somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সেক্টর কামান্ডারস ফোরামের কার্যক্রমকে আমরা গুরুত্ব দিয়ে দেখিনা। তারা কারা? --মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

০১ লা জানুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৩:০৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কাজী সায়েমুজ্জামান: বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সেক্টর কামান্ডারস ফোরামের কার্যক্রমকে আমরা গুরুত্ব দিয়ে দেখিনা। তারা কারা? তাদের আইনী ভিত্তিটা কি? তারা কাদের এজেন্ডা বাস্তবায়নে নেমেছে তাও দেখতে হবে। সরকার যেভাবে হাইকোর্ট সুপ্রীম কোর্টে হস্তক্ষেপ করছে তাতে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ব্যাপারে তাদের ওপর আস্থা রাখা যায়না।
ইংরেজী দৈনিক নিউ এজ এর বাংলা প্রকাশনা সাপ্তাহিক বুধবারের অফিসে এ প্রতিবদেকরে কাছে দেয়া এক সাক্ষাতকারে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম একসময় বাম রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তিনি পূর্ব পাকিস্থান ছাত্র ইউনিয়নের প্রচার সম্পাদক ছিলেন। পরে ঢাকা কলেজে শিক্ষকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন। তিনি ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য। তার বাবা মির্জা রুহুল আমিন ছিলেন সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী। চাচা মির্জা হাফিজ ছিলেন সংসদ সদস্য, সংসদের স্পিকার। তিনি নিজেও সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ২০০১-২০০৬ মেয়াদে। পালন করেন কৃষি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব। জিয়াউর রহমান আমলে তিনি চুক্তিভিক্তিক চাকরি নিয়ে মন্ত্রণালয়ে যোগ দেন। একজন মন্ত্রীর এপিএস হিসেবে কাজ করেন। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন তুঙ্গে থাকাকালে ১৯৮৯ সালে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান থাকাকালীন সময়ে যোগ দেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে। ১৯৯২ সালে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পান। পরবর্তীতে মেধা ও দক্ষতা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে দায়িত্ব দেয়া হয় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের। সেখান থেকে সরাসরি তারেক রহমানের স্থলাভিষিক্ত। বলা হয়, বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক যিনি একসময় বাম রাজনীতি করতেন, আব্দুল মান্নান ভূইয়ার শুণ্যতা পূরণ করতেই আরেক সাবেক বাম মির্জা ফখরুল ইসলামকে আনা হয়েছে। তিনি মহাসচিব পদেরও একজন উজ্জ্বল প্রার্থী।
সাক্ষাতকারে মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, তরুন প্রজন্মের ওপর আমাদের যে প্রভাব ছিল তা গত নির্বাচনে দেখা যায়নি। আমাদের দলে যোগ্য নেতৃত্বের সমস্যাটাই বেশি। যোগ্য নেতৃত্ব গড়তে সংগ্রহীত বিএনপির সদস্যদের ডাটাবেজ করা হবে। এদের প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। তিনি বলেন, বিএনপি কোন ধর্ম নিরপেক্ষ রাজনৈতিক দল নয়। তবে আমাদের ঘোষণাপত্রে প্রগতিশীলদের চাইতেও অনেক ভালো চিন্তাভাবনা রয়েছে।মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ সময় দলের কাউন্সিল, দল গঠনে নিজের ভাবনা, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জাতীয়তাবাদী বিকাশসহ বিভিন্ন ইস্যুতে কথা বলেন। তার পুরো সাক্ষাতকারটি এখানে উপস্থাপন করা হলো-
কাজী সায়েমুজ্জামান: আপনি বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব নির্বাচিত হয়েছেন। দলের একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাহীর দায়িত্ব পেয়েছেন। এ ক্ষমতা দিয়ে দলকে কিভাবে গোছাবেন ?
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর: কাউন্সিলের পর দলের নেতাকর্মীরা পুণরুজ্জীবিত হয়েছেন। ওয়ান ইলেভেনের পর আমাদের দল একটু বিপর্যয়ের মুখে পড়েছিল। দলের চেয়ারপারসন, যুগ্ম মহাসচিবসহ সবার বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে জেলে পাঠানো হয়েছিল। কেন্দ্র থেকে তৃণমুল পর্যায়ে নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছিল। এরপর নির্বাচনের ফলাফলেও স্বাভাবিকভাবে নেতাকর্মীরা একটু হলেও হতাশ হয়ে পড়েছিল। এর পর চেয়ারপারসন তার রাজনৈতিক দূরদৃষ্টি ও প্রজ্ঞা দিয়ে সব কমিটি ভেঙ্গে দিয়ে তৃণমুল পর্যায় থেকে কাজ শুরু করলেন। তৃণমূল পর্যায়ে ব্যালট পেপার তৈরী করে পর্যন্ত নির্বাচিত করতে হয়েছে। প্রথমে কমিটি পরে কাউন্সিল করলেন। আমাদের অনেক দিন ধরেই কাউন্সিল হয়নি। একারণে দল এখন আগের চেয়ে শক্তিশালী। বিএনপির যেসব সমস্যা রয়েছে তা একদিনে সমাধান করা যাবেনা। এককভাবেও করা যাবেনা। সম্মিলিতভাবে করতে হবে। আমরা আশা করছি এ মাসের মধ্যেই পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষনা করা হবে। জানুয়ারী মাসেই আমাদের দলের নির্বাহী কমিটির বৈঠক হবে। এর মাধ্যমেই আমাদের দলের পরবর্তী সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক কর্মসূচী নির্ধারণ করা হবে। তখন থেকেই আমরা জনগণের কাছে আরও বেশি পৌছে যেতে সম হবো। আমাদের দলের স্থায়ী কমিটিতেও বেশ কিছু তরুন সদস্য এসেছেন। সম্পাদকদের মধ্যেও তরুনরা রয়েছেন। আমি মনে করি সম্মিলিত উদ্যোগ দিয়ে আমরা দলকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সক্ষম হবো।
সায়েম: আপনার পরিকল্পনা কি?
মির্জা ফখরুল: আমার এককভাবে কোন পরিকল্পনা থাকলেতো আর চলবেনা। সব বিষয়েই দলের অনুমোদন লাগবে। আমি যেটা চিন্তা করেছি তা হলো- আমাদের সদস্য সংগ্রহ কর্মসূচী সফল হয়েছে। প্রতি ওয়ার্ডে কমপক্ষে একশ জন নতুন সদস্য সংগ্রহ করা হয়েছে। সেই হিসেব করলে প্রতিটি ইউনিয়নে কমপে এক হাজার সদস্য করা হয়েছে। আমার এলাকায় প্রতি ইউনিয়নে দুই হাজার দুইশ জন সদস্য হয়েছে। আমরা এসব সদস্যদের ডাটাবেজের আওতায় আনতে চাই। এসব সদস্য দলের জন্য নিশ্চিত হয়ে যাবে। এখন একজন সদস্য যদি তিনজনকে দলের সদস্য করতে পারেন তাহলে প্রতি ইউনিয়নেই ৬৬০০ বিএনপির আসল কর্মী হয়ে যাবে। এর মাধ্যমে আমরা ভোটের সময় লাভবান হবো। এছাড়াও জাতীয়তাবাদী দলের যে রাজনৈতিক আদর্শ, দর্শন রয়েছে তা নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রতিষ্ঠত করবো। এজন্য একটি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করবো। জিয়াউর রহমান কয়েকটি কোর্স করেছিলেন। তিনি মারা যাওয়ার পর ওই কর্মসূচীকে ফলো আপ করা হয়নি। আমরা তৃণমূল পর্যায় থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত এটা চালু করতে চাই। সেখানে পরীারও ব্যবস্থা থাকবে। যারা ভালো করবে তাদের পুরস্কার দেয়া হবে। এভাবে তাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে আমাদের রাজনৈতিক আদর্শ, দর্শন ও কর্মসূচীকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবো। আমরা আমাদের দলকে জ্ঞানভিত্তিক রাজনৈতিক দল হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। বর্তমান প্রেক্ষাপটে এটা খুবই দরকারী।
সায়েম: দলের মধ্যে সাংগঠনিক ও রাজনৈতিকভাবে কেন্দ্র থেকে পরিধি পর্যন্ত কি কি সমস্যা রয়েছে বলে আপনি মনে করেন যা আপনাকে সমাধান করতে হবে?
মির্জা ফখরুল: আমাদের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেজ্ঞ হলো যা আমরা বিগত নির্বাচনে ল্য করেছি তা হলো- তরুন প্রজন্মের ওপর আমাদের যে প্রভাব ছিল তা এবার তুলনামূলকভাবে কম দেখতে পেয়েছি। তরুন প্রজন্মের কাছে যাওয়া যায় বা তারা তা গ্রহণ করবে এ ধরনের কর্মসূচী নিয়ে তাদের কাছে যেতে চাই। যুবদলকে আরো বেশি শক্তিশালী করতে চাই। ছাত্রদের মধ্যে আরো রাজনৈতিক সচেতন করে গড়তে চাই। আমার কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হলো তরুন প্রজন্মের কাছে যাওয়াটা। বিশ্ব রাজনীতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে দেশকে এগিয়ে নেয়ার মতো যেগ্য নেতা তৈরী করাও বড় চ্যালেঞ্জ। দলের নেতৃত্ব যিনি দেবেন তাকে বর্তমান বিশ্বের সমস্যাগুলো যিনি মোকাবেলা করতে পারা মতো যোগ্য হতে হবে।
সায়েম: তাহলে আপনাদের দলে যোগ্য নেতৃত্বের অভাবকেই কি আপনি বড় সমস্যা বলে মনে করছেন।
মির্জা ফখরুল: হ্যা। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি এটা আমাদের বড় সমস্যা। আমাদের দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি দেশগঠনে বা অন্য দেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য খুব উপযোগী নয়। বিশ্বায়নের প্রতিযোগিতায় যে ধরনের নেতৃত্ব দরকার তা আমাদের নেই। আমি বিএনপি করি আর এরকজন আওয়ামী লীগ করেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখছি আমরা পরষ্পর কোন কথাবার্তা বলিনা। এ থেকে বেরিয়ে আসার জন্য আমাদেরকে চেষ্টা করতে হবে। আমরা এ চেষ্টা করবো।
সায়েম: আপনাদের দলে যাদের বিরুদ্ধে দৃর্নীতির অভিযোগ ওঠেছে তাদের ব্যাপারে আপানদের সিদ্ধান্ত কি?
মির্জা ফখরুল: দুর্নীতির কথা উঠলে বলবো- দলে যখন গণতন্ত্র শুরু হবে তখন দুর্নীতি থাকবেনা। এবার সম্মেলনে এটা দেখেছি।
সায়েম: এবারও সম্মেলন করতে গিয়ে তৃণমূল পর্যায়ের প্রতিনিধিরা দলের নির্বাহী নির্বাচনে তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ না করে চেয়ারপারসনের হাতে তুলে দিয়েছেন। এটা কতটা গণতান্ত্রিক হয়েছে?
মির্জা ফখরুল: এই বিষয়টি নিয়ে আমার ব্যক্তিগত কিছু কথা রয়েছে। গণতন্ত্রের সম্পর্কে আমাদের ধারনা সম্পূর্ণ পশ্চিমা ধাচের। যেকোন একটি বিষয়ের ওপরে শতকরা একশ জন লোক একটি রায় দিলে সেটা কি গনতন্ত্র হবেনা ? এটা অবশ্যই গণতন্ত্র। সেখানে একশ জন কাউন্সিলরই বললেন যে, অমুককে আমরা সভাপতি করতে চাই। সেটা একশ ভাগ গণতন্ত্র হবে। আামদের দলের সংবিধান অনুযায়ী আমাদের চেয়ারপারসন নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি নির্বাচন করেই এসেছেন। এখন ওনাকে সব কাউন্সিলর দায়িত্ব দিচ্ছেন আপনি আপনার সহকর্মীদের সিলেক্ট করবেন। এটাকে আমি অগণতান্ত্রিক মনে করিনা। এটা এ কারণে যে, যদি সংসদে প্রধানমন্ত্রী সংসদ নেতা নির্বাচিত হন তাকে দায়িত্ব দেয়া হয় মন্ত্রীদের সিলেক্ট করার জন্য। ওবামা মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। তার মন্ত্রীরা কিন্তু নির্বাচিত হয়ে আসেননা। ওইটাকে গণতান্ত্রিক বললে এটাকেও বলতে হবে। পশ্চিমা গণতন্ত্র ছাড়াও তো গণতন্ত্র রয়েছে। এমনকি সমাজতান্ত্রিক দেশগুলোতেও গণতন্ত্র রয়েছে। আমাদের কাউন্সিল কোন ক্রমেই অগণতান্ত্রিক হয়নি। কাউন্সিলররাই চেয়ারপারসনকে দায়িত্ব দিয়েছেন। আর তিনি এককভাবেই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সেটাও ঠিকনা। তিনি আলাপ আলোচনার মাধ্যমেই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কিছুর বাইরে চিন্তা করা করা যাবেনা এটা হতে পারেনা। এ নিয়ে দেশব্যাপী সমাালোচনাটা কারা করেছে? এ কথাগুলো বেশিরভাগ েেত্র বিএনপির সমালোচকরা বলেছেন। আওয়ামী লীগের লোকজন এটা বলছে। তথাকথিত সুশীল সমাজের লোকজন বলেছে। আমি এ নিয়ে সমালোচনাকে যথার্থ মনে করিনা।
সায়েম: কবে নাগাদ আপনাদের সংগঠন সত্যিকারের গণতান্ত্রিক হয়ে উঠবে?
মির্জা ফখরুল: আমি মনে করি আমাদের কাউন্সিল গণতান্ত্রিক হয়েছে। দলের তিন হাজার কাউন্সিলর ও ১৫ হাজার ডেলিগেট সেদিন উপস্থিত ছিলেন। চেয়ারপারসনের ওপর তাদের পুরো আস্থা ছিল। তারা তাকে দায়িত্ব দিয়েছেন। আপনারা হয়নি বললেতো হবেনা। গণতন্ত্র সুনির্দিষ্ট কোন জিনিস নয়। আপনি বলছেন পশ্চিমা গণতন্ত্রের কথা। আর আমি আমার দলের গণতন্ত্রের কথা বলছি। যেখানে যা খাপ খায় তা দেখতে হবে। আমার দলের জন্য এই গণতন্ত্র উপযোগী। এখন পর্যন্ত দলের সবাই মেনে নিয়েছে। এখানে অগণতান্ত্রিক কিছু দেখতে পাচ্ছিনা।
সায়েম: বর্তমান আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের রাজনীতি, অর্থনীতি ও সংস্কৃতির জাতীয়তাবাদী বিকাশের বাধাগুলো কি কি?
মির্জা ফখরুল: প্রথম সমস্যা হচ্ছে বর্তমান বিশ্ব রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সাম্রাজ্যবাদ একটি বড় রকমের ভূমিকা রাখছে। গণতন্ত্রের কথা বলে নিজের স্বার্থে ও বাজারের স্বার্থেই এ ভূমিকা রাখছে। তারা ইরাক দখল করে রেখেছে। আফগানিস্তানে ঢুকেছে। পাকিস্থানকে নাস্তানাবুদ করে ছেড়ে দিচ্ছে। ইরানকে হুমকী দিচ্ছে। এটা জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী দেশগুলোর জন্য বড় সমস্যা। পরেরটি হলো আধিপত্যবাদের সমস্যা। বিশেষ করে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে বড় রকমের সমস্যা হলো আমাদের পাশে বড় একটি দেশ রয়েছে। তারা বিভিন্ন ক্ষেত্রেই তাদের প্রভাব আশপাশের দেশগুলোর ওপর রাখতে চায়। এটা আমাদের জাতীয়তাবাদের বিকাশের জন্য রকমের সমস্যা। সার্ক সফল হচ্ছেনা। এর পেছনে কারণ হচ্ছে বড় দেশটি। তাদের কারণেই কোন সমস্যার সমাধান হয়নি। সাম্রাজ্যবাদের প্রতিনিধি হয়ে কাজ করছে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ। এছাড়াও আন্তর্জাতিক এনজিও রয়েছে। তাদের প্রেসক্রিপসন ছাড়া চলা যায়না। এরা সাম্রাজ্যবাদ ও আধিপত্যবাদের পক্ষে কাজ করছে। এটাও একটা সমস্যা। দেশের মধ্যে জাতীয়তাবাদ চাইলে জাতীয় পুঁজির বিকাশ ঘটাতে হবে। তাকে কিছু স্বাধীন সুযোগ সুবিধা দিতে হবে। পাট শিল্প তাদের কারণে এগিয়ে নেয়া সম্ভব হয়নি।
সায়েম: এ সকল বাধা অপসারণের জন্য রাজনৈতিকভাবে কি কি কর্মসূচী নিচ্ছেন বা নিবেন ?
মির্জা ফখরুল: আমরাতো নীতিগত ও আদর্শগতভাবে জাতীয়তাবাদী। এর বিকাশে রাজনৈতিক ব্যাপারটাতো থাকছেই। আমরা যখন রাষ্ট্র পরিচালনা করবো সরকার এর বিকাশে সকল উদ্যোগ নেবে। আপনি খেয়াল করে দেখবেন ব্যক্তিমালকানাধীন খাতকে কোন সরকারই পরিচর্যা করেনি। তবে তুলনা করলে যেটুকু হয়েছে তা বিএনপির অবদান। প্রতিটি সরকারের আমল হিসেব করলে দেখবেন বিএনপির আমলেই সবচেয়ে বেশ কলকারখানা হয়েছে। আজকের যে বিকশিত গার্মেন্টস শিল্প দেখছেন এতে জিয়ার অবদানের কথা সবার স্বীকার করতে হবে।
সায়েম: কিন্তু আদমজী জুটমিল আপনাদের সরকারের জন্যতো একটি কলংক তিলক হিসেবে রয়ে গেছে।
মির্জা ফখরুল: আদমজী জুটমিল একটা লুজিং কনসার্ন ছিল। অর্থনীতির কারণেই ওই মিলকে বন্ধ করতে হয়েছে। তবে এর বিপরীতে অনেক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হয়েছে।
সায়েম: এশিয়ান হাইওয়ের ব্যাপারে প্রস্তাবিত রুটগুলোর মধ্যে কোনটি দেশের স্বার্থের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ ?
মির্জা ফখরুল: আমরা বহুবার বলেছি যে রুট বাংলাবান্ধা হয়ে টেকনাফ থেকে বের হয়ে যাবে সেটাই দেশের স্বার্থের সংগে সংগতিপূর্ণ। আর বাকী যে দুটি রুট বর্তমান সরকার অনুমোদন করছে তাকে আমরা এশিয়ান হাইওয়ে বলিনা। এটা আসলে পশ্চিম ভারত থেকে পূর্ব ভারতে যাওয়ার করিডোর।
সায়েম: এ ব্যাপারে জনমত প্রতিষ্ঠায় বিবৃতি ছাড়া আপনাদের অন্যকোন সক্রিয় ভূমিকা দেখা যাচ্ছেনা কেন?
মির্জা ফখরুল: আমরা এটার প্রতিবাদ করেছি। আমরা সাংগঠনিকভাবে দল গোছানোর জন্য ব্যস্ত ছিলাম। এর মধ্যেও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে লেখালেখিসেমিনার সিম্পোজিয়াম ও সমাবেশ করেছি। বিএনপি একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল। প্রতিবাদের ভাষা রয়েছে। আমরা সেভাবে প্রতিবাদ করবো। টিপাইমুখ বাধ নিয়ে চেয়ারপারসনসহ দলের সবাই সোচ্চার ছিলেন। তিস্তা বা ফারাক্কা ইস্যুতে সরসময়ই আমরা বক্তব্য রেখেছি। দেশের প্রতিটি মানুষ এখন জানে টিপাইমুখ বাধ বা করিডোর হলে কি ক্ষতি হবে। আমরা মানুষকে এর কুফল জানিয়েছি।
সায়েম: ভারতের সঙ্গে আশু চুক্তি নিয়ে অনেক বিতর্ক রয়েছে সমাজের একটি বিরাট অংশ বলছে অধিকাংশ চুক্তিগুলো দেশের স্বার্থ বিরোধী। এ নিয়ে জনমত গঠনেও আপনাদের কোন উদ্যোগ লক্ষ্য করা যাচ্ছেনা কেন?
মির্জা ফখরুল: প্রধানমন্ত্রী ভারত সফরে গিয়ে কি কি চুক্তি সই করবেন এটা কেউ জানেনা। আমরা জানানোর জন্য বলেছি। এ সফরে চুক্তির সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনে তাদের নিজস্ব নিরাপত্তা সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কিনা তা জানিনা। এর নিরাপত্তা দেয়ার জন্য কারা আসছে তাও জানিনা। পরিস্কার কিছুতো সরকার জানাচ্ছেনা। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখনো জানায়নি প্রধানমন্ত্রী ভারত গিয়ে কি কি চুক্তি করবেন। টেলিভিশনে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য শুনেছি। তিনি বলেছেন, নদীগুলো নিয়ে কথা বলবেন। তিস্তা নদী নিয়ে কথা বলবেন।
সায়েম: এসব নদীর পানির বিষয়ে বিএনপির সুপারিশ কি?
মির্জা ফখরুল: নদীর পানি চুক্তিতে দেশের স্বার্থের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ কি কি থাকতে পারে, আমাদের সুপারিশ কি হবে তা এখনো ঠিক কিরনি। এর ওপর আগে কাজ করতে হবে।
সায়েম: বিএনপি প্রথম বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের কথা বলে বাঙালিসহ অন্যান্য জাতিসত্ত্বাকে একত্রিত করার কথা বলে। বর্তমানে নেতৃত্বের বিরাট একটি অংশ ইসলামী জাতীয়তাবদের সঙ্গে দলটিকে সমার্থক করে তুলেছে। এ ব্যাপারে আপনার বক্তব্য কি?
মির্জা ফখরুল: আমাদের দল একটি শতভাগ জাতীয়তাবাদী সংগঠন। দলের ঘোষণাপত্রেই পরিস্কার করে বাংলাদেশে বসবাসকারী সকল জাতিকে নিয়ে বাংলাদেশী জাতিয়তাবাদের কথা বলা হয়েছে। এখানে শতকরা ৯৫ ভাগ লোক ইসলাম ধর্মে বিশ্বাস করে আমাদের দল ধর্মীয় স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে। সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ধর্মীয় মূল্যবোধকে আমরা সম্মান দেই। এজন্য সংবিধানে বিসমিল্লাহ সংযোজন করা হয়েছে। যে কারণে বলা হয়েছে আল্লাহর ওপর আস্থা রেখে ন্যায় বিচারের ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনা করা হবে। ৯৫ ভাগ মানুষের ধর্মীয় মূল্যবোধকে সম্মান জানাতেই এসব করা হয়েছে। তবে বিএনপির কোথাও ইসলামী জাতীয়তাবাদের কথা বলা হয়নি। বিসমিল্লাহ সংযোজন জাতীয়তাবাদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয়। তাছাড়া বিএনপি কোন ধর্ম নিরপেক্ষ রাজনৈতিক দল নয়। তবেসকল ধর্মের স্বাধীনতায় আমরা বিশ্বাস করি। আমাদের সমালোচনাকারীরাই আমাদর ইসলামী জাতীয়তাবাদী বলে থাকে। আমাদের ঘোষণাপত্রে প্রগতিশীলদের চাইতেও অনেক ভালো চিন্তাভাবনা রয়েছে। আমরা উগ্র জাতীয়তবাদেও বিশ্বাস করিনা। আমাদের দল হল মধ্যপন্থী ও উদারপন্থী জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক দল।
সায়েম: ধর্মীয় সাম্প্রদায়িক জামায়াতের সঙ্গে আপনাদের রাজনৈতিক গাঁটছড়া বিচ্ছিন্ন হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে কিনা?
মির্জা ফখরুল: গত নির্বাচনে জামায়াতের সঙ্গে আমাদের রাজনৈতিক জোট ছিল। এখনতো কারোর সঙ্গে জোট নেই। যদিও চার দলীয় জোটকে ভেঙ্গেও দেইনি।
সায়েম: এই যে বলছেন জোট নেই আবার ভেঙ্গেও দেননি---এটা কি স্ববিরোধ নয়?
মির্জা ফখরুল: এটা স্ববিরোধ নয়। এজন্য নয় যে এখন আমরা আমাদের কাজ করছি। আমরা দেখবো যে কার সঙ্গে জোট বাধবো। নির্বাচন এমন একটি বিষয় যেখানে আদর্শের ওপর ভিত্তি করে জোট হয়না। আওয়ামী লীগের মতো রাজনৈতিক দলও জামায়াতের সঙ্গে ওয়ার্কিং এলায়েন্স করেছিল। ভারতের জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে কংগ্রেসরে জোট হয়। পাকিস্থান আমলে আওয়ামী লীগ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট বেধে কপ গঠন করেছিল। রাজনৈতিক প্রোপটের ওপর নির্ভর করে আমি কার সঙ্গে জোট করবো বা করবোনা। কার সঙ্গে গেলে জয়লাভ হবে তাও দেখতে হবে। এক সময়ের স্বৈারাচারের সঙ্গেওতো আওয়ামী লীগ এখন জোট বেধেছে।
সায়েম: যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ব্যাপারে আপনাদের সুস্পষ্ট বক্তব্য কি? আপনারা এটা চান নাকি চাননা?
মির্জা ফখরুল: যুদ্ধাপরাধীদের ব্যাপারে আমাদের সুষ্পষ্ট বক্তব্য আমরা দিয়েছি। আমরা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাই। কিন্তু সেটা যেন রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত না হয়। আর সেটা অবশ্যই আন্তর্জাতিক মানের হতে হবে। সত্যিকার যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করতে হবে। বর্তমানে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিচারের নামে যে প্রহসন দেখতে পাচ্ছি সেখানে আস্থা রাখা খুব কঠিন। তারা হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টে পর্যন্ত হস্তপে করছে। বিচারক পর্যন্ত বলছে হাইকোর্ট রাখার দরকার কি? তুলে দিলেইতো হয়। আমাাদেরকেও রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন করেন।
সায়েম: সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম যুদ্ধাপরাধিদের বিচারে সবার সহায়তা চেয়েছে। সত্যিকার যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে তাদের কি সহায়তা দেবেন ?
মির্জা ফখরুল: কিসের সহায়তা? এরা আসলে কারা? তাদের আইনী অবস্থানটা কি? তারা জনগনের কোন অংশকে প্রতিনিধিত্ব করে? এসব আমাদের জানতে হবে। যুদ্ধের সময় তারা একরকম অবস্থানে ছিলেন। এখন আরেক জায়গায়। এর মদ্যে অনেকে বিভিন্ন ঘটনা ও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত হয়ে পড়েছেন। তারা কার এজেন্ডা নিয়ে এসেছেন তাও জানিনা। এ ফোরামের কর্মকান্ডকে আমরা খুব একটা গুরুত্ব দিয়ে দেখিনা।
সায়েম: আপনারা কি মনে করছেননা এটা একটি বড় ইস্যু? ক্ষমতায় গেলে কি এদের বিচারের কোন উদ্যোগ নিবেন?
মির্জা ফখরুল: অবশ্যই মনে করি। আমাদের উদ্যোগের কিছু নেই। আমরাতো বলেই দিয়েছি সত্যিকার যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাই। এটা বর্তমান সরকারের উদ্যোগের ব্যাপার। সরকার আন্তরিক কিনা সেটাই আমাদের প্রশ্ন। এখন পর্যন্ত সরকার আন্তরিকতার কোন প্রমাণ রাখতে পারেনি। কখনো বাড়ি বদলাচ্ছে। কখনো একথা সেকথা বলছে। এর মাধ্যমে এটা পরিস্কার হয়েছে যে তারা এটা করতে চায়না। করলে এতদিনে একটি অবস্থানে আসতেন।
সায়েম: মহাজোট সরকারের এক বছরের মূল্যায়ন কিভাবে করবেন?
মির্জা ফখরুল: মহাজোট সরকার কমবেশী ব্যর্থ হয়ে গেছে। নির্বাচনী ইমতেহারে দেয়া প্রতিশ্র“তির বেশিরভাগের কাছাকাছিও তারা যেতে পারেনি। নির্বাচনের পর দ্রব্যমূল্য কিছুটা স্থিতিশশীল থাকলেও এখন তা নাগালের বাইরে চলে গেছে। আইন শৃংখলা পরিস্থিতিও তাদের নিয়ন্ত্রনের মধ্যে নেই। তারা বিচার বিভাগে হস্তক্ষেপ করছে। চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজি চূড়ান্তভাবে বেড়েছে। অর্থনীতি নিুমুখী। রপ্তানী কমে গেছে। দেশে সামগ্রিকভাবে একটি অস্থীর অবস্থা বিরাজ করছে। তবে কৃষি মন্ত্রণালয়ে কিছুটা সফলতা দেখতে পেয়েছি।
সায়েম: সংসদে যাওয়ার ব্যাপারে বিএনপি কি ভাবছে?
মির্জা ফখরুল: আমরা এ মূহুর্তে সংসদে যেতে চাই। তবে সরকারকে উদ্যোগ নিয়ে একটি পরিবেশ তৈরী করতে হবে।
সায়েম: এটাতো আপনাদের অধিকার। জনগন আপনাদের নির্বাচিত করেছে সংসদে গিয়ে কথা বলার জন্য। আপনারা তা করছেননা কেন?
মির্জা ফখরুল: অধিকার ঠিক আছে। তবে এর সঙ্গে মানসম্ভ্রম জড়িত রয়েছে। আমরা বলেছি চেয়ারপারসনের বাড়ি নিয়ে জটিলতা নিরসন করুন। কারণ এটি সংসদ কার্যক্রমে বাধা হয়ে দাড়িয়েছে। সংসদ থেকে কাগজপত্র যেতে দেয়া হচ্ছেনা। আসনের ব্যাপারে বলেছি। এটাও অমূলক নয়। আমি সরকারে থাকলেতো আসনটি দিয়ে দিতাম। অতীতে বিরোধী দলকে সংসদে আনতে সরকারী দলই উদ্যোগ নিয়েছে। জিয়ার আমলে আওয়ামী লীগ একবার সংসদ বর্জন করলে সরকারের পক্ষ থেকে শাহ মোয়াজ্জেম সবসময় যোগাযোগ রক্ষা করে তাদের সংসদে নিয়ে এসেছিল। অথচ বর্তমান সরকার শুধু গণমাধ্যমে মুখ দেখিয়ে বলে আসেন, আসেন। এ পর্যন্ত তারা কারোর সঙ্গেই যোগাযোগ করেনি। আমাদের চেয়ারপারসনকে একটা ফোনও দেননি।
সায়েম: সংসদ কার্যকর না হলে তা সার্বিকভাবে গণতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর নয় কি?
মির্জা ফখরুল: অবশ্যই ক্ষতিকর। আমরা সেটা স্বীকার করি।
সায়েম: আপনারা কি মনে করেননা যে সরকার আর বিরোধি দল একসঙ্গে না থাকলে ফের গণতন্ত্রের ওপর আঘাত আসতে পারে?
মির্জা ফখরুল: আমি আপনার সঙ্গে একমত। এর আশংকা অবশ্যই থাকে। আমাদের অতীত অভিজ্ঞাতা এ আশংকার কারণ। যখনই সরকার আর বিরোধী দলের মধ্যে বিরোধটি সংসদ থেকে বাইরে গিয়ে দাড়ায় তখন তৃতীয় শক্তি হস্তক্ষেপ করে। এ থেকে আমাদের শিক্ষা নেয়া উচিত। এর যেন পুনরাবৃত্তি না ঘটে সেজন্য সবার সচেতন হওয়া উচিত।
সায়েম: উলফা নেতাদের এদেশ থেকে ধরে নিয়ে যাওয়ার প্রেক্ষিতে তারা হুমকী দিয়েছে। বিষয়টিকে আপানারা কিভাবে দেখেন?
মির্জা ফখরুল: আমাদের কারো সঙ্গে শত্র“তা সৃষ্টি করা উচিত নয়। কেননা আমরা একটি ছোট দেশ। অর্থনৈতিক দিক থেকেও শক্তিশালী নই। আর উলফা একটি সংগঠিত সংগঠন। এটা কোন সন্ত্রাসবাদী সংগঠন নয়, রাজনৈতিক সংগঠন। একটি নির্দ্দিষ্ট উদ্দেশ্য নিয়ে অর্থ্যাৎ তারা আসামের স্বাধীনতার জন্য লড়াই করছে। সেখঅনে উলফার সঙ্গে অযথা সম্মুখ বিরোধে লিপ্ত হওয়ার কোন কারণ খুজে পাইনা। আমরা একে সমর্থন ও করিনি।
সায়েম: আপনাকে ধন্যবাদ।
মির্জা ফখরুল: আপনাকেও।
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা জানুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৫:০৫
১৪টি মন্তব্য ১৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×