বিজয়ের চল্লিশ বছর পার হলো। আশা নিরাশা পরাপ্তি-অপ্রাপ্তির হিসাব নিকাশ চলছে সবখানে। বিলম্বে হলেও শুরু হয়েছে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার। মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা আছে, যদিও এটা নিয়ে বিতর্ক আছে, তবে তা ঠিক করবার উদ্যোগও আছে।
মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদদের একটি তালিকা কি করা যায় না? এটি হয়ত অনেক কঠিন কাজ কিন্তু বর্তমান উন্নত তথ্য-প্রযুক্তির ব্যাবহার করে এটা করা একদম অসম্ভব হবে বলে মনে হয় না।
যুদ্ধ পরবর্তী যে কোন আদমশুমারীর সাথে ট্যাগ করে খানাগণনার মাধ্যমে এটা করা যেত। এখনো বিশেষ আদমশুমারীর মাধ্যমে এটা করা সম্ভব। প্রত্যেক বাড়িতে যেয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হবে। নিকটজন (ছেলে-মেয়ে-স্ত্রী, ভাই, বোন কিম্বা প্রতিবেশী/প্রত্যক্ষদর্শী)এর মাধ্যমে এটা সংগ্রহ করে তা ইঊনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দিয়ে ভেরিফিকেশন করা যেতে পারে। তারপর তা ডিজিটালি সংরক্ষন করা হবে।
মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের অধীনে শহীদদের ডাটাবেজ থাকবে। ওয়েব সাইটের মাধ্যমে সাধারন মানুষ তা দেখতে পারবে। নাম, পিতার নাম ও ঠিকানার সাথে কখন কিভাবে শহীদ হলেন সেটা থাকবে, তার কবর কোথায় কিভাবে দেয়া হয়েছে সেটা থাকবে। এর সাথে সম্পর্কিত কোন বিশেষ ঘটনা থাকলে সেটাও থাকবে। জেলা/থানা/ইউনিয়ন হিসাবে ফিল্টার করে দেখার সুযোগ থাকবে। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বিভিন্ন গবেষনার কাজে এটা ব্যাপকভাবে ব্যাবহার হতে থাকবে। নতুন প্রজন্মের ছেলে-মেয়েরা তাদের নাম জানতে পারবে এবং তাদের বিভিন্ন উদ্যোগের বাস্তবায়নে এটা সহায়ক ভুমিকা পালন করতে পারবে।
কেয়ারটেকার সরকার যদি দুই বছরে ছবি সম্বলিত ভোটার তালিকা ও ন্যাশনাল আইডি কার্ডের ব্যাবস্থা করতে পারে, মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের এই সরকার কেন মুক্তিযুদ্ধের শহীদ দের তালিকা তৈরী করতে পারবেনা? এখনো উদ্যগ নিলে এ সরকার তার মেয়াদেই এই কাজ সম্পন্ন করতে পারবে বলে আশা করা যায়।
শহীদ দের সংখ্যা নিয়ে স্বাধীনতা বিরোধীরা বিভিন্ন রকম সংশয় তৈরীর চেষ্টায় থাকে। এরকম একটি তালিকা তৈরি করা গেলে এই অপচেষ্টা চিরতরে বন্ধ করা যাবে।
হয়ত আমার কথায় কিছু হবে না, তবু আমার মনের আকুতিটুকু লিখলাম। আরো বেশী দেরী হয়ে গেলে হয়ত এই সুযোগ চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


