কোন অপরাধ না করেও পুলিশের নির্মমতার শিকার হলেন শ্রদ্ধেয় তাজ উদ্দিনের নাতি। এ খবর আজকে পত্রিকায় খুব গুরুত্ত্বের সাথেই এসেছে। কিন্তু সোহেল তাজের ভাগ্নে পরিচয় দেবার পরও কেন পুলিশ ক্ষান্ত হলো না? আমার মতে সম্ভাব্য জবাবগুলি হতে পারে এরকমঃ
এক)পুলিশ তাকে চিনতে পারেনি এবং তার কথাও বিশ্বাস করে নি। বিপদে পড়লে কত মানুষ কত রকম মামা বের করে। সব শুনলে পুলিশের চলে না।
প্রতিকারঃ অবিলম্বে সকল মন্ত্রী-এমপি ও গুরুত্বপুর্ণ নেতাদের ছেলে-মেয়ে-ভাগিনা-ভাতিজা এরকম আত্মীয়দের পরিচয় পত্র দেয়া যেতে পারে।
দুই) সোহেল তাজ এই সরকারের মন্ত্রী হলেও বেশ দীর্ঘদিন তিনি অনুপস্থিত। বেচারা পুলিশ অফিসারের স্মরন শক্তি তাকে প্রতারিত করেছে। তিনি ভেবেছেন, সোহেল তাজ আগের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ছিলেন, নিশ্চয় তিনি বিএনপি আমলের মন্ত্রী। আর বিএনপি নেতা-কর্মী বা তাদের কাছের লোকদের মারতে পারলে সরকারের বাহবা পাবেন। সেই আশায় তাকে মেরেছেন।
প্রতিকারঃ অবিলম্বে সকল গুরুত্বপুর্ণ বিরোধী দলীয় নেতা ও তাদের ছেলে-মেয়ে-ভাগিনা-ভাতিজা এরকম আত্মীয়দের তালিকা, যাদের মারধোর করলে কোন সমস্যা নেই, তা পুলিশের হাতে দিয়ে দেয়া হোক। এবং এদের মারবার জন্য পুলিশের বিশেষ প্রণোদনা ভাতার ব্যাবস্থা করা হোক।
তিন) সোহেল তাজ এই সরকারের মন্ত্রী হলেও বেশ দীর্ঘদিন তিনি অনুপস্থিত। বেচারা পুলিশ অফিসারের বিচার-বিবেচনা বোধ তাকে প্রতারিত করেছে। তিনি ভেবেছেন, সোহেল তাজের উপর সরকার খুশী নয়, তিনি আর সরকারের কাছের লোক নন। আর যারা সরকারের কাছের লোক নন, তাদের অন্যায় ভাবে পেটানো কোন অপরাধ নয়।
প্রতিকারঃ এ দেশের আম-জনতা পুলিশের হাতে অন্যায় মার খাবে, এতে অবাক হবার কি আছে? এর প্রতিকার যারা চায়, তারা বোকার স্বর্গে বাস করছে, বরং তাদের ধরে ধরে এনে একটু ধোলাই দেয়া যেতে পারে।
ফুটনোটঃ
যখন পুলিশের হাতে বিরোধী দলীয় নেতা-কর্মী কিম্বা সাধারন মানুষ বিনা দোষে নাজেহাল হয়, তখন যারা খুশী হন এবার তাদের একটু ভেবে দেখার সময় হয়েছে। পুলিশ কে ফ্রাংকেস্টাইন বানালে তার কুফল অনেকের উপরেই আসবে। কাজেই আসুন সভ্য সমাজের স্বপ্ন দেখতে হলে, আসুন পুলিশের সব রকমের অন্যায়ের প্রতিবাদ করি।
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১২ বিকাল ৩:৫২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


