somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যুক্ত করো হে সবার সঙ্গে, মুক্ত করো হে বন্ধ

১৪ ই এপ্রিল, ২০০৭ বিকাল ৫:৪৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১.
এসো হে বৈশাখ, এসো এসো...। বৈশাখের আগমন মনে করিয়ে দিচ্ছে যেন কাল-বৈশাখী। সারাদেশে বয়ে গেছে কাল-বৈশাখী ঝড়। চারদিকে ধ্বনি উঠছে- ঐ নূতনের কেতন ওড়ে কাল্-বোশেখীর ঝড়। তবে এ অবস্থা সাময়িক। এক-আধ ঘন্টা ঝড়-বৃষ্টি স্থায়ী হলেও থামাতে পারবে না পহেলা বৈশাখের উৎসব। কারণ বাঙালির এ উৎসব প্রাণের গভীরের, একেবারে শেকড়ের কাছাকাছি। সর্বজনবিদিত এ উৎসব সামাজিক উৎসবে পরিনত হয়েছে অনেক আগে থেকেই।

বাংলা সনের ইতিহাস অতি প্রাচীন। মুঘল আমলে সম্রাট আকবরের সময় এর প্রবর্তন হয়। ফতেহ উল্লাহ সিরাজি নামের একজন নামকরা বোদ্ধা ও জ্যোতির্বিদ বাংলা সনের প্রবর্তক। মার্চ মাসের ১০/১১ তারিখে তিনিই প্রথম ফসলী বা কৃষি সন চালু করেন ১৫৮৬ সালে। সম্রাট আকবরের রাজত্বকালে চান্দ্র বছর ও সৌর বছরের সমন্বয়ে বাংলা সনের প্রবর্তন হয়। কিন্তু সন গণনা শুরু হয় ১৫৫৬ সাল থেকেই। প্রশাসনিক কাজের সুবিধার্থে সম্রাট আকবর এর অনুমোদন দেন।

সম্রাট আকবরের সময় চৈত্রের শেষ দিনে সমস্ত খাজনা, কর পরিশোধ করা হতো। পরের দিন পহেলা বৈশাখে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের জমিদারদের মিষ্টান্ন দিয়ে আপ্পায়ন করা হতো। ধীরে ধীরে এর প্রবর্তন ঘটে গৃহস্থালি ও সামাজিক জীবনের আনন্দ ও উচ্ছাস এর বহি:প্রকাশ হিসেবে।

পহেলা বৈশাখের মূল কাজ ছিল হালখাতা খোলা। যদিও এটা পুরোপুরি ব্যবসায়িক দৃষ্টিকোণ ছিল যা এখনও গ্রাম-গঞ্জে-শহরের ব্যবসায়ী মহলে প্রচলিত আছে আজও। তবে বাঙালির এ দিবস উদযাপন আজ পুরোপুরি সামাজিক মিলনমেলায় রূপান্তরিত হয়েছে। বৈশাখী মেলা, বাউলগান, শোভাযাত্রা এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠান আজ আমাদের সৌহার্দ্য ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রতীক।

২.
পহেলা বৈশাখ এলেই মনে পড়ে বৈশাখী মেলার কথা। গ্রামের হাট-বাজারে বসতো এ মেলা। নাগরদোলায় চড়া, লাঠিখেলা দেখা, বায়োস্কোপ দেখা, মেলা থেকে মুড়ি-মুড়কি-বাতাসা-সন্দেশ-মিষ্টি কিনে খাওয়া আমার শৈশববেলার স্মৃতি। বাবা-মা, বড়ো ভাই-বোনদের হাত ধরে মেলায় যেতাম। তারা কিনে দিতেন বাঁশি, চরকী, বেলুনসহ আরও কতো কী! সাপুড়েদের সাপ খেলা, বানরের খেলা আর ষাঁড়ের লড়াই দেখতাম সে সময়। সত্যিকারে আশেপাশের কয়েক গ্রামের মিলনকেন্দ্র ছিলো আমাদের বৈশাখী মেলা। হিন্দু-মুসলমান সবাই মিলে আনন্দ-উল্লাস করে বৈশাখের প্রথম কয়েকটা দিন কেটে যেতো।

বড়ো হয়ে ঢাকায় এসে কলেজে ভর্তি হই। ঢাকা কলেজে পড়াকালীন সময় থেকেই আমার নগরকেন্দ্রিক পহেলা বৈশাখ উদযাপন শুরু। দীর্ঘ সাতাশ বছরে রমনার বটমূল ছাড়িয়ে এ অনুষ্ঠান ঢাকার অনেক জায়গায় বিস্তৃত হয়েছে। অনেকবার গিয়েছি বটমূলে, টিএসসিতে কিংবা চারুকলায়। বর্তমানে ঘোরাঘুরিতে নতুন সংযোজন হয়েছে ধানমন্ডি রবীন্দ্র সরোবর মঞ্চ এবং পাশের খেলার মাঠের মেলা। বছরের নতুন দিনে স্ত্রী-পুত্র-কন্যাসহ ঘোরাঘুরি নিয়মিত নেশায় পরিনত হয়েছে আজ।

৩.
এবারের পহেলা বৈশাখে আমার ব্যতিক্রমী দায়িত্ব ছিলো আর্থ-ফাউন্ডেশনের বৈশাখ উদযাপন কমিটির আাহ্বায়ক হওয়া। আমার সংস্থা আর্থ-ফাউন্ডেশন সম্পন্ন করেছে বৈশাখ উদযাপনের সকল প্রস্তুতিমূলক কাজ। পহেলা বৈশাখে সকাল ৭.০০টা থেকে পান্থপথের আর্থ-ফাউন্ডেশন চত্বরে চলবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। নাচ, গান, কবিতা আবৃত্তি করবে আর্থ-ফাউন্ডেশনের কর্মীরা। অতিথি শিল্পী হিসেবে রবীন্দ্র সঙ্গীত পরিবেশন করবেন প্রিয় শিল্পী সাদী মোহাম্মদ। সাথে কুষ্টিয়া থেকে আগত একদল বাউলের সুরের মুর্চ্ছনায় অনুষ্ঠান থাকবে মুখর। এছাড়া টিএসসি-রমনা পার্কসংলগ্ন এলাকায় থাকবে আর্থ-ফাউন্ডেশনের স্টল। বিনামূল্যে উল্কি বা আল্পনা আঁকা, রক্তের গ্র“প নির্ণয় করা হবে সেখানে। সবশেষে বাউল শিল্পীরা ট্রাকে করে ঘুরেঘুরে বাউলসঙ্গীত পরিবেশন করবেন।

৪.
এতো গেলো আর্থ-ফাউন্ডেশনের কথা। এবার আসা যাক ব্লগের কথায়। এখানকার প্রতিটি বন্ধুও থাকবেন নববর্ষের আনন্দে উদ্বেল। পহেলা বৈশাখের আগমনে থাকবে বেশ সুন্দর সুন্দর শুভেচ্ছা বার্তা, সামহোয়্যারইনব্লগেরও থাকছে বাড়তি সাজ-সজ্জা। বেশ কিছু চমকপ্রদ লেখা, গল্প-কবিতার আশায় অধীর আগ্রহে বসে আছি। কান পেতে আছি পহেলা বৈশাখের আগমনী গান শুনতে। যুক্ত হতে চাচ্ছি সবার আনন্দে এবং বলতে ইচ্ছে করছে কবিগুরুর কথায়- যুক্ত করো হে সবার সঙ্গে, মুক্ত করো হে বন্ধ।

১৩.০৪.২০০৭
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে এপ্রিল, ২০০৭ রাত ৯:৫৩
৬টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×