বাচ্চারা কেমন চোখের সামনে বড় হয়ে যায় তাই না? ওদের জগতের ভাবনা গুলো কত মজার! এভাবে যদি ভাবতে পারতাম, তাহলে জীবনটা কতই না আনন্দের হত।
কাল রাতে রাজেশ্বরী আমাকে জিজ্ঞাসা করলো, আম্মু কুয়াশা কেমন করে হয়? আমার ভীষন মাথা ধরেছিল, কথা বলতে ভাল্লাগছিল না তাই বল্লাম- বাবা আমি জানি না তো, কাল জেনে বলবো। মেয়ে সাথে সাথে বল্লো-আম্মু জানি, কুয়াশা কেমন করে হয়। কেমন করে, হয় বাবা?
ঐ যে মাটির নীচে মগুরা (মোল) ঐ আলু খেয়ে যখন পরররররররররর্ মুখ থেকে বের করে দেয়, তখন কুয়াশা হয়ে যায়।
আমি ঠিক বুঝতে পেরেছি না আম্মু?আমি ওর কল্পনা ভাঙ্গিনা। আমার ওর কল্পনা ভেঙ্গে দিতে খুব কষ্ট লাগে। আমি হাসি চেপে বলি, হ্যাঁ বাবা তুমি ঠিক বুঝতে পেরেছ।
আজকাল তার খুব আফসোস আমি রান্নার সময় কেন তার হেল্প নেই না।
প্রায় আমার রান্নার সময় বলে, আম্মু আমি তোমাকে হেল্প করতে চাই। আমি বল্লাম, তুমি একটু বড় হও, তখন হেল্প করো। তা সে কিছুত্ই শুনবে না।
আমি বলি, কি হেল্প করবে? সে বলে, আমি যা যা বলবো, তুমি তাই করবে। সে আমাকে একটা কারী রান্নার রেসিপি দিল।
আম্মু প্রথমে একটু মাংস নাও, তারপর একটু লবন দাও, চিনি দাও, একটু দুধ দাও। একটু সস দাও, কাঁচা মরিচ দাও। নুডুলস্ দাও আর ফিশ দাও তারপর নেড়ে নেড়ে মাংস রান্না করো।
ভাবছি একদিন রেঁধে দেখবো কেমন হয়।
ইদানীং তার সংসার হয়েছে, ছাতার বাসায়।
সেই সংসারে যে কত কিছু সে রেখেছে, তা বলার নয়। ভালোই লাগে ওর লাল নীল সংসার দেখতে।
এখনও আমার পেছন পেছন ঘুর ঘুর করা হল, ওর প্রধান কাজ।
এই তো ক'দিন আগেও বলতো, একটু মেঘ খেয়ে দেখবে। মেঘ দেখলে নাকি ওর হাওয়াই মিঠাই এর কথা মনে হয়।
কাগজে নানান শিল্পকর্মতো ওর কাছে নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার।
রাজের একটা টেডি বেয়ার আছে, সেটার নাম রেখেছে স্কিপি। সেটাকে নিয়ে ওর রাজ্যের ভাবনা।
স্কিপির ভালোমন্দে সে খুব বিচলিত থাকে।
ভীষন ভীতু একটা বাচ্চা। কার্টুনে ভয়ের কিছু দেখলেই, দৌড়ে সোফার নীচে পালায়।
একদম পড়তে চায়না। পড়ার কথা বল্লে, বলে-আমার পায়ে ব্যাথা। পড়বো কেমন করে?
আর দিন রাত আবোল তাবোল প্রশ্ন করে---
এসব নিয়েই আমি মহাব্যাস্ত।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

