১.
কে ওখানে করতলে চিবুক ঠেকিয়ে তাপিত ত্রিকালের
পদধ্বনি শোনে অন্ধকার নিঃশ্বাসের সুরে?
কে ওখানে রাত্রির মাঠে চিৎ হয়ে শুয়ে থাকে
লাল ফুল-ছাপ শাড়ি জড়ানো মূর্তিমান?
‘’কাল আবার দেখা হবে”- ধরিত্রী বলেছিলে হেসে, নাকি
দুঃখকে অতিক্রম করার মতো দুঃখ নিয়ে
বেজেছিল স্বপ্নের সুরে সে কথা!
কতকাল গেল-
বন্ধকী রয়ে গেল জীবনের কাল, ত্রিকাল
বহুদিন পরে দেখা হলে ঝর্ণার জলের মতো
হেসে উঠবে; জল নাকি জলাতঙ্ক?
ধরিত্রীর মুখের মতো থেকে যাবে কাল, ত্রিকাল
বন্ধকী থেকে গেল বন্ধকী থেকে যাবে সব
বুকে চোখ ঘষে উরুদ্বয়ে ঘুম ভেঙ্গে যায় ঘুম
-“দেখা হবে”, বাজে অজস্র হরিতকী বন ছেপে
ঠোঁটে বাজে স্বপ্ন কিংবা কিংখাবে রাখা অজস্র কথা,
ভিতরে জাগ্রত আমি, ধরিত্রী জানে না।
২.
সকালের আকাশ কী মসৃন, বাতাসে কোন মিথ্যে নেই
নক্ষত্রেরা স্থান বদলায় অহোরহ যে যার মতো
বেরিয়ে পড়ে তোমার অমল ধবল মুখ, ধরিত্রী
নীলিমার মতো নিঃস্বতায় ঘিরে ধরে মন
মুখে চিনি নাই চোখে চোখে হয় চেনা
ধরিত্রী এ যেন নদীর মতো চোখ তোমার-
নতুন দৃশ্যের শোভা চাঁহুনীর প্রতি বাঁকে বাঁকে
নদীর মতো নিঃস্ব করেছো আমায়, অথচ
নদীর মতো ছড়ালে না পলি ফের
৩.
সাদা খামে ভরা আকাশী চিঠিটা যখন পৌঁছাবে
এসে আমার অলিন্দে
দেখবে আমি হয়তো কোন এক উত্তাল জনতার মিছিলের
অগ্রভাগে দাঁড়িয়ে;
দু’হাতে তুমুল রোষ ছুঁড়ে মেরে আকাশের পানে আমি
হয়তো জাগাবো জনতা খুব ভীষণ,
উড়াবো ফেস্টুন ছড়াবো স্লোগান শহরের কোণে কোণে
আমি হয়তো হবো সেই প্রতিনিধি বৃক্ষ
যার কাছে সমস্ত বিপ্লবী মন্ত্র সমীপেষু করা যায়
তখন থাকবে ভালোবাসা? দৈহিক?
তখন থাকবে প্রেম? আত্মিক?
ধরিত্রী, বড় দেরী ক’রে চিঠি দিলে তুমি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



