান থেকে সকল প্রবাহিত নদীতে প্রতিবেশী ভারত, মায়ানমার, নেপাল বা চীন কেউ একতরফা স্থাপনা নির্মাণ করতে পারেনা। এটা আন্তর্জাতিক রীতিনীতি বিরোধী। আমরা মনে করি যে নদীর ওপর সমঝোতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এদেশের এমনকি ভারতের কিছু অংশের মানুষকে বাঁচাতে হলে পদ্মা, গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায় যৌথ পানি ব্যবস্থাপনার নীতি অবিলম্বে গ্রহণ করা উচিত।
সায়েম: সরকার বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড অস্বীকার করছে। বলছে, এ সরকারের আমলে কোন ক্রসফায়ার হয়নি। আপনার কি মনে হয়?
ইনু: বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড হচ্ছে গণতন্ত্র বিরোধি। আমরা এটা সমর্থন করিনা। যতবড় অপরাধি হোকনা কেন তার বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে। এসব হত্যাকান্ডে যদি কোন প্রশাসনিক কর্মকর্তা জড়িত থাকলে তাদের ব্যাপারে আইনগত পদপে নেয়া উচিত। মন্ত্রী বলেছেন ক্রসফায়ার হয়নি। আর পুলিশের হর্তাকর্তারা ক্রসফায়ার ও এনকাউন্টার শব্দটি ব্যবহার করে প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিচ্ছেন। আমি বলবো মন্ত্রী মহোদয় যেন পুলিশের যেসব কর্মকর্তা প্রেস রিলিজ দেন তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে কথা বলেন।
সায়েম: বর্তমানে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। আপনার নির্বাচনী এলাকায়তো এটা মাত্রা ছাড়িয়েছে। আপনি কি মনে করেন?
ইনু: কুষ্টিয়া অঞ্চলের সন্ত্রাসের একটি অতীত রয়েছে। ১৯৭৫ সালের পর এর প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিলেন জিয়াউর রহমান। তারপর এরশাদ। এরপরে খালেদা জিয়া। ধারাবাহিক এ পৃষ্ঠপোষকতার ফলে তারা ধরাকে সরা জ্ঞান করতো। প্রশাসনকে ব্যবহার করেই তারা সন্ত্রাস চালায়। এখন প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ার তারা বিপদে পড়ে গেছে। তারা রাজনীতিবিদ নয়, সন্ত্রাসী। গণতন্ত্র বা প্রগতির রাজনীতির সঙ্গে কোন সম্পর্ক তাদের নেই। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য সরকার চেষ্টা চালাচ্ছে। আশা করি সরকার নিরপেভাবে এটা করবে। তবে পরিস্থিতি এমন কোন পর্যায়ে নেই যা নিয়ন্ত্রণ করা যায়না। তবে এক বাহিনী আরেক বাহিনীর লোকের গলা কাটছে। এতে আইন শৃংখলা পরিস্থিতির অবনতি অবশ্যই ঘটেছে। এরজন্য সরকার বিচার বহির্ভূত কার্যক্রম হাতে যে নিয়েছে তাও দেখেছি। আমি সরকারকে এ পরামর্শই দেবো- আইনগত পদক্ষেপ নিয়ে এর পৃষ্ঠপোষক ও গডফাদারদের শায়েস্তা করলেই সবকিছু বন্ধ হয়ে যাবে।
সায়েম: বর্তমানে ভয়াবহ টেন্ডারবাজি ও চাঁদাবজি চলছে। মহাজোটের অংশীদার হিসেবে এ দায় কিভাবে এড়াবেন?
ইনু: আমি এ ধরনের কর্মকান্ডের নিন্দা করছি। টেন্ডারবাজি, দখলদারি ও চাঁদাবাজীর সঙ্গে জড়িতরা মহাজোটের ভাবমুর্তি নষ্ট করছে। নির্বাচনী অংগিকার বাস্তবায়নের পথে বাধার সৃষ্টি করছে। আমি বলবো মহাজোটের ছাতার নিতে টেন্ডারবাজের জায়গা নেই। আমি প্রধানমন্ত্রীকে আরো কঠোর হওয়ার জন্য বলবো। আমি এর বিরুদ্ধে ইতোমধ্যেই জোটের মধ্যে কথা বলেছি। আরো কথা বলবো। টেন্ডারবাজি অবশ্যই বন্ধ করতে হবে।
সায়েম: বর্তমানে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিসহ জনজীবনের সংকটগুলোকে কিভাবে দেখেন? সমস্যা সমাধানে সরকারের ভূমিকাকে কিভাবে মূল্যায়ন করবেন ?
ইনু: আপনি যেভাবে বললেন সেভাবে তো হবেনা। ১০ মাস আগে বাজারের যে অবস্থা ছিল এখনো তা রয়েছে। বহুদিন পর দেশে বাজারের ওপর সরকার হস্তক্ষেপ করেছে যা নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যগুলোর চড়া দাম অনেকাংশে নামিয়ে দিয়েছে। এর ভেতর ওঠানামা হচ্ছে। কিন্তু বাজার নিয়ন্ত্রনের বাইরে নয়। সম্প্রতি সরকারী কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির রোয়েদাদ ঘোষণা করা হয়েছে। সবাই আশা করেছিল এ ঘোষণায় দ্রব্যমূল্যে বিরাট একটি প্রতিক্রিয়া পড়বে। বাজার ব্যবস্থাপনার কারণেই দেখা গেছে এ ঘোষণার পরও বাজারে তার প্রতিক্রিয়া নেই। আমি মনে করি আগের সরকারের তুলনায় বর্তমান সরকার অনেক ভালো বাজার ব্যবস্থাপনা করেছে।
সায়েম: আমি আপনার সঙ্গে একমত নই। কারণ প্রথমে চাল ও চিনি নিয়ে লঙ্কাকান্ড ঘটেছে। সরকার দাম কমানোর কোন ঘোষণা দেয়ার পরদিনই তা বেড়ে যাওয়ার নজীর রয়েছে। এছাড়া আপনার দলের অনেক নেতাই দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিতে সরকারের সমালোচনা করছেন।
ইনু: আমি বলছি ওঠানামা হচ্ছে। তবে অস্বাভাবিক বাড়েনি। কিছু ত্রুটি বিচ্যুতি রয়েছে। চিনি নিয়ে হলেও চাল নিয়ে হয়নি। আমি বলবো বাজার সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। বাজার ব্যবস্থাপনা বা বাজারে হস্তক্ষেপ করার কৌশল দেশে বহুদিন ধরে অনুপস্থিত ছিল। এজন্য সরকারকে সেটা রপ্ত করতে হয়েছে। রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও সরকারী প্রশাসকরা বহু ক্ষেত্রেই পারদর্শী নয়। আমার বিশ্বাস আগামী বছরে তারা আরো আয়ত্ব করতে পারবেন। দলের নেতারা বলছে, কারণ জিনিসের দাম বাড়লে তো বলবেই। আমি সামগ্রিকভাবে আমার কথা বলেছি। কেউ যদি জিজ্ঞাসা করে বাজারে কি আগুন লেগেছে? আমি বলবো আগুন লাগেনি। তাহলে কি হয়েছে? আমি বলবো- বাজারে ওঠানামার ঢেউ চলছে।
সায়েম: গত নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে আপনারা নির্বাচন করছেন। এটা আপনার দলের অনেকেই পছন্দ করেননি। আপনি কি মনে করেননা এর মাধ্যমে জাসদ এবং প্রতীক মশাল আওয়ামী লীগ বা নৌকায় বিলীন হয়ে যাচ্ছে ?
ইনু: আমিতো জাসদের সংসদ সদস্য হয়েই কাজ করছি। আমিতো আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য নই। আমার প্রতীকের কথা জণগন কেন ভুলতে বসবে ? আমার দল নিবন্ধিত। আমার প্রতীক মশাল। এ প্রতীক কেউ নিতে পারবেনা। আমার যখন খুশী তা ব্যবহার করতে পারবো। জাসদের পরিচয় ও প্রতীক অটুট রয়েছে। নিবন্ধিত দল হওয়ার ফলে জাসদের আর কোন ভয় নেই। আমার দলে কারা এর বিরোধিতা করেছে তা আমার জানা নেই। আগামী জানুয়ারী মাসে ১০ দিন ধরে দলের সম্মেলন হবে। নির্বাচনে আমরা ভুল করেছি এ ধরনের কোন কথা কেউ বললে আমরা দেখবো। তবে দলের নেতা কর্মীরা তিনটি আসনেই আনন্দের সঙ্গে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল। এর মধ্যে দুইটি আসনে আমরা বিজয়ী হয়েছি। কোন জেলা কমিটিতো নৌকা প্রতীক নেয়ার জন্য প্রতিবাদ করেনি। অথবা রেজুলেশন করে কেন্দ্রে পাঠায়নি।
সায়েম: আপনার নির্বাচনী এলাকায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ থেকে কোন সহযোগিতা পাচ্ছেননা বলে জানি। বাস্তবে পরিস্থিতি কি?
ইনু: তৃণমুলের আওয়ামী লীগের সাচ্চা নেতা কর্মীরা আমার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছেন। আওয়ামী লীগের মতো বড় দলে সুযোগ সন্ধানী কচুরিপানার মতো কিছূ লোক সবসময়ই আসা যাওয়া করে। এরা হয়ত আমাকে সমর্থন করছেনা।
সায়েম: সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে সরকারের প্রতি আপনাদের সমর্থন অব্যাহত রাখবেন কিনা? করলেও এ সমর্থন কতদিন থাকবে?
ইনু: ২০২১ সালে স্বাধিনতার ৫০ বছর পুর্তি হবে। আমি বলবো- দেশকে জঙ্গিবাদ, মৌলবাদ, দলবাজি ও লুটপাটের রাজনীতি থেকে বের করে আনতে হলে এই ১২ বছর অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক সরকার দরকার। তা করতে হলে ২০১৪ ও ২০১৯ সালের নির্বাচনে অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক সরকারকে ক্ষমতায় আনতে হবে। এটা করতে গেলে মহাজোটের যে ঐক্য তা শুধু অটুটই রাখলে হবেনা, একসঙ্গে কাজ করে যেতে হবে যাতে দুটি নির্বাচনেই বিজয় আনা যায়। সেই বিজয়ের ওপর দাড়িয়েই কেবল ৩৮ বছরের জঞ্জাল পরিস্কার করা সম্ভব। মহাজোটের ঐক্য ওই দুটি নির্বাচন পর্যন্ত অটুট রাখাই আমার পরামর্শ। কারণ নির্বাচনে পরাজিত জঙ্গিবাদী, সাম্প্রদায়িক, চার দলীয় জোটের চক্র নির্বাচনে পরাজিত হলেও রাজনীতির মাঠ ছাড়েনি। তারা পিছু হঠেছে মাত্র। এ চক্রকে বিনাশ করতে হলে '১৪ ও '১৯ সালে নির্বাচনে তাদেরকে পরাজিত করতে হবে। এজন্য ওই সময় পর্যন্ত অসাম্প্রদায়িক রাজনীতির ঐক্য দরকার।
সায়েম: আপনি একটি সংসদীয় স্ট্যান্ডিং কমিটির সভাপতি হিসেবে আপনি নিজেকে কিভাবে উপভোগ করছেন? কোন বাধার সম্মুখিন হচ্ছেন কিনা ?
ইনু: আমার কমিটি অত্যন্ত চমৎকারভাবে কাজ করছে। কোন বাধার সম্মুখিন হইনি। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, মন্ত্রী ও সচিবরা আমাদের প্রস্তাবগুলো দক্ষতার সঙ্গে গ্রহন করেছে। আমাদের মধ্যে কোন বিরোধ নেই। আমরা আমরা একে অপরের সম্পূরক হিসেবে কাজ করছি।
সায়েম: আপনাকে ধন্যবাদ।
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা ডিসেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৩:২৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



