প্রথম রমজানের দিনে বাসায় ফেরার খুব তাড়া ছিল সবার। তিনটায় দেখি সবাই দ্রূত ব্যাগ গুছিয়ে ল্যাপ্টপ গুটিয়ে নিচ্ছে। লিফ্টের সামনে লম্বা কিউ, সিঁড়ি দিয়ে নামতে গিয়ে দেখি মানুষের মিছিল! সিকিউরিটি চেকের সামনে আবার লম্বা কিউ। তারপর শুরু হলো রাস্তায় জ্যাম।
সেদিনের পর আর বাসায় ইফতার করতে পারিনি। প্রতিদিন এ-কাজ, সে-কাজ শেষ করতে করতে দেখা যেত ইফতারটা অফিসেই করতে হয়েছে। আজ সকাল থেকেই মোটামুটি নিজেকে চ্যালেঞ্জের মুখে রেখেছিলাম। যে করেই হোক তিনটায় অফিস থেকে বের হতে হবে।
গতকাল এক পুরোনো কলিগ সব শুনে বল্লো, "বস্রা কেউ এত সময় পর্যন্ত অফিসে থাকে? দেখেছ তাদের শুক্রবারে অফিসে যেতে? এভাবে কাজ করে কাম্লা-রা।" হায় হায় বলে কী?? যাক্ সেকথা। আজ এসময়, আমি ব্লগিং করছি
ঠিক করেছি আমি "ভাব" মারবো। সবার সাথে হেসে কথা বলি, আন্তরিকতা দিয়ে সমস্যা সমাধান করি। এটা ঠিক নয়। যারা কম হাসে, দূরত্ব বজায় রাখে, তারা অনেক মর্যাদা পায়।
কর্মক্ষেত্রে দু'ধরণের ব্যাপার চলে। "শাফ্ক্বাত আপা...সমস্যা, কী করবো?" আমি তখন বলি "আপনি কোথায়? আচ্ছা আমি আপনার ডেস্কে আসছি।" কিন্তু যদি আমি বলতাম "আমি ---- জায়গায় আছি, আপনি আসেন, আমি দেখিয়ে দিচ্ছি।" কিংবা "আমি তো এখন ব্যস্ত আছি, একটা ক্যালেন্ডার বুকিং দিয়ে রেখেন...আমি যেসময়ে ফ্রী থাকি!!" তাহলে একটা ভা-ব মারার মত ব্যাপার হতো।
আড্ডা মারা। কাজটা কি ঠিক? কাজ করতে হবে 'গম্ভীর'ভাবে। ফাঁকে কোনও আড্ডাফাড্ডা মারা চলবেনা। তাহলে গুরুত্ব কমে যায়। ভাব মারা যায়না!
নিজেকে "সহজলভ্য" বা অ্যাভেইলেবল করে রাখা। এটাও ঠিক নয়। চাইলেই আমার সাথে কথা বলে যাবে, বা আমাকে অ্যাপ্রোচ করা যাবে, এমনটা হলে তো দু-য়ো! তারমানে তো আমার কোনও বেইল-ই নাই!! বেইলওয়ালা মানুষরা নিজেদের ব্যস্ত রাখে, তাদের অ্যাপয়েন্টমেন্ট সহজে পাওয়া যাবেনা।
খুব বেশি আলাপী হওয়াও ঠিক নয়। আমি আগে "হা--ই" বলবো, না আমাকে কেউ "হাই" বললে স্মিত হেসে জবাব দেব, সেটার উপর নির্ভর করে আমি কেমন ভাব মারতে পারি। তবে ভাব মারলে নিজের অনেক দূর্বলতা ঢাকা যায়! জ্ঞানের অনেক অগভীরতা সত্ত্বেও বেশ "হুঁ-হাঁ" করে বিজ্ঞ সাজা যায়!
আমি খুব অবাক হয়ে খেয়াল করলাম, পদমর্যাদার সাথে ভাব-মারার কোনও সম্পর্ক নেই! অনেক উঁচুপদের মানুষ দেখলাম ভাবের তোয়াক্কাই করেনা, আবার অনেক আম-জনতাকে দেখি ভাবের ঠেলায় বাঁচেনা। আমি চেষ্টা যে করিনি তা'নয়। অনেকে রীতিমত আমাকে উপদেশ দিয়েছে "শাফ্ক্বাত, এবার একটু ভাব মারো। এত বড় চাকরি করছো , একটু ভাব না-মারলে চলে?" তাইতো, গালে হাত দিয়ে অনেক চিন্তাভাবনা করে ভাব-মারার স্ট্র্যাটেজী ঠিক করলাম। কিন্তু আমি যেই লাউ, সেই কদু। এখনও পারিনি।
এই যে ধুম্ করে এমন একটা লেখা ব্লগে ছাপিয়ে দিলাম, আমার ভাব তো পানি হয়ে গেল!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


