somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সুপ্রিয় বেগম খালেদা জিয়া : জিয়াউর রহমান নিজের পায়ে কুড়াল মেরেছেন , আপনিও কি সে ভুল করবেন ?

২৯ শে নভেম্বর, ২০১১ রাত ১২:২২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



সুপ্রিয় বেগম খালেদা জিয়া ,

আপনার সুদীর্ঘ ২৯ বছরের রাজনৈতিক বিদগদ্ধতার প্রতি শ্রদ্ধা এবং প্রত্যাশা থেকেই ব্লগটি লিখার উৎসাহ বোধ করেছি।

সম্প্রতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগির নতুন প্রজন্মের প্রতি যেভাবে অনলাইনে খোলা চিঠি লিখেছেন তাতে এমনটাও আশা করছি যে ইন্টারনেটের জগতে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের অসংখ্য এবং অকুণ্ঠ ভক্তদের মনঃস্তত্ব কে বুঝতে-জানতে বিএনপি কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব সত্যিকার ভাবেই আগ্রহী।

তাই আশা করি তরুণ প্রজন্মের একজন হিসেবে যা লিখছি দ্বিধাহীন চিত্তে তা আপনাদের দৃষ্টিগোচর হবে।

রাজনীতির সাধারন দর্শক হিসেবে যতটা বুঝি তাতে রাজনীতি এমন এক নীতি যেখানে নীতির সাথে বাস্তবতার আপোষ করা হয় দেশের স্বার্থে।
তবে সেইসব আপোষ অনেক সময় মুলত দেশ-দল কোন স্বার্থেই আসেনা , বরং বুমেরাং হয়।

বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদে গর্বিত নতুন প্রজন্মের কেউই চায়না বিএনপি এ ধরনের বুমেরাং সিদ্ধান্ত নিক.........
বরং এটাই চায় বিএনপি আমাদের চিন্তাধারাকে বুঝুক এবং কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে “অপশন অ্যান্ড অ্যাকশন ” কে অপটিমাইজ করুক...............

এই মুহুর্তে আমরা চাইছি চলমান বেশ কিছু ইস্যুতে বিএনপি বুদ্ধিমত্তার সাথে সেই অপটিমাইজেশনটি করুক যেটি হবে ২০১১'র এক ফোড় ২০১৪'র নির্বাচন পুর্ব দশ ফোড়ের সমান.........

[১] সম্প্রতি কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে অংশ গ্রহন করা উচিত কিনা সেটা নিয়ে বিএনপি কেন্দ্রীয়ভাবে সিদ্ধান্তহীন...............
মূল কারন ইভিএম ব্যবহার এবং সেনাবাহিনী মোতায়েন না করা।
আমরা দৃঢ়ভাবে মনে করি সেনাবাহিনী মোতায়েন না করে এবং ইভিএম ব্যবহার করে যতগুলো নির্বাচন করা হবে সবগুলো বিএনপির বিনা দ্বিধায় বয়কট করা উচিত যদি না 'বিদ্রোহি প্রার্থি'র মত কোন বিকল্প কৌশল বিএনপি অনুসরন করতে চায় নারায়ণ গঞ্জের আইভির মত......
এই ইস্যুতে স্থানীয় বিএনপির রাজনীতিকে কিছুটা ত্যাগ স্বীকার করতে হয় সেটা সত্য।
কিন্তু তার চেয়েও বড় সত্য “নো পেইন , নো গেইন”.........

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর মাত্র ২ বছর......
এবং সামনে সম্ভবত খুব বেশী কোন স্থানীয় / সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন নেইও............
হতে পারে আরও ১০-১৫ টা , হতে পারে আরও কম.........
৩০০ আসনের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মত সর্বোচ্চ স্বার্থের জন্য এই ক্ষুদ্র স্বার্থ গুলোতে স্থানীয় বিএনপির ত্যাগ স্বীকার করা উচিত।
মাত্র ২ বছর ধৈর্য ধারন করাটা খুব একটা কঠিন কিছু হবেনা স্থানীয় বিএনপির জন্য.........

কিন্তু কোনভাবেই ইভিএম এবং সেনা মোতায়েন বিহীন নির্বাচন কে বৈধতা দেবেন না।

ইভিএম পদ্ধতিতে ওয়্যারলেস সিগনালিং কিংবা অন্য যেসব কারিগরি জালিয়াতির সম্ভাবনা শোনা যায় সেগুলোই একমাত্র ঝুঁকি নয়।
আরও যে ঝুকিটি রয়েছে সেটি হল ভোটারদের ভোট প্রদানের সময় দৈব ভুল।



গ্রামাঞ্চলে অনেকেই মেশিনটির ব্যবহার , কিভাবে কোন বাটন টিপতে হবে বুঝে উঠতে পারবেনা , ভোট দিতে গিয়ে ঘাবড়ে যাবে , ফলে ভুল মার্কায় ভোট কাস্ট হওয়ার একটা বড় ঝুঁকি থাকে।

আর সেনা মোতায়েনের ব্যাপারে কোন আপসের তো প্রশ্নই আসেনা।

[২] রোড মার্চের ভাষণ প্রসঙ্গঃ
খুলনা অভিমুখে আপনার রোড মার্চের ভাষণ গুলো এতটাই ভাল হয়েছে যে প্রথম আলো আওয়ামি লীগের গদি বাচাতে শিরোনাম করছে আবোল তাবোল , অপ্রাসঙ্গিক ।
এমনকি রোড মার্চের অবিশ্বাস্য বিশাল জনস্রোতের ছবিও ঠিকমতো ছাপাতে চাইছেনা , কিংবা খারাপ অ্যাঙ্গেল থেকে ছাপাচ্ছে ভয়ে যদি আওয়ামি সরকারের গণেশ এখনই উল্টে যায় জনরোষে , গনঅভ্যুত্থানে.............

এতকিছুর পরও একটা গুরুতর বিষয় আমরা খুজে পাইনি আপনার ভাষণে......
আপনি দলনিরপেক্ষ কেয়ার টেকার সরকার প্রসঙ্গটা আপনার ভাষণে উল্লেখ করলেও খায়রুল হক নামের সেটআপ যে আওয়ামী লীগ রেখে যাচ্ছে কেয়ার টেকার সরকারের জন্য সেটা আপনার ভাষণে খুজে পাইনি.........

অবশ্যই সাধারন মানুষ কে খায়রুল হক প্রসঙ্গে সচেতন করতে ভুলে যাবেননা ।
“খায়রুল হককে মানিনা , মানবো না” শ্লোগান নিয়ে ইঊনিয়ন পরিষদ থেকে শুরু করে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত বিএনপি কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলবে ধীরে ধীরে এটাই প্রত্যাশা করি.........

হাইকোর্টে আওয়ামী লীগ বিচারক নামের যেসব দালালদেরকে বসিয়ে গেছে এদের ব্যাপারে গ্রামের গৃহবধু থেকে শুরু করে অশীতিপর বৃদ্ধ সবাইকে সচেতন করতে হবে.........

ভুলে যাবেন না , ছোট একটা ফুল্কি থেকেই অনেক বড় আগুন লাগতে পারে।

কথা টা বলছি এ কারনে যে আপনার নিশ্চয় মনে আছে ১/১১ এর গোঁড়াটা কোথায় ?
১/১১ এর গোঁড়াটা ২৮ অক্টোবরের লগী বৈঠার বিপদজনক রক্তারক্তিতে নয় , তারও আগে.........
এখনো মনে পড়ে প্রথম আলোর প্রথম পাতায় ডানদিকের এক কলামের খবরটিঃ

বিচারপতি এম এ হাসান কুমিল্লা গিয়েছিলেন গ্রামের বাড়িতে , গ্রামের পার্শ্ববর্তী এক দরবেশের মাজারে যাচ্ছিলেন , সেসময় পথে উনার সংগে স্থানীয় বিএনপির এক নেতার দেখা হয় (ইউনিয়ন কিংবা থানা বিএনপির নেতা), ঐ স্থানীয় নেতাও এম এ হাসানের সাথে একসংগে মাজারে যান।

চিফ জাস্টিসের মত বড় পদে থাকলেই মানুষ যথেষ্ট বুদ্ধিমান হয়না - জাস্টিস এম এ হাসান সেবার সেটা বেশ ভাল করে বুঝিয়েছিলেন আমাদের !

প্রথম আলোতে খবরটি ছাপা হওয়ার পরই সেসময়কার নির্বাচনি রাজনীতির মোটামুটি শান্ত আবহাওয়া পুরোই ওলট পালট হয়ে গেলো !
এরপরই ঘটনা চক্রে ২৮ ই অক্টোবর , তারপর ১/১১ !

সুতরাং খায়রুল হক এবং অন্যান্য যেসব সেটআপ আওয়ামী লীগ রেখে যাচ্ছে সেগুলোর ভালমত খোজ খবর করতে হবে , নাম ধাম উচ্চারন করে মানুষকে সচেতন করতে হবে , কেবল দল নিরপেক্ষ বলাটাই যথেষ্ট নয় !

খায়রুল হক , সুরেন্দ্র , গোবিন্দ , কালা মানিক ওরফে শামসুদ্দিন মানিক, জাকির হোসেন এরা কে কখন কোথায় আওয়ামী রাজনীতির সাথে জড়িত ছিল সেগুলো গ্রামের গৃহবধু থেকে শুরু করে অশীতিপর বৃদ্ধ সবাইকে জানাতে হবে......

শামসুদ্দিন মানিক গোপাল গঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি কিংবা জাকির হোসেন এক্স ছাত্রলীগ নেতা এগুলো দেশে কয়জন জানে ?
এই ব্যর্থতা কার ?
বিএনপির , বিএনপির প্রচার প্রচারনার

[৩] জামায়াত প্রসঙ্গঃ

লেজকাটা শিয়ালের গল্প টা আমরা সবাই জানি। আপনিও জানেন।
এবং যে সত্যিটা কখনই মিথ্যা হবেনা সেটা হল মুক্তিযুদ্ধ ইস্যুতে জামায়াত লেজকাটা।
স্বাভাবিক ভাবে জামায়াত চাইবে অন্যদেরও লেজ কাটা যাক............
সেটা লেজকাটা শিয়ালের মতই ছলেবলে কৌশলে তারা চাইবেই।
এই জায়গাটাতে তাদেরকে কোন ছাড় দেবেন না।

জামায়াতের সাথে বিএনপির ভোটের জোট হয়েছে , কোন আত্নিয়তা হয়নি.........
মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী রাজাকারের পরিবারের সাথে আত্নিয়তা হয়েছে শেখ হাসিনার......

জাতীয় স্বার্থের ইস্যুতে যদি তারা কথা বলতে চায় তবে তারা আসুক , তবে কোন ভাবেই মুক্তিযুদ্ধ প্রসঙ্গ তাদেরকে তুলতে দেবেন না। সেটা তাদের মাথাব্যথা।
জামায়াত পন্থিরা যতই কাচুমাচু মিষ্টি কথাই বলুক , এটা ভুলে যাবেননা তাদের মার্কা দাঁড়িপাল্লা , ধানের শীষ নয়।
তারা রাজনীতির পাকা ব্যবসায়ী............
তারা আওয়ামি লীগের সাথেও বসেছিল ৯৬ তে বিএনপি হটানোর জন্য.........

জামায়াতের ময়লা যদি বিএনপির চাদরে মোছার সুযোগ করে দেন তো সেটা সারা বাংলাদেশের কোটি কোটি জেড ফোর্স অধিনায়ক জিয়াউর রহমান ভক্তের মাথা হেট করে দেবে.........

কিছু রাজাকারের জন্য আপনার দলের অগণিত ভক্তকে আপনি এভাবে অন্যায় আহত করবেন কিনা সেটা আপনার বিবেচনা।

সংগে আরও যেটা না বলে পারছিনা - বিএনপির অতি উদারপন্থাই বিএনপির জন্য কাল হয়েছে সব সময়..................

সবচেয়ে বড় উদাহরনটা হলঃ
জিয়াউর রহমান জামায়াতকে ক্ষমা করে দেয়া এবং উদারতা দেখিয়ে রাজনীতি করতে দেয়া।
সেই কঠিন সময়টাতে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ গুলো থেকে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের স্বীকৃতি আদায় , আজ মিডল ইস্টের ৮০ লাখ শ্রমিকের চাকরি যে জিয়াউর রহমানের অবদান সেই সব সর্বোচ্চ জরুরী সত্য এদেশের আওয়ামি বান্ধব মিডিয়া দেখেও না দেখার ভান করে।
হালের অনেক আওয়ামী পন্থী এবং বাম রাজনিতিবিদ , বুদ্ধিজীবী যারা জিয়াউর রহমানের উদার রাজনীতি এবং রাষ্ট্র নীতির আনুকুল্য পেয়েছেন সেগুলোও এখনকার মিডিয়া ধামাচাপা দেয় !
অবস্থাটা তারা এমনভাবে প্রকাশ করে যেন জিয়াউর রহমান শুধু জামায়াতকেই উদারতা দেখিয়েছেন , আর কাউকে নয় !

অথচ জিয়াউর রহমান যদি জামায়াতকে রাজনীতি করতে না দিতেন তো অটোমেটিক্যালি জামায়াতের ভারত এবং আওয়ামি বিরোধী ভোট গুলো ধানের শীষের বাক্সে আসতো............

জামাত কে উদারতা এবং ক্ষমা করার জন্য জিয়াউর রহমানকে এদেশের ধুর্ত মিডিয়া যেভাবে ডেমোনাইজ করে সেই সুযোগটাও তারা তখন পেতোনা......
হাসিনার স্বাধীনতার পক্ষ-বিপক্ষ নামের রাজনীতির সস্তা স্টান্টবাজির কোন সুযোগ ই থাকতো না !
সবদিক থেকে লাভের ধান বিএনপির গোলায় উঠতো.........
অথচ সেই জামায়াত এখন পাকা ব্যবসায়ির মত তাদের সেই ভোট নিয়ে বিএনপির সাথেই দর কষাকষি করে !

তাহলে ব্যাপারটা দাঁড়ালো কি ?
জিয়াউর রহমান জামায়াতকে উদারতা দেখাতে গিয়ে নিজের পায়ে , নিজের দলের পায়ে কুড়াল মারলেন !

সেসব বুঝেই ধুর্ত শেখ হাসিনা নিজেও জামায়াত কে নিষিদ্ধ করবেনা , আবার নির্লজ্জ্ব আওয়ামি মিডিয়া সেটাকে ধামাচাপা দিয়ে জিয়াউর রহমানকে নিয়ে মেতে থাকবে.........

সেজন্যই অনুরোধ থাকবে এত উদারতা দেখাবেন না জামায়াত কে।
আজ জামায়াতের নেতাদের মুক্তিযুদ্ধ বিরোধিতার ময়লা বিএনপির গায়ে মাখলে কাল একটা চোর এসে বিএনপিতে যোগ দেবে , বলবে বিএনপি যেন তার পক্ষে কিছু বলে।
পরশু আরেক ডাকাত এসে বিএনপিতে যোগ দেবে , বলবে বিএনপি যেন তার পক্ষ হয়ে কিছু বলে।

এভাবে অসতর্ক উদার রাজনীতির দাতা হাতেম তাই হতে গেলে চোর- ডাকাত- জালিয়াত-রাজাকার সবার কলংকের বোঝা কাঁধে নিয়ে বিএনপি ডুবে যাবে.........
বিএনপিকে ডুবিয়ে ভেসে থাকবে ঐসব চোর- ডাকাত- জালিয়াত- রাজাকাররাই............
আর আহত হৃদয়ে সেগুলো চেয়ে চেয়ে দেখতে হবে আমাদেরকে.........
আপনাকে অবশ্যই কঠোর হতে হবে এসব ব্যাপারে.........

বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয়তম দলের নেত্রী এবং জনপ্রিয়তম নেতা জিয়াউর রহমানের স্ত্রী হিসেবে আপনাকে যুদ্ধাপরাধের বিচারের মত চলমান ইস্যুতে ন্যুনতম কিছু বলতেই হবে সেটা আমরাও জানি.........

তবে সেই বলাটা আমাদের তরুণ প্রজন্মের মত করেই হোকঃ

“ যুদ্ধাপরাধের বিচার আমরাও চাই.........
তবে রাজনীতির ফন্দি ফিকিরে এই বিচার নিয়ে ৮৬'র জাতীয় বেইমানের কাছ থেকে কোন নতুন ধোঁকাবাজি চাইনা ।
বিএনপি ক্ষমতায় আসলে একটি জাতীয় ভাবে সর্ব সমর্থিত ' কেয়ার টেকার ' ধাচের ট্রাইব্যুনালের কাছে এই বিচারের ভার দিয়ে দেয়া হবে যাতে জাতীয় এই ইস্যুটির একটি সফল পরিণতি ঘটে “


একই সংগে ৯১ তে গোলাম আযমের সাথে হাসিনার রুদ্ধদ্বার বৈঠক , ৯৬ তে এক টেবিলে আলোচনা করা , রাজাকারের নাতির কাছে মেয়ে বিয়ে দেয়া সেগুলোও মানুষকে মনে করিয়ে দিন............

অন্তত প্রমানিত মুক্তিযুদ্ধ বিরোধীদের স্থানীয় এবং জাতীয় সকল পর্যায়ের নির্বাচনি প্রার্থি যোগ্যতা বাতিল করা হবে এমন ওয়াদা আপনি করে দেখুন তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশ্যে..............

তরুণ ভোটাররা এমনিতেই আওয়ামী লীগ কাকে বলে শিখে ফেলেছে গত ৩ বছরে , বুঝে ফেলেছে ১৯৭২-৭৫ এদের শাসন কেমন ছিল , যারা ১৯৯৬-২০০১ এর সময়টা দেখেছে কিন্তু টের পায়নি তারাও এবার হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছে.........
আপনি এধরনের একটি ওয়াদা করে দেখুন , বিএনপির পালে তরুণ ভোটারদের দমকা হাওয়া এসে লাগবে..........

আপনি জামাতকে সোজাসাপ্টা শর্ত দিয়ে দিন আন্দোলনে থাকতে চাইলে যুঅবি আব্দার বাদ দিয়ে থাকতে হবে , নইলে নয়.........
আপনি সালাউদ্দিন কাদের কে নিয়ে ভাবছেন ?
সালাউদ্দিন কাদের বিএনপির দুর্নাম ছাড়া কি সুনামটা তৈরী করেছেন কবে ?
হাসিনা যদি জয়নাল হাজারী , মোফাজ্জল মায়া দের কে ত্যাগ করতে পারে তাহলে আপনি কেন পারবেন না ?
সালাউদ্দিন কাদেরের স্ত্রী আপনাকে অনুনয় বিনয় করছে ?

আপনার ছেলে তারেক রহমানকে যখন টর্চার করে শেষ করে দেয়া হচ্ছিলো আপনি কার কাছে অনুনয় করতে পেরেছিলেন ?
তারেক রহমানকে অমানুষিক টর্চার করায় সালাউদ্দিন কাদের কিংবা তার স্ত্রীর কিছু আসে যায় ?
তারা আপনার সমব্যথি ছিলো তখন ?

আপনাকে বিএনপির জন্য স্বার্থপর হতে হবে।
বিএনপির ভোট ব্যাংক বাড়ানোর জন্য স্বার্থপর হতে হবে.........
আপনাকে যারা মাঠের রাজনীতি বোঝায় তারা এটা বোঝায় না যে মাঠের রাজনীতিতে কেবল সমাজের নিম্ন বিত্ত এবং নিম্ন মধ্যবিত্তদের রেসপন্সটা টের পাওয়া যায়.........

কিন্তু বাংলাদেশের সিংহ ভাগ শিক্ষিত মধ্যবিত্তরা -
যারা ভবিষ্যৎবাদি এবং ধর্মভীরু,
যারা আওয়ামী লীগের মত হাঙ্গামা গুন্ডামি মাস্তানির উচ্ছশৃংখল ,হীনমন্য দলকে তীব্রভাবে ঘৃনা করে,
যারা জিয়াউর রহমানের অকুণ্ঠ ভক্ত এবং জিয়া পরিবারের দুঃসময়ের সমব্যথী ,
যারা বিএনপিকে সফল দেখতে চায় দেশ চালানোয় যাতে বাধ্য হয়ে আওয়ামী লীগের মত একটা নষ্ট দল কে ক্ষমতায় দেখতে না হয়
তারা কি ভাবছে সেটা কি আপনাকে কেউ বোঝায় ?

তারা বিএনপির সাথে জামায়াতের অতি সখ্যতায় মোটেই খুশি নয়.........
আমি নিজেও একটি শিক্ষিত মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান হিসেবে আপনাকে গ্যারান্টি দিয়ে এটা বলতে পারি.........
যে পরিবারটি আপাদ মস্তক জিয়াউর রহমানের ভক্ত , জিয়া পরিবারের সত্যিকার শুভাকাঙ্খি আরও অনেক বাংলাদেশী পরিবারের মত......
আপনাকে গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি নতুন প্রজন্ম কোনভাবেই জামায়াতকে পছন্দ করেনা........
জামায়াত রাজনীতির ব্যবসায়ী , কূটবুদ্ধিতে তারা ৭১ থেকেই দুর্দান্ত , তাদের সাথে ব্যবসায়িক সম্পর্ক রাখুন.........
নিজের লাভ আগে বুঝে নিন , বিএনপির লাভ আগে বুঝে নিন দয়া করে............

তরুণ ভোটারদেরকে যদি আপনি নাখোশ করেন , হতাশ করেন কেবল জামাতের মত একটি কয়টা সিট পেলো আর কয়টা মিনিস্ট্রি পেলো সেই হিসাবে পাকা সেয়ানার জন্য তাহলে আপনিও জিয়াউর রহমানের মত অতি উদারতার ভুলের পুনরাবৃত্তি করলেন.........
নিজের পায়ে কুড়াল মারলেন , নিজের দল বিএনপির পায়ে কুড়াল মারলেন.........
দাতা হাতেম তাইয়ের মত বিএনপির গায়ের গোশত খাইয়ে কোন নিরিহ হরিন নয় , জামাতের মত শিয়াল কে বাচালেন।

অন্যদিকে নতুন প্রজন্মের ভোটার যারা জামাতকে মোটেই পছন্দ করেনা তাদেরকে নিজের হাতে আওয়ামী লীগের দিকে ঠেলে দিলেন যারা মুখিয়ে ছিল বিএনপির দিকে আসার জন্য , কেবল মুক্তিযুদ্ধ এবং জামাত ইস্যুতে আপনার কাছ থেকে একটি স্বচ্ছ অবস্থান চাইছিল...............

বিএনপির এখন চলমান আন্দোলন যদি এক মন দুধ হয়ে থাকে তাহলে জামায়াতের রাজাকার নেতাদের পক্ষে কথা বলা মানে সেই দুধে তেতুল ঢেলে দেয়া......

দিনে দিনে জমতে থাকা প্রচণ্ড জনরোষ আর বিএনপির রোডমার্চে প্রবল জনস্রোত দেখে আওয়ামী বান্ধব মিডিয়া এমনিতেই কথা ঘুরানো হেড লাইন করছে , তারা বিএনপির বিপক্ষে হেড লাইন খুজছে............
এই অবস্থায় নিজামি - মুজাহিদ-সাইদিদের পক্ষে নাম উচ্চারন করে কথা বলা মানে আপনি নগদে তাদেরকে সেই হেড লাইনটা দিয়ে দিলেন !

আরও একটি গুরুত্বপুর্ন ব্যাপার হলঃ
দীর্ঘদিন পর মিডিয়ায় এখন হেড লাইন হচ্ছে বিএনপির রোড মার্চ.........
বিএনপি জামায়াতের রোডমার্চ নয় কিন্তু.........
এটি সারাদেশে বিএনপির নেতা কর্মিদের কে আত্নবিশ্বাসি করছে , চাঙ্গা করছে.........
জামায়াতের রাজাকার নেতাদের পক্ষে কিছু বললে আপনি তাদের এই আত্নবিশ্বাসী হয়ে ওঠার , চাঙ্গা হয়ে ওঠার ক্ষতি করবেন......

জামাতের ৭১'র স্ক্যান্ডাল তাদের নিজস্ব মাথা ব্যথা , এটা আপনি আপনার নিজের দলের দল বিএনপি উপর চাপাচ্ছেন কেন ?

তারা আপনাকে যতই নেত্রী - মহারানী বলে কাচু মাচু করুক , তাদের মার্কা দাঁড়িপাল্লা , ধানের শীষ নয় , তারা তাদের মার্কার হিসাবে পুরোই হুঁশিয়ার , সর্বোচ্চ সেয়ানা !

যার পাপ তাকেই খণ্ডাতে দিন.........

ভুলে যাবেন না জিয়া পরিবারের আসল বন্ধু সারা বাংলাদেশে অগণিত জিয়াউর রহমান ভক্তরা......
ঐসব নেতারা নন যারা এখন জামাতের জন্য আপনার কাছে ওকালতি করছে , অথচ যাদেরকে আপনি তারেক রহমান গ্রেফতার হওয়ার রাতে ফোন করেও পাননি.........
জামায়াতের মত ধুর্ত কোন দল নয় যারা আইএমএফ সরকারের কাছে নিরাপদেই ছিলো, যাদের কারনে ২০০৮ নির্বাচনে বিএনপি অংশ গ্রহণ করে আইএমএফ সরকারের ধোঁকায় পড়েছিলো যার পরিনাম আমরা সবাই গত ৩ বছর দেখেছি.........
তার একটি জিয়াউর রহমানের স্মৃতি বিজড়িত ৬ নং মইনুল রোডের বাড়িটি ধুলিস্মাত হওয়া.........

দেখুন তো এরা কি আসলেই কোন সমস্যায় আছে ?


মুক্তিযুদ্ধে বেইমানি , ১/১১ আইএমএফ সরকার , এখন আওয়ামী সরকারেরে আমল - এদের গায়ে কি কখনো ফুলের টোকাও পড়েছে?
আপনি কাদের পক্ষে কথা বলছেন ?
এবার আপনার ছেলের পরিনতি কেমন হয়েছিলো সেটা মনে করুন :



এটাও ভুলে যাবেন না , জিয়া পরিবারের চরিত্র হনন করা হলে কেবল আওয়ামিরাই খুশি হয়না , আরও একটি দলও খুশি হয়..........
বিএনপিকে সাংগঠনিক ভাবে দুর্বল দেখলে , অলস দেখলে কেবল আওয়ামি লীগ ই খুশি হয়না , আরও একটি দল খুশি হয়..........

অথচ বিএনপি চাঙ্গা হয়ে উঠলে , বিএনপির লাখ লাখ মানুষের সমাবেশে , হাজার হাজার মানুষের মিছিলে এরা এদের রাজাকার নেতাদের প্ল্যাকার্ড নিয়ে , দাঁড়িপাল্লার প্ল্যাকার্ড নিয়ে ঢুকে পড়ে.........
............তারেক রহমান কিংবা আপনার প্ল্যাকার্ড নয় , ধানের শীষের প্ল্যাকার্ড নয় !
স্রেফ বিএনপির কাঁধে চড়ে কাঁঠাল ভেঙ্গে খাওয়া !






ঠিক যেটা আপনাকে মাত্র বলেছি - তারা আপনাকে নেত্রী বলে কাচু মাচু করছে , অথচ তাদের হাতে দাঁড়িপাল্লার প্ল্যাকার্ড , সাইদির প্ল্যাকার্ড , ধানের শীষ নয় , মার্কার হিসাবে তারা পুরোই হুঁশিয়ার , সর্বোচ্চ সেয়ানা

আমি নিশ্চিত আপনার জায়গায় শেখ হাসিনা থাকলে শেখ হাসিনা এদের দিকে ফিরেও তাকাতো না , নিজের দলের স্বার্থই রক্ষা করতো.......
ঠিক এরশাদকে যেমন পুচ্ছেনা , বরং হাসিনার আমলেই এরশাদের বিরুদ্ধে সংবিধানের ৭ম সংশোধনী মামলার রায় হলো........
শেখ হাসিনা নিজের স্বার্থে ১৬ আনা আদায় করে নেয়.......

সেকারনেই সিলেটে ইলিয়াস আলি জামায়াতকে ঠিক যেভাবে ট্রিট করেছেন বাকি সব জেলা পর্যায়ের বিএনপি নেতাদেরও জামায়াতকে সেভাবেই ট্রিট করা উচিত বলে আমরা মনে করি !
সেয়ানা ধুর্ত জামায়াতের ব্যাপারে ইলিয়াস আলির মত হার্ড স্ট্যান্ড বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বেরও থাকা উচিত বলে আমরা মনে করি.........

এই ধুর্ত দলটি এখন বিএনপি নেতৃত্বের ভবিষ্যৎ , জিয়া পরিবার এসব বিষয় নিয়েও আড়ালে আবডালে চোখ টাটায়.........
অনেকটা দুশ্চরিত্র জায়গিরদার কিংবা লজিং মাস্টার যেমন বাড়ির অন্দর মহলে কু দৃষ্টি দেয়.........
আমরা যারা অনলাইনে বিএনপির পক্ষে লেখালেখি করি তারা এমন কয়েকজন নিশ্চিত জামায়াত কর্মির পরিচয় আপনাকে দিতে পারবো যারা বেশ কিছু জায়গায় স্থানীয় বিএনপিতে বিএনপি নেতা সেজে ঢুকে পড়েছে............
সারা দেশেই হয়তো এমনটা ঘটছে , কতটা ঘটছে তার কোন অনুমানও নেই.........

এসবের উদ্দেশ্য কি ?

রাজা আর বাঁদরের গল্প টা ভুলে যাবেন না।
ভুলে যাবেন না মুজাহিদের মত দাতাল রাজাকারের কারনে ফরিদপুরে কামাল ইবনে ইউসুফের নিশ্চিত আসনটি বিএনপির হাতছাড়া হয়েছিল ২০০৮ নির্বাচনে.........
বাঁদর কে লাই দিয়ে মাথায় তুললে এমনটাই হয়.........
এসব ব্যাপারে দয়া করে কঠোর হবেন......

এমনকি সিলেটের রোড মার্চের পর থেকে গরম ভাতে বিড়াল ব্যাজার......
জামায়াতের এখন আর রোড মার্চ ভালো লাগেনা , কারন মুক্তিযুদ্ধ প্রসঙ্গে জামায়াতকে আপনি আর কোন প্রশ্রয় দিচ্ছেননা.........

এমনিতেই এদেশের মিডিয়া অত্যন্ত ধুর্ত আওয়ামী পন্থী......
অহরহ তারা আপনার বক্তব্যের তথ্য বিকৃতি করে থাকে.........
তার একটা নমুনা সংবিধানের সংশোধনী বিষয়ক তথ্য বিকৃতি.........
প্রথম আলো , কালের কণ্ঠ , সমকালের প্রচার করা বিকৃত তথ্য নিয়েই সারাদেশে কি শোরগোল টা লাগিয়ে দিলো গায়ে মানেনা আপনি মোড়ল আওয়ামী মিডিয়া , বুদ্ধিজীবী , সুশীলরা মিলে !

তার উপর জামায়াতের উদোর পিণ্ডি বিএনপির ঘাড়ে চাপাতে মিডিয়ার দিনরাত ছিদ্রান্বেষন চলছেই......
আর এসবে জামায়াতের চাইতে বেশী খুশি আর কেউ হয়না !
কারনটা পুরনো , তারা নিজেরা যেহেতু লেজ কাটা সেহেতু তারা অন্যের লেজ কাটতে নিজেরাও বেশ ধুর্ততার সাথে ব্যস্ত............

আওয়ামী পন্থী মিডিয়ার চাইতে তাদের কূটবুদ্ধি কোন অংশে কম নয়............
আপনারা এত বছরের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা থেকেও বিএনপির লেজকাটার তালে থাকা এই ধুর্ত জামায়াতের ফন্দি ফিকির কৌশল গুলো টের না পেলেও আমরা টের পাই.........

তার ২ টা নমুনা দেখুনঃ

১। ২০১১ রোজার সময় আপনি জামায়াতের ইফতার মাহফিলে গিয়েছিলেন , সেখানে তারা তাদের রাজাকার নেতাদের মুক্তির জন্য দোয়া করলো।
পরদিন প্রথম আলোর হেড লাইন হয়ে গেলো:
“যুদ্ধাপরাধিদের মুক্তির দোয়ায় বেগম খালেদা জিয়া !”...........

২। গত বছর জামায়াতের একটি অনুষ্ঠানে , সম্ভবত রোজার একটি ইফতার মাহফিলে আপনি গিয়েছিলেন , সেখানে এরশাদের মতই বিশ্ব বেহায়া গোলাম আযম এসে হাজির !
এবং গায়ে পড়ে গোলাম আযম আপনার সাথে কথা বলতে চাইলো......
হলোটা কি ?
ক্লিক , ক্লিক !
পরদিন কালের কণ্ঠের প্রথম পাতায় গোলাম আযম আপনার সাথে হাসিমুখে কথা বলছে সেই ছবি ছাপা হয়ে গেলো !
সারা বাংলাদেশে জিয়া পরিবারের শুভাকাংখিরা বিব্রত , লজ্জিত......
আপনার কি ধারনা গোলাম আযম কিংবা জামায়াতের নেতারা জানতোনা যে এমনটা ঘটবে ?

উপরের ২ টা ঘটনাতেই জামায়াতের নেতারা কেবল জানতোই না , খুব ভালো করেই জানতো যে এগুলো মিডিয়ায় হেড লাইন হবে , প্রথম পাতায় ছবি ছাপা হবে......

জেনেশুনেই তারা আপনাকে এসব অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ করে তাদের সেট আপ প্ল্যান মাফিক !

দয়া করে বোঝার চেষ্টা করুন : কেবল ধুর্ত মিডিয়াই যে বিএনপিকে নিচে নামানোর তালে হেড লাইন করতে চায় প্রতিদিন সেটাই নয় , জামায়াত ও চায় নানাভাবে তাদের সংগে বিএনপিকে জড়িয়ে , আপনাকে জড়িয়ে হেড লাইন বানাতে......

সোজাকথায় বাংলাদেশের সর্বশ্রেষ্ঠ রাষ্ট্রনায়ক , মুক্তিযুদ্ধের জেড ফোর্স অধিনায়ক জিয়াউর রহমানের দল বিএনপির লেজ কাটার জন্য কেবল আওয়ামী মিডিয়াই তৎপর নয় , শিয়ালের মত ধুর্ত স্বার্থপর জামায়াত ও বেশ সুক্ষ্ণ ভাবে তৎপর............


আরও ভুলে যাবেন না সংগ দোষে লোহাও ভাসে.........
এদের কে সব আন্দোলনে সংগে নিলে ইউনিয়ন থেকে জাতীয় সব পর্যায়ে বিএনপি কর্মিদের ভেতর জামায়াতের সংগ দোষ সংক্রামিত হবেই , আজ হোক , কাল হোক, এটা ঘটবেই .........
ওরাও সেটাই চায়.........

ভুলে যাবেন না আপনার দলে হালুয়া রুটির ভাগ পেতে আসা নেতাদের কথা ।
এবং এটাও ভুলে যাবেন না এই হালুয়া রুটির নেতাদের মাথা কিনে ফেলার সবচেয়ে বড় কাস্টমার মিডল ইস্টের ডলারে তেলতেলে জামায়াত.........
এমনই একজন হালুয়া রুটির নেতাকে আপনি অতি সম্প্রতি ধামরাই এর মঞ্চে পেছনের চেয়ারে বসতে দিয়েছেন যিনি ২০০১-২০০৬ বিএনপি পিরিয়ডে জামায়াতের ৭১'র ভুমিকা নিয়ে সাফাই গেয়ে বিএনপিকে বিব্রত করেছিলেন ।

এ ধরনের নেতাদের সতর্কতার সাথে চোখে চোখে রাখাটাই উত্তম , কেবল পেছনের চেয়ার নয় , এদেরকে মঞ্চেই উঠতে দেয়া উচিত নয়.........

তাই সবদিক মিলিয়ে এইসব বন্ধুবেশি ধুর্ত শিয়াল জামায়াতের কোন অনুষ্ঠানে আপনি আর যাবেন না দয়া করে......
এদেরকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে ন্যুনতম প্রশ্রয় দিয়ে নিজের দল , আপনার স্বামীর দল বিএনপিকে নিচে নামাবেন না......
নিজেকে এসব ব্যাপারে কঠোর অবস্থানে রাখুন.........

ভুলে যাবেননা আপনার রাজনীতি থেকে অবসরের সময় হয়ে যাচ্ছে......
আপনার কোন ধারনাই নেই যে অনলাইনে তারেক রহমানের ইমেজ নষ্ট করায় কেবল আওয়ামীরাই নয় , জামায়াতের ছেলেপেলেও প্রচুর সময় ব্যয় করে........কতটা সময় তারা তারেক রহমানের বিপক্ষে প্রচার প্রচারনায় ব্যবহার করে..........এগুলো সবই তাদের মগবাজারের অফিস থেকে প্ল্যান মাফিক হয় , হাওয়া থেকে নয়.........


আমাদের কথায় বিশ্বাস রাখুন , নইলে ব্লগ - ফেসবুকে নিজেই চোখ রেখে দেখুন.........

অথচ এই মুনাফেকরাই আবার তারেক রহমানের মা, এই আপনাকে নেত্রী বলে কাচুমাচু করে তাদের রাজাকার নেতার জেলমুক্তির জন্য যারা কিনা রীতিমত জামাই আদরে আছে আজঅব্দি...........

তারা জানে কোন জরুরি পরিস্থিতিতে যদি জুবাইদা জিয়া বিএনপির হাল ধরেন তবে উনার পক্ষে হঠাৎ বিএনপি সত্যিকার ত্যাগী বন্ধু চেনা সহজ হবেনা.........
স্রেফ আজ বিশ্বাস না করলেও একদিন প্রমান হবে:
জামায়াতের শকুন জিয়া পরিবারের গরু মরার জন্য অপেক্ষা করছে.........

এখন যতটা আওয়ামী খেদাও জনরোষ যেটা দিনকে দিন বাড়ছে তাতে এদেরকে আন্দোলনেও ডাকার প্রয়োজন আছে বলে মনে হয়না.........
এদেরকে মঞ্চে উঠতে দিয়ে ফ্রি ফ্রি লাভের গুড় খেতে দেয়া হচ্ছে......
যেই জামায়াত ২০০১ পুর্ব রাজনীতিতে সত্যিকার জনস্রোত কিংবা মহা সমাবেশ কাকে বলে চোখেও দেখেনি কোনদিন তারা এখন মঞ্চে উঠে ভাষণ দিচ্ছে লাখ লাখ মানুষের উদ্দেশ্যে !
স্রেফ বিএনপির দাতা হাতেম তাই বদান্যতায় !
তাই আবারো বলছি সিলেটে ইলিয়াস আলি জামায়াতকে ঠিক যেভাবে ট্রিট করেছেন বাকি সব জেলা পর্যায়ের বিএনপি নেতাদেরও জামায়াতকে সেভাবেই ট্রিট করা উচিত বলে আমরা মনে করি !
সেয়ানা ধুর্ত জামায়াতের ব্যাপারে ইলিয়াস আলির মত হার্ড স্ট্যান্ড বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বেরও থাকা উচিত বলে আমরা মনে করি.........

জগতে কেউই এতটা দাতা হাতেম তাই নয় , সবাই স্বার্থপর.........
বিএনপির ও উচিত হবে নিজের স্বার্থটা কড়ায় গন্ডায় বোঝা.........

বিএনপি জিয়াউর রহমানের পথ দেখানো পরমতসহিষ্ণু এবং উদার রাষ্ট্রনীতি - রাজনীতির দল.........
সেটার মানে এই নয় যে কোন রাজাকারের বোঝা বিএনপি কাঁধে নেবে.........


আমরা চাই , বিএনপি এখন একলা এগিয়ে চলুক ৯১'র মত............
বিএনপির রোডমার্চকে মিডিয়া বিএনপির রোড মার্চ ই বলুক , বিএনপি জামায়াতের রোড মার্চ যেন না বলে.........
কেঊ পেছনে আসতে চাইলে আসুক , তবে মিছিলের সামনে তাদেরকে কোন জায়গা দেবেন না.........

তরুণ প্রজন্মের একজন হিসেবে জানাতে চাই আপনারা তরুন প্রজন্মকে যতোই বাচ্চা মানুষ ভাবুন আর মাঠের রাজনীতির হিসাব কষুন , তারা ততটা বাচ্চা মানুষ নয়......
অনেক সচেতন , অনেক প্রতিক্রিয়াশীল........


জিয়া পরিবার এবং বিএনপিকে সর্বাঙ্গিন শুভ কামনা জানাচ্ছি...........









সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে নভেম্বর, ২০১১ সকাল ৭:১৮
৮৪টি মন্তব্য ৬৬টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×