দেশের প্রধানমন্ত্রী তিনি। আছে নানা নিয়ম-নীতি-শৃঙ্খলার অনুশাসন। সব কিছু যেন মুহূর্তে মুছে দিয়ে প্রধানমন্ত্রিত্বের চেয়ে উজ্জ্বলতর হয়ে উঠল এক মমতাময়ী মায়ের আবেগ। রবীন্দ্রনাথের 'সাধারণ মেয়ে'
যেমন আকাঙ্ক্ষা করেছিলেন শরৎচন্দ্রের গল্পের নায়িকার বৃত্ত
ভেঙে সাহিত্যিকের কলমের কল্পনায় অসাধারণ হয়ে উঠতে, তেমনি প্রধানমন্ত্রীও একজন সাধারণ মা হয়ে গেলেন মুহূর্তের গভীর মমতায়। মাতৃস্নেহের এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
নিমতলীর ভয়াবহ অগি্নকাণ্ডে নিঃস্ব-রিক্ত পিতৃমাতৃহীন রুনা আর রত্নাকে নিজ কন্যার মর্যাদা দিয়ে ওদের গণভবনে এনে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিয়ে দিলেন বঙ্গবন্ধু-তনয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই সঙ্গে সংবাদপত্রে খবর
পড়ে আরও এক নিঃস্ব মেয়ে আসমাকেও কন্যাস্নেহে একই অনুষ্ঠানে বিয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী। রুনার বাগদান অনুষ্ঠান ছিল ৩ জুন। সেদিনই অগি্নকাণ্ডে রুনা তার মাসহ স্বজনদের হারান। রুনার ছোট বোন রত্নার বিয়ের তারিখ আগেই নির্ধারিত হয়েছিল ২২ জুন। অন্যদিকে দরিদ্র আসমার বাগদানের কথা ছিল ৪ জুন শুক্রবার। কিন্তু আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায় ওদের সব স্বপ্ন। এই তিন মেয়ের বিয়ের জন্য শাড়ি, গহনা এবং জামাইদের পোশাক-আশাক আর সংসার সাজানোর আসবাবসহ সবকিছুরই ব্যবস্থা করেন প্রধানমন্ত্রী তার ব্যক্তিগত আগ্রহে। বুধবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী সরকারি বাসভবন গণভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে তার এই সর্বস্বহারা তিন কন্যাকে দান করলেন ওদের বরের কাছে। সে এক আবেগঘন অনির্বচনীয় মুহূর্ত। গণভবনের আলোকিত ঔজ্জ্বল্যের বাহ্যিক দৃশ্যাবলীর সব কিছু যেন ম্লান হয়ে গেল মমতাময়ী এক মায়ের গভীর স্নেহের দীপ্তির কাছে। শুধু আনুষ্ঠানিক বিয়ের এ আয়োজনই নয়, গতকাল বিকেলে সংসদ অধিবেশনেও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা আবেগাপ্লুত কণ্ঠে তার এই তিন মেয়ের জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই মানবিক মমত্ববোধ অন্তর্গত আবেগ আর পারিবারিক ঐতিহ্যেরই পরিচয়। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবও ছিলেন অত্যন্ত কোমল হৃদয়ের অধিকারী। তার ছেলেবেলার অসংখ্য মানবিক সহমর্মিতার কথা 'বঙ্গবন্ধুর ছেলেবেলা' বইয়ে লিপিবদ্ধ আছে। কিশোর মুজিব প্রচণ্ড গরমের দুপুরে এক বৃদ্ধ লোককে নিজের ছাতাটি দিয়ে শূন্য হাতে ফিরেছিলেন বাড়িতে। শীতে কষ্ট পাওয়া সহপাঠীকে দিয়ে দিয়েছিলেন নিজের গায়ের চাদর। পরবর্তীকালে রাজনৈতিক জীবনে এমন দয়ার্দ্রতার বহু দৃষ্টান্ত তিনি রেখে গেছেন।
শেখ হাসিনার কলেজ জীবনের সহপাঠিনী সাংবাদিক বেবী মওদুদ জানান, কলেজে দেখেছি যে কারও সমস্যায় তাকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে এগিয়ে যেতে। কারও পরীক্ষার ফরম ফিলআপ কিংবা অন্য কোনো সহায়তায় সবার আগে এগিয়ে এসেছেন শেখ হাসিনা। পরবর্তী জীবনে প্রধানমন্ত্রী হয়েও এই গভীর মমত্ববোধ আর গরিব-দুঃখী মানুষের জন্য সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার এ দৃষ্টান্ত একের পর এক স্থাপন করেছেন তিনি। ১৯৯৬ সালে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব ভার গ্রহণের পরও তার কাছে এসে কেউ খালি হাতে ফিরে যাননি। অনেকে চিকিৎসা সাহায্যের জন্য এসেছেন, কেউ এসেছেন ঘর তোলার সাহায্যপ্রার্থী হয়ে, কেউবা অর্থাভাবে সন্তানকে পড়াতে পারছেন না, মেয়ের বিয়ে দিতে পারছেন না, যে যখন এসেছে, খালি হাতে কাউকে ফিরিয়ে দেননি তিনি।
গণভবনে যে দুস্থ তিনটি মেয়েকে তিনি নিজ কন্যার স্বীকৃতি দিয়ে বিয়ে দিলেন, তা কোনো আকস্মিক ঘটনামাত্র নয়। এ ঘটনা জননেত্রী শেখ হাসিনার গভীর আবেগসঞ্জাত চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যেরই অনিবার্য দৃষ্টান্ত। ১৯৬৬-৬৭ সালে মাসিক ললনা পত্রিকার 'তরুণী কথা' বিভাগে একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন শেখ হাসিনা। ওই সাক্ষাৎকারে তিনি আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছিলেন প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক হওয়ার। এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন, শিশুদের প্রতি তার গভীর স্নেহের কথা। সে জন্যই জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন ১৭ মার্চকে তিনি জাতীয় শিশু দিবস ঘোষণা করেছেন। দিনটি কাটান সমাজের সর্বস্তরের শিশুদের নিয়ে। গভীর মমতায় পথের শিশুদের জন্য রচিত বই 'ওরা টোকাই কেন'-এর পাতায় পাতায় জড়িয়ে আছে এক মমতাময়ী নারীর স্নেহার্দ্র হৃদয়ের পরিচয়।
এসব মানবিক মূল্যবোধ আর গুণাবলিই তাকে তিনটি দুস্থ মেয়ের মা হতে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর আড়ালে যে একজন মমতাময়ী মায়ের গভীর আবেগময় অধিষ্ঠান, সে কথা ভাবতেই মনে পড়ে রবীন্দ্রনাথের কবিতা : সবচেয়ে দুর্গম যে মানুষ আপন অন্তরালে,/তার পূর্ণ পরিমাপ নাই বাহিরের দেশ কালে।/সে অন্তরময়,/অন্তর মিশালে তবে তার অন্তরের পরিচয়।'
আলোচিত ব্লগ
মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪
মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।
মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন
শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন
পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন
“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন
আমাদের গ্রামের গল্প!

আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।