somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অফিস ক্লিনার থেকে উদ্যোক্তা হয়ে ওঠা একজন বদরুলের গল্প

২৬ শে অক্টোবর, ২০১০ সকাল ১০:০৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

“স্যার, সালামু আলাইকুম”
রাস্তার ধারের চায়ের দোকানে বসে চা খাচ্ছি, হঠাত অচেনা একজন তরুনের সালামে কিছুটা চমকে উঠি। আমতা আমতা করে বলেই ফেললাম আপনাকে ঠিক চিনতে পারলাম না।
“স্যার, আমি বদরুল, ঐ যে আপনি যেখানে অফিস করতেন সেই ফ্লোরে ক্লিনারের কাজ করতাম”

এবার আমি চিনতে পারি। মনে পড়ে, ২০০৭ সালের কথা, আমি নতুন ওই ফ্লোরে বসা শুরু করেছি। একটি ছোট ছেলে (চেহারা দেখে আনুমান, বড় জোর বয়স হবে ১৫-১৬ বছর)আমাদের জন্য বাথ রুম/ফ্লোর পরিস্কার করছে। মনে মনে ভাবতাম যে কোম্পানী এত সিএসআর করে বেড়াচ্ছে, শিশুশ্রমের বিরুদ্ধে এত বড় কথা বলে তারাই আবার থার্ড পার্টির মাধ্যমে নিজেদের কাজে শিশুদের নিয়োগ করছে।

ছেলেটি কয়েক বার এসেছে আমার কাছে, “স্যার এডমিনে বলে আমাকে ক্লিনার থেকে পিওনের চাকরি নিয়ে দেন”..কর্পোরেটের বেড়াজাল টপকে তার আবদার কিম্বা ক্যারিরার উন্নতির এই আকাঙ্ক্ষা টুকু পূরন করতে পারিনি। তেমনি পারিনি সিএসআর ডিপার্টমেন্টে একটা মেইল করতে এই বলে যে কোম্পানীর সিএসআর এর আওতায় এদের জন্য কিছু করতে যেন এরা তাদের কাজের পাশাপাশি লিখাপড়াটা চালিয়ে নিতে পারে এবং ভবিষ্যতে যেন ভাল কোন কাজের সুযোগ পেতে পারে (এটা ভেবেছি অনেক বার কিন্তু করা হয় নি)। কারণ আমিও তথাকথিত স্বার্থপর কর্পোরেট দাস...যারা নিজেরটুকু পনের আনা হলেই চরম বিরক্ত এবং হতাশ হই কিন্তু আমাদের পাশেই অসংখ্য বঞ্চিতদের কথা ভাবি না, ভাবি ওরা তো পিওন/ক্লিনার, ওরা অশিক্ষিত-ছোটলোক ওদের আবার পাওয়া – না পাওয়া কি? এই অফিসে যে ওরা ঢুকতে পারে সেটিই ওদের সৌভাগ্য!
তারপর একসময় ঐ ফ্লোর আমাকে ছাড়তে হয়েছিল, অফিসের নিয়মে আমাকে বসতে হল অন্যত্র। বিগত প্রায় তিন বছর আর দেখা নাই, স্বীকার করতে দ্বিধা নাই যে আমি প্রায় তাকে ভুলেই গেছিলাম।

আবার ফিরে আসি বর্তমানে, বলি হ্যা চিনতে পেরেছি ভাই, তা তুমি এখন কি কর?
“স্যার আমি একটা কোম্পানী দিয়েছি” - বলে তার একটা কার্ড বের করে দেয় আমাকে।

এবার আমি সত্যি অবাক হই। ভাল করে লক্ষ্য করি, ছেলেটির মুখে সেই অসহায় আর্তি নেই, বরং আত্মবিশ্বাসে টগবগে এক তরুন। পেশাদার সেলসম্যানের মত আমাকে নিজে থেকেই বলে যায়...

“স্যার আমি একটা ক্লিনিং কোম্পানী দিয়েছি, বাসা-অফিসের সোফা-কার্পেট-ফ্লোর-বাথরুম পরিস্কার করতে পারি। একবার কাজ করলে স্যার দেখবেন কত ভাল আমাদের কাজ। স্যার, আমার দিকে দেখবেন, কিছু কাজ যদি যোগাড় করে দেন”

আমি বলি ভাই আমি যেখানে কাজ করি সেখানে তো তোমাকে এ ধরনের কাজ পাইয়ে দেবার সুযোগ নেই। তাতেও হতাশ হয় না সামান্য ক্লিনার থেকে উদ্যোক্তা বনে যাওয়া বদরুল, বলে

“স্যার, আপনার অফিসে না হয়, অন্য জায়গায় দেখেন, আপনার বন্ধুদের বলে দিলেই হবে। স্যার ওখানে পিওনের পদ চেয়েছিলাম, কিছু হল না, কাজও স্যার কিছু শিখতে পারছিলাম না-শুধু হারপিক দিয়ে বাথরুম পরিস্কার করা ছাড়া। পরে স্যার অন্য কোম্পানি তে জয়েন করে আরো বিভিন্ন রকম কাজ শিখেছি। মেশিন কিনেছি। একটি কোম্পানিতে দুজন লোক দিয়েছি। আরেকটি কোম্পনীতে স্যার কোটেশন জমা দিয়েছি”

বেশ গর্বিত ভাবে নিজের সাফল্য বলে যায় সে।

“স্যার, আমার জন্য একটু দোয়া করবেন”

যত শুনি তত মুগ্ধ হই। অন্তর থেকেই তার জন্য শুভকামনা বের হয়ে আসে।

বদরুল শাহজাদপুর কেন্দ্রিক অফিস নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। কারো বাসা-অফিসে প্রফেসনাল ক্লিনিং এর প্রয়োজন হলে তাকে ট্রাঈ করতে পারেন।


সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে অক্টোবর, ২০১০ সকাল ১০:০৫
১৯টি মন্তব্য ১৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এমন কেন?

লিখেছেন তাই-ফি, ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ৩:৪৪

একটা গল্প দিয়ে শুরু করা যাক।

শেষ বিচারের পর নরকে শাস্তি ভোগ করছে পাপীরা। বিশাল বিশাল তেলের ড্রামে তাদের একবার ডুবিয়ে আবার ভাসিয়ে তোলা হচ্ছে। প্রতিটি ড্রামের সামনে একজন করে পাহারাদার... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×