২৬ ডিসেম্ভর হরতাল ডেকেছে ওলামা-মাশায়েখরা।শেখ হাছিনা তার স্বভাবসুলভ মতো তাদেরকে রাজাকার যুদ্ধপরাধী বলে টিটকারী করেছেন। এই যদি হয় রাজাকার -যুদ্ধপরাধের নমুনা,তবে আমি রাজাকার যুদ্ধপরাধীদের সাপোর্ট করি।ওলামা মাশায়েখদের প্রধান আপত্তি শিক্ষানীতি নিয়ে।প্রথম আলো কিছুদিন আগে ২৬ ডিসেম্বর হরতালে বিএনপির সমর্থন নিয়ে সম্পাদকীয় লিখেছে,"আরেকটি ভুল করল বিএনপি"।ঐ দিন তারা অনলাইন জরিপের জন্য একটা প্রশ্ন করে," ২৬ ডিসেম্ভর হরতালে বিএনপির সমর্থন সাপোর্ট করেন কিনা?"৬০% মতামত হ্যা-এর পক্ষে পড়েছে যা পরদিন ছাপা হয়েছে।আমরা দেখতে পাচ্ছি আমাদের জনগনের মতামত পত্রিকার মালিক পক্ষ উপেক্ষা করছে।সরকার,সরকারের সুবিধাভোগী বুদ্ধিজীবী,মিডিয়া,মাজারপন্থী নেশাখোর আউলিয়াদের মতে মাদ্রাসা শিক্ষাকে যুগোপযোগী করা হয়েছে এ শিক্ষানীতিতে।এতে মাদ্রাসাপড়ুয়ারা আর বেকার থাকবেনা,চাকরি বাকরি পাবে।কথাগুলো অনেক মানবিক। কিন্তু আসলেই কি তাই।তাহলে শিক্ষানীতি প্রনয়নের সাথে জড়িত ঢাবির ভিসি আ.ফ.ম আরেফিন সিদ্দিকীরা আবার কিভাবে বে আইনি ভাবে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের ঢাকা ভার্সিটিতে ভর্তিতে বাধা দেয়?তাদের এই পরস্পর দ্বিমুখীতার স্বরুপ কী?
আসলে ব্যাপারটা জানা গেছে উইকিলিকসের ফাস হওয়া তথ্যে।যুগপোযুগী কিংবা মাদ্রাসা ছাত্রদের প্রতি দরদ-টরদ সবই ভাওতাবাজি। আমেরিকার নির্দেশেই মাদ্রাসা সিলেবাস পরিবর্তিত-পরিবর্ধিত হয়েছে। ন্যুনতম জ্ঞানসম্পন্ন যে কেউ বোঝে যে,আমেরিকা ইসলামের উন্নয়নের জন্য মাদ্রাসা সিলেবাস পরিবর্তন করবে না।আর আমেরিকা সে দাবী করেওনা। জেমস মরিয়াটির তারবার্তা থেকে যা পাওয়া গেল তার সারসংক্ষেপ হলো ইসলাম মৌলবাদ(তারা খাটি ইসলামীদের মৌলবাদ বলে),জঙ্ঘিবাদ( তারা জান মাল দিয়ে আল্লাহর পথে লড়াই করে তাদের জঙ্গি বলে) নির্মুলের জন্য শিক্ষানীতির প্রতি নজর দিচ্ছে।
পাঠক খেয়াল করুন,আমেরিকা এ নীতি প্রনয়নের দায়িত্ব কাকে দিচ্ছে?কতগুলো ইসলামবিদ্বেষী,মিডিয়াসৃষ্ট বুদ্ধিজীবী দেশপ্রেমহীন দেশপ্রেমিকদের।যারা দাবী আদায়ের মাধ্যম হিসেবে হরতালকে কখনোই সমর্থন করেননা,তাদের কথা বাদ কিন্তু যারা হরতালকে বিভিন্ন সময়ে অহেতুক সমর্থন করেন,তারা যদি দেশপ্রেমিক হয়ে থাকেন,ধর্মকে ভালবাসেন,যদি তারা আমেরিকার আধিপত্যবাদকে ঘৃনা করেন তবে নিঃসন্দেহে এ হরতালকে "হ্যা" বলুন।তবে তার আগে স্বল্প পরিসরে জেনে নিই কী আছে এ শিক্ষানীতিতে--
সেক্যুলারিজম বা ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ শব্দটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন বহুল ব্যবহৃত একটি শব্দ। ১/১১ এর পরবর্তী সময়ে অনুকূল পরিবেশে কিছুসংখ্যক রাজনীতিবিদ, বুদ্ধিজীবী,সাংবাদিকমহল সেক্যুলারিজম বা ধর্মনিরপেক্ষবাদ শব্দটি সামনে নিয়ে আসেন। ১/১১ এর ধারাবাহিকতায় ক্ষমতার হাত বদলের ভেতর দিয়ে সরকার পরিচালনার দায়িত্ব পায় বর্তমান মহাজোট সরকার। নব্য আওয়ামী সরকারের ঘাড়ে চড়ে মূলত সরকার চালাচ্ছে এককালের নামি-দামী বাম নেতারা এবং আওয়ামী লীগের সাবেক সাঃসম্পাদকের ভাষায় ডিজিএফআই-এর পেইড এজেন্টরা। বামপন্থী কমিউনিস্টরা কলা-কৌশলে আওয়ামী লীগের নীতি-নির্ধারকের ভূমিকায় বর্তমানে অধিষ্ঠিত এবং সে সুবাধেই দল হিসেবে আঃলীগ এখন যেন কমিউনিস্টের চেয়েও বেশি কমিউনিস্ট। সরকার গঠনের পর থেকে সরকারের কৃত কাজসমূহে তাই তথাকথিত বামপন্থা বাস্তবায়নের প্রচেষ্টা দৃষ্টিকটুভারে দৃশ্যমান। এবারের প্রণীত শিক্ষানীতি-২০০৯ তে বামপন্থা থিওরীগুলো( যেমন ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ) প্রকটভাবে দেখা যাচ্ছে।
জাতীয় শিক্ষানীতি প্রণয়নের জন্য ১৯৭৪ সালের কুদরত-ই-খুদা কমিটির প্রতিবেদনের আলোকে প্রণীত হয়েছে এবারের শিক্ষাণীতি।এই সহজ সত্যটি অবলীলাক্রমে স্বীকার করেও নেয়া হয়েছে। বলাবাহুল্য ১৯৭৪ এর কমিটির বিতর্কিত প্রতিবেদনটি তখনকার সরকার সামাজিক মূল্যবোধের বিবেচনায় বাস্তবায়ন করা থেকে বিরত থাকে। মজার ব্যাপার হচ্ছে সদ্য স্বাধীন একটি মুসলিম দেশের শিক্ষানীতি প্রনয়নের জন্য তখনকার ১৯ সদস্য বিশিষ্ট প্রণয়ন কমিটি পার্শ্ববর্তী হিন্দুরাষ্ট্রটি সফর করেন সেখানকার শিক্ষাব্যবস্থা সম্পর্কে ধারনা নেবার জন্য! ফলে সম্পূর্ন ভিন্ন সংস্কৃতির একটি দেশের শিক্ষাব্যবস্থার আলোকে বাংলাদেশের শিক্ষানীতি হবে এটা তখন এদেশের জনগন মেনে নেয়নি। কিন্তু এবার সম্পূর্ন অন্যায্য ও অসাংবিধানিকভাবে সরকার অথবা সরকারের ভেতরের একটি সুস্পষ্ট ইসলামবিদ্বেষী মহল তখনকার বাতিলকৃত,ধিকৃত শিক্ষাণীতিটি বাস্তবায়নে কোমর কষে নেমেছে।
সংবিধানের আলোকে বাংলাদেশের রাষ্ট্র পরিচালনার চারটি মূলনীতি হলো- সর্বশক্তিমান আল্লাহর উপর পূর্ন আস্থা ও বিশ্বাস,জাতীয়তাবাদ,গনতন্ত্র ও সমাজতন্ত্র। এটা দিবালোকের মত স্পষ্ট যে উপরোক্ত ৪ টি মূলনীতির কোথাও ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ শব্দটি নেই। অথচ সম্পূর্ন অসাংবিধানিকভাবে খসড়া শিক্ষানীতির ‘শিক্ষার উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য” অধ্যায়ে সুনাগরিকের গুনাবলী দিতে গিয়ে ধর্মনিরপেক্ষতার গুনগান গাওয়া হয়েছে। এটা সংবিধানের প্রতি চূড়ান্ত অবমাননা।
“ধর্মনিরপেক্ষতা” শব্দটি একটি বাহারি মনহর শব্দ,এতে কোন সন্দেহ নেই। যতটা নিষ্পাপ অর্থের বহিরাবরনে আমাদের এখানে শব্দটি আমদানি করা হয়েছে ,ব্যাপারটি ততটা সরল নয়। পাশ্চাত্য সমাজের ধর্মনিরপেক্ষতার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের আলোচনাটি স্থগিত রেখে আমরা যদি কেবল আভিধানিক অর্থেও একে গ্রহন করি,তবুও ধর্মনিরপেক্ষতাবাদকে কিছুতেই ধর্মহীনতার মতবাদ থেকে উদ্ধার করা যাবেনা। অবশ্য আমাদের সমাজে একশ্রেনীর পরান্নভোজী বুদ্ধিজীবীরা অন্তরালে যাই ভাবুন না কেন,লোকালয়ে ধর্মনিরপেক্ষতা যে ধর্মহীনতা এই জিনিসটা আড়াল করেন। আমরা সাধুবাদ জানাই সুশীল সমাজভুক্ত অধ্যাপক আনিসুজ্জামানকে। উনি কোনরুপ ছল-ছাতুরীর আশ্রয় না নিয়েই সহজ সরল সত্যটি অর্থাৎ ধর্মনিরপেক্ষতার স্বরুপটি নয়াদিগন্তে এক সাক্ষাতকারে প্রকাশ করেছেন। তিনি সুস্পষ্ট ভাষায় বলেছেন ,তিনি ধর্মশিক্ষার পক্ষে নন। শুধু তাই নয়,বর্নচোরা নাস্তিকদের মতো তিনি কোন রুপ ভনিতা না করেই বলেন,” ইসলাম সত্য,কুফর মিথ্যা- এসব হচ্ছে ধর্মশিক্ষার খারাপ দিক।”ধর্মনিরপেক্ষতা যে ধর্ম নয় ,এর স্বপক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে তিনি বলেন,’ধর্মশিক্ষা যেখানে দেয়া হচ্ছে সে শিক্ষাব্যবস্থা তো ধর্ম নিরপেক্ষ হতে পারেনা” অর্থাৎ তিনি দ্ব্যর্থহীন কন্ঠে ঘোষনা করছেন,ধর্মনিরপেক্ষতা কিছুতেই ধর্ম নয়। এই সত্যটা আমাদের জনগন যত তাড়াতাড়ি উপলব্দি করবে ততই জাতির মঙ্গল। প্রস্তাবিত শিক্ষানীতির নৈতিক শিক্ষা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে উনি হতাশার সুরে বলেন,হয়তো দেখা যাবে নৈতিক শিক্ষার নামে ধর্ম শিক্ষা দেয়া হবে যা নীতিবোধ না ধর্মবোধ জাগ্রত করবে। নৈতিক শিক্ষা যে ধর্ম শিক্ষা নয় এ সত্যটি হয়তো অনেক সুশীল ইনিয়ে বিনিয়ে অস্বীকার করবেন তবে এর ভেতর দিয়ে “নৈতিক শিক্ষা’ নামক শব্দটির রাজনৈতিক ছল-ছাতুরী আমরা দেখতে পারলাম। পাঠকদের স্মরনে থাকার কথা যে, ১৯৭৪ সালের কুদরত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশনে এবং ১৯৯৭ সালের শিক্ষানীতি( উভয়টিই আওয়ামী শাসনামলের) প্রনয়ন কমিটির সদস্য ছিলেন ডঃ আনিসুজ্জামান।
জাতির দুর্ভাগ্য যে বার বার জাতীয় শিক্ষানীতি প্রনয়নের দায়িত্ব পড়েছে এইরুপ ইসলাম বিদ্বেষী গোষ্ঠীর উপর যারা সুক্ষ কলা-কৌশল প্রয়োগের মাধ্যমে ইসলামী শিক্ষাব্যবস্থা,মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে ষড়যন্ত্রে ব্যস্ত। এবার ও তার ব্যত্যয় ঘটেনি। নাস্তিকতা চর্চার সাথে সুস্পষ্টভাবে জড়িত কিছু তথাকথিত শিক্ষাবিদকে শিক্ষানীতি ২০০৯ প্রনয়নের দায়িত্ব দেয়া হয়।ডঃ জাফর ইকবাল,অধ্যাপক কবীর চৌধুরী,ডঃ শহীদুল্লাহ এদের ধর্মবোধ নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেবার কিছু নেই।বিভিন্ন সময়ে ইসলাম ও মাদ্রাসা নিয়ে তাদের আপত্তিকর বক্তব্যগুলো এখনো পত্রিকার পাতায় জ্বাজল্যমান। জাতীয় আশা-আকাংখা প্রতিফলন তো জাতীয় শিক্ষানীতিতে নেই-ই উপরন্ত দলীয় তোষামোদ আর বিশেষ মতাদর্শের মানুষ তৈরীর গোপন কারিকুলাম এবারের শিক্ষানীতিতে সুস্পষ্ট। “ডিজিটাল,বঙ্গবন্ধু, বঙ্গবন্ধু কন্যা, নৌকা,আদিবাসি,অসাম্প্রদায়িক,কুসংস্কার,ধর্মনিরপেক্ষ প্রভৃতি শব্দের যত্র-তত্র ব্যবহার শিক্ষানীতি ২০০৯ এর উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানান দিচ্ছে।
শিক্ষানীতিতে মৌলিক কাঠামগত কিছু পরবর্তন আনা হয়েছে যেমন-অস্টম শ্রেনী পর্যন্ত স্তরকে প্রাইমারী স্তর এবং নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেনী পর্যন্ত স্তরকে মাধ্যমিক স্তর ধরা হয়েছে। এই স্তর বিন্যাসের ফলে প্রধান যে বৈশিষ্ট্যটা প্রকাশ পাবে তা হলো সহশিক্ষা। আমাদের গ্রামান্ছলে সাধারনত ৫ম শ্রেনী পর্যন্ত ছেলে-মেয়েরা সহশিক্ষা অজর্ন করে পৃথক শিক্ষার প্রতি ঝুকে যায়। নতুন শিক্ষা নীতি তাদের কে সহশিক্ষায় বাধ্য করবে,ফলে শিক্ষার হার বাড়বে না কমবে তা সময়েই বলে দেবে।
যেহেতু সুস্পষ্ট কিছু ইসলামবিদ্বেষীর দ্বারা এবারের শিক্ষানীতি প্রনীত হয়েছে,তাই মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থার প্রতি তাদের এক ধরনের এলার্জি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ছলে বলে কলা কৌশলে এমন কতগুলো বিষয় তাদের উপর ছাপিয়ে দেয়া হলো যে , ভবিষ্যতে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা হয়ত মাদ্রাসা শিক্ষার প্রতি আর আকর্ষন দেখাবেনা।
সমমানের একটি ডিগ্রী অর্জনের জন্য একজন মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে কেন স্কুলে শিক্ষার্থীর চেয়ে ২০০- ৪০০ নাম্বারের বই বেশি পড়তে হবে তা কেবলমাত্র নীতি প্রনেতারাই ভালো বলতে পারেন। সাধারন শাখায় ১ম ও ২য় শ্রেনীতে ৪০০ নম্বরের মধ্যে ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষার কোন সুযোগ নেই। কিন্তু ১০০ নম্বরের ললিতকলা অন্তভুক্ত করা হয়েছে। শুধু তাই নয় ৪র্থ ও ৫ম শ্রেনীতে ললিতকলাকে আবিশ্যিক করা হয়েছে। ৩য় শ্রেনী থেকে ৮ ম শ্রেনী পর্যন্ত যে নৈতিক শিক্ষার কথা বলা হয়েছে তা হচ্ছে মুলত জীবণী ও গল্পভিত্তিক। কে জানে কোন খাজা বাবাদের জীবনী আবার শিক্ষার্থীদের ধর্মের নামে গেলানো হয়। কিন্তু ললিত যথাযথ প্রসার ও বিস্তারের জন্য গ্রামগন্ঝে রাষ্ট্রর টাকা দিয়ে জাতিয় চিত্রশালা, সঙ্গীত ও নৃত্য একাডেমী,নাট্য ও রঙ্গমন্ঞ প্রতিষ্ঠা করা হবে।শুধু তাই নয় সরকারী ও বেসরকারী উদ্যেগে গ্রামান্ধলে ভ্রাম্যমান চিত্রকলা ও কারুশিল্পের প্রদর্শনী,নাটক ও নৃত্যানুষ্ঠানের ব্যবস্থা করা হবে। পাঠক খেয়াল একশ্রেনীর ধর্মবিদ্বেষী ডিজিটাল সুশীল তৈরীই বর্তমান শিক্ষানীতির উদ্দেশ্য নয় কি?
মাধ্যমিক স্তর তথা ৯ম থেকে দ্বাদশ শ্রেনীতে বাধ্যতামূলক কোন ধর্ম শিক্ষানেই আছে ঐচ্ছিক হিসেব আরবী ভাষা শিক্ষন। পাঠক মনে করুন আওয়ামী সরকার তার বিগত শাসনামলেও মাধ্যমিক স্তরে ধর্মশিক্ষাকে ১০০ থেকে ৫০ নম্বরে নামানের সক্রিয় প্রচেষ্টা গ্রহন করেছিল কিন্তু তখন জন আন্দোলনে তাদের সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়।
প্রস্তাবিত শিক্ষানীতির মাধ্যমিক শিক্ষা অংশে বলা হয়েছে, মাদ্রাসা শিক্ষার ক্ষেত্রে এবতেদায়ী শেষ করে যে কোন ধারার নবম শ্রেনীতে এবং আলিম পর্যায় শেষ করে যথাযথ বাছাই সাপেক্ষে ডিগ্রী পর্যায়ে ভর্তি হওয়া যাবে। এই যে ‘ যথাযথ বাছাই” শর্তারোপ, তাকে কিসের আলোকে ব্যাখ্যা করা যায়? বিনাদ্বিধায় বলা যায় এটি একটি চরম বৈষম্যমূলক প্রস্তাব। যেখানে হাস্যকর ভাবে সাধারন শিক্ষার্থীর চেয়েও একজন মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে বেশি নম্বরের বই পড়তে হচ্ছে,সেখানে আবার তাকেই যথাযথ বাছাইয়ের সম্মুখীন হতে হছ্চে।
মাদ্রাসা শিক্ষার সমমানের কথা বলতে গিয়ে বলা হয়েছে, মাদ্রাসা শিক্ষার উচ্চ পর্যায়ে এবাং সাধারন শিক্ষার উচ্চ পর্যায়ের মধ্যে ডিগ্রির সমতা সরকার নির্ধারন করবে। অথচ এ বিষয়টি গত জোট সরকার মীমাংসা করে গেছেন। বর্তমান কমিটির ইচ্ছাকৃত অজ্ঞতা না অন্য কোন অসুদ্দেশ্য এ ধারাটি সংযোজন করেছেন তা তারাই ভালো জানেন।
আরেকটু উল্লেখযোগ্য দিক হচ্ছে যৌনশিক্ষা আর ব্রতচারী শিক্ষাকে শিক্ষানীতিতে অন্তভুক্ত করন। ঠিক সমাজের কোন শ্রেনীর দাবির প্রেক্ষিতে কমিটি এই সিদ্দান্ত নিল তা জাতিকে জানাতে হবে। তারা কি স্বাধীনভাবে এ নীতি প্রনয়ন করেছে নাকি অন্য কারো নির্দেশ বাস্তবায়ন করেছে মাত্র?
শিক্ষানীতি প্রনেতারা একটা বড় রকমের ভুল করেছে মাদ্রাসা শিক্ষার দুটি ধারা আলিয়া ও কওমী ব্যবস্তার প্রার্থক্য অনুধাবনে ব্যর্থ হয়ে। অথচ তাদের বাহাদুরী একটুও ফলাতে পারেনি তারা ইংলিশ মিডিয়াম বা ‘ও” লেভেল ‘এ” লেভেল শিক্ষা ব্যবস্থায়। এটা জাতির জণ্য খুবই দুর্ভাগ্যজনক। সন্দেহ হচ্ছে এ শিক্ষানীতির মাধ্যমে সরকার কি ধরনের মানুষ তৈরী করতে যাচ্ছে?
প্রস্তাবিত শিক্ষানীতি নিয়ে ইতমধ্যে বহু বিজ্ঞজন বহু আলোচনা ,পরামর্শ,দিকনির্দেশণা দিয়ে যাচ্ছেন। আশা করি সরকার বিপজ্জনক এ শিক্ষানীত অতিসত্বর বাতিল করবে। তবে গত ২৯ ডিসেম্বরের সমঝোতার নির্বাচনের পূর্বে শেখ হাসিনার মার্কিন নিবাসী পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় ও মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা কার্ল জে. সিওভাচ্চোর যৌথ নিবন্ধ যা একটি বিদেশী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল তার খানিকটা উদ্ধৃতি দিয়ে আজকের লেখাটি শেষ করবো। আমরা মনে করি বর্তমান শিক্ষানীতিতে উপরেল্লেখিত যৌথ নিবন্ধের প্রভাব পুরোপুরি বজায় রাখা হয়েছে। ভুয়া তথ্যে ভরপুর সে নিবন্ধটি হলো,” ইসলামী জঙ্গিবাদ বিস্তার লাভ করেছে সামরিক বাহিনীতে ইসলামপন্থীদের সংখ্যা বাড়ার কারনে।অত্যন্ত চাতুরতার সঙ্গে সেনাবাহিনীর ঢোকার ভর্তি পরীক্ষার প্রশিক্ষন দেয়া হচ্ছে মাদ্রাসায়। সেনাবাহিনীতে ঢোকার ভর্তি পরীক্ষার সঙ্গে মাদ্রাসার প্রশিক্ষনের মিল আছে। সম্মানজনক স্ট্যাটাস ও প্রচুর সুযোগ থাকায় সেনাবাহিনীর চাকরি বাংলাদেশে আকর্ষণীয়।সেনাবাহিনীতে ঢোকার জন্য মাদ্রাসায় বিশেষ প্রশিক্ষন দেয়ার আগে ২০০১ সাল পর্যন্ত শতকরা ৫ ভাগ মাদ্রাসা ছাত্র সেনাবাহিণীতে ভর্তি হতে পারত। ২০০৬ সাল নাগাদ এই সংখ্যা দাড়িয়েছে শতকরা ৩৫ ভাগে।”
শরীফ হোসাইন মৌন/[email protected]
০১৬৭৬৩৭৫০৮০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



