লোকে যখন বলে, চুরি বিদ্যাটা মাহাগ্যায়ানী রা তখনই মহাবিদ্যা বলতে রাজি, যখন আকামটা কইরা শিস বাজাইতে বাজাইতে পকেটে হাত রাইখা হাঁইটা যাওয়া যায়...
ব্যাপারটা নিয়া আমি ভাবি...
আমার ক্যাম্পাসের একপাশের রাস্তা থেইকা শুরু কইরা, ক্যাম্পাস থেইকা শহর পর্যন্ত সারি সারি আপেল গাছে থোকা থোকা আপেল ঝুলে এখন ।
পাকার টাইম হইয়া আসলো....
বরং পুরান ঘটানাই বলি...
বছর দুয়েক আগের সামারের শেষ দিকে। তখন ও আমি এই এলাকায় পা রাইখা এলাকটারে গর্বিত হবার সুযোগ দেইনাই । কিন্তু যেই তিন বন্ধু ছিলো...মামা, ইমরান আর হুযুর...তারা আমার অভাব কাউরে বুঝতে দেয়নাই..
তারা আপেল ফলগাছ শুধুই দেখার উদ্দেশ্যে..
তিনজনে হেঁটে যায়, আর গাছের পানে চায়, হাতটা তাদের গাছের পানে ধায়..
তাদের তো আর দোষ দেয়া যায়না, নাকি? গাছগুলা ফলের ভারে নুয়ে নুয়ে পড়তাছে, আবার পোকার আক্রমন থেইকা বাঁচানের জন্য ফলের গায়ে ঝিলমিলি কাগজ মোড়ানো। সূর্যের আলোয়চিকচিক করে, চোখের কোনায় ধরা পড়ে, তিন বন্ধুরে ডাক পারে..
এর মইধ্যে হুযুরের সাম্নে আবার খাবার থাকলে হামলে পড়তে চায়, কে তারে ঠেকায়??
তারপর.....
বন্ধুরা তো এদিক সেদিক চায়....কোনোখানে কাউরে দেখা না যায়...পটাশ কইরা টান মাইরা একটা আপেল ছিঁড়া ফেল্লো ইমরান । নিজের হাঁতের অবাধ্যতায় নিজেই অবাক হইয়া আপেলটার দিকে তাকাইয়া থাকে ...ঠিক নিজের হাঁতের মইধ্যেই দেখা যাইতাছে আপেলটা....
কাহিনী তে কি কোনো ক্লাইমেক্স থাকবে না!!....আমরা নিশ্চই সবাই জানি, যেইখানে এইরকম খোলা যায়গায় এইরকম টসটসে ফলের গাছ, কোনো রকম পাহারা ছাড়া রাইখা দিছে, সেইখানে সার্বক্ষনিক ক্যামেরাও আছে...
যতক্ষনে তিনটা বিশাল সাইয আপেল পারা শেষ হইছে(এইখানের আপেলগুলা আসলেও বিশাাাাল)....ততক্ষনে পুঁ পাঁ পুঁ পাঁ পুঁ পাঁ (পুপা: পুরান পাগল না
এখন আসেন, সবচেয়ে দু:খজনক পার্ট টা জানি....
বন্ধু তিনজন ইংলিশ তো পারে, কিন্তু কোরিয়ান ভাষা তো পারেনা...ঐদিকে যেই সিকিউরিটি অফিসার, তারা আবার ইংলিশ পারেনা...চরম গরমে তিনজনের মরম তো হাঁপাইয়া উঠে, ক্যাম্নে কি? অফিসারের ও তো ঘাম ছুটে...
তাহলে কি সরাসরি হাযতে ঠিকানা....?? না না....প্রিয়ার কাছে মুখ দেখাবে কি করে, টাইপ ইজ্জতের ফালুদা...
কিন্তু কিছুই করার নাই, চুপচাপ "তিনজনে যা শ্বাস্তি দিবেন, মাথা পেতে নেবো"..নাকি, "গাছ থেকে ফল পাড়া নিষেধ, সেইটা তো জানিনা
শুধু জানা গ্যাছে, অফিসারের হাতে কোনো লাঠি ছিলোনা..তারা অনেক্ষন মাথা চুলকাইয়া, থুৎনির না থাকা দাড়ি খাউযাইয়া, শেষম্যাষ সিদ্ধান্ত নিলো...
সিনিয়র জন আগাইয়া আসলো ত্রিরত্নের দিকে, আরো কাছে..একসময় তাদের পার হইয়া আগাইয়া গেলো গাছের দিকে । ঝপ কইরা আরো আরো দুইটা আপেল পাইড়া বন্ধুর হাতে ধরা পলিব্যাগে ভইরা হাতের ইশারায় জানাইয়া দিলো, যান গিয়া ভাই...
পরে অবশ্য মতবিরোধ দেখা দিছিলো বন্ধুদের মাঝে, লোকটা আসলে কি বুঝাইতে চাইছিলো..
একজনের মনে হইছে, লোকটা বলছে, ভাই, আমরাই ছিড়া দেই, আপনেরা ফল পাইরেন্না...
আরেকজনের মনে হইছে, এখন পর্যন্ত কোনো কোরিয়ান যেই কাজটা করার সাহস পায়নাই, সেই কাজটা করতে পারার জন্য পুরুষ্কার স্বরুপ আরো দুইটা আপেল দেওয়া হইলো ।সেইক্ষেত্রে অবশ্য অন্য বন্ধুটার দাবী, এইরকম কাজের পুরুষ্কারটা ঠিক পুষায়নাই..লোকগুলার ইনসাফ নাই।
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে মে, ২০১২ দুপুর ১২:২৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


