আগের পর্ব Click This Link
যাই হোক, যা করার নিজেদেরই করতে হইবে...
একটা ছোট্ট সুবিধা ছিলো যে, ইমরান কোরিয়ান লিখতে পারতো...ধরেন, কইলো "জাজাংমিয়ং"..তাইলে এইটা কোরিয়ান আলফাবেটে লিখা তো ফেলবো, কিন্তু মাইনে তো জানিনা..তেম্নি, ইংলিশ প্যারাগ্রাফের মানে যান্লেও সেইটার কোরিয়ান তো আর জানিনা...
লেখার কাজটা আমি আর সিরু হালকা হালকা পারতাম...কিন্তু সমস্যা ঐ....
যাইহোক, কোরিয়ান দের কাছ থেইকা প্যারাগ্রাফের তর্জমা কইরা নেয়া হইলো....ইমরান লেইখা লেইখা প্রাক্টিস করা শুরু করলো...ব্যাডা আছে, কয় লেখতে পারবো...
আমি আর সিরু দুইজনে দুইজনের দিকে তাকাইয়া
পরীক্ষার আগের দিন ইমরান বাইর করলো সেই যুগান্তকারী বুদ্ধি...
সেই আদি - সনাতন, পূর্ব-প্রাচীন , নৈতিকতা-অনৈতিকতার বেড়াজালের মাঝেও সমুন্নত আইডিয়া...."আমরা নকল করবো".
ক্যাম্নে?? ..ভাই, যতজনে জীবনে যত নকলের আইডিয়াই দিয়া থাকেন, আমি নিশ্চিৎ, এই স্টাইলের নকলের কথা কেউ ভাবেন্নাই...
আমরা প্যারাগ্রাফের কোরিয়ান তর্জমাগুলার উচ্চারন বাংলায় লেইখা নিয়া যাবো..
যেমন..
"উরীনন্, হান্গুক মাল মুল্লায়ো..."..ইত্যাদি...বুদ্ধি হইলো, আমরা পরীক্ষার হলে বাংলা দেইখা কোরিয়ান লেখবো...বাংলাটা এক্সামিনারের হাতে পরলেও পিছলাইতে পারুম, তাই ভাবলাম ।
ইমরান কইলো, ক্যান, পিছলামু ক্যান?? যা করার খুল্লাম খুল্লা..কাগজ থাকবো টেবলের উপ্রে..ভাবখানা যে ,এইটা না থাকলে আমরা পরীক্ষা দিতে পারিনা...
তারপর আর কি...সময়মত গেলাম পরীক্ষার হলে..
প্রশ্ন পাইলাম...
৩০টা এম.স.কিউ দিতে ৩/৪ মিনিট...এইটা দেইখা তো পাশের হিয়ং(বড় ভাই) চক্ষু ছানাবড়া কইরা আর আমার থেইকা দেইখা লেখার সাহস পাইলো না, ভাবলো এত তাড়াতাড়ি যখন উত্তর মারলাম, তার মানে আমি আন্দাযে মারলাম...
মনে মনে কৈ, হালা বয়স হইয়া গ্যাছে দেইখা মাথা কাম করেনা, আর উত্তর দিতে এত দেরী হইলো.........ইত্তা প্রশ্ন আমাগো প্রাইমারী স্কুলের পুলাপাইন ম্যাডামের হাত থেইকা প্রশ্নপত্র পাওয়ার আগেই উত্তর দিয়া শেষ কইরা ফালায়...
যাউক্গা, তারপর আসলো প্যারাগ্রাফ...
ইমরান আর সিরু আমার পিছনের বেঞ্চে বইসা, ইমরান তো ততক্ষনে এক প্যারাগ্রাফের আধেক শেষ কইরাল্ছে...
কিন্তু আমি যে সাম্নের বেঞ্চে???
হ, যা হইবার হইবে...কিন্তু আমার প্রফেসর কাক্কুর অপমানের একটা জবাব দিতে হবে না??.........পরীক্ষার কয়দিন আগে খুব কোনাইচ্চা হাঁসি দিয়া কইছিলো, কিরে ব্যাডা, দিবো তো কুরিয়ান...পাশ তো কর্তার্বিনা...
আমি কই, খাড়ান কাক্কু...
তো, এখন তো আমারি খাড়ান অবস্থা..
যাই হোক, বাইর কর্লাম বাংলা লেখা কাগজ...আর অত্যন্ত মনোযোগের সাথে লিখা শুরু কর্লাম ইংলিশের বাংলা উচ্চারনের কোরিয়ান অনুবাদ...
ওমা!! সেই এক্সামিনার মুন চ্যাং সু দেখি আউগাইয়া আইসা আমার বাংলা লেখা কাগজ ধইরা টান মাইরা দেখতেছে!!!! আক্কেল গুড়ুম চেহারা নিয়া কত কি না জানি ভাবতাছে..
আমার তো ঢোক গিলার কথা ছিলো, কিন্তু কোথায় কি...আমি অত্যন্ত বিরক্তি ভাব নিয়া ওর হাত থেইকা কাগজটা টাইনা নিয়া গজগজ করলাম খানিক্ষন......। এতে ব্যাডায় মিন মিন কইরা যাইতে নিয়াও যাইতে পারেনা..
চৌক্ষের সামনে দেখতাছে, আমরা কিছু একটা কর্তাছি, একটা কিছু আঁচ ও করতে পারতাছে, কিন্তু কিছুই কইতে পার্তাছেনা...তার জন্য হালকা মায়াও লাগছিলো..
তারপর আর কি..............ইমরান ২ টাই কমপ্লিট করছিলো..সিরু একটা আর আধাটা...আর আমি একটা লেখার পর পাশের হিয়ং বাকীটাও লেইখা দিলো...
সবরকমের পরীক্ষা শেষ কর্লাম...
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে মে, ২০১২ দুপুর ১২:২৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



